নওমুসলিমা খাদিজা (সীমা গুপ্তা)র সাক্ষাৎকার

এই বইটির নামই মানুষের অন্তরে এমন প্রভাব সৃষ্টি করে যে, নাম পড়েই এক আশ্চর্য ধরনের আগ্রহ সৃষ্টি হয়, আমাদের আমানতটি কি একটু জানতে তো পারি! মাওলানা সাহেবের ‘দুই শব্দের’ ভূমিকাটি দুই-তিন লাইন পড়ার পর যেকোন মানুষ বইটি শেষ না করে উঠতে পারবে না এবং ইসলাম ও মুসলমানের সাথে যারা শত্র“তা রাখে তারাও এই দুই শব্দের ভূমিকা পড়ার পর অন্যের বই বলে মনে করবে না। বইটির লেখককে বন্ধু মনে করবে। আমি বাসায় এনে বইটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ি। আপকি আমানত বইটি আমার ভিতরের দুনিয়াকে পাল্টে দেয়।


সিদরা যাতুন ফাওযাইন. আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
খাদিজা. ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

সিদরা যাতুন ফাওযাইন. দিল্লীতে কবে এলেন?
খাদিজা. আমরা তিনদিন থেকে দিল্লীতেই অবস্থান করছি। আমার স্বামী ডাক্তার সাহেবও আমার সাথে আছেন। আমাদের দু’জনকে তিনদিন তাবলীগে সময় লাগানোর জন্য হযরত (মাওলানা কালীম সিদ্দিকী সাহেব) নেজামুদ্দীন মারকাজে পাঠিয়েছিলেন। খুব ভালো লাগলো। গতকাল ছিল বৃহস্পতিবার। আলহামদুলিল্লাহ্! মাওলানা সা’দ সাহেবের বয়ান শোনার সৌভাগ্য হয়েছে। সেখানে তো দিন-রাত দ্বীনেরই আলোচনা হয়। মারকাজের রাতগুলোও খুব মহাব্বাতের। খুব ভালো সময় কাটলো।

সিদরা যাতুন ফাওযাইন. আব্বু সম্ভবত আপনাকে আরমুগানের জন্য আমার সাথে কিছু কথা বলতে বলেছেন?
খাদিজা. হ্যাঁ! হযরত আমাদেরকে বলেছিলেন যে, তিনদিন জামাতে সময় লাগিয়ে উক্ষলায় (দিল্লীতে হযরতের মহল্লার নাম) এসে জুমার নামায পড়তে। মুছান্না, খাদিজার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করবে। আমরা হযরতের হুকুমে এসেছি। ডাক্তার সাহেব আমাকে এখানে রেখে ‘জামেয়া মিল্লিয়া’তে কোন বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করতে গেছেন। আজ বিকেলেই আমাদের ফিরতে হবে।

সিদরা যাতুন ফাওযাইন. আপনার বংশ পরিচয় দিন?
খাদিজা. আমি পশ্চিম ইউ.পি.এর এক বড় গ্রামে ৩রা সেপ্টেম্বর ১৯৮৪ ইং এক ব্যবসায়ী লালাহ পরিবারে জন্মগ্রহণ করি। আমার জন্মপরবর্তী নাম ছিল সীমা গুপ্তা। গ্রামের এক স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করি। প্রাইমারির পর গার্লস ইন্টার কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে বি.কম. করি। অতঃপর এক প্রাইভেট ভার্সিটি থেকে সমাজ বিজ্ঞানে এম.এ. করেছি। আমার দুই ভাই, এক বোন। এক ভাই বড় এবং দুই ভাই বোন আমার ছোট। আমার পিতা কেরানায় ব্যবসা করেন। তিনি খুবই নম্র-ভদ্র প্রকৃতির মানুষ। আমার মাও খুব নেক ও সাদা সিধে মহিলা।

সিদরা যাতুন ফাওযাইন.আপনার ইসলাম গ্রহণ করার ব্যাপারে কিছু বলবেন?
খাদিজা. আমাদের গ্রামে হিন্দু-মুসলমান একত্রে বসবাস করে। মুসলমানদের বড় একটি অংশ আমাদের মহল্লার সাথে গা ঘেঁষা এলাকায় বাস করে। তাদের সাথে আমাদের পরিবারের গভীর সম্পর্কে। আব্বুর কেরানায় দোকান থাকার ফলে সকলের সাথে লেনদেন হতো। আমাদের বাড়ির এক ঘর পরেই একজন জমিদার খান সাহেব বাস করতেন। তার এক মেয়ে আমাদের সাথে প্রাইমারি স্কুলে পড়তো। তাদের বাড়িতে আমাদের যাতায়াত হতো। তাঁর আর এক মেয়ে সাবিহা খান আমার সাথে ইন্টার পর্যন্ত পড়াশোনা করে। তার সাথে আমার খুবই বন্ধুত্ব ছিলো। তার পরিবার খুবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ধার্মীক ছিলো। সাবিহার বড় ভাই খুবই ভদ্র ও সুন্দর। সে আমাকে দেখে সাবিহাকে বলতো, তাকে দেখে এমন লাগে যেন সে আমাদের পরিবারের একজন। এমনিতে সে খুবই লাজুক যুবক। আমি যদি ঘরে থাকতাম তাহলে সে লজ্জায় বাহিরে বের হয়ে যেতো। তার সাথে আমার কিছুটা আশ্চর্যজনক সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিলো। আমি কখনো সাবিহাকে বলতাম, সাবিহা তোমার ভাই তো মেয়েদের চেয়েও বেশী লাজুক। সাবিহা বলতো বোন! এখন তো সময় উল্টো হয়ে গেছে। এখন মেয়েরা কোথায় লজ্জা করে? ছেলেরাই তো লাজুক। এমন ভাবে কখনো কখনো যুগের খারাপ দিকগুলো ও তার দোষ-ক্রটি নিয়ে আলোচনা করতাম। এক পত্রিকায় নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনার খবর বাপ তার নিজ মেয়ের সাথে কুকর্ম ও আপন মামার বেহায়াপনার খবর পড়ে দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত যুগ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা আলোচনা করি। আমি বললাম যে, কলি যুগ চলে এসেছে। একে ঠিক করার জন্য আমাদের ধর্মীয়গ্রন্থ অনুযায়ী কল্কি অবতার আসবেন এবং তিনি এই দূরাবস্থাকে ঠিক করবেন। আমি বললাম, জানি না আমাদের জীবদ্দশায় কল্কি অবতার আসবেন? না আমাদের মৃত্যুর পরে আসবেন?

সাবিহা বলল : সীমা! তুমি যেই কল্কি অবতারের কথা বলছো, তিনি তো এসে চলেও গেছেন। আমি বললাম তুমি কিভাবে জানলে? সে বললো, আমি তোমাকে একটি বই দিচ্ছি। এই বলে সে আলমারি থেকে “কল্কি অবতার ও মুহাম্মদ সাহেব’ নামের একটি ছোট বই আমাকে দিয়ে বললো, দেখো এই যিনি বইটির লেখক তিনি অনেক বড় স্কলার ডা. বেদ প্রকাশ উপাধ্যায়। আমি বইটি গ্রহণ করলাম।
সে দিনই আমি সাবিহাকে তার ভাই-এর প্রতি আমার দুর্বলতার কথা বলি। সে বললো, ভাইজানও তোমাকে পছন্দ করে। কিন্তু সে লজ্জায় তোমার সামনে আসে না। আমি বললাম, তোমার ভাই কি বিয়ে করার জন্য হিন্দু হতে পারবে? সে বললো, একজন মুসলমানের হিন্দু হওয়া তো অসম্ভব। হ্যাঁ! ইসলাম সর্ম্পকে যে কিছুই জানে না সে অন্য কথা। এজন্য যে, ইসলাম এমন সত্য ধর্ম; মানুষ তা জানার পর ছাড়তে চাইলেও ছাড়তে পারে না। অন্তর থেকে ইসলামি বিশ্বাসকে ত্যাগ করতে পারবে না। সে বললো, আমাদের চক্ষু দেখছে যে, এখন দিন। সূর্য উদয়মান, এখন যদি আমাকে কেহ বলে দশ লক্ষ টাকা নাও আর বলো, এখন হচ্ছে রাত। অথবা রাইফেলের নল মাথায় ঠেকিয়ে বললো; বলো, এখন হচ্ছে রাত। তা হলে হতে পারে লোভে কিংবা ভয়ে আমি বলে ফেলবো যে এখন হচ্ছে রাত। কিন্তু আমার অন্তর বলতে থাকবে যে, কিভাবে দিনকে রাত মনে করি। সাবিহা বললো, সীমা! যদি তুমি বিশ্বাস করো এবং ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা করো। আর সত্যকে জানার চেষ্টা করো, তাহলে তুমি ভাইজানকে হিন্দু বানানোর পরিবর্তে নিজেই জরুরী মনে করবে বিবাহ হোক আর না হোক আমাকে মুসলমান হতে হবে।

আমি বললাম সাবিহা! এটা তো কথায় আছে যে, মুসলমান নিজ ধর্মের প্রতি যতো কঠোর হয় অন্য কনো ধর্মাবলম্বিরা এতো কঠোর হয় না। সাবিহা বললো, মানুষের স্বভাবই হলো সত্যের উপর কঠোর হওয়া। মিথ্যা ও সন্দেহযুক্ত বিষয়ের উপর কেউ কঠোর হতে পারে না। দীর্ঘক্ষণ আমরা কথা বলতে থাকি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে আমি বাসায় চলে আসি। বাসায় ফিরে সাবিহার কথাগুলো ভাবতে থাকি। রাতে শোয়ার সময় ঐ বইটি নিয়ে পড়তে লাগলাম। বইটি কলেবরে ছোট হওয়ায় রাতেই পড়ে ফেলি। আশ্চর্য হলাম যে, সেই কল্কি অবতার তো হলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। দেওবন্দ থেকে এই বইটি প্রকাশিত। সেই বইয়ের পিছনে আরো কয়েকটি বইয়ের নাম তালিকাবদ্ধ ছিলো। ‘নরাশংস আওর অন্তিমসন্দেষ্টা, ইসলাম এক পরিচয়, মরণে কে বাদ ক্যায়া হোগা, (মৃত্যুর পর কী হবে?) আপকি আমানত আপ কি সেওয়াঁেম,ইসলাম কিয়া হ্যাঁয়’ ইত্যাদি। পরের দিন আমি সাবিহাকে বললাম আমার এই বইগুলির প্রয়োজন। সে বললো, ‘আপ কি আমানত আপ কি সেওয়ঁঁাঁমে’ আমার মামা মাওলানা সাহেবের নিকট পাওয়া যেতে পারে। আমি তোমাকে এনে দিবো। আমি সাবিহাকে বললাম, ভুলে যেয়ো না কিন্তু। তাঁর মামার কাছে যাওয়ার সুযোগ হয় নি। আমি তাকে দশদিন পর্যন্ত তাকিদ দিতে থাকি। বলতে বলতে আমি অস্থির হয়ে যাই। দশদিন পর সে আমাকে ছোট একটি বই ‘আপকি আমানত আপকি সেওয়াঁমে’ এনে দিল।

এই বইটির নামই মানুষের অন্তরে এমন প্রভাব সৃষ্টি করে যে, নাম পড়ে প্রথমেই এক আশ্চর্য ধরণের আগ্রহ সৃষ্টি হয়, ‘আমাদের আমানতটি কি একটু জানতে তো পারি! মাওলানা সাহেবের ‘দুই শব্দের’ ভূমিকাটি দু’তিন লাইন পড়ার পর যেকোন মানুষ বইটি শেষ না করে উঠতে পারবে না এবং ইসলাম ও মুসলমানের সাথে যারা শত্র“তা রাখে তারাও এই দুই শব্দের ভূমিকা পড়ার পর অন্যের বই বলে মনে করবে না। বইটির লেখককে বন্ধু মনে করবে। আমি বাসায় এনে বইটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ি। আমার মা ও ছোট বোনকে বললাম, তোমাদেরকে আমি সুন্দর একটি বই পড়ে শোনাব। তাদেরকে বসিয়ে বইটি পড়তে লাগলাম। তারা বলল, এই বইটির লেখক কে? আমি বললাম, মুজাফফরনগরের এক মাওলানা সাহেবের লেখা বই। আমার মা বললেন, তার সাথে তো আমার সাক্ষাৎ করার উচিত। এ বই এর পিছনের টাইটেলে আরো কিছু বই এর নাম লেখা ছিল। ‘ইসলাম এক পরিচয়, মরণে কে বাদ ক্যায়া হোগা, ইসলাম ক্যায়া হ্যাঁয়? কেতনী দূর কেতনী পাস? ওহি এক একতা কা আঁধার, নরাশংস আওর অন্তিম ঋৃষি, কল্কি অবতার আওর মুহাম্মদ সাহেব, বেদ আওর কুরআন?’ ইত্যাদি। আম্মু আমাকে বললেন, বেটি! এই সবগুলি বই সংগ্রহ করে নাও।
মুছান্না বোন! সত্য কথা হলো, ‘আপ কি আমানত’ বইটি আমার ভিতরের দুনিয়াকে পরিবর্তন করে দিয়েছে। ব্যাস! আমি শুধু চিন্তা করতে লাগলাম যে, আমি মুসলমান হয়ে এই সমাজে কিভাবে বসবাস করবো? যদি বাড়ি ছেড়ে চলে যাই তাহলে নারী মানুষ কোথায় গিয়ে স্থান নিবো। কে আমাকে ঠাঁই দিবে। আমার চলে যাওয়ার পর পরিবার কী ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। আমার ভাই বোনদের কী অবস্থা হবে? আমার সরল সোজা পিতা-মাতা আমার বিরহে কিভাবে জীবন যাপন করবে? এ ধরণের চিন্তার তুফান বয়ে যাচ্ছিল। ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ আরো বেড়ে গেলো। আমার অপর এক বান্ধবী ফাতেমাকে বইগুলো সংগ্রহ করে দেওয়ার জন্য পাঁচশত টাকা দিলাম। এক সপ্তাহ পর সে আমাকে ‘মরণে কে বাদ ক্যায়া হোগা’ নামক মাত্র একটি বই এনে দিয়ে বাকি টাকা ফেরত দিলো। বললো, বাকি বইগুলো পাওয়া যায়নি। আমি ‘মরণেকে বাদ ক্যায়া হোগা’ বইখানা পড়ি। জান্নাত-জাহান্নামের বিশদ আলোচনা এবং গুনাহগারদের শাস্তির কথা এই বইয়ে এমনভাবে আলোচনা করা হয়েছে যে অনুভূতিহীন মানুষও ভয় পেয়ে যাবে। এই বইটি পড়ার পর থেকে জান্নাত-জাহান্নাম আমার চোখের সামনে ভেসে থাকে। আমার মনে হয় আমি চাক্ষুুস দেখতে পাচ্ছি। রাতে যখন বিছানায় শুতে যাই, তখনও আমার চোখের সামনে কবর, হাশর, জান্নাত-জাহান্নামের দৃশ্য ভেসে ওঠে। দুবার স্বপ্নে জান্নাত দেখেছি। আর জাহান্নাম যে কতবার দেখেছি তার কোন হিসাব নেই।

এবার আমার আম্মুর কাছে ইসলাম গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করলাম। তিনি বললেন, ধর্ম থেকে দুনিয়া সামলানো খুবই কঠিন। বর্তমান সমাজে ধর্ম পরিবর্তন করা এতো সহজ নয়। ভিতর থেকে সত্যকে সত্য মনে করো এতেই যথেষ্ট। সেই মালিক অন্তরের ভেদ খুব ভালো করে জানেন। সাবিহাকে বললাম, আমি যদি মুসলমান হয়ে যাই তাহলে তোমার ভাই আমাকে বিয়ে করতে পারবে কি-না? সাবিহা বললো ভাই আমাকে কয়েকবার বলেছে যে, সীমা যদি মুসলমান হয়ে যায় আব্বু-আম্মু তার সাথে আমার বিয়ে করাবে কি-না? সে এখন চাকুরী করার জন্য বিদেশে আছে। সে আরো বলল, তার ভাইয়ের ফোন এলে এ ব্যাপারে কথা বলবে। পরে সাবিহা জানালো, ভাইজান বলেছেন, আব্বু-আম্মু যদি রাজি থাকেন। আইনগত জটিলতাগুলি সেরে ফেলেন। সীমার পিতা-মাতা যদি সন্তুষ্ট থাকে এবং সে মন থেকে মুসলমান হয় তাহলে আমি তাকে বিবাহ করবো। কিন্তু আমি কোন বিপদের ভার নিজ কাঁধে নিতে পারবো না।

এমন সময় কোনভাবে একটি কুরআন শরীফের হিন্দি অনুবাদ সংগ্রহ করি। নিজে নিজেই পড়তে শুরু করে দেই। সাথে সাথে আম্মুকে পড়ে পড়ে শোনাই। একদিন এমন কিছু স্বপ্ন দেখি, যার ফলে আমি মুসলমান হতে অস্থির হয়ে উঠি। রাতে দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত চোখে ঘুম আসতো না, আমি হাত মুখ ধুয়ে কুরআন শরীফ পড়তাম। বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, আমি বাড়ি ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। এ ব্যাপারে আমাকে কেউ বললো যে, ফুলাত, ‘আপ কি আমানতের’ লেখক মাওলানা সাহেবের ওখানে তোমার এ কাজ সহজ হবে। আমি পনের বছরের একটি ছেলেকে প্রস্তুত করে তাকে সাথে নিয়ে ফুলাতে পৌঁছি। মাওলানা সাহেব সফরে ছিলেন। সেখানে কিছু লোক আমার ইসলাম গ্রহণ করার উদ্দেশ্য জিজ্ঞাসা করেন। আমি বললাম শুধু ইসলাম গ্রহণ করা এবং সত্যকে গ্রহণ করাই আমার একমাত্র উদ্দেশ্য। আমাকে কলেমা পড়ানো হলো এবং মিরাট পাঠিয়ে এক উকিল সাহেবের মাধ্যমে এফিডেভিট করিয়ে দেয়া হলো। আমি এক মাওলানা সাহেবের বাসায় অবস্থান করি। তার বোনেরা আমাকে খুব আদর করেন। সপ্তাহ খানেক পর মাওলানা সাহেব সফর থেকে ফিরলেন।

সিদরা যাতুন ফাওযাইন. আপনাকে পরিবারের লোকেরা খোঁজাখুঁজি করেনি?
খাদিজা. আমাকে শুধু খোঁজাখুঁজিই নয় বরং আমার বাসা ছেড়ে চলে আসা পুরো এলাকায় কেয়ামত সৃষ্টি হয়ে যায়। খোঁজাখুঁজি শুরু হলে আমার বংশের লোকজন একত্রিত হলো। আমার ছোট বোন তাদেরকে বলে দেয় যে, সাবিহার ভাইকে সে বিয়ে করতে চেয়েছিলো। বরং এমন কিছুই হয়নি। তখন তো শুধু আমার ইসলাম গ্রহণ করাই উদ্দেশ্য ছিলো। এই সময় পুরো এলাকায় হিন্দু সমাজে হৈ-চৈ পড়ে যায়। সাবিহার বাবা বলেছে যে, আমার ছেলে বিদেশে। কিন্তু মানুষ তা মেনে নিচ্ছিল না। বরং উল্টো বলছিলো, আপনারাই মেয়েটিকে গায়েব করে রেখেছেন। পত্রিকায় খবরের পর খবর ছাপতে থাকে। কয়েকবার সরাসরি দাঙ্গা সৃষ্টি হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু কিছু বুদ্ধিমান লোক পরিস্থিতি শান্ত করে।

সিদরা যাতুন ফাওযাইন. এরপর কী হলো?
খাদিজা. এক সপ্তাহ পর মাওলানা সাহেব ফুলাতে ফিরলেন। আমার ব্যাপারে তাঁকে অবগত করানো হলো। মাওলানা সাহেব বললেন, সেখান থেকে আমার কাছে ফোন এসেছে। আমি বলেছি আমাদের এখানে এ ধরণের কোন মেয়ে আসেনি। পুরো এলাকায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা হওয়ার উপক্রম। তিনি আমাকে ডেকে বললেন, তোমাদের এখানে তো এ কথা প্রসিদ্ধ যে তুমি কোন ছেলেকে বিয়ে করতে চাও। আমাকে বললেন, তুমি সত্য কথা বলো। আমি বললাম, প্রথমে বিষয়টি এমনই ছিল। কিন্তু এখন ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা করেই আমি মুসলমান হয়েছি। আমি কিছুদিন ইসলামের উপর পড়া-লেখা করতে চাই। পরবর্তীতে যদি সেই ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে যায় তাহলে ভালো। অন্যথায় আপনি যে কোন ছেলের সাথে আমার বিয়ে করিয়ে দিন। কোন অসুবিধা নেই। মাওলানা সাহেব আমাকে দিল্লীতে পাঠিয়ে দিলেন। সেখানে কয়েকজন উকিলের সাথে কথা হলো। তারা পরামর্শ দিলো, কোন ছেলে যদি তাকে বিয়ে করতে প্রস্তুত হয় এটা হবে উত্তম সিদ্ধান্ত। এতে আইনি কাজ-কর্ম খুব সহজ হবে। মাওলানা সাহেব বললেন, আগ্রায় একজন ডাক্তার সাহেব আছেন। তিনি কোন নওমুসলিমাকে বিয়ে করতে চান। তার বাসস্থান হলো উড়া। তুমি যদি বলো, তাহলে তোমাকে তার কাছে পাঠিয়ে দেই।

এ সিদ্ধান্তে আমি খুবই ব্যথিত হই। কাঁদতে থাকি। মাওলানা সাহেব বুঝতে পারলেন যে, আমি ঐ ছেলেটিকেই বিয়ে করতে চাই। আমাদের এলাকার পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে পড়ে। মাওলানা সাহেব আমাকে বললেন, তুমি এখন বাসায় চলে যাও এবং নিজ পরিবারের উপর দাওয়াতী কাজ করো। এটাই হবে উত্তম সিদ্ধান্ত। আমি বললাম, সেখানে গিয়ে আমি একেবারে নি:সঙ্গ হয়ে পড়বো। আপনি আমাকে এই শিরক ও কুফরের কাছে ফিরিয়ে দিবেন না। সেখানে আমাকে কিভাবে সাহায্য করবেন। মাওলানা সাহেব বললেন বোন! তুমি এখন চলে যাও। আমি আল্লাহর উপর ভরসা করে তোমার সাথে ওয়াদা করছি যে, তোমার পিতা-মাতার সাথে আল্লাহ তা’আলা তোমাকে বের করবেন। আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। আমি অনেক কান্নাকাটি করি। বারবার পানি পান করলাম। মাওলানা সাহেবের যে সাথী আমাকে দিল্লী নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি আমাকে অনেক বুঝালেন যে, হযরতের কথা মেনে নাও। আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই তোমার জন্য রাস্তা খুলে দিবেন। আমি বললাম, আপনি কোন চাকরের সাথে বা মেথরের সাথে অথবা কোন ফকিরের সাথে বিয়ে পড়িয়ে দিন। কিন্তু আমাকে সেখানে পাঠাবেন না। তিনি বললেন, হযরত যা বলেছেন এর খেলাফ আমরা আপনার কোন সাহায্য করতে পারবো না। আমি বাধ্য হয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরার জন্য বের হলাম। বাসের টিকেট কেটে আমাকে বাসে উঠিয়ে দেওয়া হলো। মাগরিবের পর বাসায় গিয়ে পৌঁছি। আমি পরিবারের সকল সদস্যদের সামনে আম্মুকে বললাম, আমি কি আপনার কাছে বলে যাইনি যে, আমি তীর্থে যাচ্ছি? আমাকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। আপনি পরিবারের লোকজনকে বলেননি কেন? আজ দশদিনের মধ্যে ফিরে এসেছি কি-না?

সাবিহার পরিবারের লোকজন ছাড়াও আরো বহু মানুষকে পুলিশ থানায় নিয়ে গিয়েছিল। কোনভাবে ছাড়া পেয়েছে। আমার বংশের লোকজন একত্রিত হয়ে আমাকে গালমন্দ করতে লাগলো। আমি চিন্তা করলাম, খাদিজা তো সত্যের উপর আছে। আর সত্যবাদীদের ভয় করা উচিত নয়। আমি বললাম যে, আমি ইসলাম গ্রহণ করে ফেলেছি। আর আমার নাম সীমা নয় খাদিজা। ইসলাম থেকে আমাকে কেউ সরাতে পারবে না। আমার ফুফু এবং চাচা আমাকে অনেক মারধর করেছে। কত নির্লজ্জ গালিগলাজ করেছে এবং কতো খারাপ ভাষায় বকুনি দিয়েছে তা ভাষায় ব্যক্ত করার মতো নয়। আমার পিতা-মাতা তো নরম প্রকৃতির ছিলেন। আমার মা তো ইসলামের সত্যতা মেনেই নিয়েছিলেন। আমাকে শহরের কাছেই চাচার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। সেখানে আমি নামায পড়তে চেষ্টা করতাম। কিন্তু পরিবারের লোকজন খুবই বাড়াবাড়ি করতো।

একদিন রাত ১২টার সময় এশার নামায আদায় করতে জায়নামাজে দাঁড়ালাম। যখন রুকুতে গেলাম আমার চাচাতো ভাই আমাকে নামায পড়তে দেখে খুব জোরে আমার কোমরে লাথি মারলো। যখন সেজদায় গেলাম পুরোনো যুগের একটি লোহা আমার ঘাড়ে রেখেদিলো। এমন মনে হচ্ছিল যে, হয়তো আমার প্রাণ বের হয়ে যাবে। তখন সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এর উপর নির্যাতনের ঘটনাগুলো মনে পড়লো। তাদের বাসায় কোন কিছু খেতে অস্বীকার করলাম। তাদের এখানে না-পাকির কারণে খেতে ইচ্ছে হতো না এবং খানার সাথে বিষ মিশিয়ে দেওয়ার ভয়ও কাজ করতো। চাচা আমার পিতা-মাতাকে ডেকে এনে আবার ফুফুর বাসায় পাঠিয়ে দেন। আমি বললাম, আমি কারো বাসায় খানা খাবো না। এর মধ্যে বিষ প্রয়োগের সম্ভাবনা আছে। হোটেলের খাবার খাবো যা মা এনে দিবেন। ফুফুর এখানে এতো সতর্কতা অবলম্বন করার পরও তিনবার আমাকে বিষ প্রয়োগের অপচেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু আল্লাহ যাকে রাখতে চান তাকে কে মারতে পারে? একবার বিড়াল বিষযুক্ত ক্ষীর খেয়েছিলো। একবার আমাকে পূর্বেই স্বপ্নে দেখানো হয়েছিলো। এবং একবার ফুফুর নাতিই খেয়ে ফেলে। তাকে ১৫দিন পর্যন্ত হাসপাতালে থাকতে হয়েছিলো।

সিদরা যাতুন ফাওযাইন. আল্লাহ তা’আলা ওখান থেকে আপনাকে কিভাবে বের করলেন?
খাদিজা. আল্লাহ তা’আলা হযরতের ওয়াদার লাজ রাখলেন। হযরত বললেন, তখন ফেতনা-ফাসাদ ও খারাপ পরিস্থিতির ভয়ে তোমাকে তো পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু তুমি চলে যাওয়ার পরই কে যেন গায়েব থেকে কুরআন কারীমের এই আয়াত আমার কানে পড়ে শোনালেন; যে আয়াতে আল্লাহ তা’আলা ঐ মহিলা যে ঈমান গ্রহণ করে হিজরতের জন্য আসে এই ব্যাপারে সত্য হিসেবে ইয়াকীন হওয়ার পর তাকে কাফেরদের কাছে ফিরিয়ে দিতে নিষেধ করা হয়েছে।

সিদরা যাতুন ফাওযাইন.হ্যাঁ! হ্যাঁ! আব্বু খুব আফসোসের সাথে বারবার বলছিলেন যে, আমি কুরআনে হাকীমের বিরোধিতা করে ফেলেছি। প্রথম মনে হয়নি, সকলেই দু’আ করো আল্লাহ যেন আমাকে ক্ষমা করেন।
খাদিজা. আপনার কি জানা আছে সেই আয়াতটি কী?

সিদরা যাতুন ফাওযাইন. হ্যাঁ, বারবার আব্বু তা পড়ছিলেন।
يٰأَيُّهَا الَّذِينَ امَنُواْ إِذَا جَآءَكُمُ الْمُؤْمِنٰتُ مُهٰجِرٰتٍ فَامْتَحِنُوهُنَّ اللهُ أَعْلَمُ بِإِيمٰنِهِنَّ فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنٰتٍ فَلاَ تَرْجِعُوهُنَّ إِلَى الْكُفَّار.ِ
‘হে মুমিনগণ! যখন তোমাদের কাছে ঈমানদার নারীরা হিজরত করে আগমন করে, তখন তাদেরকে পরীক্ষা করো। আল্লাহ্ তাদের ঈমান সম্যক অবগত আছেন। যদি তোমরা জান যে, তারা ঈমানদার, তবে আর তাদেরকে কাফেরদের কাছে ফেরত পাঠিও না। -আল-মুমতাহানা-১০

খাদিজা.  হযরত বলেন যে, এই আয়াতটি আমার মাঝে কম্পন সৃষ্টি করেছে। বারবার সালাতুত তাওবা পড়ে আল্লাহর দরবারে দু’আ করেছি। হে আল্লাহ! আপনার কাছে যদি দাওয়াত মাহবুব হয়ে থাকে এবং আপনার এই অযোগ্য বান্দাকে আপনার এ কাজের সাথে জুড়িয়ে থাকেন; তাহলে আমার ভূলক্রটি এবং গুনাহগুলিকে ক্ষমা করে দিন। হে আমার আল্লাহ! আমি অনেক বড় অপরাধী। অজ্ঞাতভাবে আমার থেকে কুরআনে হাকীমের বিরোধিতা হয়ে গেছে। আমার আল্লাহ! আমার বাচ্চা কিভাবে কেঁদে কেঁদে ফিরে গেছে! আমার আল্লাহ! আমি আপনার উপর ভরসা করে তার সাথে ওয়াদা করেছি। আপনি আপনার বান্দার ওয়াদার ইজ্জত রাখুন। আমার আল্লাহ! আমার ভুলক্রটি আপনি ছাড়া কে সংশোধন করে দিতে পারে? মাওলানা সাহেব বলেছেন, পনের দিন পর্যন্ত প্রতি নামাযে তোমার নাম নিয়ে দু’আ করেছি এবং তোমার ফিরে আসার শুকরিয়া হিসাবে রোজা, সাদকা ও নফল নামায মান্নত করেছি। আল্লাহ হযরতের দ’ুআ ও ওয়াদার ইজ্জত রেখেছেন। ছয় মাস পর্যন্ত আমার ওপর একের পর এক মসিবত অতিবাহিত হচ্ছিল। এ সময় যদি ছয় মাসের দাস্তান শোনাই তাহলে এটি একটি লম্বা বই হয়ে যাবে। আমি একটি ডাইরিও লিখেছি। আমার মা আমার সাথে কাঁদতো। ছয় মাস পর আমার মা বাবাকে রাজি করালেন যে, উজয় উরার লালা বংশের নওমুসলিম ডাক্তার সাহেবের সাথে আমার বিয়ে দিয়ে দেওয়ার জন্য। মালা পরিয়ে এখন বিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হবে পরে সে তার মতো বিয়ে করে নিবে।

সিদরা যাতুন ফাওযাইন. তিনি আপনার মাকে পেলেন কিভাবে?
খাদিজা. আসলে আম্মুর এক পুরোনো বান্ধবী ছিল, যাকে আমরা নিজের খালার মতো মনে করতাম। তিনিও আমার সাথে মুসলমান হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ইসলাম প্রকাশ করেন নি। তিনি ত্যাগী বংশের মেয়ে ছিলেন। আমার সাথে চলমান নির্যাতন ও নিপীড়ন সম্পর্কে অবগত ছিলেন। আমাদের এখানে একটি তাবলীগ জামাত এসেছিলো। তিনি পানি পড়ানোর ছুতায় তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং আমার পুরো কাহিনী শোনান। সেই জামাতে ঐ ডাক্তার সাহেব ছিলেন, যিনি হযরতের এক সাথীর চেষ্টায় সাত মাস পূর্বে মুসলমান হয়েছিলেন। কোনভাবে নিজ চাকুরী থেকে ছুটি নিয়ে এবং পরিবারকে ট্রেনিং এর বাহানা দিয়ে জামাতে এসেছিলেন। আমীর সাহেব বললেন যে, তাঁর দাড়িও লম্বা হয়নি তিনি যদি চান এবং তার সাথে বিবাহ পড়িয়ে দেওয়া যায় তাহলে খুব ভালো হবে। সেও লালা বংশের তার পরিবারকে প্রস্তুত করতে পারবে। এর উপরই কথাবার্তা ঠিকঠাক হলো। ডাক্তার সাহেব পনের দিন চিল্লা লাগিয়ে পরামর্শ সাপেক্ষে সেখান থেকে বাসায় ফিরে গেলেন এবং পরিবারের কাছে আমাকে বিয়ে কারার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন।

আমার পিতা পরিবারের লোকজনকে এই বলে বুঝালেন যে, দূরে চলে যাবে তো মুসলমানদের থেকে দূরত্ব বাড়তে থাকবে। আমার শ্বশুরালয় থেকে ১১ জন লোক এলো, ডাক্তার সাহেবের সাথে আমার বিয়ে হয়ে গেলো। ডাক্তার সাহেব বিনোদনের বাহানায় আমাকে দিল্লী, শামলা, ইত্যাদি স্থানে নিয়ে আসেন। এ দিকে মাওলানা সাহেবের সাথে ফোনে যোগাযোগ রাখেন। আমাকে নিয়ে মাওলানা সাহেবের এখানে এলেন। একদিন মাওলানা সাহেব আমাকে ডাক্তার সাহেবের সাথে দেখতে পেয়ে এতো খুশি হলেন; যা ভাষায় ব্যক্ত করা যায়না। আনন্দে বার বার গাল বেয়ে অশ্র“ ঝড়ছিল। আর বলছিলেন, আমার আল্লাহ! আপনি কেমন কারীম দয়াবান মেহেরবান! কুরআনে হাকীমের একটি প্রকাশ্য হুকুম অমান্য করে একজন মু‘মেনাহকে কুফুরের দিকে ফেরত দানকারী মুজরিমের ওয়াদার আপনি কেমনে সম্মান রাখলেন। মাওলানা সাহেব বললেন, তোমার ফিরে আসার জন্য ২৫টি রোজা ২০০ রাকাত নফল নামায এবং ৩০০০ টাকা ছাদকা মান্নত করেছি। মাওলানা সাহেব খুব আনন্দের সাথে বললেন, অন্দ্রার যেই ডাক্তার সাহেবের সাথে তোমার বিয়ের কথা বলেছিলাম ইনিই হলেন সেই ডাক্তার শরেক সাহেব। আমার আল্লাহ বিয়ে করিয়ে আমার বাসায় পাঠিয়েছেন।

সিদরা যাতুন ফাওযাইন.খুবই আশ্চর্য কথা?
খাদিজা. আল্লাহ তা‘আলা তার দ্বীনের দাওয়াতের কার্মীদের বড় বড় নেয়ামত দিয়ে ভরপুর করে দেন।

সিদরা যাতুন ফাওযাইন. আপনার সেই ছয় মাসের নির্যাতিত হওয়ার কাহিনী-সম্বলিত ডাইরিটি কি আপনার কাছে আছে?
খাদিজা. এখনতো সাথে আনিনি। পরে ফটোকপি করে আপনার কাছে পাঠিয়ে দেবো। হযরতও বলেছেন যে সেটা আরমুগান পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করবেন। ইনশাআল্লাহ ।

সিদরা যাতুন ফাওযাইন. আপনার স্বামী কি নিজ পরিবারের সাথে থাকেন?
খাদিজা. না! তিনি তো এখন মহারাষ্ট্রের নাগপুরে এক সরকারি হাসপাতালে অস্থায়ীভাবে চাকুরী করছেন। তিনি দিল্লীতে চাকরীর জন্য দরখাস্ত করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ ইন্টারভিউও হয়ে গেছে। এম.ডি.এর জন্য কোয়ালিফাই করেছেন। এখন দ্রুতই আমরা দিল্লীতে চলে আসবো। আমরা দু‘জনই এক সাথে থাকবো।

সিদরা যাতুন ফাওযাইন. আপনার পিতা-মাতার কি হলো?
খাদিজা. পরশু বাবাকে দিল্লীতে খবর দিয়ে এনেছিলাম। হুমায়ুনের কবরের পার্শ্ববর্তী পার্কে সাক্ষাৎ হয়েছে। এখন তিনি নিজ গ্রাম ছেড়ে দিয়ে আমাদের সাথে চলে আসার প্রোগ্রাম বানিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ দু‘জনই মুসলমান হয়ে গেছেন।

সিদরা যাতুন ফাওযাইন. খাদিজা বোন ! আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আসলে ঈমান তো আপনাদেরই। আমরা বংশীয় ঈমানদার, ঈমানের কিইবা কদর করতে পারবো। আপনি আমাদের জন্য দু‘আ করবেন। আমরাও যেন এই ঈমানের কিছু অংশীদার হতে পারি।
খাদিজা. মুছান্না বোন! আপনার পরিবারের জুতার সাদকায় আমি ঈমান পেয়েছি। আপনি কেমন কথা বলছেন! আপনার পরিবারের জন্য যদি আমার সাত পুরুষও দু‘আ করে তাহলেও কম হবে।

সিদরা যাতুন ফাওযাইন. এটা আপনার মহত্বের কথা। মোটকথা আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
খাদিজা. ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আমি খুব দ্রুত দিল্লী চলে আসছি তখন খুব তৃপ্তির সাথে কথা হবে। আরো মজার মজার কথা শুনাবো। ডাক্তার সাহেব বাইরে অপেক্ষা করছেন। আচ্ছা আসি।


সাক্ষাৎকার গ্রহণে
সিদরা যাতুন ফাওযাইন
মাসিক আরমুগান-এপ্রিল ২০০৯ ইং

অনুবাদঃ মুফতি যুবায়ের আহমদ