দাওয়াতী কাজে নারীদের অংশ গ্রহণ খুবই জরুরী

দাওয়াতী কাজে নারীদের অংশ গ্রহণ খুবই জরুরী
কিছু দিন পূর্বে একটি ঘটনা দ্বারা এই অজ্ঞতা পূর্ণ প্রথার দিকে মনো নিবেশ হলো। ঘটনা হল এই, এই অধম এক ¯েœহভাজনের মেয়ের বিবাহের প্রস্তাব দিল এক নওমুসলিমের সাথে। মেয়ের পিতা অক্ষমতা প্রকাশ করল। কারণ ছেলে তাবলীগ করে। আমি বললাম এটা তো প্রশংসার বিষয়। এটি একটি গুন। সে বলল, তাবলীগওয়ালাদের স্ত্রীরা সর্বদা পেরেশান থাকে। আমি তাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলাম, সে বলল, তাবলিগের সাথে ভালোভাবে জরিত এমন একজনের নাম বলুন যার স্ত্রী পেরেশান থাকে না। আমি খুব আশ্চর্যন্নিত হলাম, অনেকক্ষণ চিন্তাভাবনার পর, পরিচিত কয়েক জনের মধ্যে একজনের নাম আমার মাথায় এল না। আর আমি কোনো নাম তার সামনে উপস্থিত করতে পারি নি। বরং অধিকাংশ জিম্মাদার সাথীর সাথে এই অধমের পরিচয় আছে। আমার মনে হল, ইসলাম ও দাওয়াত ও তাবলিগের মধ্যে তো এই দূর্বলতাই থাকতে পারে না। রাসূল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেয়ে বড় দা’য়ী আর কে হতে পারে। যিনি পুরো দুনিয়ার থেকে বেশী স্ত্রীদের প্রতি ভালো ব্যবহারকারী ছিলেন। তার পরও দা’য়ীদের স্ত্রীদের পেরেশান থাকার কি কারণ?
অনেক চিন্তা ভাবনা করার ও আল্লাহর দরবারে অনেক কান্না কাটির পর ওহী নাযিলের ঘটনার দিকে আমার জেহেন ধাবিত হল। নবুওয়াতের তারতিব হল। নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাওয়াতী কাজে এবং ইসলামের মাদ‘উ বানানোর ক্ষেত্রে প্রথম ও প্রাধান্য দিয়েছেন নিজের স্ত্রীকে। পক্ষান্তরে আমরা দাওয়াতী কাজে আমাদের স্ত্রীদেরকে শরিক করি না। স্বামী-স্ত্রী দুটি চাকার ন্যয় রাস্তায় যখন দুনো চাকা চলে, তখন গাড়ী সুন্দর ভাবে চলবে। আর যদি চাকা একটি থাকে তাহলে তেলীর গরুগুড়িয়ে তেল ভাঙ্গানোর মতো হবে। মানুষ যেই পরিবেশে থাকে, সেই পরিবশের প্রভাব তার উপর পরে। ফেতনা এবং কেয়ামতের নিকটবর্তি এই যোগে। যার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- যে, সকাল থেকে সন্ধা, সন্ধা থেকে সকাল পযর্ন্ত ঈমান নিয়ে থাকা মুশকিল হবে। আর মুসলিম সমাজে একেবারে জাহেলী নমুনা বানিয়ে রেখেছে। নিজ ঈমান বাচানোর একমাত্র চিকিৎসা হল ইলম ও ইসলামী জ্ঞান। ঐ সময় পযর্ন্ত পরিবেশ দাওয়াতী ও ইলমী হবে না, যতক্ষণ পযর্ন্ত আমরা আমাদের পরিবেশ এমনকি স্ত্রীদেরকে দাওয়াত ও ইলমী কাজে না জোরাবো। এই জন্য দাওয়াত ও ইলম এই দুই স্থানে বিশেষ করে নারীদেরকে অধীকার দেয়া অজ্ঞতা থেকে ইসলামের দিকে নিয়ে আসার এই জাতির জন্য এক মাত্র চিকিৎসা।
খাইরুল করুনে ইলম ও দাওয়াতে নারীদের সমান অধিকার ছিল। এমন অনেক সাহাবিয়ার কার্যক্রম কিতাবে সংরক্ষন আছে। এমন কি এমন খোলা তরবারি নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করতে এসে, সেই উমর ইবনে খাত্তাব উমরে ফারুক হয়ে গিয়েছেন। তার ইসলাম গ্রহণে একজন নারী তার মধ্যম হয়েছে। এছাড়াও না জানি সাহাবিয়া (রা:) এর কত ঘটনা ইতিহাসে বিদ্বমান।
এই প্রেক্ষাপটে ইসলামের ন্যায় ইনসাফের পরিপূর্ণ নমুনা। জাহিলীয়াত হতে পবিত্র সত্যের মাপ কাঠি সাহাবাদের মুবারক জামাতের সামনে বার বার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজ্জে যেই ওসিয়াত উপদেশ দিয়েছে। তার গুরুত্ব বুঝে আসে। তিনি বলেছেন- اتقو الله في النساء اتقو الله في النساء নারীদের ব্যপারে আল্লাহকে ভয় কর। নারীদের ব্যপারে আল্লাহকে ভয় কর।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জবান মুবারক দ্বারা ইসলাম থেকে অজ্ঞতার দিকে দিয়ে যাওয়ার থেকে মুসলিম জাতিকে খবরদার ও হুশিয়ার করেছেন।
সারমর্ম হল এই
(ক) ইসলাম তো পুরো দুনিয়ার জ্বীন ও মানুষের জন্য বড় কল্যান ও রহমত। কিন্তু নারীদের উপর পুরষ ও অন্যান্য শ্রেনীর থেকে ইসলাম বেশী অনুগ্রহ করেছে। ইসলম নারীদেরকে জুলূম নির্জাতন থেকে বাচিয়ে ইজ্জত ও সম্মানের ব্যবস্থা করেছে। এইজন্য ইসলামের মতো নেয়ামতের জন্য পুরুষের তুলনায় নারীদের বেশী শুকরিয়া আদায় করা উচিৎ। আর ইসলামের প্রতিটি হুকুমকে নিজের জন্য বুঝা না মনে করে। বরং সম্মান রহমত ও নেয়ামত মনে করা উচিৎ। আর যেই নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সদকায় এই নেয়ামত সম্মান অর্জিত হয়েছে। তার অনুগ্রহ মনে করে অন্তরের অন্তস্থল থেকে সেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দরুদ ও সালাম পাঠানো উচিৎ।
(খ) নিজের ঈমান বাচানো ও সমাজকে অজ্ঞতা থেকে বাচানোর জন্য, নিজের পরিবেশকে দাওয়াতী ও ইলমী বানানোর জন্য পুরুষদেরকে নারীদের দাওয়াতী অধিকার প্রদানের ফিকির করা উচিৎ।
দাওয়াতের মধ্যে (চাই আমলের দাওয়া হোক চাই ইসলামের দাওয়াত হোক) নারীদেরকে সমান অধিকার দেওয়া উচিৎ। বরং নববী তরতিবের অনুসরনে পুরুষের মুকাবেলায় নারীদেরকে প্রাধান্য দেওয়া উচিৎ। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিদায় হাজ্জের অসিয়তকে সামনে রেখে, চারিত্রিক অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার, মহর, ওয়ারিসী, সম্পদ বন্টন ইত্যাদির ক্ষেত্রে খুব সতর্কতার সহিত তাদের অধিকার আদয়ের করা উচিৎ।
(গ) পরকালের অনুভুতিকে সামনে রেখে নিজের অধিকারের চেয়ে বেশী নিজের দায়িত্বের প্রতি খেয়াল করা উচিৎ। এই উম্মতের চিকিৎসার জন্য যদি নারীরা তাদের অধিকার সবশেষ করে মহর, ওয়ারীস, দ্বীন শিক্ষা, ইত্যাদি আদয়ের চেষ্টা করে। তাহলে অবশ্যই বড় দাওয়াতের অধিকারী হবে। এই অধিকার চাওয়া পুরুষের সাথে বাড়াবাড়ির পরিবর্তে তাদেরকে পর কালের অপমান থেকে বাচানোর মাধ্যম হওয়ার কারণে পুরুষের প্রতি অনুগ্রহ হবে।
এই জন্য, এই যুগে পুরুষের থেকে নারীদের অধিকার আদায় করা উচিৎ। আর এটা তখনই হতে পারে যখন নারীদেরকে দ্বিনি ইলম শিক্ষা দেওয়া হবে। এইজন্য তাদেরকে ইসলাম ও শরীয়ত সম্পর্কে গভির অধ্যয়ন এর প্রতি মনোনিবেশ করা উচিৎ। তাই তাদেরকে কুরআন হাদিস ও ফিকাহ এবং ইসলামের ইতিহাস ভালো ভাবে বিশ্লেষনের সাথে অধ্যায়ন করতে হবে। যা তাদের ইসলামী ও দ্বীনি অধিকার।
দাওয়াত ও ইলমে, নারীদের অংশগ্রহণ
ইসলামের দসতরখান থেকে পবিত্র ও দামী ইলম, দাওয়াতের অধিকার আদায়ের জন্য নারীদেরকে ইলম ও দায়াতের ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব মনে করা উচিত। এই অনুভুতির সাথে সাথে ইসলাম পুরুষদের সাথে আচরণ করার জন্য যেই হুকুম দিয়েছে, তার জন্য এগিয়ে আসা উচিৎ।
দুই তৃতীয়াংশ মানবতার এসলাহের সমস্যা

নারীদেরকে ইলম ও দাওয়াতের শাখায় নিজ দায়িত্বে পালন করা এটা মানবতার প্রাকৃতিক প্রয়োজন। কারণ পৃথিবীতে ছয়শ কোটি মানুষের বসবাস। তিনশত কোটি মনুষ নারী, আর তিনশত কোটি মানুষ পুরুষ। এর মধ্যে প্রায় একশত কোটি হল অল্প বয়স্ক শিশু। আর শিশুদের মানসিকতার প্রতি খেয়াল রেখে তাদের শিক্ষা-দিক্ষার অধিকার এক মাত্র নারীরাই করতে পারে। যা পুরুষরা পারে না। এই ছয়শত কোটির মধ্যে প্রায় সারে চারশত কোটি হল অমুসলিম। এর মধ্যে অর্ধেক দুই আরব ৫০ কোটি হলো নারীদের। আর মুসলমানের মধ্যে পছাত্তোর কোটি হলো নারী। ইসলাম নারীদেরকে নির্লজ্জতা, পরস্পর মিলন, ও খারাবী থেকে বাঁচানোর জন্য মানষিক ও প্রাকৃতিক দিকে খেয়াল করে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এই অবস্থাকে সামনে রেখে নারী ও শিশুদের মধ্যে দ্বীন ও দাওয়াত এবং শিক্ষা-দিক্ষার কাজ নারীদেরকেই দেওয়া উচিৎ। এতো বড় অংশের কাছে দাওয়াত ও শিক্ষার কাজ নারীরাই পারবে। এদিকে দুই কোটি পচিশ লাখ অনুসলিম নারীদেরকে ইসলামের দাওয়াত এই অমুসলিম নারীদের দিতে হবে। তাহলে মুসলিম নারীদের দায়িত্বে কাজ রইল। তিন কোটি অমুসলিম নারী আর এক কোটি শিশু।
মুসলিম জাতি যদি এই জাহিলী রুসূম নারীদের অধিকার নষ্ট করা ও তাদেরকে খাটো করা থেকে ফিরে যতো দিন পযর্ন্ত নারীদেরকে ইলমে দ্বীন ও দাওয়াতের জন্য না দাড় করাবে। আর নারীরা তাদের নিজ দায়িত্ব আদায় না করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে কাজ ও আমলের দ্বারা শিক্ষা দিয়ে গেছেন, ও প্রধান্য দিয়ে গিয়েছেন। আর খাইরুল করুনে যেই প্রথা ছিল। তাহলে দুই তৃতীয়াংশ মানুষ ইসলাম, ইলমে দ্বীন ও ইসলাম থেকে বঞ্চিৎ থেকে যাবে। এই জন্য নারীদেরকে দাওয়াত ও ইলমে দ্বীনের ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব বুঝা উচিৎ। অতএব, ইলমামের কল্যান দ্বারা মানুষেকে উপকৃত করার জন্য পুরুষের তুলনায় নারীদের প্রয়োজন বেশী। কারণ তার পরিচিত পুরুষের তুলনায় অনেক বেশী।

মূল হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী
অনুবাদ. যুবায়ের আহমদ