ত্রিশ হাজার খ্রিস্টানেরগুরু যেভাবে দ্বিনের মুবাল্লেগ

প্রেক্ষাপট
পুরো বাংলাদেশে খ্রিস্টান মিশনারীরা মুসলমানদের ঈমান নষ্ট করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তারা রাত দিন বিরামহীন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের চেষ্টায় মুসলমানেরা দলে দলে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করতে লাইন ধরেছে। না বুঝে ঝাঁপ দিচ্ছে আগুনে, জ¦লতে যাচ্ছে চিরস্থায়ী জাহান্নামে। খ্রিস্টানেরা সাধারণত তিন শ্রেণির মানুষকে টার্গেট বানায়। ১. অজ্ঞ ২. দরিদ্র ৩. সরল। কুরআনের অপব্যাখ্যা করে, লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে খ্রিস্টান বানায়। বিভিন্ন গির্জা প্রতিষ্ঠা করে। কোথাও আবার এবাদতখানা নামে গির্জা কায়েম করে। যেখানে ভেতরে ভেতরে বড় একটি অংশ খ্রিস্টান হয়ে যায়, সেখানেই তারা গির্জা প্রতিষ্ঠা করে। বিভিন্ন গির্জা ও মুরতাদ হওয়ার খবর প্রায়ই আসতে থাকে। খবর পেয়ে হৃদয়ে অস্থিরতা, হা-হুতাশ ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।
এমনিভাবে একদিন খবর এলো জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানা থেকে। আমার এক বন্ধু যিনি সেসময় জামিয়া হুসাইনিয়া মেলান্দহ মাদ্রাসার মুহাদ্দিস ছিলেন, তিনি ফোনে খবর দিলেন মাদারগঞ্জে একটি মুসলিম গ্রামে খ্রিস্টানদের গির্জা প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এখানে দাওয়াতি কাজ করা প্রয়োজন। অনেক সময় বিভিন্ন খবর আসে, কিন্তু বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রে তেমনটা হয়না। তাই ঘটনাটি যাচাই করার জন্য সফর করলাম জামালপুরে। সাথে ছিলেন আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুবর জনাব ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম। তার গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহতে। তিনি ছিলেন এই সফরের রাহবার। মেলান্দহ থেকে আমিনুর ভাইয়ের মোটরসাইকেলে চড়ে গেলাম মাদারগঞ্জ থানার কয়লাকান্দী গ্রামে। সাথে ছিলেন মুফতী গোলাম রাব্বানী সাহেব ও মেলান্দহ মাদরাসার মুহতামিম মুফতী সামসুদ্দিন সাহেব। আরো ছিলেন মুফতী আমিনুল ভাই।
কয়লাকান্দী গ্রামটি হলো যমুনার চরে। রাস্তা-ঘাট তেমন সুবিধার না। রাস্তার পাশে প্রতিষ্ঠিত মুসলমানদের গ্রামে স্কুলের নামে এক বিশাল গির্জা। চতুর্দিকের দেওয়ালে ঘেরা সেই গির্জাটি। সেখানে কর্মরত আছেন দুইজন খ্রিস্টান। তবে তিনি হিন্দু থেকে খ্রিস্টান হয়েছেন। বাড়ি তার গোপালগঞ্জ। এই গ্রামে একটি মক্তব আছে। তবে মক্তবের বাতি টিম টিম করে জ¦লে মাঝে মাঝ, আবার নিভেও যায়। যাক ঘটনা স্বচক্ষে দেখলাম, কিছু অন্তরজ¦ালা ও অস্থিরতা নিয়ে ঢাকায় ফিরলাম।
মাশওয়ারা
সে সময় হযরত মাওলানা আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী রহ. জীবিত ছিলেন। তিনি ছিলেন আধ্যাত্মিক জগতের কামেল আল্লাহর ওলী। তাঁর বুযুর্গিকে তিনি বিনয়ের পর্দায় ঢেকে রাখতেন। মুফাক্কিরে ইসলাম সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.- এর সুযোগ্য খলিফা ছিলেন। উম্মতের দরদী ছিলেন। সর্বদা তাঁকে দেখতাম উম্মত নিয়ে চিন্তিত। ধর্মান্তরিতের খবর তাঁকে অস্থির করে রাখত। ইসলামী বিশ^কোষ ও সিরাত বিশ^কোষ তাঁর হাতেই রচিত। তিনি ইসলামী ফাউন্ডেশনে বিশ^কোষ বিভাগে দায়িত্বরত ছিলেন। এই মহান ব্যক্তিত্বের নাম সর্বপ্রথম শুনি আমার শায়খ হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা. বা. এর মুখে। তিনি বললেন, বাংলাদেশে গিয়ে মাওলানা ওমর আলী সাহেবের সাথে যোগাযোগ করবে। তিনি আমাকে পেয়ে খুব খুশি হয়েছিলেন। প্রথম সাক্ষাতে ফাউন্ডেশনে বসে আনন্দে বলছিলেন, মন চাচ্ছে তোমাকে আমি কোলে নিয়ে বসে থাকি। তাঁর হাত ধরেই আমার ঢাকা আসা। শেষ সময়ে তাঁর কাছেই আমাকে রাখতেন। আল্লাহ তাঁর কবরকে নূরে নূরান্নিত করুন। ও জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন।
মাদারগঞ্জ থেকে ফিরে হযরত মাওলানা ওমর আলী সাহেব রহ. এর সাথে পরামর্শ করলাম। তিনি বললেন, দেখ এখন তো মাদরাসাগুলোতে ক্লাস চলছে, জামাত নিয়ে যাওয়াও মুশকিল, দেখ কী করা যায়। আমি গেলাম হযরত মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী সাহেব দা. বা. এর কাছে। হুজুরকে মাদারগঞ্জের কারগুজারী শোনালাম, পরামর্শ চাইলাম। বললাম অন্যান্য সময় তো আমরা মাদরাসা ছুটি হলে জামাত নিয়ে যাই। এখন তো ছুটির সময় না, কী করা যায়? হুজুর বললেন, তিনদিনের জন্য আমার মাদরাসার আদব বিভাগের ছাত্র-উস্তাদ সবাইকে নিয়ে যাও। তখন আদব বিভাগের জিম্মাদর ছিলেন বন্ধুবর মাওলানা আব্দুল্লাহ ফারুক। তিন দিনের জন্য মাদারগঞ্জে ওই এলাকায় জামাত যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলো।
দাওয়াতি সফর
অক্টবর-২০১০.ঈসায়ীতে আমরা রওয়ানা হলাম মাদারগঞ্জের উদ্দেশ্যে। গিয়ে উঠলাম কয়লাকান্দি গ্রামের নুরানী মাদরাসার মসজিদে। ফ্লোরে চট বিছানো, ভাঙ্গা জানালা, দরজাহীন মসজিদ। নামাজী সংখ্যা একেবারেই কম।
এই সফরে বারিধারা মাদরাসার তিনজন উস্তাদও ছিলেন। বন্ধুবর মাওলানা মুজিবর রহমান ভাই আমার দেওবন্দের সফর সঙ্গী। মাওলানা মাহফুজ ভাই ও মাওলানা আব্দুল্লাহ ফারুক ভাই আমার দেওবন্দের সাথী।
জামাতের তারতীব
জামাতে সাধারণত তাহাজ্জুদে উঠে যাওয়া হয়, এরপর দুআ কান্নাকাটি। নাস্তার পর থেকে যোহর পর্যন্ত দাওয়াতের তালিম দেওয়া হয়। কীভাবে অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দেওয়া যায় এবং মুরতাদকে ফিরিয়ে আনা যায় এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। যোহরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সরাসরি অমুসলিম ও মুরতাদদের মাঝে দাওয়াত দেওয়া হয়। আর স্থানীয় বাজারে সব ধর্মের লোকদের কাছে ধর্মসভার আয়োজন করা হয়। এতো হলো সংক্ষিপ্তভাবে দাওয়াতি সফরের তারতিব।
প্রথম দিন
প্রথম দিন আমরা স্থানীয় সাথীদের সাথে পরামর্শ করে নিলাম। আলোচনা হলো মহিলাদের মাঝেও দাওয়াতি কাজ করতে হবে। কারণ অনেক মহিলা খ্রিস্টান হয়ে গেছে। আর তাদের মধ্যেই এই কাজটি বেশি হয়ে থকে। সিদ্ধান্ত হলো মহিলাদের তালিমের দুটি পয়েন্ট হবে। একটি স্থানে এলাকার মহিলারা সমবেত হবে, আর পর্দার আড়াল থেকে তাদেরকে দাওয়াত দেওয়া হবে। এক পর্যায় আমি গেলাম এক পয়েন্টে। দ্বিতীয় পয়েন্টে গেলেন মাওলানা মুজিব ভাই। এই মহিলাদের তালিম থেকে কয়েকটি ইঞ্জিল ও কিতাবুল মুকাদ্দাস বাইবেল উদ্ধার করা হলো। মুুরতাদদের কাছে দাওয়াতও পৌঁছান হলো, মুসলমানদের বলা হলো নামাজ পড়তে ও ইসলামের ওপর টিকে থাকতে।
ধর্মসভা
আরেকটি সিদ্ধান্ত হয়েছিল ধর্মসভা হবে। ধর্মসভার সিস্টেম হলো, দুইজন সাথী সকালে একটি মাইক ও ভ্যান নিয়ে পুরো এলাকায় মাইকিং করবে। মাইকিংয়ে বলা হয় সব ধর্মের লোকদের জন্য ধর্মসভা এবং ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই আমন্ত্রিত। ওই মাইক নিয়েই বাজারের মধ্যেস্থানে একটি চেয়ার ও একটি টেবিল বসিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়। অনেক মানুষ বিশেষ করে অমুসলিম যারা সামনে বসতে ইচ্ছুক না তাঁরা দোকানে বসে বয়ান শোনে। আর বলে দেখি হুজুররা কী বলে? সেখানে বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে ইসলামের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হয়।
খ্রিস্টধর্মের ভ্রান্ততা মুরতাদদের সামনে তুলে ধরা হয়। সুন্দর কৌশলে, যুক্তি ও প্রমাণভিত্তিক আলোচনা হয়। আমরাও সেখানে কয়লাকান্দি বাজারে ধর্মসভা করলাম। আমাদের কাছে বাইবেল, ইঞ্জিল, বেদ-পুরান ইত্যাদি গ্রন্থ ছিল। আমরা বাইবেল খুলে খুলে তাদের বিকৃত ও ভ্রান্ততাঁর সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আলহামদুলিল্লাহ আমাদের আলোচনার পর পাঁচজন মুরতাদ তওবা করেছে এবং ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে পুনরায় ফিরে এসেছে। তাদের কাছে যেসব কিতাব খ্রিস্টানেরা দিয়েছিল, যেমন, ইঞ্জিল, বাইবেল, কিতাবুল মুকাদ্দাস ইত্যাদি আমাদের কাছে জমা দিয়েছে।
দ্বিতীয় দিন
দ্বিতীয় দিন আমরা গেলাম তেঘুরিয়া বাজারে। ওই এলাকাটা হলো মুরতাদদের আস্তানা। সিদ্ধান্ত হলো ওই এলাকায় দাওয়াতি কাজ করা হবে। সাথে একটি ধর্মসভাও করা হবে। আমরা দাওয়াতি কাজ করছি, আর অন্য দিকে মাইকিং চলছে। এমন সময় কিছু লোক মাইকিং বন্ধ করতে বাধা দিল। অধম ওই জামাতের জিম্মাদার থাকার কারণে খবর দেওয়া হলো, গিয়ে দেখলাম ওখানে বাঁধা প্রদান কারীদের মধ্যে একজন ছিলেন সুলতান ফকির, তিনি মুসলমান থেকে খ্রিস্টান। তিনি বলছেন এটা আবার কেমন জামাত? তাবলিগ ওয়ালারা তো মাহফিল করে না। কোনো ধর্মের বিরোধী কথা বলে না। তাবলিগ ওয়ালাদের কাছে বাইবেল. ইঞ্জিল ও বিভিন্ন ধর্মীয় বই-পুস্তক থাকে না। এরা আবার কেমন তাবলিগ যে, এদের কাছে বাইবেল হিন্দুদের কিতাব আছে। এরা ধর্মসভা করছে। যদিও আমরা প্রথমেই বলেছি আমরা আলেমদের একটি বিশেষ জামাত যা, ওলামায়ে কেরামের পরামর্শে পরিচালিত। যাক, আমরা বাঁধা মেনে নিলাম এবং বাজার মসজিদেই বাদ মাগরিব আলোচনা হলো। আলহামদুলিল্লাহ।
তৃতীয় দিন
এর মধ্যে এই খবর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে যে, ওলামায়ে কেরাম মাহফিল করেতে চেয়েছেন আর সেখানে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাই বহু আলেম ও দাওয়াতে তাবলিগের জিম্মাদার সাথী একত্রিত হয়েছেন। আমরা তাদেরকে দাওয়াত দিয়েছিলাম। কারণ আমরা যেখানে দাওয়াত দিতে যাই সেখানে তৃতীয় দিন স্থানীয় ওলামা, দায়ীসাথী, ও গণ্যমান্য লোকদের নিয়ে কিছু মুযাকারা করি। তাদের কাছে কারগুজারী পেশ করি এবং পরবর্তী এই কাজের জিম্মাদারী সবাইকে ভোগ করে দেয়া হয়। আলহামদুলিল্লাহ অনেক লোক ও ওলামা একত্রিত হলেন, তাদেরকে তাশকিল করা হলো। এরপর আমরা ঢাকায় ফিরলাম।
তাশকিলী সফর
ঢাকায় ফিরে কারগুজারী শোনানো হলো। হযরত মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী সাহেব দা. বা. বললেন, তোমরা স্থানীয় ওলামাদের নিয়ে ওই স্থানে একটি জামাত নিয়ে যাও। তাহলে তারা আর কিছু বলতে পারবে না। সিদ্ধান্ত হলো তাশকিল করতে যেতে হবে মেলান্দহ মাদরাসায়। মুফতি শামসুদ্দিন সাহেব মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জের আলেমদের জমা করবেন। আর তাশকিল করবেন হযরত মাওলানা উবাইদুল্লাহ ফারুক সাহেব দা. বা. ও অধমও সাথে থাকবে। বড়দের সাথে সফর করলে শেখার বহু কিছু থাকে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন হযরত মাওলানা উবাইদুল্লাহ ফারুক সাহেব দা. বা.। হুজুরের সাথে আল্লাহর রহমতে অনেক সফর হয়েছে। প্রথম সফর হয় ভারতে। এটা ছিল হুজুরের সাথে আমার সম্ভবত দ্বিতীয় সফর। হুজুরের সফরসঙ্গী হয়ে মেলান্দহ মাদরাসায় পৌঁছলাম। মুফতি শামসুদ্দিন সাহেব ও মাওলানা আমিনুল ইসলাম সাহেবসহ আরো অনেকে হুজুরকে রেলস্টেশন থেকে ইস্তেকবাল করে নিয়ে গেলেন। হুজুর সম্পর্কে আপনাদের কিছু বলা দরকার। হুজুর হলেন এক মহান ব্যক্তিত্ব, ইতিহাসের পÐিত। তিনি যখন ইতিহাস বলেন, মনে হয় চোখের সামনে ইতিহাস ঘোরপাক খাচ্ছে। এত সুন্দর বাচনভঙ্গিতে আলোচনা করেন, যারা একবার তাঁর বয়ান শোনেন, দ্বিতীয় বার বয়ান শোনার জন্য পিপাসার্ত হয়ে থাকেন। হাসি তাঁকে এত ভালোবাসে, তাঁর মুখ থেকে এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয় ছুটি নেয় না। হুজুরের প্রশংসা করতে আমার কলম ব্যর্থ।
সকাল ১০টায় ওলামাদের সমাগম শুরু হলো, একজন অপরজনের সাথে কুশল বিনিময় করছেন। মনে হচ্ছে বহু দিন পর সাক্ষাৎ হলো। কিছুক্ষনের মধ্যে ওলামা, ইমাম, খতীবগণ জমে বসে গেলেন। ক্বারী সাহেব সুরেলা কণ্ঠে মধুর তেলাওয়াত করলেন। আহ! প্রাণটা জুড়িয়ে গেল। একজন শিল্পী মাদরাসারই ছাত্র চমৎকার ভঙ্গিতে নবীজির শানে নাত পাঠ করল। এবার এলো বক্তৃতা ও তাশকিলের পালা। প্রথমেই ঘোষক অধমের নাম ঘোষণা করলেন। আমি ছোট মানুষ, ওলামাদের সামনে কী বলব? আমার ইলম নেই। আমল নেই। এর পরও বড়দের হুকুম মানতে আমার সবক শুনিয়ে দিলাম। এবার হুজুরের পালা। হুজুর সুন্দরভাবে ইংরেজদের ইতিহাস বললেন। কীভাবে তারা ভারতে এসেছিল এবং এই জাতিকে লুটেছিল, এর ইতিহাস তুলে ধরলেন। উদ্বুদ্ধ করলেন, তাদেরকে জামাতে যাওয়ার জন্য। ওলামায়ে কেরাম হুজুরের দরদমাখা বয়ান শুনে প্রায় ৪০-৪৫ জন প্রস্তুত হয়ে গেলেন। তাদের নাম ও মোবাইল নাম্বার লিখে নেওয়া হলো, দুআর মাধ্যমে মাহফিল সমাপ্ত হলো। উসূলের জন্য কয়েকজনকে দ্বায়িত্ব দেওয়া হলো।
স্থানীয় ওলামাদের নিয়ে দাওয়াতি সফর
পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা একত্রিত হলাম জামিয়া হুসাইনিয়া মেলান্দহ মাদরাসায়। যাদেরকে তাশকিল করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে ১৮ জন উসূল হয়েছে। এর মধ্যে আবার কিছু ছিল পারটাইম। আমরা ঢাকা থেকে ছিলাম ৬ জন, আমিন ভাইসহ এই মোট ২৪ জন সাথী নিয়ে আমরা পৌঁছলাম তেঘুরিয়া বাজার মসজিদে। যেখানে বাঁধা সেখানেই জামাতের রোখ। আমাদের পৌঁছতে পৌঁছতে ১২টা বেজে যায়। আমাদের তারতিবে আমরা কাজ শুরু করলাম। বিকালে ফরিদউদ্দিন নামে কুয়েত প্রবাসী এক ভাই এসে বললেন, আমাদের এখানে এক লোক আপনাদের সাথে কথা বলতে চায়।
তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বললেন, ওই লোকের নাম জালাল বুইদা। তিনি মানুষের বাড়ি বাড়ি কিতাবুল মুকাদ্দাসের তালীম করেন। মুসলমান থেকে খ্রিস্টান হয়েছেন। কিতাবুল মুকাদ্দাসের সংক্ষিপ্ত পরিচয় পাঠকের জানা থাকা উচিত। কিতাবুল মুকাদ্দাস হলো, খ্রিস্টানদের বাইবেল। মুসলমানদের ধোঁকা দেয়ার জন্য ইসলামী পরিভাষা ব্যবহার করে নাম দিয়েছে ‘কিতাবুল মুকাদ্দাস’। অন্য কোনো কারগুজারীতে বিস্তারিত পরিচয় আপনাদেরকে দেব ইনশাআল্লাহ। যাক, ওই লোকের ছেলেও এসে আমাদের কাছে অনুনয়-বিনয় করতে লাগল, হুজুর! আমার বাবাকে বাঁচান। আমরা অনেক বলেছি, আমাদের কথায় কান দেন না। উল্টো আমাদেরকে বুঝান। বাবা খ্রিস্টান হওয়ায় ছেলেরা পৃথক ঘর করে দিয়েছে। ঠিক হলো এশার পর তার সাথে দেখা হবে, আমরা তার সাথে কথা বলব।
দাওয়াত
এশার নামাযের পর আমরা চারজন সাথী তার কাছে গেলাম। আমার সাথে ছিলেন মাওলানা নুরুল ইসলাম ভাই, আমিনুল ভাই ও রাহবার ফরিদ ভাই। গিয়ে দেখি তিনি চারজানু হয়ে বসে আছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বাংলা কুরআন শরীফটি নিচে রেখে নিজ নোটবুক দেখে আন্ডারলাইন করছেন। আমাদের সাথে কথা বলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সালাম কালামের পর তার সঙ্গে এই কথোপথন হলো-
যুবায়ের: চাচা নামায পড়েছেন?
জালাল: না,পড়িনি।
যুবায়ের : কন?
জালাল: আমি ঈসায়ী তরিকায় তরিকাবন্দি হয়েছি, তাই নামায পড়ি না।
যুবায়ের: ঈসায়ী তরিকাবন্দি হলেন কেন?
জালাল: আল্লাহ বলেছেন তাই।
যুবায়ের : আল্লাহ কী বলেছন?
জালাল- قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَسْتُمْ عَلَى شَيْءٍ حَتَّى تُقِيمُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ
অর্থ- বলুন হে আহলে-কিতাবগণ, তোমরা কোনো পথের উপরই না, যে পর্যন্ত না তাওরাত-ইঞ্জিল প্রতিষ্ঠা করবে।
এখানে আল্লাহ তাআলা তাওরাত ইঞ্জিল প্রতিষ্ঠা করতে বলেছেন, যেমন বলেছেন নামায কায়েম করতে। তাই আমরা তাওরাত ইঞ্জিল প্রতিষ্ঠা করি, এই জন্য নামায পড়িনা।
যুবায়ের- তাওরাত ইঞ্জিল তো বাতিল ও বিকৃত হয়ে গেছে। তাহলে এটা মানেন কেন?
জালাল- দেখুন তাওরাত ইঞ্জিলও তো আল্লাহর কালাম, আর আল্লাহর কালাম কেউ পরিবর্তন করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন।
لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ
অর্থ- আল্লাহর কালাম কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না।
জালাল- এই কুরআন তো আমাদের জন্য নয়।
যুবায়ের- কেন?
চাচা- এটা তো আরবদের জন্য, মক্কা ও তার পার্শ্ববর্তী লোকদের জন্য, দেখুন আল্লাহ তাআলা বলেছেন।-

وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ قُرْآَنًا عَرَبِيًّا لِتُنْذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا
অর্থ- এমনিভাবে আমি আপনার প্রতি আরবি ভাষায় কুরআন নাযিল করেছি, যাতে আপনি মক্কা ও তার আশে-পাশের লোকদের সতর্ক করেন।
-আর এই কুরআনতো আসল কুরআন নয় !
যুবায়ের- কেন? আসল কুরআন কোথায়?
জালাল- দেখুন হযরত উসমান রা. সব কুরআন একত্রিত করে জ¦ালিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর তিনি নিজে একটি কুরআন লিখেছেন। এই জন্য বর্তমান কুরআনকে ‘মাসহাফে উসমানী’ বলা হয়।
এমনভাবে একদমে তিনি বিভিন্ন প্রশ্ন বলে যাচ্ছে। আমি বললাম, চাচা! আমি কিছু বলি? চাচা বললেন, বলুন।
আমি চাচাকে তার উহ্য প্রশ্নগুলো বললাম। অর্থাৎ সামনে তিনি যেসব প্রশ্ন করবেন তা বললাম, চাচা মিঞা বিস্মিত হলেন।
কারণ তার প্রশ্ন আমি বলে দিলাম। পুরো পৃথিবীতে তারা নির্দিষ্ট কিছু ছকের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। এই গÐির বাইরে যেতে পারে না। তাদের প্রশিক্ষণে তাদের শিক্ষকেরা যা কিছু শিখিয়ে দেন, তাই বলতে পারেন। এর বাইরে কিছুই বলতে পারেন না।
পুরো বিশে^র কথা কেন বললাম? এর প্রমাণ হিসেবে একটি ঘটনা শোনাই আপনাদের। আমার এক বন্ধু আমেরিকায় থাকেন, নাম সারওয়ার। একদিন সকালে সারওয়ার ভাইয়ের ফোন। বললেন, যুবায়ের ভাই! আমার সামনে দুইজন খ্রিস্টান প্রচারক এসেছেন। তারা কিছু প্রশ্ন করেছেন আপনি একটু উত্তর বলে দিন। আমি বললাম বলুন কী প্রশ্ন? এবার তিনি প্রথম প্রশ্নটি ‘হে আহলে কিতাব’ বললেন। আমি উত্তর না দিয়েই বললাম, আপনি তাকে জিজ্ঞাসা করুন, এরপর কি তারা এই প্রশ্ন করবেন? সারওয়ার ভাই প্রচারকদের বললেন আপনারা কি এরপর এই প্রশ্ন করবেন? তারা বললেন হ্যাঁ। কয়েকটি প্রশ্ন করার পর তারা হ্যাঁ বাচক উত্তর দিলেন। এতে আমারও জানা হয়ে গেল যে, সারা বিশে^ এই কয়েকটি প্রশ্ন বিভিন্ন ভঙ্গিতে করে থাকে। এবার তাকে উত্তর দিলাম এতে ওই প্রান্ত থেকে প্রচারকরাও খুব বিস্মিত হলেন।
যাক আসল ঘটনায় ফিরে আসি। এবার চাচা মিঞাকে তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিলাম। (এখানে তাদের প্রশ্ন ও অপব্যাখ্যাগুলো তুলে ধরলাম। পাঠকদের সুবিধার জন্য এখানে বিস্তারিত সাজিয়ে লিখলাম।)
১নং প্রশ্নের উত্তর-
তাওরাত-ইঞ্জিল প্রতিষ্ঠা করতে হবে
খ্রিস্টানদের দাবি: মুসলমানদেরকে তাওরাত-ইঞ্জিল অনুসরণ ও প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নতুবা প্রকৃত ঈমানদার হওয়া যাবে না।

তাদের দলিল:
قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَسْتُمْ عَلَى شَيْءٍ حَتَّى تُقِيمُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلَيَزِيدَنَّ كَثِيرًا مِنْهُمْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ طُغْيَانًا وَكُفْرًا فَلَا تَأْسَ عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
অর্থ: বলুন হে আহলে-কিতাবগণ, তোমরা কোনো পথের ওপরই না, যে পর্যন্ত না তাওরাত-ইঞ্জিল ও তোমাদের রব হতে অবতীর্ণ কিতাবের অনুসরণ কর, বস্তুত: তোমার রব হতে অবতীর্ণ বিষয়সমূহে অনেকের অবাধ্যতা ও কুফরি বৃদ্ধির কারণ হয়। তাই, তুমি এই কাফের দলের প্রতি আদৌ দুঃখিত হইও না।
সঠিক ব্যাখ্যা :
হে আহলে কিতাবগণ! আমার রাসূল তোমাদের কাছে এসেছেন, তোমরা কিতাবের যা গোপন করতে তিনি তার অনেক কিছু তোমাদের কাছে প্রকাশ করেন এবং অনেক কিছু উপেক্ষা করে থাকেন।
এখানে ‘আহলে কিতাবগণ’ দ্বারা ইহুদী-খ্রিস্টান উদ্দেশ্য। কুরআন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইহুদী-খ্রিস্টানরা তাদের গ্রন্থ পরিবর্তন করেছে। এখানে আহলে কিতাব দ্বারা ইহুদী-খ্রিস্টানদের বুঝানো হয়েছে। তারা যে তাওরাত ইঞ্জিলের অনেক বিষয়াদি গোপন করেছে এবং করেই চলছে কুরআন তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। যেমন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান আনা, তার সঠিক গুণাবলী বর্ণনা করা, রজমের আয়াত গোপন করা ইত্যাদি। হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শেষ নবী হওয়ার ব্যাপারে ঈসা আ. যে সুসংবাদ দিয়েছেন ইত্যাদি তারা তাওরাত-ইঞ্জিল থেকে গোপন করেছে। আর বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু দ্বীনের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়াদি ও তাঁর সত্য নবী হওয়ার ব্যাপারে প্রমাণ বহন করে, সে সমস্ত বিষয়াদি তাঁরা তাওরাত -ইঞ্জিল থেকে গোপন করেছে।
যেভাবে অপব্যাখ্যা করে
এই আয়াতে তাঁরা তিনভাবে অপব্যাখ্যা করে
১. আয়াতের নির্দেশ মোতাবেক তাওরাত-ইঞ্জিল ও কুরআন শরীফ অনুসরণ করতে হবে। মুসলমান হিসেবে কুরআনের আদেশ বাস্তবায়ন করতে হবে।
২। উপরোক্ত আয়াতের আলোকে আমরা যদি লক্ষ্য করি, তাহলে দেখব ‘অনুসরণ’ কাজটি বর্তমান কাল, অর্থাৎ এই কিতাবে যা আছে তা সর্ব সময় আমল করতে বলা হয়েছে।
৩। এই আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَسْتُمْ عَلَى شَيْءٍ حَتَّى تُقِيمُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ হে আহলে-কিতাবগণ, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তাওরাত-ইঞ্জিল প্রতিষ্ঠিত না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের কোনো ভিত্তি নেই।” অতএব, মুসলমানদেরকে তাওরাত-ইঞ্জিল প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
উত্তর:
১. প্রথম দাবি, পূর্বের কিতাব অর্থাৎ ‘তাওরাত-ইঞ্জিল’ অনুসরণ করতে হবে। এই দাবির পক্ষে খ্রিস্টান প্রচারকরা আয়াতের যে অনুবাদ করেছে, তা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ, এই আয়াতে কোথাও অনুসরণ করতে বলা হয়নি। তারা নিজেদের পক্ষ থেকে অনুসরণ শব্দটি যোগ করেছে। অতএব, ‘অনুসরণ’ করার যে দাবি তারা করেছিল তা নিতান্ত মনগড়া অনুবাদ। ধোঁকাবাজি ছাড়া আর কিছুই না।
২. তারা ব্যাখ্যা করেছেÑ‘অনুসরণ’ শব্দটি বর্তমান কাল…..’। তাদের এই ব্যাখ্যাটিও একেবারেই মনগড়া ও ভিত্তিহীন। এবার খ্রিস্টান ভাইদের প্রতি আমার জিজ্ঞাসা, আপনারা তো তাফসীর ও হাদিস মানেন না। বলে থাকেন কুরআন থাকতে ব্যাখ্যা কিসের?
আপনারা উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা কিসের ভিত্তিতে করলেন? কোথায় পেলেন এই ব্যাখ্যা? আর কত দিন এভাবে ভুল অনুবাদ ও অপব্যাখ্যা করে মানুষকে জাহান্নামের পথ দেখাবেন? আসুন! ভুল ব্যাখ্যা বাদ দিয়ে সত্য জানুন। ইসলাম গ্রহণ করুন। জান্নাতের পথে চলুন।
৩. উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে খ্রিস্টান প্রচারকরা লিখেছেন, ‘উক্ত আয়াত অনুযায়ী মুসলমানদেরকে কুরআনের আদেশ বাস্তবায়ন করতে হবে অর্থাৎ তাওরাত-ইঞ্জিল অনুসরণ ও মানতে হবে।’ তাদের এই ব্যাখ্যাটিও সম্পূর্ণ মনগড়া।
এ পর্যায়ে খ্রিস্টান ভাইদেরকে দাওয়াত দিতে চাই, ভাই! আপনি এসব মনগড়া ব্যাখ্যা বাদ দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করুন। কারণ, ইসলাম-ই হলো আল্লাহ তা‘আলার কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম। দেখুন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন:-
إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ وَمَنْ يَكْفُرْ بِآَيَاتِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ (১৯)
অর্থ: নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা‘আলার কাছে গ্রহণযোগ্য ধর্ম একমাত্র ইসলাম এবং যাদের প্রতি কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের কাছে প্রকৃত জ্ঞান আসার পরও ওরা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে, শুধু পরস্পর বিদ্বেষবশত যারা আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শনসমূহের প্রতি কুফরী করে তাদের জানা উচিত যে, নিশ্চিতরূপে আল্লাহ তা‘আলা হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রæত।
وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآَخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ .
যে কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম তালাশ করে, কস্মিনকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত।
আপনি খ্রিস্টধর্ম ছেড়ে দিন। যেহেতু আল্লাহ তা‘আলার কাছে ইসলাম-ই হলো একমাত্র মনোনীত ধর্ম। আপনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করুন। কারণ, ইসলাম ছাড়া আর কোনো ধর্র্ম আল্লাহ তা‘আলার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। কুরআনের নির্দেশ মানতে গিয়েই আপনাকে মুসলমান হওয়ার দাওয়াত দিচ্ছি।
আরো শুনে রাখুন, আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে কী বলেন-
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ (১) اللَّهُ الصَّمَدُ (২) لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ (৩) وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ
অর্থ: বলুন, তিনি আল্লাহ তা‘আলা, এক। ২.আল্লাহ তা‘আলা অমুখাপেক্ষী। ৩. তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। ৪. এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।
অর্থাৎ. আপনি একত্ববাদকে গ্রহণ করুন। ত্রিত্ববাদ পরিত্যাগ করুন। আপনি যদি মুরতাদ হয়ে থাকেন অর্থাৎ মুসলমান থেকে খ্রিস্টান হয়ে থাকেন, তাহলে ইসলামে ফিরে আসুন। আপনি টাকার লোভে পড়ে তাদের শিখানো কিছু বুলি শিখে, মানুষকে ভুল ধর্মের দিকে দাওয়াত দিচ্ছেন। ফলে, আপনার দুনিয়া ও আখেরাত সবকিছুই নষ্ট করছেন। আমি চাই না আপনি আমার ভাই হিসেবে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হোন। চাই না আপনি তপ্ত আগুনে জ্বলুন।
৪. উল্লিখিত আয়াতে يَا أَهْلَ الْكِتَابِ বলে আহলে কিতাবদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। (যাদেরকে পূর্বে কিতাব দান করা হয়েছে) অর্থাৎ, ইহুদী-খ্রিস্টানদেরকে। মুসলমানদেরকে নয়। তাদের নিজেদেরকেই তাওরাত-ইঞ্জিল প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এমন দৃষ্টান্ত কুরআনে অনেক আছে। যেমনÑ বলুন, হে কাফিরগণ! বলুন, হে আহলে কিতাবগণ অর্থাৎ ইহুদী-খ্রিস্টান। এমন বহু আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ভিন্ন ভিন্ন জাতিকে সম্বোধন করে নির্দেশ দিয়েছেন। এই আয়াতে সম্বোধন করা হয়েছে ইহুদী-খ্রিস্টানদেরকে ।
৫. (ক) এই আয়াতে ইহুদী-খ্রিস্টানদেরকে বলা হয়েছে, তাওরাত ও ইঞ্জিলে শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা যেন প্রতিষ্ঠিত করে। অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শেষ নবী হিসেবে মেনে নেয় ও মুসলমান হয়ে যায়।
(খ) তাওরাত-ইঞ্জিল বিকৃত ও রহিত হওয়ার পরেও যেসব বিধি-বিধান শরীয়তে মুহাম্মদীতে বিদ্যমান আছে। যেমন: একত্ববাদ ও দশ-আজ্ঞা, আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা সেগুলো প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি খ্রিস্টান ভাইদেরকে বলবো-আপনারা যদি এই আয়াত অনুযায়ী তাওহীদ তথা একত্ববাদ ও দশ-আজ্ঞা প্রতিষ্ঠা করতেন, র্শিক ও ব্যভিচারের শাস্তি প্রতিষ্ঠা করতেন, তাহলে মানব সভ্যতা বর্তমানে এতো অবক্ষয়ের মধ্যে পড়তো না। নি¤েœ বাইবেল থেকে কুফর-শিরক ও ব্যভিচারের শাস্তির বিবরণ তুলে ধরা হলো। আপনারা তাওরাত-ইঞ্জিলের নি¤েœর বিধানগুলো প্রতিষ্ঠা করুন।
বাইবেলে কুফর-শিরক এর শাস্তি মৃত্যুদÐ
বাইবেলে আছে-আর যদি ঐদিন কোনো ব্যক্তি, পুরুষ, নারী, ছোট-বড়, যে কেউ কোনো মূর্তি, প্রতিমা, ছবি প্রতিকৃতি প্রতিষ্ঠা করে, শিরক করে বা শিরকের প্রচারণা করে বা প্ররোচনা দেয়, তাহলে তাকে পাথরের আঘাতে হত্যা করতে হবে। এমনকি যদি কোনো নবীও অনেক মুজেযা দেখানোর পর কোনোভাবে শিরকের প্ররোচনা দেন, তাহলে তাকেও পাথরের আঘাতে হত্যা করতে হবে। যদি কোনো জনপদবাসী শিরকে পতিত হয়, তাহলে সে গ্রামের বা নগরের সবকে অবশ্যই হত্যা করতে হবে এবং সে গ্রামের পশু-পক্ষি হত্যা করতে হবে। গ্রামের সব সম্পদ ও দ্রব্যাদি পুড়িয়ে ফেলতে হবে। এক্ষেত্র তওবার কোনো সুযোগ নেই।
ব্যভিচারের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদÐ
এমনকি পরনারীর প্রতি দৃষ্টিপাতকে ঈসা মসীহ ব্যভিচার বলে গণ্য করেছেন এবং উক্ত ব্যক্তিকে তার চোখ তুলে ফেলে দিতে বলেছেন। তিনি বলেন “যে কেহ কোনো স্ত্রীলোকের প্রতি কামভাবে দৃষ্টিপাত করে, সে তখনই মনে মনে তাহার সহিত ব্যাভিচার করিল। আর তোমার দক্ষিণ চক্ষু যদি তার বিঘœ জন্মায় তবে তাহা উপড়াইয়া দূরে ফেলে দাও, কেননা সমস্ত শরীর নরকে নিক্ষিপ্ত হওয়া অপেক্ষা বরং একটি অঙ্গের নাশ হওয়া তোমার পক্ষে ভালো। অন্যত্র মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ
অর্থ: বলুন, হে আহ্লে-কিতাবগণ! একটি বিষয়ের দিকে আস, যা আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান; আমরা আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করব না; তাঁর সাথে কোনো শরীক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাকে ছাড়া কাউকে প্রতিপালক বানাব না। তারপর যদি তারা স্বীকার না করে, তাহলে বলে দাও যে সাক্ষী থাক আমরা তো অনুগত।
এবার আমি খ্রিস্টান ভাইদেরকে বলতে চাই, “ভাই! আপনাদের প্রতি কুরআন নির্দেশ দিয়েছে। আপনারা তাওরাত-ইঞ্জিলের বিধি-বিধান প্রতিষ্ঠা করবেন, তাওরাত-ইঞ্জিলের নামে শিরক ও ব্যভিচার প্রতিষ্ঠা বা প্রচারের নির্দেশ দেননি। আগে আপনারা খ্রিস্টানরা আপনাদের ব্যক্তি, দেশ ও রাষ্ট্রগুলিতে তাওরাত-ইঞ্জিলের তাঁরহীদ ও বিধি-বিধান প্রতিষ্ঠা করুন। শিরক, ব্যভিচার ইত্যাদি পাপের শাস্তি প্রতিষ্ঠা করুন-যা আপনাদের কিতাব নির্দেশ দেয়। সব খ্রিস্টান চার্চে ঈসা মসীহ, তাঁর মাতা মরিয়ম ও অন্যান্য অগণিত মানুষের প্রতিমা বিদ্যমান। তাওরাত-ইঞ্জিলের বিধান অনুসারে এগুলো ধ্বংস করুন। যারা এগুলোকে বানিয়েছে, এগুলোতে ভক্তি বা মানত-উৎসর্গ করেছে বা উৎসাহ দিয়েছে। তাদের সবাইকে মৃত্যুদÐ দিন। এরপর তাওরাত-ইঞ্জিল নিয়ে আসুন।”
আচ্ছা ভাই! আপনারা কোন তাওরাত ইঞ্জিলের কথা বলছেন? ঈসা আ.-কে আকাশে উঠিয়ে নেয়ার পর ৩০০ বছরের মধ্যে যেই ইঞ্জিল ছিল, এমন একটি ইঞ্জিল দেখাতে পারবেন কি? নিশ্চয়ই, আপনারা পারবেন না। আপনাদের পূর্ববর্তী লোকেরাও পারেনি। আরও একটি অনুরোধ রইল- আপনারা এভাবে কুরআনের অপব্যাখ্যা করবেন না। পারলে আপনাদের বাইবেল দ্বারা ধর্ম প্রচার করুন যদি আপনারা সেটাকে সঠিক বলে বিশ্বাস করেন। আপনাদের জন্য দুআ করি, আল্লাহ তা‘আলা আপনাদেরকে হেদায়াত দান করুন। ইসলাম গ্রহণ করার তাওফীক দান করুন। জাহান্নামের চিরস্থায়ী আগুন থেকে বাঁচার তাওফীক দান করুন। আমিন।

২নং প্রশ্নের উত্তর
কুরআন শুধু মক্কা ও তার আশেপাশের লোকদের জন্য
খ্রিস্টানদের দাবি: কুরআন শুধু মক্কা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকদের জন্য নাযিল হয়েছে।
তাদের দলিল:
وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ قُرْآَنًا عَرَبِيًّا لِتُنْذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا وَتُنْذِرَ يَوْمَ الْجَمْعِ لَا رَيْبَ فِيهِ فَرِيقٌ فِي الْجَنَّةِ وَفَرِيقٌ فِي السَّعِيرِ.
অর্থ: এমনিভাবে আমি আপনার প্রতি আরবি ভাষায় কোরআন নাযিল করেছি, যাতে আপনি মক্কা ও তার আশে-পাশের লোকদের সতর্ক করেন এবং সতর্ক করেন সমাবেশের দিন সম্পর্কে- যাতে কোনো সন্দেহ নেই। একদল জান্নাতে এবং একদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা :
‘হাওলাহু’ শব্দের ব্যাখ্যায় তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪নং খÐের. ১০৯নং পৃ: রয়েছে (‘মিন সায়িরিল বিলাদী শরকান ওয়া গরবান’) সারা পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমে।
আর তাফসীরে কুরতুবীতে ১৬নং খÐের ৬নং পৃ: রয়েছে (‘মিন সায়িরিল খলকি’) সব সৃষ্টি। আর তাফসীর বগভী ৪/১২০ রয়েছে (‘কুরাল আরযী কুল্লাহা’) পৃথিবীর সব ভূমি। সুতরাং, এ সমস্ত তাফসীরের মাধ্যমে বোঝা গেল ‘হাওলাহু’ দ্বারা সমস্ত পৃথিবী বুঝানো হয়েছে।
যেভাবে অপব্যাখ্যা করে:
খ্রিস্টানরা এই আয়াত দ্বারা প্রমাণ করতে চায়, কুরআন শুধু মক্কাবাসী ও তার পার্শ্ববর্তী কয়েকটি এলাকার জন্য। যেমন তাদের বই ‘গুনাহগারদের জন্য বেহেস্তে যাওয়ার পথ’ নামক, বইয়ের ১৩নং পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে….“কুরআন শরীফ অবতীর্ণ করা হয়েছে আরবি ভাষায়, যাতে মক্কা ও তার চতুর্দিকের জনগণকে সতর্ক করতে পারে। এখানে মনে রাখা উচিত চতুুর্দিকের বলতে সমস্ত বিশ্বকে বোঝায় না। অর্থাৎ মক্কা ও তাঁর চতুর্দিকের আরবি ভাষাভাষী লোকদের বুঝায়। ”
আমরা হলাম বাংলাদেশি, মক্কা থেকে অনেক দূরে- সুতরাং কুরআন আমাদের জন্য নয়। দ্বিতীয় বিষয় হলো কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে আরবি ভাষায়, আরবদের জন্য। আমাদের ভাষা হলো বাংলা। আরবি আমাদের ভাষা নয়। অতএব, কুরআন আমাদের জন্য নয়।
১নং উত্তর :
১. حَوْلَهَ অর্থ চারপাশ, মক্কা হলো পৃথিবীর নাভি। মূল কেদ্রবিন্দু। ‘চারপাশ’ বলার দ্বারা নির্দিষ্ট কোনো স্থানে সীমাবদ্ধ থাকে না। যেমন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে মক্কা ছাড়াও কেসরা, কায়সার, শাম, ইয়েমেন ইত্যাদি দেশে দাওয়াত দিয়েছেন। আধুনিক বর্তমান বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থল হলো মক্কা নগরী। অতএব حَوْلَه দ্বারা পুরো পৃথিবীই উদ্দেশ্য। পুরো পৃথিবীর মানুষকেই কুরআন মানতে হবে। আর কুরআন হলো সব মানুষের জন্য।
২. কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে সমগ্র মানবজাতির জন্য।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآَنُ هُدًى لِلنَّاسِ
অর্থ: “রমযান মাসই হলো সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা ‘মানুষের’ জন্য হেদায়েত”।
২নং উত্তর :
আল্লাহ তা‘আলা উল্লিখিত আয়াতে حَوْلَهَ দ্বারা কোনো সীমানা নির্দিষ্ট করেননি। বলেননি যে, চতুর্পাশে ৩০ মাইল বা ৪০ মাইল, ইত্যাদি। এমন কোনো সীমানা ধার্য করেননি। এই আয়াতই-প্রমাণ করে কুরআন হলো বিশ্বজনীন।
৩নং উত্তর :
মক্কায় তৎকালীন সময়ে সব জাতির লোক বসবাস করত। তাই তাকে উম্মুল কুরা বা প্রাণকেন্দ্র বলা হয়েছে। যেমন : ঢাকা বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র। এখানে, পুরো দেশের সব জাতির লোক বসবাস করে। আর ‘উম্মুল কুরা’ বলে কখনই প্রমাণ হয় না যে, কুরআন শুধুই মক্কাবাসীর জন্য ।
৪নং উত্তর
তারপরও যদি কেউ একথা মানতে না চাই যে, তিনি সমস্ত পৃথিবীর জ্বিন ও মানবের নবী ছিলেন। তাহলে, আমরা বলবো তোমার কথা যদি আমরা কিছুক্ষণের জন্যও মেনে নেই যে, তিনি মক্কা ও তার আশেপাশের লোকদের নবী ছিলেন গোটা পৃথিবীর নবী ছিলেন না। তবে স্মরণ রেখো যেহেতু মক্কাবাসী ও তার আশেপাশের লোকেরা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটাত্মীয় প্রতিবেশী ও আশেপাশের মানুষ ছিলেন এই কারণে তারাই ইসলামের দাওয়াত পাওয়ার বেশি হকদার ছিল। কারণ কুরআন ও হাদীস দ্বারা নিকটাত্মীয় প্রতিবেশী আশেপাশের মানুষের সবচেয়ে বেশি অধিকার সাব্যস্ত হয়েছে। তাই, বিশেষ করে তাদের কথাই বলা হয়েছে। আর আমরা জানি বিশেষভাবে কাউকে বলার দ্বারা অন্যরা এই হুকুম থেকে বের হয়ে যায় না। এর অসংখ্য প্রমাণ আমাদের সামনে রয়েছে। “ওয়ামা র্আসাল্নাকা ইল্লা কাফ্ফাতাল লিন্নাস” (সূরা সাবা আয়াত ২৮.) আমি আপনাকে সারা পৃথিবীর সব মানুষের নবী ও রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছি। ( তাফসীরে কাসির ৯/৫৮০) মক্কা নগরীকে উম্মুল কুরা বলার কারণ হলো, ‘উম্মা’ অর্থ হলো মূল। উম্মুল কুরা অর্থ জনপদসমূহের মূল অর্থাৎ মক্কা। পৃথিবীর সম্মানিত ও মর্যাদাসম্পন্ন স্থান মক্কা । পাশাপাশি এর মধ্যে বায়তুল্লাহ থাকার কারণে এটা উম্মুল কুরা ।
আমি খ্রিস্টান প্রচারকদের জিজ্ঞাসা করবো, আপনাদের বাইবেলে কোথায় আছে ‘বাইবেল সব মানুষের জন্য?’ আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, বাইবেলের কোথাও নেই তাওরাত-ইঞ্জিল সব মানুষের জন্য বা বাংলাদেশিদের জন্য। আপনি যে গ্রন্থকে বিশ্বাস করছেন সেটাই তো আপনার জন্য নয়। যেটা আপনার জন্য নয় সেটা বিশ্বাস করছেন কেন? মানছেন কেন? বিষয়টি নিয়ে একটু ভাবুন, চিন্তা-ফিকির করুন। এরপর সিদ্ধান্ত নিন। সত্যের ওপর আছেন নাকি মিথ্যার ওপর চলছেন। পক্ষান্তরে কুরআন সব মানুষের জন্য হেদায়াতনামা। চাই মানুষটি খ্রিস্টান হোক, হিন্দু হোক, মুসলমান হোক, যেই হোক না কেন, সব মানুষের জন্য এই কুরআন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘রমযান মাস-ই হলো সেই মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন যা মানুষের জন্য হেদায়েত।’
হিন্দু, খ্রিস্টান, মুসলিম সবাই মানুষ। আর কুরআনও সব মানুষের জন্য। অতএব, কোনো খ্রিস্টান যদি মানুষ হয়ে থাকেন, তাহলে তাকে কুরআন মানতেই হবে। তবেই সে হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে।
খ্রিস্টান প্রচারকদের বলবো, আপনি এদেশে খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে পারবেন না। কারণ, আপনি যে ধর্মীয় গ্রন্থ বাইবেল বা কিতাবুল মোকাদ্দাস মানেন, তাতেই লেখা আছে যে যীশু শুধু বনী ইসরাইলদের কাছে প্রেরিত হয়েছেন। যেমন, যীশু বলেন- “আমাকে শুধু বনী ইসরাইলের হারানো মেষদের নিকট পাঠানো হয়েছে।
আরো বলা হয়েছে- “তোমরা অইহুদীর নিকট যেয়ো না। বরং ইসরাইল জাতির হারানো ভেড়াদের কাছে যেয়ো। ” এ ধর্ম মানতে হলে আপনাদেরকে ইসরাইলে যেতে হবে। কারণ, সেখানে বনি ইসরাইলের লোকজন থাকে।
৪নং উত্তর:
আমি জালাল চাচাকে জিজ্ঞাসা করলাম চাচা বলুনতো, এই আয়াতটি কে বেশি বুঝেছেন? আপনি? না রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম? যার ওপর এই আয়াত নাযিল হয়েছে। চাচা বলেন তিনিই বেশি বুঝেছেন, তাহলে বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে গেল- আপনার বোঝাটা ভুল, কুরআনই সঠিক।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন আরবি। তাই, তাঁর ভাষাতেই কুরআন নাযিল করা হয়েছে।
খ্রিস্টান ভাইয়েরা জিজ্ঞাসা করেন, কুরআন আরবি ভাষায় কেন? বাংলায় তো হতে পারতো? তাদের এই প্রশ্নের উত্তর আল্লাহ তা‘আলা নিজেই সুন্দরভাবে কুরআনে দিয়েছেন। দেখুন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
(*১) এবার খ্রিস্টান ভাইদেরকে জিজ্ঞাসা করবো, “বলুন তো, আপনাদের বাইবেল, তাওরাত ও ইঞ্জিল কোন ভাষায়? ঈসা নবী কোন ভাষায় কথা বলতেন? তাহলে আপনারা বলবেন তাঁর ভাষা ছিল অরমীয়। বাইবেল লেখা হয়েছে কোন ভাষায়? আপনারা বলবেন হিব্রæ ভাষায়। যেই ভাষায় ঈসা নবী কথা বলতেন, ইঞ্জিল প্রচার করতেন সেই ভাষায় ইঞ্জিল লেখা হলো না, লেখা হলো অন্য ভাষায়। এমনটি কেন? প্রথমেই ভাষার হেরফের হয়ে গেল পরবর্তীতে যেই ভাষায় র্অথাৎ হিব্রæ ভাষায় ইঞ্জিল বা বাইবেল লেখা হলো, সেই ভাষা কি এখনো প্রচলিত আছে? নেই। সেই ভাষার প্রচলন এখন কোথাও নেই।
আমি চ্যালেঞ্জ করলাম, ঈসা আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আসমানে উঠিয়ে নেয়ার পর থেকে ৩০০ বছরের মধ্যে কোনো ইঞ্জিল কেউ দেখাতে পারবে না। আমি বহু খ্রিস্টান ভাইদের এই ওপেন চ্যালেঞ্জ দিয়েছি, কেউ দেখাতে পারেনি। আর পারবেই বা কিভাবে, নেই তো; যা আছে তাঁর মধ্যে আবার অসংখ্য ভুল। বিকৃতির তো অভাবই নেই। বৈপরিত্যের তো কথাই নেই। যা সামনে বিস্তারিত বলা হবে ইনশাআল্লাহ তা‘আলা । বর্তমানে আমরা যে বাইবেল দেখি তা হলো বাংলা অনুবাদ। কিন্তু, সাথে আসলটি দিয়ে দেয়া উচিত ছিল, সেটিও নেই।
পক্ষান্তরে, কুরআন আরবি ভাষায়। যে নবীর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, তাঁর ভাষাও ছিল আরবি। প্রত্যেক নবীর ওপর যে কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে তা সেই নবীর মাতৃভাষায় ছিল।
প্রিয় পাঠক! একটি বিষয় ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করুন, তা হলো কুরআন মূলত লিখিতভাবে আসেনি। আল্লাহ তা‘আলা তা মানুষকে মুখস্থ করিয়ে অন্তরে অন্তরে সংরক্ষণ করেছেন। এই ভাষা মুখস্থ করাও সহজ। লাখ লাখ কুরআনের হাফেজ রয়েছে যাদের অন্তরে আল্লাহ তা‘আলা কুরআনকে সংরক্ষণ করেছেন। পৃথিবীর সব কুরআনকে যদি বিলীনও করে দেওয়া হয়, তাহলে হুবহু সেই কুরআন লিপিবদ্ধ করা সম্ভব। একটি বিন্দু বা যের-যবরেও পরিবর্তন হবে না। পক্ষান্তরে পুরো পৃথিবীতে বাইবেলের একটি হাফেজও কোনো খ্রিস্টান দেখাতে পারবে না । এ আলোচনা দ্বারা বোঝা যায় কুরআন অবিকৃত ও সব মানুষের জন্য।
তাছাড়া, কুরআন যদি অন্য কোনো ভাষায় নাযিল হতো, তাহলে সেই এলাকা থেকে নবীর ভাষা শিখে, নিজ এলাকায় শিখাতে হতো, এতে এক বড় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো। আর আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ فَيُضِلُّ اللَّهُ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
অর্থ: আমি সব পয়গাম্বরকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথ প্রদর্শন করেন। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
এই বিস্তারিত আলোচনা দ্বারা আমরা বুঝতে পারলাম, কুরআন সব মানুষের জন্য। সঠিক পথ পেতে হলে সব মানুষকে আল্লাহ তা‘আলার কালাম পবিত্র কুরআন পড়তে হবে, বুঝতে হবে এবং সেই অনুযায়ী আমল করতে হবে। আমি খ্রিস্টান ভাইদেরকে অনুরোধ করবো, “আপনারা কুরআনকে আপনার আল্লাহ তা‘আলার কালাম মনে করে পড়–ন। সাথে সাথে চিরস্থায়ী জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য ইসলাম গ্রহণ করুন। আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে ইসলাম গ্রহণ করার তাওফীক দান করুন। আমিন।”

৩নং প্রশ্নের উত্তর
তাওরাত, ইঞ্জিল কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না
খ্রিস্টানদের দাবি: আল্লাহ তা‘আলার বাণী কেউ পরিবর্তন করতে পারে না। তাওরাত, ইঞ্জিল, কিতাবুল মুকাদ্দাস আল্লাহ তা‘আলার কালাম। এইগুলো কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না।
খ্রিস্টানদের প্রমাণ:
لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآَخِرَةِ لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
অর্থ: তাদের জন্য সুসংবাদ পার্থিব জীবনে ও পরকালীন জীবনে। আল্লাহ তা‘আলার কথার কখনো হের-ফের হয় না। এটাই হলো মহা সফলতা।
وَلَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِنْ قَبْلِكَ فَصَبَرُوا عَلَى مَا كُذِّبُوا وَأُوذُوا حَتَّى أَتَاهُمْ نَصْرُنَا وَلَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ وَلَقَدْ جَاءَكَ مِنْ نَبَإِ الْمُرْسَلِينَ
“আপনার পূর্ববর্তী অনেক পয়গাম্বরকে মিথ্যা বলা হয়েছে। তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছা পর্যন্ত তারা নির্যাতিত হয়েছেন। তারা এতে সবর করেছেন আল্লাহ তা‘আলার বাণী কেউ পরিবর্তন করতে পারে না। আপনার কাছে পয়গাম্বরদের কিছু কাহিনী পৌঁছেছে।”
আয়াতের সঠিক তাফসীর :
আপনার পূর্বে অনেক রাসূলকে অবশ্যই মিথ্যাবাদী বলা হয়েছে; কিন্তু তাদেরকে মিথ্যাবাদী বলা ও (বিভিন্ন ধরনের) কষ্ট দেওয়া সত্তে¡ও তাঁরা ধৈর্যধারণ করেছিল যে পর্যন্ত না আমার সাহায্য তাদের নিকট এসেছে। (যার মাধ্যমে বিরোধীরা পরাজিত হয়েছে) (এমনিভাবে আপনিও ধৈর্যধারণ করুন, আল্লাহ তা‘আলার সাহায্য আপনার কাছে আসবে।) কারণ আল্লাহ তা‘আলার কথার (সাহায্য-সফলতার ওয়াদা সমূহ) কোনো পরিবর্তনকারী নেই। (সূরা আন-আম: ৩৪)
وَلَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ
সুতরাং, ‘আল্লাহ তা‘আলার কথা’ বলতে দুনিয়া আখেরাতে সাহায্য ও সফলতার কথা বুঝানো হয়েছে।
যেভাবে অপব্যাখ্যা করে :
খ্রিস্টানদের রচিত বই ‘গুনাহগারদের বেহেস্তে যাওয়ার পথ’ এর ৮নং পৃষ্ঠায় এই আয়াতের অপব্যাখ্যা করেছে এভাবেÑ
“তাই যখন আমি বলি খ্রিস্টান, ইহুদীগণ কিতাব বদলাইয়া ফেলিয়াছে তখন আমি উপরি উক্ত আয়াত অস্বীকার করিতেছি না? আমরা যদি বলি শুধু কুরআন শরীফই আল্লাহ তা‘আলার কালাম, তখন কি আমরা আল্লাহ তা‘আলার কালামকে অস্বীকার করিতেছি না? তাওরাত, ইঞ্জিল ও কিতাবুল মুকাদ্দাস এইগুলো আল্লাহ তা‘আলার কালাম। আর আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন যে তাঁর বাণী কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না। সুতরাং, এই গ্রন্থগুলো প্রতিষ্ঠা করতে হবে এইগুলো পরিবর্তন হয়নি।
১নং উত্তর :
উপরোক্ত আয়াতে কালেমা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো-ওয়াদা (প্রতিশ্রæতি)। আয়াতের শুরুতে যে ওয়াদাগুলো করা হয়েছে সেই ওয়াদা কেউ পরির্বতন করতে পারবে না।
وَلَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস রা. বলেন: “আল্লাহ তা‘আলার বাণী কেউ পরিবর্তন করতে পারে না।” অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার ওয়াদাসমূহ। এই ওয়াদাগুলো মজবুত করা”
২নং উত্তর :
খ্রিস্টান ভাইদেরকে আমি বলব, প্রথমে আপনি প্রমাণ করুন বাইবেল, কিতাবুল মুকাদ্দাস, তাওরাত-ইঞ্জিল এগুলো আল্লাহ তা‘আলার কালাম। একথা কুরআন ও বাইবেলে কোথাও নেই। তাওরাত, ইঞ্জিল, কিতাবুল মুকাদ্দাস আল্লাহ তা‘আলার কালাম একথা হলো মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য খ্রিস্টান প্রচারকদের মনগড়া বানানো একটা কথা। যার কোনো প্রমাণ নেই। উপরোক্ত আয়াত থেকে একথা কখনো প্রমাণিত হয় না যে, তাওরাত-ইঞ্জিল আল্লাহ তা‘আলার কালাম।
৩নং উত্তর :
প্রচলিত তাওরাত, ইঞ্জিল বা বাইবেল কোনটিই যেহেতু আল্লাহ তা‘আলার কালাম নয়, তাই এগুলো পরির্বতন হতেই পারে। বর্তমান তাওরাত-ইঞ্জিল ও বাইবেলে যে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে তাঁর অসংখ্য প্রমাণ বাইবেলে বিদ্যমান। তাঁর কিছু প্রমাণ নি¤েœ উল্লেখ করছি।

সেগুলো থেকে মাত্র একটি প্রমাণ এখানে পেশ করছি
১. কেরী বাইবেলের ভূমিকাতেই লেখা হয়েছে “গত দুইশত বৎসরে বেশ কয়েকবার এই বাইবেল সংশোধিত হয়েছে এবং প্রায় ৫০ বৎসর পূর্বে শেষ বারের মতো সংশোধিত হইয়া ছিল বলিয়া জানা যায়। বেশ কয়েক বৎসর পূর্বে দুই বাংলার বাইবেল সোসাইটির নীতি নির্ধারকগণ বর্তমান প্রজন্মের জন্য বাইবেলের আরও একটি সংশোধনের প্রয়োজন আছে বলে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন।
প্রিয় পাঠক! আপনি-ই বলুনÑ আল্লাহ তা‘আলার কালামের কি কোনো সংশোধনের প্রয়োজন হয়?। আর যেটা সংশোধনের প্রয়োজন হয়, সেটা আল্লাহ তা‘আলার কালাম নয়। বাইবেল বা কিতাবুল মুকাদ্দাস ইত্যাদির যেহেতু সংশোধনের প্রয়োজন হয় তাই সেটা আল্লাহ তা‘আলার কালাম নয়। এর মধ্যে পরিবর্তন পরিবর্ধন হয়। এর জ্বলন্ত একটি প্রমাণ পেশ করছি। ‘বাইবেলের ২বংশাবলী ২১:২০; এ আছে অহসিয়র পিতা যিহুরাম রাজার বিবরণ। তিনি ৩২ বছর বয়সে রাজত্ব লাভ করেন। ৮ বছর রাজত্ব করেন। এরপর তিনি মারা যান। মৃত্যুকালীন সময়ে তার বয়স ছিল ৪০ বছর। তার মৃত্যুর পর তারই কনিষ্ঠ ছেলে অহসিয় রাজত্বভার গ্রহণ করেন। সে সময় তার বয়স ছিল ৪২ বছর । তাহলে বোঝা গেল পিতার চেয়ে ছেলে দুই বছরের বড়’। আর পিতা পুত্রের চেয়ে দুই বছরের ছোট।
প্রিয় পাঠক! এটা ছিল কেরী বাইবেলের তথ্য। মজার বিষয় হলো, বাইবেলের পরবর্তী সংস্করণে (জেনারেল ভার্সন) ৪২ (বিয়াল্লিশ) এর স্থানে ২২ (বাইশ) বছর লাগিয়ে দিয়েছে। এবার আপনারা বলুন, এটা যদি আল্লাহ তা‘আলার কালাম হয় তাহলে ৪২ (বিয়াল্লিশ) বছর পরিবর্তন করে ২২ লাগানোর বা পরিবর্তনের দায়িত্ব মানুষের কাঁধে তুলে নিল কেন?
৪নং উত্তর :
প্রচলিত তাওরাত-ইঞ্জিল আল্লাহ তা‘আলার কালাম নয় বরং পরিবর্তিত একটি গ্রন্থ। এখানে কুরআন থেকেই তার প্রমাণ পেশ করছি।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন ,
مَا نَنْسَخْ مِنْ آَيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْهَا أَوْ مِثْلِهَا أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.
“আমি কোনো আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনি। তুমি কি জানো যে, আল্লাহ তা‘আলা সব কিছুর ওপর শক্তিমান?”
প্রচলিত তাওরাত-ইঞ্জিল আল্লাহ তা‘আলার কালাম নয়;বরং বিকৃত ও মানবরচিত গ্রন্থ
কুরআনে তার অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়। পাঠকদের বোঝার সুবিধার্থে নি¤েœ কয়েকটি প্রমাণ উল্লেখ করলাম।
১ নং প্রমাণ:
وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لَا يَعْلَمُونَ الْكِتَابَ إِلَّا أَمَانِيَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَظُنُّونَ (৭৮) فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا يَكْسِبُونَ (৭৯)
তোমাদের কিছু লোক নিরক্ষর। তারা মিথ্যা আকাক্সক্ষা ছাড়া আল্লাহ্র গ্রন্থের কিছুই জানে না। তাদের কাছে কল্পনা ছাড়া কিছুই নেই।
অতএব, তাদের জন্য আফসোস। যারা নিজ হাতে গ্রন্থ লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ- যাতে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ করতে পারে।
অতএব, তাদের প্রতি আক্ষেপ তাদের হাতের লেখার জন্যে এবং তাদের প্রতি আক্ষেপ তাদের উপার্জনের জন্যে।”
প্রিয় পাঠক! উপরোক্ত কুরআনের বিবরণী থেকে বুঝতে পেরেছেন তারা কীভাবে তাদের ধর্মগ্রন্থের পরিবর্তন করেছে। এখনও পোপ বা ফাদাররা টাকার বিনিময়ে পাপ ক্ষমা করিয়ে দেন। কোনো খ্রিস্টান যদি বড় ধরনের পাপকর্ম করে, তারা পোপের কাছে টাকা দিয়ে পাপ মার্জনা করিয়ে আনে। আয়াতের দ্বিতীয় অংশ তাদের বাস্তব কর্মের সাথে মিলে যায়। আল্লাহ তা‘আলা নিজেই তাদের জন্য আক্ষেপ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা সব খ্রিস্টান ও অমুসলিম ভাই-বোনকে আল্লাহ তা‘আলার কথাগুলো অনুধাবন করার তাওফীক দিন এবং হেদায়াত দান করুন। আমিন।
২নং প্রমাণ:
প্রচলিত তাওরাত-ইঞ্জিল আল্লাহ তা‘আলার কালাম নয়। এগুলোর পূর্বের কিতাবে যা কিছু ছিল সেগুলোও তারা পরিবর্তন করেছে। দেখুন আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنَ الَّذِينَ قَالُوا آَمَنَّا بِأَفْوَاهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِنْ قُلُوبُهُمْ وَمِنَ الَّذِينَ هَادُوا سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ سَمَّاعُونَ لِقَوْمٍ آَخَرِينَ لَمْ يَأْتُوكَ يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِنْ بَعْدِ مَوَاضِعِهِ.
“হে রাসূল, তাদের জন্যে দুঃখ করবেন না যারা দৌড়ে গিয়ে কুফুরিতে পতিত হয়, যারা মুখে বলে: ‘আমরা মুসলমান’ অথচ তাদের অন্তর মুসলমান নয় এবং যারা ইহুদি, মিথ্যা বলার জন্যে তারা গুপ্তচর বৃত্তি করে। তারা অন্যদলের গুপ্তচর বৃত্তি করা, যারা আপনার কাছে আসেনি। তারা বাক্যকে স্বস্থান থেকে পরিবর্তন করে।”
এই আয়াতের প্রথম অংশের সম্বোধনটি মিলে যায় বর্তমান কিছু খ্রিস্টানদের সাথে। তারা নিজেদের মুসলমান হিসেবে দাবি করতে চায়। নিজেদেরকে ‘ঈসায়ী মুসলিম’ বলে। কোথাও আবার ‘আহলুল কুরআন’ বলে পরিচয় দেয়। মূলত, এরা খ্রিস্টান। মুসলমানদের ধোঁকা দেয়ার জন্যই এই নাম ব্যবহার করে। তারা মুসলমানদেরকে ‘কিতাবুল মোকাদ্দাস’ নামক একটি ধর্মীয় গ্রন্থ দেয়। গ্রন্থটি মূলত বাইবেল। মুসলমানদের ধোঁকা দেয়ার জন্য বাইবেলে যোগ করেছে ইসলামী পরিভাষা। বাদ দিয়েছে হিন্দুদের পরিভাষা। যেমন যীশুর স্থানে হযরত ‘ঈসা’ ইত্যাদি।
হে আল্লাহ তা‘আলা! তাদেরকে হেদায়াত দান করুন। মুসলমানদেরকে তাদের চক্রান্ত থেকে হেফাজত করুন। এব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে বলেন ‘তারা বাক্যকে স্বস্থান থেকে পরিবর্তন করে।’ যেমন, বাইবেল পরিবর্তন করে বানিয়েছে কিতাবুল মুকাদ্দাস। এমন বহু প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। বইটির কলেবর বৃদ্ধির জন্য এখানে উল্লেখ করা সম্ভব হলো না।
৩নং প্রমাণ:
يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيرًا مِمَّا كُنْتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ.
“হে আহ্লে-কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমার রাসূল আগমন করেছেন। কিতাবের যেসব বিষয় তোমরা গোপন করতে, তিনি তার মধ্য থেকে অনেক বিষয় প্রকাশ করেন এবং অনেক বিষয় মাফ করেন। তোমাদের কাছে এসেছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি এবং একটি সমুজ্জ্বল গ্রন্থ।”
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাধ্যমে তাদের স্বরূপ উদঘাটিত হয়েছে। কুরআনে এসেছে- এ গ্রন্থকে খ্রিস্টানদের মানা উচিত। এটি একটি সমুজ্জ্বল গ্রন্থ।
পবিত্র কুরআনের বাণী দ্বারা পরিষ্কারভাবে আমরা জানতে পারলাম, ইহুদি-খ্রিস্টানরা তাদের গ্রন্থের কিছু অংশ গোপন করেছে, নিজ হাত দ্বারা লিখে পরিবর্তন করে দিয়েছে। আর বলছে, এইগুলো আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। আল্লাহ তা‘আলা ্র বাণী। এছাড়া, আরও বহু প্রমাণ কুরআনে বিদ্যমান। এখানে, কয়টি উল্লেখ করলাম।
সুতরাং, উক্ত সংক্ষিপ্ত আলোচনার দ্বারা স্পষ্ট বোঝা গেল, বর্তমান প্রচলিত ইঞ্জিল যদি ঈসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর অবতারিত ইঞ্জিল হতো তাহলে কখনো তাতে আকাশে উঠিয়ে নেয়ার পরবর্তী ঘটনা থাকতো না। তাওরাত-ইঞ্জিল যদি আল্লাহ তা‘আলার বাণী-ই হতো, তবে তাতে কোনো প্রকারের ভুল-ভ্রান্তি, বৈপরিত্য বা অশ্লীল কথা থাকতো না। অথচ, তাতে হাজারো ভুল ও বৈপরিত্য পরিলক্ষিত হয়। বহু ইহুদি-খ্রিস্টান-গবেষক তাদের গ্রন্থের ওপর গবেষণা করে একথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে-এই গ্রন্থ নবীগণের অনেক পরবর্তী যুগের কোনো ব্যক্তিবর্গের রচিত। ফলে, এতে রয়েছে ব্যাপক ভুল-ভ্রান্তি ও বৈপরিত্য। এ বিষয়ে সামনে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ তা‘আলা ।
সুতরাং, বর্তমান কথিত তাওরাত, ইঞ্জিল ও কিতাবুল মুকাদ্দাস যেহেতু আল্লাহ তা‘আলার বাণী নয়, তাই পবিত্র কুরাআন তথা আল্লাহ তা‘আলার বাণী দ্বারা তাওরাত-ইঞ্জিল পরিবর্তিত না হওয়ার ব্যাপারে দলিল পেশ করা নিতান্তই হাস্যকর ব্যাপার। “কথায় আছে চুরির চুরি আবার সিনাজুরি।” আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে হেদায়াত দান করুন। আমিন।
এবার চাচাকে জিজ্ঞাসা করলাম, চাচা! আমি কি আপনাকে দুই একটি প্রশ্ন করতে পারি? চাচা বললেন, হ্যাঁ বলুন কী বলতে চাচ্ছেন? বললাম চাচা বার বার যে, আপনি ইঞ্জিল ইঞ্জিল করছেন এই ইঞ্জিল কি আপনি বিশ^াস করেন?
জালাল- হ্যাঁ অবশ্যই বিশ^াস করি।
যুবায়ের- তাহলে আপনার বাইবেল বা ইঞ্জিল আপনাকে বাংলাদেশে থাকার অধিকার দেয় না।
জালাল- কেন?
যুবায়ের- দেখুন মথি- ১৫:২৪-এ আছে, “আমাকে কেবল বনি-ইসরাইলদের হারানো ভেড়াদের কাছেই পাঠানো হয়েছে।” এবং মথির ১০:৫এ আছে “ তোমরা অ-ইহুদীদের কাছে বা সামেরীয়দের রোন গ্রামে যেয়ো না, বরং ইসরাইল জাতির হারানো ভেড়াদের কাছে যেয়ো।”
এধরনের আরো কিছু প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর দিতে না পেরে তাঁর বস্ জাহাঙ্গীর খালেদ লেবু ওরফে লেবু ডাক্তারকে ফোন দিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে লেবু ডাক্তার অনেক বই-পুস্তক ও কাগজ-পত্র নিয়ে উপস্থিত হলেন।
লেবু ভাইয়ের পালা
এবার লেবু সাহেব এসে বললেন, শুনেছি আপনারা আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করতে এসেছেন, তাই কোথাও যাইনি, সারাদিন প্রস্তুতি নিয়েছি আপনাদের সাথে কথা বলব বলে। বললাম মা-শা-আল্লাহ আপনি তো প্রস্তুতি নিয়েছেন, আমাদের তো কোনো প্রস্তুতিই নেই। এরপরও বলুন কী আপনার জিজ্ঞাসা? এবার তিনি চাচা মিঞা যেসব প্রশ্ন করেছিলেন, সে একই প্রশ্ন করলেন। আমি বললাম ভাই! এসব প্রশ্নের উত্তর তো চাচা মিঞাকে দিয়ে দিয়েছি। দয়া করে তার কাছ থেকে জেনে নিলে ভালো হয়। তবে আপনাকে একটি প্রশ্ন করতে চাই, বলুন কী প্রশ্ন? বললেন লেবু সাহেব।
যুবায়ের- সত্যি করে বলুন তো, আপনি কি ইসা আ. কো বিশ্বাস করেন?
লেবু- হ্যাঁ অবশ্যই বিশ^াস করি।
যুবায়ের- তাহলে একটি পরীক্ষা দিতে হবে।
লেবু- কী পরীক্ষা?
যুবায়ের- খুলুন আপনার বাইবেলের মার্ক এর ১৬:১৭-১৮ সেখানে লেখা আছেÑ “যারা ঈমান আনে তাদের মধ্যে এই চিহ্ন দেখা যাবেÑ আমার নামে তারা ভূত ছাড়াবে, তারা নতুন নতুন ভাষায় কথা বলবে, তারা হাতে করে সাপ তুলে ধরবে, যদি তারা ভীষণ বিষাক্ত কিছু খায় তবে তাদের কোনো ক্ষতি হবে না, আর তারা রোগীদের গায়ে হাত দিলে রোগীরা ভাল হবে।”
লেবু সাহেব গম্ভীর কণ্ঠে বললেন: আপনাদের বুখারী শরীফে আছে না! ‘লা ইয়ুমিন্ আদুকুম’ (শুদ্ধ উচ্চরণ হলো ‘লা ইয়মিনু আহাদুকুম’) অর্থাৎ ঈমান পরিপূর্ণ না হওয়া। আমার ঈমান পরিপূর্র্র্ণ হলে এই গুণগুলো দেখাতে পারতাম। আমি বললাম আচ্ছা আপানার কি অসম্পূর্ণ ঈমান আছে? তা তো অবশ্যই আছে। তাহলে আপনাকে আরো একটি পরীক্ষা দিতে হবে।
বলুন কী পরীক্ষা, খুলুন আপনার বাইবেল, দেখুন মথি লিখিত সুসমাচারের ১৭:২০
“আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, যদি একটা সরিষা দানার মত বিশ্বাসও তোমাদের থাকে তবে তোমরা এই পাহাড়কে বলবে, ‘এখান থেকে সরে ওখানে যাও,’ আর তাতে ওটা সরে যাবে। তোমাদের পক্ষে কিছুই অসম্ভব হবে না।”
বললাম দেখুন আমার সামনে পাহাড় তো নেই, তবে ওই একটি গাছ দেখা যায় এটাই একটু সরিয়ে দেখান, এতেও উনি ব্যার্থ। আচ্ছা তাঁর না পারলে মোবাইলটি একটু ইশারা দিয়ে সরিয়ে দিন। তাতেও উনি ব্যর্থ। বললাম দেখুন আপনার এই ঈমান আপনাকে মুক্তি দিতে পরবে না।
Ñ কেন?
Ñ দেখুন আপনার বাইবেলের ইয়াকুব এর ২:১৪Ñ “যদি কেউ বলে তাঁর ঈমান আছে কিন্তু কাজে তা না দেখায় তবে তাতে কি লাভ? সেই ঈমান কি তাকে নাজাত করতে পারে?
এর দ্বারা বোঝা গেল আপনার ঈমান আপনাকে মুক্তি দেবে না।
মুক্তি পেতে হলে ইসলামে ফিরে আসতে হবে।
কারণ আল্লাহর নিকট এম মাত্র মননিত ধর্ম হলো ইসলাম। ইসলাম ছাড়া আর কোনো ধর্ম আল্লাহর কাছে গ্রহন যোগ্য নয়।
এবার লেবু সাহের আমাকে উল্টো প্রশ্ন করতে লাগলেন, কখনো কুরআনের ওপর, কখনো ইসলাম ধর্মের ওপর, কখনো আবার রাসূল সা. এর ওপর, এভাবে চলল কিছুক্ষণ। কিছু প্রশ্নের উত্তর দিলাম নুরুল ইসলাম ভাইও কিছু বললেন। আমার জেহেনে এলো, আরে এটা তো মুনাজারা চলছে, আর মুনাজারা দিয়ে কোনো লাভ নেই।
মুনাজারা
প্রিয় পাঠক আমি মুনাজারা সম্পর্কে আপনাদেরকে কিছু বলতে চাই। এটা একটি চির সত্য কথা। মুনাজারার মাধ্যমে কখনো মানুষের হেদায়াত হয় না। সাময়িক পরাজিত হয়, তবে এতে দর্শকদের ফায়দা হয়। একটি বিষয় খুব ভালো করে মনে রাখতে হবে দা‘য়ী কখনো, মুনাজারা করতে যাবে না, হ্যাঁ যদি মুনাজারার পর্যায় চলে আসে তাহলে আল্লাহ তাআলার এই হুকুমের ওপর আমল করা। অর্থাৎ উত্তম পন্থায় মুজাদালা বা মুনাযারা করা।
এবার লেবু ভাইকে বললাম ভাই! দেখুন আমরা এখানে মুনাজারা করতে আসিনি, বরং আমরা আপনার হিতাকাক্সিক্ষ হয়ে আপনাকে চিরস্থায়ী আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য এসেছি। আপনার পিতা মাতা মুসলমান ছিলেন তাঁরা জান্নাতে যাবে আর আপনি কঠিন আগনে জ¦লবেন এটা হতে পারে না। আমি তার পা ধরলাম, বললাম ভাই আপনার পায়ে পড়ি এর পরও আপনি আগুন থেকে বেচে যান। ফিরে আসুন ইসলামে। মুসলমান হয়ে যান, তওবা করুন। বললাম ভাই! আপনি যদি এখানে থুথু দিয়ে বলেন যে, যুবায়ের এই থুথু চেটে খা, তা করতে রাজি আছি। এরপরও আপনি তওবা করুন, মুসলমান হয়ে যান। ওই সময় একটি আবেগ কাজ করছিল। আমার চোখ দিয়ে অশ্রæ বেয়ে পড়ছিল, সাথীরাও মনে মনে দুআ করছিল এবং তাদের চোখও শুকনো ছিল না।
এবার লেবু ভাই নড়ে চড়ে বসলেন। কিছুক্ষণ চুপ থেকে মুখ খুললেন, বললেন আমি ত্রিশ বছর পূর্বে খ্রিস্টান হয়েছি। এই চাচা মিঞাও আমার মাধ্যমে খ্রিস্টান হয়েছে। এই এলাকার প্রায় এক হাজার মানুষ খ্রিস্টান হয়েছে। কোনো হুজুর আমার কাছে আসে না। কারণ আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না। আর আমি খ্রিস্টান দেখে আমাকে কেউ দাওয়াতও দেয় না।
জিজ্ঞেস করলাম কীভাবে খ্রিস্টান হলেন? বললেন, আমি প্রথমে চট্টগ্রামে একটি ফিসারিতে কাজ করতাম। সেখান থেকে খ্রিস্টানরা ফিসারির বিভিন্ন প্রশিক্ষণ করাতো। ওই প্রশিক্ষণের পাশাপাশি খ্রিস্টধর্মে নাজাত ও মুক্তির গ্যারান্টি আছে, তাই আমি এই ধর্ম গ্রহণ করি। এবং সর্বপ্রথম মাদারগঞ্জ ও জামালপুর এলাকায় আমি এই ইসায়ী জামাতের কাজ শুরু করি। এখন পর্যন্ত আসমানি কিতাবের প্রচার করি। আপনারা তো শুধু কুরআনের প্রচার করেন। আমি প্রচার করি চার কিতাবের। তাওরাত শরীফ, জাবুর শরীফ, ইঞ্জিল শরিফ ও আসমানী কিতাবের।
রাত হয়ে গিয়েছিল অনেক প্রায় সাড়ে বারোটা। এবার মোবাইল নাম্বার আদান প্রদান করে এবং পরবর্তী সময় বসার আশা ব্যক্ত করে বিদায় নিলাম। শেষ রাতে তাহাজ্জুদের সাথীদের নিয়ে দুআ কান্নাকাটি হলো। লেবু ভাই ও জালাল ভাইয়ের জন্য বিশেষ দুআ করা হলো। দুআ করা হলো এলাকার লোকদের এবং সব মানুষের হেদয়াতের জন্য।
প্রচারকদের নিয়ে আলোচনা
পরের দিন লেবু ভাই ফোন দিয়ে বললেন আমি ও আমার সাথে আরো যারা প্রচারক আছে সবাই মিলে আপনাদের সাথে বসতে চাই। আমি বললাম বসতে পারি, তবে মুনাজারা বিতর্ক করতে রাজি না। তিনি বললেন কালকে আমার সাথে যে আলোচনা করেছেন সেগুলো তাদের সাথেও বলবেন। আমরা কিছু বলব না শুধু শুনব। আমি বললাম, হ্যাঁ তাতে আমরাও রাজি। তবে কোথায় বসা হবে, তিনি বললেন আমার দোকানে, আমি বললাম না মসজিদে। তারা মসজিদে বসতে রাজি না। আমরাও দোকানে বসতে প্রস্তুত না। অনেক কথাবার্তার পর নূরানী মাদরাসায় বসার সিদ্ধান্ত হলো।
নির্দিষ্ট সময়ে তারা উপস্থিত হয়ে গেল, আমরাও বসে গেলাম, এলাকার গণ্য মান্য লোকেরাও আমাদের সঙ্গ দিল। এবার আলোচনা শুরু। আমরা আলোচনা শুরু করলাম, ওই দিন আবার ঢাকা থেকে মাওলানা নাজমুদ্দিন ভাইও গিয়ে শরিক হলেন। তিনিও আলোচনা করলেন। নুরুল ইসলাম ভাই সুরেলা কণ্ঠে সূরা আল ইমরান থেকে তেলাওয়াত করে তরজমা বললেন। তাদের প্রচারকেরা কিছু বলতে চাচ্ছিল। কিন্তু লেবু ভাই তাদের বাঁধা দিলেন। প্রায় দুতিন ঘণ্টা আলোচনা হলো নাস্তা আপ্যায়ন ও দুআর মধ্যে মজলিস শেষ হলো।
সিরাত মাহফিল
এলাকার লোকদের নিয়ে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত হলো, একটি সিরাত মাহফিল দেওয়ার। সেই মাহফিলে মিশনারির অপতৎপরতা নিয়ে আলোচনা করে সাধারণ মানুষকে এই আজাব থেকে বাঁচাতে হবে। তারিখ ঠিক হলো। আলোচক হিসাবে সিদ্ধান্ত হলো হযরত মাওলানা ইবাইদুল্লাহ ফারুক সাহেব দা. বা. , এই অধমেরও নাম ছিল আলোচকদের লিস্টে।
নির্দিষ্ট তারিখে আমরা ঢাকা থেকে মাহফিলের জন্য রওয়ানা হলাম। দ্ইুটি প্রাইভেট কার সাথে ছিল । একটিতে ছিলেন আমিন ভাই ও মাওলানা উবাইদুল্লাহ ফারুক সাহেব আর আমি ছিলাম আমার বন্ধুবর তালাত মোহাম্মাদ তৌফিকে এলাহি ভাইয়ের সাথে গাড়িতে। নির্দিষ্ট সময়ে আমরা পৌঁছে গেলাম তেঘুরিয়া বাজারে। বয়ান শুরু হলো, এশাবাদ অধমের বয়ান ছিল।, আমি চেষ্টা করলাম বাইবেল ও ইঞ্জিল খুলে খুলে খ্রিস্টানদের অপতৎপরতা তুলে ধরার। লোকজনকে দেখলাম খুব মনযোগ দিয়ে আলোচনা শুনছে।

মাহফিলের প্রতিক্রিয়া
আলহামদুলিল্লাহ মাহফিলের পর, ভালো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলো মানুষের মাঝে। কারণ তারা সেখানে এমনভাবে কাজ করেছে সাধারন মানুষ মনে করতো, যেকোনো একটি গ্রহণ করলেই চলবে। ইসলাম ধর্মও ঠিক ইসায়ী ধর্মও ঠিক। কিন্তু পরের দিন লোকজন খ্রিস্টানদের প্রচারকদের বলতে লাগল, কী ব্যাপার, তোমরা ওই ইঞ্জিলের কথা বলতে যা হুজুররা বলে গেছেন? তোমরা কি ঐ বাইবেল ও কিতাবুল মুকাদ্দাসের কথা বলছ যা গতকাল হুজুররা বলে গেলেন? তারা কোনো উত্তর দিতে পারত না। এই সিরাত মাহফিলের উসিলায় মানুষের অনেক ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।
আর হযরত মাওলানা উবাইদুল্লাহ ফারুক সাহেব দা. বা. এর ঐতিহাসিক বয়ানে খ্রিস্টানদের স্বরূপ ফুটে উঠে ছিল। মানুষ বুঝতে পেরেছে মিশনারিদের এই ধর্মান্তরের লাভ কী? কী তাদের উদ্দেশ্য? আল্লাহ আমাদেরকে গ্রামে গ্রামে অলিতে গলিতে মহল্লায় এমন সিরাত মাহফিল করার তাওফীক দান করুন এবং হাজার মানুষের হেদায়াতের মাধ্যম বানান আমিন।
হযরতের নসিহত
আমরার পীর মুরশিদ দা‘য়ীয়ে ইসলাম আরেফ বিল্লাহ হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী সাহেব দা. বা.কে ফোন দিলাম এবং পুরো ঘটনা শোনালাম ও পরামর্শ চাইলাম। হযরত বললেন, তুমি দুটি কাজ বেশি বেশি কর, এক. তার নাম ধরে দুআ কর। দুই.প্রতিদিন তাহাজ্জুদ নামাযে তার নাম ধরে দুআ কর এবং তাকে ইসলামের দাওয়াত দাও।
আলহামদুলিল্লাহ এর উপর আমল চলছে।
হজের সফরে দুআর এহতেমাম
এমন সময় হজের সফর ছিল। হজের আগে তাকে ফোন করলাম বললাম ভাই! আমিতো হজের সফরে যাচ্ছি। জানি না আপনি বেঁচে থাকেন না আমি বেঁচে থাকি, আপনি তওবা করুন এবং ইসলাম ধর্মে ফিরে আসুন। তিনি বললেন, যুবায়ের ভাই! আপনি আমার জন্য দুআ করেন আল্লাহ যেন আমাকে হেদায়াত দিয়ে দেন। হজের সফরে চলে গেলাম, তার জন্য দুআ চলল। ওই সময় হজের খরচ হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা. বা. এর পক্ষ থেকে হাদিয়া ছিল। যাক হযরতের কাছে দুআ চাইলাম, হযরত দুআ করলেন।
মাওলানা তারিক জামিল সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ
বিশ্ববিখ্যাত দায়ী হযরত মাওলানা কালীম সিদ্দিকী দা.বা. এর সাথে থাকার কারণে হযরত মাওলানা তারীক জামিল সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ হলো। লম্বা সময় দেখা হলো। সকাল ৮টা থেকে যোহর পর্যন্ত উনার সাথে। তাঁর কাছেও লেবু ডাক্তারের কারগুজারী শুনালাম এবং দুআ চাইলাম। তার সাথে আমার দুইবার দেখা হয়েছে। তিনিও দুআ করলেন।
দেখা হলো পীর জুলফিকার আহমদ নকশবন্দির সঙ্গে
একদিন রাত দুইটার দিকে হযরত বললেন, চল তাওয়াফ করে আসি। মাতাফ কিছুটা খালি ছিল, আমি হযরতের সাথে সাথে তাওয়াফ করলাম, এবং মুলতাজামেও খুব আগেই পৌঁছে গেলাম। হযরত এক নিয়ম শিখিয়ে দিলেন, ফলে খুব সহজে কোনো ধরনের ভিড় ছাড়াই মুলতাজামে পৌঁছে গেলাম। সেখানেও মুলতাজামের অনেক আদব হযরতের থেকে শিখতে পেলাম। যাক তাওয়াফ শেষে হযরত বললেন, পীর জুলফিকার নকশবন্দিকে চিনেন? আমি বললাম হযরত তাঁর ছবি দেখেছি তবে পরিচয় নেই। হযরত বললেন, তিনি তাওয়াফ করছেন, তাওয়াফ শেষে অমুক স্থানে নামায পরবেন, তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবেন । হযরত কিছুক্ষণ সময় অপেক্ষা করলেনও কিন্তু তাঁর আসতে দেরি হওয়ায় হযরত হোটেলে চলে গেলেন। আমাকে বললেন, তাঁকে আমার সালাম দেবেন আর আপনার জন্য ও আপনার দেশের জন্য দুআ চাইবেন। আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম। কিছুক্ষণ পর নির্দিষ্ট স্থানে এসে নামায আদায় করলেন, নামায শেষে চলে যাচ্ছিলেন, আমি দেখা করতে চাইলাম কিন্তু খাদেম দেখা করতে দিচ্ছিল না।
আমি সালাম দিয়ে বললাম, হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা. বা. আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং আমাকে আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে বলেছেন। আমি সালাম কালাম করে আমার পরিচয় দিলাম। আমি বাংলাদেশি, হযরত আপনার কাছে দুআ চাইতে বলেছেন। আমার দেশর জন্যও দুআ করতে বলেছেন। এই সুযোগে লেবু ভাইয়ের কথাও বললাম।
তিনি দুআ করলেন এবং হযরতের হালচাল জিজ্ঞাস করে বললেন হযরতকে আমার সালাম দেবেন। এই বলে সালাম দুআ শেষে বিদায় নিলাম।
লেবু ভাইয়ের ইসলাম গ্রহণ
আমরা হজের সফর থেকে ফিরলাম ১৭ তারিখে। ২০ তারিখে মাদারগঞ্জে সিরাত মাহফিল ছিল। মাহফিল শেষে লেবু ভাইকে ফোন করলাম, মনে করলাম যেহেতু কাছেই এসেছি তাই তাকে দাওয়াত দিয়ে যাই। ফোন দিতেই বললেন যুবায়ের ভাই আপনাকে অনেক খুঁজেছি, কিন্তু আপনাকে পাচ্ছিলাম না। আমি বললাম কেন? বললেন একটি মহা সুসংবাদ জানাতে চাই। বললাম বলুন। আমি আসলে বুঝতে পেরেছি, আমি ভুল পথে ছিলাম তাই আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং এই আনন্দে গ্রামের লোকদেরকে গরু জবাই করে খাইয়েছি। তবে আমি আপনাকে একটি ভুল তথ্য দিয়েছিলাম, বলে ছিলাম আমার মাধ্যমে এক হাজার মানুষ খ্রিস্টান হয়েছে। আসলে এই ত্রিশ বছরে ছয়টি জেলায় প্রচারের কাজ করেছি, সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আমার মাধ্যমে খ্রিস্টান হয়েছে। আমি এখন কী করতে পারি? আমি বললাম, আপনি যাদেরকে জাহান্নামের পথ দেখিয়েছেন তাদেরকে জান্নাতের পথ দেখান। আর আপনার নিজের এসলাহের জন্য তাবলিগে তিন চিল্লা সময় লাগান। উনি বললেন, আমি তো এখন চট্টগ্রামে। আপনি একটু আমার বাসায় যান। গেলাম লেবু ভাইয়ের বাসায়। ঘটনা সঠিক, তার স্ত্রী সন্তানেরাও খুশি।
লেবু ভাইয়ের ইসলাম প্রচার
এখন লেবু ভাইয়ের অন্তরে এক ধরনের জ্বালা সৃষ্টি হয়েছে, তিনি নিজের পক্ষ থেকে মাহফিলের আয়োজন করতেন আমাদেরকে দাওয়াত দিতেন। এক মাহফিলের বক্তা ছিলাম আমরা, সেখানে উপস্থিত ছিলেন আমার বন্ধুবর মুফতি জহির সিরাজী ভাই, তিনি ও মাওলানা নাজমুদ্দিন ভাই যিনি আমাদের প্রিয় মাসউল। আব্দুল খালেক মাস্টারকেও দাওয়াত দিলেন।
যাক এক মাহফিলে লেবু ভাই খুব দরদের সাথে বলছিলেন, তার দরদমাখা কথাগুলো আজও আমার কানে ভাসছে। দরদভরা কণ্ঠে বলছিলেন, ‘ভাইসব, আমি আপনাদের অনেককে পথভ্রষ্ট করেছি। আপনাদেরকে ভুল পথে নিয়ে গিয়েছিলাম। আমি খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি সেটা ভুল পথ ছিল আমি সে পথ ছেড়ে দিয়েছি, আপনাদের কাছে করজোরে ক্ষমা চাচ্ছি এবং আপনাদেরকে ইসলামে ফিরে আসার আহŸান করছি। এসব কথা বলছিলেন, আর তার চোখ দিয়ে টপ টপ করে গাল বেয়ে অশ্রæ মাটিতে পড়ছিল। আলহামদুলিল্লাহ তিনি প্রায় ৮০০ মানুষকে ফিরিয়ে এনেছেন।
ঈমানের পরীক্ষা
আল্লাহ পাকের সুন্নত হলো, কাউকে কিছু মূল্যবান জিনিস দিতে চাইলে একটু পরীক্ষা করেন। আমরাও সাধারণ থেকে সাধারণ কোনো জিনিস নিলে তার জন্য পরীক্ষা করে থাকি। যেমন একটি লাউ কিনলে একটু চিমটি দিয়ে পরীক্ষা করে দেখি।
এবার লেবু ভাইয়ের প্রতি শুরু হলো পরীক্ষার পালা, প্রথমেই অর্থনৈতিক পরীক্ষা। আগে প্রায় ৪০ হাজার টাকা বেতন পেতেন। ইসলামে ফিরে আসাতে তা বন্ধ হয়ে গেল। আগে হাত অনেক খোলা ছিল, এখন সংকীর্ণ হয়ে গেল।
এবার এলো লোভের পরীক্ষা। মিশনারীদের পক্ষ থেকে লোভ দেখানো হলো, তুমি যদি খ্রিস্টধর্মে ফিরে আস, তাহলে তোমাকে বেতন ৬০ হাজার করে দেব। লেবু ভাই তা প্রত্যাখ্যান করে দিলেন। এবার টোপ দিল ৮০ হাজারের। এক লাখ টাকা মাসিক বেতনের অফার পর্যন্ত দিয়েছে। তিনি বললেন, আমি পূর্বে খ্রিস্টান ছিলাম, আমার সন্তানদেরকে মানুষ খ্রিস্টানের ছেলে বলে ধিক্কার দিত তা সহ্য করেছি, কিন্তু এবার আমি বুঝতে পেরেছি ইসলামই সত্য, এর জন্য আমার জীবনটা পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত। আমি চাই এই ধর্মের উপর আমার মৃত্যু হোক। তোমরা আমাকে বিরক্ত করো না। মোবাইলের এই অফারগুলোর কথা রেকর্ড করে রেখেছিলেন, একবার আমাকে শুনিয়েছেন।
এবারের পরীক্ষা জেল-জুলুম। কোনো একটি ঘটনাকে কেন্দ্র বানিয়ে খ্রিস্টানেরা লেবু ভাইয়ের নামে মামলা করে দেয়। এখানে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এক পর্যায়ে লেবু ভাইকে জেলে যেতে হলো। জেলে যাওয়ার পর খ্রিস্টানরা অফার দিল যে, তুমি যদি ফিরে আস তাহলে মামলা উঠিয়ে নেব, লেবু ভাই এই প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করে দিলেন।
তার থেকে পাওয়া তথ্য
তিনি যেহেতু লিডার ছিলেন তাই তার কাছে বিভিন্ন প্রচারকদের প্রচারকর্মের প্রতিবেদন দিতে হতো। সেই প্রতিবেদনে থাকতো কারা কয়জনকে খ্রিস্টান বানাতে পেরেছে। বা তাদেরকে কী শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ইত্যাদি। সেই প্রতিবেদন গুলো আমাকে তিনি দিয়েছেন। তার মধ্য থেকে নমুনা হিসাবে দুই একটি পেশ করলাম।

চিঠি-পত্র
এক সাথে অনেকগুলো লিখে রাখে পরে যার সাথে পরিচয় হয়, তার নাম ঠিকানা লিখে চিঠি পাঠিয়ে দেয় ।

মৃত্যু
জেল থেকে জামিন হওয়ার পর বিভিন্ন রোগে তিনি আক্রান্ত ছিলেন। রোগে ভুগতে ভুগতে এক সময় আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ তাআলা তাঁর কবরকে নূরে নূরান্নিত করুন। আমিন। তার জানাযায় অনেক লোকের সমাগম হয়ছিল।