ধর্মের প্রচার একমাত্র পথ

কখনও কখনও এমন হয়, মানুষের সামনে যখন কুরআন সুন্নাহর প্রমাণাদি পেশ করা হয়, তখন শয়তান খুব সুন্দরভাবে বিষয়টি অন্য দিকে নিয়ে যায়। আর বোঝায়, এটা অনেক বড় কাজ। মূল দাওয়াতী কাজ তো অমুসলিমদের মাঝেই। এটা তো অনেক বড় কাজ অনেক উঁচু কাজ। আমাদের মতো দুর্বল মানুষ দিয়ে তো মুসলমানদেরকে মুসলমান রাখাই মুশকিল হয়ে গেছে। কিন্তু মুসলমানকে মুসলমান রাখার জন্য একমাত্র সহজ পথ হলো সে দায়ী হয়ে জীবন যাপন করবে। কারণ দীন নিজের ঈমান রক্ষা করার জন্য এই পদ্ধতিই নির্দিষ্ট করেছে। আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর এই নেজামকে নফী এসবাতের ওপর বানিয়েছেন। অনুকূল হবে বা প্রতিকূল অবস্থা হবে। আক্রমণাত্মক হবে না হয় আত্মরক্ষামূলক হবে। নিউট্রাল তো দুই শক্তির সমান হওয়ার নাম। এমন খুব কমই হয়। আপনি হয় দা‘য়ী হবেন না হয় মাদউ, আপনাকে দাওয়াত দেওয়া হবে। আপনি যদি দা‘য়ী না হন, তাহলে মাদউ হওয়া থেকে বাঁচতে পারবেন না। আর আপনি যদি মাদউ হন তাহলে ঈমানের ওপর টিকে থাকা মুশকিল হবে। এর কারণ হলো একটাই তা হলো, শয়তান আমাদের প্রকাশ্য দুশমন। সে মানুষকে তার সম্মানিত অবস্থান দাওয়াতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান থেকে বিরত রেখে মানুষকে দোযখের ইন্ধন বানাতে চায়। ফলে সুন্দর কৌশলে বিভিন্ন রকমের ভুল ধারণা সৃষ্টি করার চেষ্টায় থাকে। যার দ্বারা জাতি এই গুরুত্বপূর্ণ ফরজ আদায় করা থেকে বিরত থাকে। এই জাতির সম্পর্ক যদি কুরআন সুন্নাহর হেদায়াতের সাথে আর তার অনুসারী ও মান্যকারী উত্তম যুগের সাহাবাদের জামাতের সাথে মজবুত হয়ে যায়। তাহলে এই মহান দায়িত্ব আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর দৃষ্টিতে সম্মানিত হয়ে দুনিয়ার সম্মানের মালিক হতে পারবে। উট আর ছাগল চড়ানো মানুষ দুনিয়ার অর্ধেক ভুমি আয়ত্বাধীন করার একমাত্র মাধ্যম হলো, ইসলাম প্রচার আর আল্লাহর কালেমাকে আল্লাহর জমিনে উড্ডীন করার সাচ্চা জযবা ও প্রতিজ্ঞা। আজও উম্মতের মর্যাদা ও মাথা উঁচু করানোর একমাত্র মাধ্যম এটাই।

لن يصلح آخرهذه الامة الا بما صلح به اولها

পূর্ববর্তীদের যেই মাধ্যমে সংশোধন হয়েছিল, পরবর্তীদের একই মাধ্যমে সংশোধন হবে।

একটি বড় ভুল ধারণা

অমুসলিমদের মাঝে দাওয়াতের ক্ষেত্রে শয়তান খুব বিনয়ের সাথে মানুষের মাথায় এই ভুল ধারণা সৃষ্টি করে দেয়। প্রথমে নিজেরা ভালো মুসলমান হয়ে যাই। একটি ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা হোক, এরপর অমুসলিমদের দাওয়াত দেয়া যেতে পারে। এই ধারণা নিষ্ঠাবান দীনদার মুসলমানদের মাথায় বিদ্যবান। এটা খুব ভালো করে বুঝে নিন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য বোঝা যায় কেয়ামত পর্যন্ত অমুসলিমদের মাঝে দাওয়াত বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কারণ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী প্রায় প্রতি জুমায় শুনি-

خيرالقرون قرني ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم

অর্থাৎ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকে যত দূরত্ব বাড়তে থাকবে ভালো ও কল্যাণ সে পরিমাণ কমবে। আর অকল্যাণ ও মন্দ বাড়তে থাকবে। এই ধারণা করা যে, সকল মুসলমান ভালো হয়ে যাক, ভালো মুসলমান হয়ে যাক, সমাজ সুন্দর হয়ে যাক, পরিবেশ ভালো হয়ে যাক, এ যুগে এর কোনো সম্ভাবনাই নেই। ভালো কমতেই থাকবে আর মন্দ বাড়তেই থাকবে। মুসলামান পুরোপুরি মুসলমান হতে পারবে না। তাহলে অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দেওয়ার সম্ভাবনা কোথায়? এধরনের ধারণা সর্বদার জন্য দাওয়াতের কাজকে বন্ধ করার পক্ষে।

  মুসলামানদের ঠিক হয়ে যাওয়া, পূর্ণ শুদ্ধ ও ভালো হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ‘মাসিক আরমোগানে’ বার বার আলোচনা করা হয়েছে। মুসলমানের সংশোধন ও সাচ্চা মুসলমান হওয়ার মাপকাঠি হলো জনাব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্ণ ইত্তেবা বা অনুসরণ। আর এটা তখনই সম্ভব হবে যখন মানুষ ইসলামের প্রচার ও তার পূর্ণতা জিহাদকে জীবনের উদ্দেশ্য বানাবে। তাহলে বোঝা যাবে সে প্রকৃত ইত্তেবাকারী ও নবীজীর অনুসারী। একথা স্পষ্ট দাওয়াতের কাজকে দ্বিতীয় স্তরে রেখে, অনেক গুরুত্ব প্রদানকারীও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারী হতে পারবে না। এই কাজকে উপেক্ষা করে নবীজীর অনুসারী হওয়ার দাবি করা খামখেয়ালি ছাড়া আর কিছু না।

হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী সাহেব

অনুবাদ: মুফতি যুবায়ের আহমদ