ইকবাল আহমদের সাক্ষাৎকার

দুনিয়ার সমস্ত রঙ-রূপ ধোঁকা। হৃদয় সঁপে দেয়ার উপযুক্ত কেবল সেই সত্তা যিনি সকল সুন্দর ও সৌন্দর্যের স্রষ্টা। তার কাছে হৃদয় সঁপে দিলে সব অস্বস্তি স্বস্তিতে বদলে যায়। আমার জন্য এবং সকল মানুষের জন্য এটাই আমার পয়গাম।


আহমদ আওয়াহ: আসসালামু আলাইকুস ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু!
ইকবাল আহমদ: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

আহমদ আওয়াহ: আব্বু আমাকে পাঠিয়েছেন। বলেছেন, বাটালা হাউজ মসজিদে ইকবাল সাহেব বসে আছেন। আরমুগানের জন্য তার একটা ইন্টারভিউ নিয়ে এসো। আপনি জানেন হয়তো, আমাদের এখানে ফুলাত থেকে আরমুগান নামে একটি উর্দু ম্যাগাজিন বের হয়। তার মধ্যে আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত বান্দাদের জীবনকাহিনী ও আত্মজীবনী প্রকাশিত হয়। এর উদ্দেশ্য দাওয়াতের কর্মীদের সাহস বাড়ানো ও অভিজ্ঞতা অর্জন করা। এজন্য আপনাকেও একটু কষ্ট দেবো!
ইকবাল আহমদ: জ্বী, হযরত সাহেব এইমাত্র বলে গিয়েছেন, আহমদ আসছে, আরমুগানের জন্য আপনার সঙ্গে কিছু আলোচনা করবে। আমিও আরমুগান পড়িয়ে পড়িয়ে শুনি। দু’মাস ধরে শুধু আরমুগান পড়ার জন্যই উর্দু শেখা শুরু করেছি। অন্যের দিকে আর কতদিন তাকিয়ে থাকবো। এক বছর তো প্রতীক্ষাতেই কাটল। আল্লাহ তাআলা সম্ভবত আমাকে উর্দু পড়ানোর এরাদা করেছেন এজন্য আরমুগানের হিন্দী সংস্করণ বেরোতে বিলম্ব হচ্ছে।

আহমদ আওয়াহ: বাস্তবিকই আল্লাহ তাআলার রহমতে সবকিছুর ফায়সালা হয়। নইলে কবে থেকেই তো আরমুগানের হিন্দী সংস্করণ বের হওয়ার কথা ছিল। আল্লাহ তাআলা এর পথ সহজ করে দিন। এর জন্য বেশ তাগাদা আসছে। তাছাড়া মুসলমানদের মধ্যেও বর্তমানে উর্দুর রেওয়াজ কমে আসছে।
ইকবাল আহমদ: আহমদ ভাই! আমার ধারণা এখন হিন্দুদের মধ্যে উর্দু পড়ার ঝোঁক বাড়ছে। আমাদের এলাকার দেশীয় হিন্দুরা খুব আগ্রহ নিয়ে উর্দু ভাষায় শায়েরী করছে। হযরত বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ইসলামের জন্য পথ মসৃণ করছেন।

আহমদ আওয়াহ: নিঃসন্দেহে। আপনি আপনার পারিবারিক পরিচয় বলুন?
ইকবাল আহমদ: হরিয়ানার এক যাদব পরিবারে ২৫ শে মার্চ ১৯৭৫ সালে আমার জন্ম। হাইস্কুল পাশের পর ক্রিকেটের প্রতি ঝোঁক বেড়ে যায়। প্রথমে জেলা টিমে তারপর স্টেট টিমে নির্বাচিত হই। ন্যাশনাল টুর্নামেন্ট খেলে রঞ্জি ট্রফিতে হরিয়ানার পক্ষ থেকে রেকর্ড সংখ্যক রান করি। দ্বাদশ শ্রেণী শেষ করতেই চাকুরী হয়ে যায়। খেলার বদৌলতে রেলওয়েতে চাকুরী পেয়ে যাই। এখনও রেলওয়েতে চাকুরী করি এবং রেলওয়ে দলের পক্ষ থেকে খেলি। কয়েকবার জাতীয় দলে নির্বাচিত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু রাজনৈতিক জিঘাংসার শিকার হয়ে সেটা হয়ে ওঠেনি। আমার পিতা সরকারী স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল। ছোট একটি ভাই আছে ডাক্তার। বংশের লোকজন আগ থেকেই জমিদার।

আহমদ আওয়াহ: ক্রিকেটে আপনি মূলত বোলার না ব্যাটসম্যান ?
ইকবাল আহমদ: এমনিতে আমি অলরাউন্ডার। আমি রানের রেকর্ডস গড়েছি। রঞ্জি ট্রফির এক টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেয়ার রেকর্ডটি এখনও আমার দখলে। বোলিংও খুব ভালো করি। তবে ব্যাটিংয়ের প্রতি বেশী আগ্রহ।

আহমদ আওয়াহ: আপনার ইসলাম গ্রহণের কাহিনীটি বলুন!
ইকবাল আহমদ: উর্দুতে একটি কবিতা আছে-

‘খুদা কে দ্বীনকা মুসা সে পুছিয়ে আহওয়াল,
কে আগ লেনেকো জায়েঁ আওর পায়াম্বরী মিল জায়ে।’
ভাবানুবাদ : হেদায়াতের বণ্টন রহস্য জানতে চাও মূসা কালীমের কাছে, আগুনের সন্ধানে ছুটে পেয়ে গেলেন পয়গম্বরী।

আমার সঙ্গে আল্লাহ তাআলার হেদায়াতের এমনই মুআমেলা হয়েছে। ২০০৪ সালে আমরা চন্ডিগড়ে এক টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়েছিলাম। আমাদের সঙ্গে রেলওয়ে টিমে গ্রমিত সিং নামে একটি ছেলেও খেলতো। তার পিতা প্রমিত সিং রেলওয়ের অফিসার ছিল। গ্রমিতের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব ছিল। তার ইচ্ছাতেই আমি তাদের বাড়িতে থাকতে থাকি। গ্রমিতের আশা নামে একটি ছোট বোন ছিল। বেপর্দাভাবে একসঙ্গে থাকার কুফল দেখা দিল। মাত্র পনোরো দিনে আমরা একে অপরের খুব নিকটে চলে আসি। একজন অপরজনের জন্য বিলকুল পাগল হয়ে যাই। সেই টুর্নামেন্টে আমার প্রাপ্তিও ছিল শূন্য। কোথাও আমার মন বসতো না। আমরা দুজনে বিবাহের প্রোগ্রাম করলাম। দুজনেই অঙ্গীকার করলাম, পরিবার বিয়েতে রাজী না হলে আমরা আত্মহত্যা করবো। আশা কোর আর আমার কারও পরিবারই এতে রাজী হওয়ার ছিল না। উভয় পরিবারই পুরনো নিয়ম-প্রথার ধারক ছিল। আমার পরিবার বরং একটু বেশিই গোঁড়া ছিল।

চন্ডিগড় থেকে ফেরার পরও আমার চিন্তায় আশা ছাড়া অন্য কিছু ছিল না। একেবারে পাগলের মত হয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের দুজনের পরিবারই দুজনকে নিয়ে পেরেশান ছিল। দুই পরিবারই অনেক তান্ত্রিকের কাছে গিয়েছে। তাবীয-তুমারকারী মৌলভীদের কাছে ধর্ণা দিয়েছে। আমার চাচা কান্ধালার হযরতজীর নিকট থেকেও তাবীয নিয়ে আসে। আমি আর আশা জানতে পেরে খুব চিন্তিত হয়ে পড়ি। না-জানি তাবীজের প্রভাবে আমাদের মন বিগড়ে যায়। এজন্য কেউ পরামর্শ দিল, তাবীজের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে মৌলভীদের সঙ্গে চলাফেরা করতে হবে। তান্ত্রিক আবদুল্লাহ এক পাহাড়ে থাকতো। আমি তার কাছেও যাই। বুড়িয়ার পীর সাহেবের কাছেও গিয়েছি। সাহারানপুরেও এক পীরের দরবারে গিয়েছি।

একজন আমাকে ফুলাতের সন্ধান দেয় যে, ফুলাতের এক হযরতজী এ ব্যাপারে খুব প্রসিদ্ধ। তার ওখানে গেলে তিনি আমাকে তাবীয ইত্যাদি দিয়ে দেন। আমাকে যিনি ফুলাত নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি বললেন, এখানে আরেকজন হযরতজী আছেন। তিনি তাবীয দেননা তবে দুআ করেন, চলো তার সঙ্গেও দেখা করে আসি। সেখানে গিয়ে জানা গেল হযরত সাহেব সফরে আছেন। এক তরুণ মৌলভীর সঙ্গে দেখা হল। হালকা পাতলা গড়ন। মৌলভী উমর নাম। হযরত সাহেব তার নানা হন। সে আমাকে বলল, হযরত সাহেবের ফিরতে এখনও এক সপ্তাহ দেরী। আমাদের হযরত আগত ব্যক্তিদেরকে স্বয়ং মালিকের কাছে আবেদনের পদ্ধতি বলে দেন। এজন্য একটা জপও বাতলে দেন।

ভোরে গোসল করে ‘মালিকের স্মরণ করছি’ একথার ধ্যান করে একশত বার ‘ইয়া হাদী’ আর একশত বার ‘ইয়া রাহীম’ পড়ে নিবেন। তিনি আমাকে রাহীম ও হাদীর হিন্দী অর্থও বলে দেন। আর বলেন এই জপ শেষে সরাসরি মালিকের কাছে নিজের পেরেশানীর কথা বলবেন। সেই সাথে হযরত সাহেবের একটি কিতাবও দিয়ে দিলেন। ওটার নাম ছিল ‘আপকি আমানত আপকি সেবা মেঁ’ আমি কিতাবটি গাড়িতে রেখে দেই। সকাল সকাল উঠে স্নান করে একশত বার ‘ইয়া হাদী’ আর একশত বার ‘ইয়া রাহীম’ জপ করি। এতে অনেক শান্তি অনুভব করি। সন্ধ্যায়ও এই জপ জপতে থাকি। যে অস্থিরতা আর পাগলামীভাবের বরং পাগলামীর শিকার হয়েছিলাম, তা অনেকটা হালকা মনে হল। এক সপ্তাহর পর মালিকের সাথে আমার এক আশ্চর্য সম্পর্ক সৃষ্টি হয়ে গেল। আমার মনে হল যখন বাতানো জপেই এমন শান্তি পাচ্ছি তাহলে তার কিতাবটিও তো পড়ে দেখা দরকার। সেখানে আরও কোনো জপও লেখা থাকতে পারে। আমি আপকি আমানত পড়লাম। একবার শেষ করে আবার পড়লাম। ছোট এই কিতাবটি ইসলাম সম্পর্কে আমার ধারণা পাল্টে দিল।

মুক্তি আর শান্তির জন্য এখন আমি ইসলামের মধ্যে একটি পথ দেখতে পেলাম। মাওলানা উমর সাহেবকে ফোন করলাম- আমাকে ইসলাম সম্পর্কীয় আরও কিতাবের সন্ধান দিন। তিনি ‘ইসলাম কিয়া হ্যায়’ এবং ‘মরণেকে বাদ কিয়া হোগা’-র কথা বললেন। আমি দিল্লী থেকে কিতাব দুটি আনিয়ে নিলাম। তারপর আমি কুরআন মাজীদ অধ্যয়ন করাকে জরুরী মনে করলাম এবং কুরআন মাজীদ পড়তে শুরু করলাম। ইতোমধ্যে একটি টুর্নামেন্ট খেলতে জয়পুর যাই। একদিন আমরা জয়পুর দেখতে বেরুলাম। মার্কেটে শপিং করতে গিয়েছি।

ইতোমধ্যে এক তাবলীগী জামাত এক মসজিদ থেকে আরেক মসজিদে যাচ্ছিল। আমার তাদের সঙ্গে দেখা করতে মন চাইল। গাড়ী থামালাম। তারা মসজিদে প্রবেশ করলে আমিও সঙ্গীদের কিছুটা দূরে থামিয়ে মসজিদে প্রবেশ করলাম। তাদের বললাম, আমি নামায পড়তে চাই। তারা আমাকে আমীর সাহেবের সঙ্গে সাক্ষাত করিয়ে দিল। আমীর সাহেব আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কেন নামায পড়তে চাচ্ছেন? বললাম, আমি ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা করেছি। ইসলামকেই আমি মুক্তি ও শান্তির একমাত্র পথ মনে করি। এজন্য ধীরে ধীরে ইসলামকে ফলো করতে চাচ্ছি। তিনি ব্যাগ থেকে ‘আপকি আমানত’ বের করে আমাকে দিতে চাইলেন। আমি বললাম কিতাবটি আমি তিনবার পড়েছি। লেখকের গ্রামেও গিয়েছি।

আমীর সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, আপনি মাওলানা সাহেবের সঙ্গে দেখা করেননি? বললাম, তিনি তখন সেখানে ছিলেন না। জানতে চাইলেন, আমি কালিমা পড়েছি কিনাÑ বললাম, না, এখনও পড়িনি। ফুলাতে মাওলানা উমর সাহেব পড়তে বলেছিলেন কিন্তু কিতাব পড়ার পর পড়বো বলে কথা দিয়েছিলাম। আমীর সাহেবকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি মাওলানা কালিম সাহেবকে জানেন? বললেন, আমি মাওলানা সাহেবের মুরীদ। মেওয়াতে থাকি। আমাদের জামাতে কয়েকদিন পূর্বে মুসলমান হয়েছেন এমন চারজন লোকও আছেন। তাদের একজন ছিলেন মন্দিরের বড় পূজারী। কয়েকদিন আগেই তিনি টিকি ইত্যাদি কেটে ফেলেছেন। আমীর সাহেব সেই চারজনের সঙ্গে আমাকে সাক্ষাত করিয়ে দিলেন। তারপর আমাকে কালিমা পড়তে বললেন। কিছুক্ষণ ভাবার পর আমি তৈরী হয়ে গেলাম। তিনি আমাকে কালিমা পড়িয়ে হযরতের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দিলেন।

আল্লাহর শোকর! ফোনেই কথা হয়ে গেল। আমীর সাহেব হযরতকে বলে আমাকে আবার কালিমা পাড়ালেন এবং জামাতে সময় লাগানোর পরামর্শ দিলেন। টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমি সেখান থেকেই ডাকযোগে ছুটির আবেদন করলাম এবং ছুটি পেয়ে সেই জামাআতেই পঁয়ত্রিশ দিন সময় লাগালাম। তাদের পাঁচ দিন হয়ে গিয়েছিল। আমীর সাহেব তার সঙ্গীদের তাশকীল করলেনÑ ভাই ইকবাল সাহেবের পাঁচ দিন কম হয়েছে, আমরা তাঁর চিল্লাটা পুরা করে দেই। তার খাতিরে পাঁচটি দিন বেশী থেকে যাই! তিনজন সাথীর জরুরী কাজ ছিল। তারা চলে গেলেন। বাকী সাথীরা চিল্লা পুরা হওয়া পর্যন্ত আমার সঙ্গে সময় লাগাল।

আহমদ আওয়াহ: জামাআত থেকে এসে আপনি ঘরের লোজকনকে এসব বলে দিলেন?
ইকবাল আহমদ: বাড়ি ফিরে পরিবারের লোকজনকে আমি সব বলে দিই। তারা ক্ষেপে গেল। সবাই মনে করল, এসব আশাকে বিবাহ করার ছল চাতুরী। তারা আমার সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ শুরু করল। আমার বাড়ি ছাড়তে হল। ফুলাত পৌঁছলাম। ফুলাত পৌঁছার চতুর্থ দিন হযরতের সঙ্গে সাক্ষাত হল। হযরত আমাকে বাড়ি গিয়ে থাকার পরামর্শ দিলেন এবং নীরবে পরিবারের ওপর কাজ করতে বললেন। আমার ডাক্তার ছোট ভাইটি অনেক চেষ্টাসাধ্যির পর ফুলাত এসে হযরতের সঙ্গে দেখা করতে রাজী হল। আমি তাকে নিয়ে ফুলাত গেলাম। হযরত সাহেব মাওলানা উমর সাহেবকে ডেকে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে ও আলাপ করতে বললেন। আলহামদুলিল্লাহ! তিনি তৎক্ষণাৎ কালিমা পড়ে নিলেন। আমার আবদারে হযরত তাকে আবারও কালিমা পড়ালেন। আর তার নাম রাখলেন মুহাম্মদ আফজাল।

ভাইয়ের মুসলমান হওয়ার পর আমার জন্য বাড়ির পরিবেশ অনুকূল হয়ে গেল। হযরত যখন আমাকে বাড়ি যাওয়ার কথা বলেছিলেন আমার খুব আশ্চর্য লাগছিল। ভাবছিলাম, ইনি আমাকে গ্রহণ না করে বোঝা মনে করে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ভেতরে ভেতরে অন্য রকম কুধারণার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু ভাইয়ের মুসলমান হওয়ার পর মনে হল তিনি খুব ভেবেচিন্তেই ফায়সালা করেছিলেন। এটা আল্লাহ তাআলার অপার অনুগ্রহ, আমি অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাঁর সিদ্ধান্ত মেনে বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। অথচ আমি বাড়ির লোকজনকে বলেও এসেছিলাম, আমি তোমাদের মুখ পর্যন্ত দেখাবো না।
আমার ডাক্তার ভাইটি আমাকে লজ্জাও দিয়েছিল যে, আশাকে আর মুসলমানরা জায়গা দিল না। বললাম, পরিবার আসলে পরিবারই। আমি লজ্জা ঢাকার জন্য বলেছিলাম বাড়ির কথা মনে করে আর থাকতে পারলাম না। বিশেষ করে তোমাকে ছাড়া ভাই, থাকাটা খুবই কঠিন।

আহমদ আওয়াহ: তারপর কী হল? পরিবারের অন্যান্যদের কী অবস্থা?
ইকবাল আহমদ: আমার ভাই ডাক্তার আফজালও চিল্লা লাগিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ আমাদের প্রচেষ্টায় মা-ও মুসলমান হয়ে গিয়েছেন। এখনও আমি সরকারীভাবে চাকুরীস্থলে নাম পরিবর্তন করিনি। তবে অধিকাংশ লোকই জানে আমি মুসলমান হয়ে গিয়েছি। ডিউটিতে থাকাকালীন নামায পড়ি।

আহমদ আওয়াহ: আশার কী হল?
ইকবাল আহমদ: আমি ইসলাম অধ্যয়ন করতে লাগলাম, আমার প্রেমও ধীরে ধীরে নিস্তেজ হতে লাগল। আশা কিছুদিন ফোন করতো। পরে সেও যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। দু’মাস পূর্বে জানতে পেরেছি- তার বিবাহ হয়ে গিয়েছে।

আহমদ আওয়াহ: আপনার কখনও মনে হয়নি যার কারণে আপনি মুসলমান হয়েছেন তার ঈমানের জন্যও আপনাকে ভাবা উচিত?
ইকবাল আহমদ: শুরুর দিকে মনে হতো কিন্তু হযরত তার ঠিকানা নিয়ে বললেন, আপনি তার চিন্তা ছেড়ে দিন। চন্ডিগড়ে আমাদের সঙ্গীরা আছে তারাই তাকে দাওয়াত দেয়ার ফিকির করবে। হযরতের নির্দেশের পর আমি তার ভাবনা ছেড়ে দিয়েছি।

আহমদ আওয়াহ: আরমুগানের পাঠকদের উদ্দেশ্যে কোনো পয়গাম?
ইকবাল আহমদ: দুনিয়ার সমস্ত রঙরূপ ধোঁকা। হৃদয় সঁপে দেয়ার উপযুক্ত কেবল সেই সত্তা যিনি সকল সুন্দর ও সৌন্দর্যের স্রষ্টা। তার কাছে হৃদয় সঁপে দিলে সব অস্বস্তি স্বস্তিতে বদলে যায়। আমার জন্য এবং সকল মানুষের জন্য এটাই আমার পয়গাম।

আহমদ আওয়াহ: অনেক অনেক শোকরিয়া! আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
ইকবাল আহমদ: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু! আপনাকেও অনেক অনেক শোকরিয়া।


সাক্ষাৎকার গ্রহণে
মাও. আহমদ আওয়াহ নদভী
মাসিক আরমুগান,