হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি

সমস্ত প্রশংসা সেই মহান স্রষ্টার, যিনি জ্বিন ও মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন শুধু তাঁরই ইবাদত করার জন্য। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক শেষ নবী, বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর। পরিপূর্ণ রহমত নাযিল হোক সাহাবায়ে কেরাম ও আজ পর্যন্ত ইসলামের প্রচার-প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ ও ত্যাগ স্বীকারকারী মহামনীষীদের প্রতি।
প্রিয় পাঠক-পাঠিকা! আমাদের বর্তমান বইটি হলো হিন্দুভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি বিষয়ক। মূলত এটি একটি দাওয়াতী শিট ছিল। পরবর্তিতে সাথীদের পরামর্শে এটিকে কিছু সংযোজন-বিয়োজন করে একটি বই আকারে পাঠকদের খেদমতে পেশ করা হলো।
এই বইয়ে রয়েছে কুরআন, যুক্তি ও অভিজ্ঞতার আলোকে হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি। আরো রয়েছে হিন্দুধর্ম সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভের উপায়। হিন্দুধর্ম সম্পর্কে লিখতে গিয়ে সরাসরি তাদের বই থেকে উদ্ধৃতি দেয়ার চেষ্টা করেছি। অন্যথায় কোনো হিন্দু পণ্ডিতের লেখা বই থেকে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছি। বইটি প্রথম ফেব্র“য়ারী-২০১৩ তে প্রকাশ হয়েছিল, পরে কিছু পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে দ্বিতীয় সংস্কার প্রকাশ করা হচ্ছে।
বইটি প্রকাশ করতে আমাকে অনেকেই সহযোগিতা করেছেন, যাঁদের দুই একজনের নাম না বলেই পারছি না। তাঁরা হলেন ভাই আলহাজ্ব তালাত মোহাম্মাদ তৌফিকে এলাহী, আলহাজ্ব এ, কে, এম ফজলুল করিম ও আলহাজ্ব নাসিরুদ্দীন। প্র“ফ দেখে সহযোগিতা করেছেন মাওলানা এমদাদুল হক তাসনিম ও জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সহ আরো অনেকে। আল্লাহ তাআলা সকলের এখলাস ও সৎ নিয়তকে কবুল করে দ্বীনের দা’য়ী হিসেবে কাজ করার তৌফিক দান করুন।

সেই সাথে পাঠকদের খেদমতে বিনীত আরজ, মানুষ হিসেবে ভুল থাকাটাই স্বাভাবিক। তাই আপনাদের দৃষ্টিতে কোনো ভুল ধরা পড়লে জানালে খুশি হবো এবং তৃতীয় সংস্করণে ঠিক করে দেয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। পরিশেষে আল্লাহর কাছে দুআ করি, তিনি যেন আমাদের দ্বারা আল্লাহর বান্দাদের তাঁর দিকে ডাকার তৌফিক দান করেন। আমীন।

খ্রিস্টান ভাইদের প্রতি জিজ্ঞাসা

সকল প্রশংসা সেই মহান স্রষ্টার, যিনি আসমান যমিন ও এর মাঝে যা কিছু আছে সব কিছু সৃষ্টি করেছেন আমাদের উপকারের জন্য। আর আমাদের সৃষ্টি করেছেন শুধু তাঁরই উপাসনা করার জন্য। দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবীর ওপর, যিনি সকল মানুষের জন্য রহমত স্বরূপ দুনিয়াতে এসেছেন। যিনি চিরস্থায়ী জাহান্নামী মানুষকে জান্নাতের পথে আহ্বান করার জন্য অস্থির থাকতেন। সেই নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের ওপর।
আমি বিভিন্ন ধর্মের একজন ছাত্র। ভারতে থাকা অবস্থায় হিন্দুধর্ম নিয়ে কিছু পড়াশোনা করি। এরপর আগ্রহ জাগে খ্রিস্টধর্মের প্রতি। প্রথমেই পড়া শুরু করি বাইবেল। খ্রিস্টম-লীর ইতিহাস। কিন্তু যতই পড়ি শুধু অবাকই হই। আমার হৃদয়ে জাগতে থাকে নতুন নতুন প্রশ্ন। আশ্চার্যান্বিত হই- এ আবার কেমন ধর্ম? কেমন ধর্মীয় গ্রন্থ? ধর্মীয় গ্রন্থ নিয়ে আবার নিজেদের মধ্যে ঝগড়া। কেউ এক অংশ মানে আবার কেউ মানে না। তাই তাদের ধর্মীয় গ্রন্থও আবার ভিন্ন ভিন্ন। যত অধ্যয়ন করি ততই ভুল আর বৈপরীত্ব আমার সামনে ভেসে ওঠে। প্রশ্ন জাগে যীশু সম্পর্কেও। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গির্জায় গিয়ে বিভিন্ন ফাদার ও ধর্মীয় পণ্ডিতগণের শরণাপন্ন হই। সন্তষমুলক উত্তর কারও কাছ থেকে পাইনি। অনেকে আবার এই ভুল ও দুর্বল বিষয়গুলো স্বীকারও করে নিয়েছে। অনেককে আবার দেখেছি নিজের ধর্মের ওপর নিজেরই অনাস্থা। এমনটি কেন? তাই আমি আমার খ্রিস্টান ভাইদের প্রতি কিছু জিজ্ঞাসা পেশ করলাম। আপনারা আমার জিজ্ঞাসাগুলো নিয়ে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে ভাববেন। ভেবে সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন। এর সঠিক উত্তর যদি আপনার কাছে থাকে তাহলে আমাকে জানাবেন।
বইটি প্রকাশ করতে অনেকে সহযোগিতা করেছেন। দুএকজনের নাম না নিয়েই পারছি না। প্রুফ দেখে সহযোগিতা করেছেন আমার দ্বীনি ভাই মোম্মাদ মিজানুর রহমান ও মাওলানা আলী হাসান। আমার স্নেহভাজন আব্দুল বাসির, আজহার শাহ, সাঈদ আহমদ, রেজাউল করীম, মুহাম্মদ আলীসহ আরও অনেকে। মানুষ মাত্রই ভুল করবেই। একমাত্র কুরআনই নির্ভুল। এ বই মানব রচিত; ভুল থাকাই স্বাভাবিক। তাই পাঠকদের নিকট কোনো ধরনের ভুল পরিলক্ষিত হলে আমাদের জানাবেন। পরবর্তী সংস্করণে তা ঠিক করে দেয়ার চেষ্টা করবো। পরিশেষে দুআ করি আল্লাহ লেখক প্রকাশক ও পাঠক-পাঠিকাকে কবুল করুন। এই বইটি বহু মানুষের হেদায়াতের মাধ্যম বানান, আমীন।