ড. সাঈদ আহমদ (ড. শৈলেন্দ্র কুমার মালহোত্রা)-এর সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকার

অমুসলিমদের সঙ্গে যেসব মুসলমানের যোগাযোগ ঘটে তাদের মধ্যে অধিকাংশই তারা যারা কুরআনী ইসলামের জন্য অন্তরায়। আমার একথা নিশ্চিতই অত্যন্ত তিক্ত সত্য হবে যে, যদি মুসলমান সত্য ও হক থেকে দেউলিয়া মানবতাকে হকের দাওয়াত প্রদানের হক আদায় করতে না পারে তাহলে নিদেনপক্ষে কুরআনী ও দুনিয়ার মধ্যে বাধা ও অন্তরায় না হন।


ড. সাঈদ আহমদ. আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
আহমদ আওয়াহ. ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। ড. সাহেব! আপনি মাস্কাত থেকে কবে আসলেন?
ড. সাঈদ আহমদ. ৩রা নভেম্বর আমি মাস্কাত থেকে এসে গিয়েছিলাম। আসলে আমার প্রথম চুক্তি শেষ হয়ে গিয়েছিল। তারা পুনর্বার আমাকে সেখানে থাকার জন্য পীড়াপীড়ি করছিল। কিন্তু আমি এর মাঝেই ফিজিতে একটি ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এজন্য আমাকে আসতে হল।

আহমদ আওয়াহ. অনেক দিন আগে আব্বু আপনার ইসলাম গ্রহণের ঘটনা শুনিয়েছিলেন। তখন থেকেই আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যাপারে আগ্রহী ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ! আজ মোলাকাত হয়ে গেল। আসলে আজ আপনার খেদমতে আব্বুর নির্দেশে আপনার একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণের উদ্দেশ্যে হাজির হয়েছি।
ড. সাঈদ আহমদ. অবশ্যই, অবশ্যই! আদেশ করুন। আমার জন্য মাওলানা সাহেবের কী নির্দেশ?

আহমদ আওয়াহ. ফুলাত থেকে একটি দীনি দাওয়াতী পত্রিকা প্রকাশিত হয় ‘মাসিক আরমুগান’।
ড. সাঈদ আহমদ. হাঁ, হাঁ, আমি জানি, আলহামদুলিল্লাহ।

আহমদ আওয়াহ. এজন্য আপনার থেকে একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে চাই যাতে করে যারা দাওয়াতের কাজ করেন তাদের জন্য তা উপকারী হয় এবং মুসলমানদের জন্যও ইসলামের মূল্য ও মর্যাদা উপলব্ধির মাধ্যম হয়।
ড. সাঈদ আহমদ. অবশ্যই। আমার জন্য খুশির বিষয় হবে।

আহমদ আওয়াহ. মেহেরবানীপূর্বক আপনার পরিচয় দিন।
ড. সাঈদ আহমদ. ১৯৫৪ সালের ৭ নভেম্বর তারিখে বিখ্যাত মালহোত্রা পরিবারে/ খান্দানে আমার জন্ম। আমাদের পরিবার ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় পাকিস্তান থেকে হিন্দুস্তানে এসে ছিল। সারগোদা ছিল আমাদের পূর্ব-পুরুষদের আবাসস্থল। বসতভূমি পরিবর্তনের সময় আমাদের কঠিন অবস্থার ভেতর দিয়ে অতিক্রম করতে হয়। ফলে আমাদের পরিবারের মধ্যে বড় রকমের মুসলিম বিদ্বেষ পাওয়া যায়। আমাদের খান্দানের অধিকাংশ লোক (আমাকে বাদে) আর.এস.এস. ও বি.জে.পি.র সাথে জড়িত। আমার এক চাচাতো ভাই বি.জে.পি.’র একজন বড় নেতা। দিল্লীর কুরুলবাগে আমাদের বাসাবাড়ি। প্রাথমিক শিক্ষা স্থানীয় স্কুলে লাভের পর সেন্ট স্টিফেন কলেজে ভর্তি হই। সেখান থেকে আমি বি.এস.সি. পাস করি। অতঃপর কেমিস্ট্রিতে আমি এম.এস.সি. পাস করি। আমার সবসময় পছন্দের লাইন ছিল শিক্ষা। আমার পিতা জীবনভর শিক্ষকতা ক্ষেত্রে যুক্ত ছিলেন। এরপর আমি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পি.এইচ.ডি.’র জন্য নির্বাচিত হই। সেখানে অবসর সময়ে একটি চাকরিও পেয়ে যাই। ৬ বছর চাকরি করাকালে এডুকেশনের ওপর আমি ডক্টরেট (ডি.এড.) ডিগ্রীও অর্জন করি। পিতামাতার অসুস্থতা এবং তাদের পীড়াপীড়িতে আমাকে হিন্দুস্তানে চলে আসতে হয়। পার্থিব জীবনের জন্য ইংল্যান্ডে আমার খুব ভাল সুযোগ ছিল। কিন্তু সম্ভবত আল্লাহ আমাকে হেদায়াত দ্বারা ভূষিত করতে চাচ্ছিলেন। এজন্য না চাইলেও আমাকে হিন্দুস্তানে আসতে হয়। প্রায় দু’বছর পিতামাতার অসুস্থতার দরুণ আমি হাসপাতালেই থাকি। সর্বপ্রকার চেষ্টা-তদবীর ও চিকিৎসা সত্ত্বেও মৃত্যুর কাছে আমাদের হার মানতে হয়। অবশেষে ১৯৮৯ সালের অক্টোবরের ১৩ তারিখে আমার পিতার মৃত্যু হয় এবং এর নয়দিন পর আমার মা’ও আমাকে ছেড়ে তার কাছে চলে যান। আজকাল নতুন সমাজে বৃদ্ধ পিতামাতাকে বোঝা মনে করার সাধারণ রেওয়াজ চলছে এবং আমাদের এখানকার অবস্থা সম্ভবত ইউরোপের চেয়েও খারাপ। বৃদ্ধ পিতামাতার জন্য, ব্যস দুনিয়াটাই জাহান্নাম। আমার আল্লাহর শোকর যে, আমার পিতামাতার প্রতি সীমাতিরিক্ত প্রীতি ও মুহাব্বত ছিল এবং তাদের খেদমত করার সুযোগ আমার ঘটেছিল। শেষ রোগ পীড়িত অবস্থায় আমার অবস্থাদৃষ্টে লোকে বিস্ময় প্রকাশ করত। এই সম্পর্কের কারণে তাদের মৃত্যুতে আমি খুব আঘাত পাই এবং সন্ন্যাসব্রত গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিই। এই ধারণাবশে আমি হরিদ্বার ও ঋষিকেশের আশ্রমগুলোতে কাটাই দু’বছর। একের পর এক আশ্রম বদলাতে থাকি এবং শান্তি ও স্বস্তির অনে¦ষণ করতে থাকি। কিন্তু আমি অনুভব করি যে, এখানে ধর্মের নামে এক ধরণের ধান্ধাবাজির রাজত্ব চলছে। এসব লোক ছেড়ে যারা দুনিয়ার অস্থিরতা থেকে বিরক্ত হয়ে এবং সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে শান্তি ও স্বস্তির সন্ধানে এখানে ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রত্যেক মানুষ ও প্রত্যেক দলের কিছু চিহ্ন আছে এবং কেবল মানুষকে ভক্ত বানানো ও তাদের থেকে আপন স্বার্থ হাসিল করাই লক্ষ্য। আমার ধারণা হল যে, এখানকার চেয়ে এই ভাল, আমি সামাজিক জগতে ফিরে গিয়ে আপন যোগ্যতা দিয়ে মানুষের উপকার করি। দু’বছরের এই সময় পর্বে আমার ধর্ম সম্পর্কে বিরাট হতাশার সৃষ্টি হয়। আমি দিল্লী এলাম। আমি একদিন এক সেমিনারে অংশগ্রহণ করি। বিষয়বস্তু ছিল : “ভারতীয় সমাজের শিক্ষার ক্ষেত্রে পশ্চাদপদতা ও এর সমাধান।” সেমিনারে স্বামী কল্যাণ দেবজী বিশেষ মেহমান হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন। আমার এক বন্ধু তার সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে আমার কিছু খেদমত করার কথা প্রকাশ করেন। স্বামীজির এবং তার ট্রাস্টের শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান বিষয়েও তিনি আমাকে অবহিত করেন। পরদিন সকালে পিণ্ডারা পার্কে এক মন্ত্রীর বাসায় আমাদের সাক্ষাতের সিন্ধান্ত হয় এবং দু’ঘণ্টা সাক্ষাতের পর আমি স্বামীজি ও তাঁর ট্রাস্টের সঙ্গে জড়িত হতে সিদ্ধান্ত নিই। তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়ে আমি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও নীতিপরায়ণতা দ্বারা খুবই প্রভাবিত হই এবং সমাজে থেকে এ সম্পর্কে চিন্তা করা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে পশ্চাদপদতা ও অনগ্রসরতা দূর করার ক্ষেত্রে তাঁর চিন্তা-ভাবনা আমার মেযাজের কাছাকাছি মনে হয়। কিন্তু ট্রাস্টে তাঁর লোকজনের পারস্পরিক রাজনীতি আমার জন্য সেখানে তিষ্ঠানোকে কঠিন করে তোলে এবং আমার জন্য শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এছাড়া যখন আমি একাকী নির্জনে বসে তাঁর সঙ্গে ধর্ম ও আল্লাহ/খোদা সম্পর্কে কথা বলতাম তখন আমার মনে হত এত বড় (ধর্ম) গুরু হওয়া সত্ত্বেও যেন কোন সত্যের সন্ধানে এখনও অতৃপ্ত ও পিপাসার্ত। যখনই তাঁর সঙ্গে খোদা ও ধর্ম সম্পর্কে কথা হত তখন আমার এর অনুভূতি আরও বেড়ে যেত। তার ট্রাস্টের একজন দায়িত্বশীলের সঙ্গে আমার একেবারেই বনিবনা হচ্ছিল না, যার অনেক বেশি গুরুত্ব ছিল তাঁর এখানে। তাঁর কাজের মধ্যে আমার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণ হওয়া সমীচীন নয় মনে করে আমি সেই ট্রাস্ট ছেড়ে দিই। এবং ১৯৯৮ সালে দিল্লী পাবলিক স্কুলের সঙ্গে যুক্ত হই। প্রথমে আমি একটি ব্রাঞ্চে প্রিন্সিপাল থাকি। এরপর আমাকে পীড়াপীড়ি করে এ্যাডভাইজার পদে নিযুক্ত করা হয়। এ সময় আমার ওপর আল্লাহর রহমত হল এবং আমার ইসলাম গ্রহণের ঘটনা সংঘটিত হল। আপনার পিতা আমাকে কিছুদিনের জন্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কোন একটি দেশে যাবার পরামর্শ দেন। আমি তিন বছরের চুক্তিতে মাস্কাত চলে যাই। আলহামদুলিল্লাহ সেখানে আমি আমার চুক্তি সম্মানের সঙ্গে ও সুচারুরূপে সম্পাদন করে এসেছি এবং সামনের সপ্তাহেই ফিরে যাচ্ছি। ব্যাস। এটাই আমার পরিচিতি।

আহমদ আওয়াহ. আপনি আপনার ইসলাম গ্রহণের ঘটনাটা বলুন এবং এও বলুন যে, ইসলামের দিকে কে আপনাকে দাওয়াত দিয়েছিল?
ড. সাঈদ আহমদ. সত্যি কথা বলতে কি আমাকে ইসলামের দিকে কোন মুসলমান কিংবা কোন মানুষ দাওয়াত দেয় নাই বরং সত্যধর্ম ইসলাম স্বয়ং নিজে আমাকে দাওয়াত দিয়েছে। ঘটনাটা হল আমি আহমদাবাদে দিল্লী পাবলিক স্কুলের শাখা প্রতিষ্ঠার জন্য যাই। এক সপ্তাহ অবস্থানের পর আহমদাবাদ ফিরে আসি। গাড়ি সাত ঘণ্টা লেট করে ছিল। বেলা তখন দুপুর। দেড়টা কিংবা দুটো বাজে হয়তো। আমি গাড়ি থেকে নামলাম। দেখি কি কুলিরা একত্রে একদিকে যাচ্ছে। গরিব ও শ্রমিকদের অধিকারের প্রতি আমি বরাবরই সহানুভূতিশীল। আমার ধারণা হল, সম্ভবত কোন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে যাচ্ছে। সত্যি বলতে কি, হেদায়াত আমাকে হাতছানি দিচ্ছিল। নইলে আমি কখনো ভাবিনি যে, দশ-বিশজন কুলি আগত গাড়ির দিকে এভাবে যেয়েই থাকে। কিন্তু সে সময় আমার খেয়াল হল যে, আমি তাদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেব, দিক-নির্দেশনা দেব। এজন্য আমি কুলিদের সাথে চললাম। আমি দেখলাম তারা প্লাটফর্মের উপর এক জায়গায় গিয়ে পানির পাত্র (লোটা) নিল, পানি ভরল, এরপর হাত-মুখ ধুলো। আমি বিস্মিত হলাম এবং আমার ধারণা হল যে, দেখতে হবে দুপুরে হাত-মুখ ধুয়ে এরা কী করে? খুব ভাল করে দাঁত মাজন করল, তারপর হাত-পা ধুয়ে অন্য জায়গায় গিয়ে যেখানে রশি বেঁধে নামাযের জন্য তারা বানিয়ে রেখেছিল সেখানে চাটাই বিছাল এবং সবাই কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়াল। একজন গিয়ে সামনে দাঁড়াল, বাকী সকলেই সোজা লাইনে দাঁড়িয়ে গেল এবং এভাবে কাতার সোজা করল যে, এক ইঞ্চি কেউ আগ-পিছ হলে সামনের লোকটি তাকে ঠিক সোজা হতে বলত। একজন আল্লাহু আকবার বলতেই সবাই হাতের ওপর হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে গেল। এখন আমি বুঝতে পারলাম যে, এসব লোক নামায পড়ছে। ভারবাহী কুলি সম্প্রদায়কে আমি বহুক্ষণ জামা’আত শেষ হওয়া পর্যন্ত দেখতে থাকি। আমার খেয়াল হল, এরূপ একটি অজ্ঞ সম্প্রদায়ের মধ্যে এরকম সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও শৃ´খলা যেই ধর্ম সৃষ্টি করেছে আমাকে অবশ্যই তাকে পড়তে হবে। আমি এই আবেগ থেকে উদর্ূূবাজার পৌঁছি। আমার জানা ছিল যে, এই বাজারটি ঊর্দু ও ইসলামী বই-পুস্তকের। আমি একটি লাইব্রেরীতে গেলাম। তারা আমাকে আনজুমানে তারাক্কীয়ে উর্দূর কুতুবখানায় যেতে পরামর্শ দিলেন। সেখানে গেলে তারা আমাকে মাওলানা মনজূর নো’মানী লিখিত পুস্তকের ইংরেজি অনুবাদ ‘ডযধঃ রং ওংষধস’ এবং মাওলানা সাইয়েদ সুলায়মান নদভী লিখিত খুতবাতে মাদ্রাজ-এর ইংরেজি অনুবাদ ‘গড়যধসসধফ : ঞযব ওফবধষ চৎড়ঢ়যবঃ’ পড়বার পরামর্শ দিলেন। আমি বই দু’টো কিনলাম। বই দু’টো ইসলামের সঙ্গে আমার পারিবারিক দূরত্ব সত্ত্বেও আমাকে এর কাছাকাছি করে দিল বরং আমি যদি বলি যে, বই দু’টো আমাকে একটা সীমা পর্যন্ত মুসলমান বানিয়ে দিল; তাহলে তা যথার্থ হবে। এরপর আমার ধারণা হল, ইসলামকে আমার এর মূল থেকে পড়তে হবে এবং কুরআন পাকের হিন্দী ও ইংরেজী তরজমা উর্দূবাজার থেকে নিয়ে আসি। কুরআন পাক পড়ার পর আমার অনুভূত হতে লাগল যে, ইসলাম আমার হৃত সম্পদ। আর আমি যতই কুরআন পাক পড়তে থাকি আমার ভেতরকার অন্ধকার আলো ঝলমল হয়ে উঠতে লাগল এবং আমার মনে হল, আমাকে মুসলমান হিসেবেই সৃষ্টি করা হয়েছে। জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা পড়ে আমার এও ধারণা হল যে, আমাকে সত্বর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি ইসলাম ও ঈমানবিহীন অবস্থায় আমার মৃত্যু এসে যায় তাহলে আমার ধ্বংস অনিবার্য। আমি এজন্য অনুসন্ধান শুরু করি। আমি দিল্লী জামে মসজিদে ইমাম বুখারীর খেদমতে যাই। কিন্তু তিনি আমার সঙ্গে খুবই রূঢ় ব্যবহার করেন। আমার মালিকের আমার ওপর অনুগ্রহ ছিল যে, আমার জন্য স্বয়ং ইসলাম দরজা খোলে। কোন মুসলমান এর মাধ্যম ছিল না।
আমার জন্য কুরআনী ইসলাম ও মুসলমানদের ইসলামের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন কিছু ছিল না। আমি যদি মুসলমানদের ইসলাম দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ইসলামের দিকে আসতাম তাহলে ইমাম সাহেবের খেদমতে উপস্থিতিই আমার জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু আমার অনুসন্ধান অব্যাহত রাখি। আমি জামা’আতে ইসলামী দফতরেও যাই। তারা আমার পরিচয় জেনে হতচকিত হয়ে যায় ও সম্ভবত সন্দেহে নিপতিত হয়। আমার বড় ভাই যিনি মন্ত্রী ছিলন তার সঙ্গে আত্মিয়তা সম্পর্ক তাদের জন্য সংকোচের কারণ ঘটে। আমি ছয় মাস পর্যন্ত সম্ভবত জনা পঞ্চাশেক লোকের কাছে গিয়েছি যেন কোন মুসলমান আমাকে মুসলমান বানিয়ে নেয়। কিন্তু জানি না কেন আমাকে কেউ কলেমা পড়াতে পারেনি। এ সময় আমার অধ্যয়ন অব্যাহত ছিল এবং প্রত্যহ আমার এই চিন্তা ও ভয় বৃদ্ধি পেতে থাকে, না জানি এই অবস্থায় আমার মৃত্যু ঘটে আর সম্ভবত আমি এই নেয়ামতের যোগ্য নই। বারবার আমি নির্জনে ও একান্তে আমার মালিকের কাছে ফরিয়াদও করতাম। আমার মালিক! আপনিই আমাকে মুসলমান করে নিন। এই ছয় মাস আমার কঠিনভাবে অতিবাহিত হয়। আমার অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। এ সময় আমার বড় বোনের মৃত্যু হয়। আমাকে তার (মৃত্যু পরবর্তী) ক্রিয়া-কর্মে শরীক হতে হয়। আমি অভ্যন্তরীণভাবে মুসলমান হয়ে প্রথমবার আপন বোনকে (আগুনে) জ্বলতে দেখে আমার কেমন লেগেছিল তা আমি বলতে পারব না। আমার পিতামাতার পর আমার বড় বোন এই আগুনের মধ্য দিয়ে সেই দোযখের আগুনের দিকে চলে গেলেন। এরপর বয়সের দিক দিয়ে তার পরের নাম্বার ছিল আমার। আমার হিম্মত ভেঙে পড়তে লাগল। সারা রাত অস্থিরতার মধ্যে আমার ঘুম এল না। উঠে বসে পড়লাম। বিরাট আহাজারীর সঙ্গে দো’আ করতে থাকলাম : “মালিক আমার! ঈমান ব্যতিরেকে আমার মৃত্যু যেন না আসে।”

সকালে আমার খেয়াল হল যে, আমি কুতুবখানা আনজুমানে তরাক্কীয়ে ঊর্দূওয়ালাদের সাথে পরামর্শ করি। সম্ভবত কোন পথ বেরিয়ে আসতে পারে। তাদের কাছে গেলাম একং আমার গোটা কাহিনী বললাম। তারা বললেন, আপনি এখনই ফুলাত চলে যান এবং মাওলানা কলীম সাহেবের সঙ্গে দেখা করুন। তারা আমাকে ফুলাতের ঠিকানা দিলেন। আমি কুতুবখানা থেকে আমার গাড়ি নিয়ে তক্ষুণি ফুলাত গিয়ে পৌঁছি। ২০০১ সালের ২৪শে মে তারিখে আনুমানিক বেলা সাড়ে এগারটার সময় ফুলাত পৌঁছি। মাওলানা কলীম সাহেব কোন সফরের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হচ্ছিলেন। গাড়ি ছিল রেডি। বৈঠকখানায় তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই আমি খিটখিটে মেজাজে বলি, আমি মুসলমান হতে এসেছি। আপনি যদি করতে পারেন তো বলুন। অন্যথায় জওয়াব দিয়ে দিন। মাওলানা সাহেব সম্ভবত এই কথার দ্বারা আমার গোটা ঘটনাটাই বুঝে ফেলেন।
তিনি বলেন, “আপনি যদি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কালেমা পড়ে মুসলমান হতে চান তাহলে দাঁড়িয়েই দাঁড়িয়েই পড়ে ফেলুন। আর যদি চেয়ারে বসে পড়তে চান তাহলে বসে পড়–ন।”

আমি বসে পড়ি। তিনি আমাকে কলেমা পড়ান। আমার নাম রাখেন সাঈদ আহমদ। মাওলানা সাহেব আমাকে আন্তরিক মুবারকবাদ জানান ও গলা জড়িয়ে ধরেন। তিনি পানি চেয়ে পাঠান এবং বলেন, যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আপনার পরিচয় দিন এবং বলুন ইসলামের দাওয়াত আপনাকে কে দিয়েছে?”
আমি আমার পরিচয় দিই এবং বলি, ইসলাম নিজেই আমাকে দাওয়াত দিয়েছে। মাওলানা সাহেব আমার সমস্ত অবস্থা শুনে আমাকে সান্ত্বনা দিলেন যেন আমাকে ঠাট্টাচ্ছলে বললেন, “ডক্টর সাহেব! আপনি একজন বিজ্ঞানী। ইসলাম ধর্ম আপনি সত্য মনে করে কবুল করেছেন এবং ইসলাম পড়ে-শুনে আপনি এই ফয়সালা করেছেন। আপনি বেশ ভালভাবেই অনুধাবন করে থাকবেন যে, ইসলাম রসম-রেওয়াজের ধর্ম নয়। ঈমান আল্লাহ ও বান্দাহর মধ্যে সত্যিকার সম্পর্কের নাম। যখন সত্য মনে করে আপনি একে মেনে নিয়েছেন, অন্তরের অন্তস্থল থেকে স্বীকার করে নিয়েছেন, পিতা-পিতামহের পুতুল পূজা ও শির্ক (অংশীবাদিতা) ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তখনই আপনি আল্লাহর কাছে মুসলমান হয়ে গেছেন। আমি যে আপনাকে কলেমা পড়ালাম তা শুধু আপনাকে সান্ত্বনা দানের জন্য এবং আপনার মত একজন সত্যিকার ও গোনাহ থেকে পাক-পবিত্র মুসলমানের সঙ্গে কলেমা পড়ার সৌভাগ্য লাভের জন্য পড়েছি। নইলে মুসলমান তো আপনি ছয় মাস আগেই হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি এভাবে আমাকে ঠাট্টা করলেন যে, আমার সমস্ত ধাক্কা খাওয়ার যখমের চিকিৎসা হয়ে গেল। এখন আমি ঐসব লোকের পরিবর্তে যারা আমাকে কলেমা পড়াতে ইতঃস্তত ও সংকোচ বোধ করেছিলেন আমার বোকামীর ওপর নিজেই হাসলাম। মাওলানা সাহেবের এখানে লৌকিকতাপূর্ণ নাশতা হল। তিনি তাঁর সফর এক ঘণ্টা বিলম্বিত করলেন এবং যেসব লোক আমাকে কলেমা পড়াতে সংকোচ বোধ করছিলেন তা অবস্থার দাবি ছিল বলে তিনি তাদের পক্ষে সাফাই গাচ্ছিলেন এবং আমাকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করছিলেন যে, মুসলমানরা ইসলাম পিয়াসী ও দুঃখী মানবতার সত্য গ্রহণের পথে বাধা ও প্রতিবন্ধক। এমতাবস্থায় বেশি প্রয়োজন আপনার মত লোকের যারা কুরআনী ইসলাম বুঝেছেন ও মানছেন, মানুষের প্রকৃত ইসলামের সঙ্গে কথা ও কাজের দ্বারা পরিচয় করানো বরং দরদভরা মন নিয়ে দাওয়াত দেওয়া। তিনি আমার থেকে চলার পথে ওয়াদা ও অঙ্গীকার নেন যে, দুনিয়ার এই কমতি দূর করার জন্য আমি কাজ করব। মাওলানা সাহেব আমাকে খানা খেয়ে যাবার জন্য পীড়াপীড়ি করেন। কিন্তু আমি চাইলাম যে, মাওলানা সাহেবের সঙ্গে আমি কিছু সময় অতিবাহিত করি, কিন্তু তাঁর সফরের কারণে আমি অনুমতি নিয়ে সন্তুষ্টচিত্তে প্রত্যাবর্তন করি।
মওলভী আহমদ সাহেব! আপনি আমার ওপর অনুগ্রহকারী সন্তান। আমি আমার এই আনন্দদায়ক ও সফল সফরের স্বাদের কথা বলতে পারব না। আমার মনে হচ্ছিল যেন আজই আমি জন্মেছি। আমি সারাটা পথ চিন্তা করলাম যে, গোটা দুনিয়াটাকে একটি দেশে পরিণত করে আমাকে যদি তার বাদশাহ বানিয়ে দেয়া হত তাহলেও বোধ করি এত খুশি আমার লাগত না এবং তা এজন্য যে, আমি আজ আমার মালিককে যেন রাজী-খুশি করে ফিরছিলাম।

দিল্লী ফেরার পর আমি আমার স্ত্রীকে পরিষ্কার জানিয়ে দিই আমার ইসলাম গ্রহণের কথা। সে বাড়ির লোকদেরকে জানিয়ে দেয়। আমার ঘরে যেন বাজ পড়ল। বিলাপ ও কান্নাকাটি শুরু হয়ে গেল গোটা বাড়ি জুড়ে। আমার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা যিনি মন্ত্রীদের আসনে সমাসীন ছিলেন আমাকে অনেক লোভ দেখালেন এবং আমার সিদ্ধান্ত পাল্টাবার ওপর জোর দিলেন। আর সিদ্ধান্ত না পাল্টালে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করলেন। আমি স্পষ্ট ভাষায় আমার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিই। তিনি আমাকে পার্টিরই কেবল নয় বরং রাষ্ট্রের দু’জন বড় দায়িত্বশীল বরং বলতে কি এ সময়কার সবচেয়ে’ বড় দায়িত্বশীলের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেন। তারা আমাকে মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব দেন। আমি সেখানেও আমার স্পষ্ট সিদ্ধান্তের কথা তাদের জানিয়ে দিই। তারা যখন আমার ওপর চাপ দিচ্ছিলেন এবং আমাকে ছাড়তে চাচ্ছিলেন না। তখন ‘আচ্ছা, আমি ভেবে দেখব’ বলে নিজেকে মুক্ত করে চলে আসি। আর এটা তো স্পষ্ট যে, এই মুবারক ফয়সালার জন্য ভাবনা-চিন্তার কথা মনে হলেও আমি কেঁপে উঠি। আমি এই সাক্ষাতের কথা আপনার আব্বাকে জানিয়েছি। তিনি কি করা যায় তা দু’একদিনের মধ্যে আমাকে ভেবে-চিন্তে জানাবেন বলে জানান। পরে তিনি আমাকে দিল্লী পাবলিক স্কুল ছেড়ে কিছুদিনের জন্য সৌদী আরব কিংবা উপসাগরীয় কোন দেশে/রাষ্ট্রে থাকার জন্য বলেন। আমিও তাঁর এই মতকে উত্তম মনে করি। অতঃপর ইন্টারনেট দেখে একটি ইংলিশ স্কুলে ঐ ইন্টারনেটের ওপরই দরখাস্ত পাঠিয়ে দিই। ইন্টারনেটেই ইন্টারভিউ হয় এবং এক মাসের মধ্যেই তিন বছরের জন্য মাস্কাত চলে যাই। আল্লাহর শোকর যে, আমার এ সময়টা খুব ভাল কেটেছে।

আহমদ আওয়াহ. আপনি বলছিলেন যে, আব্বু আপনার থেকে কুরআনী ইসলামের দাওয়াত প্রদানের প্রতিশ্র“তি ও অঙ্গীকার নিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্র“তি ও অঙ্গীকারের কী হল?
ড. সাঈদ আহমদ. আমি তিন বছর মাস্কাতে কাটাই। কেবল, হ্যাঁ, কেবল দাওয়াতকে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বানিয়ে কাজ করেছি। আরব যুবকদেরকে আমি জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জেনে বাঁচার জন্য তৈরি করেছি এবং আমার সঙ্গী-সাথী ও বন্ধুদের মধ্যে কাজ করেছি। আমার কলেজের প্রিন্সিপাল যিনি ছিলেন ফ্রান্সের, আলহামদুলিল্লাহ মুসলমান হয়েছেন এবং তিনি প্যারিসে গিয়ে একটি দাওয়াতী প্রতিষ্ঠান কায়েম করেছেন। আমাদের কলেজের ছয় শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী ইসলাম কবুল করেছেন যাদের মধ্যে তিনজন ভারতীয় ও তিনজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনজন লন্ডনের। আনন্দের কথা এই যে, এরা সকলেই তাদের গোটা পরিবারসহ মুসলমান হয়েছেন। সংখ্যা তো বেশি নয়। কিন্তু আল্লাহর শোকর যে এরা সকলেই সচেতনভাবে কুরআনী মুসলমান। যেই কলেজে ছিলাম সেখানে এমন দাওয়াতী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে যে, প্রতি সপ্তাহে দাওয়াতী প্রোগ্রামে আমার আলোচনা খুব আগ্রহের সঙ্গে শোনা হয়। আমার কলেজের পঞ্চাশজন শাগরিদের আলহামদুলিল্লাহ এমনভাবে মনমগজ গঠিত হয়েছে যে, ইনশাআল্লাহ তারা যতদিন বেঁচে থাকবে, দাওয়াতকে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বানিয়ে বাঁচবে। তাদের অধিকাংশই ব্রিটেন ও পাশ্চাত্যে রয়েছে, দু’জন জাপানে ও দু’জন ইটালীতে দাওয়াতী কাজ করছেন। আসলে আমার সমস্যা ছিল। সে সময় আমিও পড়াশোনা করতে চেষ্টা করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, কুরআন শরীফ পড়েছি এবং উর্দূও আমার মোটামুটি রকম শেখা হয়েছে।

আহমদ আওয়াহ. এখন আপনি ফিজি যাবার প্রোগ্রাম বানিয়েছেন। ওখানে আপনার কাজ কী হবে?
ড. সাঈদ আহমদ. মূলত এই ফয়সালা আমি মাওলানা সাহেবের পরামর্শে এবং তাঁর ইঙ্গিতেই নিয়েছি। মাওলানা সাহেব ফিজি, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াতে দাওয়াতী কাজের জন্য অত্যন্ত চিন্তিত। এবং সেখানকার অবস্থা সম্পর্কে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। সেখানে তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু লোক কাজ করছে। মাওলানা সাহেবের ধারণা যে, পাশ্চাত্য দেশগুলো বিশেষ করে আমেরিকার দাদাগিরি ও নির্যাতনমূলক আচরণে উত্তেজিত ও ক্ষিপ্ত, তরুণ মুসলমানদের জিহাদী আন্দোলনের ফলে ইসলামের শতকরা ১০০% হৃদয়াশ্রিত ও করুণামিশ্রিত ছবি বিকৃত হয়ে গেছে। এজন্য এইসব তরুণ ও যুবক ইসলামের মূলনীতিসমূহকে উপেক্ষা করে পাশ্চাত্যের দেউলে মানবতার ইসলামের পথে আসার ক্ষেত্রে বাধা ও প্রতিবন্ধক। এজন্য ঐসব দেশে দাওয়াতের প্রয়োজনও অনেক বেশি এবং সেখানে আশাও অনেক বেশি। এজন্য আমি একটি চাকরি খুঁজে নিয়েছি এবং ইনশাআল্লাহ জানুয়ারি মাসে আমি সেখানে যাচ্ছি। আল্লাহ করুন, মাওলানা সাহেবের প্রত্যাশা পূরণের আমি যেন মাধ্যম হতে পারি।

আহমদ আওয়াহ. আরমুগানের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে কোন পয়গাম দিতে চাইবেন?
ড. সাঈদ আহমদ. আমি খুব বেশি বলার অবস্থায় নেই। অবশ্য আমার জীবন স্বয়ং মুসলমানদের জন্য পয়গাম ও শিক্ষণীয় উপদেশ। আমার এ কথা অত্যন্ত তিক্ত সত্য হবে যে, যদি মুসলমানরা সত্য ও সততা থেকে দেউলে ও মাহরুম মানবতাকে সত্যের দাওয়াতের হক আদায় না করতে পারে তাহলে কমপক্ষে কুরআনী ইসলাম ও দুনিয়ার মধ্যে বাধা ও প্রতিবন্ধক যেন না হয় এবং ইসলাম ও মানবতার মধ্যে থেকে যেন সরে না যায়।

আহমদ আওয়াহ. আসলেই একথা তো সত্য। কিন্তু আপনাকে এ ব্যাপারে একেবারে হতাশ হওয়া ঠিক হবে না। এজন্য যে, কোন না কোন পর্যায়ে আপনাকে যারা বই-পুস্তক দিয়েছেন, যেসব বই-পুস্তক আপনি পড়েছেন সে সবের লেখক এবং কলেমা পড়ানেওয়ালা সকলেই আজকালেরই মুসলমান।
ড. সাঈদ আহমদ. একথা একদম সত্য। এ সকল লোক আসলেই কুরআনী মুসলমান। কিন্তু এ ধরনের মুসলমানের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ এবং তাদের দেখার সুযোগ হয় কখন। অমুসলমানদের যে সব মুসলমানদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হয় তাদের অধিকাংশই তো তারা যারা কুরআনী ইসলামের জন্য প্রতিবন্ধক।

আহমদ আওয়াহ. আপনার একথাও আসলে সত্য। অনেক অনেক শুকরিয়া। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহু।
ড. সাঈদ আহমদ. আপনাকেও ধন্যবাদ। ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।


সাক্ষাৎকার গ্রহণে
মাওলানা আহমদ আওয়াহ নদভী
মাসিক আরমুগান, জানুয়ারী, ২০০৬ ইং

আনুবাদঃ মুফতি যুবায়ের আহমদ