এক দিকে মানুষ খ্রিস্টান হচ্ছে, অপরদিকে ইসলাম গ্রহন করছে একটি বাস্তব ঘটনা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

গত এক সপ্তাহ আগের ঘটনা । সময় সকাল ১০টা বেজে ২৫ মিনিট। আমরা ইনস্টিটিউটের একটি মিটিং এ ছিলাম। এমন সময় মোবাইলটি বেজে উঠলো, ফোনটি রিসিভ করলাম। অপর প্রান্ত থেকে প্রশ্ন করলো আপনি কি এম, যুবায়ের আহমদ সাহেব? আমি বললাম জি, বনুলন, কী খেদমত করতে পারি? আর আপনার পরিচয়টা কি একটু দিবেন? তিনি বললেন আমি লালমনির হাট জেলার পাঠগ্রাম থেকে বলছি। একটি দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক। আপনি কি খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে কাজ করেন? আমি বললাম না। তবে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর জন্য দাওয়াতী কাজ করি। তিনি বললেন-
– লালমনিরহাটে কি আপানাদের কোনো কর্মী আছে?
– জী আছে। কেনো?
– আপমি আপনাকে একটি তথ্য দিচ্ছি, দেখুন আপনি যদি কিছু করতে পারেন।
– বলুন কি খবর। কি খেদমত করতে পারি?
– আমার কাছবর আসছে আজকে সকাল ১১ টায়, লালমনিরহাট থেকে ১/২ কিলোমিটার পূর্ব পাশে মতিয়ারের বড়িতে ৬২ জন নারী পুরুষ খ্রিস্টান হবে। এর মধ্যে মাত্র ৪-৬ জন হিন্দু বাকি সব মুসলমান।
দুপর ১টার সময় খ্রিস্টান পাড়ায় তপন বর্মনের বাড়িতে ৩২ জন নারী পুরুষ খ্রিস্টান হবে। তাদেরকে ৫০,০০০ টাকার লোভ দেখানো হয়েছে। খ্রিস্টান বানানোর জন্য ঢাকা থেকে ৪ জন খ্রিস্টান ফাদার এসেছে। তাদের নাম ১.অশিশ ২. জনষর্মা ৩.সেলিম। ৪.দানিয়েল, এই ৪ জন আজকে সকাল ৮ টায় শাহ আলী গাড়িতে লালমনির হাটে এসেছে।
– আপনি প্রশাসনকে খবর দিন
– আমি এস, পি সাহেবকে ফোন দিচ্ছি। তিনি ফোন রিসিভ করছেন না।
– আমাকে তাহলে নাম্বারটি দিন, আমিও চেষ্টা করি।
এরপর এস,পি সাহেবকে কয়েক বার ফোন দেয়ার পর তিনিই ফোন ব্যাক করলেন। আমি তাকে পুর্ণ ঘটনা বললাম। তিনি খুবই আন্তরিকতা প্রকাশ করলেন। আল্লাহ তাকে যাযায়ে খায়ের দান করুন। আমিন। তিনি বললেন আমি লোক পাঠাচ্ছি। এদিকে আমি আবার ফোন করলাম আমার বন্ধুবর মাওলানা হুসাইন ভাইকে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গিয়ে উপস্থিত হলেন। দেখলেন ঘটনা সত্য। ৬২জন খ্রিস্টানদের বয়ান শুনছে, এরা খ্রিস্টান হতে এসেছে। এমন সময় তিনি এলাকার লোক জন নিয়ে বাধা দিলেন।
এই ঘটনায় আমি খুবই অস্থির হয়ে গেলাম। শুয়ে শুয়ে কি যেন ভাবছিলাম। ভাবতে ভাবতে নিদ্রা আমাকে চেপে ধরল। আমিও ঘুমিয়ে গেলাম। হটাৎ করে একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন বেজে উঠলো। ফোনের আওয়াজেই আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। মোবাইলটি রিসিভ করলাম। অপর প্রান্ত থেকে জিজ্ঞাসা করছে আপনি কি মুফতি যুবায়ের আহমদ? আমি বললাম
– জি বলুন, কী খেদমত করতে পারি?
– আপনার কাছে কি মাওলানা কালীম সিদ্দিকীর নাম্বার আছে ?
– জি আছে।
– নাম্বারটি কি দিবেন?
– কি ভাবে দেই ? আপনাকে তো আমি চিনি না । প্রথমে পরিচয় দিন।
– আমার নাম মেহের চন্দ্র দাস। আমি হিন্দু। কুমিল্লার বরুরা থানায় একটি কন্টিনেন্টাল কুড়িয়া সার্ভিসের মালিক। আমার কাছে কিছু বই আসছে যিনি এর মালিক তাকে বহুবার চেষ্টা করার পরও পাওয়া যায়নি। পরে পেকেটটি খুললাম। খুলে দেখি অনেকগুলো বই। এর মধ্যে একটি বই হলো “আলোর পথে সিরিজ-১-৪ হিন্দু থেকে মুসলমান” আমি হিন্দু হওয়ার কারণে বইটির প্রতি কৌতহলী হলাম। বইটি পড়লাম। বইটি পড়ে খুবই ভালো লাগলো। মাওলানা সাহেব কত সুন্দর করে মানুষকে বুঝিয়েছেন। বইটি পড়তে গিয়ে আমি বহুবার চোখের অশ্রু দিয়ে গাল ভিজিয়েছি। খুব ভালো লেগেছে।
– আপনি তো বিষয়টি বুঝেছেন, তাহলে আপনি মুসলমান হতে দেরি করছেন কেন? এখনি মুসলমান হয়ে যান।
– এই বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলাম। আমাদের এলাকার বড় মাদ্রাসার হুজুর মাও. নোমান সাহেবের সাথে এ বিষয়ে পরামর্শ করেছি। তিনি বলেছেন মাওলানা কালিম সিদ্দিকী সাহেবের সাথে যোগাযোগ করতে এবং সরকারী কাগজ প্রস্তুত করতে। তাই উনার নাম্বারের জন্য বই থেকে আপনার নাম্বার এ ফোন দিলাম।
– ঠিক আছে আমি নাম্বারও দিবো। আগে মুসলমান হয়ে যান। কারণ কখন হুজুরকে ফোনে খুজে পাবেন তার ঠিক নেই, আবার উনাকে পাওয়াও দুঃষ্কর ব্যাপার ।
– তাহলে কাগজপত্র? আগে কাগজ পত্র তৈরী করি এর পর মুসলমান হই।
– সেটাও আমি করে দিব। কিন্তু আপনি যদি এই কাগজ পত্রের জন্য অপেক্ষা করেন, কখন কাগজ তৈরী হবে। আর আপনি মুসলমান হবেন? এ সময় পর্যন্ত আপনি বেঁচে থাকবেন এই গেরান্টি আপনি দিতে পারবেন না। আমি আপনাকে এখনিই ফোনেই মুসলমান বানাতে চাই আপনিকি প্রস্তুত? হ্যাঁ। তাহলে বলুন “ আশহাদু আল্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু (সাঃ)। ” – আমি সাক্ষ্য দিতেছি, আল্লাহ ছাড়া পুজার উপযুক্ত আর কোনো মালিক নেই। হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসুল। কালিমা তৈয়্যবাহ পড়িয়ে দিলাম। এখন থেকে আপনি মুসলমান হয়ে গেলেন। আপনার নামটি ইসলামী নাম হলে ভালো হয়। আপনার কি পছন্দের কোনো নাম আছে?
– জি আছে। তা হলো, ‘মাহদি হাসান।’
– ঠিক আছে আজ হতে আপনার নাম রাখালাম মাহদি হাসান। আপনি ঢাকায় এলে সরকারী কাগজপত্র তৈরী করে দিব।
এর পর তিনি ১৩-১১-১৪ তারিখে আমার এখানে এলেন, তার আইনি কাগজ পত্র তৈরী করে দিলাম এবং তাবলিগে যাওয়ার জন্য উদ্ভুদ্ধ করলাম। তিনি কয়েক মাস পর ৩ চিল্লার জন্য বের হবেন বলে ওয়াদা করেছেন।
এদিকে উনি যেই বই পেয়েছেন সে গুলো আমাদের হিলফুলফুজুল প্রকাশনির কিছু বই, এক মাওলানা সাবেবের কাছে পাঠানো হয়ে ছিল। কতৃপক্ষ ঐ মাওলানার সাহেবের সাথে কথা বললে, বলেন আমি বই পাইনি। যাক আসলে আল্লাহ এর মাধ্যমে তার নসিবে হেদায়াত রেখে ছিলেন। দুআ করি আল্লাহ সকল মানুষকে হেদায়াত দান করুন। আমিন।
এদিকে লালমনির হাটে খোজ খবর নিলাম। হুসাইন ভাই বললেন তাদের মধ্যে যারা ৫০ হাজার টাকার লোভ দেখিয়ে খ্রিস্টান বানানোর এজিন্ট ছিল তাদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং পুলিশ বাদি হয়ে তাদের নামে মামলা করেছে।
কিন্তু দু:খের বিষয় হলো সেই ৩২ জনকে আর চিরস্থায়ী জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানো সম্ভব হলো না। এর মূল কারণ হলো কাজের কোনো লোক নেই। যিনি হিম্মত করে এগিয়ে যাবে। বাতিলের মুকাবেলা করবে।
আমি পাঠকদের কাছে আকুল আবেদন রাখবো, আপনারা এই দাওয়াতী কাজে এগিয়ে আসুন । না হয় এই দায়ী জাতি মাদউতে পরিণত হয়ে যাবে। কে বাঁচাবে তাদেরকে, চিরস্থায়ী জাহান্নাম থেকে? আরো কি কোনো নবী আসবে? না আসবে না। আমাদেরকেই ঝাপিয়ে পরতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে তৌফিক দান করুন। আমিন।