এ্যাডভোকেট মুহাম্মদ সাদেক (সত্যেন্দ্র মল্লিক) সাহেবের সাক্ষাৎকার

না জানি আমার মত এমন কত লোক রয়েছে যারা ভিতরে ভিতরে মুসলমান। আর সত্য নবীর বাণীÑ প্রত্যেক শিশু ইসলামী ফিতরত নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। প্রত্যেক মুসলমানের একথা বিশ্বাস করতে হবে যে, যত মানুষ অন্য ধর্মের উপর রয়েছে সে তার ঘর ও ঠিকানা হারিয়ে ফেলেছে। এখন পথভোলা ব্যক্তিকে তার ঘরে পৌঁছে দেয়া হবে তার সাথে কতইনা কল্যাণকর বিষয়। আপনার প্রচেষ্টায় মুসলমান হল আপনি তার আসল বাড়ীতে পৌঁছে দিলেন। মাওলানা সাহেব বলেন যে, আমি দাওয়াত দিতেই পারি না। যেহেতু আপনি এসে পড়েছেন আর (জানাশোনা) কোনো আলেমও (মানুষও) এখানে নেই অথচ কিছু কথা তো বলতেই হয়। তাই কিছু বললাম, আর এতেই আপনি মুসলমান হয়ে গেলেন। আসলে আপনি মুসলমান হননি বরং মুসলমান তো ছিলেনই। এখন শুধু প্রকাশ করলেন। যদি মুসলমানরা আপনার মতো যারা ভিতরে মুসলমান এমন লোকদেরকে সন্ধান করে, যারা অন্য ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও ইসলামী ফিতরতের উপর প্রতিষ্ঠিত তাদের থেকে প্রকাশ্যে ইসলামের স্বীকৃতি নিয়ে নেয়া হয় তাহলে হিন্দুস্তানে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই মুসলমানদের সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যাবে। আমি অত্যন্ত দায়িত্ববোধের সাথেই বলছি হিন্দুদের মধ্যে এমন ভিতরগত মুসলমানদের সংখ্যা বংশগত মুসলমানদের চেয়েও বেশী। সুতরাং মুসলমানরা তাদের সন্ধান করে যদি বের করতে পারে তাহলে দেশের চিত্রই পাল্টে যাবে।


আহমদ মাওয়াহ: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ।
মুহাম্মদ সদেক: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

আহমদ মাওয়াহ: উকীল সাহেব! আপনি এসেছেন, ভালই হয়েছে। এবার রমযানে আব্বু প্রায়ই আপনার কথা আলোচনা করতেন। কয়েকবার বয়ানের মধ্যেও বলেছেন। আমার ইচ্ছা, এবার আরমুগানে আপনার একটি সাক্ষাৎকার ছাপাবো।
মুহাম্মদ সদেক: আপনিই কি মাওলানা সাহেবের ছেলে মৌলভী আহমদ মাওয়াহ নদভী সাহেব?

আহমদ মাওয়াহ: জী হ্যাঁ, আমার নামই আহমদ আওয়াহ। মাফ করবেন শব্দটা মূলত আওয়াহ আব্বাহ নয়।
উত্তর : ‘আওয়াহ’ শব্দের অর্থ কী?
মুহাম্মদ সদেক: আওয়াহ শব্দের অর্থ হল, মাখলুকের উপর অত্যন্ত স্নেহশীল ও মমতাময়ী ব্যক্তি। কুরআনে হযরত ইবরাহীম আ.-এর শানে এ শব্দ ব্যবহার হয়েছে। যেমন ইরশাদ হচ্ছে- ان ابراهيم لحليم اواه অর্থাৎ, বস্তুত ইবরাহীম অত্যন্ত সহনশীল, (আল্লাহর স্মরণে) অত্যধিক আহ-উহকারী (এবং সর্বদা আমার প্রতি অভিনিবিষ্ট ছিল।
তার নামেই আমার নাম রেখেছিলেন আমার আব্বুর পীর হযরত মাওলানা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদবী রহ.।
উকিল সাহেব! আমাদের এখান থেকে (ফুলাত) উর্দু ভাষায় একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। তার নাম আরমুগান। এতে ইসলাম গ্রহণকারী সৌভাগ্যবান নওমুসলিমদের সাক্ষাৎকার ছাপা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আব্বু আপনার ইন্টারভিউ নেয়ার আদেশ করেছেন।

আহমদ মাওয়াহ: আরমুঁঘানের অর্থ কী?
মুহাম্মদ সদেক: শব্দটি মূলত ‘আরমুগান’ আরমুঘান নয়। আসলে আমি উর্দু ভাষা জানিনা আর আমরা গ্রাম্য ভাষায় কথা বলি।

আহমদ মাওয়াহ: না উকিল সাহেব! কোনো সমস্যা নেই। আপনি তো উর্দু জানেন না। অনেক শিক্ষিত লোক এমনকি মৌলভীদেরও দেখেছি তারা উর্দু পারে না। আরমুগানের অর্থ হল, গিফট, হাদিয়া, তোহফা বা উপহার। আল্লাহর শোকর যে, এই পত্রিকাটি মানবতার জন্য উপহার হিসেবেই প্রমাণিত হচ্ছে। আব্বা হয় তো আপনাকে বলে থাকবেন।
মুহাম্মদ সদেক: হ্যাঁ, মাওলানা সাহেব ফোন করেছিলেন। বললেন যে, অল্প সময়ের জন্য তাশরীফ আনুন। আহমদ আওয়াহ আপনার একটি ইন্টারভিউ নিতে চাচ্ছে। আমারও খুব দেখা করতে মনে চাচ্ছিল। এখানে এসে জানতে পারলাম তিনি সফরে গেছেন। আজই কি এসে পড়বেন?

আহমদ মাওয়াহ: সন্ধ্যার মধ্যেই এসে পড়বেন- রাত হতে পারে।
মুহাম্মদ সদেক: তাহলে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করি। আসতে দেরী হলে সকালেই দেখা করবো।

আহমদ মাওয়াহ: আপনার বংশ পরিচয় দিন।
মুহাম্মদ সদেক: আমি ১৫ই আগস্ট ১৯৫২ খৃষ্টাব্দে দোরালার নিকটবর্তী নাখলা নামক গ্রামে এক জাট পরিবারে জন্মগ্রহণ করি। আমার পিতা সরকারী স্কুলে হেড মাস্টার এবং স্বাধীনতার অগ্রসেনানী ছিলেন। তার নাম ছিল মাষ্টার হাজারী লাল। ভাল উর্দু জানতেন। তিনি আগের যুগে উর্দু ভাষার উপর ই.অ করেছিলেন। একজন মাওলানা সাহেবের কাছে কোরআন শরীফ পড়া শিখেছিলেন। তিনি বলতেন তাঁর পিতা তাকে লেখাপড়ার জন্য দেওবন্দ পাঠিয়েছিলেন। আমাদের পরদাদা মাস্টার প্রেম চন্দ্র তো আধা মুসলমান ছিলেন। তিনি ১৮৫৭ সালে দেওবন্দী উলামায়ে কেরামের সাথে ইংরেজ বিরোধী জিহাদে অংশ গ্রহণ করে শাহাদাতবরণ করেন। ইংরেজরা তাকে গুলি করে শহীদ করেছিল। দারুল উলূম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা কাসেম নানুতবী রহ. তাকে মৌলভী প্রেম চাঁদ বলে ডাকতেন। তার ছেলে বাবু শ্যাম লালও ইংরেজ বিরোধী যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং আযাদী আন্দোলনে শহীদ হন। আমার পিতা তার একমাত্র সন্তান ছিলেন। গান্ধিজী তাকে নিজের ছেলে বানিয়ে নিলেন। গান্ধিজীর সাথে তিনি বিদেশ সফরও করেছেন। ইংল্যান্ড আফ্রিকাতে গিয়েছেন।
অনেকদিন পর্যন্ত আমার পিতার কোনো সন্তান হচ্ছিল না। পরে এক ফকীর আমাকে আর্শীবাদ করে। মায়ের পঞ্চাশ বছর বয়সে আমার জন্ম হয়। আমার পিতার উপর গান্ধিজীর অনেক প্রভাব ছিল। তিনি গান্ধিজীকে আধা মুসলমান মনে করতেন। বরং কখনো কখনো বলতেন যে গান্ধিজী ভিতরে ভিতরে মুসলমান ছিলেন। তিনি বলেন, গান্ধিজী সকালে উঠে গোসল করতেন। প্রথমে কোরআন পড়তেন। তার পবিত্র কুরআনটি তিনি মিরাঠের একজন হাকীম সাহেবের মাধ্যমে রায়পুরের হযরতজীর কাছে পাঠিয়েছিলেন। তিনি তার বিশেষ বিশেষ স্থানে কিছু বিষয় লিখে রেখেছিলেন। আব্বা বলতেন রেশমী রুমাল অন্দোলনের পুরোধা দেওবন্দের মাওলানা মাহমুদ সাহেব গান্ধিজীকে গান্ধিজী বানিয়েছেন।
আমার শৈশব কালে আব্বার ইন্তেকাল হয়ে যায়। আমার আপন চাচা আমাকে লালন পালন করেছেন। একারণে আমি উর্দু শিখতে পারি নাই। মা বলেন যে মৃত্যুর সময় আব্বা এই বলে ওসীয়ত করেছিলেন যে আমাকে যেন দেওবন্দ মাদরাসায় পড়ানো হয়। কিন্তু বংশের লোকেরা আব্বার মৃত্যুর পর তার এ অসীয়ত মানতে রাজী হলনা। দোরালা থেকে হাইস্কুল ও ইন্টার পাশ করার পর মীরাঠ কলেজ থেকে ই.অ এবং পরে খ.খ.ই করি এবং মিরাঠ কোটেই ওকালতী শুরু করি। প্রায় ১০ বছর প্রাকটিস করি। কিন্তু একাজ করতে দিল সায় দিতো না। মিথ্যা সাক্ষ্য, ধোঁকা এমন কি সত্য মামলার জন্যও মিথ্যার আশ্রয় নিতে হতো। দীর্ঘদিন যাবত অন্তরাত্মার সাথে মোকাবেলা করে আসছিলাম এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য ওকালতী করতে থাকলাম। কিন্তু একথা সর্বদাই দিলের মধ্যে থাকতো যে মানুষের রুজী রোজগার হালাল রাখা উচিৎ। ধোঁকাবাজী ও মিথ্যার মাধ্যমে উপার্জিত রুজী-দ্বারা জীবন দুর্বিষহ হবে এবং আত্মা কুলষিত হয়ে পড়বে। এ জন্য ১৯৯৫ খৃঃ ওকালতীর পেশা ছেড়ে দেই এবং চাষাবাদ শুরু করি। সাথে ছোটখাটো ব্যবসায়ও জড়িত হই। আল্লাহর ফযল ও করমে খুব সহজেই জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে।

আহমদ মাওয়াহ: ইসলাম গ্রহণের কিছু স্মৃতিচারণ করুন।
মুহাম্মদ সদেক: মৌলভী আহমদ সাহেব আসলে আমি প্রকৃতিগতভাবেই মুসলমান হয়ে জন্মগ্রহণ করেছি।

আহমদ মাওয়াহ: এটাতো একেবারে বাস্তব সত্য কথা। শুধু আপনি কেন- প্রত্যেক নবজাতক স্বভাবগতভাবেই মুসলমান হয়ে জন্মগ্রহণ করে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীস :
كل مولود يولد على الفطرة فا بواه يهود انه او ينصرانه او يمسجسا نه
অর্থ : প্রত্যেক শিশু ইসলামী ফিতরত নিয়ে জন্মগ্রহণ করে অতপর তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদী, খৃস্টান বা মূর্তিপূজক বানায়।

 

মুহাম্মদ সদেক: আমার অবস্থা হল এই যে আমার বাবা যদি আর কিছু দিন বেঁচে থাকতেন তাহলে হয়তো আমি দেওবন্দের উস্তাদ হতে পারতাম। হয়তো আপনারই উস্তাদ হতাম, কারণ আপনি দেওবন্দ থেকেই ফারেগ হয়েছেন।

আহমদ মাওয়াহ: না বরং আমি দেওবন্দী উলামায়ে কেরামের অপর একটি বড় মাদরাসায় নদওয়াতুল উলামা যেটা লক্ষ্মৌতে অবস্থিত সেখানে পড়ালেখা করেছি।
মুহাম্মদ সদেক: নদওয়া! মাওলানা আবুল হাসান আলী নদবী রহ.-এর মাদরাসা! সেখানে আমি গিয়েছি। আলী মিয়া নদবী রহ. তো আমাদের দেশের গর্ব। আরবের উলামায়ে কেরাম তাকে সকলের বড় মুরুব্বী এবং বড় মাপের আলেম মনে করতেন। আমাদের মাওলানা কালীম ছিদ্দীকী সাহেব তারই খাছ মুরীদ।

আহমদ মাওয়াহ: জী, জী, এটাই নদওয়া।
মুহাম্মদ সদেক: আপনি সত্য বলেছেন, প্রতিটি শিশুই প্রকৃতিগতভাবে মুসলমান হয়ে জন্মগ্রহণ করে। একারণেই আমাদের দেশে ছোট শিশু মারা গেলে দাফন করা হয়!
আল্লাহর কী শান! কিভাবে তিনি বান্দাকে আগুন থেকে বাঁচান। কিন্তু মাওলানা আহমদ সাহেব! আমি তো ইসলামী ন্যাচারের উপরই বড় হয়েছি। হিন্দুধর্মের সাথে আমার মুনাসাবাত ছিল না। আমার পরিবার যদিও আর্য সমাজী, আর আর্যসামাজে মূর্তিপূজা ইসলামের চেয়েও বেশী ঘৃণা করা হয়। কিন্তু আর্য সমাজেও গোমরাহী আর পথভ্রষ্টতা ছাড়া আমার চোখে কিছুই পড়েনা? ওকালতীর সময় ধর্ম নিয়ে পড়াশুনা করার ইচ্ছা ছিল কিন্তু সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ওকালতী ছাড়ার পর এখন যেহেতু কোনো কাজ নেই তাই আর্য ও অন্যান্য ধর্ম নিয়ে আমি অনেক গবেষণা করেছি। আমি বুঝলাম, স্বামী দয়ানন্দ স্বরসতী যা কিছু সংস্কার করেছে তা ইসলামেরই অবদানে। আর বিবেকানন্দজী তো কিছু দিন মুসলমানও ছিলেন। আমি খুবই উৎকণ্ঠিত হই। যদি মাওলানা কালীম ছিদ্দীকী সাহেব বিবেকানন্দের সাথে সাক্ষাৎ করতেন তাহলে ইসলামই তার সকল সমস্যার সমাধান দিয়ে দিতো! আমার দুর্ভাগ্য যে আমি ভিন্ন পরিবেশে থাকার কারণে ইসলামের শিক্ষা কমই পেয়েছি। তারপরও কোনো মসজিদে নামায হলে আর আমি সেদিক দিয়ে অতিক্রম করলে দাঁড়িয়ে দেখতাম। বড় আফসোসের সাথে তাকিয়ে থাকতাম। আল্লাহর কাছে অভিযোগ করে বলতাম, মালিক! আপনি সকলের সৃষ্টিকর্তা। অসংখ্য বার এমনটি হয়েছে। আমি দুই বার ঈদের নামায দেখার জন্য দিল্লীর জামে মসজিদ পর্যন্ত গিয়েছি। একবার রাতেই গিয়ে উপস্থিত হয়েছি এবং সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। মসজিদে অবস্থানরত জনসমুদ্র দেখে আমি আর আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলাম না। সেজদায় লুটিয়ে পড়লাম। খুব কান্না পেল। সেদিন আল্লাহর কাছে খুবই অনুনয় বিনয় করে আবারও অভিযোগ করলাম।

আহমদ মাওয়াহ: ‘মাশাআল্লাহ’ আল্লাহ আপনার আবদার রক্ষা করেছেন। আল্লাহ আপনার ফরিয়াদ কবুল করেছেন। আপনার তামান্না পূরো হয়েছে। তা কিভাবে মুসলমান হলেন! সে ঘটনাটি বলুন!
মুহাম্মদ সদেক: হ্যাঁ বলছি। এ বছরই ফেব্র“য়ারী মাসে মোবাইলে একটি ফোন এল। আমি রিসিভ কররাম। কথা শুনে বুঝতে পারলাম আপনার আব্বু। তিনি বললেন আসসালামু আলইকুম আমি বললাম ওয়ালাইকুম সালাম। তিনি বললেন, মাওলানা রাশেদ সাহেব বলছিলেন? আমি বললাম আপনি রং নাম্বারে ডায়াল করেছেন। এটা রাশেদের ফোন নয়। তিনি বললেন, মাফ করবেন। এই বলেই ফোন কেটে দিলেন। আসলে মাওলানা সাহেবের একজন সাথী ছিলেন মাওলানা রাশেদ-যিনি রাটুয়াতে একটি মাদরাসা চালান-তার নাম্বার মাওলানা সাহেব ভুল সেভ করেছিলেন। এরপর সঠিকটাও সেভ করেছেন কিন্তু ভুল নাম্বারটি (যেটা আমার নাম্বার) ডিলেট করতে ভুলে গেলেন।
প্রথম সিরিয়ালে আমার নাম্বারটি ছিলো। দেড় মাস পর হঠাৎ ফোন এলো আসসালামু আলইকুম উত্তর না দিয়ে বললাম ভাই নাম্বারটা ভালভাবে দেখে নিন। বারবার বিরক্ত কেন করছেন? মাওলানা সাহেব পুনরায় ক্ষমা চাইলেন। আগস্টে আবার ফোন এলো। রিসিভ করতে পুনরায় অপর প্রান্ত থেকে আসসালামু আলইকুম ভেসে এলো। আমি এবার একটু কঠোর ভাষায় বললাম, ভাই! আপনি কেন নাম্বারটা ঠিক করেছেন না? আর কেনইবা বারবার বিরক্ত করছেন? মাওলানা সাহেব পুনরায় ক্ষমা চেয়ে ফোন কেটে দিলেন। আমার ভাগ্য ভাল ছিল আর আল্লাহর করম ছিল। এবার মাওলানা সাহেব নাম্বার ডিলেট করলেন কিন্তু আমার উপর মালিকের রহম হল, মাওলানা রাশেদ সাহেবের নাম্বার ভুলে ডিলেট হয়ে গেল আর আমার নাম্বার তখনো থেকে গেল।
এ বছর রমযানে ১৪ই সেপ্টেম্বর মাওলানা সাহেবের ফোন এলো, আসসালামু আলইকুম আমি কঠোর ভাষায় বললাম, ভাইজান এটা রং নাম্বার। কতদিন ধরে আপনাকে বলছি। আপনি কি আমার জান নেবেন? মাওলানা সাহেব হেসে বললেন ভাই সাহেব আপনি কিভাবে বললেন যে এটা রং নাম্বার? এটা আমার ভায়ের নাম্বার, আমি বললাম, ভাই! এটা আমার নাম্বার আপনার ভায়ের নয়। মাওলানা সাহেব বললেন, এটা কি আপানার নাম্বার নয়? আমি বললাম, হ্যাঁ এটা আমার নাম্বার।
মাওলানা সাহেব বললেন, আপনার নাম কী? আমি বললাম, সত্তেন্দ্র মল্লিক। মাওলানা সাহেব বললেন, হ্যাঁ ভাই সত্যেন্দ্র মল্লিক আপনার সাথেই তো কথা বলতে চাচ্ছি। আপনি তো আমার ভাই আমাকে আপনি চিনেন না। আমি বললাম, না আমি আপনাকে চিনি না। মাওলানা সাহেব বললেন, আপনি আমি সকলেই কি এক মাতা-পিতার সন্তান নই? আমি বললাম, হ্যাঁ। মাওলানা সাহেব বললেন এক পিতা-মাতার সন্তান তো পরস্পর ভাই। আপনি আপনার আপন ভাইকেও চিনেন না। আপনার বয়স কত? বললাম ৫৬ বছর। মাওলানা সাহেব বললেন, আপনি তো আমার বড় ভাই এবং আমরা রক্ত সম্পর্কীয় দুই ভাই। ছোট ভায়ের তো খোঁজ খবর নেন না। ছোট ভাই সালাম দেয় আর আপনি প্রতিবারই বকাবকি করেন? অথচ বড় ভায়ের উপর আমার হক ছিল যে আপনি প্রতিদিন আমার খোঁজ খবর নিবেন। বাড়িতে এসে হালচাল জিজ্ঞাসা করবেন। চলাফেরার প্রতি খেয়াল রাখবেন। পরিবার পরিজনের খোঁজ-খবর নিবেন। মাওলানা সাহেব জিজ্ঞাসা করলেন আপনি কোথায় থাকেন? আমি বললাম দোরালার পাশে নাখলা নামক স্থানে থাকি। মাওলানা সাহেব বললেন, এতো কাছে থাকেন, প্রকৃত ভাই তো দূর-দূরান্ত থেকেও আসে। অনেক ভাই পাকিস্তানে থাকে। পাকিস্তানে ভিসা পাওয়া কত কঠিন কিন্তু মানুষ দূরবর্তী আত্মীয়ের খোঁজও নিতে আসে। আপনি আমার এত কাছের প্রতিবেশী এবং রক্ত সম্পর্কীয় ভাই কিন্তু আজ পর্যন্ত একবারও খোঁজ-খবর নিলেন না। উল্টো আমি সালাম করলে আপনি কর্কশ ভাষায় তার প্রতিবাদ করেন।
মাওলানা সাহেবের এমন হৃদয়গ্রাহী কিছু কথা শুনে সত্যিই আমার মন গলে গেল। ভীষণ শরম পেলাম। আমি জিজ্ঞাসা করলাম ভাই আপনি কোথায় থাকেন? তিনি উত্তর দিলেন খাতুলীর নিকবর্তী ফুলাতে থাকি আমি। বললাম ওখানে তো একবার মহিষ কিনতে গিয়েছিলাম। ভাই সাহেব! আমি আজই আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চাই। সত্যিই আমার ভুল হয়ে গেছে। আমার উচিৎ ছিল ভাইয়ের কাছে যাওয়া। মাওলানা সাহেব বললেন, আজ তো সফরে যাচ্ছি, কালও ফিরতে রাত হবে, আপনি পরশুদিন আসেন দেখা হবে ইনশাআল্লাহ! ১৬ই সেট্টেম্বর সকাল ১০ টায় সাক্ষাতের সময় নির্ধারিত হল। আমি মাওলানা সাহেবের ঠিকানা জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, গ্রামে ঢুকতেই একটি মাদরাসা দেখতে পাবেন। ওখানে কালীম নাম বললেই লোকেরা দেখিয়ে দিবে।
১৬ই- সেপ্টেম্বর বাসযোগে খাতুলী পৌঁছলাম। খাতুলী থেকে ছোট মোটরযানে চড়ে বসলাম। গাড়ীওয়ালাকে বললাম, ভাই ফুলাতের মাদরাসায় মাওলানা কালীম সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করতে চাই। গাড়ীওয়ালা জিজ্ঞাসা করল হযরতের সাথে দেখা করতে চান? আমি বললাম কালীম, সে বলল, হ্যাঁ উনিই হযরত! মনে হয় মুসলমান হতে এসেছেন? আমি হেসে বললাম, তিনি যদি বানান তাহলে হয়ে যবো। গাড়ী থেকে নেমেই মাওলানা সাহেবের বাড়ী পৌছলাম। মাওলান সাহেবের সামনে চেয়ারে কিছু লোক বসা ছিল। দাঁড়িয়েই সাক্ষাৎ করলাম এবং নিজের পরিচয় দিয়ে বললাম, আমি এডভোকেট সত্যেন্দ্র মল্লিক। সাথে সাথে তিনি বুকে জড়িয়ে ধরলেন এবং খুব মুহাব্বতের সাথে স্বাগত জানালেন। বারবার বলতে লাগলেন বড় ভাই খোঁজ নিতে নিজেই এসে পড়লেন, রমযান মাস হওয়া সত্ত্বেও চা নাশতার ব্যবস্থা করলেন। চা পান করতে এসে কথা শুরু হল। ইসলামের পবিত্রতা বর্ণনা করতে থাকলেন। চা শেষ না হতেই আমি কালিমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেলাম। আমার নাম রাখা হল সাদেক। এবার খাতুলী পর্যন্ত নিজের গাড়ি দিয়ে পৌঁছে দিলেন। সাথে আপনার আমানত।
‘মরণের পরে কী হবে’ বই দুটি দিয়ে দিলেন। আমি কয়েকবার বই দুটি পড়লাম এবং আমার বিবির কাছে মুসলমান হওয়ার বিষয়টি বললাম। সে প্রথমে খুব কান্নকাটি করলো। আমি তাকে বললাম আমার কাছে দুটি কিতাব আছে আগে কিতাবগুলো তিনবার করে পড়। এরপর যদি তুমি বল তাহলে আমি আবারও হিন্দু হয়ে যেতে প্রস্তুত আছি। আমার বিবি আপনার আমানত’ বইটি একবার, পড়ে মরণের পরে কী হবে পড়তে শুরু করেছে মাত্র। এর মাঝে একদিন আমার কাছে এসে বললো আমাকেও মুসলমান বানিয়ে দিন। আমি আল্লাহর শোকর আদায় করলাম। আমাদের দুই সন্তানও মুসলমান হয়ে গেল। তাদের তিনজনকেই আমি ফুলাতে এনে কালিমা পড়িয়েছি। বিবির নাম রেখেছি ফাতেমা, মেয়ের নাম আমিনা আর ছেলের নাম মুহাম্মদ আহমদ রাখা হয়েছে। এ আলহামদুলিল্লাহ এখন আমার পরিবারের সকলেই মুসলমান।
আহমদ মাওয়াহ: আপনার বংশের লোকেরাও কি মুসলমান হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছিল?
মুহাম্মদ সদেক: বংশের লোকেরা আমার ঘোর শত্র“তে পরিণত হল। শুরু থেকেই তারা এমনটি করে আসছিল। এক পর্যায়ে তারা গ্রাম্য পঞ্চায়েত গঠন করলো। কিন্তু আমি নিজেও তো একজন উকিল। এজন্য আমি ও.এ.ঝ.ঝ.চ. বরাবর একটি দরখাস্ত দিয়ে রেখেছিলাম। প্রথমে অনেক হট্টগোল হলেও এখন পরিস্থিতি অনেকটাই অনুকূল। আমি দিল্লীতে একটি বাড়ি বানিয়েছিলাম। দুই বাচ্চা দিল্লীতেই পড়াশুনা করে। মাওলানা সাহেবের পরামর্শেই বংশের লোকদের থেকে একটু দূরে দিল্লীতেই বসবাসের প্লান করি।

আহমদ মাওয়াহ: ইসলাম ধর্মগ্রহণ করে আপনার কেমন লাগছে?
মুহাম্মদ সদেক: মুসলমান হয়ে মনে হচ্ছে যেন আমি বাড়িঘর হারিয়ে আবারও তা ফিরে পেয়েছি। এক কথায় আমি আমার অনেকদিনের হারানো সম্পদ পুনরায় ফিরে পেয়েছি। আমি যতই ইসলাম নিয়ে গবেষণা করি ততই আমার বাবা-মা, দাদা-পরদাদার স্মরণ আমাকে পীড়া দেয়।

আহমদ মাওয়াহ: আপনি এমনটি ভাবছেন কেন? এমন তো হতে পারে যে, কেউ তাদের কালিমা পড়িয়েছে? বা মৃত্যুর সময় ফেরেস্তারা তাদের কালিমা পড়িয়ে দিয়েছেন।
মুহাম্মদ সদেক: মৌলভী আহমদ সাহেব! আমি অবুঝ শিশু নই। আমি শৈশবে আমার পিতাজীকে চিতায় জ্বালিয়েছি। এবং নির্মমভাবে পুড়ে ছাই হতে দেখেছি। যেই পিতা তার সন্তানকে দেওবন্দ মাদরাসায় পড়ানোর ওসীয়ত করে যায় তার হিন্দু হয়ে চিতায় পোড়াটা মৌলভী ও মুসলমানদের জুলুম ছাড়া আর কী হতে পারে?

আহমদ মাওয়াহ: আপনি যেভাবে তাদের অবস্থায় বর্ণনা দিলেন তাতে আমি আশাবাদী অবশ্যই আল্লাহ তাদের ঈমানের দৌলত দান করে থাকবেন। আর দুনিয়ার আগুনের সাথে আখেরাতের আগুনের কোনো সম্পর্ক নেই।
মুহাম্মদ সদেক: ঈদের রাতে এসব কথা মনে করে আমার একটুও ঘুম হয়নি। আমি খুব পেরেশান হচ্ছিলাম। মনে চাচ্ছিল সকল মুসলমানকে গালিগালাজ করি। রাতে পুনরায় উযু করলাম। আহত হৃদয়ে নামাযের নিয়ত করলাম। দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত কাঁদতে থাকলাম। সকালের দিকে চোখ লেগে এলে স্বপ্নে বাবা ও দাদাকে দেখলাম তারা বলছেন বেটা সাদেক। আল্লাহ সকল মানুষের প্রভু শুধু মুসলমানদের নয়। আল্লাহ আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট। আমরাও মুসলমান। এতে কিছুটা সান্ত¡না পেলাম কিন্তু স্বপ্ন তো স্বপ্নই।

আহমদ মাওয়াহ: মাশাআল্লাহ! আপনিতো ফুলাত যাতায়াত করেন কিন্তু দ্বীন শেখার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন?
মুহাম্মদ সদেক: নভেম্বর মাসে জামাআতে যাবো। দুই-তিন দিন ফোনে কথা না হলে আমি অস্থির হয়ে পড়ি। আমি মাওলানা সাহেবকে বলেছি আল্লাহ অতি মেহেরবান। আপনি ডিলেট করা সত্ত্বেও তিনি নিজের লিস্ট থেকে আমাকে ডিলেট করেননি। আমার মন চাচ্ছে আমার সকল পরিচিতদের নাম্বার আপনার মোবাইলে সেভ করে দেই। যাতে সকলেই হেদায়েত লাভ করতে পারে। মাওলানা সাহেব বললেন, আপনি ভাল কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। আমার মোবাইলে অনেক ডাক্তার ও অমুসলিমদের নাম্বার সেভ করা আছে। আমার চিন্তা হচ্ছে যে এঁরা কেয়ামতের দিন আমার গলা চেপে ধরে বলবে -এর কাছে আমাদের ফোন নাম্বারও ছিল তারপরও কোনো ফিকির করেনি। যে সকল লোকদের নাম্বার আমরা মোবাইলে সেভ করি তাদের সাথে আমাদের লেনদেন বা বন্ধুত্ব হওয়া তো অবশ্যই প্রয়োজন। কেননা, আল্লাহর নবীর ফরমান, আল্লাহর জান্নাত ঐ সমস্ত লোকদের উপর হারাম পরা মানুষের সাথে লেনদেন করে কিন্তু তাদের কাছে দ্বীন পৌছায় না। একথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট, মোবাইল ফোন ঐ সমস্ত লোকদের সাথে সম্পর্ক থাকার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে সাক্ষ্য দিবে। তাই আমার চিন্তা হল, কমপক্ষে তাদের কাছে দাওয়াত তো পৌছাতে হবে। মাওলানা সাহেব বলেন, এরপর থেকে আমি সকলের সাথে যোগাযোগ শুরু করি। আলহামদুলিল্লাহ! একজন ডাক্তার ও দিল্লীর একজন উকিল সাহেব কালিমা পড়েছেন। এই দুই জনসহ বাকীরা যদি হেদায়েত লাভ করে তাহলে তাদের সকলের সওয়াব আপনিও পাবেন।

আহমদ মাওয়াহ: আরমুগানের পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।
মুহাম্মদ সদেক: না জানি আমার মতো এমন কত লোক রয়েছে যারা ভিতরে ভিতরে মুসলমান। আর সত্য নবীর বাণীÑ প্রত্যেক শিশু ইসলামী ফিতরত নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। প্রত্যেক মুসলমানের একথা বিশ্বাস করতে হবে যে, যত মানুষ অন্য ধর্মের উপর রয়েছে সে তার ঘর ও ঠিকানা হারিয়ে ফেলেছে। এখন পথভোলা ব্যক্তিকে তার ঘরে পৌঁছে দেয়া হবে তার সাথে কতইনা কল্যাণকর বিষয়। আপনার প্রচেষ্টায় মুসলমান হল আপনি তার আসল বাড়ীতে পৌঁছে দিলেন।
মাওলানা সাহেব বলেন যে, আমি দাওয়াত দিতেই পারি না। যেহেতু আপনি এসে পড়েছেন আর (জানাশোনা) কোনো আলেমও (মানুষও) এখানে নেই অথচ কিছু কথা তো বলতেই হয়-তাই কিছু বললাম, আর এতেই আপনি মুসলমান হয়ে গেলেন। আসলে আপনি মুসলমান হননি বরং মুসলমানতো ছিলেনই। এখন শুধু প্রকাশ করলেন। যদি মুসলমানরা আপনার মতো যারা ভিতরে মুসলমান এমন লোকদের সন্ধান করে, যারা অন্য ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও ইসলামী ফিতরতের উপর প্রতিষ্ঠিত তাদের থেকে প্রকাশ্যে ইসলামের স্বীকৃতি নিয়ে নেয়া হয় তাহলে হিন্দুস্তানে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই মুসলমানদের সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যাবে। আমি অত্যন্ত দায়িত্ববোধের সাথেই বলছি হিন্দুদের মধ্যে এমন ভিতরগত মুসলমানদের সংখ্যা বংশগত মুসলমানদের চেয়েও বেশী। সুতরাং মুসলমানরা তাদের সন্ধান করে যদি বের করতে পারে তাহলে দেশের চিত্রই পাল্টে যাবে।
আমার মনে হয় যদি মুসলমানরা একশনের পথ পরিহার করে যদি শুধু অমুসলিমদের মধ্য থেকে ভিতরগত মুসলমানদের তালাশ করে তাদের উদ্বুদ্ধ করে তাহলে শয়তান ও বাতিলের সকল ষড়যন্ত্র মাকড়সার জালের মত ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাবে। কত ভিতরগত মুসলমান ভিতরে ঈমান লালন করেই মৃত্যুবরণ করছে। আমার বিশ্বাস গান্ধিজী ভিতরগত মুসলমান ছিলেন। জওহর লাল নেহেরু, সুভাষ চন্দ্র বসু, খাতুলীর পন্ডিত সুন্দর লাল, সকলেই ভিতরগত মুসলমান ছিলেন। মুসলমানরা তাদের হক আদায় করেনি। আজও এমন বহু লোকের কথা শোনা যায়।
বিল ক্লিন্টন, নেলসন ম্যান্ডেলা, প্রিন্স চার্লস ভিতরগত মুসলমান। স্বয়ং হিন্দুস্তানেই কত হিন্দু রয়েছে যার মধ্যে হিন্দুদের একটি খোলস মাত্র ধারণ করে আছে আর ভেতরে ভেতরে পাক্কা মুসলমান।
হায় যদি সকলেই সম্মিলিতভাবে এই ব্যাপারে সচেষ্ট হত যে ভিতরগত সকল অমুসলমান নিজেদের ঈমানকে প্রকাশ করে মুসলমানদের মাঝে শামিল হয়ে যায়ক তাহলে শুধু আমাদের দেশই নয় বরং পুরা বিশ্বের মানচিত্রই পাল্টে যেত।
আহমদ মাওয়াহ:   আপনাকে অনেক শুকরিয়া ধন্যবাদ। অনেক সময় দিয়েছেন। السلام আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ।

মুহাম্মদ সদেক: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।


সাক্ষাৎকার গ্রহণে
মাও. আহমদ আওয়াহ নদভী
মাসিক আরমুগান, নভেম্বর- ২০০৮