দাওয়াতকে জীবনের উদ্দেশ্য বানাবে কিভাবে?

দাওয়াতকে জীবনের উদ্দেশ্য বানাবে কিভাবে?
এখানে একটি ধারণা হতে পারে যে, দাওয়াতের কাজ তো একটি বড় কাজ। এর জন্য প্রয়োজন অনেক জ্ঞান। প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার। একজন মানুষ এই কাজ কীভাবে আঞ্জাম দিবে? তাকে জীবনের উদ্দেশ্য বানাবে কীভাবে? এর জন্য কয়েকটি বিষয়ের দিকে দৃষ্টিপাত করতে হবে।
প্রথম কথা তো হলো, দাওয়াতি কাজে প্রশিক্ষণের চেয়ে বেশী প্রয়োজন অন্তরের ব্যথা বেদনা। যেখানে নববী দরদ সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে নিজেই কাজ করে ফেলা যায়। তাই ‘ভালোবাসা নিজেই তোমাকে ভালোবাসার আদব শিখিয়ে দিবে’।
দাওয়াতকে নিজের জীবনের উদ্দেশ্য বানাবে কিভাবে? এবং বানানোর দ্বারা লাভ কী? আমাদের একজন মুহসিন মুরব্বি একটি উদাহরণ দিয়েছেন। কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্র যদি একটি হসপিটাল তৈরি করে, সেই হসপিটাল তৈরির উদ্দেশ্য থাকে রোগীর রোগ নিরাময়ের চেষ্টা। সেই হসúিটালের চিকিৎসা তো শুধু ডাক্তারই করবে। কিন্তু অন্যান্য আমলারাও চেষ্টা করবে যে, সেবাটা যেন তাদের রোগমুক্তির নীতিতে হয়। উদাহরণ স্বরূপ ঝাড়–দার ঝাড়– দেয় এই পদ্ধতিতে, যাতে তার চিকিৎসার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বাবুর্চি যখন রান্না করে, রোগীর সুস্থতার দিকে খেয়াল রেখে তার চাহিদা অনুযায়ী পাক করে। এ সব কিছুর উদ্দেশ্য হয় রোগীর রোগমুক্তি করা।
এভাবে যদি পুরো জাতি একত্রিত ভাবে এই কাজকে নিজের উদ্দেশ্য বানিয়ে নেয়। যদিও এক শ্রেণীর মানুষ সরাসরি দাওয়াতি কাজের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে দিবে। জাতির অন্যান্য শ্রেণীর মানুষ এর পরিবেশ তৈরি করবে। সকল কাজের উদ্দেশ্য বানাবে দাওয়াতকে।
নবীজীর গোলাম হওয়ার শানতো এমনই হওয়া উচিত। মুসলমান হবে দেহধারী দাওয়াত। যদি জীবনের উদ্দেশ্য দাওয়াত বানিয়ে নেয় তাহলে জীবনের প্রতিটি কাজ নিজে নিজেই দাওয়াত হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে একটি ঘটনা পেশ করতে চাই। আমার এক বন্ধু, বড় একটি শহরের মসজিদে থাকতেন। তিনি দাওয়াতি কাজ করছেন। দাওয়াতের মানসিকতাও তৈরি হয়ে গেছে। তার কাছে একজন মুসলমান মুসল্লি এসে দু’আ চাইল, বলল, আমি একজন হিন্দু লালাজীর দোকান ভাড়া নিয়ে ছিলাম। এখন সে দোকান খালি করার জন্য মামলা করে দিয়েছে। আপনি দুআ করুন আমার যেন দোকান না ছাড়তে হয়। মাওলানা সাহেব জিজ্ঞাসা করলেন আপনি কত দিন থেকে লালাজী সাবের দোকান ভাড়া নিয়েছেন? সে বলল আট বছর যাবত। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন চুক্তি কত দিনের ছিল? সে বলল, এগার মাসের। এতে ইমাম সাহেব খুব রাগান্বিত হলেন। বললেন, আমি তো লালাজীর জন্য দুআ করব। কারণ বেচারা নিশ্চয় মনে করবে এ কেমন মুসলমান? যে চুক্তি রক্ষা করে না। সে চলে গেল। এর পর অন্য এক মুসল্লি এলো। যিনি লালাজীর দোকান ভাড়া নিয়েছে। এসে মাওলানা সাহেবকে বলল, লালাজী তো দোকান ছেড়ে দিতে বলেছে এখন কী করতে পারি? মাওলানা সাহেব তাকেও কিছু প্রশ্ন করলেন, তার লেন-দেন ও চুক্তি ঐ পূর্বের ব্যক্তির মতোই ছিল। মাওলানা সাহেব পরামর্শ দিলেন, আপনি এখনই দোকান খালি করে দিন। কারণ এটা ঈমানের পরিপন্থী। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- “যার আমানতদারী নেই তার ঈমানও নেই।”
এই লোকটি বুঝতে পারলেন। পরের দিন দোকান খালি করে চাবিটা লালাজীর হাতে দিয়ে দিলেন। লালাজী খুবই বিস্মিত হলো। লালাজী বলল, কী ব্যাপার? তোমাকে একবার বলার সাথে সাথে দোকান খালি করে দিলে? সে বলল, আমাদের মাওলানা সাহেব বলেছেন। তাই চাবি দিয়ে দিয়েছি। সে বলল, কোন মাওলানা সাহেব? তার সাথে আমার সাক্ষাত করিয়ে দিও। সে মাওলানা সাহেবের সাথে সাক্ষাত করলো। লালাজী মাওলানা সাহেবকে জিজ্ঞাসা করল, আপনি তাকে দোকান খালি করতে বললেন কেন? মাওলানা সাহেব বললেন, আমি তো তাকে ধর্মের একটি মাসআলাই বলেছি মাত্র। আমাদের ধর্ম বলে যখন চুক্তি পূর্ণ হয়ে যায় তখন দোকান খালি করে দাও। লালাজী জিজ্ঞাসা করল, আচ্ছা ! আপনাদের ধর্মে কি ভাড়াদাতা সম্পর্কেও বলা আছে? মাওলানা সাহেব তাকে বললেন, আমাদের ধর্ম জীবনের প্রতিটি জিনিসের শিক্ষা দেয়। এমন কি নখ কিভাবে কাটবে, মোচ কিভাবে ছাটবে। ইত্যাদি। সব কিছুই বলা আছে। লালাজী প্রভাবিত হলো। বলল, তাহলে এমন ধর্ম আপনারা অন্যকে দেন না কেন? মাওলানা সাহেব বললেন, আসলেই আমাদের ভুল হয়ে গেছে। আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন। এর পর দাওয়াত চলতে থাকে। এক সপ্তাহ ব্যাপী প্রতিদিন রাতে লালাজী মাওলানা সাহেবের কাছে এসে ধর্ম সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারে। আল্লাহর রহমতে এক সপ্তাহ পর সেই মসজিদেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। পরের দিন সকালে সেই লোকের কাছে গেল যিনি দোকান খালি করে দিয়েছিল। চাবি দিয়ে বলল, আমি যতদিন বেঁচে থাকব, একই ভাড়ায় আপনি দোকান চালাতে থাকেন।
তাই জীবনের উদ্দেশ্য যদি দাওয়াত থাকে তাহলে মানুষ দেহধারী দাওয়াত হতে পারবে। কখনো মৌখিক দাওয়াতের প্রয়োজনই আসে না।

উত্তম জাতি যার উপাধি
সীরাত ও দাওয়াতের ইতিহাস এ কথা বলে যে, মুসলিম জাতি যদি দাওয়াতের কাজ করা শুরু করে দেয়, তাহলে দুনিয়ার অধিকাংশ অঞ্চলে ইসলামে প্রবেশ করবে। আপনি নববী যুগের পর্যবেক্ষণ করুন। সেখানে দুই শ্রেণীর মানুষকে ইসলামের বিরোধীতাকারী হিসেবে পাবেন। এক ঐসমস্ত লোক, যারা ইসলামকে ভুল বুঝত এবং ভ্রষ্টধর্ম মনে করতো। দ্বিতীয়ত ঐ সমস্ত মানুষ, যারা ইসলামকে সত্য বলে জানতো। কিন্তু হিংসা, অহংকার ও নেতৃত্বে ভাটা পড়ার ভয়ে বিরোধিতা করত। প্রথম শ্রেণীর মানুষের কাছে যখন ইসলামের দাওয়াত দেয়া হয়েছে, এমন এক জনও পাওয়া যায়নি যিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি। আর দ্বিতীয় শ্রেণীর কাছে হুজ্জত পরিপূর্ণ হওয়ার পর, দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করার কারণে ধুলিস্মাৎ করে দেয়া হয়েছে।
এখনও যারা ইসলামের বিরোধিতা করছে, কাছে থেকে যদি একটু পর্যবেক্ষণ করা যায় তাহলে জানা যাবে তাদের মধ্যে অধিকাংশ লোক ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে বিরোধিতা করছে। তাদের সামনে যদি ইসলাম পেশ করা যায় তাহলে সকলেই ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করবে। আর যারা ইসলামকে সত্য জেনেও ইসলামের বিরোধিতা করবে, অহংকার ও হিংসার কারণে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকেও ধুলিস্মাৎ করে দিবেন।
হুজ্জত পূরণ সম্পর্কে আমার মুরশিদ পীর হযরত মাও. সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. বলেছেন, ইতমামে হুজ্জাত হলো, মাদউ যেন বুঝতে পারে ইসলামই সত্য ধর্ম। সে যদি ইসলামকে সত্য মনে না করে তা হলে বুঝতে হবে আমরা দাওয়াতের হক আদায় করতে পারিনি। এতে আমাদের দুর্বলতা রয়ে গেছে। মাদউ যেন বোঝে এই ব্যক্তি আমার হিতাকাক্সিক্ষ হিসেবেই দাওয়াত দিচ্ছে। কারণ কল্যাণ, দরদ আর ভালোবাসার সাথে যখন কাউকে দাওয়াত দেয়া হয়, তখন এর প্রভাব তার উপর পড়ে।
এব্যাপারে আমার একটি ঘটনা মনে আসে। যা আমি আরমোগানে বর্ণনা করেছি। আমার বড় মেয়েটি আমার কাছে এসে সময় নিল, তাকে সময় দিলাম। সে বলতে লাগল আব্বু বলুন তো যতো কাফের মুশরিক আছে, সবাই কি জাহান্নামে যাবে? আমি বললামÑ অবশ্যই যাবে। চিরকাল আগুনে জ্বলবে। সে বললÑ না চিরকাল জ্বলবে না। কখনো না কখনো আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। আমি বললামÑ না কাফের মুশরিকরা চিরকাল জাহান্নামে জ্বলবে। আল্লাহ মিথ্যা বলেন না। তিনি তার কালামে পাকে বলেছেন-
إِنَّ اللّٰهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِه وَيَغْفِرُ مَا دُوْنَ ذٰلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللّٰهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيْدًا
নিশ্চয় আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তার সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। যে আল্লাহ্র সাথে শরীক করে, সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়। -আন-নিসা-১১৬
একথা শুনে সে খুবই অস্থির হয়ে পড়ল। পেরেশান হয়ে সে তার কথার মোড় ঘুরিয়ে বলতে লাগল, আব্বু বলুন তো তাদের ভুলটা কী? আল্লাহই তো তাদেরকে হেদায়াত দেননি।
এটা তো তাকদিরের মাসআলা, অনেক বড়দের জন্যই নিষেধাজ্ঞা আছে, সে তো ছোট মেয়ে। সে কী বুঝবে? আমি তার চিন্তাকে পরিবর্তন করতে বললাম। এর দ্বারা তোমার কী লাভ? তুমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় কর, আল্লাহ তোমাকে হেদায়াত দান করেছেন। এ কথা শুনে সে কাঁদতে লাগল। আর বলতে লাগল, আব্বু আমার তো মন চায় সকলের পরিবর্তে আমাকে জাহান্নামে জ্বালিয়ে দিক। আর কাউকে না জ্বালাক।
সে তো ছোট বাচ্চা ছিল, অল্প বয়সের কারণে সকলের পরিবর্তে নিজেকে জাহান্নামের আগুনে জ্বালানোর জন্য প্রস্তুত। কেমন জানি নিজের চোখে জাহান্নামের আগুন অনুভব করছে, আবার মানুষকে আগুন থেকে বাঁচানোর কেমন চিন্তা। এটাই ছিল আমাদের প্রিয় নবীর দরদ, এটাই দাওয়াতের ময়দানের হাতিয়ার। যার ফলে কঠিন দুশমনও দেওয়ানা আর আশেক হয়ে যায়। কুরআনে পাক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই দরদের কথা এই ভাবে বয়ান করেছেনÑ
لَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَفْسَكَ أَلَّا يَكُوْنُوْا مُؤْمِنِيْنَ
তারা বিশ্বাস করে না বলে আপনি হয়তো মর্মব্যথায় আত্মঘাতি হবেন। -শুআরা-৩
যদি কেউ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যথাকে চাদর বানিয়ে দাওয়াতের ময়দানে কাজ শুরু করে, ঠিক সেই ভাবে বিজয় দেখতে পাবে। সীরাতে পাকের ঘটনাবলীর আমলী নমুনা দেখতে পাবে। ব্যক্তি, জাতি, দেশের বিজয়ে নববী নমুনা দেখতে পাবে। এর পর সামনে আসবে আবুবকর সিদ্দিক (রা.), ওমর ফারুক (রা.), খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.), খাব্বাব বিন আরাত রা., মুসআব বিন উমায়ের রা. এর মতো ইসলামের বাহাদুরী। দেখা যাবে হযরত সুমাইয়্যা (রা.), ইয়াসির রা., এবং বেলাল রা., এর নমুনা।

এক ঈমানদিপ্ত ঘটনা
এব্যাপারে একটি ঘটনা বর্ণনা করছি। দিল্লিতে আমার একজন মুসলমান বন্ধু আছে। যিনি বন্ধুত্বের ফী হিসেবে মাসিক টার্গেট বানিয়ে দাওয়াতি কাজের ফিকির করেন। তিনি এক হিন্দু ছেলের উপর দাওয়াতি মেহনত শুরু করেন। দুই তিন দিন তাকে বুঝানোর পর তার বুঝ এসে গেল। সে কালেমা পড়ে মুসলমান হলো। সময়টা ছিল রমজান মাস। ছেলেটির গায়ের রঙ কালো থাকার কারণে বেলাল রা. এর নামের সাথে মিল রেখে তার নাম রাখা হলো বেলাল। আমার বন্ধু তাকে বলল, এখন আপাতত বাড়ির কাউকে বলার দরকার নেই। প্রথমে দ্বীন শেখ এবং বাড়ির লোকদের উপর মেহনত কর। এখন নামাজ রোজা আদায় করার দরকার নেই। সে বললÑ কেন? আপনি একদিন নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। আমি বলেছিলাম, দুই একদিনের জন্য নামাজ ছেড়ে দিন অসুবিধা কিসের? আপনি বলেছিলেন, যে নামাজ ছেড়ে দেয় সে মুসলমান থাকে না। আর এখন আপনি নামাজ পড়তে নিষেধ করছেন? আপনি আমাকে বলুন আমি কি দুই নম্বার মুসলমান হবো? যদি দুই নাম্বার মুসলমান হতে হয় তাহলে আমার মুসলমান হয়ে লাভ কি? এ কথা শুনে তিনি বললেন, আগামীকাল থেকে সকাল সকাল ফ্যাক্টরিতে চলে এসো, আর বাড়িতে বলবে, আমার ফ্যাক্টরিতে কাজ আছে। ইফতারীর পর চলে যাবে, আর এখানেই নামায পড়ে নিবে। একদিন জাকিরবাগ মসজিদ থেকে জুমার নামায পড়ে বাড়ি ফিরছিল, তার মাথায় টুপি ছিল, তার পিতা এ অবস্থা দেখে খুব রাগান্বিত হলো, তাকে জিজ্ঞাসা করল, কী ব্যাপার? সে যৌবনের জোশে বলে ফেলেছে, আমি মুসলমান হয়ে গিয়েছি। তাকে ধরে বাসায় নিয়ে গেল, অনেক বুঝানোর পরেও কাজ না হওয়ায় তাকে মারতে শুরু করল। একদিন সে কোনো ভাবে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসল। ঐ ছেলের পিতা আমার বন্ধুকে এসে বলল, কালকের মধ্যে ঐ ছেলেকে এনে দিতে হবে। অন্যথায়, পরশু পুলিশের কাছে তোমার ব্যাপারে রিপোর্ট করে দিব। বলব এই মোল্লা সাহেব আমার ছেলেকে জাদু করে তাকে বাড়ি ছাড়া করেছে। এ খবর ওই ছেলে জানতে পারল, সঙ্গে সঙ্গে সে ফ্যাক্টরিতে এসে বলল, আপনি আমাকে আমার পিতার হাতে তুলে দিয়ে বলবেন, তোমরা যা ইচ্ছা তা কর। আমি কোনো জিম্মাদারী নিতে পারব না। তিনি বললেন, দেখ এটা সম্ভব নয়, কারণ তারা তো তোমাকে মেরে ফেলবে। সে বলল, না আপনি তাই করুন। আপনার শরীরে একটি আঁচড় লাগুক এটা আমি চাই না। শেষ পর্যন্ত আমার বন্ধু তাকে তার পিতার কাছে পৌঁছে দেয়। তার পিতা তাকে অনেক বুঝানোর পর কোনো কাজে না আসায় খুব মারধর করল। পরিশেষে এলাকার যুবকদের দ্বারা তাকে খুব নির্যাতন করানো হয়। সে এক কথাই বলে তোমরা মুর্তিপূজা ছেড়ে ইসলাম গ্রহণ কর। এ কথা শুনে তারা আরো রেগে ওঠে। আরো নির্যাতন চালায়। সে তার পা দেখিয়ে বলে, তোমরা আমার পা থেকে উপর দিকে কেটে টুকরো টুকরো করে দাও। সর্ব শেষ উপরে যাবে, যাতে আমি মুখ দিয়ে আমার রবের নাম নিতে পারি। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলতে পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমার গলা কেটো না। মানুষ নির্যাতন ছেড়ে দিল। তার পরীক্ষা শেষ। আর পথ খুলে গেল।
আপনি একটু চিন্তা করুন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের বেলাল রা. আর বর্তমান বেলালের কি সাদৃশ্য। এ থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, যদি এভাবে দাওয়াত দেয়া হয় তা হলে এমন আরো অনেক নমুনা সামনে আসবে।
এর বিপরীত দাওয়াতের এই মহান কাজ থেকে উদাসিনতার কারণে কত বড় অন্যায় করছি। এক জন ব্যক্তি আমাকে একটি ঘটনা শুনাল। এক শহরে এক ধর্মীয়গুরু আসছে, যিনি বুরহানায় থাকেন। তিনি যখন শহরে এলেন, তার আসার কারণে শহরকে সুসজ্জিত করা হলো। তার উপর ফুল ছড়ানো হচ্ছিল। পাঞ্জাবের একজন বি,এইচ, পির নেতা একটি মাদরাসার ভিত্তিপ্রস্তর করে ফিরছিলেন। তিনি বললেন, দেখুন মানুষ ধর্মের নামে কী উলঙ্গপনা করছে। আর মুসলমানরা ইসলামকে গোপন করে রেখেছে। জ্ঞানী ব্যক্তিদের মাঝে যদি ইসলাম পেশ করা হয় তাহলে এমন কোনো অমুসলিম থাকবে না, যিনি ইসলাম গ্রহণ না করবেন। আসল সত্য ধর্ম তো হলো ইসলামই।

মূল. হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা.বা.
অনুবাদ. যুবায়ের আহমদ