ডাক্তার আসমা আলী (কল্পনা)-এর সাক্ষাৎকার

প্রথম আবেদন হল, আমার পরিবারের হেদায়াতের জন্য দুআ করবেন। দ্বিতীয় আবেদন হল, ইসলাম কোনো সম্প্রদায় অথবা জাতির নাম নয় যে, গোজরের ঘরে জন্ম নিলে গোজর হবে। কৃষকের ঘরে হলে কৃষক হবে আর মুসলমানের ঘরে হলে মুসলমান। বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ ও বিধানাবলীকে নিজের জন্য কল্যাণকর মনে করে তার সামনে নিজেকে অর্পণ করা এবং তা পালন করার নাম ইসলাম। দাওয়াতকে জীবনের উদ্দেশ্য বানানোর পূর্বে এই অনুভূতি নসীব হতে পারে না।


আসমা আমাতুল্লাহ: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু।
ডাক্তার আসমা আলী: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু।
বোন আসমা! কেমন আছেন? কতদিন দিন ধরে আপানার কথা শুনে আসছি আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ তাআলা আজ সাক্ষাত করিয়ে দিলেন।

আসমা আমাতুল্লাহ: আমার কথা আপনি কোথায় শুনলেন?
ডাক্তার আসমা আলী: ডাক্তার আসিফের কাছে। তিনি হযরতের অত্যন্ত প্রিয় মুরীদ। তিনিই আমাকে বলেছেন, আপনি হযরতের কন্যা আসমার সঙ্গে সাক্ষাত করুন, আপনার দাওয়াতী কাজে অনেক উপকার হবে। খোদ আমাদের হযরত বলেছেন, আসমা আমাকে দাওয়াত শিখিয়েছে।

আসমা আমাতুল্লাহ: আসতাগফিরুল্লাহ ! আমার সঙ্গে সাক্ষাত করে আবার কারও উপকার হয়। আমিও কারও উপকার করতে পারি। আপনি দিল্লীতে কবে এসেছেন?
ডাক্তার আসমা আলী: আমরা এক সপ্তাহ হল দিল্লী এসেছি। সি.সি.আই. এমের পক্ষ থেকে একটি মেডিকেল ওয়ার্কশপ ছিল। আমার স্বামী ডাক্তার ইউসুফ আলী আর আমি দুজনে সেখানে অংশগ্রহণ করতে এসেছিলাম। ডাক্তার সাহেব হযরতকে ফোন করতে থাকেন কিন্তু হযরত ক্রমাগত সফর করে যাচ্ছিলেন। গতকাল তিনি রাজস্থানের সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করেছেন। আর আমরা আজ হাজির হয়েছি। আমার স্বামীর সঙ্গে তার দুজন অমুসলিম সঙ্গীও বাইরে আছেন।

আসমা আমাতুল্লাহ: আব্বাজী সম্ভবত আপনাকে বলে থাকবেন, আরমুগানের পক্ষ থেকে আপনার সঙ্গে আমি কিছু কথা বলবো?
ডাক্তার আসমা আলী: জী হ্যাঁ, তিনি বলেছেন, আমি এদের সঙ্গে বাইরে কথা বলছি ইতোমধ্যে আপনি আসমাকে ইন্টারভিউ দিয়ে আসেন। নভেম্বরে ছাপা হবে ইনশাআল্লাহ।

আসমা আমাতুল্লাহ: আপনার পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরুন!
আমার খুবই খুশী লাগছে। এই প্রথমবার আরমুগানের জন্য আমার নামের কোনো বোনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করছি।
ডাক্তার আসমা আলী: আমারও খুশী লাগছে। ডাক্তার আসিফ আমার নাম আপনার নামে এবং আপনারই কারণে রেখেছেন।

আসমা আমাতুল্লাহ: জী, আপনি আপনার খান্দানী পরিচয় দিচ্ছিলেন।
ডাক্তার আসমা আলী: রাজস্থানের গঙ্গানগরের এক জমিদার পরিবারে ৬ই জানুয়ারী ১৯৭৭ সালে আমার জন্ম। আমার দাদা রাজস্থানের বিজেপির এক বড় নেতা। রাজস্থান সরকারে তিনি কয়েকবার মন্ত্রীও ছিলেন। অধিকাংশ সময়ই এম.এল.এ. আর একবার এম.পি হয়েছিলেন। গত নির্বাচনেই প্রথমবারের মত পরাজিত হয়েছেন। আমার পিতাও শুরু থেকে দাদার সঙ্গে ছিলেন। তিনি এম.বি.বি.এস করেছিলেন। কিছুদিন প্রাকটিস করার পর রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তিনিও একবার এম.এল. এ হয়েছেন। পিতাজী আমার নাম রেখেছিলেন কল্পনা। আমার দুটি ভাই, একটি আমার চেয়ে বড় আরেকটি ছোট।
বায়োকেমিস্ট্রিতে দ্বাদশ শ্রেণীর এম.বি.বি এসের কয়েকটি ভর্তি পরীক্ষায়ও পাস করতে পারিনি। পিতাজী আমাকে আর্মেনিয়ায় এম.বি.বি.এসে ভর্তি করিয়ে দিলেন। সেখান থেকেই আমি এম.বি.বি.এস করি। আর ওখানেই ডাক্তার ইউসুফ আলীর সঙ্গে আমার বিবাহ হয়। সে বছরই আমি ইসলাম গ্রহণ করি। বর্তমানে আমরা হিমাচলের একটি হসপিটালে কর্মরত আছি।

আসমা আমাতুল্লাহ: আপনার ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে কিছু বলুন!
ডাক্তার আসমা আলী: আমি তখন আর্মেনিয়ায় অধ্যয়নরত। আমার ক্লাস ফেলো ডাক্তার ইউসুফ আলীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়ে যায়। তার পরিবার ছিল বেশ দ্বীনদার। আমার পরিবারও হিন্দুয়ানী রেওয়াজ-রসমে কট্টর। কিন্তু দেখা গেছে ছেলে-মেয়ে যতই প্রাচ্য মনোভাব এবং ধর্মীয় পরিবেশে প্রতিপালিত হোক বিদেশ বিভূইয়ে গিয়ে বংশীয় রেওয়াজ-নীতি বিলকুল বিম্মৃত হয়ে বসে। বরং বাস্তবতা হল, প্রাচ্য-মনোভাবাপন্ন লোকজন কেন যেন সেখানে গিয়ে ইউরোপীয়দের চেয়েও বেশী খোলামেলা হয়ে পশ্চিমা কালচারে গা ভাসিয়ে দেয়। আমাদের মধ্যেও এ ব্যাপারটি ঘটে যায়। আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিই, আমাদের বিবাহ করে নিতে হবে। আমাদের চিন্তাও আসেনি যে, আমরা সম্পূর্ণ বিপরতীমুখী দুটি ধর্ম ও চিন্তাধারার পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

আসমা আমাতুল্লাহ: আব্বু বলে থাকেন, এই ধারণা ভুল যে, হিন্দু ও ইসলাম দুটি বিপরীত ধর্ম। তিনি বলেন, আসলে হিন্দু ধর্ম যেটাকে পরিভাষায় সনাতন ধর্ম বলা হয় দ্বীনুল কায়্যিম ইসলামেরই পুরনো বরং প্রথম সংস্করণ। আর ইসলাম হল তার সর্বশেষ ও পরিপূর্ণ সংস্করণ। বেদ যদি আল্লাহ তাআলার বিধানাবলীর প্রথম সংস্করণ হয় তাহলে কুরআন তার চূড়ান্ত ও সর্বশেষ সংস্করণ। তবে সনাতন ধর্ম তার অনুসারীদের কর্মকান্ডেন্ড বিকৃতির শিকার হয়ে গেছে। দ্বীন-ধর্ম তো পৃথিবীতে সর্বদা একটাই ছিল এবং একটাই থাকবে। এক আল্লাহর আইন গোটা পৃথিবীতে একটাই হতে পারে, একাধিক নয়।
ডাক্তার আসমা আলী: কথা তো একেবারেই সত্য। তবে পৃথিবীতে এবং বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে তো হিন্দু-মুসলিম দুটিকে সম্পূর্ণ উল্টো ধর্ম বিবেচনা করা হয়।

আসমা আমাতুল্লাহ: হ্যাঁ, এটাও সত্য কথা। বলুন তারপর কী হল?
ডাক্তার আসমা আলী: ডাক্তার ইউসুফ আলী আমাকে বললেন, ধর্ম তো ব্যক্তিগত ব্যাপার। বিবাহের সঙ্গে তার কী সম্পর্ক? এগুলো তো পুরনো যুগের কথা। পৃথিবী এখন অনেক এগিয়ে গিয়েছে। আমরা এখন ডাক্তার হতে যাচ্ছি। তুমি তোমার ধর্ম ফলো করবে। আমি আমার ধর্ম মেনে চলবো। আমরা হিন্দুস্তান গিয়ে কোর্ট ম্যারেজ করে নেবো। আমিও রাজী হয়ে গেলাম।
ডাক্তার ইউসুফী আলীর এক খালাতো ভাই ডাক্তার আবেদ আর্মেনিয়ায় থাকতো। ডাক্তার ইউসুফ আলী তাকে আমাদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিল। সে ছিল খুবই দ্বীনদার ও নামাযী তরুণ। সে ডাক্তার ইউসুফ আলীকে অনেক বোঝাল। বলল, তুমি দ্বীনদার ঘরের সন্তান। তোমার জ্যাঠা তো অনেক বড় মাপের আলেম। কাফের-মুশরিকের সঙ্গে মুসলমানের বিবাহ হতে পারে না। কুরআন স্পষ্ট একথা ঘোষণা করেছে। এতে সারা জীবন ব্যভিচার চলতে থাকবে। সন্তানরাও হারামজাদা হবে। কিন্তু তার বুঝে আসল না। ডাক্তার আবেদ দুতিন মাস ধরে তাকে বুঝানের চেষ্টা করতে থাকে। অবশেষে অপারগ হয়ে ডাক্তার ইউসুফ আলীর বাড়িতে জানিয়ে দেয়। হিন্দুস্তান থেকে ফোনের পর ফোন আসতে থাকে। ডাক্তার সাহেবের জ্যাঠা মাওলানা হামেদ আলীরও কয়েকটি ফোন আসে। একবার প্রায় এক ঘন্টা কথাবার্তা হয় কিন্তু ডাক্তার ইউসুফ আলীর মাথায় ধরল না। আমাকে মুসলমান বানিয়ে বিবাহ করাটা তার কাছে অসম্ভব মনে হয়। তার এই খেয়ালও ছিল যে, আমি বিজেপির জাতীয় নেতার মেয়ে। আমি কিছুতেই মুসলমান হতে রাজী হবো না। তার ভয় ছিল আমাকে মুসলমান হতে বললে না জানি আমি বিবাহের ইচ্ছাই ত্যাগ করে বসি। মূলত সে আমাকে অত্যন্ত ভালোবাসতো। আমারও তার প্রতি তীব্র আকর্ষণ ছিল। তবে মানুষের মেযাজ তো বিচিত্র হয়ে থাকে। একেকজনের একেক স্বভাব। কোনো কোনো লোক তো প্রচন্ডন্ড আবেগপ্রবণ হয়। আমার স্বভাবে আল্লাহ তাআলা সবসময়ই স্থিরতা দিয়েছিলেন। আমার চোহারা দেখে সে মনে করতো তার প্রতি আমার তেমন আগ্রহ নেই।

তার এই আশংকাও ছিল, এমন বড় মাপের নেতার মেয়েকে মুসলমান বানালে একটা বড় লবি তার এবং তার পরিবারের বিরোধী হয়ে যাবে। তাছাড়া ব্যাপারটা দাঙ্গায়ও রূপ নিবে। ডাক্তার আবেদ চেষ্টা করে করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। অথচ ডাক্তার ইউসুফ আলী আমাকে মুসলমান করে বিবাহ করতে প্রস্তুত হচ্ছিলেন না। কিন্তু আমার মেহেরবান খোদা তো এই তুচ্ছের প্রতি দয়া করার এরাদা করেছিলেন। (কাঁদতে কাঁদতে) আমার প্রিয় অনুগ্রহশীল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি লক্ষ কোটি দুরুদ ও সালাম, তাঁর পরিবারের প্রতি, তাঁর সাহাবীদের প্রতি, তাঁর পবিত্র শহরের ধূলোমাটির প্রতিও সশ্রদ্ধ সালাম। কেমন সত্য কথাই না তিনি বলেছেন, কিছু লোক এমনও আছে, আল্লাহ তাআলা তাদের ঘাড় ধরে জবরদস্তি জান্নাতে দাখেল করবেন। বোন আসমা! আমার অবস্থাও অনেকটা এই রকম। আল্লাহ তাআলা জোর করে আমাকে ঈমানদারদের দলে শামিল করেছেন।

অবশ্য আমার এ অনুভূতিও রয়েছে যে, এখনও আমি নামকাওয়াস্তের মুসলমান। তবে যিনি আমাকে কল্পনা থেকে আসমা বানিয়ে দিয়েছেন তাঁর দয়ার কাছে আশা করতে দোষ কী- আমার সমস্ত অযোগ্যতা সত্ত্বেও তিনি আমাকে সত্যিকার মুমিন বানিয়ে দিবেন। আমার আল্লাহ আমার দয়ালু খোদা তো মায়ের চেয়েও সত্তর গুণ বেশী মায়া-মমতাশীল। আমার রহমান-রহীম-হাদী প্রতিপালক অতি অবশ্যই আমাকে কামেল মুমিন না হলেও কোনো প্রকারে ঈমানের হাকীকত দান করে তার ঘরে ডেকে নিবেন। আল্লাহর ভান্ডারে অভাব কিসের? ইনশাআল্লাহ! অবশ্যই (কাঁদতে কাঁদতে) তিনি আমাকে কামেল মুমিনা বানিয়ে ডাক দিবেন।

আসমা আমাতুল্লাহ: বলছিলেন, আপনি আবেগপ্রবণ নন?
ডাক্তার আসমা আলী: বোন আসমা! আপন আল্লাহ ও আল্লাহর পেয়ারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গেই যদি মানুষের ভক্তিপূর্ণ ও আবেঘন সম্পর্ক না হয় তাহলে সেটা মানুষের দিল নয় ; পাষাণমূর্তি তার চেয়ে বরং পাথরই শ্রেয়। বোন আসমা! মুসলমান ঘরে জন্ম নেয়া ও প্রতিপালিত হওয়া আপনি এই আবেগ অনুভব করতে পারবেন না। বিজেপির জাতীয় নেতার ঘরে জন্ম নেয়া মেয়ের জন্য এভাবে ইসলাম গ্রহণ করা কতটা বিস্ময়কর তা ভাবতেও লোম দাঁড়িয়ে যায়। উপরন্তু বিনা চাওয়ায় বিনা দরখাস্তে বোন আমার! আমি স্বপ্নেও সত্যাসুন্ধানের কল্পনা করতাম না। এই ধারণাই ছিল না যে, সত্য অনুসন্ধান করে তা অবলম্বন করা আমার প্রথম জিম্মাদারী। এমন রেওয়াজ আর পরিবেশই সেখানে ছিল না। আর্মেনিয়ায় আমার সঙ্গে ভারতীয়, পাকিস্তানী এবং আরবের বহুসংখ্যক মুসলমান ছেলে-মেয়ে পড়াশোনা করতো। কিন্তু তাদের কারও মধ্যে দাওয়াতের অনূভূতি ছিল না। জানামতে শুধু ডাক্তার আবেদই ছিলেন। যার আকাক্সক্ষা ছিল ডাক্তার ইউসুফ যেন হিন্দু অথবা হিন্দুদের মত না হয়ে যায়। এমন এক পরিস্থিতিতে আমার আল্লাহ আমাকে জোরপূর্বক কুফর ও শিরকের আগুনে জ্বলন্ত বন্দিকে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় ঠেলে দিয়েছেন। এই দয়া ও অনুগ্রহের অনুভূতি আপনি কিছুতেই উপলদ্ধি করতে পারবেন না।

আসমা আমাতুল্লাহ: নিঃসন্দেহে আপনার কথা সত্য। এই অনুভূতি লাভ করাটাও আল্লাহ তাআলার বিরাট দান। যা হোক আপনি আপনার ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে কথা বলছিলেন।
ডাক্তার আসমা আলী: হল কি, ডাক্তার আবেদ যখন ডাক্তার ইউসুফকে বুঝাতে অক্ষম হয়ে পড়ল আর সে আমাকে ইসলাম গ্রহণ করতে বলার সাহস পেলো না তখন ডাক্তার আবেগে আমার কাছে আসল। কথাবার্তা বলার জন্য আমার থেকে একদিন সময় চেয়ে নিল। বলল, বলুন তো আপনি কি ডাক্তার ইউসুফ আলীকে বিবাহ করতে ইচ্ছুক? তাহলে আপনাকে আমি কিছু জরুরী কথা বলতে চাই। মানুষ সামাজিক জীব। সব সময়ই তার পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবের প্রয়োজন পড়ে। আপনি তো বিজেপির এক জাতীয় নেতার কন্যা। আপনি যদি একজন মুসলমানের সঙ্গে কোর্ট ম্যারেজ করে নেন, তাহলে আপনার পরিবার আপনার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে। ডাক্তার ইউসুফ আলী সাহেবের পরিবারও আপনাকে মেনে নিবে না। তবে আপনি যদি মুসলমান হয়ে ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী বিবাহ করতে রাজী হন তাহলে আমি চেষ্টা করে দেখতে পারি, যেন ইউসুফ আলীর পরিবার আপনাকে বধু হিসেবে মেনে নেয়। আশা করি আমি তাদের রাজী করাতে পারবো। এতে এক পরিবার হারালেও আপনি আরেকটি পরিবার পেয়ে যাবেন। যুক্তিগ্রাহ্য প্রস্তাবটি আমার মনে ধরে যায়। ডাক্তার ইউসুফ আলীকে বলি, আমি মুসলমান হয়ে ইসলামী তারীকায় আপনার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাই। ডাক্তার ইউসুফ আলী আমাকে নিষেধ করতে থাকে। কিন্তু ডাক্তার আবেদের কথাটি আমার অন্তরে গেঁথে গিয়েছিল। আমি সেটাকে কঠোরভাবে গ্রহণ করি। ডাক্তার ইউসুফকে পরিষ্কার জানিয়ে দেই, আমি কেবল এই শর্তেই আপনাকে বিবাহ করতে প্রস্তুত যে, আপনি আমাকে মুসলমান বানাবেন, তারপর ইসলামী নিয়মানুযায়ী আপনার পিতামাতা আমাদের বিবাহের ব্যবস্থা করবেন। কাজটি তার কাছে খুবই কঠিন মনে হয়। ডাক্তার আবেদ এ ব্যাপারে প্রসংশনীয় ভূমিকা রাখে। সে ডাক্তার ইউসুফ আলীর পরিবারকে বোঝায় আপনারা যদি কল্পনার সাথে ইউসুফের বিবাহের ব্যবস্থা না করেন তাহলে তারা কোর্ট ম্যারেজ করে ফেলবে। বরং তারা কোর্ট ম্যারেজ করেই ফেলছিল, আমি কয়েক মাস চেষ্টা করে বংশের সম্মান বিশেষত মাওলানা হামেদ আলী সাহেবের নামের ইজ্জত রক্ষার্থে তাদেরকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। এখন আপনারা কী করবেন করেন। ব্যস, তারা রাজী হয়ে গেল।

চতুর্থ বর্ষের ছুটি চলছিল। একটা অজুহাত দেখিয়ে পরিবারকে জানিয়ে দিলাম যে, এই ছুটিতে আমি দেশে আসছি না। তারপর আমরা কোয়েটা চলে যাই। ডাক্তার ইউসুফের আসিফ নামে এক বন্ধু ছিল। তিনি ঐ বছর মাওলানা আযাদ মেডিকেল দিল্লী থেকে এম.বি.বি. এস কমপ্লিট করেছিলেন। মাওলানা কালিম সাহেবের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন। হযরতের একেবারে দিউয়ানা মুরীদ ছিলেন। তিনি সাক্ষাত করতে আসলেন। ডাক্তার ইউসুফ তাকে সব কথা খুলে বললেন। তিনি আমাকে কালেমা পড়ে নিতে বললেন। বললেন, বিবাহ যখন হওয়ার তখন তো হবেই, আপনি এক্ষুণি কালিমা পড়ে নিন। কখন মৃত্যু এসে যায় বলা যায় না। আমি বললাম, যখন বিবাহ হবে তখনই কালিমা পড়ে নেবো। আমরা জোর দিয়ে বললাম, এম.বি.বি.এস শেষ করতে আরও এক বছর লাগবে। ওটা কমপ্লিট হওয়ার পর আমরা বিবাহ করবো। কিন্তু তিনি জিদ করতে লাগলেন, কলিমাও এক্ষুণি পড়–ন আর বিবাহও এখনই সেরে নিন। কারণ, বিধানদাতা হলেন আল্লাহ তাআলা। যতক্ষণ না আপনারা বিবাহ করছেন, তার বিধানে দুজনের এভাবে মেলামেশা ও দেখা সাক্ষাত করার অধিকার নেই। আপনাদের ব্যভিচারের গোনাহ হতে থাকবে। ডাক্তার আসিফ মাশাআল্লাহ অত্যন্ত দ্বীনদার। দেখতে মাওলানা মাওলানা মনে হয়। আমার স্বামী তার সঙ্গে বেশ সম্পর্ক রাখতো। তিনি জোর দেয়াতে ইউসুফ ও তার পরিবার রাজী হয়ে গেল। আমি কালিমা পড়ে নিলাম। ডাক্তার আসিফ পরিবারের কয়েকজন সদস্যের উপস্থিতিতে মোহরে ফাতেমীতে আমার বিবাহ পড়িয়ে দিল। আর আমার নাম আসমা আলী রেখে বলল, আমাদের হযরতের কন্যার নামও অসমা। হযরতের বক্তব্য অনুযায়ী তিনি হযরতের দাওয়াতের উস্তাদ। তার নামে আপনার নাম রাখলাম। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাআলা আপনার দ্বারা অনেক কাজ নেবেন। পরবর্তীতে মাওলানা হামেদ আলী সাহেব জানতে পেরে তিনি পুনরায় বিবাহ পড়ান এবং আদালতে রেজিস্ট্রেশন ও আইনী কাগজপত্র প্রস্তুত করে দেন।

বিবাহের এক সপ্তাহ পর ডাক্তার আসিফের নিমন্ত্রণ ও পীড়াপীড়িতে দিল্লিতে তাদের বাড়ি আসি। ডাক্তার আসিফের বোন এক গার্লস স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। তার কাছে নিয়মতি আরমুগান আসতো। তিনি সর্বপ্রথম আমাকে হযরতের কিতাব ‘আপকি আমানত আপকি সেবা মেঁ’ পড়তে দেন। জোর দিয়ে বলেন, কিতাবটি আপনি কমপক্ষে তিনবার পাঠ করবেন। আপনার বুঝে আসবে, আল্লাহ তাআলা আপনার সঙ্গে কী পরিমাণ দয়ার আচরণ করেছেন। ডাক্তার আসিফের বোন সাফিয়্যা বুবু খুবই নির্ভরশীল ও দরদী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। প্রথম সাক্ষাতেই আমি তার ব্যক্তিত্বে প্রভাবিত হই। তার কথামত আপকি আমানত তিন তিনবার পড়ি। ছোট সেই কিতাবটি তিনবার পড়ার পর ইসলাম আমার নিকট সবচেয়ে জরুরী ও পছন্দনীয় হয়ে যায়। মুসলমান আমি ঘটনাক্রমে হয়ে ছিলাম কিন্তু এখন আলহামদুলিল্লাহ! জেনে বুঝে সজ্ঞানে মুসলমান হলাম। আমি ডাক্তার আসিফকে বলি আল্লাহ তাআলা স্বীয় অনুগ্রহে আমাকে জোরপূর্বক মুসলমান বানিয়ে দিয়েছেন। আমি চাই আমার স্বামী যিনি আমার জীবনসঙ্গী, যার ছায়ায় আমাকে বাকী জীবন পার করতে হবে তিনিও যেন মুসলমান হয়ে যান। অবশ্যই তিনি মুসলমানের ঘরে জন্মগ্রহণ করেছেন কিন্তু মুসলমান হননি। তিনি তো অনৈসলামী রীতিতে আমার সঙ্গে কোর্ট ম্যারেজ করতে চেয়েছিলেন। মুসলমান কোনো সম্প্রদায়ের নাম নয়। আল্লাহ ও তার রাসূূলের নির্দেশের সামনে মাথা নত করা এবং তা পালন করার নাম ইসলাম। আমার আকাক্সক্ষা আমার স্বামীও যেন মুসলমান হয়ে যান। তিনি ছুটিতে তাকে এক চিল্লার জন্য জামাআতে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। প্রথমদিকে ডাক্তার ইউসুফ আলীর জন্য ব্যাপারটি বেশ কঠিন ছিল। কিন্তু আমিও গো ধরি, ডাক্তার আসিফও জেদ ধরেন। তিনি চাপে পড়ে রাজী হয়ে যান। কিন্তু যাওয়ার সময় তার খুবই কষ্ট হচ্ছিল। তিনি নিজেই বলেছেন, জামাআতে যাওয়ার পূর্বে ডাক্তার আসিফ যখন আমাকে মাওলানা কালিম সাহেবের কাছে নিয়ে গেল, মনে হচ্ছিল আমাকে গ্রেফতার করে জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভাবছিলাম, চল্লিশটি দিন কিভাবে পার করবো। উখলা গিয়ে হযরতের সঙ্গে সাক্ষাত হল। হযরত কয়েক মিনিট কথা বললেন। ব্যস, সে খুশি খুশি জামাআতে যেতে প্রস্তুত হয়ে গেল। মুম্বাইয়ের এক জামাআতের সঙ্গে মথুরায় সময় লাগাল। চিল্লা শেষে সে দাড়ি-টুপি শোভিত হয়ে বরং যদি বলি, আমার স্বামী মুসলমান হয়ে ফিরে আসল- তাহলে সেটাও বাস্তব কথা হবে।

আসমা আমাতুল্লাহ: তারপর আপনি আর্মেনিয়া ফিরে গিয়েছিলেন?
ডাক্তার আসমা আলী: এম.বি.বি এস কমপ্লিট করার জন্য আমাদের আর্মেনিয়া যেতে হচ্ছিল। যাওয়ার পূর্বে আমরা হযরতের সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। হযরত বললেন, ইসলাম গ্রহণ করে আপনার এক নতুন জীবন শুরু হয়েছে। এখন আপনি মুসলমান শুধুই মুসলমান। উপরন্তু শ্রেষ্ঠ উম্মতের সদস্য হওয়ার কারণে একজন দাঈও বটে। মুসলমানকে কোথাও পাঠানো হলে দাওয়াতের জন্যই পাঠানো হয়। এখন আপনি এম.বি.বি. এস কমপ্লিট করার নিয়ত নয় বরং দাওয়াতের নিয়তে যান। আলহামদুলিল্লাহ! আমরা দুজনই নিয়ত ঠিক করে নিলাম। বিদায়ের সময় হযরতের কাছে দুআর আবেদন করলাম। এবং ডাক্তার আসিফের পরামর্শ অনুযায়ী হযরতের হাতে বাইয়াত হলাম। হযরত আমাদের নিকট থেকে বর্তমান সফরটি দাওয়াতের নিয়তে করার অঙ্গীকার নিলেন। আলহামদুলিল্লাহ সেই নিয়তের বরকত স্বচক্ষে দর্শন করেছি। বোন আসমা! আপনি হয়তো বিশ্বাস করতে চাইবেন না, এই এক বছরে এক আরবা মেয়ের কাছে আমি কুরআন পড়া শিখেছি। উর্দু শিখেছি, আরবী ভাষাও মাঝারী মানের আলেমার মত বলতে পারি। অধিকাংশ দুআয়ে মাসূরা মুখস্ত হয়ে গেছে। পাকিস্তান থেকে আনিয়ে প্রায় এক হাজারের মত কিতাব অধ্যয়ন করেছি।

আসমা আমাতুল্লাহ: আপনার এম.বি.বি.এস এর কী হল?
ডাক্তার আসমা আলী: দ্বীনকে বরং দাওয়াতকে মাকসাদ বানানোর বরকতে ফাইনাল ইয়ারে আমি গত চার বছরের চেয়ে অধিক নম্বর পেয়েছি।

আসমা আমাতুল্লাহ: দাওয়াতের নিয়তের কী হল?
ডাক্তার আসমা আলী: সেই কথাই তো বলতে চাইছি। আসলে দাওয়াত আমাদের জীবনের ধ্যান হয়ে গিয়েছিল। আলহামদুলিল্লাহ! আর্মেনিয়ায় বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের ১২১ (একশত একুশ) জন ছেলে মেয়ে এবং আমাদের কলেজের ছয়জন শিক্ষক মুসলমান হয়েছে।

আসমা আমাতুল্লাহ: পাকিস্তান বাংলাদেশের অমুসলিমরা কোত্থেকে আসল?
ডাক্তার আসমা আলী: বাংলাদেশের দুজন ব্রাক্ষণ আর পাকিস্তানের সিন্ধের চারজন হিন্দু আলহামদুলিল্লাহ খুব বড়ো ও ভালো ডাক্তার হয়ে দাওয়াতের নিয়তে দেশে ফিরে গেছে। এখন হিন্দুস্তানে এসে মনে হচ্ছে, আর্মেনিয়ায় কাজ করা বেশী সহজ। তবে দাওয়াত যদি কারও ধ্যানে পরিণত হয় তাহলে এখানে কাজ করাও সহজ। তবে তুলনামূলক সেখানে সহজ।

আসমা আমাতুল্লাহ: হিন্দুস্তানে এসেছেন কতদিন হল? এখানে এসে দাওয়াতের কাজ করেন নি? সম্ভবত আপনাদের হজ্জও হয়ে গেছে?
ডাক্তার আসমা আলী: চার বছর হল দেশে ফিরেছি। আলহামদুলিল্লাহ! আমরা যেখানেই থাকি আমি নিজে মেয়েদেরকে নিয়ে আর আমার স্বামী পুরুষদেরকে নিয়ে জামাআতে নামায পড়ার এহতেমাম করে থাকে। দুই বছর আমরা দিল্লীতে ছিলাম। সফদর জং এবং রাম মনোহর হাসপাতালে কাজ করেছি। বর্তমানে হিমাচলে দুবছর হতে চলল। আলহামদুলিল্লাহ! আমার দাওয়াতে ২৮ (আটাশ) জন ডাক্তার মুসলমান হয়েছে। এদের মধ্যে ছয়জন মেয়ের মুসলমানের সঙ্গে বিবাহও হয়ে গিয়েছে। কয়েকজন এমনও আছে, যারা ঘোষণা দেয় নি। আমার স্বামী এবং আমার বদৌলতে হিন্দুস্তানে একশরও অধিক লোককে আল্লাহ তাআলা হেদায়াত দিয়েছেন। তাদের একজন অল ইন্ডিয়ার অনেক বড় অফিসার। বর্তমানে রিটিয়ার্ড হয়েছেন। এখনও সংখ্যা অনেক কম। সামনে অনেক কাজ করতে হবে।

আসমা আমাতুল্লাহ: আপনার পরিবারের কী হল ?
ডাক্তার আসমা আলী: আমি আর্মেনিয়া থেকে ফোন করে তাদের বিবাহের সংবাদ জানিয়েছিলাম। আমার পিতা এবং দাদা ফোনেই বলে দিয়েছেন, তুমি আমাদের থেকে মরে গিয়েছো। আমাদের আর ফোন করবে না। এরপর থেকে তারা আমার ফোন রিসিভ করে না। কণ্ঠ শুনেই কেটে দেয়। তারা এলাকার লোকজনের কাছে বলেছে, কল্পনা আর্মেনিয়া গিয়ে মারা গেছে।

আসমা আমাতুল্লাহ: আপনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো উপায় করেন নি?
ডাক্তার আসমা আলী: আমি অনেক চিঠি লিখেছি। তারা উত্তর দেয়নি। আমার পরিবার রাজনৈতিকভাবে এক কট্টর দলের সঙ্গে জড়িত। তবে ব্যক্তিগত জীবনে অধিকাংশ লোকই ভালো মানুষ। জানি না আমার পরিবারের কী হবে। যখনই হযরতের সঙ্গে সাক্ষাত করি খুব জ্বালাতন করি। গতবার গরমের সময় যখন এসেছিলাম, হযরতের হাত ধরে কেঁদে কেঁদে বলেছিলাম, হযরত! আমার পরিবারের কী হবে? হযরত! আমার দাদা-দাদী, আমার পিতা-মাতা, আমার ভাই-বাবা যদি কুফরী অবস্থায় মারা যায়, তাহলে কীভাবে তারা দোযখের আগুন সহ্য করবে, হযরতও খুব আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু আমাকে বুঝতে দেননি। আমার কিছুটা হুশ হলে হযরত আমাকে বুঝিয়েছেন, শরীয়তের প্রতিটি নির্দেশই আমাদের অনুসরণ করতে হবে। শরীয়তের দৃষ্টিতে আপনি আমার না মাহরাম। বোরকা পরিধান করলেই শরীয়তের বিধি-নিষেধ উঠে যায় না। আবেগের সময় আপনি যদি শরীয়তের বিধানাবলী রক্ষা করার অভ্যাস গড়তে না পারেন তাহলে শয়তান আপনাকে বরবাদ করে ছাড়বে।

আসমা আমাতুল্লাহ: বোরকা আপনি কবে থেকে পরতে শুরু করেছেন? হাসপাতালে কোনো সমস্যা হয় না।
ডাক্তার আসমা আলী: আলহামদুলিল্লাহ! এ তিন বছর হল বোরকা পরা শুরু করেছি। কিছু কিছু লোক উদ্ভট মনে করে তবে অধিকাংশই প্রভাবিত হয়।

আসমা আমাতুল্লাহ: আরমুগানের পাঠকদের জন্য কোনো পয়গাম?
ডাক্তার আসমা আলী: প্রথম আবেদন হল, আমার পরিবারের হেদায়াতের জন্য দুআ করবেন। দ্বিতীয় আবেদন হল, ইসলাম কোনো সম্প্রাদয় অথবা জাতির নাম নয় যে, গোজরের ঘরে জন্ম নিলে গোজর হবে। কৃষকের ঘরে হলে কৃষক হবে আর মুসলমানের ঘরে হলে মুসলমান। বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ ও বিধানাবলীকে নিজের জন্য কল্যাণকর মনে করে তার সামনে নিজেকে অর্পণ করা এবং তা পালন করার নাম ইসলাম। দাওয়াতকে জীবনের উদ্দেশ্য বানানোর পূর্বে এই অনুভূতি নসীব হতে পারে না।

আসমা আমাতুল্লাহ: অনেক অনেক শোকরিয়া ডাক্তার আসমা আলী! আল্লাহ তাআলা আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।
ডাক্তার আসমা আলী: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু! শোকরিয়া তো আপনার এবং হযরতের প্রাপ্য যে, আরমুগানের দাওয়াতী জলসায় আমার অংশগ্রহণের সৌভাগ্য নসীব হয়েছে।


সাক্ষাৎকার গ্রহণে
আসমা আমাতুল্লাহ
মাসিক আরমুগান, নভেম্বর – ২০০৯