আধ্যাত্মিক ব্যক্তিদের জন্য দাওয়াত হলো আত্মশুদ্ধির পথ

আধ্যাত্মিক ব্যক্তিদের জন্য দাওয়াত হলো আত্মশুদ্ধির পথ
আধ্যাত্মিক সুফিগণ নফসের প্রশিক্ষণের জন্য যেই পরিমাণ ইবাদত, রিয়াজত এবং মুজাহাদা করান, এই সবগুলোর উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহকে রাজি করা। আর তাদের অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা, যেন সব কিছুর উপর প্রাধান্য পায়। আল্লাহ যেন তাদেরকে ভালোবাসেন। প্রেমিক বানিয়ে নেন। আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার নেয়ামত যেন তাদের অর্জন হয়ে যায়।
আল্লাহ তাআলা বলেনÑ
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ الهَٰ فَاتَّبِعُوْنِي يُحْبِبْكُمُ اللّٰهُ وَيَغْفِرْ لَـكُمْ ذُنُوْبَـكُمْ وَاللّٰهُ غَفُوْرٌ رَحِيْمٌ
বলুন, যদি তোমরা আল্লাহ্কে ভালোবাস তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ্ও তোমাদেরকে ভালোবাসেন এবং তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ্ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু। -আল ইমরান-৩১
নবীর ভালোবাসা ও তার এত্তেবা, অনুসরণÑ প্রেমিক হওয়ার একমাত্র পথ বলা হয়েছে। এত্তেবা তো তখনই পরিপূর্ণ হবে যখন দাওয়াত তার জীবনের উদ্দেশ্য হবে।
অন্য এক হাদিসে এরশাদ হয়েছেÑ “মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি যে মানুষের অধিক উপকারে আসে।” আল্লাহর নিকট ভালো ও পছন্দনীয় ব্যক্তি তিনি যিনি সৃষ্টিজীবের উপকারে আসেন। তাই মানুষ যত বেশী মানুষের উপকারে আসবে ততো বেশী আল্লাহর পছন্দনীয় মানুষ হবে। তাই ইরশাদ হয়েছে, সকল সৃষ্টিজীব, আল্লাহর ‘ইয়াল’প্রতিবেশী। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তার সৃষ্টির সাথে দয়া, মহব্বত ইবাদাত থেকে বেশী পছন্দ। মাখলুকের সবচে বেশী কল্যাণকামী হলো, তার আখেরাতের ফিকির করা। যেমনটি ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবস্থা।
ছাত্র থাকা অবস্থায়, ইবরাহীম ইবনে আদহাম (রহ.)-এর একটি ঘটনা পড়ে ছিলাম। একবার তিনি ঘুম আর জাগ্রত অবস্থার মাঝামাঝি সময়ে দেখলেন, একজন ফেরেস্তা একটি খাতা নিয়ে তার রুমে বসে কিছু লিখছিল। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনারা কে? এখানে কী লিখছেন? ফেরেস্তা বললেন, আমরা ফেরেস্তা। আল্লাহকে যারা ভালোবাসে তাদের নাম লিখছি। হযরত ইবরাহীম ইবনে আদহাম (রহ.) বললেন, আমার নামটিও সেই লিস্টে লিখে নিন। তারা লিখতে অস্বীকার করলেন। ইবরাহীম বিন আদহাম (রহ.) বললেন আচ্ছা আমার নাম আল্লাহর মাখলুককে ভালোবাসার লিস্টে লিখে নিন। ফেরেস্তারা চলে গেলেন। দ্বিতীয় দিন যখন এলেন তখন দেখালেন ইবরাহীম বিন আদহাম (রহ.) এর নাম মাখলুকদেরকে ভালোবাসার লিস্টের প্রথমে। সেই
ফেরেস্তা বললেন, আল্লাহ তাআলা আমাকে হুকুম দিয়েছেন, ইবরাহীম বিন আদহাম এর নাম আমাকে ভালোবাসে তাদের লিস্টে উঠিয়ে নাও। কারণ আমার মাখলুককে মহব্বতকারী আমার কাছে খুবই প্রিয়। এ কথা সুস্পষ্ট যে, মানবতার সবচে বড় কল্যাণ হলো, আখেরাতের ফিকির। তাদেরকে চিরস্থায়ী দোযখের আগুন থেকে বাঁচানো। এই জন্য আধ্যাত্মিকতার পথে চলার জন্য সবচে সহজ পথ হলো, আল্লাহর দিকে দাওয়াতের মোবারক কাজ।
মোট কথা, আল্লাহ তাআলা প্রতিটি ময়দানে সব প্রকার সফলতা রেখেছেন দাওয়াতের মধ্যে। একারণেই তাঁর প্রিয় বান্দা আম্বিয়া দেরকে সম্মানিত করে পাঠিয়েছেন। অভিজ্ঞতা সাক্ষ্য দেয় যে, বিনদন মুলক মনভাব রাখে, তাদের জন্যও দাওয়াত থেকে উত্তম কোনো ব্যাস্ততা নেই। এই পথে এমন এমন ঘটনা সমূহ সামনে আসে, আপনি যদি কাউকে শোনাতে শুরু করেন তাহলে তারা অবাক হয়ে যাবে। এমন ঘটনা যখন আপনি নিজে দেখবেন তখন আপনার কাছে কেমন মনে হবে।
শর্ত হলো আমাদের মাঝে দাওয়াতের স্পৃহা থাকতে হবে এবং নববী ব্যথায় ব্যথিত হয়ে, কোনো প্রতিদান না চাওয়ার ফর্মুলা অনুযায়ী আমল করতে হবে। আর দাওয়াতের এই কাজকে নিজের অস্থিত্ব ও মুসলিম জাতির দুনিয়াতে আসার উদ্দেশ্য মনে করতে হবে।

মূল. হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা.বা.
অনুবাদ. যুবায়ের আহমদ