ইসলামে নারীর অধিকার

ইসলামে নারীর অধিকার এবং বঞ্চিত নারী তার অধিকার থেকে
নবীজীর আবির্ভাবের পুর্বে পৃথিবীর অবস্থা:
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আবির্ভাবের পূর্বে দুনিয়ার অবস্থা এতো খারাপ ছিল, যা মন্দের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। এটা শুধু আরব আর হেজাজে নয়, বরং পৃথিবীর ইতিহাস অধ্যায়ন করলে বুঝা যায় ঐ সময় দুনিয়ার সকল খারাবি ও অন্যায়ের যুগ মনে করা হতো।
শিরক ও মুর্তি পূজার অবস্থা এই পর্যায়ে পৌঁছে ছিল যে, তওিহীদের সর্বপ্রথম কেন্দ্র মুক্কা মুকাররামায় ৩৬০টি মুর্তির পূজা করা হতো, সেই পূজা হতো ঐক্যবদ্ধ ভাবে। (বর্তমান যুগে হিন্দুস্থানকে মুর্তিপূজার সবচাইতে বড় ক্ষেত্র মনে করা হয়। কিন্তু মাইলকে মাইল অতিক্রম করার পর আপনার একটি মন্দির দৃষ্টিগোচর হবেনা যে মন্দিরে একসাথে ১০০ একশত মুর্তি পাওয়া যাবে।) ঐক্যবদ্ধ ছাড়াও প্রতিটি মানুষ যাকে ব্যক্তিগত কিছু মুর্তি থাকতো যেই মুর্তির প্রতি বেশী ভক্তি হতো, সফরে যাওয়ার পূর্বে বিভিন্ন কাজের পূর্বে সাটাকে সেজদা ও ভক্তি করে এরপর কাজ শুরু করতো। সেই তুলনায় এই যুগে মূর্তি পুজা ও শিরক অনেক কম। এমনকি নাই বললেই চলে।
জুলুম নির্যাতন এই পর্যায়ের ছিল, যারা যত বেশী জুলুম ও নির্যাতন করতে পারতো তাদেরকে ততো উন্নত মনে করা হতে। ঐ সময় দুনিয়াতে দুটি সুপার পাওয়ার ছিল, রোম এবং পারস্য (ইরান)।
খ্রিস্টান ইতিহাসবিদ এই দুই রাজত্বের দরবারের নির্যাতনের অবস্থা বর্ণনা করেছেন। উদাহরণস্বরুপ, মি. নাল্ড ইরানের বাদশা কেসরার রাজদরবারের নিয়ম ও রুসমের আলোচনা করেছেন। তার মধ্যে একটি নিয়ম ছিল, যে, বাদশার দরবারে যদি কোনো বিশেষ সম্মানিত মেহমান আসতো, তাহলে একটি সুন্দর যুবক গোলামের গায়ে তুলা দিয়ে প্যেচিয়ে দিতো। আর তার উপর ঘি ঢেলে দিত। আর তাতে আগুন জ¦ালিয়ে সেটাকে প্রদিপ হিসেবে ব্যবহার করা হত। আর সেই আলোতে মেহমানদের সাথে বসে বাদশা খাবর খেত। এই গোলাম যত জ¦লত আর চিল্লা চিল্লি ও কান্নাকাটি করতো, মেহমান মনে করত আমাদের খুব ভালো আপ্যায়ন হচ্ছে। এটি একটি উদহারণ মাত্র। এধরণের নির্যাতন যত বেশী হত ততো বেশী ফ্যাশন মনে করা হতো। সে তুলনায় এ যুগকে নির্যাতনের যুগ কীভাবে বলা যায়। নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনা এই পর্যায়ের ছিল যে, কোনো অনুষ্ঠানে বা মেলায় এমন হতো না যেখানে উলঙ্গ মেয়েদের দ্বারা নাচ গান না হতো। এই দিক থেকে এ যুগকে নির্লজ্জতার যুগও বলা যেতে পারে।
নেশা আর মদের ব্যবহারের অবস্থা এই পরিমান ছিল, যে, দির্ঘদিন পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা সাহাবাদেরকে নেশার খারাবী বর্ণনা করে অনেক প্রশিক্ষণ করার পর, মদ হারামের ঘোষণার আয়াত অবতীর্ণ করলেন।
মুহাদ্দিসগণ লিখেন, সাহাবায়ে কেরাম এই হুকুমের উপর আমল করার জন্য মদের মটকা ভেঙ্গে দিলেন। ঐ সময় মদিনার অলি গলিতে মদ এই ভাবে প্রবাহিত হতে লাগল, যেমন ভাবে ভারি বর্ষণ হলে পানি প্রবাহিত হয়। সেই তুলনায় এই যুগকে মদ ও নেশার যুগতো বলা একেবারেই ঠিক না।
আল্লাহ তা‘আলা ঐ যুগকে অজ্ঞতার যুগ বলেছেন
কিন্তু সেই মহান আল্লাহ তা‘আলা যিনি ভাষা তৈরীকারি, তিনি ঐ যুগকে মূর্তিপুজার যুগ বলেন নি, যুলুমের যুগও বলেন নি। বলেন নি নির্লজ্জতার যুগ, বলেন নি মদ ও নেশার যুগ। কোনো খারাপ কিছু দ্বারা ঐ যুগকে নামকরণ করেন নি। বরং ভাষা সৃষ্টিকারী ঐ যুগের নাম দিয়েছেন অজ্ঞতার যুগ। এই অজ্ঞতার অন্ধকারকে দুর করার জন্য এবং তা শেষ করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা সভাবজাত পদ্ধতির ব্যাবস্থা করেছেন। হযরত ঈসা আ. এর ছয়শত বছর পর আল্লাহ তা‘আলা তার দুনিয়তে রহমতের জন্য আকাশের দরজা খুলেছেন। আর গারে হেরাতে তার উম্মি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর। যারা নিজেদেরকে উম্মি (অজ্ঞ) জাতির একজন অংশ বলতেন। তখন এটা বলেন নি -امين—-ঈমান আন বলা হয়নি, বলুন -اسلم —-ইসলাম গ্রহণ করুন, এও বলেন নি لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ
আল্লাহর সাথে শিরক কিরিও না। এ ছাড়া কোনো হুকুমও অবতির্ণ করেন নি বরং উম্মিদের উপর যখন প্রথম ওহি অবতীর্ণ হয়, তার শব্দ ছিল اقْرَأْ পড়ুন। এর দ্বরা বুঝা যায় উম্মি শুধু মক্কায় ছিল না বরং মক্কা ঐ সময় সভ্যতার দিক থেকে উন্নত সভ্যতার শহর বুঝানো হতো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত মুবারকের ব্যাপারে একটি ভুল ধারণা হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু গ্রাম্য উঠ ও বকরির রাখালদেরকে একত্র করেছেন। তাদেরকে মুসলমান বানিয়েছেন, পক্ষান্তরে ঐ সময়ের আন্তর্জাতিক অবস্থা যদি অধ্যায়ন করা হয় তাহলে বুঝা যাবে মক্কা ছিল ঐ সময়ের সবচেয়ে উন্নত শহর, আর সারা পৃথিবী ছিল অন্ধকারে নিমজ্জিত।
রোম ও ইরানের বাদশাহ কেসরা ও কায়সারের এখানে দরবারী আলেমদের উপর দায়িত্ব থাকতো এবছর হজ কারীদের থেকে শাক্ষ নিবে যে, এ বছর বিশেষ করে কুরআনশরা আজ কাল কোন ধরনের ফ্যাশন কালচার, সভ্যতা গ্রহণ করছে। তারা কোন ধরনের কাপড় পড়ছে। কী ধরণের কবিতা আবৃতি করছে? যাতে তারাও সেগুলো নিজেদের মধ্যে ব্যবহার করে উন্নতি লাভ করে।
সভ্যতার দিক দিয়ে উন্নত শহর মক্কা অজ্ঞতার অন্ধকারে এমন ভাবে ঢুকেছিল, যে, ঐতিহাসিকগণ লিখেন ঐ সময় মক্কা মুআজ্জামায় মাত্র তিন থেকে চারটি কলম পাওয়া যেত, যেই শহরে তিন থেকে চারটি কলম, তাহলে ঐ শহরে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা কতজন হতে পারে।
اقْرَأْ এর সুইচ অজ্ঞতার সমাপ্তি
কেমন জানি অজ্ঞতার অন্ধকারকে দুনিয়া থেকে নিঃশেষ করার জন্য প্রজ্ঞাময় মহান আল্লাহ তার পাঠানো মু‘আল্লিম (শিক্ষক) মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম এর মাধ্যমে اقْرَأْএর সুইচ চালু করেছেন। এরপর সেই اقْرَأْএর আওয়াজের অজ্ঞতার গভির অন্ধকারকে জ্ঞান দ্বারা উজ্জল ও আলোকিত করেছেন।
জ্ঞানের সকল বিজয় اقْرَأْএর ধ্বনির মধ্যে
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লমের আবির্ভাবের পূর্বে ও পরে পুরো দুনিয়ার অবস্থা যদি গভির ভাবে অধ্যায়ন করা যায়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লমের আবির্ভাবের মাধ্যমে পুরো দুনিয়ার ইতিহাস দুইভাবে পরিলক্ষিত হয়। যার মাধ্যে একদিকে অজ্ঞতার অন্ধকার আর অপর দিকে জ্ঞনের পরিস্কার আলো দেখা যাবে, পুরো দুনিয়ার জ্ঞনের যুগ পরবর্তিতে সকল জ্ঞরেন ইনকেলাব বিজয় গারে হেরায় সুইচ অন করার বরকত। চাই সেটা সাহিত্যেও উন্নাতি হোক চাই, সাইন্স টেশনলজির উন্নাতি সবকিছু বিসাতের পরই হয়েছে। এই জন্য ইসলাম মূলত অজ্ঞতার চিকিৎসার জন্য একটি জ্ঞানের বিজয়। এই অজ্ঞতার যুগ যার পরসমাপ্তির জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতে এসেছেন। এর জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন আমি অজ্ঞতাকে পদদলিত করার জন্য এসেছি।
জাহেলী যুগের পরিচয়ের জন্য তার মৌলিক খারাবী ও দোষ-ত্রুটি নিয়ে উলামাগণ কিতাব লিখেছেন।

নারীর উপর নির্যাতন জাহেলী যুগের শান
এই জাহেলী যুগের মৌলিক খারাবীগুলোর মধ্য থেকে এক নাম্বার দোষ ও ভুল। ওলামাগন লিখেছেন তা হল নারী নির্যাতনতা এই পর্যায়ে পৌছেছিল, যে, একে মৌলিক ও বিশেষ দোষ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
পুরো দুনিয়াতে বিভিন্ন ধর্মে ও বিভিন্ন ধর্মেও অনুসারদের মধ্যে নারী নির্যাতনের ইতিহাস খুব নাজুক ছিল। আল্লাহ তা‘আলা যে নারীদেরকে পুরুষদের জন্য পূর্ণতা ও শান্তি বানিয়েছেন, সেই মহিলাদেরকে দুুনিয়ার কোনো ধর্ম মানুষ মনে করতো না। এমনাকি আরবে নারী জন্ম নিলে কেমন খারাপ মনে করা হতো আল্লাহ ত‘আলা বর্ণনা করেছেনÑ
وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِالْأُنْثَى ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ (৫৮) يَتَوَارَى مِنَ الْقَوْمِ مِنْ سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ أَيُمْسِكُهُ عَلَى هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ أَلَا سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ (৫৯)
অর্থ:
কন্যা সন্তান জন্ম নিলে তদেরকে জিবিত কবর দেওয়া হতো আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُئِلَتْ (৮) بِأَيِّ ذَنْبٍ قُتِلَتْ (৯)
অর্থ:-
সৎ মাকে সন্তানদের মধ্যে সামানের মতো ভাগ করে দেওয়া হতো, প্রত্যেক সন্তান চাইতো এই বোঝা যেন তার ভাগে না আসে। ঋতু কালিন সময় নারীদেরকে বাড়ির বাহিরে বের করে দেওয়া হতো কোনো জিনিষে হাত দেওয়ার অধিকার তাদের ছিলনা।
ইসলামে নারীর মর্যাদা:
সালাম রাহমাতুল্লিল আলামিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সত্তার ওপর। তাঁর আবির্ভাবের বরকতে নারীর সকল প্রকার সম্পর্কের মধ্যে সম্মান ও গৌরব দান করা হয়েছে। তিনি তার শরিয়াতের বিধি-বিধানের মাধ্যমে এবং নিজ আমলের মাধ্যমে জাহেলীয়াতের নিদর্শন মনে করা হতো। এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে পদধলি দিয়ে নারীদেরকে নির্যাতন জুলুমের অন্ধকার থেকে রক্ষা করেছেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কন্যা সন্তান জন্ম হওয়াকে গর্বের ও সৌভাগ্য বলেছেন। তিনি দুনিয়াকে বলেছেন আমি মেয়েদের পিতা। অর্থাৎ কোনো বিষয়ে যদি গর্ব করা যায়, তাহলে তা আমাকে দান করা হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে কন্যা সন্তানের লাভ ও ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে বলতেন, যার তিনটি মেয়ে বোন থাকে অথবা দুই মেয়ে বা দুই বোন থাকে আর সে তাদের সুন্দর ভাবে লালন-পালন কারে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় পায়, তাহলে সে জান্নতের অধিকারী হবে।
মুসনাদে আহমদের রেওয়ায়েতে আছে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। তিবরানীর বর্ণনায় এই ফজিলাত এক মেয়ে ও এক বোনের ব্যাপারেও।-তিবরাণীর অন্য এক বর্ণনায় আচে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন এমন লোক আমার সাথে জান্নাতে থাকেবে।Ñ
এক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণানা করেছেন, জান্নাত হলো মা-দের পায়ের নিচে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাস করা হলো ভালোবাসা ও সহমর্মিতার দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি খেদমতের হকদার কে? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমার মা। প্রশ্নকারী বললেন এরপর কে? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন তোমর মা। প্রশ্নকারী তৃতীয়বার জিজ্ঞাস করলেন এরপর বেশী হকদার কে? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন তোমার মা। প্রশ্নকারী ৪র্থবার প্রশ্ন করলেন এরপর কে বেশি খেদমতের হকদার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন তোমার পিতা।
লক্ষ কোটি সালাম রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর, তিনি পিতা থেকে মায়ের মর্যাদা তিনগুন বেশি দিয়েছেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম সে, যে তার স্ত্রীর সাথে ভালো ব্যাবহার করে। আর আমি তোমাদের থেকে বেশি স্ত্রীর সাথে ভালো ব্যাবহার কারী। বিদায় হজের দিন বার বার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই উপদেশ দিয়েছেন-واتقوا الله فى النساء-নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নারীদের প্রাধান্য
এমন নয় যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু নির্দেশ দিয়ে নারীদের সাথে ন্যায় ও ইনসাফ করতে বলেছেন, বরং তিনি তাঁর বাস্তব ময়দানে সকল শাখার নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন, এমনকি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পুরুষের তুলনায় নারীকে প্রাধান্য দিয়েছেন। নারীদের উপর জুলুম নির্যাতনের কুপ্রথার উত্তর দিয়েছেন বাস্তাব আমালের মাধ্যমে। এর সবচেয়ে প্রমান হল, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রথম অহির শুরুর ঘটনা।
মানবতার প্রভাতকাল
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বয়স যখন চল্লিশ বছরে উপনিত হলো, তখন দুনিয়া আগুনের কু-ের একপ্রান্তে পৌঁছে গিয়ে ছিলো, বরং একেবারে কিনারে গড়ানো ছিলো। পুরো মানব সন্তানেরা দ্রুতবেগে আত্মহত্যায় লিপ্ত ছিল। তা ছিল কঠিন এক মুহুর্ত। যখন দুনিয়ার প্রভাত উদিত হল, দুর্ভাগা দুনিয়ার ভাগ্য জেগে উঠল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের সময় ঘনিয়ে এল। আল্লাহর সুন্নাত ও এই রাত যতে গভির হয়, সূর্য উদিত হওয়ার সময়ও ঘনিয়ে যায়। আর মানুষের অন্তর যখন মৃতপ্রায় ও কঠিন হয়ে যায় ঐ সময় আল্লাহর রহমত ঝুকতে থাকে। আর মানবতার ক্লান্ত চেহারায় চমক জ¦লে উঠে।
ঐ সময় দুনিয়াতে অজ্ঞতা ও বর্রবতার রাজত্ব ছিল। শিরক ও মূর্তিপুজা ছিল ব্যাপক। এসব দেখে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অস্থিরতা খুব বেরে গিয়েছিল। আসমান যমিনের স্রষ্টা হাদি মহান আল্লাহর হুকুমের সমাসিন অপেক্ষায় ছিলেন। এমন মনে হতো কোনো অদৃশ্য শাক্তি অদৃশ্য আওয়াজ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পরিচালনা করছেন এবং দিক নির্দেশনা করছেন। আর এই মহান মর্যাদার জন্য তাঁকে সৃষ্টি করছেন।
ঐ সময়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একাগ্রতা পছন্দ করতেন। একাএকি থাকার উনার মা‘মুল হয়ে গিয়েছিল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবার থেকে পৃথক হয়ে একা বসতে পারলে তাঁর প্রশান্তি লাভ হতো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মক্কার অলি গলি দিয়ে বের হতেন, তখন গাছ ও পাথার থেকে আওয়াজ বের হতো, আস্সালামু আলাইকা ইয়া রাসুলুল্লাহ। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ডানে বামে সামনে পিছনে ঘুরে তাকালে পাথর আর গাছ ছাড়া আর কিছু দেখতে পেতেন না।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেশীরভাগ সময় গারে হেরায় অবস্থান করতেন। ধারাবাহিক কয়েক রাত সেখানে কাটিয়ে দিতেন। আগে থেকেই এর ব্যবস্থা করে রাখতেন। সেখানে তিনি ইব্রাহিমী পদ্ধতিতে আল্লাহর দিক নির্দেশনায় ইবাদত করতেন।
প্রথম ওহী
এমন ভাবে একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গারে হেরায় অবস্থান করেছিলেন। নবুওয়াতের জিম্মাদারীর সেই মুবারক মূহুর্ত এসে গেল। সেই সময়টি ছিল ১৭ই রমজান তার জন্মের একচল্লিম বছরের ঘটনা। (৬ আগষ্ট ৬১০ ইং)‘
এই ঘটনা ঘটেছিল জাগ্রত অবস্থায়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে ফেরেশতা এলেন। এসে বললেন পড়–ন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমিতো পড়তে জানি না। তিনি বললেন এরপর ফেরেশতা আমাকে একটু চাপ দিলেন। আমি একটু ব্যাথা অনুভব করলাম। এরপর আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন পড়ুন, আমি বললাম আমিতো পড়তে জানিনা। এরপর ফেরেশতা আমাকে আবার চাপ দিয়ে ধরলেন। এতো জোরে চাপ দিলেন আমি অনেক ব্যাথা পেলাম। এরপর বললেন পড়ুন। আমি বললাম পড়তে পারি না। এরপর আবার চাপ দিয়ে বললেন। পড়ুনড়- اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ (১) خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ (২) اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ (৩) الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ (৪) عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ (৫)
অর্থ-পড়–ন আপনার প্রভুর নামে যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মনুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু। যিনি কলমের সাহয্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।
এটা ছিল নবুওয়াতের প্রথম দিন এবং প্রথম ওহী আর কুরানের প্রথম অংশ।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই আশ্চর্যজনক ঘটনা থেকে খুব ভয় পেয়ে গেলেন। কারণ কোনো দিন এমন অবস্থার সম্মুখিন হন নি। না এধরণের কথা কখোনো শুনেছেন। নবুওয়াত ও আম্বিয়া আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর লম্বা একটি সময় অতিবাহিত হয়ে গিয়েছিল। আর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সঙ্কা অনুভব করলেন। ফলে বাসায় ফিরে গেলেন। অধিক ভয়ের কারণে তাঁর শরিরে কম্পন শুরু হয়ে গেল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাসায় যেয়ে খাদিজা রা. কে বললেন, আমাকে কম্বল দিয়ে প্যেচিয়ে দাও। আমি কিছু সঙ্কা অনুভব করছি। হযরত খাদিজা রা. তার কারণ জিজ্ঞাস করলেন। তিনি পুরো ঘটনা খুলে বললেন।
তিনি ছিলেন একজন বুদ্ধিমান নারী। নবুওয়াত, আম্বিয়া আর ফেরেশতা এধরণের অনেক শব্দই তার শোনা ছিল। তিনি তার চাচাতো ভাই ওয়ারাকা বিন নাওফেলের কাছে মাঝে মাঝে যেতেন। আর ওরাকা খ্রিস্টধর্মের অনুসারী ছিলেন। আসমানী কিতাব অধ্যায়ন করে ছিলেন। তাওরাত ইঞ্জিলও পড়ে ছিলেন। তিনি মক্কাওয়ালাদের অনর্থক কথা-বার্তা ও তাদের বদঅভ্যাসকে অপছন্দ করতেন। যা সুস্থমনস্ক কোনো মানুষ পছন্দ করতে পরেন না।
হযরত খাদিজা রা.- এর সান্তনা
তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী। দিন রাতের সঙ্গি। তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রকাশ্য ও গোপনিয় সব বিষয়ে অবগত ছিলেন। এমনকি তাঁর বিশ^াস, আস্থা ও সম্পর্ক যেসব বৈশিষ্ঠের কারণে অর্যন হয়েছিল। তা ছিলো, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উত্তম চরিত্র। তিনি এ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞাত ছিলেন। তিনি তাঁর গুণাগুণ ও অভ্যাস দেখে শতভাগ বিশ^াসী ছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর প্রতি মূহুর্তে আল্লাহর রহমত ও তৌফিক থাকবে। কারণ তিনি হলেন আল্লাহর মাকবুল ও প্রিয় বান্দা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত প্রিয় ও পছন্দনিয় সিরাত। যে ব্যক্তি এতো সুন্দর সীরাত ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী পবিত্র ব্যক্তি। তাঁর উপর কক্ষনো শয়তান বা জীন আসর করতে পারে না। এ কথা আল্লাহর রহমত ও ¯œহ থেকে অনেক দূরে এবং তার সুন্নাতের পরিপন্থি। খাদীজা রা. পুরো বিশ^াস ও ইয়াকীনের সাথে খুব জোর দিয়ে বললেন, তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সান্তনা দিয়ে যেই কথা বলেছেন। সীরাতবিদগণ তাকে সাতটি শব্দে সিমাবদ্ধ করেছেন। যার ওপর সত্তোরটি বই লেখা যাবে। এবং একজন জীবন সঙ্গি তার —–এক জ¦লন্ত সাক্ষি। খাদিজা র. তাকে বিবাহের পূর্বে ব্যাবসা বানিজ্যের আর বিবাহের পর জীবন জাপন করেছেন এবং তাকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। হযরত খাদিজা রা. বললেনÑ-والله لا يخزيك الله ابدا, انك لتصل الرحم, وتصدق الحديث , وتحمل الكل, وتكسب المعدوم وتفرى لضيف, وتعين على نوايب الحق. –
অর্থ. আল্লাহর কসম আল্লাহ আপনাকে কখনো বেকার করবেন না। আপনি অত্মিয়তার সম্পর্ক রাখেন। আপনি যা বলেন সত্য বলেন। পেরেশান ব্যক্তিদের বোঝা নিজের মাথায় উঠান। দরিদ্রদেরকে উপার্যন করুন। মেহমানদের মেহমানদারী করেন। এবং বিপদগ্রস্থ ব্যক্তিদেরকে সাহায্য করেণ। (অন্য এক বর্ণনায় আছে আমানত রক্ষা করেণ) ওয়ারাকা বিন নওফেলের স্বিকারুক্তি
হযরত খাদিজা রা. এই কথাগুলো বলেছেন তার সুস্থ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। এই বিষয়টি ছিল একটু বড়ই। তাই এমন কোনো ব্যক্তির কাছে পরামর্শ নেয়া যায়, যিনি ধর্ম ও ইতিহাস এবং মেজায ও আহলে কিতাব সম্পর্কে ভালো জ্ঞাত। যার কাছে আম্বিয়া আ. সম্পর্কে জ্ঞান আছে। তিনি চিন্তা করে বের করলেন তার চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবনে নাওফেলকে। তার কাছে সাহায্য নেয়া দেতে পারে। তাই তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে গেলেন ওরাকার কাছে। গিয়ে পুরো ঘটনা শোনালেন। ঘটনা শুনে বললেন ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার আত্মা। তিনি এই জাতির নবী। তাঁর কাছে ঐ ফেরেশতা এসেছিল, যিনি মুসা আ. এর উপর এসেছিলেন। এমন এক সময় আসবে তার জাতি তাকে মিথ্যারোপ করবে। কষ্ট দিবে। নিজ মাতৃভূমি থেকে বহিস্কার করবে এবং তার সাথে যুদ্ধ করবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই কথা শুনে বললেন যে, তাকে বের করে দেয়া হবে। যুদ্ধ করবে। খুব অবাক হলেন। কারণ কুরআনশে তিনি নিজের অবস্থান সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানতেন। তিনি জানতেন যে, তাকে ‘সাদিকুল আমিন’ বলা হতো। তিনি খুব আশ্চার্যান্নিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, আমাকে তারা বের করে দিবে? ওয়ারাকা উত্তর দিলেন হ্যাঁ। যখনই তিনি কোনো বার্তা পয়গাম নিয়ে আসবেন। তখন মানুষেরা দুশমনি করার জন্য কমর বেঁধে লেগে যাবে। আর তার সাথে যুদ্ধ করবে। সর্বদা এমনই হয়ে আসছে। সে দিন যদি আমি পেতাম, আমার বয়স যদি ঐ দিন পর্যন্ত থাকে তাহলে অবশ্যই আমি আপনার সাহায্য করব।
দাওয়াতে সর্ব প্রথম (মুসলমান) যদিও একজন নারী
একটু ভাবুন এটা ঐ যুগ যখন মক্কার লোকজন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আশেক ছিল। প্রত্যেকের মুখে একটি কথাই ছিল, তিনি সাদিকুল আমিন। তিনি সত্যবাদী নামেই প্রসিদ্ধ ছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি মক্কাবাসীর ভালোবাসা এই পর্যায়ের ছিল যে, সীরাতবীদগণ লেখেন, কোনো কারণে যদি ব্যবসা বানিজ্যের সফর হতে আসতে দেরী হতো, তাহলে মক্কার অন্যান্য লোকদের সাথে আবু জাহেল আবু লাহাবও অস্থির হয়ে মক্কার বাহিরে এসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য অপেক্ষা করতো। ঐ সময় তাঁর উহর উৎসর্গ হওয়ার মতো অনেক বন্ধু ছিল। আলী কাররামাল্লাহ ওয়াজহাহুর মতো অল্প বয়সী নিকটতম ব্যক্তি ছিল। ছিল যায়েদ রা. এর মতো খাদেম ও গোলাম। কিন্তু লক্ষ কোটি দরুদ ও সালাম রাহমাতুল্লিল আলামিনের উপর তিনি সকল পুরুষদেরকে বাদ দিয়ে, দাওয়াতের সর্বপ্রথম মাদউ বানিয়েছেন এবং ঈমান ও ইসলামের মহান নেয়ামত প্রদানের জন্য প্রাধান্য দিয়েছেন, তার জীবন সঙ্গীনী সাইয়েদা খাদিজাতুল কুবরা (রা.) কে। অধিকংশ ওলামাদেন রায় হল, পৃথিবীতে সর্বপ্রথম ঈমান ও ইসলাম গ্রহণ কারী ব্যক্তি হলেন হযরত খাদিজা রা.। ইসলাম গ্রহণ করার পর ঐ সময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দাওয়াতের হুকুম তখনও আসেনি। সে সময় হযরত খাদিজা রা. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই আমানতকে সবচেয়ে বেশি মুল্যায়ন করী ঐ যুগের ধর্মীয় আলেম তার চাচাতো ভাই ওয়ারাকা বিন নাওফেলের কাছে নিয়ে গেলেন। প্রথমে নিজে পুরো ঘটনা তার কাছে বর্ণনা করেছেন। এরপর নবীজী রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখ মোবারক থেকে পুরো ঘটনা শুনেছেন। ওয়ারাকা বিন নাওফেল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতকে সত্যায়ন করলেন এবং আফসোসও করলেন হায়! ঐ দিন, সেই সময় উপস্থিত থাকতে পারতাম যখন আপনার জাতি আপনাকে মক্কা থেকে বের করে দিবে। যে কথা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুবই আশ্চার্যান্নিত হলেন, যে, যেই লোকেরা আমাকে ই পর্যায়ে ভালোবাসে তারা আমাকে কিভাবে বের করে দিবে? এমনিভাবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর সর্বপ্রথম ইসলাম প্রচারের সৌভাগ্য অর্যন করেছেন হযরত খাদিজা রা.।
এ ছাড়াও সর্বপ্রথম সীরাতবীদ হলেন খাদিজা রা.।এই জাতির সর্বপ্রথম মাদউ এবং ইসলাম গ্রহণ কারী প্রথম মানুষটিই হলেন খাদিজা রা. এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর সর্বপ্রথম দা‘য়ীয়াহ হলেন খাদিজা রা। কেমন জানি এটা সভাবজাত চিকিৎসা ছিল যে, ইসলাম গ্রহন, সীরাতবীদÑ ইসলামের বড় জিনিষ হলো ইসলামের দাওয়াত এর প্রথম সৌভাগ্য ও প্রাধান্য ঐ নারীদেরকে দেওয়া হয়েছে, যেই নারীদেরকে ইসলামের পূর্বে সবচেয়ে পিছনে মনে করা হতো।
কর্ম ছাড়াই প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি
এমনিভাবে শুধু ঈমান ও তার দাওয়াতের মধ্যেই নারীদেরকে প্রাধান্য দেন নি, বরং অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ কাজে নারীদেরকে পুরুষের সমান অধিকার দিয়েছেন। তাদের দুর্বলতার করণে বংশীয় নেজাম পরিচালনার জন্য যে সব কাজ নারীদেরকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে, সে সব কাজে পুরুষের সাথে অংশিদার করেন নি। সে সব কাজে বা কাজ না করেই পুরুষের সমান সাওয়াবের অধীকারী করেছেন।
আসমা বিনতে ইয়াজিদ আনসারী সাহাবিয়া রা. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে উপস্থিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমার পিতা মাতা আপনার উপর কুরবান হোক। আমি মুসলিম নারীদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধী হিসেবে এসেছি। নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে নারী পুরুষ সকলের জন্য নবী বানিয়ে পাঠিয়েছেন। এই জন্য আমরা নারীরা আপনার উপর ঈমান এনেছি। ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর। কিন্তু আমরা নারীরা ঘরে আবদ্ধ থাকি। পর্দার আড়ালে থাকি। পুরুষদের চাহিদা পুরণ করি। আমরা সন্তান পেটে বহন করি । এতোদসত্যেও পুরুষেরা অনেক সাওয়াবের কাজে নারীদের থেকে এগিয়ে থাকে। তারা জুমার নামাজে শরিক হয়। জামাতে অংশগ্রহণ করে। রুগীদের শুশ্রুষা(এবাদত)করে। যানাযায় শরিক হয়। হজের সময় হজ করে। এর চেয়ে বেশি জিহাদ করে। তারা যখন হজ্জ ও ওমরা বা জিহাদের জন্য বাহিরে যায়, তখন আমরা তাদের মালের হেফাজত করি। তাদের জন্য কাপড় তৈরী করি। তাদের সন্তানদের লালন পালন করি। আমরা কি তাদের সওয়াবে অংশিদার হতে পারবো না? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন কথা শুনে সাহাবা রা.-এর দিকে ফিরলেন, বললেন তোমাদের মধ্যে কেউ এই নারীর চেয়ে উত্তম কাউকে দ্বিনের ব্যাপারে প্রশ্ন করতে শুনেছ? সাহাবা রা. বললেন হে আল্লাহর রাসুল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমরা তো ধারণাও করিনি নারীরাও এ ধরণের প্রশ্ন করতে পারে। এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসমা রা. এর দিকে ফিরে বললেন, ভালো করে শোন! এবং বুঝ। আর যেই নারীরা তোমাকে পাঠিয়েছে তাদেরকে বলে দিও যে, নারীরা তার স্বামীর সাথে ভালো ব্যবহার এবং তাদের সন্তুষ্টি অর্যন করা এবং এর ওপর আমল করা এই সব কিছুর সমান সাওয়াব পাবে। আসমা রা. এই উত্তর শুনে অন্তহীন খুশি হয়ে ফিরে গেলেন। –

মূল হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী
অনুবাদ. যুবায়ের আহমদ