ধর্মের প্রচার : কিছু ভুল ধারণা

সবচেয়ে বড় দুশমন শয়তান

মানুষের সবচেয়ে বড় ও প্রকাশ্য দুশমন হলো শয়তান। আল্লাহ তাআলার সর্বশেষ কিতাব কুরআনে কারিম হলো মানুষের হেদায়াত, রহমত ও সব রোগের চিকিৎসা। এই কুরআনে কঠিন দুশমনের কথা বিভিন্ন নামে ৭৪ বার আলোচনা করা হয়েছে। দয়াবান প্রভু শয়তানের দুশমনি, তার চালবাজি, ধোঁকা সম্পর্কে মানুষদের জানাতে পরিপূর্ণ ব্যবস্থা রেখেছেন। তাই তার ধোঁকাবাজি ও মক্করবাজির কথা আল্লাহ তাআলা খুলে খুলে আলোচনা করেছেন।

    তার দুশমনি শুরু বাবা আদম আ. থেকে। কেয়ামত পর্যন্ত চলবে এই শুত্রুতা। আল্লাহ তাআলা শয়তানের দুশমনি থেকে বাঁচার জন্য সতর্ক করেছেন। মানুষ যেন নিজে এই দুশমন থেকে বাঁচে এবং অন্য ভাইকে তার ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে, তার ধোঁকাবাজি ও বদঅভ্যাস থেকে যেন মানুষ দূরে থাকে। মহান মালিক দয়াময় আল্লাহ   তার দুশমনির চূড়ান্ত পর্যায়ের ঠিকানা ও অবস্থা আলোচনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

{ إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا إِنَّمَا يَدْعُو حِزْبَهُ لِيَكُونُوا مِنْ أَصْحَابِ السَّعِيرِ} 

অর্থ: নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব তাকে শত্রু রূপেই গ্রহণ কর। সে তার দলবলকে আহ্বান করে যেন তারা জাহান্নামি হয়।  

অর্থাৎ এই ভয়াবহ দুশমনের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো মৃত্যুর পূর্বে মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত ধ্বংসের গহব্বরে নিক্ষেপ করা।

    আল্লাহ তাআলা দয়াবান করুণাময় সত্তা। তার বান্দাদের কল্যাণের জন্য মানুষের চিরস্থায়ী দুশমনের ধোঁকা থেকে সতর্ক করার জন্য মানুষের মধ্যে সম্মানিত শ্রেণির কিছু লোককে নবী ও রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছেন। যারা ছিলেন মানুষের সবচেয়ে বেশি হিতাকাক্সক্ষী ও পথপ্রদর্শক। তাদের পাঠানোর উদ্দেশ্যই হলো মানবতার কল্যাণ। মানুষকে শয়তানের ধোঁকাবাজি ও শয়তানি কর্ম থেকে বাঁচানো। মানুষকে ঈমান ও সৎকাজের দাওয়াত দেয়া, মানুষ যেন ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে পারে। তাদের আন্তরিক চেষ্টা ও ফিকির ছিল মানুষকে জাহান্নামের চিরস্থায়ী ক্ষতি থেকে বাঁচিয়ে চিরশান্তির স্থান, সফলতার ময়দান জান্নাতে পৌঁছিয়ে দেওয়া। দুনিয়াতে এমন কোনো স্থান ও যুগ অতিবাহিত হয়নি আল্লাহ তাআলা মানুষের কল্যাণের জন্য কোনো নবী পাঠাননি।

আল্লাহ তাআলা বলেন-

{إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَإِنْ مِنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ}

আমি আপনাকে সত্য ধর্মসহ পাঠিয়েছি সংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। এমন কোনো সম্প্রদায় নেই যাতে সতর্ককারী আসেনি।

সাইয়েদুল মুরসালিন খাতেমুন নাবীয়্যিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগে আল্লাহ তাআলা প্রায় সোয়া লক্ষ নবী রাসুলকে বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়েছেন। যারা চূড়ান্ত পর্যায়ের দরদ নিয়ে নিজ জাতির ঈমান ও নেক আমলের প্রতি দাওয়াত দিতেন। তাদের ইসলাহ ও সংশোধনের ফিকির করেছেন। সব শেষে আগমন করেছেন নবীদের সরদার রাহমাতুল্লিল আলামিন জনাব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি কেয়ামত পর্যন্ত সব মানুষের জন্য নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। নবীজী দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার পর এই দাওয়াতের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে এই উম্মতের ওপর। এই দায়িত্ব দিয়ে উত্তম জাতি হওয়ার মর্যাদা দান করেছেন। অর্থাৎ এই উম্মত মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেবে শয়তান থেকে মানুষকে বাঁচাবে। উত্তম জাতির কর্মসীমা হলো পৃথিবীর সব মানুষকে কল্যাণকামী হয়ে তাদের ঈমানের ফিকির করা, যাতে তারা ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে পারে।

  শয়তান ও তার জামাতের সবচেয়ে বড় দুশমন হলো ওই সৌভাগ্যবান লোক যারা নবুওয়াতের কাজের দায়িত্ব পালন করে। যারা আম্বিয়া আ.-এর পবিত্র জামাতের পর, নবীদের ওয়ারিস ও উত্তম জাতিতে সম্ভাষিত হয়েছেন। বিশেষ করে উম্মতে মুহাম্মদীর যারা ধর্ম প্রচারের কাজ করে। ওই দা‘য়ী যারা ইসলামের দাওয়াত দেয়।

    শয়তানের প্রচেষ্টা হলো পৃথিবীর সকল মানুষকে জাহান্নামী বানানো। তাদেরকে ঈমান থেকে বঞ্চিত করা।

উম্মতের বিশষতম ব্যক্তি যারা প্রকাশ্যে শতানের বিরোধিতা করে, তাদেরকে দীনের দাওয়াত থেকে দূরে রাখার জন্য, বিতারিত শয়তান খুবই বিচক্ষণতার সাথে বিভিন্ন পলিসি বের করে, এটাই তার স্বভাব। ফলে উত্তম জাতিকে তার মাকসাদ ও উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরানোর জন্য দাওয়াতী কাজ থেকে বিরত রাখার জন্য সুন্দর সুন্দর ভুল ধারণা মাথায় প্রবেশ করিয়ে দেয়। উম্মতের বিশেষতম ব্যক্তিরাও ইসলাম প্রচারের কাজ থেকে দূরে থাকার জন্য শয়তানের পেতে রাখা ফাদে পা ফেলে দেয়।

    ইসলমের মূল ভিত্তি কুরআনে কারীমকে সবচেয়ে বেশি যারা মেনেছেন সেই সাহাবায়ে কেরামের জামাতকে যদি আমরা আদর্শ বানাই, তাহলে শয়তানের কূটকৌশল ও ধোঁকাবাজি এবং দাওয়াতের পথে তার প্রচারিত ভুল ধরণাগুলোকে মাকরসার জালের থেকেও দুর্বল মনে হবে। তাই ইসলামের দাওয়াতের পথে শয়তান যেসব ভুল ধারণার সৃষ্টি করে, আর এই ভুল ধারণার মাধ্যমে মুসলমানদের দুনিয়াতে আসার উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরাতে সফল হয়, এখানে তার মধ্য থেকে কিছু ভুল ধারণার কথা আলোচনা করছি।