ইসলামের সাথে আমাদের সম্পর্ক ও একটি উদাহরণ

ইসলামের সাথে আমাদের সম্পর্ক ও একটি উদাহরণ
আমাদের অবস্থা হলো এই, আমাদের পরিবার ও সমাজে প্রচলিত দ্বীনের কয়েকটি বিষয়ের উপর আমল করাকেই যথেষ্ট মনে করছি। ধর্মের কিছু অংশকে পরিপূর্ণ ধর্ম মনে করছি। আমাদের উদাহরণ ওই অন্ধ ব্যক্তির মতো। অন্ধদের একবার হাতি দেখার শখ হলো, তারা হাতি দেখতে গেলো। চোখে দেখে এমন ব্যক্তিকে গিয়ে বলল, আমাদেরকে হাতি দেখিয়ে দিন। তারা তো অন্ধ, হাতি দেখবে কিভাবে? সেই ব্যক্তি একজনের হাত ধরে হাতির শুঁড় ধরিয়ে দিয়ে বলল, এটা হাতি। দ্বিতীয় জনকে হাতির লেজ ধরিয়ে বলল এটা হাতি। তৃতীয় ব্যক্তিকে হাতির কান ধরিয়ে বলল এটা হাতি। এমনিভাবে চতুর্থ ব্যক্তিকে হাতির পা ধরিয়ে বলল এটা হাতি। সবাই খুশি হয়ে গেলো। ফিরে গেলো নিজ গ্রামে। লোকজন জিজ্ঞাস করল, তোমরা কি হাতি দেখেছ? তারা বলল, হ্যাঁ, আমরা সকলেই হাতি দেখেছি। লোকজন জানতে চাইল তোমাদের কাছে হাতি দেখতে কেমন মনে হলো? যে অন্ধ হাতির শুঁড় ধরেছিল সে বলল হাতি হলো পেঁপে গাছের মতো। যে লেজ ধরেছিল, সে বলল, হাতি হলো ঝাড়–র মতো। যে পা ধরেছিল সে বলল, হাতি হলো মোটা গাছের মতো। যে হাতির কান ধরেছিল সে বলল, হাতি হলো কুলার মতো। এমনভাবে প্রত্যেকেই নিজ নিজ ধারণা ও জ্ঞানের কথা বলে দিল। কিন্তু হাতির বড় কোনো অংশের স্পর্শও করতে পারেনি।
কুরআন সুন্নাহর জ্ঞান না থাকার দরুন, এই অন্ধদের মতো দ্বীনের প্রচলিত কিছু আমলকে দ্বীনের পূর্ণ অংশ মনে করছি। এমনিভাবে আমরা ঈমানী ও আমলী দৃষ্টি থেকে বঞ্চিত। ফলে কুরআন সুন্নাহর মাধ্যমে পুরো দ্বীনকে বুঝতে ও আমল করতে অক্ষম। সেই রবের উপর কুরবান যিনি এই অংশ থেকে মুক্তির জন্য এলান করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِىْ رَسُوْلِ اللّٰهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُوْ اللّٰهَ وَالْيَوْمَ الْآَخِرَ وَذَكَرَ اللّٰهَ كَثِيْرًا
অর্থ: যারা আল্লাহ্ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহ্কে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রয়েছে রাসূলুল্লাহ্র মধ্যে উত্তম নমুনা।
-আহযাব-২১
নববী কাজ ও চরিত্রের সাথে সম্পর্ক খুবই জরুরি
কুরআন ও সুন্নাহ এই দুটো জিনিসই হলো আসল দ্বীন। অর্থাৎ কুরআন হলো দ্বীনের লিখিত রূপ। আর হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত হলো বাস্তব ব্যবহারিক আমলী রূপ।
এক বর্ণনা অনুযায়ী কুরআনে পাকের আয়াত সংখ্যা ৬৬৬৬টি। অন্য এক বর্ণনা অনুযায়ী ৬২৩২টি। এর মধ্যে ৫০০ আয়াত বিধি-বিধানাবলী আমল ও মাসায়েল সম্পর্কীত। অন্যান্য ৬০০০ আয়াত দাওয়াত ও তার চূড়ান্ত জিহাদ (জিহাদের বিধানাবলী, সে সম্পর্কে উদ্বুদ্ধকরণ ও ঘটনাসমুহ) বিষয়ে। কুরআনে হাকিমের এই সম্পর্ক সীরাতের মধ্যেও বিদ্যমান। দাওয়াত ও জিহাদ ছাড়া, বাকি আহকামাতের আয়াতের উপর আমল করছি। তার উদাহরণ হলো ওই দর্জির ন্যায়, যাকে একটি জামা সেলাই করতে দেয়া হলো। সেই দর্জি জামার হাতা না বানিয়ে শুধু কলার ও জামার সামনের অংশ বানিয়ে নিয়ে এলো। আর বলতে লাগল নিন আপনার জামা। আপনার জামা প্রস্তুত হয়ে গেছে। এমন কোনো বেকুফ মানুষ আছে কি? যিনি এই আধুরা জামাটা গ্রহণ করবে? নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনীকে আদর্শ বানানোর জন্য, সকল কাজ, অভ্যাস, কথাবার্তা, চরিত্র, সকল দিক দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লামের মতো হতে হবে। এর জন্য দাওয়াতের কাজ এবং তার পূর্ণতা জিহাদের গুরুত্ব দেয়া উচিত। সীরাতের অধ্যয়নকারী তা ভালোভাবে বুঝতে পারবে। এমন কি দাওয়াতি কাজে, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধের পদ্ধতিও পবিত্র সীরাত অনুযায়ী হতে হবে। এখানে এ কথাটি স্পষ্ট করা ভালো হবে, উত্তম জিনিসগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম জিনিস হলো ‘ঈমান’। অসৎ জিনিসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ হলো কুফর ও শিরক। তাই ঈমানের দাওয়াত, কুফর ও শিরক থেকে মানুষকে বাধা দেয়া এবং তা থেকে বের করে আনা, সকল কাজের উপর প্রাধান্য দিতে হবে।

প্রথমে কাদের সংশোধন: মুসলমানদের না মুশরিকদের
এ ব্যাপারে আমাদের নফস আমাদেরকে একটি অজুহাত শিক্ষা দেয়। প্রথমে যদি আমাদের নিজেদের সংশোধন হয়ে যায়, আর আমরা নামের মুসলমান যদি কাজের মুসলমান হয়ে যাই, এরপর অন্যের খবর নিব। সত্যিই কথাটি খুবই যুক্তিসংগত চমকপ্রদ মনে হয়। এর মধ্যে নিজেদের সংশোধনের চিন্তা বেশি অনুভব হয়। কিন্তু একটু ভালোভাবে চিন্তা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এটা নফসের একটি ধোঁকা ছাড়া আর কিছু নয়।
এই বিষয়ে কয়েকটি কথার দিকে পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আশা করি অনেক উপকার হবে। প্রথমত: আমাদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনে হাকিম থেকে কি এই পদ্ধতি ও চিন্তা বুঝে আসে? দ্বিতীয়ত: এই ভাবে আমল করার জন্য কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদর্শ বানিয়েছেন? তৃতীয়ত: সাহাবায়ে কেরাম যারা দ্বীন বুঝার প্রথম জামাত ছিলেন। যারা সরাসরি নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্বোধন প্রাপ্ত লোক ছিলেন। তাঁদের কি এই মেজাজ, মানসিকতা ছিল। যে, প্রথমে আমরা জেনে নিই, মেনে নিই, তারপর অন্য মানুষকে দাওয়াত দিবো? এমন ছিল কি সাহাবাগণের চিন্তাধারা? আমাদের সরদারের হুকুম بلغوا عني و لو اية (একটি বাক্য হলেও অন্যের কাছে পৌঁছে দাও) এর উপর আমল করতেন। তাঁরা যা কিছুই জানতে পেরেছেন তা অন্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। ওই সব জিনিসের মধ্যে সর্বপ্রথম ছিল ঈমান।
দ্বিতীয় কথা হলো, আমরা যদি এই অপেক্ষায় থাকি যে, যখন আমরা পূর্ণ সংশোধন হয়ে যাব। শতভাগ ইসলামের উপর চলব ও পাক্কা মুসলমান হব। তারপর দাওয়াত দিব। এমন সময় কখনও আসবে না। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনÑ
خير القروني قرني ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم
অর্থ : সর্বোত্তম যুগ আমার যুগ, অতঃপর তার পরের যুগ, তারপর তার পরের যুগ। এই হাদিস অনুযায়ী দেখতে পাই মানুষের মাঝে সৃষ্টিগতভাবে দোষ বাড়ছে, আর ভালো কমছে। পুরো জীবনে শতভাগ মুসলমান হওয়ার সুযোগ নেই। তাই আমাদের দাওয়াতের কাজকে ছড়িয়ে দিতে হবে। আর কুরআন-হাদিস ও সীরাত অনুযায়ী ঈমানের আমল করতে হবে।

কালেমায়ে শাহাদাত একটি অঙ্গীকার
প্রত্যেক ঈমানদারগণ জানে, কালেমা তায়্যেবার উপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে হবে। এ কালেমাকে মুখে স্বীকার করা, অন্তরে বিশ্বাস করার নাম হলো ঈমান। কালেমা তায়্যেবার কিছুটা বিস্তারিতভাবে বলাকে কালেমা শাহাদাত বলে। যারা নতুন ঈমান গ্রহণ করে, তাদের কালেমা তায়্যেবার স্থলে কালেমা শাহাদাত পড়ানোই সুন্নাত। এই কালেমা দ্বারা মানুষ সাক্ষী দেয় যে আমি সত্য দিলে এক আল্লাহকে বিশ্বাস করি এবং ঘোষণা দিই যে, আল্লাহ ছাড়া এবাদতের উপযুক্ত আর কেউ নেই। সৃষ্টিকর্তা, মৃত্যুদাতা, আহারদাতা, উপকার ও ক্ষতি, সবকিছুর মালিক হলেন আল্লাহ। আমি অঙ্গীকার করছি যে, তিনি ছাড়া অন্য কাউকেই উপাস্য হিসেবে, আহারদাতা, পালনকর্তা, কোনো উপকার-ক্ষতির মালিক প্রকৃত বিচারক এবং অন্তরে স্থান দেয়ার মতো উপযুক্ত কাউকে মনে করব না। আমি তার বান্দা ও গোলাম-দাস থাকব। আমি এই ঘোষণা করছি ও সাক্ষী দিচ্ছি যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণ গোলামির ক্ষেত্রে সফল বান্দা ও সত্য রাসূল। আমি সত্য মনে এ কথার অঙ্গীকার করছি যে, আল্লাহর দেয়া জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তাঁর আনুগত্যে ব্যয় করব। তাঁর সত্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে আমাদের জীবনযাপন করার জন্য বাস্তব আদর্শ বানিয়ে নেব। কালেমায়ে শাহাদাতের মধ্যে দুটি অংশ। একটি হলোÑ
اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ
আর দ্বিতীয়টি হলোÑ
اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ
প্রথম অংশকে এখলাস ও নিষ্ঠার কথা বলা যেতে পারে। শুধুমাত্র তাঁরই জন্য জীবিত থাকব। তারই জন্য মৃত্যুবরণ করব। এবং যা কিছু করব তা শুধু তার জন্যই করব। অন্তরের মধ্যে শুধু তাঁকেই স্থান দিব। এর জন্য প্রয়োজন অধিক এখলাস। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সম্মান, বড়ত্ব, গাইরুল্লাহর দাসত্ব ও ভালোবাসা অন্তর থেকে বের করে দিব। তাই এই কালেমার মধ্যে প্রথম অংশটি নেতিবাচক এরপর ইতিবাচক অঙ্গীকার করা হয়েছে। কালেমার দ্বিতীয় অংশ হলো
اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ
অংশকে আনুগত্যের অঙ্গীকার বলা যেতে পারে। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের পুরো জীবনে শতভাগ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করব। সেই আনুগত্যের মধ্যে রাসুুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের আনুগত্য করব। তাঁর রেসালাতেরও আনুগত্য করব। এখানে তাই সুস্পষ্ট করে এই অঙ্গীকার নেয়া হয়েছেÑ
اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ
আমার সম্মানিত মুরশিদ হযরত মাওলানা সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.)ও দাসত্ব রেসালাতের বিষয়ে কত সুন্দর একটি কথা বলেছেন। দাসত্বের অনুসরণের বাস্তব প্রতীক হলো দু‘আ। তাই সকল ইবাদতের জন্য মূল হলো দু‘আ। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রেসালাতের বাস্তব প্রকাশ হলো দাওয়াত। এখানে একটি জিনিস জানা খুবই জরুরি।
الايمان ما وهو في القلب بصورة العمل
ঈমান হলো ওই জিনিস, যা অন্তরে বসে যায়। আর আমল যা সাক্ষী দেয়। এটা বাস্তব সত্য, যেই জিনিসের বিশ্বাস মানুষের অন্তরে হয় সেই অনুযায়ীই সে আমল করে। উদাহরণস্বরূপ আপনি রাতের বেলায় একাকী একটি পথে চলেছেন। আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য এমন একজন ব্যক্তি অপর দিক থেকে এসে বলল, এই পথে ডাকাতদের একটি গ্র“প লুটপাট করছে। অনেক মানুষকে হত্যাও করছে। আপনি যদি তাঁর কথায় বিশ্বাস করেন, তাঁর উপর আস্থা রাখেন, তাহলে কখনোই সেই পথে যাবেন না। এত কিছু জানার পরও যদি সেই পথে চলেন তাহলে মানুষ বলবে যে, তাঁর উপর আপনার কোনো আস্থা নেই। তাঁর কথা আপনি বিশ্বাস করেননি। কারণ আপনার কাজ আপনার বিশ্বাসকে সত্যায়িত করেনি। ঠিক এমনিভাবে ঈমানের সাথে আমালে সালেহা অর্থাৎ ঈমানের সাথে ঈমানের সত্যায়িত আমলও জরুরি। তাই বলা হয়েছে ঈমান হলো ওই জিনিস, যা অন্তরে বসে যায়। আর তাঁর আমল সেই ঈমানকে সত্যায়িত করে।

ভালো কাজকে পছন্দ করাই যথেষ্ট নয়
কোনো ভালো কাজকে পছন্দ করা আর সমর্থন করাকেই আমরা যথেষ্ট মনে করি। কোনো কাজকে পছন্দ ও সমর্থনেই যদি যথেষ্ট হতো, তাহলে হুজুর আকদাস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় চাচা আবু তালেবের বেলায় বেশি কাজে আসত। কারণ তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে বড় সহযোগী। দ্বীন ও দ্বীনদারদের মন থেকে পছন্দ করতেন। কিন্তু তার এই পছন্দ ও সহযোগিতা কোনো কাজে আসেনি। এ জন্য কালেমায়ে শাহাদাত তথা এখলাসের অঙ্গীকার। আল্লাহর দাসত্ব ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের মৌখিক ও আন্তরিক অঙ্গীকারের সাথে সাথে, কার্যত সত্যায়ন অতীব জরুরি।
পূর্ণ ঈমানের নাম হলো কালেমায়ে শাহাদাতের উপর কার্যত সত্যায়ন ও বিশ্বাস স্থাপন। কেউ যদি নিষ্ঠার সাথে ইবাদাত ও সাধনা করে, অন্তরেও থাকে পরিপূর্ণ এখলাস, কিন্তু সে নবীর দাওয়াতি কাজের আনুগত্য করে না, দাওয়াত দেয় না, দাওয়াতি কাজকে শুধু পছন্দের দৃষ্টিতে দেখে, তাহলে সে পরিপূর্ণভাবে ঈমান গ্রহণ করেনি। কেননা সে দাসত্বের অঙ্গীকার তো পূর্ণ করেছে। কিন্তু রিসালাতের অঙ্গীকার প্রত্যাখ্যান করেছে। কেননা দাওয়াত হলো ঈমানের অংশ দাওয়াত ছাড়া ঈমান অসম্পূর্ণ। বাস্তব সত্য হলো, দাওয়াত ছাড়া ইখলাসও পরিপূর্ণ নয়। যে নিজেকে ঈমানদার বলে দাবি করে, কিন্তু দাওয়াতি কাজ করে না, তাহলে সে পূর্ণ মুখলেস ও নিষ্ঠাবান হতে পারবে না। এখলাস হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে জীবনযাপন করা। আল্লাহর রাজির জন্য জীবনযাপন করতে হলে, তার ইচ্ছা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শতভাগ আনুগত্য ছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা পাওয়ার আর কোনো পথ নেই। আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللّٰهَ فَاتَّبِعُوْنِىْ يُحْبِبْكُمُ اللّٰهُ وَيَغْفِرْ لَـكُمْ ذُنُوْبَـكُمْ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَحِيْمٌ.
অর্থ: বলুন, যদি তোমরা আল্লাহ্কে ভালোবাস তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ্ও তোমাদেরকে ভালোবাসেন এবং তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ্ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।
-আলে ইমরান- ৩১

নবীজীর দাওয়াতি ব্যথায় জানবাজী দেয়া ছাড়া নবীর এত্তেবা কল্পনা করা অসম্ভব। কারণ দাওয়াত ছাড়া এখলাসও অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আমাদের এসলাহের ফিকির ও নিজ ঈমানের জিম্মাদারী আদায় করার জন্য ঈমানের দাওয়াতের হক আদায় করা খুবই জরুরি।

মূল হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা.বা.
অনুবাদ. যুবায়ের আহমদ