কুরআন মাজিদে বিশ্বব্যাপী পয়গাম

কুরআন মাজিদে বিশ্বব্যাপী পয়গাম
কুরআনে হাকিম আল্লাহর কিতাব। আহকামুল হাকিমীনের পক্ষ থেকে সকল মানুষের জন্য একমাত্র জীবন বিধান। এটি হলো পবিত্র গ্রন্থ, তার মালিকের পক্ষ থেকেই পবিত্র ও সম্মানিত। সকল প্রকার ত্রুটি থেকে মুক্ত। এটি আল্লাহর খুব প্রিয়। কুরআনের বিভিন্ন স্থানে তিনি তার কালামে পাকের গুণাগুণ ও মর্যাদার কথা বর্ণনা করেছেন। আর এই কালামে পাক সকল প্রকার জটিলতা থেকে মুক্ত হওয়ার দাবীও করেছেন। এই কালামে পাক অবতীর্ণ করা তার বড় এহসান ও অনুগ্রহ বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُ عِوَجًا (১) قَيِّمًا لِيُنْذِرَ بَأْسًا شَدِيدًا مِنْ لَدُنْهُ وَيُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا حَسَنًا (২) مَاكِثِينَ فِيهِ أَبَدًا (৩)
অর্থ- সকল তা‘রীফ আল্লাহ তায়ালার জন্যে, যিনি তাঁর বান্দার ওপর গ্রন্থ নাযিল করেছেন এবং এর কোথাও তিনি কোনোরকম বক্রতা রাখেন নি; (একে তিনি) প্রতিষ্ঠিত করেছেন ( সরল পথের ওপর), যাতে করে তাঁর পক্ষ থেকে সে (নবী তাদের জাহান্নামের ব্যাপারে) সতর্ক করে দিতে পারে এবং যারা ঈমানদার, যারা নেক কাজ করে, তাদের সে (এ মর্মে ) সুসংবাদ দিতে পারে (যে), তাদের জন্যে উত্তম পুরস্কার রয়েছে, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
এই কালামে পাক এক অদ্বিতীয় মালিকের খুবই প্রিয় তাই তার ভালোবাসার কারণে তার কালামের সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন নিজেই। তা কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। তিনি বলেন-
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ (৯)
নিশ্চয়ই আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষক।
এই কালামে পাক পবিত্রতা ও মর্যাদা প্রকাশ করার জন্য, ইসলাম ও তার ইবাদতে শামিল করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা কেয়ামত পর্যন্ত পবিত্র রমজান মাসকে তার নেককার বান্দাদের জন্য কুরআনের আনন্দ করার মাস বলে নির্ধারণ করেছেন। যে রাতে লওহে মাহফুজ থেকে কুরআন প্রথম আকাশে এসেছিল, সে রাতকে لَيْلَةِ الْقَدْرِ হাজার মাসের চেয়ে বেশি মর্যাদাবান বানিয়েছেন। দুনিয়ার শেষ পর্যন্ত কুরআন থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য সৃষ্টি করেছেন। নিজের জীবনকে কুরআনের খাঁচার মধ্যে ঢালার জন্য বুঝে শুনে কুরআনের অনুগত হওয়ার জন্য এই পবিত্র মাস কুরআন শোনানোর ও তেলাওয়াতের মাস নির্ধারণ করেছেন। মানুষের মধ্যে থেকে পশুত্ব স্বভাব দূর করে ফেরেশতার স্বভাবে পরিণত করার সুযোগ দিয়েছেন। এভাবে পবিত্র মাস থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য পরিপূর্ণ একটি মাসের ব্যবস্থা করেছেন।
রমজানের মাসের মর্যাদা হল শুধু কুরআনের সম্মানে। আল্লাহ তা‘আলা বলেনÑ
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآَنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ

রমজান মাসে কুরআন অবতীর্ণ করেছি সকল মানুষের হেদায়াতের জন্য, সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করার জন্য।
ইসলামে পবিত্র রমজান মাসের গুরুত্ব এবং আল্লাহর ইবাদতের এই পদ্ধতি দ্বারা এটাই বুঝা যায় যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে পুরো মাসে ইবাদত করিয়ে তার কাছের বানাতে চান। আর পুরো পদ্ধতি দ্বারা আল্লাহর উদ্দেশ্য হলো মানুষকে তিনি আমলি কুরআন তথা ভ্রাম্যমান কুরআন বানাতে চান। তিনি চান তার বান্দাদেরকে এই কুরআনের খাঁচায় আবদ্ধ করতে। মানুষ যখন রমজানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চিন্তা করবে তখন তার সামনে এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। আল্লাহ তা‘আলা এই কুরআনের মাধ্যমে তার বান্দাদেরকে ছোট চিন্তা, হীন মানসিকতা, সংকির্ণতা থেকে প্রশান্ত চিন্তাধারার দিকে নিয়ে যেতে চান। আর সকল কুরআনী মুসলমান যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা ভ্রাম্যমান কুরআন দেখতে চান। এই জীবনের উদ্দেশ্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবী রাবিয়া বিন আমের (রা.)এর শব্দগুলো এমন ছিল।
الله ابتعثنا لنخرج من شاء من عبادة العباد الى عبادةالله . ومن ضيق الدنيا الى سعتها, ومن جور الاديان الى عدل الاسلام .-
আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে পাঠিয়েছেন, আল্লহ যাকে চান তাকে মানুষের ইবাদত থেকে বের করে আল্লাহর দাসত্বের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ধর্মের নির্যাতন থেকে বাঁচিয়ে ইসলামের ন্যায়-ইনসাফের দিকে নিয়ে আসার জন্য।
এই কুরআনে পাক যেই তারতীবে আমাদের কাছে বিদ্যমান, তাকে সহিফায়ে উসমানী বলা হয়, সকল উলামাগণ একমত কুরআনের আয়াত সূরা লাউহে মাহফুজে যেই তারতিবে ছিল, সেই তারতিব এখনও বিদ্বমান। যা আমাদের কাছে সংরক্ষিত। কেমন জানি বর্তমান তারতিব আল্লাহ পাকের দেওয়া তারতিবই। এই কুরআনের প্রথম সুরা হল সুরা ফাতেহা, আর শেষ সুরা হল সুরা নাস। এর মধ্যে সরা ফাতেহা এমন এক সুরা, যা আল্লাহ তাআলা তার কাছে আবেদন পেশ করার জন্য বান্দাদেরকে দরখাস্ত আবেদন নামা লিখেয়েছেন। আর এই আবেদনটি পেশ করার জন্য প্রত্যেক নামাযে প্রতি রাকাতে ওয়াজিব ও বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন।
এই সূরা মুবারকের আবেদনের উদাহরণ এমন। কোনো হাকিম তার গোলাম বা কর্মচারীর উপর খুশি হয়ে যায়, কোনো কর্মচারীকে যখন আবেদন করতে বলেন, তখন বলেদেন এটা লেখ, ওটা লিখ। মালিক এ সবকিছু বলে দেন। তার কাছে দরখাস্ত পেশ করার জন্য লিখান। এটা গ্রহণ করানোর জন্যই লিখান। সাথে সাথে কর্মচারীর প্রশিক্ষণও উদ্দেশ্য থাকে। সুরা ফাতেহার অবস্থানও ঠিক এই দরখাস্তের মতো, যা আহকামুল হাকিমীন নিজে খসড়া করিয়েছেন এবং গ্রহণের প্রতি দায়িত্বও দিয়েছেন। এখানে তার বান্দাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। দরখাস্তের শুরু করেছেন কী সুন্দর বাক্য দ্বারা।
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর যিনি বিশ^ সমুহের প্রতিপালক।
তিনি শুধু এই বিশে^র প্রভু নন। শুধু তোমাদের প্রভু নন, শুধু তোমাদের বংশের প্রভু নন, তিনি শুধু তোমাদের বা তোমাদের জাতির প্রতিপালক ও পালনকর্তা নন। তিনি শুধু মুসলমানদেরও প্রভু নন। তিনি শুধু তোমাদের ভূমিতে জীবন জাপনকারী লোকদের প্রতিপালক নন। বরং সৃষ্টি জগতে যত বিশ^ ও সৃষ্টি আছে সকলেরই প্রতিপালক।
পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামায ছাড়াও সুন্নাত, নাওয়াফেলের প্রতিটি রাকাতে এই ফাতেহা পড়ার নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে-لاصلاة الا بفاتحة الكتاب ? সুরা ফাতেহা ছাড়া নামাজই হবেনা। সুরা ফাতেহা পড়া বাধ্যতামূলক। এই শব্দ দ্বারাই নামায শুরু করতে হয়। ‘সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালকের’।
এই নতুন পদ্ধতি এই জন্য সঙ্কীর্ণ দৃষ্টি ও সঙ্কীর্ণ চিন্তাধারা দূর করে বিশ^ব্যাপি চিন্তাধারা সৃষ্টির জন্য, এই কথা বার বার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। যে. তোমাদের রব শুধু মুমিনদের প্রতিপালক নন। শুধু মুসলমানদের, শুধু মানুষের প্রতিপালক নন, বরং রাব্বুল আলামিন সারা বিশ^সমূহের প্রতিপালক। কুরআনে হাকিমের এই বিশ^ময় বার্তা যা পৌঁছানো মুসলমানদের জন্য খুবই জরুরী। এটাকে সর্বপ্রথম সবচেয়ে বেশী পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই জাতির চিন্তা সৃষ্টির জন্য কুরনে বিভিন্ন স্থানে নির্দেশ অবতীর্ণ করেছেন। আহকামুল হাকিমিন যিনি সৃষ্টিকর্তা, জীবনদাতা, মৃত্যুদাতা, ঐ মহান সত্তার প্রতি তোমরা প্রতিটি মূহুর্তে মুখাপেক্ষি। তোমাদের প্রতিটি নিঃশ^াসে তোমরা তার মুখাপেক্ষি। এই বিশ^ময় প্রভুর ঘোষণার পর এমন এক ব্যাক্তির আলোচনা করেছেন। যিনি তোমাদের অস্তিত্বের কারণ হয়েছেন, তোমাদের প্রতি যার অপার অনুগ্রহ এবং যাকে ভালোবাসা তোমাদের ঈমানেরজন্য শর্ত করা হয়েছে। তিনি হলেন তোমাদের রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তার অবস্থানের কথাও স্পষ্ট করেছেন। এই বাক্য দ্বারা তিনি বলেন-
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ (১০৭)
আর আমি আপনাকে পুরো পৃথিবীর রহমত বানিয়ে পাঠিয়েছি।
তোমাদের প্রতিপালক যেমন বিশ^ময় তোমাদের রাসূলও বিশ^ময় রাসূল। তাকে শুধু তোমাদের জন্য, মুসলমানদের জন্য, মানুষদের জন্য, শুধু এই ভূমির জন্য নয়, বরং সারা বিশে^র জন্য রহমত বানিয়ে পাঠিয়েছেন। যেমন ভাবে তোমাদের রব বিশ^ময় তোমাদের রাসূলও তেমন বিশ^ময়। আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পর যেই নিয়মকে চির জীবনের জন্য আল্লাহ এবং তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শের আলোকে, সন্তুষ্ট হওয়ার সম্মানে, রমজানের আনন্দ لَيْلَةِ الْقَدْرِ ‘কদরের রাত’ আমাদেরকে দান করেছেন। তার কালামের শান শুনে নাওÑ
تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا (১)
ঐ সত্তা বড় বরকতময় যিনি তার বান্দার উপর কুরআন অবতির্ণ করেছেন, যাতে এর মাধ্যমে বিশে^র সমস্ত মানুষকে ভীতি প্রদর্শন করে।
হুশিয়ার ও সতর্ক করে দেওয়া যে, এই কুরআনের অবতির্ণ করার সম্মানে তোমাদেরকে রমজানের মতো পবিত্র ও মহান মাস দান করেছেন। এই কুরআন শুধু তোমাদের জন্য নয়, শুধু মুসলমানদের জন্য নয়। শুধু এই দুনিয়াতে অবস্থান কারীদের জন্য হেদায়াত নামা নয়, বরং টার্গেট সারা পৃথিবীর হেদায়াত।
আহকামুল হাকিমিনের ঘর যাকে কুরআন ঐক্যের নিদর্শন বলেছে। আল্লাহ যার নাম রেখেছেন বাইতুল্লাহ তার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেনÑ
إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ.
প্রথম ঘর যা বানানো হয়েছে সেটিও মানুষের জন্য। যা মক্কায় অবস্থানরত। যা বরকতময় ও সারা পৃথিবীর জন্য হেদাযাত।
এমনি ভাবে কুরআনের ঐ আয়াতগুলো যা শক্তিশালি করে, যে, কুরআনের এই পয়গাম যা, একজন কুরআনী মুমিনকে শুধু বিশ^ময় চিন্তাবিদ ও তার বাহক হওয়াই যাথেষ্ঠ নয়। বরং বিশ^ময় চিন্তা-ফিকিরের বাহকই কুরআনী মুমিন হতে পারবে। কারন তোমাদের প্রভু সারা বিশে^র জন্য তোমাদের রাসূল সারা বিশে^র জন্য। তোমাদের কুরান সারা বিশে^র জন্য। তোমাদের কা‘বা সারা বিশে^র জন্য। এই জন্য সারা বিশে^র প্রতিপালকের বান্দা হয়ে তার উপর ঈমান আনয়নকারী, বিশ^ময় রাসূলকে আদর্শ বনিয়ে জীবন যাপনকারী এবং বিশ^ময় পবিত্র বার্তা যাকে নিজেরা আপন করে, ইসলামী এবং কুরআনী নিদর্শন, ঐক্যের নিদের্শন, যাকে মনে করা হয় সেই ঐক্যের কেন্দ্র কা‘বার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে মুমিনের চিন্তাধারাও বিশ^ময় হওয়া উচিৎ। শুধু নিজের সত্বার জন্য জীবীত থাকা। শুধু মুসলমানদের জন্য জীবীত থাকা। বংশের জন্য জীবীত থাকা শুধু এই ভুমির জন্য জীবীত থাকা, শুধু এই বিশ^কে টার্গেট করে জীবন যাপন করা হল সঙ্কীর্ণ দৃষ্টির পরিচয়, সে কুরআনী মুমীন হতে পারে না। এই আয়াতগুলো পড়ার পর বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণকে সম্মান করতে মন চায়, কারণ তারা বলেছেন এই পৃথিবী ছাড়া আরো গ্রহ আছে যেখানে মানুষের বিচরণ সম্ভব। এই কথার উপর বিশ^াস হয় যে, এই মুসলিম জাতীর মানুষদেরকে অবশ্যই অবশ্যই কুরআনী বার্তা নিয়ে আসন্ন গ্রহে যাওয়ার সুযোগ হবে। এই আয়াতগুলো পড়ার পর দুরুদে ইব্রাহীমের ঐ সীগার অর্থ বুঝে আসে। যার ব্যাপারে অধিকাংশ মুহাদ্দিসিনদের রায় হল এটা অধিক বিশুদ্ধ, তা হলÑ
اللهم صل على محمد وعلى ال محمد كما صليت على ابراهيم وعلى ال ابراهيم انك حميدمجيد. اللهم بارك على محمد وعلى ال محمد كماباركت على ابراهيم وعلى ال ابراهيم فى العالمين انك حميد مجيد.
বিশ^ব্যাপী ফিকির কুরআনে কারীমের বিশ^ব্যাপী অবস্থানকে জানার পর এখানে (فِي الْعَالَمِينَ) এর অর্থ বুঝে এসেছে।
কুরআনে কারীমে সর্বপ্রথম বিশ^ব্যাপী বার্তা প্রদানকারী আয়াতের পর আল্লাহ তা‘আলা الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ এর গুনের কথা স্বীকার করেছেন এবং বার বার مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ এর পর একথা স্বরণ করিয়েছেন, যে, আল্লাহ তাআলা যেহেতু পালনকর্তা, তিনিই যেহেতু জীবনদাতা। তাহলে ইবাদত বন্দেগীর এবং আনুগত্বের উপযুক্ত একমাত্র আপনার সত্বাই। বার বার এই ঘোষণা দেওয়া হয়, এরপর আপনার কাছে আবেদন পেশ করি, যা যা চাওয়ার তা চায় যে, আমার সকল সমস্যার সমাধান শুধু আপনিই করতে পারেন। আপনিই আমার প্রার্থনা শুনতে পারেন। এই জন্য আমার জীবনকে ‘সীরাতে মুস্তাকিম’ সঠিক পথ দান করুন। সেটাই যে সঠিক পথ, যাদেরকে আপনি নেয়ামত দান করেছেন এবং ঐ পথ থেকে বাঁচান যারা পথভ্রষ্ট অথবা আপনি তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট।
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ কেমন জানি এটা কুরআনের বিষয়বস্তু।
উলামায়ে কেরাম বলেন প্রতিটি বইয়ের একটি বিষয়বস্তু থাকে, আর কুরআনের বিষয়বস্তু হলো اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ
এই সীরাতে মুস্তাকিমের উপর তারাই চলে, যাদের প্রতি আল্লাহ রাজি ও সন্তুষ্ট। আর যাকে দান করার সিদ্ধান্ত নেন, তারাই এই সিরাতে মুস্তাকিম থেকে বঞ্চিত থাকে। যারা মন চাহি পদ্ধতিতে উপাসনা করতে চায়, অথবা আল্লাহ তা‘আলা যাদের উপর তার আমলের কারণে অসন্তুষ্ট হন।
কুরআনের শুরু এই পবিত্র সুরা দ্বারা হয়েছে, যাকে সুরা ফাতেহা বলা হয়।
যা শেষ করেছে সুরা নাস দ্বারা। যার মধ্যে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদেরকে দু‘আ ও আবেদন শিখিয়েছেন। বান্দা যদি আল্লাহর আনুগত্ব করে। তার জন্য রেখেছেন প্রতিদান। আর এই নেয়ামত পাওয়ার মধ্যে সবচেয়ে বাধা হল, মানুষের জানি দুশমন শয়তান। যার চাল ও ধোঁকা থেকে একমাত্র আল্লাহই মানুষকে বাঁচাতে পারেন। এই জন্য কোরানের শেষ সুরাতে বান্দাদের শিক্ষা দেয়া হয়েছে। এই দুআ- সুরা নাসের মধ্যেও আল্লাহ তাআলা-رب الناس , ملك الناس,اله الناس.- -মানুষের মালিক, সব মানুষের প্রভু বলে স্বরণ করিয়েছেন। খারাপ মানুষ ও শয়তান থেকে বাঁচার জন্য নির্দেশ করেছেন।
এমনিভাবে কোরানের শুরু ও শেষ সুরার মধ্যে এই বার্তা দিচ্ছেন। আল্লাহ তা‘আলা কুরআনকে মুমিনের দু‘আ বনানো পছন্দ করেন। এমনিভাবে রমজান যাকে আল্লাহ তা‘আলা কুরআনী জ্ঞান ও কুরআনী বার্তা হলো এই যে, মানুষ সারা বিশ^কে টার্গেট বানিয়ে তার আনুগত্ব স্বীকার এবং সঠিক পথে নিয়ে আসার চেষ্টা করবে। যেই শয়তান মানুষকে বিভিন্ন ধোঁকা দিয়ে চিরস্থায়ী জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাস্ত। সেই বান্দাদের বাঁচানোর ফিকির করবে।
وَفِي ذَلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ
অনুগামীরাই আগে যাবে।

মূল হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী
অনুবাদ. যুবায়ের আহমদ