দাওয়াতের ফিকির

দাওয়াতের ফিকির
মোটকথা, মুসলিম জাতির অধঃপতন, লাঞ্ছনা ও পরাধীনতার ব্যাপারে যারা চিন্তা-ফিকির করে, তাদের মতে এক মাত্র চিকিৎসা হলো দাওয়াত। এই জাতি দাতা হয়েই সম্মানের স্তর লাভ করতে পারবে। পুরো দুনিয়ার উপর দাপট ও প্রভাব সৃষ্টির জন্য এর চেয়ে উত্তম কোনো পথ নেই। পুরো দুনিয়াকে মুহাম্মাদী পয়গামের মাদউ বানিয়ে নিজের দাওয়াতি দায়িত্ব আদায় করা। কারণ দা‘য়ীর সাথে প্রভাব থাকে, এর সাথে শান শওকাতের ফায়সালা করা হয়। এই জাতি যদি দা‘য়ী না হয় তাহলে তাদেরকে মাদউ হতে হবে। আল্লাহ তাআলা তার দ্বীনের বিস্তারকে দাওয়াত ও তাবলিগের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। এই সত্য ধর্মকে সকল দ্বীনের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। অতএব আমরা যদি দাওয়াতি কাজ না করি তাহলে আমাদেরকে মাদউ হতে হবে। দুনিয়াতে ধর্মত্যাগী হওয়ার একমাত্র কারণ দাওয়াত থেকে উদাসিনতা। আর এই জাতিকে ধর্মত্যাগী মুরতাদ থেকে বাঁচানোর একমাত্র পথ হলো দাওয়াত। এই জন্য প্রচার ছাড়া হেফাজত আর আক্রমণ ছাড়া প্রতিরক্ষা সম্ভব নয়। তাই দাওয়াতি কাজকে পছন্দ, আর মৌখিক সমর্থন দেওয়াই যথেষ্ট নয়। বরং দাওয়াতি কাজকে পুরো জাতির জন্য জীবনের উদ্দেশ্য বানানো উচিত। কিছু লোককে এই কাজের জন্য পরিপূর্ণ সোপর্দ করে দিতে হবে। আর কিছু লোককে পরিবেশ তৈরি করতে হবে। উত্তম জাতি হওয়ার উদ্দেশ্যই হলো দাওয়াত। এ জাতি দুনিয়ার সকল মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছিয়ে দেবে। দাওয়াত ছাড়া মানুষের জিকির পরিপূর্ণ হতে পারে না। দাসত্বের হকও আদায় হয় না। সব ময়দানে সফলতার ভেদ হলো এখলাসের সাথে নবীর এত্তেবা। যা দাওয়াতের কাজ ছাড়া অসম্ভব। ভীতু মানুষের জন্যও রয়েছে এর মধ্যে নিরাপদ পথ। আর বীরদের জন্যও রয়েছে পুরো দুনিয়া বিজয়ের পথ। পরকালের লাঞ্ছনা থেকে বাঁচার জন্য জরুরী হলো মানুষ অন্যের হক আদায় করে দিবে। জুলুম থেকে বাঁচার জন্য এবং আমার নবীর হক আদায় করার জন্য, বিদায় হজ্বের জিম্মাদারী পালন করতে হবে।
দাওয়াতি কাজকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ মনে করতে হবে। জেনে বুঝে এই কাজের মূল্যায়ন করতে হবে। প্রতিটি মানুষের জন্য জরুরী এই কাজের সাথে জুড়ে থাকা। এখানে একটি হাদিস বর্ণনা করা হচ্ছে। যা ইবনে সাদ তাবকাতে উল্লেখ করেছেন।
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুদায়বিয়ার সন্ধির থেকে ফিরে এসে, পহেলা মুহাররমে মসজিদে নববীতে সকল সাহাবাদেরকে উদ্দেশ্য করে একটি ভাষণ দিলেন। যেখানে তিনি বলেছেন- “হে লোক সকল! আল্লাহ তাআলা আমাকে পৃথিবীর জন্য রহমত ও পয়গাম্বার বানিয়ে পাঠিয়েছেন। পুরো দুনিয়ার জন্য আমি রাসূল হয়ে এসেছি। আল্লাহর পয়গামকে সারা দুনিয়ায় পৌঁছিয়ে দিতে চাই। যাতে আল্লাহর হুজ্জত পুরো হয়ে যায়। আল্লাহর পয়গাম থেকে যেন কোনো মানুষ বঞ্চিত না হয়। যাও আল্লাহর উপর ভরসা করে, সারা দুনিয়ার বাদশার কাছে দাওয়াত পৌঁছিয়ে দাও। আল্লাহর পয়গাম পৌঁছিয়ে দেয়ার জন্য তোমাদের অস্তিত্বকে ওয়াক্বফ করে দাও। যেই লোকের লেন-দেনের মধ্যে শিরক আছে, তার জন্য আল্লাহর জান্নাত হারাম। তাদেরকে ভালো কাজের নসিহত কর।”
এই বাণী শুনার পরও কোনো মানুষ দাওয়াত থেকে উদাসীন হয়ে থাকে কিভাবে?

মূল. হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা.বা.
অনুবাদ. যুবায়ের আহমদ