দা’য়ী এবং মাদউর সাথে সম্পর্ক ও তার হক

দা’য়ী এবং মাদউর সাথে সম্পর্ক ও তার হক
গত বৎসর গুজরাটের পালনপুরে সফর করেছিলাম, সেখানে একটি গুরুত্ব পূর্ণ মাহফিল হয়। সেখানে তাবলিগের সাথী ছিল অনেক। জামাতের সাথীরা আরো অন্তরঙ্গ হয়ে যাবে মনে করে ছয় নাম্বারের উপর আলোচনা করলাম। আলোচনার ফাঁকে প্রাসঙ্গিক হিসাবে অমুসলিমদের মাঝে দাওয়াতের আলোচনা করেছি। আর কথাগুলো ছিল নতুন আঙ্গিকে ভেবেছি এতে সাথিরা নিরাপদে থাকবে। কিন্তু সাথিদের চেহারার দিকে তাকিয়ে মনে হল তারা খুশির পরিবর্তে হিনমন্য, কারণ তারা আমার কাছ থেকে অমুসলিমদের ব্যাপারে কিছু আলোচনা আশা করেছে। পরের বছর ওখানে সফর হলো। সেখানে অনেক শ্রোতাদের জামায়েত ছিল। আমি চেয়ারে বসতেই বিশ ত্রিষটি চির কুট আমার হাতে দেওয়া হলো। অধিকাংশ চির কুট ছিল উলামাদের পক্ষ থেকে, যার মধ্যে একটি বিষয়ই ছিল, ছয় নাম্বারের আলোচনা তো পূর্বে শুনেছি, আজকে বিজাতি অমুসলিমদের ব্যাপারে আলোচনা শুনতে চাই। এই বিষয়ে আলোচনা করলে ভালো হয়।
আমি কথা এখান থেকেই শুরু করলাম, এখান থেকেই সমস্য শুরু হয়। যে মানুষ মাদউ ভাইকে বিজাতি ও ‘অন্য’ মনে করে, আমরা কুরআন হাদিস বিশ^াস করি, আর কুরআন শরীফের বিভিন্ন স্থানে এ বিষয়ে স্পষ্ট করা হয়েছে। দুনিয়ার সকল মানুষ আদম আ. এর সন্তান। সকল মানুষের পরম্পরা আদম ও হাওয়া আ. থেকেই শুরু হয়েছে। এই হিসাবে দুনিয়ার সকল মানুষের সাথে আমাদের সম্পর্ক হলো রক্তের। আর সকল মানুষ আমাদের রক্তের সম্পর্কের ভাই। অমুসলিম ভাইদের সাথে আমাদের দ্বিতীয় সম্পর্ক হলো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতে আসার পর থেকে কেয়ামত পযর্ন্ত সকল মানুষ আমাদের নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উম্মত। কুরআনে করীমে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে।
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ.
অর্থ. আমি আপনাকে সকল মানুষের জন্য এমন রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছি। পাঠিয়েছি, যে সুসংবাদ শোনাবেন এবং মানুষকে সতর্কও করবেন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বুঝে না।
এইটাও একটি সর্ব সম্মত বাস্তবতা, যে ব্যাপারে কোনো জ্ঞানি মানুষ দ্বিমত করবে না। আমাদের সকলের ¯্রষ্টা লালনকর্তা পালনকর্তা হলেন একমাত্র আল্লাহ তাআলা। আমরা হলাম এক প্রভুর বান্দা। এমনি ভাবে অমুসলিমদের সাথে আমাদের তিনটি সম্পর্ক আছে। যা খুবই শক্তিশালী ও মৌলিক। তা হলো এক আল্লাহর বান্দা, এক রাসূলের উম্মত। এক মা বাবার সন্তান। অর্থাৎ রক্তের সম্পের্কের ভাই। এরকম তিনটি শক্তিশালী সম্পর্ক থাকা সত্যেও তাদেরকে ‘ভিন জাতি’ বিধর্মী বলা কী ভাবে সঠিক হয়। দাওয়াত হলো ভালোবাসা ও চূড়ান্ত পর্যায়ের কল্যান কামি কাজ। কাউকে ভিন্ন মনে করে দাওয়াতের হক আদায় করা সম্ভবই নয়। আকিদা বিশ^াস, লেন-দেন, ইবাদত-বন্দিগী, ব্যবাসা-বাণিজ্য, আখলাক-চরিত্র মোট কথা জীবনের যে কোনো অধ্যায়ের মুসলমানদের পথ চলার জন্য কুরআন হলো একটি প্রজ্জলিত পথ। এরপর আর কে আপন। কার সাথে কেমন সম্পর্ক কোন সম্পর্কের সাথে কি আচরন করবে? এবং কোন ধরণের হক আদায় করবে। এসম্পর্কে কোরআন ও সুন্নাতে স্পষ্ট পথ নির্দেশনা রয়েছে। এ বিষয়ে সবচেয়ে অধিক ঘটনা ও দৃষ্টান্ত কুরআনে কারীমে বর্ণনা করা হয়েছে, তা গুরুত্ব পূর্ণ নবীও রাসূলদের ব্যাপার যারা হলেন আমাদের নুমুনা আইডিয়েল। আম্বীয়াদের ঘটনা এবং তাদের দাওয়াতী কারগুজারী মাদউদের সাথে তাদের আচরণ, এসব ঘটনা কুরআনে বারবার আলোচনা করা হয়েছে। এতো আধিক আলোচনা শুধু অন্তরের প্রশান্তির জন্য নয়, বরং প্রতিটি ঘটনার মধ্যে রয়েছে আমাদের জন্য শিক্ষা ও উপদেশ। সকল নবীগণ যখন দাওয়াত দিয়েছেন। মাদউদের ব্যপারে সকলেই একই সম্বোধন ব্যবহার করেছেন।
يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ.
হে আমার জাতি! নিজ প্রভুর ইবাদত কর! হে আমার জাতি তোমাদের প্রভূকে ভয় কর। বিভিন্ন স্থানে হযরত নূহ আ. এর এলোচনা এসেছে। সাড়ে নয় শত বছর পর্যন্ত অত্যান্ত ভালোবাসা ও তাদের কল্যান কামী হয়ে স্বজাতীকে দাওয়াত দিয়েছেন। আর তার জাতী চুড়ান্ত পর্যয়ের অবজ্ঞা করতো। মুহাব্বত ভরা দাওয়াতে তার ভ্রুক্ষেপ করত না। শুধু এমনিতেই নয়, বরং সর্বদা নূহ আ. কে কষ্ট দিত। তাঁর সাথে হটকারীতা করতো। অপবাদ দিত। শারিরিক ভাবে নির্যাতন করতো, সবচেয়ে বেশী রেওয়ায়াত গুলো আসে নূহ আ. সম্পর্কে। তাঁর কাওমের লোকেরা ভালোবাসা ও দরদ ভরা দাওয়াতের উত্তর দিত তাঁর উপর পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে। নয়শত বছর দাওয়াতের পর, আল্লাহর কাছে আবেদন করছেন। যা কুরআনে করীমে স্পষ্ট ভাষায় খবর দিয়েছে। নূহ আ. দোয়া করেন।
قَالَ رَبِّ إِنِّي دَعَوْتُ قَوْمِي لَيْلًا وَنَهَارًا (৫) فَلَمْ يَزِدْهُمْ دُعَائِي إِلَّا فِرَارًا (৬) وَإِنِّي كُلَّمَا دَعَوْتُهُمْ لِتَغْفِرَ لَهُمْ جَعَلُوا أَصَابِعَهُمْ فِي آَذَانِهِمْ وَاسْتَغْشَوْا ثِيَابَهُمْ وَأَصَرُّوا وَاسْتَكْبَرُوا اسْتِكْبَارًا (৭) ثُمَّ إِنِّي دَعَوْتُهُمْ جِهَارًا (৮) ثُمَّ إِنِّي أَعْلَنْتُ لَهُمْ وَأَسْرَرْتُ لَهُمْ إِسْرَارًا (৯) فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا (১০) يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا (১১) وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا (১২) مَا لَكُمْ لَا تَرْجُونَ لِلَّهِ وَقَارًا (১৩) وَقَدْ خَلَقَكُمْ أَطْوَارًا (১৪) أَلَمْ تَرَوْا كَيْفَ خَلَقَ اللَّهُ سَبْعَ سَمَوَاتٍ طِبَاقًا (১৫) وَجَعَلَ الْقَمَرَ فِيهِنَّ نُورًا وَجَعَلَ الشَّمْسَ سِرَاجًا (১৬) وَاللَّهُ أَنْبَتَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ نَبَاتًا (১৭) ثُمَّ يُعِيدُكُمْ فِيهَا وَيُخْرِجُكُمْ إِخْرَاجًا (১৮) وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ بِسَاطًا (১৯) لِتَسْلُكُوا مِنْهَا سُبُلًا فِجَاجًا (২০) قَالَ نُوحٌ رَبِّ إِنَّهُمْ عَصَوْنِي وَاتَّبَعُوا مَنْ لَمْ يَزِدْهُ مَالُهُ وَوَلَدُهُ إِلَّا خَسَارًا (২১) وَمَكَرُوا مَكْرًا كُبَّارًا (২২)
৭১.৫ ) সে বলল: হে আমার পালনকর্তা! আমি আমার সম্প্রদায়কে দিবারাত্রি দাওয়াত দিয়েছি;
৭১.৬ ) কিন্তূ আমার দাওয়াত তাদের পলায়নকেই বৃদ্ধি করেছে।
৭১.৭ ) আমি যতবারই তাদেরকে দাওয়াত দিয়েছি, যাতে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করেন, ততবারই তারা কানে অঙ্গুলি দিয়েছে, মুখমন্ডল বস্ত্রাবৃত করেছে, জেদ করেছে এবং খুব ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছে।
৭১.৮ ) অত:পর আমি তাদেরকে প্রকাশ্যে দাওয়াত দিয়েছি,
৭১.৯ ) অত:পর আমি ঘোষণা সহকারে প্রচার করেছি এবং গোপনে চুপিসারে বলেছি।
৭১.১০ ) অত:পর বলেছি: তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।
৭১.১১ ) তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দিবেন,
৭১.১২ ) তোমাদের ধন-স¤পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।
৭১.১৩ ) তোমাদের কি হল যে, তোমরা আল্লাহ্ তা’আলার শ্রেষ্ঠত্ব আশা করছ না।
১৪ . অথচ তিনি তোমাদেরকে বিভিন্ন রকমে সৃষ্টি করেছেন।
১৫. তোমরা কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ্ কিভাবে সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন।
.১৬. এবং সেখানে চন্দ্র্রকে রেখেছেন আলোরূপে এবং সূর্যকে রেখেছেন প্রদীপরূপে।
.১৭ . আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে উদগত করেছেন।
.১৮ . অত:পর তাতে ফিরিয়ে নিবেন এবং আবার পুনরুত্থিত করবেন।
১৯ . আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের জন্যে ভূমিকে করেছেন বিছানা।
২০ . যাতে তোমরা চলাফেরা কর প্রশস্ত পথে।
২১. নূহ বলল: হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় আমাকে অমান্য করেছে আর অনুসরণ করছে এমন লোককে, যার ধন-স¤পদ ও সন্তান-সন্ততি কেবল তার ক্ষতিই বৃদ্ধি করছে।
৭১.২২ ) আর তারা ভয়ানক চক্রান্ত করছে।

সাড়ে নয় শত বৎসর ভালোবেসে পূর্ণ দাওয়াতের পর একের পর এক নির্যাতন সহ্য করার পরেও মাদউকে আমার কাওম জাতি বলে সম্বোধন করে আল্লাহর কছে দোয়া করছেন। তাদেরকে গায়েবের উপর বলেন নি। এই পুরো দাওয়াতী কার গুজারী যার আলোচনা তিনি এই দোয়ার মধ্যে উল্লেখ করেছেন। তার প্রতিটি শব্দের মধ্যে কল্যাণ কামনা দরদ, ভালোবাসা ¯েœহ মমতাই আর দয়াই প্রকাশ পায়। সারে নয়শত বছর দাওয়াত দেওয়ার পর নূহ আ. কে খবর দেওয়া হয়েছে, তার কাওমের লোকদের ভাগ্যে হোদায়েত নেই। তারা কুফুরের উপর মৃত্যু বরণ করবে। এটাই আল্লাহর সিদ্ধান্ত। তখন নূহ আ. আল্লাহর কাছে দুআ করেছেন, যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে বদ দুআ হলেও এর মধ্যে গোপন রয়েছে কওমের প্রতি দরদ ভালোবাসা। কুরআনে কারীম আল্লাহ তা’লা বলেন-
وَقَالَ نُوحٌ رَبِّ لَا تَذَرْ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْكَافِرِينَ دَيَّارًا (২৬) إِنَّكَ إِنْ تَذَرْهُمْ يُضِلُّوا عِبَادَكَ وَلَا يَلِدُوا إِلَّا فَاجِرًا كَفَّارًا (২৭)
৭১.২৬ ) নূহ আরও বলল: হে আমার পালনকর্তা, আপনি পৃথিবীতে কোন কাফের গৃহবাসীকে রেহাই দিবেন না।
৭১.২৭ ) যদি আপনি তাদেরকে রেহাই দেন, তবে তারা আপনার বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করবে এবং জন্ম দিতে থাকবে কেবল পাপাচারী, কাফের।
অর্থাৎ হে আল্লাহ আপনি এ কথা বলে দিয়েছেন এই জালিমদের ভাগ্যে হেদায়াত নেই। তাহলে তাদের কাউকে আপনার জামিনে রাখিবেন না। কারণ তাদেরকে যদি আরো জীবন দান করুন, তাহলে তারা কুফুর শিরক করে আরো পাপ কামাবে। আর অন্যদেরকে পথ ভ্রষ্ট করবে। এই আয়াতের প্রতিটি শব্দ থেকে প্রকাশ পাচ্ছে, বাহ্যত এই বদ দুআর মধ্যে রয়েছে মানবতার কল্যাণ কামনায় ভরপুর। কেমন জানি তাদের অধিক শাস্তি থেকে বাচানোর জন্য তাদের মৃত্যুর কামনা করেছেন। পূর্বপর সকল নবীদের সরদার রাহমাতুল্লিল আলামিন রাসূলে রহমত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সত্ত্বাকে কুরআনে কারীমে আমাদের জন্য আদর্শ বানানো হয়েছে। আল্লাহ তা’লা বলে-
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ كَثِيرًا (২১)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম হলেন তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পুরো জীবনী এবং দাওয়াতী জীবনের এক একটি অংশ, এক একটি ঘটনা সংরক্ষণ করে আমাদের জন্য উজ্জল পথ প্রদর্শন করেছেন। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পুরো দাওয়াতী কার্যক্রম এবং তার জীবনের এক এক নিঃশাস এই কথার সাক্ষী দেয় যে, তিনি তার মাদউদেরকে এমন কি মক্কা মুর্কারমার কঠিন কাফের কুরাইশেদের সাথেও মুহাব্বাত ভালোবাসা, দয়া ¯েœহ মমতার আচরণ করেছন। প্রত্যেক মায়ের মমতা যেখানে হার মেনে নেয়। এই ভালোবাসা দরদ যেই ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা বলেন।
فَلَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَفْسَكَ عَلَى آَثَارِهِمْ إِنْ لَمْ يُؤْمِنُوا بِهَذَا الْحَدِيثِ أَسَفًا.
অর্থ: মনে হয় আপনি আপনার জানকে ধ্বংস করে দিবেন এই জন্য যে, কেন তারা ঈমান আনছে না।
فَلَا تَذْهَبْ نَفْسُكَ عَلَيْهِمْ حَسَرَاتٍ.
তাদের উপর আফসোস করতে করতে আপনার জীবন যেন না চলে যায়।
এধরনের শব্দ দ্বারা স্পষ্ট করেছেন। সেই মাদউরা এই ভালোবাসা ও দরদের আন্তরিকতার জবাবে যেই যুলুম নির্যাতন যেই ইতিহাস তারা তৈরী করেছে, মানব জাতীর ইতিহাসের এ ধরনের ঘটনা পাওয়া দুস্কর। নবীয়ে সাদেক ওয়াল মাসদুক, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার নিজের ভাষায় বলছেন। দাওয়াতের পথে আমাকে যত কষ্ট দেওয়া হয়েছে অন্য কাউকে এমন কষ্ট দেওয়া হয়নি।
এতো যুলুম ও বরবরতার পরও নবীয়ে রহমত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মুখ থেকে এমন একটি শব্দ বের হয়নি, যার দ্বারা পর ও গাইর প্রকাশ পায়। তায়েফ ও উহুদের মধ্যে কাফের ও মুশরিকদের দুশমনি এই পার্যায়ের ছিল, যেই কাহিনী শুনানো এবং বর্ণনা করাও খুব কষ্টকর। উহুদের ভয়াবহ ঘটনার দিকে খেয়াল করুন, বাড়ি ঘর নিজের প্রিয় মাতৃভুমি বালাদুল আমিন মক্কা ও আত্মীয় স্বজন সব কিছু ছেড়ে, মদিনায় আশ্রয় নিলেন। মক্কার মুশরিক ও কাফেররা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সবচেয়ে প্রিয় মানুষদের ও বন্ধু বান্ধবদের সাথে এমন কোনো যুলুম অত্যাচার রয়েছে যা তারা করে নি। উহুদের ময়দানে সত্তরজন জানবাজ সাহাবা শহিদ হয়েছেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রিয় চাচা সাইয়্যেদুশ শুহাদাহ হযরত হামজাহ রা. কে শহীদ করা হয়েছে। এমন ভয়াবহ ভাবে তাকে শহিদ করা হয়েছে যে, তার নাক কান কেটে সুতায় সিলাই করা হয়েছে। নিষ্ঠুর ভাবে তার বুক চিরে কলিজা বের করে চিবিয়েছে। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বিক্ষত লাশ দেখলেন কেঁদে কেঁদে বুক ভাসিয়ে ফেললেন। তিনি অনিচ্ছা সত্যেও বলে ফেললেন, আছে কেউ আমার চাচার জন্য কাঁদবে? যদিও ইসলামে মুরসিয়া জায়েয নেই, অর্থ্যাৎ তিনি এমন কষ্ট পেয়েছেন। উনার চান যে তার সাথে অন্য কেউ কাদবে। আমার ব্যাথাও চিন্তার মধ্যে যেন কেউ শরিক হয়। যালেমরা এখানেই ক্ষান্ত হয় নি। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাঁত মোবারক শহিদ করেছে। লোহার টুপি তার চেহেরা মোবারকে বিঁধেগিয়েছিল। এক জালেম হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাহার থেকে ধক্কা মেরে ফেলে দিয়েছিল। তিনি নিচে পড়ে গিয়েছেন। শরির মোবারকে রক্ত প্রবাহিত হতে লাগল। সাইয়েদা ফাতেমা রা. কাঁদতে কাঁদতে কাছে এলেন, খেজুর গাছের ছাল ছিলে ক্ষতস্থানে গরম ছেঁক দেওয়াতে রক্ত বন্ধ হলো। এই মাজলূম অবস্থায় কিছু সাহাবী রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন, আপনি আল্লাহর রাসূল। আপনি এই জালিমদের বিরুদ্ধে বদ দুআ করুন। সুউচ্চ চুড়া পারকারী জালিমদের বিরুদ্ধে বদ দোয়া করার আবেদন করার উত্তরে দরদী নবী রহমাতুল্লিল আলামীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন। اني لم ابعث لعانا الكني بعثت داعيا و رحمة.
আমাকে লানত কারী হিসাবে পাঠানো হয়নি। বরং দা’য়ী ও রহমত হিসাবে পাঠনো হয়েছে।
এরপর অধিকাংশ সীরাতবীদগণ রহমত দয়াপূর্ণ আলোচনা করেছেন। যা আমাদের জন্য পথ প্রর্দশক। যা প্রত্যেক দা‘য়ীর জন্য পাথেয়। দয়ার নবীর খেয়াল হল, যেই জাতি তাদের নবীর গায়ের রক্ত ঝরায়, তাদের উপর আল্লাহর শাস্তি আজাব আসে। এই জন্য তিনি একটি মুহুর্ত অপেক্ষা না করে; মাদউদের জন্য আল্লাহর দারবারে হাত উঠালেন। অন্তরের গভীর থেকে দুআ করলেন এবং মাদউদের পক্ষ থেকে অপারগতা পেশ করলেন। বললেন
– اللهم اهد قومي فانهم لا يعلمون
হে আল্লাহ আমার জাতিকে হেদায়াত দিন। তারা জানেনা, বুঝেনা।
অর্থাৎ হে আল্লাহ এরা আমার হেদায়াত পাওয়ার হক রাখে। আর যাকিছু আমার সাথে করছে, অজ্ঞতা ও না জানার জন্য করছে। অর্থাৎ না জেনেই এমন করছে। এই দোয়া ছিল তায়েফের ময়দানের জালেমদের জন্য, যারা তাদের সম্মানিত মেহমানের সাথে এরুপ নিষ্ঠুর আচরন করে ছিল। আর রাসূলের জবান থেকে বের হয়েছে তাদের হেদায়াতের দোয়া। অর্থাৎ হে আল্লাহ আমার জাতিকে হেদায়াত দিয়ে দিন। এই দুআ রাসূলে রহমত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর। সাইয়েদা ফাতেমাতুয যাহারা রা. এর জন্য করেন নি। আবুবকর রা. এর জন্য করেন নি। উসমান রা: ও আলী মুরতাজা রা: মক্কায় যারা মুহাজির সাহাবা মদিনার আনসার সাহাবা আর যারা ইসলাম কবুল করেছেন। তাদের জন্য এই দোয়া করেন নি। বরং আমার জতি বলে হেদায়াতের দোয়া করেছেন আর فانهم لا يعلمون বলে তাদেরকে নিরদোষ ও তাদের দুর্বলতা প্রকাশ করেছেন। বরং এই দুআ ছিল খালিদ বিন ওয়ালিদের জন্য, যে উহুদের যুদ্ধে রূপ পরিবর্তন করে আবার উল্টো আক্রমন করেছিল। এই দোয়া ছিল ওয়াহশির জন্য যে সাইয়েদুশ শুহাদা হযরত হমযা রা.কে হত্যা করেছিল। এই দোয়া ছিল হিন্দার জন্য, যে সাইয়েদুশ শুহাদার কলিজা চিবিয়ে ছিল। এই দুআ ছিল ইকরামা ইবনে আবু জেহেলের জন্য, আর ইতিহাস শাক্ষি এই দরদ ভরা দুআ আল্লার দরবারে কবুল হয়ে ছিল। আবু সুফিয়াান, খালিদ ইবনে ওয়ালিদ, ইকরামা ইবনে আবু জেহেল , হিন্দা, ওয়াহশি এরা শুধু মুসলমান হয় নি। বরং আল্লার পক্ষ থেকে رضي الله عنهم ورضو عنه সনদও পেয়েছেন। এই সত্য নবীর উপর আনয়ন কারী এবং কালেমা পড়ে মুসলমান হওয়ার দাবিদার। আর অনুসারী হওয়ার দাবিদার আমরা। এমনকি উম্মতে এজাবাতের জন্য প্রশিদ্ধ ব্যক্তিবর্গ এবং অনেক উলামাও নিজ মাদউদেরকে অপর ও গাইর বলেন। তাদেরকে গাইর মনে করেন। আর যতদিন পযর্ন্ত আমাদের মাথা থেকে এই গাইর ও পর না যাবে, ততদিন আমরা দাওয়াতের মর্যদায় পৌঁছাতে পারবে না এবং উম্মতের মধ্যে দাওয়াতের হক আদায় করতে পারবে না।
এই দাওয়াতের মর্যাদা আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তার হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সদকায় পুরুস্কার হিসাবে দান করেছেন। আল্লাহ তালা জনাব রাসুলুল্লাহ সাল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর নবুওয়াতকে শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন। নাউযুবিল্লাহ আল্লাহ তালা এই জন্য নবুওয়াতকে শেষ করে দেননি যে, উনার কাছে নবুওয়াত শেষ হয়ে গিয়েছ্।ে যেমন আমাদের এখানে গুদাম খালি হয়ে যায়। তখন দরজা বন্ধ হয়ে যায়। কবি যখন তার কবিতা শেষ করে ফেলে, তাদের তালিকায় আর কোনো কবিতা নেই, তখন করিতার মজলিস শেষ করেদেওয়ার ঘোষণা হয়। আল্লাহ তা’লার কাছে কোনো জিনিষের খাজানা শেষ হওয়ার নয়। আল্লাহর সত্বাতো ঐ সত্যা পুরো দুনিয়ার মানুষকে জনাব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রেসালাতের মর্যদায় সম্মানিত করার পরও তার কোনো কমতি আসবে না। সমুদ্রের পানি বের করতে করতে এক সময় শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু আল্লাহর এখানে কখনো কমেনা। খতমে নবুওয়াতের ঘোষণা এই জন্য করেছেন, যাতে উম্মতে এজাবতের প্রতিটি ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতিনিধি বানিয়েছেন। এই দাওয়াতের দিকে নিজের অবস্থান বুঝার জন্য আল্লাহ বলেন-
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِي كُنْتَ عَلَيْهَا إِلَّا لِنَعْلَمَ مَنْ يَتَّبِعُ الرَّسُولَ مِمَّنْ يَنْقَلِبُ عَلَى عَقِبَيْهِ وَإِنْ كَانَتْ لَكَبِيرَةً إِلَّا عَلَى الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَحِيمٌ (১৪৩)
আমি তাদেরকে এমন এক জামাত বানিয়েছি যা হল মধ্যম যাতে তোমাদের বিরুদ্ধে হবে তা হবে সাক্ষী এই মর্যাদা, সম্মানের হক আদায় করার জন্য আমাদের মাথায় নিতীবাচক যেসব ফিকির রয়েছে সে গুলোর সংশোধন করা খুবই জরুরী। আমাদের উচিৎ আমরা যেন, আমাদের এবং ঈমান হীন অমুসলিম ভাইদের মাঝে সে সম্পর্ক করি তা খুব বুঝিয়ে চেষ্টা করি।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ .
৬৬.৯ ) হে নবী! কাফের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জেহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন। তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। সেটা কতই না নিকৃষ্ট স্থান।
অন্যস্থানে আল্লাহ তা’লা বলেন-
فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ (৫)
মুশরিকদের যেখানে পাও সেখানে মার।
এর আলোচনা হয়েছে। এখানে কঠিন মুহুর্তে কাফেরদের ব্যাপারে আলোচনা করেছেন।
দাওয়াতের মূলনীতির মধ্যে মৌলিক একটি মূলনীতি হল, দা’য়ী তার মাদউকে নিষ্ঠাবান মনে করবে। আর তার পক্ষ থেকে বারাবাড়িকে তার অজ্ঞতা ও ভুল ধারনা মনে করবে। এটাও হতে পারে আমরা অমুসলিমদেরকে বুঝি। এক বাপের সন্তান হওয়ার কারণে আমাদের সম্পর্ক হলো রক্তের সম্পর্ক এক আল্লাহর বান্ধা হওয়ার কারণে আমাদের সম্পর্ক তাদের সাথে বান্দার। এক রাসূলের উম্মত হওয়ার কারণে উম্মতে এজাবাতের সাথে উম্মতে দাওয়াতের গুরত্ব পুর্ণ স¤পর্ক হল, দা‘য়ী ও মাদউর সম্পর্ক। সারিরিক কল্যন কামী, দাওয়াত তার দরদের দরদী হওয়ার সম্পর্ক। কারন দা‘য়ী তার মাদ‘উর জন্য উদগ্রীব হয়, তার জন্য মন অস্থির থাকে। রাতে তার জন্য আল্লাহর দরাবের চোখের অশ্রু ঝরায় আর দিনে তার পক্ষে থাকে ধোঁকা খাওয়া মাদ‘উর খেদমত করে, যেমন ভাবে একজন চিকিৎসক তার রোগির ব্যপারে ফিকির করে। এই সম্পর্ক অজ্ঞতার করণে সাধারণ মানুষের অবস্থা হল এই, আমাদের অধিকাংশ ইসলামী স্কলার এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাদের সকল যোগ্যতা এই কাজেই ব্যায় হয়। মাদ‘উ জাতির চক্রান্ত কীভাবে মিটানো যায়। বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা, সাময়িক জজবার কারণে ঘটে যাওয়া কোনো কাজকে চক্রান্ত হিসাবে উপস্থাপন করা হয়। এমন কি জাতির উদাসীনতা পরস্পর বিচ্ছিন্নতা, এমনকি আসল হীনতাকেও অন্যদের ইয়াহুদীদের চক্রান্ত বলে ব্যাখ্যা করে পরিপূর্ন তাহকিক বলে মনে করা হয়। আমরা বরং আমাদের কর্নধারগণ এটা ভুলেযান। যে আমাদের সৃষ্টিকর্তা প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তা’লা সকল অমুসলিমদের সাথে আমাদের সম্পর্ক রেখেছেন দা’য়ী আর মাদ‘উর। এই সম্পর্ক ঘটনা ক্রমে নয়, বরং ইচ্ছা কৃত। এরদ্বারা আমাদেরকে সম্মানিত করেছেন। এই দা’য়ী আর মাদ‘উর সম্পর্ক ডাক্তার আর রোগীর সম্পর্কের মতো। কোনো হাসপিটালের ডাক্তার যদি তার রোগিদেরকে সাথে চক্রান্ত মনে করে, তাহলে কক্ষনো চিকিৎসক হক আদায় করতে পারবে না। চিকিৎসক যদি এটা মনে করে, যে, সারা রাত রোগীটি ব্যাথায় কাতরাচ্ছে। চিল্লা পাল্লা করছে। দেওয়ালের সাথে মাথা আঘাত করছে। ডাক্তার যদি মনে মনে করেন, অমুক সংঘঠন চক্রান্ত করে এই রোগীকে আমার হস্পিটালে ভর্তি করেগেছে। এ দিকে ডাক্তার আরামে ঘুমাচ্ছে। আজ এমন এক রোগি এল, তার চিল্লা পাল্লার করণে ডাক্তারের মাথা বেথা শুরেু হয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয় দিন এমন ডাইরিয়ার রোগি এলো যে, পুরো হসপিটাল নষ্টকরে ফেলেছে। এটাকে অমুক সংঘঠনের চক্রান্তের কারনে ভর্তি করা হল সে পুরো হসপিটালকে খারাপ করে দিয়েছে। সকল স্টাফ যদি এমন মনে করে, এবার হসপিটাল বন্ধ হয়ে যায়….।
নিজের রোগীকে চক্রান্ত মনে করে এমন চিকিৎসককে ডাক্তার বলার অধিকার রাখে? সে কি চিকিৎসার অধিকার রাখে? এই জন্য অমুসলিমদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য তাদের মাঝে দা’য়ী ও মাদ‘উর যেই সম্মানিত ও পবিত্র সম্পর্ক রয়েছে, তা ডাক্তার ও রোগীর সম্পর্কের মতো মনে করা খুবই জরুরী। অমুসলিমদের পক্ষ থেকে ইসলাম বিরোধী কর্মকা-কে চক্রান্ত মনে করে মুসলমানদের অন্তরে ভীতি ও ঘৃনা সৃষ্টির পরিবর্তে নববী চিন্তা فانهم لا يعلمون তারা জানে না। বুুঝে না। তারা যা করছে অজ্ঞতার কারনে করছে বলে মনে করা উচিৎ। বাস্তব সত্য হলো এই, মানুষ যখন দাওয়াতী ময়দানে স্বশরিরে নেমে যায় তখন দাওয়াতী জবানে চিন্তাধারায় সকল ইসলাম বিরোধী সংঘঠন গুলোর এর প্রেক্ষাপট বোঝা যায়। দাওয়াতের ময়দানে সকল দা’য়ীর এই অভিজ্ঞতা অজর্ন হয়, সর্বোচ্চ ইসলাম বিরোধীর ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা যখন দূর হয়ে যায়, তখন কুফরের বিরোধী এমন মজবুত ও কঠিন হয়, যা ইসলামের এতো কঠিন বিরোধি ছিল না।
অমুসলিমদের ব্যাপারে নিজের ফিকিরকে ইতিবাচক করার জন্য আমরা একটু ফিকির করি। তাহলে এর জন্য অনেক দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে আসবে। হারামাইন শরীফাইনের এক সফরে অধমের এই খেয়াল এলো, যে, হারামাইনের ইমামগণ দোয়ার বিষেশ মুহুর্তে কাফের মুশরিকদের জন্য অন্তরের অন্তস্থল থেকে যদি দোয়া করেন দুনিয়ার, বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজী উমরাকারী নেককার আল্লাহ ওয়ালা বান্দারা হিচকির সাথে আমীন বলেন। বাহ্যত পদ্ধতিতে সেই দোয়া কবুল হচ্ছে না। ফলে অনেক আগত ব্যক্তির বিশ্বাস খারাপ হয়ে যায়। অনেক ভারাক্রান্ত অন্তরের মুসলমানের মুখ থেকে কুফরী শব্দও বের হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে হারামাইন শরীফাইনের ইমামদের কাছে এই আবেদন করা যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঐ হাদিসের প্রতি তাদের দৃষ্টি আকর্শন করা যায় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন কোনো মুসলমান যদি কারো বিরোদ্ধে বদ দোয়া করে অথবা লানত করে, আর যার জন্য লানত বা বদ দুআ করা হয়েছে, সে যদি তার প্রাপ্য না হয়, তাহলে সেই বদ দুআ ও অভীসম্পাত বদ দুআকারীর প্রতি ফিরে আসে। এই জন্য হারামাইন শরিফের ইমামদের কাছে এই আবেদন করা যে, কাফের মুশরিকরা এই সময় অভিসাপ ও বদ দোয়ার প্রপ্য নয়, যতক্ষন পযর্ন্ত তাদের কছে দাওয়াত তাদের কাছে না পৌছিয়ে দেওয়া হবে। এই দাওয়াতের ইতমামে হুজ্জত কায়েম না করা হবে। খেয়াল হলো এই আবেদনের জন্য এই হাদীসের সনদ সহ আমাদের কাছে থাকুক। সাথিকে বলল, ইন্টারনেটের সাহায্যে এই হাদিসটি ও এই বিষয়ের কয়েকটি হদিস এনে দিতে, সে তার ঘরে গেল, কয়েক মিনিট পর এই বিষয়ের উপর সনদ সহ ২৩টি বর্ননা প্রিন্ট করে এনে দিল। অবাক হলাম, মনে হল এক সময় তো এমন ছিল, আমাদের বড়রা একটি হাদিস খোজার জন্য হাজার হাজার মাইল সফর করতেন। কতো ধরনের কষ্ট করতে হত। এমনকি অনেক মুহাদ্দিস এই পথে তাদের জান পযর্ন্ত উৎসর্গ করে গিয়েছে। আমাদের নিকটবর্তী যুগেও লাইব্রেরীগুলোতে আমাদের পূর্ববর্তী বুযুর্গরা যেসব কিতাব সংগ্রহ করেছেন সেখান থেকে হদিস সংগ্রহ করার জন্য কতো মেহনত করতে হবে একটি হাদিস বের করার জন্য কতোগুলো হতো, সুতরাং অল্প একটু সময়ের মধ্যে তেইশটি হাদিস ছেপে নিয়ে এসেছে। এই ইন্টারনেট যা এতটা সহজ করে দিয়েছে। এর আবিস্কারকরা পশ্চিমা বিজ্ঞানীরা এই আষ্কিারক। এই বিজ্ঞানীরা আমাদের কত বড় মুহসিন। এক সময় পানি পথে জাহাজ দিয়ে হজ্জ করতে হতো, কয়েক মাসের কষ্টের সফর হত। অনেক হাজী পথেই অসুস্থ হয়ে যেত। এই সময় যারা হজ্জে যেত এই চিন্তা করেই যেতো যে, আর ফিরে আসবে না। যদি ভালো ভাবে ফিরে আসতো, তাহলে মনে করত, দ্বিতীয় বার তার জন্ম হয়েছে। এখন দিল্লি থেকে জেদ্দায় সাড়ে চার ঘন্টার মধ্যেই পৌঁছা যায়। এই দ্রুতগামী বিমান আমাদের মাদ‘উ পিশ্চমা বিশ্বের ইহুদি খ্রিস্টানরা বানিয়েছে। আগের হাজ্জিরা একজন অপর জন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত, জানা যেত না কখন পাওয়া যাবে, অনেক সময় পাওয়াও যেতনা। অনেককে এখন পযর্ন্ত পাওয়া যায় নি। ঐ যুগে এত ভিরও হতো না। এখন তো প্রত্যেকের হাতে মোবাইল আছে। নিজের হাতে মোবাইল না থাকলেও আত্মিয় স্বজন কে জানিয়ে দিতে পারে। পুরো দুনিয়া একটি ঘরের মত হয়ে গেছে। কোন আনন্দ কোন দুর্ঘটনা কোন সমস্যর কথা জানতে পারবেন। দূরদেশের আত্মিয় স্বজনদের সাথে কথা বলতে পারবেন। তাদের অবস্থাও জানতে পারবেন। এ সহজ লোভ্য জিনিসগুলো তারাই বানিয়েছে, যাদেরকে অপর বিরোধি ও চক্রান্তকারী মনে করি। কোথাও তোফান আসে গেল। সাইক্লোন এসে গেল, কোথাও মহামারি এসে গেল। কোনো দেশ ও ধর্মের পার্থক্য না করে পশ্চিমা দেশের ডাক্তার ও সংঘঠনগুলো তাদের সাধ্য গুলো তারা জীবনকে হাতের তালোতে রেখে সেবা দেয়। বাড়িয়ে দেয় সাহয্যের হাত। এতদ সত্যেও তাদের চেহেরা চক্রান্ত মনে হয়। আমাদের প্রত্যেকটি মুসলমান দা‘য়ীর অবস্থানে থেকে মাদউ জাতিকে রোগি মনে করে সেই রোগের চিৎকসার ফিকির করা উচিৎ এর উদ্দেশ্য এই নয় যে, দুনিয়ার কোথাও জুলুম হোক, দাঙ্গা হত্যা হোক। কোনো দেশ ক্ষমতার জোরে অন্য দেশে বারুতের স্তুপ বানিয়ে দিক, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শানে গুস্তাখ করুক। কোরআনকে অপমান করোক আর আমরা সেটাকে সঠিক মনে করব না। এসব অন্যায়কে যা দুনিয়াতে ঘটেছে তা তাদের অজ্ঞতা ও ভুৃল শিক্ষা মনে করবো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসারি হিসাবে فانهم لا يعلمون তারা জনেনা মনে করবো। সকল মানুষ থেকে বেশী এই অবস্থার প্রতি চিন্তা শিল হবো। যেমন একজন চিকিৎসক তার রোগির কঠিন অবস্তা দেখে তার চিকিসার ব্যাপারে চিন্তাশীল হও। বরং সে সাধারন মানুষের মত রোগির অবস্থার কথা গান নাবাজিয়ের রোগির চিকিৎসা ফিকির করে আল্লাহ তা’লা তার জ্ঞান অনুযায়ী এই মনে যা রেখেছেন। কঠিন রোগের ঔষধ দা’য়ী মুসলমান এর কাছে ইসলাম ধর্ম রুপে বিদ্যমান এখন এতটুক সময় প্রয়োজন যে , চিকিৎসক জাগবে। আর নিজ মাদ‘উর সাথে সম্পর্ক করবে।

মূল হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী
অনুবাদ. যুবায়ের আহমদ