গ্রহীতার তুলনায় দাতা সর্বদায় উত্তম থাকে

গ্রহীতার তুলনায় দাতা সর্বদায় উত্তম থাকে
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম এর বাণী Ñ
اليد العليا خير من اليد السفلي
(উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম) দ্বারা একথা সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, দাতা যত মূল্যবান বস্তু দান করবে, সেই পরিমাণ সম্মানিত শ্রদ্ধেয় হবে। গ্রহীতার মধ্যে সেই পরিমাণ ধন্যবাদ প্রদানের উপলব্ধি হবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক ও ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক এবং শিক্ষণীয় সববিষয়। প্রতিটি মুসলমান একথা বিশ্বাস করেÑ ঈমান ও ইসলামের কাছে আসমান-জমিন, পুরো পৃথিবী মূল্যহীন। যিনি মুসলিম জাতিকে ইসলামের পূর্ণতার সম্পদ দান করেছেন এবং ইসলাম ধর্মকে পরিপূর্ণ নেয়ামত বলে ঘোষণা দিয়েছেনÑ
اَلْـيَـوْمَ أَكْـمَـلْـتُ لَـكُـمْ دِيْـنَـكُـمْ وَأَتْـمَـمْـتُ عَـلَـيْـكُـمْ نِـعْـمَـتِـيْ وَرَضِـيْـتُ لَـكُـمُ الْإِسْـلَامَ دِيْـنًـا
অর্থ: আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে নির্বাচন করলাম।
-সূরা আল- মায়েদা- ৩
হযরত মাওলানা শাহ্ আব্দুল গনী ফুলপুরী (রহ.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলতেন, আল্লাহ তায়ালা ইসলামকে ধর্ম বানিয়ে খুশি হয়েছেন। এটা কত বড় নেয়ামত যা দান করে বিশ্বের মালিক নিজেই খুশি হয়ে গেছেন। আবার এই ধর্মকে পরিপূর্ণ করে দিয়ে কেয়ামত পর্যন্ত মুসলিম জাতির মাথা উঁচু করে দিয়েছেন। সম্মান ও সৌভাগ্য, সম্পদ ও রাজত্ব দান করেছেন এবং এই জাতিকে দা‘য়ী জাতি বানিয়েছেন। আল্লাহর দিকে দাওয়াত তাদের প্রেরণের উদ্দেশ্য বানিয়েছেন। অর্থাৎ এই জাতিকে দেনেওয়ালা উম্মত বানিয়েছেন এবং বানিয়েছেন উত্তম হাতের প্রতীক। আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ
كُـنْـتُـمْ خَـيْـرَ أُمَّـةٍ أُخْـرِجَـتْ لِـلـنَّـاسِ تَـأْمُـرُوْنَ بِـالْـمَـعْـرُوْفِ وَتَـنْـهَـوْنَ عَـنِ الْـمُـنْـكَـرِ وَتُـؤْمِـنُـوْنَ بِاللّٰهِ وَلَـوْ آَمَـنَ أَهْـلُ الْـكِـتَـابِ لَـكَانَ خَـيْـرًا لَـهُـمْ مِـنْـهُـمُ الْـمُـؤْمِـنُـوْنَ وَأَكْـثَـرُهُـمُ الْـفَـاسِـقُـونَ (১১০)
অর্থ: তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আনবে। আর আহলে কিতাবরা যদি ঈমান আনতো, তাহলে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হতো। তাদের মধ্যে কিছু তো রয়েছে ঈমানদার আর অধিকাংশই হলো পাপাচারী। -সূরা-আলে-ইমরান-১১০
তোমার দ্বারা নেয়া হবে দুনিয়ার নেতৃত্বের কাজ
কুরআনের সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য ঘোষণাÑ সকল জাতির নেতৃত্ব তোমাদেরকে দেয়া হয়েছে। ইজ্জত ও মহত্বের মালিক তো তোমরা। সম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি তোমার পায়ে চুম্বন করবে। শান-শওকত মান-মর্যাদা তোমাদের দাস হয়ে আসবে। এজন্যই তোমাদের শ্রেষ্ঠত্ব, তোমাদের মহত্ব। তোমাদের (أُخْـرِجَـتْ لِـلـنَّاسِ ) মানুষের জন্য বের করা হয়েছে। উদ্দেশ্য মানুষকে দাওয়াত দেয়া। তোমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করা। এখানে আল্লাহর উপর ঈমান আনার কথা সবার পরে বলা হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি জিনিস আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার জন্য প্রথম শর্ত ঈমান। এখানে উত্তম হওয়ার কারণ, ঈমানের দাওয়াত। কারণ দুনিয়ার অনেক পূর্ববর্তী জাতি এই ঈমান গ্রহণ করেছে। কিšু— দাওয়াতের বৈশিষ্ট্য শুধু তোমাদেরই। এর সাথে কোনো অংশীদারিত্ব নেই। একথা বাস্তব যে, যতক্ষণ পর্যন্ত এই জাতি দাতা হয়ে থাকবে এবং দা‘য়ীজাতি হওয়ার দায়িত্ব পালন করবে, সম্মান-মর্যাদা শান-শওকত, রাজত্ব ও নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত তাদেরই থাকবে। আর যখন এই জাতি দা‘য়ী হওয়ার সম্মানিত মর্যাদাকে ছেড়ে দেয়, দা’য়ীর স্থানে ‘মাদউ’, (দাওয়াত গ্রহীতা) হয়ে যায়। তখন অন্যান্য জাতি তাদের উপর চেপে বসবে। আর সকল জাতি তোমাদেরকে মাদউ বানাতেই ব্যস্ত হয়ে পড়বে। ঠিক তখনই এই সম্মানিত জাতি লাঞ্ছনা-গঞ্জনা, অপমান-অপদস্ত, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, দাসত্ব ও পরাজয় শিকার করে দুনিয়ার সাধারণ সৃষ্ট জীবের মতো নগণ্য হয়ে যাবে। তখন এ কথা বলার সুযোগ থাকবে নাÑ হে প্রতিপালক কাল কেন আমার উপরে নিষ্ঠুর হয়ে গেলে…।

মূল হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা.বা.
অনুবাদ. যুবায়ের আহমদ