দাওয়াতের পথে নিজের কাছে বিষটির পরিস্কার হওয়ার গুরুত্ব

দাওয়াতের পথে নিজের কাছে বিষটির পরিস্কার হওয়ার গুরুত্ব
নিজের চরিত্র ও কেরদার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শে রুপান্তরিত কারীদের জন্য, সীরাতে পাকের এক বিশেষ দিকে ফিকির করা খুবই প্রয়োজন। আল্লামা ইবনে কাসির রাহ. نشرح الم এর ব্যাখ্যায় একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন।
হযরত উবাই ইবনে কা’ব রা. বলেন হযরত আবুহুরাইরা রা. খুব আন্তরিকতার সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জিজ্ঞাসা করতে পারতেন, যা অন্য কেউ সহজে পারতো না। একবার তিনি জিজ্ঞাসা করলেন। হে! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি নবুওয়াতের ব্যাপারে সর্বপ্রথম কোন জিনিষ দেখেছিলেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেকে গুছিয়ে বসে গেলেন, বললেন আবুহুরাইরা! আমার বয়স যখন দশ বছর কয়েক মাস, আমি মাঠে দাড়ানো ছিলাম, আমি আকাশের উপর দিকে থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম, একজন ব্যক্তি অপরজনকে বলছেন ইনি কে? তিনি ঐ লোকটি আমর সামনে এলেন তার চেহেরায় এমন নূরানী ছিল। যা আমি কখনো দেখি নি। আর এমন শুঘ্রাণ আসছিল যা আমি জীবনে সুখিনি বা ঘ্রাণ গ্রহণ করিনি। আর এমন কাপড় পরিহিত ছিলেন, এমন কাপড় কাউকে পড়তে দেখিনি। তারা এসে আমার দুই বাহু ধরলেন। কিন্তু আমার অনুভব হলো না যে, কে আমার বাহু ধরে আছে। এরপর একজন অপরজনকে বলছে তাকে শুইয়ে দাও। ফলে আমাকে শুইয়া দেওয়া হলো। এতে আমি কোনো ব্যাথা পেলাম না। কোনো কষ্টও অনুভব করিনি। একজন অপরজনকে বলল, তার বুক বিদির্ণ কর। ফলে আমার বুক ফাড়া হল। এর দ্বারা আমি কোনো ধরনের ব্যাথা পাইনি। কোন রক্তও বের হয়নি। এরপর বললেন এ থেকে غش وغل এবং হাসাদ ও বগজু বের করে দাও। ফলে তার রক্তের টোকরার মতো একটি কিছু বের করে নিল, তারা তা নিক্ষেপ করে ফেলেদিল, তারা বলল এর মধ্যে দয়া মায়া ভরে দাও। এরপর একটি চন্দ্রের মত জিনিষ ভরে দিল, যত টুকু বেড় করে ফেলে দিয়েছিল এরপর আমার ডান পায়ের আঙ্গুলে নারাচাড়া দিয়ে বলল যান নিরাপদের সাথে জীবন জাপন কর। এরপর যখন চললাম দেখলাম প্রত্যেক ছোটর ব্যাপারে আমার অন্তরে ¯েœহ ও দয়া আর বড়দের প্রতি মুহাব্বত ও দয়া রহমত অনুভব করলাম ( মুসনাদে আহমদ, ইবনে কাসির উরদু তরজমা মাওলানা আব্দুস শাকুর ) কেমন জানি রেসালতের জন্য সর্ব প্রথম যেই জিনিষটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দান করা হয়েছিল তা ছিল অন্তরকে খুলে দেওয়ার নেয়ামত যার ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্তরে প্রত্যেক ছোটদের প্রতি ¯েœহ ও দয়া আর বড়দের প্রতি রহমত সৃষ্টি হয়েগিয়েছিল। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্তরকে হিংসা হাসাদ গল গাস বের করে রহমত দয়া ভরে দেওয়া হয়েছিল। ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাথা থেকে পা পযর্ন্ত রহমত হয়ে গিয়েছিল অন্তরে সংকিরনাতা শেষ হয়েগিয়েছিল। যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আদর্শ বানিয়ে নিজের ব্যক্তিত্ব নির্মান করতে চায় তার জন্য সর্বপ্রথম পয়োজন ঐ মহান সম্পদ অজর্নের ফিকির করবে। আর নিজ প্রভুর কাছে অন্তর খোলে দেওয়ার সম্পদের প্রর্থনা করবে। এই জন্য যে, আল্লাহর কাছে কিছু চাই আর তার জন্য চেষ্টা সাধনা করে। তাহলে তাকে ঐ নেয়ামত দান করা হয়। এটা আল্লাহর সুন্নাত। من جد وجد যে চেষ্টা করবে সে তা পাবে। যেই ব্যক্তি নিষ্টার সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ করতে চায় তার অন্তর খুলে দেওয়া হয়। اشرح صدري অন্তর খুলে দেওয়ার সম্পদ লাভের সবচেয়ে বড় লাভ হলো। দা’য়ীর চিন্তা ফিকির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুকুল হয়ে যাবে। তার সর্বপ্রাকার খারাপ চিন্তা ফিকিরের সাথে নাফরাত সৃষ্টি হয়। আপনি যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পুরো সীরাত অধ্যায়ন করেন তাহলে আপনি প্রত্যেকটি মুসিবত ও চিন্তা ফিকির দ্বারা নেগেটিভ কোন চিন্তা ফিকির নজরে আসবে না। সকলের সাথে চুড়ান্ত পযার্য়ের রহমত ও মুহাব্বত করতেন। শেষ মুহুর্ত পযর্ন্ত আসা প্রতিটি পদক্ষেপ কল্যাণ খুজে পেতেন এটা ছিল তার শেআর পরিচয়। এর বিপরিত কারো খারাপ কিছু বর্ণনা করা খারবি পর্যবেক্ষণ করা এমন কি সুযোগও পছন্দ করতেন না। এটা ছিল তার জন্য কষ্টের কারণ নিজের বন্ধু কাছের লোকদের জন্য শুধু শফিক ও দয়াবান ছিলেন না। বরং নিজের জানের টোকরা ছিলেন। সবচে খারাপ জালেম দু:মনের জন্যও কাল্যাণ কামি ছিলেন। মক্কী জীবনে তার জানের দুশমনের জন্য রাতে চোখের অশ্রুঝড়ানো, দিনের বেলায় তাদেকে জাহান্নাম থেকে বাচানোর জন্য খুব চিন্তা ফিকির করে দাওয়াত দেওয়া। বার বার ধাক্কা খাওয়া বিচলিত হওয়ার পরও তাদের থেকে আশার হাত ফেরত নেননি। এ সবের মূল কারণ ছিল, ইতিবাচক চিন্তা ধারা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাতের এক গুরুত্ব পূর্ণ অংশ হল তায়েফের ময়দানে পাথরের আঘাত সহ্যকরাম তার জন্য ব্যাথায় অস্থির ছিলেন সে সময় জিব্রাইল আ: আজাবের ফেরেশতা নিয়ে উপস্থিত হলেন, চুড়ান্ত পর্যায়ের জালিম থেকে তিনি নিরাশ হতেন না। তাদের মধ্যেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কল্যানে দিক লক্ষ করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসলেন। আমি আশা করি এরা যদি ঈমান নাও আনে তাহলে তাদের সন্তানদের মধ্যে এমন মানুষ জন্ম নিবে যারা আল্লাহর উপসনা করবে।
উহুদের যুদ্ধে সাহাবারা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ কারাইশদের পক্ষ থেকে তাদের হাতে কত কষ্ট করতে হয়েছে। সত্তুরজন জান বাজ সাহাবা শহীদ হয়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাত মোবারক শহীদ করেছেন যুদ্ধের টুপি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাথা মোবারকের মাথায় বিদেছে। এক জালিম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ধাক্কা দিয়ে গর্তে ফেলে দিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাথা ফেটে গেল্ এমন মুহুর্তে কিছু সাহাবা রা: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন, আপনি আল্লাহর নবী, তাদের জন্য আপনি বদ দুআ করুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্ট বললেন। اني لم ابعث لعنا ولكن بعثت رحمة আমি লানত দেওয়ার জন্য প্রেরিত হই নি বরং আমাকে রাহমত হিসাবে পাঠানে হয়েছে। (বুখারী আদাবুল মুফরাদ) আবার জালেম দশমনদের কল্যানের কথা মনে হয়েগেল। পুরো দুনীয়ার মমতা ও দওয়ার খেয়াল হল তাদের জুলূমের কারণে তাদের উপর যেন আজাব চলে না আসে। তখন সঙ্গে সঙ্গে আকাশের দিকে হাত উঠালেন আর দুআ করলেন। الهم اهدي قومي جائهم لا يعلمون অর্থ হে আল্লাহ! আমার জাতিকে হেদায়েদ দান করুন। তারা জানে না। জুলূম ও বরবরতার দ্বারা চুরান্তে পৌছেছিল মাতৃভূমি মক্কা হতে বহিষ্কার কারী আবার রক্ত পিপাসুদের জন্য যুদ্ধের ময়দানে এমন ইতিবাচক চিন্তা এটা আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত فداه ابي و امي صلي الله عليه وسلم الق الق صلاة وسلام এই উহুদ যুদ্ধেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় ও আদরের চাচা সাইয়েদুশ শুহাদা হযরত হামজা রা: এর ভয়াবহ শাহাদতের ঘটনা ঘটেছে। ঐ সময় পর্যন্ত ওয়াহশি হিন্দার গুলাম ছিল। এবং ইসলামের কঠিন দুশমন ছিল। হযরত হামজা রা:কে হত্যা করেছে। নাক কান কেটেছে এবং কলিজা চিবিয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার আদরের চাচার শাহাদতের এই পরিমান চিন্তা ছিল। ওয়াহশি ইসলাম গ্রহণ করার পরও নির্দেশ দিয়েছেন তুমি আমার সামনে পড়িওয়ানা, তোমাকে দেখে আমার আদরের চাচার কথা মনে হয়ে যায়। আমার কষ্টলাগে যা তোমার জন্য যিনি জগতির কারণ হতে পারে ফলে হযরতা ওয়াহশি রা: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে বসতেন না। এই নবীয়ে রহমত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইতিবাচক চিন্তার প্রতিফল ছিল, তাঁর আপন আদরের চাচার নির্দয়ভাবে শহিদ কারীর কাছে ফতেহ মক্কার পর তার ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য সাহাবা রা: কে পাঠিয়েছেন।
মক্কা বিজয়ের সময় চুড়ান্ত পর্যায়ের দুশমনের উপর আল্লাহ তা’য়ালা বিজয় দান করেছেন, এমন সময় তাদের প্রতিষোধ নেয়া ও তাদেরকে লাঞ্ছিত আপমান করার পরিবর্তে ঘোষনা হল।
لا تتريب عليكم اليوم اذهبوا انتم الطلقاء আজ তোমাদের উপর কোনো পুরাদিনের তোমরা স্বাধীন। এক সাহাবা নারাপ লাগলেন।
اليوم الملحمة আজকের দিন প্রতিশোদের দিন, তার বিপরিত اليوم يوم المرحبه এর ধ্বনি লাগানো ইতিবাচক চিন্তার ফল ছিল। সীরাতে পাক এর সাথে আমাদের সম্পর্ক জোড়ানো এবং তার বাস্তব বললেন। যে, মুফতি সাহেবগন এসেছেন আমাকে একটি মাসআলা বলেদিন। আজকাল কিুছু দিনদার ব্যক্তি কিছু সময়ের জন্য একত্রিত হয়ে বসা জায়েয? হযরত মুফতি জহির উদ্দিন সাহেব বললেন উদ্দেশ্য কি? কারণ কি? কিছু মানুষ একত্রী হয়ে বসা কিভাবে না জায়েয হতে পারে? প্রশ্নকারী বললেন নিশ্চিত ভাবে জানা যায় কিছু মানুষ একত্রী হলে নিশ্চিত কারো দোষ বা গিবতের চর্চা হয়। এমত অবস্তায় তাদের একত্রি হয়ে আপন জাওয়াযের ফতোয়া দিবেন? মুফতি সাহেব বললেন আপনি এটা ঠিক বলেছেন। আমাদের অবস্থা কোন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনে কি এর কল্পনাও করবেন।?
ইসলামের জন্য অন্তর খোলা, আল্লাহ তা’আলা নূর দিয়ে ব্যক্ত করেছেন। أَفَمَنْ شَرَحَ اللَّهُ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ فَهُوَ عَلَى نُورٍ مِنْ رَبِّهِ فَوَيْلٌ لِلْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُمْ مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ أُولَئِكَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ
অর্থ.আল্লাহ্ যার বক্ষ ইসলামের জন্যে উ¤মুক্ত করে দিয়েছেন, অত:পর সে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত আলোর মাঝে রয়েছে। (সে কি তার সমান, যে এরূপ নয়) যাদের অন্তর আল্লাহ্ স¥রণের ব্যাপারে কঠোর, তাদের জন্যে দূর্ভোগ। তারা সু¯পন্ঠ গোমরাহীতে রয়েছে।
আলোর মধ্যে মানুষ নিজেকে খুলা স্বাধীন মনে করে এবং খুব স্বাধীনতার সাথে চলতে পারে। আর অন্ধাকারে সকল প্রকার প্রতিবন্ধকতা অনুভব করে এমনি ভাবে মনের সংকির্ণতার কারণে আমাদের আমলের শক্তি ও ভুতা হয়েগেছে। সবস্থানে প্রতিবন্ধকতা সংকা অনুভব হয়। আর আমাদের উপর নিরাশ ছেয়েগেছে আজ আমাদের যদি অন্তর খোলা সম্পদ অর্জিত হয়ে যায় আর আমাদের চিন্তা ও মানসিকতা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণে ইতিবাচক হয়ে যায়। তাহলে আমাদের প্রতি পথ খোলা অনভব হবে। আর দাওয়াতের ময়দানে আগে যাবার উৎসাহ সৃষ্টি হবে। প্রত্যেক কঠিন পথে আমরা আশার পথ দেখতে পাব। নিজের একই চিন্তা ফিকিরের লোকদের সাথে মুহিব্বিন ও কাছের লোকদের সাথে ভালো ব্যবহার করা তো আমাদের অপরগতা কিন্তু পুরা দুনিয়া প্রতিটি মানুষের উপর দয়া ও ¯েœহের দৃষ্টি বার্ষন প্রত্যেক ফোটার উপর ¯েœহ আর বড়দের প্রতি ভালোবাসা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৌলিক ও ইতি বাচক দিকে জীবনের একটি অংশ এ ছাড়া কোন মুসলমান নবীজির অনুসারী হওয়ার দাবী করতে পারবে না। এই জন্য দা’য়ীকে এই দিক ঠিক করে অন্তর থেকে সংকিরণতা দূর করা খুবই জরুরী।
নববী বার্তা এতো দূরে মাত্র ২৩ বৎসর দুনিয়ার চেহেরা বদলে দেওয়ার ব্যপারে উলামাগন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াত মিশনের দুইটি গুনের আলোচনা করেছেন একটি হলো নির্বেঝাল দরদ ও মুহাব্বত আর দ্বিতীয়টি হলো উনার আখলাক অন্যের আগে আমল করতেন। উদাহরণ স্বরুপ পাচ ওয়াক্তত নামাজের দাওয়াত দিয়েছেন। আগে নিজে এর উপর বেশী আমল করেছেন। অন্যকে রোজা রাখার দাওয়াত দিয়েছেন। নিজে এছাড়াও যেমন বৃহ:পতি বার এর সাথে তিন দিন রোজা রাখতেন। অন্যকে যাকাতের দাওয়াত তথা মালের ৪০% ভাগের এক ভাগ খরচ করার দাওয়াত দিতেন নিজে নিজের যদি একটি আশাদী থাকত তা খরচ না করা পযর্ন্ত অস্থির থাকতেন। অন্যকে রোখছতের উপর আমল করতে বলতেন। আর নিজে আজিমতের উপর আমল করতেন। দাওয়ীকে তার কথার মধ্যে প্রভাব সৃষ্টির জন্য এবিষয়ের উপর খেয়াল রাখতে হবে। বাহির থেকে বেশী নিজের ভিতরে দাওয়া দা’য়ীর ব্যবস্থা যদি আমলের দ্বারা না হয়। তাহলে অধিকাংশ সময় দা’য়ীর কথা প্রভাব সৃষ্টি হয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের ব্যবহার ও দাওয়াত কে সত্যতার জন্য নিজের আখলাককে পেশ করেছেন। আল্লাহ তা’লা বলেন-
قُلْ لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا تَلَوْتُهُ عَلَيْكُمْ وَلَا أَدْرَاكُمْ بِهِ فَقَدْ لَبِثْتُ فِيكُمْ عُمُرًا مِنْ قَبْلِهِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ (১৬)

অর্থ.বলে দাও, যদি আল্লাহ্ চাইতেন, তবে আমি এটি তোমাদের সামনে পড়তাম না, আর নাইবা তিনি তোমাদেরেকে অবহিত করতেন এ স¤পর্কে। কারণ আমি তোমাদের মাঝে ইতিপূর্বেও একটা বয়স অতিবাহিত করেছি। তারপরেও কি তোমরা চিন্তা করবে না?

এর জন্য দা’য়ী নিজের আখলাক চরিত্র এমন আদর্শবান বানায় যাতে কোন সংকোচ ছাড়াই নিজ পরিবেশে একথা বলতে পারে যে فَقَدْ لَبِثْتُ فِيكُمْ عُمُرًا এর ঘোষণা দিতে পারে এটাই বাস্তাবতা কেউ যখন কাউকে দাওয়াত দেয় তখন সেই নিজের উপর খোশি হয়ে যায়। দাওয়ার ক্ষেত্রে এই বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা উচিৎ যে যে বিষয়ে দাওয়াত দিচ্ছি আমার মধ্যে যেন তা আমলে ফিট হয়ে যায়। এমন ভাবে সে নিজে দাওয়াতকে নিজের প্রয়োজনের জিনিষ মনে করবে। আপনি যদি দাওয়াতে ইতিহাস গভির ভাবে অধ্যায়ন করেন তাহলে দেখবেন এই দাওয়াতের ময়দানে সবচে বেশী দখল হলো সুফি ও উলাময়ে রব্বানীয়ইন আল্লাহ ওয়াদের। কারণ তাদের প্রতিটি কথা আমল দ্বারা সুসজ্জিত ছিল। আমল আর কথা একত্রিত হলে মানুষের অন্তর বিজয় হয়ে যায়। বাস্তব কথা তো হলো এই সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদবী রহ: বলেছেন দাওয়াতের কাজতো মানসুস কুরআনের হুকুম কিন্তু দাওয়াতের পদ্ধতি মানসুস নয়। কারণ এই পদ্ধতি দা’য়ীর অন্তরে ঢালা হয়। কুরআন ও সীরাতের অধ্যায়নে থাকে কোন মানুষের সামনে কোন ধরণের দাওয়াত দেওয়া প্রয়োজন তা জেহানে চলে আসে এই জন্য কাজ শুরুকারার জন্য প্রথমে কিছু মানুষকে টার্গেট করতে হয়। এটি একটা টার্গেট বানালে এরপর পূর্ণভাবে দিকে পথ খোলতে থাকে শুরুর দিকে দূর্বল কিছু মানুষকে নিবার্চন করা দাওয়াত তাই বলে প্রত্যেক নবীই প্রথমে দূর্বল লোকদেরকে টার্গেট বানিয়েছেন। অতপর এই ভালো কাজে লাব্বায়ীক বলার দ্বারা তাদেরকে ইজ্জত ও সম্মানে ভোষিত করা হয়েছে। কোরানে কারিমে সাইয়েদেনা নুহ আ: এর ঘটনা বর্ণনা করা এই বাস্তবতার দিকে ইঙ্গীত করেছে ما ترك (هود ২৮)(
মুসা আ: এই ঘটনা এই সংবাদ পাওয়া যায়।
فَمَا آَمَنَ لِمُوسَى إِلَّا ذُرِّيَّةٌ مِنْ قَوْمِهِ عَلَى خَوْفٍ مِنْ فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِمْ أَنْ يَفْتِنَهُمْ وَإِنَّ فِرْعَوْنَ لَعَالٍ فِي الْأَرْضِ وَإِنَّهُ لَمِنَ الْمُسْرِفِينَ (৮৩)
বড়দের তুলনায় দূর্বলদের মাঝে গ্রহণ ও সিদ্ধান্ত নেয়ার যোগ্যতা কোথা থাকে ব্যপারে আমার এক ¯েœহভাজন এই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন যে সরাসারি দাওয়াত দেয়া যেতে পারে। ওখানে কাজের সুযোগ বেশী পাওয়া যায় কারণ দাওয়াতের কাজ শুরু হয়েছে।
সমাজের কিছু সাধারণ লোকদের মাধ্যমে এরপর কিছু লোককে টার্গেট করে তাদের জন্য দুআ করা শুরু করেদিন। টার্গেট করে কারো জন্য দুআ করা আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এমন প্রিয় সুন্নাত যা আজ বিশেষ লোকদের থেকেও ছারা পরছে। এই দোয়ার উপর হাদিস হল- من تمسك بسنتي عند فساد امتي فله اجر مأة شهيد ـ ফেতনা ফাসাদের সময় আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি একটি সুন্নাতের উপর আমল করবে সে শত শহিদের সাওয়াব পাবে। এই হাদিস অনুযায়ায়ী শত হাদিসের সাওয়াব পাওয়া যাবে।
বার বার দুআ করার দ্বারা একটি লাভ হল এই বান্দা যখন দুআ করবে হে আল্লাহ উমুককে চিরস্থায়ী আযাব থেকে বাচিয়ে দাও তখন তার অন্তরে ব্যাথা জন্মাবে যে, এবং …….. এর মিকতচনে আসবে যা দাওয়াতের জন্য বড় হাতিয়ার এবং মাদউর সবচে বেশী প্রভাব সৃষ্টি কারী জিনিষ। বার বার এই দুআ করার দ্বারা আবার একটি লাভ হল। এই নিজের স্বার্থ থেকে দৃষ্টি সড়ে আল্লাহর দিকে যাবে।
দুআর দ্বারা বড় লাভ হল এ যে মাদউর উপর কোন পদ¦তিতে কাজ করতে হবে আল্লাহ তা‘য়ালা দায়ীর অন্তরে ঢেলে দেন । দায়ীর অন্তরে এলহাম হয়, যে মাদউ সে কোন পদ্বতিতে দাওয়াত দিতে হবে।
কিছুদিন দুআ করার পর মাদউর সাথে যোগাযোগ করা উচিৎ, যদি দাওয়াত গ্রহণ করে নেয়। তো ঠিক আর যদি কবুল না করে তাহলে হতাস ও নিরাশ না হওয়া বরং সর্বদা ভাবতে থাকা। মাথায় এ কথা রেখে দিবে আর মুখাতাবকে কুফর শিরকের নাপাকী থেকে বের করা। তার ভুল ধারণা দূর করা বা ইসলামের পরিচয় করিয়ে দেওয়াকে উদ্দেশ্য মনে না করা। বরং কুফর শিরক থেকে বের করাকে উদ্দেশ্য বানানো। ইনশাআল্লাহ অবশ্যই সফলতা এ ব্যাপারে একটি বিষয় সামনে রাখা উচিৎ, একলাখ মানুষের ইসলামের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে কেউ যদি বলে ইসলাম সত্য ধর্ম যৌক্তিক ধর্ম,সাইন্টিফিক ধর্ম। এটা বলা দ্বারা যতেষ্ট নয়। এর বিপরিতে যদি একজন সাধারণ মানুষ ইসলামকে নাজাতের মুক্তির পথ মনে করে। اشهد ان لا اله الاّ الله পড়ে এটা অনেক উত্তম ও সফল। আসল উদ্দেশ্য হবে যে কোনো ভাবে চিরস্থায়ী জাহান্নাম ও কুফর ও শিরক থেকে বের করা। এই বিষয়টি মাথা না থাকার কারণ কৌশল ও সতর্কতার নামে জীবনে কোনদিন ইসলাম পেশ করার সুযোগ হয় না। পুরো জীবন ব্রেণ ওয়াশ ইসলামের ব্যাপারে ভুল ধারণা দূরকরনে সময় কেটে যায়। সীরাতে পাকে একজন নূন্যতম ছাত্রও জানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের লিখিত দাওয়াতে সোজা ইসলাম গ্রহণ কর শান্তি পেয়ে যাবে। হতে কিন্তু কিছু চিঠির মধ্যে তো এ তোটুকু ছাড়া আর কিছুই থাকতো না।
বাস্তবতা তো হলো এই , দা’য়ীর যখন ইয়াকিন হয়ে যায় যে আমার ভাই যদি মৃত্যুর পূর্বে ঈমান না আনে তাহলে সে চিরস্থায়ী আগুনে জ¦লবে। আর মৃত্যুর এক মুহুর্ত ভরসা নেই। তাহলে কিসের সতর্কতা আর কিসের অপেক্ষা অনিচ্ছা সত্যেও চিৎকার বের হয়ে বেচে যাও আমার ভাই আগুন থেকে বেচে যাও মনে করুন আপনার প্রতিবেশীর বাড়িতে আগুন লেগে গেছে। যার সাথে আপনার দুশমনি ও শুত্রুতা আছে। আপনি এটাও জানেন লোক জ¦াবে না। সামান বের করে ফেলেছে তারও কোনো ক্ষতি হবেনা। অনেক মানুষ সেখানে উপস্থিত আছে আগুন নিভানোর জন্য এরপরও বাচাও বাচাও আগুন লেগেগেছে এই আওয়াজ শুনার পর যদি আপনার মানবতা মৃত্যু না হয়। তাহলে আপনি বলতি নিয়ে জ¦লন্ত আগুন নিভাবেন। ঐ সময় এই খেয়াল করবেন না যে, আমার দুশমন জানিনা পানি ডালতে দেয় কি না। সে খারাপ মানে করবে না তো? তাহলে এটা কিভাবে সম্ভব আমাদের অমুসলিম প্রতিবেশী আমার ভাই যেই পথে চলছে না জানি কোন সময় দুযখের আগুনে পরে যায়। আমরা পরিবেশ অনুকলের অপেক্ষায় থাকি আর পরিবেশ অনুকুল বানাতে থাকি।
ইসলামের উপর উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর অবশ্যয় আপনার কাছে থাকা উচিৎ কিন্তু যদি না থাকে দাওয়াত দিতে কিন্তু দাওয়াতের ময়দানের কর্মীদের অবশ্যকতা হল যে সব প্রশ্ন ইসলাম বিরুধীদের মাথায় আছে তার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সাধারণত যারা ইসলাম গ্রহণ করে তাদের মাথায় কোন প্রশ্ন থাকে না। আল্লাহ তা’লার পক্ষ থেকে যখন হেদাওয়াতের ফয়সালা হয়ে যায়। দা’য়ীর চিন্তা করে অন্তর পরে যায়। তাহলে আপনি সকল প্রশ্ন সমূহ শেষ হয়ে যায়। এই জন্য দা’য়ীকে আধ্যাতিক ও আত্মিক শক্তিকে শক্তিশালী করতে চেষ্টা করতে হয়। কারণ আত্মিক ও আধ্যাতিক শক্তি আশ্চর্য্য ধরনের প্রভাব করে । এই সময় পরিবেশ বিল জল অনুকুল শুধু ইচ্ছা করতে দেরী। পুরো দুনিয়া সত্যের তৃষ্ণার্ত। খুব অস্থির তার সাথে আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। কে আছে যিনি এই তৃষ্ণার্ত ব্যক্তিদেরকে ইসলামের পথ দেখাবে এবং তাকে মানবত্য স্থান দান করবে। হায়! আমরা যদি এর দিকে ভ্রুক্ষেপ করতাম পুরো মুসলিম জাতি নিজ দাওয়াতী দায়িত্ব আদায় করবে। এবং মানবতার পিপাস মিটানো নিজের জন্য সৌভাগ্য মনে করবে।

মূল. হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা.বা.
অনুবাদ.যুবায়ের আহমদ