কাজের গ্রহণযোগ্যতার জন্য দুআ

কাজের গ্রহণযোগ্যতার জন্য দুআ
আম্বিয়া আ. -এর এই সম্মানিত ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য, নিজেকে আল্লাহর কাছে কবুল করাতে হবে। এর জন্য সর্ব পথম যে কাজ তাহলো, আল্লাহর দরবারে খুবগুরুত্বের সাথে দুআ করতে হবে। আল্লাহ তা’য়ালা কোনো ধরনের আবেদন ছাড়াই, শুধুমাত্র তার অনুগ্রহে মুসলিম জাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং এই দাওয়াতী কাজের সম্মানিত জামাতের সাথে মিলিয়ে দিয়েছেন। এর জন্য অসংখ্য শুকরিয়া আদায় করা উচিৎ। এই জিম্মাদারী আদায় করার তৌফিকের জন্য বিশেষ দুআর ব্যবস্থা করা উচিৎ। আল্লাহ যদি এই কাজের জন্য আপনাকে কবুল করে নেন। তাহলে তার জন্য যেই যোগ্যতা ও মাধ্যমের প্রয়োজন হবে, তা তিনি নিজেই ব্যাবস্থা করে দিবেন।
উদাহরণ স্বরুপ, আমরা হলাম কৃষক। যেই ব্যক্তিকে এই কৃষি কাজের জন্য কর্মচারী হিসাবে নিয়োগ দেই। আমার ক্ষেত আবাদ করার জন্য ঐ কর্মচারীর যে সব আসবাবপত্রের প্রয়োজন হয়, সেগুলোর ফিকির আমাদেরকেই করতে হবে। পানি কোথা থেকে আসবে, কেমন বীজের প্রয়োজন। গরু বা ট্রক্টর হালের জন্য কি প্রয়োজন, খেতের বিশ ও ঔষধ ইত্যাদি। সব কিছুর ব্যবস্থার দায়িত্ব আমাদেরই। এমনি ভাবে আল্লাহ তা’আলা যদি কোনো সৌভাগ্যবান ব্যক্তিকে এই দাওয়াতী কাজের জন্য কবুল করে নেন। তার জন্য প্রয়োজন সব কিছুর ব্যবস্থা তিনি নিজেই করে দিবেন। বকৃতার মধ্যে প্রভাব, আলোচনার পদ্ধতি, উত্তম চরিত্র, উত্তম পন্থায় মুনাযারা, মুজাদালা, এমন অনেকগুন আল্লাহ তা’আলা নিজেই দান করবেন। এর সাথে ঐ ঈমানের দৌলত এবং আধ্যতিকতা আর মারেফত ও তার পরিচয় দান করবেন। তবে এরজন্য শর্ত হল কবুলিয়াত। আগ্রহ ও ইচ্ছা।
إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ .
নি:ন্দেহে আল্লাহ তা’আলা কোনো জাতীকে পরিবর্তন করো যতক্ষন পযর্ন্ত নিজেকে নিজে পরিবর্তন না করে।
এই জন্য দাওয়াতের কাজ মুঞ্জুরীর জন্য দোয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ। এরপর দা’য়ী নিজের তরবিয়তের ফিকির করবে। শুধু মৌখিক দাওয়াতে দাওয়াতের প্রভাব সৃষ্টি হয় না। যতক্ষণ পযর্ন্ত তার মধ্যে আমলের সংযোগ না হবে।
আল্লামা সাইয়েদ সুলাঈমান নদভী রহ: বলেন।
قول مین رنگ عمل بہر کے بنادرنگین
لب خاموش عطا کر دل کو یادیدے
কথার মধ্যে আমলের রংদিয়ে রঙ্গিন কর,
ঠুটকে রাখ স্থীর অন্তরকে বাক শক্তি দান কর।
হাফিজ মিরাঠী ভাষায়-
تقریر سے ممکن شبی نہ تحریر سے ممکن
وہ کام جو انسان کا کرداراے ہے
সম্ভাবনার বকতৃার না লিখনিতে। যে কাজ করতে পারে মানুষের চরিত্রে।
এ ক্ষেত্রে ও দা’য়ীকে কুরআন ও সীরাতের স্মরনাপন্য হতে হবে। আর নিজের বায্যিক ও অভ্যন্তরকে সীরাতে পাকের আদর্শ বানাতে হবে। এর জন্য কয়েকটি কথা খুব গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষ যদি তার সীমাবদ্ধ অধ্যায়নের সাথে সীরাতে পাকের অধ্যায়ন করে। তাহলে অনুভব করতে পারবে, আখলাক চরিত্র তার সফলতার সাথে থাকবে যে ব্যপারে বলা হয়েছে।
وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ
নি:শন্দেহে আপনি মহান চরিত্রের আধিকারী ।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কয়েকটিগুণ আরব কুরআনশদের সরদারের কাছে প্রসিদ্ধ ছিল। এর মধ্যে দুইটি হল সত্যতা, ও আমানত দারী। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই গুণগুলো এই প্রকারের প্রসিদ্ধ ছিল যে, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লমের নামের পরিবর্তে এই দুই গুণে ডাকা হতো। (সাদিক) সত্যবাদী, (আল-আমিন) আমানতদার বলে সম্বধোন করা হতো। কাবা শরীফ নির্মানের সময়, হাজরে আসওয়াত পাথর তার স্বস্থানে রাখার জন্য যেই সমস্যা ছিল, তার সমাধানে সিদ্ধান্ত হলো, যে ব্যক্তি কাবাগৃহে প্রথম আসবে সেই পাথর রাখবে। পরের দিন সর্ব প্রথম কাবা শরীফে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রবেশ করলেন। তখন মানুষের অন্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মতো সত্যতা ও আমানত দারী এই গুণ দুটি এমন ভাবে প্রাকাশ পেয়েছিল যে, তারা অনিচ্ছা সত্যে বলে উঠল جاء الصادق الامين ضياه ضيا ـ আল্লাহর পক্ষথেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সত্যতা ও আমানতদারী গ্রহণ করানোর পিছনে বড় ধরনের দাওয়াতী হেকমত উহ্য ছিল। সত্যতাও আমানতদারী যেই ব্যাক্তির পরিচয় হয়ে যায়, তাহালে কঠিন থেকে কঠিন অন্তরে তার মহাব্বত সম্মান বসে যায়। তার কথাকে খুব গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। এই জন্য সীরাতের অনুসরণ ও অনুকরনে প্রত্যেক দা’য়ীর চরিত্র এই দুটো জিনিষকে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন। এরজন্য চেষ্টা করা উচিৎ। এ ছাড়া দাওয়াতী কাজে প্রভাব সৃষ্টি হয় না।

মূল. হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা.বা.
অনুবাদ.যুবায়ের আহমদ