এখলাসের মাপকাঠি

এখলাসের মাপকাঠি
এখানে আমার শায়েখ মুরশিদ, হযরত মাওলানা সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.) থেকে আমি বার বার হযরত সাইয়্যেদ আহমদ শহিদ (রহ.)-এর একটি বাণী তাঁর মুখ থেকে শুনেছি। আর সেই বাণী আমি পাঠকদের কাছে পেশ করতে চাই। সাইয়্যেদ আহমদ শহিদ (রহ.) বলতেন, এখলাস ছাড়া কোনো আমল গ্রহণযোগ্য নয়। আর এখলাসের মাপকাঠি আপনাকে বলে দিচ্ছি। নিজের আমলের এখলাসকে ওজন দিন। তিনি বলেন দ্বীনের যে কোনো লাইনের কর্মীর কাজকে নিজের উপর এহসান মনে করবে। সাইয়্যেদ আহমদ শহিদ (রহ.) বলেন, যদি দ্বীনের প্রত্যেকটি কর্মীর অনুগ্রহ যদি অন্তরের মধ্যে থাকে তাহলে বুঝা যাবে যে, তার মধ্যে এখলাস আছে। যদি এহসানমন্দী অর্থাৎ অনুগ্রহের জায়গায় হিংসা সৃষ্টি হয়, অথবা এই প্রেরণা সৃষ্টি হয় যে, সে কেন কাজ করছে? অথবা তার কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত। অথবা এই ধরনের চিন্তা হয় যে, আমিই তো সবকিছু করছি। অন্যরা কোন কিছুই করছে না। যদি এমন মনে হয়, তাহলে বুঝতে হবে তার মধ্যে কোনো এখলাস নেই। এমতাবস্থায় তার জন্য উচিত সে তার নিয়তের এসলাহ করবে। অন্যথায় কাজ বন্ধ করে দিবে।
হযরত মাওলানা আলী মিয়া নদভী (রহ.) এই বাণীর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেনÑ এখলাস হলো আল্লাহর মহব্বতের নাম। আল্লাহর সাথে যদি মহব্বত থাকে, তাহলে আল্লাহর দ্বীনের সাথেও মহব্বত থাকবে। আল্লাহর দ্বীনের সাথে মহব্বত থাকার আলামত হলো দ্বীনের প্রত্যেকটি কাজকে নিজের দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত কর্ম মনে করবে।
হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস (রহ.)-এর খেদমতে দিল্লির একজন ব্যবসায়ী উপস্থিত হলেন। সাথে কিছু হাদিয়াও পেশ করলেন। বললেন, হযরত! এইগুলো আপনার ব্যক্তিগত কাজে খরচ করবেন। হযরত অবাক হয়ে গেলেন। বললেন, ভাই! আমরা যদি দ্বীনের কাজকে নিজের ব্যক্তিগত কাজ মনে না করি, তাহলে তো দ্বীন বুলন্দ হবে না। কোনো ব্যক্তি যদি মুখলিস হয়, নিষ্ঠাবান হয়, তাহলে দ্বীনের প্রতিটি কাজকে তার নিজের কাজ মনে করবে। যদি কোনো মানুষ কারো ব্যক্তিগত কাজটি করে দেয়, বা তার কাজের সহযোগিতা করে তাহলে ব্যক্তিগতভাবে ওই সহযোগিতার অনুগ্রহকে সে মূল্যায়ন করবে। তার সম্মান তার অন্তরে স্থান পাবে। যদি প্রতিটি আমলকে এই ধরনের মাপে তোলা হয়, আর এই ধরনের মাপের অভ্যাস করানো হয়। তাহলে দ্বীনদারদের অনেক ঝগড়া শেষ হয়ে যাবে। পরস্পর অনেক ত্র“টি দূর হয়ে যাবে।
হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেন, এখতেলাফ ও মতানৈক্যের মাধ্যমে, ভালোবাসা, ঘৃণা, নেকি আর বদি, ভালো আর মন্দ, সবকিছুর প্রভাব মানুষের মধ্যে এমনভাবে পড়ে যার বাস্তবতা শুধু দ্বীনদাররাই নয়, দুনিয়াদাররাও স্বীকার করে। আমরা যেই পরিবেশে থাকি, যদি আমরা এই কুফর ও শিরক দূর না করি, ঈমানি পরিবেশ করার চেষ্টা না করি, কুফর এবং শিরকের সাথে যদি মিশে যাই। তাহলে কোনো উপায় থাকবে না। এর থেকে আমরা বুঝতে পারছি। ঈমানের দাওয়াত অর্থাৎ নিজের পরিবেশকে কুফর এবং শিরক থেকে পবিত্র রাখা আমাদের ঈমানকে টিকিয়ে রাখার জন্য জরুরি। আর এর সহজ পদ্ধতি হলো দাওয়াত। এই দাওয়াত ছাড়া সকল ভালো কাজ এবাদত ইত্যাদি যা কিছু আছে সবকিছু অসম্পূর্ণ।

দাওয়াতি কাজ আবেদদের জন্য নাজাতের পথ
জ্বিন এবং মানব জাতিকে আল্লাহ পাক তাঁর দাসত্ব ও গোলামি করার জন্য বলেছেন। আল্লাহ পাক বলেন,
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَ الْاِنْسَ اِلَّا لِيَعْبُدُوْنَ
আমি জ্বিন এবং মানব জাতিকে শুধু আমারই ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি। -সূরা যারিয়াত-৫৬
বিভিন্ন জাতি, বিভিন্ন সম্প্রদায়, বিভিন্ন গোত্রের ব্যক্তিগত উপাসনাও বন্দেগীর মাপকাঠি এবং তার পথ ও পদ্ধতি ভিন্ন হয়ে থাকে। এই উপরোক্ত দুইটি আয়াতের সারমর্ম নিয়ে চিন্তা করলে বোঝা যায় সাধারণ মানুষ এবং মুসলিম জাতির বন্দেগী, তাঁর দাসত্ব ও ইবাদাত এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্যে পার্থক্য।
وَمَاخَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْاِنْسَانِ
-সূরা যারিয়াত ৫৬
আমি জ্বিন এবং মানব জাতিকে শুধুমাত্র আমার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি। এই আয়াতের মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য জীবনযাপন করার উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু উত্তম জাতি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মতের জন্য কুরআন পাকে ইরশাদ করেনÑ
كُنْتُمْ خَيْرَاُمَّتٍ اُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِوَ تُؤْمِنُوْنَ بِاللهِ
অর্থ: তোমরা উত্তম জাতি তোমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের জন্য। তোমরা সৎ কাজের আদেশ করবে, অসৎ কাজের নিষেধ করবে।
-সূরা আলে ইমরান-১১০
সকল মানুষের দায়িত্ব হলো আল্লাহ পাকের গোলামি করা। গোলামির সফলতা হলো আল্লাহ পাকের দাসত্ব করা। কিন্তু উম্মতে মুসলিমার দায়িত্ব হলো নিজে শতভাগ আল্লাহর দাসত্ব করবে। সাথে সাথে মানুষকে আল্লাহর গোলামি করার পথে নিয়ে আসবে।
হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেন: “মুসলমান আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মতো। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দুই ধরনের ডিউটি হয়ে থাকে। একটি হলো নিজে পরিপূর্ণভাবে নিয়ম-কানুন মেনে চলবে। দ্বিতীয় জিম্মাদারী হলো সাথে সাথে অন্যদেরকে নিয়ম কানুনের উপর চালাবে। প্রত্যেকের নির্দিষ্ট এরিয়ার মধ্যে যাতে কেউ আইন শৃঙ্খলার অবনতি না ঘটাতে পারে। উদাহরণস্বরূপ একজন পুলিশ রাজপ্রাসাদে ডিউটি করছে। এমন সময় রাজপ্রাসাদে বাদশাহর পীর সাহেব এলেন। কর্মরত পুলিশ তার ডিউটি ছেড়ে দিয়ে ওই পীর সাহেবের খেদমত করতে আরম্ভ করল। এমতাবস্থায় তার অধীনস্ত এলাকায় ডাকাতি অথবা কোনো দুর্ঘটনা ঘটল। এক্ষেত্রে তার পীর সাহেবের খেদমত করা সত্ত্বেও তাকে চাকুরিচ্যুত করা হবে। এমনিভাবে মুসলিম জাতির প্রত্যেকটি জিম্মাদারী হলো, নিজ এলাকায় নিজ এরিয়াতে, নিজের ডিউটি পালন করবে আর নিজের ডিউটি পালন করার সাথে সাথে, মানুষদেরকে সৎ কাজের দাওয়াত দিবে। অসৎ কাজ থেকে বাধা প্রদান করবে। আর এই ডিউটি যৌবন থেকে নিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত চালাতে হবে।
থানভী (রহ.)-এর এই কথা দ্বারা একটি বিষয় সুস্পষ্ট হয়ে যায়। এবাদত, রিয়াযত, চেষ্টা-সাধনার মধ্যে সফলতা ও পূর্ণতা অর্জনকারী ব্যক্তি যদিও বাহ্যতপক্ষে দেখতে মুত্তাকি এবং মুসলমান মনে হয়, কিন্তু নিজের দাওয়াতের জিম্মাদারী থেকে উদাসীন হওয়ার কারণে উল্লেখিত সিপাহির মতো সে সাজা এবং সাস্পেণ্ডের যোগ্য হবে। মুসলিম জাতির গোলামি আসলে গোলামের ইমামতি করা। আসল কথা এই এবাদতও দাওয়াত ছাড়া পরিপূর্ণ হতে পারে না। নামায এবং জিকির মোনাজাতকে ইবাদত মনে করা যায়। তবে এটাই পরিপূর্ণ ইবাদত নয়। বা এটা পরিপূর্ণ ইবাদত হতে পারে না। কিন্তু ইবাদতের নাম হলো গোলামি দাসত্ব এবং দাসত্বের জীবন-যাপন করা, আল্লাহ পাকের হুকুম মানা। মালিকের পক্ষ থেকে যা হুকুম হবে, তাই পালন করা হলো ইবাদত। কোনো জিনিস থেকে যদি বাধা দেয়া হয় সেই জিনিস ছেড়ে দেয়ার নাম হলো ইবাদত। যে সময় যে হুকুম করা হয় ওই সময় অন্য কোনো কাজ করা বন্দেগী নয়, গোলামি নয়।
আমাদের জীবনের উদাহরণ হলো এমন বাবার ন্যায়, যে তার মেয়েকে একটি জরুরি কাজ করার হুকুম দিল। সে তার বাবার নির্দেশ না মেনে, আবেগের সাথে পূর্ণ কৃতজ্ঞতার সাথে তার গুণগান গাইতে লাগল। কবিতা আবৃত্তি করতে লাগল। তার পায়ে পড়ে রইল, আর বাবা বার বার কাজটি করার জন্য হুকুম করছে, প্রয়োজনীয় জিনিসটি নিয়ে আসার জন্য। আর সে আদরের সাথে তার পায়ে পড়ে আছে। প্রকাশ থাকে যে এই ধরনের মুহাব্বত, ভালোবাসাকে নির্দেশ পালন করা বলা যাবে না। এমনিভাবে যখন মহান রাব্বুল আলামিন এই উম্মতকে যেই উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছেন সৎ কাজ করা এবং ভালো কাজের দিকে ডাকা। অসৎ কাজ থেকে নিজে বাঁচা ও অন্যকে বাঁচানো। তাহলে সেটাই হবে আসল ইবাদত বন্দেগী। দাওয়াতের কামই হবে আসল ইবাদত। যে উদ্দেশ্যে আল্লাহ পাঠিয়েছেন সেই সকল মাকসাদ ও উদ্দেশ্যের উপর দৃষ্টি রাখা ছাড়া তার মঞ্জিল এবং নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছা মুশকিল। উদ্দেশ্যের উপর দৃষ্টিকে জমিয়ে রাখতে পারলেই, চায় সে মাকসাদ পূর্ণ হোক অথবা না হোক। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অনুযায়ী যদি কাজের সাথে লেগে থাকে তাহলে সে সফল হবে।
এব্যাপারে একটি ঘটনা মনে হলো, হাদিস শরিফে এসেছে,
الحكمة ضالة المؤمن حيث وجدها فهواحق بها
হেকমত মুমিনের হারিয়ে যাওয়া সম্পদ। ভুলে যাওয়া সম্পদ তা যেখানে পাবে সেখান থেকে সে অর্জন করবে। এজন্য হেকমতের কথা যেখানেই পাওয়া যায়, যে অবস্থায় পাওয়া যায়, সেটাকে মূল্যায়ন করা উচিত।
আমাদের ফুলাতে আখের চাষ হয়। আখ কেটে কেটে সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়। দুই লাইনের মাঝে কিছু অংশ খালি থাকে। ক্ষেতের মাঝে দুই লাইনের মাঝে খালি জায়গাটাকে নরম করা ও আবর্জনা দূর করার জন্য মই দেয়া হয়। একজন মইয়ের মধ্যে দড়ি ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। অপর একজন পিছন থেকে গরু বা মহিষ হাঁকাতে থাকে। আখ ক্ষেতে যেতাম। ইচ্ছায় বা সখ করে, আবার কখনো প্রয়োজনেও যেতাম। একবার আখ ক্ষেতে মই দেয়া হচ্ছে। আমি সখ করে ওই দড়িটা ধরে মইয়ের উপরে উঠলাম। নিয়ম হলো দুই পার্শ্বের আখের গাছ যেন না ভাঙ্গে। আমি বার বার ফেল হয়ে গেলাম। গরুকে কন্ট্রোল করতে পারি না। আমার দ্বারা দুই চারটা গাছ ভেঙ্গে যায়। এই অবস্থা দেখে কাজের লোক যে গরুগুলো হাঁকাচ্ছিল, সে গরুগুলো থামিয়ে আমাকে বলল, মিয়া সাহেব! এভাবে নিচের দিকে তাকালে গাছ ভাঙতে থাকবে। আপনি সামনের দিকে দৃষ্টি দিন। আপনি যেদিকে যাবেন সেদিকে তাকান। তাহলে একটি গাছও নষ্ট হবে না। গরু সোজা চলতে থাকবে। আমি তাই করলাম, তারপর একটি গাছও নষ্ট হলো না।
এ কথা দ্বারা আমার সঙ্গে সঙ্গে একটি কথা মনে হলো। মানুষ যদি তার সামনের গন্তব্যস্থানের দিকে তাকায়, তার মাকসাদকে সামনে রেখে চলে, তাহলে তার গন্তব্যস্থানে পৌঁছা খুব সহজ হয়ে যাবে। (তার জীবনের উদ্দেশ্য হলো) স্রষ্টার দাসত্ব ও গোলামি করা। ব্যক্তিগতভাবে এটা মানুষ হিসেবে তার দায়িত্ব। আর উম্মত হিসেবে দায়িত্ব হলো দাসত্বের সাথে সাথে দুনিয়ার প্রতিটি মানুষের গলায় এক আল্লার গোলামির মালা পরিয়ে দিবে। তাহলে জীবনে যা করবে তা মাকসাদের জন্য করবে এবং তার প্রতিটি কাজ দাওয়াত হয়ে যাবে। খুব সহজে তার আল্লাহ পাকের আনুগত্য প্রকাশের তৌফিক হবে এবং গোনাহ থেকে সে বেঁচে যাবে। খুব দ্রুত তার ঈমানের উন্নতি হবে।

জিকিরকারীদের জন্য দাওয়াত হল আসল জিকির
আল্লাহর ভালোবাসার নাম হলো ঈমান। আর ভালোবাসার বৈশিষ্ট্য হলোÑ হরহামেশা প্রেমিকের স্মরণ হবে। তারকথা আলোচনা করবে। প্রেমিকের আলোচনার দ্বারা প্রশান্তি লাভ হয়। অন্তরের তৃপ্তি হয়। আল্লাহ তাআলা বলেনÑ
الذين امنوا وتطمئن قلوبهم
-সূরা রাআদ-২৮
কারো প্রতি যদি কারো ভালোবাসা সৃষ্টি হয়ে যায়, সর্বদা তার আলোচনা করতে মন চায়। তার ভালোগুণের যদি আলোচনা না করতে পারে, তাহলে তার ত্র“টির দিক নিয়েই আলোচনা করে। এতে সে অন্তরে তৃপ্তি পায়। রাবেয়া বসরীর কাছে একজন লোক আসত, সে সবসময় দুনিয়ার দোষত্র“টি নিয়ে আলোচনা করতো। রাবেয়া বসরী রাগান্বিত হয়ে বললেনÑ তুমি আমার মজলিসে আসবে না কারণ তোমার মধ্যে দুনিয়ার ভালোবাসা রয়েছে। কেননা সর্বদা তুমি দুনিয়ার আলোচনা কর।
প্রেমিকের অপারগতা হলো, তার মাহবুবের আলোচনা ছাড়া প্রশান্তি হতে পারে না। আল্লাহর ভালোবাসার শর্ত হলো ঈমান। আল্লাহ তাআলা বলেনÑ
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَّتَّخِذُ مِنْ دُوْنِ اللهِ اَنْدَادًا يُّحِبُّوْنَهُمْ كَحُبِّ اللهِ وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا اَشَدُّ حُبًّا لِلّٰهِ وَلَوْ يَرَى الَّذِيْنَ ظَلَمُوْا اِذْ يَرَوْنَ الْعَذَابَ اَنَّ الْقُوَّةَ لِلّٰهِ جَمِيْعًا ـ وَاَنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعَذَابِ ـ
অর্থ : আর কোন লোক এমনও রয়েছে যারা অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালবাসা পোষণ করে যেমন আল্লাহর প্রতি হয়ে থাকে। কিন্তু যারা আল্লাহর প্রতি ঈমানদার তাদের ভালবাসা ওদের তুলনায় বহুগুণ বেশী। আর কতইনা উত্তম হত যদি এ জালেমরা পার্থিব কোন কোন আযাব প্রতক্ষ্য করেই উপলব্ধি করে নিত যে, যাবতীয় ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য এবং আল্লাহর আযাবই সবচেয়ে কঠিন। -সূরা বাকারা-১৬৫
বরং আল্লাহর ভালোবাসা ছাড়া আল্লাহ ও তার রাসূলের পথে জিহাদের মহব্বত প্রাধান্য থাকা ফরজ। তাঁর ভালোবাসা কমে জাওয়ার ভিতি প্রদর্শন করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেনÑ
قُلْ اِنْ كَانَ اٰبَاؤُكُمْ وَاَبْنَاؤُكُمْ وَاِخْوَانُكُمْ وَاَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيْرَتُكُمْ وَاَمْوَالُ نِ اقْتَرَفْتُمُوْهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسٰكِنُ تَرْضَوْنَهَا اَحَبَّ اِلَيْكُمْ مِّنَ اللهِ وَرَسُوْلِه وَجِهَادٍ فِىْ سَبِيْلِه فَتَرَبَّصُوْا حَتّٰى يَاتِىَ اللهُ بِاَمْرِه ـ وَاللهُ لَايَهْدِى الْقَوْمَ الْفٰسِقِيْنَ ـ توبة – ২৪
অর্থ : আপনি বলিয়া দিন, যদি তোমাদের পিতৃবর্গ এবং তোমাদের পুত্রগণ এবং তোমাদের ভ্রাতাগণ এবং তোমাদের স্ত্রীগণ এবং তোমাদের স্বগোত্র আর সেই সকল ধনসম্পদ, যাহা তোমরা অর্জন করিয়াছ এবং সেই ব্যবসায় যাহাতে তোমরা মন্দা পড়িবার আশঙ্কা করিতেছ আর সেই গৃহসমূহ যাহা তোমরা পছন্দ করিতেছ তোমাদের নিকট অধিক প্রিয় হয়। আল্লাহ এবং তাহার রাসূলের চেয়ে এবং তাহার রাস্তায় জিহাদ করার চেয়ে, তবে তোমরা প্রতীক্ষা করিতে থাক এই পর্যন্ত যে আল্লাহ তায়ালা নিজের নির্দেশ পাঠাইয়া দিবেন। আল্লাহ ফাসেক অর্থাৎ অমান্যকারী সম্প্রদায়কে পথ দেখান না। -সূরা তাওবা-২৪
মাহবুব মাওলার সাথে এমন ভালোবাসা যা সকল ভালোবাসার উপর প্রাধান্য পাবে। সেই ভালোবাসায় সাক্ষাতের পাগলামি, অর্থাৎ শাহাদাতের আগ্রহ সৃষ্টি হবে, যা ঈমানের শর্ত।
আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ
لَا يُـكَـلِّفُ اللهُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَا ـ لَهَا مَاكَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَاكْتَسَبَتْ ـ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا اِنْ نَّسِيْنَا اَوْ اَخْطَأنَا ـ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا اِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهٗ عَلَى الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِنَا ـ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَالَاطَاقَةَ لَنَا بِه ـ وَعْفُ عَنَّا وَغْفِرْلَنَا وَارْحَمْنَا اَنْتَ مَوْلَنَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الكَافِرِيْنَ ـ (سورة البقرة ـ ২৮৬)
অর্থ : আল্লাহ কাহারও উপর এমন কোন কষ্টদায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না যাহা তাহার সাধ্যাতীত। সে ভালো যাহা উপার্জন করে তাহার প্রতিফল তাহারই। হে আমাদের প্রতিপালক যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে তুমি আমাদিগকে পাকড়াও করিও না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পূর্ববর্তিগণের উপর যেমন গুরুদায়িত্ব অর্পণ করিও না। হে আমাদের প্রতিপালক! এমন ভার আমাদের উপর অর্পণ করিও না যাহা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর, আমাদিগকে ক্ষমা কর, আমাদের প্রতি দয়া কর, তুমিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদিগকে জয়যুক্ত কর।’-সূরা বাকারা-২৮৬
ঈমান ও ভালোবাসা সৃষ্টির পদ্ধতি হলো, আল্লাহর জিকির ও তাকে স্মরণ। যা ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি মানুষের উপর ওয়াজিব। জিকির সম্পর্কে আমাদের ধারণা হলো শুধুমাত্র মুখে আল্লাহর নাম জপা, হামদ-ছানা ও তাকবিরের শব্দগুলো বলার নাম হলো জিকির। অবশ্যই মুখে আল্লাহর নাম নেয়া তো প্রশংসনীয়। এগুলোও জিকির। তবে পরিপূর্ণ জিকির নয়। আরবিতেও জিকির দ্বারা ঐটাই বুঝায় যা আমাদের উর্দূ ভাষায় প্রচলিত আছে। তাহলো স্মরণ করা, মনে রাখা।
فاذكروالله لذكركم ……
মানুষের প্রত্যেকটি অঙ্গ আল্লাহকে স্মরণ করবে, এটা ওয়াজিব। এ থেকে উদাসিন হওয়া হারাম। মুখে আল্লাহর নাম নেয়া, তার গুণগান করা হলো মুখের জিকির। অন্তর থেকে ধ্যানের সাথে আল্লাহকে স্মরণ করাকে قلبى ذكر কলবী জিকির বলা হয়। মস্তিষ্ক দিয়ে আল্লাহর সৃষ্টি জীব নিয়ে চিন্তা-ফিকির করাকে মুরাকাবা বলা হয়। সেটা হলো দেমাগী জিকির।
হাদিসে আছে একমুহুর্ত আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা ফিকির করা ৮০ বছর নফল ইবাদতের চেয়েও উত্তম। এর সামনে হল রূহের জিকির। সর্বদা সেই প্রজ্ঞাময় আল্লাহকে স্মরণ করা যাকে মুশাহাত বলা হয়। এই জিকিরকে মাকামে এহসান দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।
الاحسان ان تعبد الله كانك تراه فإن لم تكن تراه فانك يراك
অর্থ : ইহসান হলো তুমি আল্লাহর ইবাদত কর কেমন যেন তুমি তাকে দেখছ যদিও তুমি তাকে দেখ নাই নিশ্চয় তিনি তোমাকে দেখছেন।
প্রতিটি অঙ্গের পৃথক পৃথক জিকির আছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তার নাফরমানি থেকে বাঁচার জন্য যেই অঙ্গ ব্যবহার করা হয় সেটা হবে সেই অঙ্গের জিকির।
আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত সমূহ চাই সেটা মানুষের শরীরের অঙ্গ অথবা অন্য কোনো জিনিষ আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষে ব্যবহার করা উচিত। আর তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিপূর্ণ আদর্শ সুন্নাত, অনুযায়ী ব্যবহার করা প্রয়োজন।
একথা দ্বারা এটাই প্রতীয়মান হয়, মানুষ যদি নিজের অস্তিত্ব এবং তার পুরো পরিবেশকে জিকির বানাতে চায় তাহলে তার সবচে সহজ পদ্ধতি হলো সুন্নাতের এত্তেবা করা। যেই হাত নবীর পদ্ধতি অনুযায়ী উঠছে সেটা জিকিরকারীর হাত। যেই পা নবীর পদ্ধতি অনুযায়ী চলে সেটা জিকিরকারী পা। যেই চোখ নবীর পদ্ধতি অনুযায়ী ব্যবহার হয় তাকে সেটা জিকির কারী চোখ। যেই বাড়ি নবীর পদ্ধতি অনুযায়ী নির্মাণ ও পরিচালিত হচ্ছে, সেটা জিকিরকারী বাড়ি। এমনিভাবে যেই শহর, যেই মসজিদ, যেই পরিবেশ এবং যেই জীবন নবী সা. এর শহর, মসজিদ, পরিবেশ এবং জীবন অনুযায়ী চলছে বাস্তবিক অর্থে সেগুলো জিকিরকারী। জীবন, পরিবেশ, শহর, মসজিদ মাদরাসাগুলোকে যদি জিকিরকারী বানাতে হয় তাহলে শতভাগ নবীর পদ্ধতির উপর আনতে হবে। ঐ সময় পর্যন্ত নবীর পদ্ধতির উপর আনা সম্ভব নয় যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ জিনিসগুলোর উপর দাওয়াতি কাজের প্রাধান্য হবে।
لعك بايع
-সূরা শুআরা-৩
এর দরদ এর সাথে সম্পৃক্ত না হবে। এই জন্য আসল জিকির অন্বেষনকারী সত্য জাকের হওয়ার জন্য দাওয়াত একটি পদ্ধতি।

দাওয়াতি কাজে মাদরাসা ওয়ালাদের জন্য রয়েছে চলার পথ
মাদরাসার ইতিহাস অনেক পুরানো। মাদরাসার কথা বললেই মন ওই মাদরাসার দিকে চলে যায় যে মাদরাসার ছাত্র ছিল পুরো মানব জাতির রূহসমূহ। আর সেই মাদরাসার উস্তাদ ছিলেন প্রজ্ঞাময় সেই মহান রাব্বুল আলামিন। কুরআনে কারিমে এই ক্লাশের কথা উল্লেখ রয়েছে, আল্লাহ পাক এই ব্যাপারে বলেনÑ
وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِـىْ آَدَمَ مِنْ ظُهُوْرِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلٰى أَنْفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلٰى شَهِدْنَا أَنْ تَقُولُوْا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هٰذَا غَافِلِيْنَ .
অর্থ: এবং (হে রাসূল! মানুষকে সেই সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দাও) যখন তোমার প্রতিপালক আদম সন্তানদের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের সন্তানদেরকে বের করে ছিলেন এবং তাদেরকে নিজেদের সম্পর্কে সাক্ষী বানিয়ে ছিলেন (আর জিজ্ঞেস করেছিলেন) আমি কি তোমাদের রব নই? সকলে উত্তর দিয়েছিল, কেন নয়? আমরা সকলে এ বিষয়ে সাক্ষী দিচ্ছি (এবং এ স্বীকারোক্তি আমি এই জন্য নিয়েছিলাম) যাতে কিয়ামতের দিন বলতে পারবে, ‘আমরা তো এ বিষয়ে অনবহিত ছিলাম’।- সূরা আরাফ-১৭২
এই আয়াত থেকে মাদরাসার একটি মৌলিক বিষয়-বস্তু নির্গত হয়েছে। তা হলো পালনকর্তার স্বীকারোক্তি ‘আলাস্তু বি রব্বিকুম’ আমি কি তোমাদের রব নই? এই মাদরাসাটি ছিল ব্যাপক। এর মাধ্যমে কেয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ আসবে, কেয়ামত পর্যন্ত আগত সকল মাদরাসার বিষয়-বস্তু ঠিক হয়। একবার একটি বিশেষ ক্লাশ নেয়া হয়েছে। যে ক্লাশের ছাত্ররা ছিলেন শুধু মাত্র আম্বিয়া (আলাইহিমুস সালাম)। আর শিক্ষক ছিলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। এ ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনে হাকিমের মধ্যে বলেনÑ
وَإِذْ أَخَذَ اللّٰهُ مِيْثَاقَ النَّبِيِّيْنَ لَمَا آَتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِه وَلَتَنْصُرُنَّهُ قَالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلٰـى ذٰلِكُمْ إِصْرِىْ قَالُوا أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُمْ مِنَ الشَّاهِدِيْنَ
অর্থ: এবং (তোমাদেরকে সেই সময়ের কথা স্মরণ করো) যখন আল্লাহ নবীগণ থেকে প্রতিশ্র“তি নিয়ে ছিলেন। আমি যদি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত দান করি, তারপর তোমাদের নিকট কোনো রাসূল আগমন করে যিনি তোমাদের কাছে যে কিতাব আছে তার সমর্থন করেন তবে তোমরা অবশ্যই তার প্রতি ঈমান আনবে এবং অবশ্যই তাকে সাহায্য করবে। আল্লাহ (সেই নবীদেরকে) বলেছিলেন, তোমরা কি একথা স্বীকার কর এবং আমার পক্ষ হতে প্রদত্ত এ দায়িত্ব গ্রহণ করছ? তারা বলেছিল আমরা স্বীকার করেছি। আল্লাহ বললেন তবে তোমরা (একে অন্যের স্বীকারোক্তি সম্পর্কে) সাক্ষী থাক এবং আমিও তোমাদের সঙ্গে সাক্ষী থাকলাম। -সূরা আলে ইমরান- ৮৫
আল্লাহ তায়ালা সকল আম্বিয়া আলাইহিস সালামদের থেকে এই অঙ্গীকার নিয়েছেন যে আমি কি তোমাদের প্রভু নই ? এই ছবক দিয়ে পাঠিয়েছেন, এই অঙ্গীকারের মধ্যে পূর্ণ প্রশিক্ষক বা মুআল্লিম শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসার এবং তিনি চলে যাওয়ার পর পর্যন্ত এই অঙ্গীকার শামিল হবে। অর্থাৎ এই অঙ্গীকার থেকে যাবে। যেন এ কথা বলা হচ্ছে যে, অঙ্গীকার কর আমার প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পদ্ধতির উপর এবং এই ছবককে স্মরণ করাও এবং আগত ব্যক্তিদেরকে এই পদ্ধতির খবর দাও বা বলে দাও। সকলেই বলল আমরা তা স্বীকার করেছি। এর পরে আরো একটি ক্লাশ হলো, সেই ক্লাশের ছাত্র ছিলেন হযরত আদম আলাইহিস সালাম। আর শিক্ষক ছিলেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। আল্লাহ পাক বলেন- এবং আল্লাহ তায়ালা আদম আলাইহিস সালামকে সকল জিনিসের নাম শিখিয়ে দিলেন। এরপর যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম দুনিয়াতে আগমন করলেন তখন সরকারি ক্লাস এর সময় শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন সবক মনে করিয়ে দেয়ার জন্য, লিখিত মৌখিক এবং ব্যবহারিক অনুশীলন করার জন্য, বিভিন্ন যামানার শিক্ষক এবং টিউটার এসেছেন। আল্লাহ পাক বলেনÑ
إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيْرًا وَنَذِيْرًا وَإِنْ مِنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيْهَا نَذِيْرٌ
অর্থ: আমি আপনাকে সত্যধর্মসহ পাঠিয়েছি সংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। এমন কোনো সম্প্রদায় নেই যাতে সতর্ককারী আসেনি।
-সূরা ফাতির-২৪
সকল নবী “আলাস্তুবি রাব্বিকুম” (আমি কি তোমাদের প্রভু নই ) কে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন “তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তার আনুগত্য কর।” এই বিষয়ের ক্লাশ দিয়েছেন, পড়িয়েছেন। স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে তোমরা নিজের প্রভুকে চিন। তাকে ভয় কর। যেভাবে আমি তাকে ভয় করে দেখিয়েছি। এভাবে সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করলেন। তার মাধ্যমে এই ক্লাশ পরিপূর্ণ করে দেয়া হলো। আল্লাহ পাক বলেনÑ
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِـىْ وَرَضِيْتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِيْنًا
অর্থ: আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিলাম। তোমাদের উপর আমার নেয়ামত পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য দ্বীন হিসাবে ইসলামকে (চিরদিনের জন্য) নির্বাচিত করে দিলাম।
– সূরা মায়েদা-০৩
এখন ক্লাশ শেষ হয়ে গেছে। এখন প্রস্তুতি নেয়ার সময় এসেছে। এই মুসলিম জাতি তারা যেন প্রথম শ্রেণীর ছাত্র হতে পারে। প্রথম শ্রেণীর ছাত্রদের মতো পুরো মানব জাতির সামনে আলোচনা করবে। এখন সময় এসেছে পরীক্ষা দেয়ার। জীবনের প্রস্তুতি নেয়ার। স্মরণ করার জন্য সময় দেয়া হয়েছে। আল্লাহ পাক বলেনÑ
الَّذِىْ خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَهُوَ الْعَزِيْزُ الْغَفُوْرُ .
অর্থ: যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য যে, কর্মে তোমাদের মধ্যে কে উত্তম। তিনি ক্ষমাশীল পরাক্রমশালী।
– সূরা মুলক-২
পরীক্ষা খবই নিকটবর্তী। এ স¤পর্কে আল্লাহ পাক আরো বলেনÑ
اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ
অর্থ: কিয়ামত কাছে এসে গেছে এবং চাঁদ ফেটে গেছে।
-সূরা কামার-১
লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষা
এই পরীক্ষা মৌখিক, লিখিত ও প্রেক্টিক্যাল। মৌখিকভাবে এই প্রশ্ন পূর্বেই বলে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রশ্ন আউট করে দেয়া হয়েছে। লিখিত পরীক্ষা হবে কবরে। সেখানে প্রশ্ন হবে তিনটি। যা রুহের জগতে আল্লাহ তায়ালা সকল মানুষকে শিখিয়ে ছিলেন। তোমার প্রভু কে? তোমাদের উত্তর যদি হয় আমাদের প্রভু হলেন আল্লাহ। তিনিই পালনকর্তা। নেয়ামত দাতা। দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো তাঁর সন্তুষ্টি অনুযায়ী জীবনযাপন করেছ কি না? অর্থাৎ তোমার ধর্ম কী?
তৃতীয় প্রশ্ন হলো, আল্লাহর মর্জি অনুযায়ী যদি জীবনযাপন করে থাক, আর তাকে রব জেনে ও মেনে জীবনযাপন করে থাক, তাহলে কোন পদ্ধতিতে জীবনযাপন করেছ? আল্লাহর পছন্দনীয় পদ্ধতিতে জীবনযাপন করার একমাত্র পথ হলো নবীজীর আদর্শ। আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ “তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।”
তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ব্যাপারে প্রশ্ন করা হবে। যদি এই মৌখিক পরীক্ষার উত্তর সঠিক হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ফেল-পাসের রেজাল্ট জানা যাবে না। এর পর আরো একটি লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে। সেখানে পাঁচটি প্রশ্ন করা হবে। তা হবে আমি কি তোমাদের প্রভু নয়? এ সম্পর্কিত।
প্রথম: তোমার জীবন কিভাবে কাটিয়েছ?
দ্বিতীয় : তোমার যৌবন কিভাবে কাটিয়েছ?
তৃতীয়: মাল কোন পদ্ধতিতে অর্জন করেছ?
চতুর্থ : সেই মাল কোথায় খরচ করেছ?
পঞ্চম: ইলম কিভাবে অর্জন করেছ আর তা কিভাবে ব্যবহার করেছ?
এরপর প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা হবে পুলসিরাতে। নিজ রবকে রব বলে মেনে চলার অনুশীলন করেছ কি-না?
আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ
َأَمَّا مَنْ أُوْتِيَ كِتَابَه بِيَمِيْنِه فَيَقُوْلُ هَاؤُمُ اقْرَءُوا كِتَابِيَهْ ۝ إِنِّي ظَنَنْتُ أَنِّىْ مُلَاقٍ حِسَابِيَهْ ۝ فَهُوَ فِىْ عِيْشَةٍ رَاضِيَةٍ ۝ فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ ۝ قُطُوْفُهَا دَانِيَةٌ ۝ كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ۝
অর্থ : অতঃপর যার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে। সে বলবে, নাও, তোমরাও আমলনামা পড়ে দেখ। আমি জানতাম যে, আমাকে হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে। অতঃপর সে সুখী জীবনযাপন করবে। সুউচ্চ জান্নাতে। তার ফলসমূহ অবনমিতো থাকবে। বিগতদিনে তোমরা যা প্রেরণ করেছিলে, তার প্রতিদানে তোমরা খাও এবং পান কর তৃপ্তি সহকারে। -সূরা আল- হাক্বাহ্ ১৯-২৪
আর যারা ফেল করবে তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ
كِتَابَهُ بِشِمَالِهِ فَيَقُولُ يَا لَيْتَنِيْ لَمْ أُوْتَ كِتَابِيَهْ ۝ وَلَمْ أَدْرِ مَا حِسَابِيَهْ ۝ يَا ‎لَيْتَهَا كَانَتِ الْقَاضِيَةَ ۝ مَا أَغْنٰى عَنِّيْ مَالِيَهْ ۝ هَلَكَ عَنِّيْ سُلْطَانِيَهْ ۝ خُذُوْهُ فَغُلُّوْهُ ۝ ثُمَّ الْجَحِيْمَ صَلُّوْهُ ۝ ثُمَّ فِيْ سِلْسِلَةٍ ذَرْعُهَا سَبْعُوْنَ ذِرَاعًا فَاسْلُكُوهُ ۝
যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে, সে বলবে, হায়! আমায় যদি আমার আমলনামা না দেয়া হতো। আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব। হায়, আমার মৃত্যুই যদি শেষ হতো। আমার ধন-সম্পদ আমার কোনো উপকারে আসল না। আমার ক্ষমতাও বরবাদ হয়ে গেলো। ফেরেশতাদেরকে বলা হবে: ধর একে, গলায় বেড়ি পরিয়ে দাও। অতঃপর নিক্ষেপ কর জাহান্নামে। অতঃপর তাকে শৃঙ্খলিত কর সত্তর গজ দীর্ঘ এক শিকলে। -সূরা হাক্বাহ -২৫-৩২
এতো সহজ সুযোগ ও ছাড় দেয়ার পরও যারা ফেল করবে তাদের সংখ্যা হবে কম। এর জন্য তার যেই শাস্তি হবে সেটাও তুলনামূলকভাবে কম। কারণ আসল শিক্ষক রুহ জগতে প্রথমেই শিখিয়েছেন। এর পর মুআল্লিমীনদের সরদার, রাহমাতুল্লিল আলামিন প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কত সুন্দর করে তাঁর কথা ও আমল দ্বারা শিখিয়েছেন। এর পর আবার বিস্তারিতভাবে সহজ পদ্ধতিতে কুরআনের রূপে দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন ‘‘আমি উপদেশ অর্জনের জন্য কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি। আছে কেউ এর থেকে উপদেশ গ্রহণ করবে?” আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন- “এই কুরআন সকল জিনিসের ব্যাখ্যা। মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও রহমত। এই কুরআনে কোনো সন্দেহ নেই মুত্তাকিনদের জন্য হেদায়াত। এই কুরআনে কোনো গিল্টি নেই যাতে মানুষ ভয় করে।”
এর পর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার প্রশ্ন আউট করে দিয়েছেন। এবার ছাত্রদের মনে এই প্রশ্ন আসতে পারে যে, পরীক্ষকের রুচি কেমন? কোন পদ্ধতিতে উত্তর দিলে পরীক্ষক খুশি হবেন এবং নাম্বার বেশী দেবেন? এই সমস্যারও সমাধান দেয়া হয়েছে। উত্তর দেয়ার পদ্ধতি ও তার আমলী নমুনাও দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِيْ رَسُوْلِ اللّٰهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللّٰهَ وَالْيَوْمَ الْآَخِرَ وَذَكَرَ اللّٰهَ كَثِيْرًا
অর্থ : যারা আল্লাহ্ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহ্কে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রাসূলুল্লাহ্র মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে।
-সূরা আহযাব ২১
উত্তর দেয়ার পদ্ধতি
উত্তর দেয়ার পদ্ধতি হবে, আমার হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পদ্ধতি অনুযায়ী। এর প্রস্ততির জন্য লম্বা সময় দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ
وَهُمْ يَصْطَرِخُوْنَ فِيْهَا رَبَّنَا أَخْرِجْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا غَيْرَ الَّذِىْ كُنَّا نَعْمَلُ أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُمْ مَا يَتَذَكَّرُ فِيْهِ مَنْ تَذَكَّرَ وَجَاءَكُمُ النَّذِيْرُ فَذُوْقُوْا فَمَا لِلظَّالِمِيْنَ مِنْ نَصِيْرٍ ـ
সেখানে তারা আর্তচিৎকার করে বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক, বের করুন আমাদেরকে, আমরা সৎকাজ করব, পূর্বে যা করতাম, তা করব না। আল্লাহ্ বলবেন, আমি কি তোমাদেরকে এতটা বয়স দেইনি, যাতে যা
চিন্তা করার বিষয় চিন্তা করতে পারতে? উপরন্তু তোমাদের কাছে সতর্ককারীও আগমন করেছিল। অতএব আস্বাদন কর। জালেমদের জন্যে কোনো সাহায্যকারী নেই। – সূরা ফাতির-৩৭
এছাড়াও নাম্বার দেয়ার ক্ষেত্রেও প্রশস্ততার মুআমালা করা হয়েছে। যে নেক কাজ করবে কমপক্ষে দশগুন বেশী সওয়াব পাবে। আর পাপ করলে মাত্র একটি গুনাহ লিখা হবে। আল্লাহ তাআলা বলেনÑ
مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا وَمَنْ جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزَى إِلَّا مِثْلَهَا وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
যে একটি সৎকর্ম করবে, সে তার দশগুণ পাবে এবং যে একটি মন্দ কাজ করবে, সে তার সমান শাস্তিই পাবে। বস্তুত তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।-সূরা আনআম-১৬০
এতো সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ছাত্রের ফেল হওয়া কতই না দুর্ভাগ্যের ব্যাপার। যে কেউ এর অনুমান করতে পারে।
ছোট ও সাধারণ একটি প্রশ্ন “আমি কি তোমাদের প্রভু নই?” এত সহজ ও অসংখ্য সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এই শর্ত দেয়া হয়েছে যে, এর পদ্ধতি হবে আমার নবীর নিয়ম অনুযায়ী।
মোট কথা এই পরীক্ষায় পাস করার জন্য, মাদরাসার হক আদায় করার জন্য এই দুনিয়া নামক মাদরাসায় সর্বদা এ কথা মনে রাখতে হবে যে, আমাদের রব হলেন আল্লাহ। এই দুনিয়ায় আসার উদ্দেশ্য হলো এই সবক শিখা। মুআমালার সবকিছুর মধ্যে এহসানের মর্যাদা অর্জন করা। আসল পালনকর্তা মালিক হলেন আল্লাহ। যার কোনো শরিক নেই। তিনি সর্বদা আমাদের সাথে থাকেন। আমাদেরকে দেখছেন। হাদিসে জিবরাইলে উল্লেখ আছে, মাকামে এহসান হলো এই যে, “তোমরা আল্লাহর ইবাদত এমন ভাবে কর যেন আল্লাহকে দেখছ। এমন যদি না হয়, তাহলে মনে কর তিনি তোমাকে দেখছেন।”
আল্লাহকে যখন মেনে নিলাম। রব হিসেবে জানলাম। আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী চলা উচিত। এর পদ্ধতি হলো প্রতিটি কাজে শতভাগ নবীজীর অনুসরণ করা। জীবনের প্রতিটি কাজের মাপকাঠি হবে নবীজীর পদ্ধতি। দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতার ও মর্যাদাবান হওয়ার মাধ্যম ঐ জীবন যা নবীজীর পদ্ধতি অনুযায়ী অতিবাহিত হয়। ঐ বাড়ি দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা বয়ে আনবে যা নবীজীর তরিকায় হবে। ঐ মসজিদ গ্রহণযোগ্য প্রশংসিত হবে যা নবীজীর মসজিদের নমুনায় হবে, ঐ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণযোগ্য হবে যা শুধুমাত্র মাদরাসায়ে নববী ও সুফফায়ে নববীর নমুনায় হবে। যার সব কিছু নবীজীর শতভাগ অনুসরণে হবে। কুরআন মাজিদ এই উদ্দেশ্যের প্রতি এভাবে ইংগিত করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ
وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُوْنَ لِيَنْفِرُوْا كَافَّةً فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوْا فِي الدِّيْنِ وَلِيُنْذِرُوْا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوْا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُوْنَ
অর্থ: আর সমস্ত মুমিনের অভিযানে বের হওয়া সঙ্গত নয়। তাই তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হলো না, যাতে দ্বীনের জ্ঞান লাভ করে এবং সংবাদ দান করে স্বজাতিকে, যখন তারা তাদের কাছে প্রত্যাবর্তন করবে, যেন তারা বাঁচতে পারে? -সূরা তাওবা-১২২
মাদরাসার উদ্দেশ্য কি শুধু আলেম হওয়া? আর সার্টিফিকেট নেয়া? মাদরাসায়ে নববী থেকে ফারেগ হয়ে প্রত্যেক ছাত্র চাই মুজাহিদ হোক। আর ব্যবসায়ী হোক। আমির হোক চাই যা কিছুই হোক না কেন, সকলেই দা‘য়ী ছিলেন।
আশারাফ আলী থানবী রহ. বলেছেন “আসল কাজ তো আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়া। তা সংরক্ষণের জন্য মাদরাসার প্রয়োজন। মাদরাসা থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ইলম অর্জন করবে। আর আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিবে। যার সহজ পদ্ধতি হলো ওয়াজ নসিহত। আর ক্লাস নেয়া হলো উপলক্ষ। এই ব্যস্ততাও জরুরী। যেমন নামাযের জন্য ওযু জরুরী। এখন যদি কেউ সারাদিন বদনায় পানি ভরতে থাকে ওযু করার জন্য কিন্তু নামাজ আদায় করল না। তাহলে এই ব্যক্তি প্রশংসিত হওয়ার যোগ্য হবে না। এমনি ভাবে কেউ শুধু পড়া-লেখা করতে লাগল আর দাওয়াতি কাজ করল না তাহলে সে লক্ষ্যকে হারিয়ে উপলক্ষ্যের প্রতি সময় ব্যয় করল।
মাদরাসা শিক্ষা পদ্ধতির ক্ষেত্রে ছাত্র ও শিক্ষকদেরকে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য ও সফল ভাবে গড়ে তোলার জন্য মাদরাসায়ে নববীর অনুসরণ করতে হবে। দাওয়াতের মুবারক কাজ করতে হবে। এর চেয়ে উত্তম কোনো পদ্ধতি আমার বুঝে আসে না।

মূল. হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা.বা.
অনুবাদ. যুবায়ের আহমদ