খ্রিস্টান-মুসলিম সংলাপ

বই পরিচিতিঃ খ্রিস্টান-মুসলিম সংলাপ (বিষয়- প্রতিশ্র“ত নবী কি যীশু, না মুহাম্মাদ?)
ভুমিকাঃ
ইয়াহুদী, খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, অগ্নিপূজক, মূর্তিপূজক প্রভৃতি অমুসলমান সম্প্রদায়ও দাবী করেন যে, ধর্মকর্ম পালন করলে যদি বেহেশতে যাওয়া যায় তবে তো আমরাও বেহেশতে যাব। কারণ, আমরাও ধর্ম পালন করি।
তাদের মতে তাদের এ দাবী যুক্তিপূর্ণ। কারণ, প্রত্যেক জাতি বা সম্প্রদায়ই মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে যে, তাদের ধর্মই সত্য। আসলে আল্লাহর নিকট জাতিগত বা বংশগত আভিজাত্যের কোন দাম নেই। তাঁর কাছে জন্মগতভাবে ইয়াহুদী-খ্রিস্টান, হিন্দু-বৌদ্ধ ও মুসলমান সকলেই সমান, তিনিই তাদের সকলকে সৃষ্টি করেছেন। মুসলমানের ঘরে জন্ম গ্রহণ করেও আল্লাহপাকের শক্র হতে পারে, পক্ষান্তরে অ-মুসলমানের ঘরে জন্ম গ্রহণ করেও ঈমান এনে, সৎকর্ম করে তাঁর বন্ধু হতে পারে (কুর‘আন ২:৬২ দ্রষ্টব্য)। যে আল্লাহর বিধান অর্থাৎ সত্য ধর্ম মেনে চলবে, আল্লাহতাকে পুরুষ্কার দিবেন (কুর‘আন ১৬:৯৭)।
পক্ষান্তরে যে অবাধ্য হবে সে শাস্তি পাবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে: এই সত্যধর্ম কোনটি? জান্নাতে কে যাবে? অমুসলমান বিশেষ করে ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানগণ দাবী করে যে.. ইয়াহুদী অথবা খ্রিস্টান ব্যতীত কেউ জান্নাতে যাবে না (কুর‘আন ২:১১১)।
আল্লাহপাক নির্দেশ দিলেন, [হে আমার নবী!] আপনি বলে দিন, তোমরা সত্যবাদী হলে, প্রমাণ উপস্থিত কর।…….(কুর‘আন ২:১১২)।
ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানগণ মাঝে-মধ্যেই ইসলাম, মুসলিম ও মহানবীকে আক্রমন করে লিখে থাকে। আল্লাহও কুর‘আনের সমালোচনা করে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক থেকে বায়ো রবার্ট; থিওডোর, আলাবামা থেকে প্যাট্রিসিয়া রীড, ফিলিপাইন থেকে ঈসা আল মাসীহ; আটলানটা, জর্জিয়া থেকে যোসেফিন যোহন, বৃটেন থেকে ব্রীয়ান হারকীন মহান আল্লাহ , কুর‘আন, ইসলাম, মুসলিম ও মহা নবী  -এর বিরুদ্ধে এত লেখা লিখে থাকে যা চোখে পড়ার মত। আমি তাদেরকে লিখেছি-“তোমরা সত্যবাদী হলে”, তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর। কুর‘আন, হাদীস ও বাইবেল থেকে প্রমাণ দিয়ে আমি তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করেছি।
আমি তাদেরকে চারটি প্রস্তাবের মধ্যে যে কোন একটি প্রস্তাব গ্রহণ করার সুযোগ দিলাম, বললাম: আপনারা নিজেদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ, তাঁরই নবী মুহাম্মাদ , তাঁর বাণী-কুর‘আন ও মুসলমানদের মর্যাদা হানি করে যে সকল অমার্জনীয় মন্তব্য করেছেন সে জন্য আপনারা-
১) হয় প্রামাণিক গ্রন্থ থেকে সুস্পষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে আপনাদের
অভিযোগগুলো প্রমাণ করুন, অথবা
২) কুর‘আনের চ্যালেঞ্জের মুকাবেলা করুন।
৩) অথবা ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
অন্যথায় উপযুক্ত স্থানে আপনাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। ফেসবুকের তিন-চার হাজার সদস্য এ চ্যালেঞ্জ পর্যবেক্ষণ করছেন, জবাব না দিলে আপনাদের মান-ইজ্জত কোথায় থাকবে? রীড ক্ষমা চেয়েছেন, বায়ো, ঈসা আল মাছিহ, ব্রিয়ান হারকিন চুপচাপ বসে আছেন আর অন্যরা ফেসবুকে আমার ওয়াল থেকে নিজেদের নামই মুছে ফেলেছে। যোসেফিন যোহন তর্কে হেরে গিয়ে আমার ওয়ালে লেটার পোষ্ট করাই বন্ধ করে দিয়েছেন।
আমি বিভিন্ন সময় খ্রিস্টান পাদরীদের সঙ্গে মৌখিক বিতর্ক করেছি, ফেসবুকে বিভিন্ন দেশের খ্রিস্টান পাদরীদের সঙ্গে কলমের মাধ্যমে যুদ্ধ করেছি। কেউ আমার যুুক্তি মেনে নিয়েছেন, কেউ ক্ষমা চেয়েছেন, কেউ পলায়ন করেছেন; আলহামদু লিল−াহ, কেউ বিতর্ক চালিয়ে যেতে পারেননি। এ বইটি আমার সেই সকল বিতর্কের ফসল। ইংরেজী থেকে বাংলায় অনুবাদ করে দিয়েছি। বইটির কলেবর বৃদ্ধি হওয়ার আশঙ্কায় মূল ইংরেজী টেক্সট দেইনি, শুধু অনুবাদগুলো দিয়েছি। তবে যে সমস্ত ইংরেজী টেক্সটের ভুল অনুবাদ ও অপব্যাখ্যা করা হয়েছে আমি সেগুলোর মূল ইংরেজী টেক্সস্ট টাইপ করে দিয়েছি এবং এর ব্যাখ্যা-বিশে−ষণ জুড়ে দিয়েছি।
তবে প্যাট্রিসিয়া রীড বিশেষ করে ব্রিয়ান হারকিন এমন অশ্লীল ও জঘন্য ভাষায় আমাদের প্রিয় নবীকে গালি দিয়েছে যা ক্ষমার অযোগ্য, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না বিধায় এ বইতে সেগুলো উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলাম।
আল্লাহ্  বলছেন:
الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ
وَإِنَّ فَرِيقًا مِنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ.
আমি যাদেরকে কিতাব দান করেছি [ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানরা] তারা আমার নবীকে এরূপভাবে চিনে যেরূপ তারা তাদের আপন পুত্রগণকে চিনে, কিন্তু তাদের কেউ কেউ জেনে শুনে সত্যকে গোপন করে (কুর‘আন ২:১৪৬)।
আল্লাহ  অন্য আয়াতে বলছেন:
الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ
مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ
যারা এমন নবীর অনুসরণ করে যিনি নিরক্ষর, পড়তে পারেন না, লিখতেও জানেন না, যার সম্মন্ধে ইয়াহুদী-খ্রিস্টানগণ নিজেদের কাছে রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লেখা দেখতে পায় (কুর‘আন৭:১৫৭)।
তাওরাত-ইঞ্জিলে বর্ণিত রসূলের সুসংবাদ, প্রকৃত লক্ষণ এবং নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে ইয়াহুদী-খ্রিস্টানগণ প্রিয় নবীকে চিনে। বৃটেন, ক্যানাডা এবং আমেরিকার ইয়াহুদী-খ্রিস্টান পন্ডিতগণ মিলে বৃট্যানিকা বিশ্বকোষে লিখেছেন।
গঁযধসসধফ সধৎপযবফ ড়হ গবপপধ রহ ঔধহঁধৎু ৬৩০ অ.ঈ. রিঃয ১০,০০০ সবহ. গঁযধসসধফ ঢ়ৎড়সরংবফ ধ মবহবৎধষ ধসহবংঃু ৃৃৃৃঞড়ি গঁংষরসং ধহফ ২৮ ড়ভ ঃযব বহবসু বিৎব শরষষবফ. অ ংপড়ৎব ড়ভ ঢ়বৎংড়হং বিৎব ংঢ়বপরধষষু বীপষঁফবফ ভৎড়স ঃযব ধসহবংঃু, নঁঃ ংড়সব বিৎব ষধঃবৎ ঢ়ধৎফড়হবফ
মুহাম্মাদ  ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে, জানুয়ারী মাসে দশ হাজার সৈন্য নিয়ে মদিনা থেকে যাত্রা করলেন এবং মক্কা বিজয় করলেন। মুহাম্মাদ  সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলেন। ……………..দুইজন মুসলমান শহীদ হলেন এবং ২৮ জন শক্র সেনা নিহত হল। (নতুন বৃট্যানিকা বিশ্বকোষ, ১৫ই সংকলন, মুহাম্মাদ  প্রসঙ্গ দ্রষ্টব্য)।
দশ হাজার সৈন্য নিয়ে যিনি এলেন তাঁর সম্বন্ধে খ্রিস্টানদের বাইবেলে দুই স্থানে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে (ক) প্রথম স্থানে মূসা  বলেছেন, (খ) দ্বিতীয় স্থানে সুলাইমান বলেছেন।
(ক) মূসা  বলেছেন: ………ঞযব খড়ৎফ পধসব ভৎড়স ঝরহধর, ধহফ ৎড়ংব ঁঢ় ভৎড়স ঝবরৎ ঁহঃড় ঃযবস; যব ংযরহবফ ভড়ৎঃয ভৎড়স সড়ঁহঃ চধৎধহ, ধহফ যব পধসব রিঃয ঃবহ ঃযড়ঁংধহফ ড়ভ ংধরহঃং : ভৎড়স যরং ৎরমযঃ যধহফ বিহঃ ধ ভরবৎু ষধি ভড়ৎ ঃযবস (উবঁঃ: ৩৩ : ২) .

মূসা  মৃত্যুর পূর্বে ইস্রায়েল-সন্তানগণকে নিম্নরূপে আশীর্বাদ করলেন:
সদাপ্রভু সীনয় থেকে আসলেন, সেয়ীর থেকে তাদের প্রতি উদিত হলেন; পারণ পর্বত থেকে আপন তেজ প্রকাশ করলেন, অযুত অযুত পবিত্রের নিকট থেকে এলেন তাদের জন্য তাঁর দক্ষিণ হস্তে অগ্নিময় ব্যবস্থা ছিল (দ্বিতীয় বিবরণ ৩৩:২)।
উপরের ইংরেজী উদ্ধৃতিতে মহানবী মুহাম্মাদ -এর আগমন সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে। অথচ বাংলা অনুবাদে কারসাজি দেখুন, খ্রিস্টান অনুবাদকারীগণ কতবড় ধোকাবাজ,-মহানবীকে মানুষ যাতে চিনতে না পারে তার জন্য তিনটা মিথ্যা কথা বলা হয়েছে:
১) ঃবহ ঃযড়ঁংধহফ -এর মিথ্যা অনুবাদ করা হয়েছে অযুত অযুত,
২) ‘অযুত অযুত পবিত্র কে সঙ্গে নিয়ে এলেন-বললেও একটি অর্থ হত, তা না বলে বলা হয়েছে- অযুত অযুত পবিত্রের নিকট থেকে একা বের হয়ে এলেন।
৩) তৃতীয় মিথ্যা বলা হয়েছে উর্ধ বাইবেলে এবং বাইবেলের অধুনা বাংলা অনুবাদে: সেখানে ঃবহ ঃযড়ঁংধহফ -এর মিথ্যা অনুবাদ করা হয়েছে “লক্ষ”।
(খ) সুলায়মান  বলেছেন: আমার প্রিয়তম শ্বেত ও রক্তবর্ণ; তিনি দশ সহস্রের মধ্যে অগ্রগণ্য (পতাকা দ্বারা চিহ্নি‎ত)।…… তাঁর কথা অতীব মধুর; হাঁ, তিনি [মুহাম্মাদ] সর্বতোভাবে মনোহর। অয়ি জেরুজালেমের কন্যাগণ! এই আমার প্রিয়, এই আমার সখা (পরমগীত ৫:১০,১৬, বিুস্তরিত জানার জন্য ১৪৭ পৃষ্ঠায় দেখুন)।
‘তিনি সর্বতোভাবে মনোহর’ হিব্র“ বাইবেলে লেখা আছে-দঠরশঁষষড় গঁযধসসধফরস’ যার সঠিক বঙ্গানুবাদ হচ্ছে- ‘তিনি সম্মানীত মুহাম্মাদ’। নামবাচক বিশেষ্য দগঁযধসসধফ’-এর অনুবাদ হয় না। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীগণ দগঁযধসসধফ’ শব্দের মিথ্যা অনুবাদ করেছে- তিনি সর্বতোভাবে মনোহর।
যা হোক, আল্লাহ  বলছেন:
স্মরণ করুন, ঐ সময়ের কথা, যখন মরিয়ম-পুত্র ঈসা  বললেন: হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রসূল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের আমি সত্যায়নকারী এবং আমি এমন একজন রসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আগমন করবেন, যার নাম আহমাদ [মুহাম্মাদ]।
অতঃপর যখন তিনি স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আগমন করলেন, তখন তারা বলল: ‘এ তো এক প্রকাশ্য যাদু’। তার চাইতে অধিক যালেম আর কে, যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলে অথচ তাকে ইসলামের প্রতিই আহ্বান করা হচ্ছে? আল্লাহ(এ রকম) যালেম সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না (কুর‘আন ৬১:৬-৭)।
ব্যাখ্যা: উপরের আয়াতে বলা হয়েছে, ঈসা  প্রধানত: দু’টি মহান উদ্দেশ্য নিয়ে দুনিয়াতে এসেছিলেন, তার মধ্যে একটি হলো: তাঁর পূর্ববর্তী কিতাব তাওরাতের সত্যায়ন করা, দ্বিতীয়টি: তাঁর পরে আগমনকারী একজন রসূলের [মুহাম্মাদের]  -এর আগমনের শুভসংবাদ দেয়া।
বাইবেল পরিবর্তিত হওয়া সত্ত্বেও এর মধ্যে ঈসা -এর এ মিশন (কাজ) দুটির উল্লেখ আছে। প্রথম মিশনটি সম্বন্ধে, ঈসা  বললেন:
এ কথা মনে করো না যে. আমি মূসার শরীয়ত [তাওরাত] আর নবীদের লেখা [সহীফা] বাতিল করতে এসেছি। আমি সেগুলো বাতিল করতে আসিনি বরং পূর্ণ করতে এসেছি। আমি তোমাদের সত্যই বলছি, আসমান ও যমীন শেষ না হওয়া পর্যন্ত, যতদিন না শরীয়তের সমস্ত কথা সফল হয়, ততদিন সেই শরীয়তের এক বিন্দু কি একমাত্রা মুছে যাবে না। তাই [শরীয়তের] হুকুম-গুলোর মধ্যে ছোট একটি হুকুমও যে কেউ অমান্য করে এবং লোককে তা অমান্য করতে শিক্ষা দেয়, তাকে বেহেস্তী রাজ্যে সবচেয়ে ছোট বলা হবে (ইঞ্জিল শরীফ, মথি ৫:১৭)।
ঈসা -এর দ্বিতীয় মিশনটির প্রমাণ: অত্র পুুস্তকে লেখা ১ নং বৈশিষ্ট্য থেকে ১৪ নং বৈশিষ্ট্য পর্যন্ত দেখা যেতে পারে। কিন্তু দু®কৃতিকারীগণ ঈসা -এর মিশনকে বিভিন্নভাবে গোপন করতে চায়। আল্লাহ  বলছেন:
يُرِيْدُوْنَ لِيُطْفِئُوْا نُوْرَ اللٰهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللّٰهُ مُتِمُّ نُوْرِه وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُوْنَ
তারা [অবিশ্বাসীরা] মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহর আলো নিভিয়ে দিতে চায়। আল্লাহ  তাঁর আলোকে পূর্ণরূপে বিকশিত করবেন যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে (কুর‘আন ৬১:৮)।
মুখের ফুঁৎকার কী? মিথ্যা অনুবাদ করা, ইসলাম, মুসলিম ও মুসলমানদের নবী সম্বন্ধে অপবাদ দেয়া, অপপ্রচার করা, মিথ্যা প্রচার ও প্রপ্যাগ্যাণ্ডা চালানো। কীভাবে? তাদের পৃথিবী জোড়া শক্তিশালী প্রচার মাধ্যমগুলোকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে। পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে, রেডিও-টেলিভিশনের সাহায্যে, বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে তারা তাদের মিথ্যা প্রচার মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। এভাবে অমুসলমানদের মনে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষের আগুন জ্বালিয়ে দেয়, মুসলমানদের অন্তরে সন্দেহ ঢুকিয়ে দেয়, তাদেরকে শক্তিহীন করে, ভীত করে। এ ভাবে ইসলামের বাতি নিভিয়ে দিতে চায় ও মুসলমানদের ধ্বংস করতে চায়। কিন্তু আল্লাহ প্রতিজ্ঞা করেছেন: তিনি তাঁর আলোকে পূর্ণরূপে বিকশিত করবেন, প্রত্যেক ঘরে ঘরে পৌঁছে দিবেন।
নিজেরা ৯/১১ -এ টুয়িন টাওয়ার ধ্বংস করে ইসলামের ক্ষতি করতে চেয়েছিল, কিন্তু পারেনি। ইসলামেরই লাভ হয়েছে। আগের বছর প্রাশ্চাত্য জগতে ষাট হাজার অমুসলমান ইসলাম কবুল করেছিল; টুয়িন টাওয়ার ধ্বংসের পরের বছর এক লক্ষ ষোল হাজার লোক ইসলাম কবুল করল। বাবরী মসজিদ ধ্বংস করার ক্ষেত্রে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিল বলবীর সিং ও যোগীন্দর ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম। এক অলৌকিক কারণে তারা ইসলাম কবুল করলেন, তাদের বর্তমান নাম উমার ও আমের। তারা তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ মসজিদ নির্মাণ করার প্রতিজ্ঞা করলেন। এ যাবৎ বিশটিরও বেশী মসজিদ নির্মাণ করেছেন, প্রতিজ্ঞা করেছেন আমরণ করতেই থাকবেন। শুধু কি তাই? তাদের হাতে অনেকেই ইসলাম কবুল করে ধন্য হয়েছেন। দুনিয়াতে প্রতি চব্বিশ ঘন্টায় গড়ে ৬৮ হাজার লোক ইসলাম কবুল করে ধন্য হচ্ছে। এভাবে ইসলাম প্রত্যেক কাঁচা-পাকা ঘরে পৌঁছে যাবে। প্রিয় নবী বলেছেন:
لَا يَتْرُكُ اللهُ بَيْتًا مَدَرٍ وَلَا وَبَرٍ إلَّا دَخَلَهُ هَذَا الدِّيْنُ (رواه أحمد)
হাদীসের সারমর্ম হচ্ছে; কিয়ামতের পূর্বে প্রত্যেক কাঁচা-পাকা ঘরে ইসলাম পৌঁছে যাবে।
ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে বাইবেলে উল্লেখিত মূসা  ও ঈসা -এর সঠিক শিক্ষাগুলোর কোন বিরোধ নেই বরং তা কুর‘আনিক আয়াতগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আরো সংক্ষেপে বলা যায়, বাইবেলে উল্লেখিত মূসা  ও ঈসা -এর সঠিক শিক্ষার সঙ্গে মুহাম্মাদ -এর দেয়া শিক্ষার মিল রয়েছে হুবহু। ইসলাম সকল নবীর ধর্ম (কুর‘আন ৪২:১৩ দ্রষ্টব্য)। পক্ষান্তরে পৌলের ১৪ খানা পুস্তিকার শিক্ষা মূসা  ও ঈসা -এর সঠিক শিক্ষাগুলোর সম্পূর্ণ বিপরীত (২০৪ পৃষ্ঠায় ছক নং ১১ দেখুন)। বাইবেলে উল্লেখিত মূসা  ও ঈসা -এর সঠিক শিক্ষাগুলো প্রিয় নবীর দেয়া শিক্ষার পাশাপাশি রেখে আমি বিভিন্ন সময় খ্রিস্টানদের সঙ্গে বিতর্ক করেছি। প্রসঙ্গের সাথে মিল থাকা বিতর্কগুলো আমি এই পুুস্তকের মধ্যে তুলে ধরেছি যাতে পথভ্রষ্ট মানুষগুলো সত্য শিক্ষা খুঁজে বের করে সঠিক পথ প্রাপ্ত হতে পারে।
১) রসূল  বলেছেন: নিশ্চয়ই ইসলাম নও মুসলিমের পূর্ববর্তী সমস্ত পাপ ধুয়ে ফেলে (মুসলিম শরীফ,কিতাবুল ঈমান)।
আবু মুসা আল আশআরী  থেকে বর্ণিত আছে, রসূল  বলেছেন:
যে ব্যক্তি পূর্বে ঈসা -এর উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, অতঃপর আমার উপর ঈমান আনল, সে দ্বিগুণ পুরস্কার পাবে (বুখারী শরীফ, কিতাবুল আম্বিয়া, অধ্যায়-৪৩)।
আল্লাহ  বনী ইস্রাঈলকে বলছেন: যারা ঈমান এনেছ শুন, আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর রসূল -এর উপর বিশ্বাস স্থাপন কর। তিনি তোমাদেরকে দ্বিগুণ পুরস্কার দিবেন (কুর‘আন ৫৭:২৪; ২৪:৫২-৫৪)।
আল্লাহ  বলছেন: আর যদি এরা [ইয়াহুদী-খ্রিস্টানরা] তাওরাত- ঈঞ্জিল এবং যে কিতাব [ কুর‘আন] তাদের প্রতিপালকের তরফ থেকে তাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছে তার যথারীতি আমলকারী হত, তবে তারা উপর ও নিম্ন হতে প্রাচুর্যের সহিত ভক্ষণ করত, এদের একদল সরল পথের পথিক। আর এদের অধিকাংশ এরূপ যে, তাদের কার্যকলাপ অতি জঘন্য (কুর‘আন ৫:৬৬,আরো দেখুন ৩:১১০-১১১)।
ইয়াহুদী-খ্রিস্টানদের মধ্যে সকলেই অন্ধ বিশ্বাসী নয়। তাদের মধ্যে অনেকেই ভাল আছেন। প্রকৃত পক্ষে সরল, নিরপেক্ষ ও অকপট ইয়াহুদী-খ্রিস্টানগণ বাইবেলে বেছে বেছে ঈসা-মূসা -এর দেয়া প্রকৃত শিক্ষা অনুসরণ করায় আগ্রহী। তারা তাদের ধর্মগ্রন্থে নতুন আমদানি ত্রিত্ববাদ, যীশুর দেবত্ব, পাপের প্রায়শ্চিত্য, খাৎনা না করান ইত্যাদি মানতে চায় না। যিনা করা, মদ পান করা প্রভৃতি অসৎ কর্ম অপছন্দ করে। সৌভাগ্যবশত: বাইবেলে শেষ নবীর আবির্ভাবের শুভ সংবাদ যখন তারা অবগত হয়, তখন অবিলম্বে তারা তাঁর উপর ঈমান আনে এবং তাঁর যথাযথ অনুসরণ করে।
কুর‘আন উপরের ৫:৬৬ আয়াতে এদেরকে সরল পথের পথিক বলেছে। ইসলামের প্রাথমিক যুগে আবিসিনিয়ার সম্রাট নাজ্জাশী এবং মদিনার অধিবাসী আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম -এর কথা বিশেষভাবে উলে−খযোগ্য। পূর্বে নাজ্জাশী ছিলেন একজন খ্রিস্টান আর আব্দুল্লাহ ইয়াহুদী। সরল, নিরপেক্ষ ও অকপট ইয়াহুদী-খ্রিস্টানদের মধ্য থেকে পরবর্তী যুগে বাদশাহ নাজ্জাশী ও আব্দুল্লাহ ইবনে সালামের পদাংক অনুসরণকারীদের অভাব নেই। উল্লিখিত আয়াতে অমুসলমানদের যে দলটি সরল পথের পথিক হতে আগ্রহী, ন্যায়-পরায়ণ ও নিরপেক্ষ তাদের সমীপেই আমি আমার এ পুুস্তকটি পেশ করছি।
আমি আমাদের অমুসলিম প্রতিবেশীদের কাছে নবীদের সঠিক বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। এটা আমাদের উপর আল্লাহ কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব। আমি তাদের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় বাক-বিতন্ডা করে গোলমাল বাধাতে চাই না, অথবা তিক্ততা বা উত্তেজনার উদ্রেক করাও আমার উদ্দেশ্য নয়। আমি শুধু তাদেরকে সত্যের অনুসন্ধান করা, শান্তি ও মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে প্রীতিকর ও বন্ধুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান করার আমন্ত্রণ জানাই। আপনারা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করে দেখুন-ঈসা  যাঁর ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন তিান কি পাকরূহ্ ,না মুহাম্মাদ ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বর্তমানে আমরা একটি ভয়াবহ সংকট অতিক্রম করছি। ইসলাম বিরোধী প্রচারণা এবং খ্রিস্টান মিশনারীদের সক্রিয় প্রচার আমাদেরকে একটা ধর্মীয় ঝুঁকির মধ্যে নিয়ে এসেছে। বিশেষত: তরুণ সমাজকে বর্তমানে ইসলাম বিদ্বেষীরূপে অবতীর্ণ হতে দেখা যায়।
একটা দৃষ্টান্ত দেই: পূর্ব তিমুর ছিল ইন্দোনেশিয়ার একটি প্রদেশ। সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম দেশ পূর্ব তিমুর খ্রিস্টান মিশনারীদের একটা সফল প্রজেক্ট, ২০০৫ সনের মধ্যে সংখ্যা গরিষ্ঠ খ্রিস্টান রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করা হয়। ২০০৫ সনে পাশ্চাত্যের সহযোগিতায় ইন্দোনেশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং স্বাধীন খ্রিস্টান রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। পূর্ব তিমুরের মত বাংলাদেশও খ্রিস্টান মিশনারীদের আর একটা প্রজেক্ট, তারা ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের শতকরা ৫০ ভাগ মানুষকে ধর্মান্তরিত করার যে টার্গেট করেছে তার বিরুদ্ধে এক্ষুণি আমাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন ইসলাম সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করা- যা একটি ঢাল হিসাবে কাজ করতে পারে। আশা করি আমার এই লেখা খ্রিস্টানদের স্বরূপ এবং তাদের ধর্মের অসারতা কিছুটা হলেও প্রমাণ করবে।
আমি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি অধ্যাপক ডক্টর কাজী মঞ্জুরুল হক সাহেবের, যিনি বইটির প্র“ফ দেখে দিয়েছেন এবং এই কাজ সম্পূর্ণ করতে আমাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। আমি আরো কৃতজ্ঞ অধ্যাপক ডক্টর আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেবের যিনি গ্রন্থখানি সম্বন্ধে তাঁর অভিমত দান করে আমাকে প্রেরণা যুগিয়েছেন। আল্লাহ এ মহতী উদ্যোগের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযোগ্য প্রতিফল দান করুন।
আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে এ বলে প্রার্থনা করি যে, যারা নিরপেক্ষতা, সততা ও অকপটতার সাথে এ বই পাঠ করবেন, সত্য ধর্ম নিয়ে গবেষণা করবেন, তিনি যেন তাদেরকে নবীদের বাণী বুঝার তৌফিক দান করেন, সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
আল্লাহর প্রশংসা আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ পাকের জন্য। তিনিই আমাদের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা। তিনিই এ নিখিল বিশ্বের যাবতীয় প্রভূত্ব ও কর্তৃত্বের একচ্ছত্র মালিক। সকল শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক সকল নবী ও রসূলের উপর। আমীন, ছুম্মা আমীন।

গ্রন্থকার
শেখ মুহাম্মাদ আব্দুল হাই
মদিনা মুনাওয়ারাহ, ১লা মার্চ, ২০১৪

গ্রন্থকারঃ
শেখ মুহাম্মাদ আব্দুল হাই
বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী
সাবেক এসডিই, গণপূর্ত বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার,
ডিপ্লোমা ইন আরাবী, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, মদীনাহ্ মুনাওয়ারাহ্
শাখা প্রধান: সাধারণ কর্ম ও পরিদর্শন শাখা,
তাইবা ইউনিভার্সিটি, মদীনাহ্ মুনাওয়ারাহ, সউদী আরব।
(ইসলামের একজন খাদেম)
মোবাইল নং: ০৫০০৪৪২২৯৩

প্রকাশকালঃ
প্রথম প্রকাশ : রমাযান ১৪৩৪ হি. মোতাবেক জুলাই ২০১৩ ই.
দ্বিতীয় সংস্করণ: মহররম ১৪৩৬ হি. মোতাবেক নভেম্বর ২০১৪ইং

ডাউনলোডঃ
এখানে ক্লিক করুন! অনলাইনে পড়ুন