ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে আমাদের বড়দের নীতিমালা

ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে আমাদের বড়দের নীতিমালা
এ ব্যাপারে অনেকে প্রশ্ন তোলে, দাওয়াতের কাজ দ্বীনের মধ্যে এতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তাহলে আমাদের আকাবিরদের কাছে এর গুরুত্ব পাওয়া যায় না কেন? এর উত্তর হলো, আকাবিরগণ দাওয়াতি কাজকে গুরুত্ব দেননি, এ কথাটি গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলামের দাওয়াত ও প্রচারের ইতিহাস যদি দেখুন তাহলে এ কথা স্পষ্ট হয়ে যাবে। ইসলামের প্রচারের চেষ্টা সবচে বেশী আকাবিরে ওলামায়ে কেরাম করেছেন। বিশেষত সুফি বুযুর্গগণ করেছেন। আপনি যে কোনো এলাকায় যাবেন, দেখবেন এই এলাকার এতো গুলো মানুষ, অমুক বুযুর্গের হাত ধরে মুসলমান হয়েছে। ওই গ্রামের এতো মানুষ, অমুক বুযুর্গের কাছে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কিছু ওলামায়ে কেরামকে যদিও বাহ্যিক দৃষ্টিতে, ময়দানে সরাসরি অংশ নিতে নাও দেখা যায়, আসলে দাওয়াতকে সামনে রেখে তারা লোক তৈরি করেছেন। দাওয়াতকে জীবনের মাকসাদ বানিয়ে কাজ করেছেন। এটাই বাস্তবতা। কুরআন হাদিসের এলেন অর্জনকারী ওয়ালামায়ে কেরাম এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আদায়ের ক্ষেত্রে উদাসীন থাকবে এটা কিভাবে সম্ভব?
এখানে একটি কথা মনে রাখতে হবে। যত বড় বুযুর্গই হোক না কেন, তিনি তো একজন মানুষ। নিষ্পাপ তো আর হতে পারবে না। আমাদের জন্য মাপকাঠি হলো, কুরআন ও সুন্নাহর উপর আমল এবং তার রাসূলের অনুসরণ। এ ছাড়া কোনো ওলি বা কুতুবও যদি এর বিপরীত কিছু করেন, তা আনুগত্যের যোগ্য নয়। ‘‘এমন জিনিসের আনুগত্য জায়েয নেই, যার মধ্যে স্রষ্টার নাফরমানী।”
কোনো বড় থেকে বড় মানুষের কোনো কাজ যদি কুরআন সুন্নাহ থেকে পৃথক মনে হয়, তাহলে তার আনুগত্য করা যাবে না। তা তার নিজের উপর ছেড়ে দিতে হবে। এটা তার দুর্বলতাও বলা যেতে পারে। কুরআন ও সুন্নাহর উপর আমল করার ব্যাপারে খুব সূক্ষ্ম দৃষ্টি রাখতে হবে। কোনো ব্যক্তির আমল দেখার পরিবর্তে, আমাদের দেখতে হবে কুরআন সুন্নাহ কী বলে।
কুরআন সুন্নাহর সাথে সম্পৃক্ত দাওয়াতের এই বিশাল অংশ সম্পর্কে, ওলামায়ে কেরামদেরকে যদি জিজ্ঞাসা করুন, এর উপর আমল করতে হবে কি না? তাহলে আপনার জন্য পজিটিভ উত্তর আসবে। ওলামা, ফুকাহা, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কোনো একজন আলেমেরও এমন মত নেই যে বলবে দাওয়াতের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব জাতির উপর ফরজ নয়। ফরজে কেফায়া হওয়ার ব্যাপারে তো কারো কোনো দ্বিমত নেই। তবে কেউ বলেছেন ফরযে কেফায়া। আবার কেউ বলেছেন সাধ্যানুযায়ী ফরযে আইন। হজ্জের মতো। ওলামাদের এমন কোনো মতও নেই যে, এটা শুধু নবীর উপর ওয়াজিব। যেমন তাহাজ্জুদের নামাজ।

মূল. হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা.বা.
অনুবাদ. যুবায়ের আহমদ