নওমুসলিম জনাব আব্দুল্লাহ সাহেব (গংগারাম চোপরা)-এর সাক্ষাৎকার

সকলের কাছে আমার আকুল আবেদন যে, আমার জন্য এই দুআ করবেন, আল্লাহ তা’আলা যেন আমাকে ঈমান এবং সেজদার অবস্থায় দুনিয়া থেকে তুলে নেন এবং আমি আমার স্ত্রীকে এই ওসিয়ত করেছি যে, আমি মারা গেলে আমার ঐ সার্টিফিকেট আমার সাথে কবরে যেন দিয়ে দেয়। দুআ করবেন আল্লাহ তা’আলা যেন এই অধমের সার্টিফিকেট কবুল করেন। আমার জন্য তথা দুনিয়ার সকল মানুষের জন্য দুআর আবেদন, আল্লাহ যেন সকলকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দান করেন।


আহমদ আওয়াহ. আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
আব্দুল্লাহ. ওয়া আলাইকুমুস্ সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আহমদ আওয়াহ. আব্দুল্লাহ সাহেব! আমাদের এখান থেকে আরমুগান নামে একটি উর্দূ পত্রিকা প্রকাশিত হয়, সেখানে বহুদিন পূর্বে আব্বুর একটি প্রবন্ধে আপনার ইসলাম গ্রহণের ঘটনা বর্ণনা করেছিলেন। তখন থেকেই আপনার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য আমার মন ব্যাকুল ছিল এবং ইচ্ছা ছিল, যে আরমুগানে ইসলাম গ্রহণকারী ভাগ্যবানদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়, তাই আপনার সাথেও কিছু আলোচনা করে জানা যেতে পারে আপনার ইসলাম গ্রহণের হৃদয় বিদারক ঘটনাটি। আল্লাহর অপার দয়া যে, আপনি নিজেই এসে গেছেন। এ সুযোগে আপনার কিছু সময় নিয়ে আলোচনা করতে চাই।

আব্দুল্লাহ. খুব ভালো কথা, আপনার সাথে সাক্ষাত করে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। হযরতও পরিচয় করিয়েছেন যে, এটা আমার ছেলে আহমদ! খুব ভালো লাগলো আপনাকে দেখে। মনে হলো যে, আল্লাহ তা’আলা হযরতকে একটি আদরের সন্তান দিয়েছেন। আসলে আমি হার্ট হাসপাতালের চিকিৎসা গ্রহণ করছি। আজকে আমার চেক-আপ করার দিন ছিল। আমি জানতে পারলাম যে, মাওলানা সাহেবের সাথে দিল্লীতে সাক্ষাৎ হতে পারে, কিন্তু অনেক চেষ্টা করার পরও সাক্ষাৎ করতে ব্যর্থ হলাম। আল্লাহর অনুগ্রহ যে, আজ খুব সহজেই সাক্ষাৎ হয়ে গেল এবং কয়েক বছরের সমস্ত ঘটনা বলে মনে তৃপ্তি পেলাম। মাওলানা সাহেবও আনন্দিত হলেন। আমার দ্বারা যে কোন খেদমত হোক, আপনি আদেশ করুন, আমি তা মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত।

আহমদ আওয়াহ. প্রথমে আপনার পরিচয় দিন।

আব্দুল্লাহ. আমার পূর্বের নাম ছিল গংগারাম চোপরা। আমি রূহতাক গ্রামের এক শিক্ষিত জমিদার পরিবারে ১৯৪৮ সনের ১লা জানুয়ারী জন্মগ্রহণ করি। গ্রামে প্রাইমারি এক স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করি। তারপর রুহতাক হাইস্কুলে ভর্তি হই। ১৯৬৭ ইং সনে বি.কম. করার পর স্কুলে শিক্ষকতা করতে আরম্ভ করি। তারপর একজন পরিচিত লোকের মাধ্যমে সেইল ট্যাক্স বিভাগে চাকুরিতে লেগে যাই। আমি রূহতাক জেলার সেইল ট্যাক্স অফিসার হিসাবে কর্মরত ছিলাম। চার বছর পূর্বে আমার স্ত্রীর কারণে চাকুরী হতে অবসর নিয়ে নেই।

আমার বিবাহ হয় এক ধনী পরিবারে। আমার স্ত্রী আমার থেকে বেশি শিক্ষিতা ছিল। বিবাহের সময় সে শিক্ষা (ই.ঝ.অ) পোস্টে চাকুরী করতো। আমার ইচ্ছা ছিল যে, আমার স্ত্রী গৃহিনী হয়ে নিরাপদে থাকবে। আমার কাছে মহিলাদের চাকুরী পছন্দনীয় নয়। আমি বিবাহের তিন বছর পর অনেক চাপ সৃষ্টি করে তার চাকুরী বাতিল করাই। এই সিদ্ধান্ত তার ইচ্ছার বিপরীত ছিল। এ নিয়ে আমাদের মাঝে দ্বন্দ্ব ও কলহ গড়ে ওঠে। এমন কি সে তার বাপের বাড়ি চলে যায়। তার পরিবার আমার শত্র“ হয়ে যায় এবং এ কথা আদালতেও পৌঁছতে আর বাকি রইল না। মুকাদ্দমা চলতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত এই মুকাদ্দমাই আমাদের দু’জনের মাঝে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে যা আমার কুফর থেকে বের হওয়ার মাধ্যম হলো।

আহমদ আওয়াহ. মা-শা-আল্লাহ, আশ্চর্যজনক কথা! আপনার হেদায়াত পাওয়ার এবং ইসলাম গ্রহণের সেই ঘটনাটাই বলুন।

আব্দুল্লাহ. ঝড়ের বেগে মামলা চলতে লাগল এবং মুকাদ্দমার রায় আমার স্ত্রীর পক্ষে গড়াচ্ছিল। আমাকে শাস্তি ও জরিমানা দুটোই বরণ করতে হবে। তাই আমার উকিল সাহেব আমাকে পরামর্শ দিলেন যে, যদি আপনি কোথাও থেকে মুসলমান হওয়ার একটি সার্টিফিকেট নিয়ে আসতে পারেন, সেটাকে আদালতে পেশ করলে খুব সহজে জান বাঁচাতে পারবেন। আমাকে কোনো একজন মুসলমান ব্যক্তি বললেন, মালি কোটলার একজন মুফতি সাহেব আছেন। তাঁর সার্টিফিকেট সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য। সেখানে গিয়ে উপস্থিত হলাম, কিন্তু মুফতি সাহেব সে দিন ছিলেন না। সেখানকার স্থানীয় লোকজন আমাকে বললেন যে, তিনি ১৫/২০ হাজার টাকা নেন। আমার জন্য এটা কোন ব্যাপার ছিল না। মুফতি সাহেব হায়দারাবাদ সফরে ছিলেন। সেখান থেকে চারদিন পর ফিরবেন। এতদিন অপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই সেখান থেকে ফিরে আসছিলাম। রাস্তায় একটি মসজিদ দেখতে পেয়ে আমার ড্রাইভারকে গাড়ি থামাতে বললাম। মনে মনে ভাবলাম এখানকার ইমাম সাহেবের কাছ থেকে জেনে নেয়া যাক আরও কোথাও এ কাজ হতে পারে কি-না। ইমাম সাহেব ছিলেন সাহারানপুর জেলার অধিবাসী। তিনি বললেন, উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগর জেলার ফুলাত নামক গ্রামে মাওলানা কালিম সিদ্দিকী সাহেব থাকেন। আপনি সেখানে চলে যান, আর কোথাও জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন নেই। তিনি কোন টাকা-পয়সা নেবেন না বরং সমস্ত কাজ আইনগতভাবেই করে দেবেন। আমাকে যাওয়ার পুরো লোকেশন লিখে দিলেন। কিন্তু অফিসের কাজের ব্যস্ততার কারণে সেখানে তৎক্ষণাত যেতে পারলাম না। প্রায় ২৫ দিন পর আসি। সেদিন ছিল ২৯ জানুয়ারী ১৯৯৪ সাল। ফুলাতে গেলাম। তখন ছিল রমযান মাস। সূর্য্যাস্তের কিছুক্ষণ পর আমি আমার গার্ড ও ড্রাইভারসহ ফুলাতে পৌঁছলাম।

মাওলানা সাহেব মসজিদে এ’তেকাফরত ছিলেন। একজন ব্যক্তি আমাকে মাওলানা সাহেবের কাছে নিয়ে গেলেন। মসজিদের ছোট একটি কামরায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হলো। আমি পরিষ্কার ভাবে মাওলানা সাহেবকে আমার উদ্দেশ্য বর্ণনা করে বললাম, আমার ইসলাম গ্রহণ করার একটি সার্টিফিকেট লাগবে। তা আমার স্ত্রীর মুকাদ্দমা থেকে বাঁচার জন্য আদালতে উপস্থিত করতে হবে। আমি মুসলমানও হবো না এবং ধর্মও পরিবর্তন করবো না। মাওলানা সাহেব আমাকে বললেন, আপনি কি আদালতে এ কথা বলে সার্টিফিকেট দাখিল করবেন? আমি বললাম, আদালতে এটাই বলব যে, আমি মুসলমান হয়ে গেছি। তাই এখন আমার স্ত্রীর সাথে কোন সম্পর্ক নেই। মাওলানা সাহেব বললেন, আপনি এখন যেখানে বসে আছেন এটা হলো মসজিদ, মালিকের ঘর। তাঁর মহান আদালতে আপনাকে আমাকে এবং সকলকে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে সর্বপ্রথম এই ঈমান ও সার্টিফিকেটের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হবে। নকল সার্টিফিকেট দ্বারা সেখানে বাঁচা যাবে না। সেখানে সারা জীবন নরকে থাকতে হবে এবং শাস্তি পেতে হবে। যাক, এটাতো আপনার এবং আপনার মালিকের ব্যাপার। কিন্তু আমি বলতে চাই, আপনি আমাদেরকে এটা কেন বললেন যে, আমি মুসলমান হবো না। আপনি আমাদেরকে এটা বলুন যে, আমি মুসলমান হবো; আমাকে মুসলমান করে নিন এবং একটা সার্টিফিকেটও লাগবে। আমরা আপনাকে কলেমা পড়াচ্ছি। অন্তরের ভেদ তো আমরা জানি না। আমরা এই মনে করে আপনাকে মুসলমান বানিয়ে নেব যে, (স্বচ্ছমনে) বাস্তবেই আপনি মুসলমান হচ্ছেন। আমাদের লাভ হবে যে, আমাদের মালিক একজন মানুষকে মুসলমান করার উসিলা হওয়ার কারণে জান্নাতের অঙ্গীকার করেছেন। আমাদের কাজ হয়ে যাবে। অন্তরের ব্যাপার তো অন্তর্যামী মালিক, যিনি অন্তর পরিবর্তনকারী, তিনিই জানেন। আপনি এত দূর ভ্রমণ করে তাঁর ঘরে এসেছেন, হয়তো তিনি আপনাকে সত্য ঈমানওয়ালা বানিয়ে দেবেন এবং সেটাই আমাদের নিকট সত্য সার্টিফিকেট হবে। আমরা নকল কোন কাজ করি না। আমি বললাম, জি হ্যাঁ, সত্য মনেই ইসলাম গ্রহণ করতে চাই। আমি একটি সার্টিফিকেটও চাই। মাওলানা সাহেব আমাকে ইসলাম সম্পর্কে কিছু বললেন এবং এটাও বললেন যে, মৃত্যুর পর সেই মহান বিচারকের মহান আদালতে আমাদের উপস্থিত হতে হবে। সেখানে মিথ্যা সাক্ষ্য ও মিথ্যা সার্টিফিকেট কোনটাই চলবে না। আমি যে কলেমা পড়াচ্ছি এটা সেই মহান মালিকের জন্য। যদি সত্য মনে করে পড়েন তাহলে মৃত্যুর পর সারাজীবন স্বর্গে থাকবেন, যদিও আপনি কাউকে না জানান। মাওলানা সাহেব আমাকে কলেমা পড়ালেন ও হিন্দিতে তার অনুবাদ করে দিলেন এবং সদা সর্বদা আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামÑএর পূর্ণ আনুগত্য করার ব্যাপারে অঙ্গীকার নিলেন। আমার ইসলামী নাম রাখলেন আব্দুল্লাহ।

মাওলানা সাহেব বললেন, এখন আমাদের মাদ্রাসার অফিস বন্ধ। আপনি আজ এখানে থাকুন, আগামীকাল সকাল ৯ টার সময় সার্টিফিকেট বানিয়ে দিব ইনশাআল্লাহ। আপনি যদি চান যে, মসজিদে আমাদের এবং আমাদের সাথীদের সাথে থাকবেন, তাহলে এখানে থাকতে পারেন। এখানে আপনি অনেক সৎ লোকের সঙ্গ পাবেন। আর যদি আমাদের বাসায় থাকতে চান, তাহলে সেখানেও থাকতে পারবেন। আমি মসজিদে থাকার আগ্রহ পেশ করলাম। সেখানে মাওলানা সাহেবের সাথে অনেক মানুষ এ‘তেকাফরত ছিল। সেখানে অনেকেই ছিল হরিয়ানার। তার মধ্য থেকে সোনিপথের সাথী ছিল সবচাইতে বেশি। আমি সোনিপথে কয়েক বছর ছিলাম।

মাঝ রাতের পর সকলেই উঠে গেলেন এবং নিজ মালিকের সামনে ক্রন্দন করতে লাগলেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই জিকির করছিলেন, সেই লোকগুলোকে আমার সবচাইতে ভালো লাগল। আমিও উঠে গেলাম এবং তাদের সাথে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’Ñএর জিকির করতে লাগলাম। এত দুশমনী, মামলা-মুকাদ্দমা এবং পারিবারিক অশান্তি, পেরেশানী ও অস্থিরতার মধ্যে এই রাতটি এমনভাবে কাটলো যেন ক্লান্ত বাচ্চা তার মায়ের কোলে এসে বসলো। সকালে সার্টিফিকেটের ফিস দিতে চাইলে মাওলানা সাহেব কোনোরূপ বিনিময় গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করলেন। এই শান্তিময় পরিবেশে আমার মন চাইল যে, আরো কিছু সময় এখানে অতিবাহিত করি। আমি মাওলানা সাহেবের কাছে আরো একদিন থাকার অনুমতি চাইলাম। মাওলানা সাহেব বললেন, খুব ভালো কথা, এক দিন নয় যত দিন আপনার মন চায় আপনি থাকুন। আপনি আমাদের মেহমান, এখানে আপনার কোন কষ্ট হলে মাফ করবেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন সময় মুরিদদের সামনে মাওলানা সাহেব আল্লাহওয়ালাদের ঘটনা এবং কুরআন-হাদীসের আলোচনা পেশ করলেন। আমিও শুনতে লাগলাম, আমার গার্ডও আমার সাথে ছিল। বিকালে সোনিপথের এক সাথীকে নিয়ে খাতোলী বাজার থেকে ২০ কেজি মিষ্টি নিয়ে এলাম। আমার ইচ্ছা হলো যে, আল্লাহর এই প্রকৃত ভক্তদেরকে আমার ঈমান আনার আনন্দে মিষ্টি মুখ করাই। রাত্রে খানা খাওয়ার পর দুই সাথী দ্বারা মিষ্টিগুলো বণ্টন করালাম। পরদিন এমন পরিবেশ ছেড়ে যেতে মন চাচ্ছিল না। কিন্তু অফিসের কাজ এবং তৃতীয় দিন আমার মুকাদ্দমার তারিখ থাকার দরূন যেতে বাধ্য হলাম। দুই রাত্রের এই শান্তিময় পরিবেশ আমার অশান্তি ও অস্থিরতার জীবনকে শীতল করে ফেললো। সঙ্গে আসা আমার গার্ড মহিন্দর বলতে লাগলো, স্যার! এখানে এসে থাকার দরকার। আপনি কি মাওলানা সাহেবের ভাষণ মন দিয়ে শুনেছেন? আমার ১৫ বছর হয়ে গেলো রাধা স্বামীর মন্দিরে যাওয়া আসা করার। যেই সততা, শান্তিও প্রেম এখানে পেলাম তার বাতাসও সেখানে লাগেনি। এমন লাগছিল যে, প্রত্যেকটি কথা অন্তরে স্পর্শ করছিলো। স্যার, ঘর-সংসার সব ছেড়ে দিন এবং মাওলানা সাহেবের সংস্পর্শে চলে আসুন। সুখ-শান্তিতো এখানেই আছে। আমি তাকে বললাম, তুইও কলেমা পড়ে নিতি। সে বলল, স্যার! তিনি যখন আপনাকে কলেমা পড়তে বললেন তখন আমিও আস্তে আস্তে কালেমা পড়ছিলাম এবং মনে মনে নিজ মালিককে বলছিলাম যে, হে মালিক! আপনি অন্তরের ভেদ জানেন। যদি এই ধর্ম সত্য হয় তাহলে স্যারের মনকে ফিরিয়ে দিন এবং আমাকেও তাঁর সাথী বানিয়ে দিন।

মাওলানা সাহেব তাঁর কিতাব ‘আপনার আমানত’ আমাকে পাঁচকপি দিয়ে বললেন যে, এইগুলি আপনি পড়ুন এবং আপনার সাথীদেরকেও পড়তে দিন। আমি বাড়ি গিয়ে একটি বই আমার গার্ড মহিন্দরকে দিলাম এবং একটি আমি নিজেও পড়লাম। এখন আমার ইসলামের ব্যাপারে শতভাগ বিশ্বাস হয়ে গেল এই জন্য যে, আমি দুই দিন ঈমান ওয়ালাদেরকে দেখেছিলাম।
সার্টিফিকেট দেখানোর জন্য আমার উকিল আমাকে ফোন করলেন। আমি পরদিন সাক্ষাৎ করতে চাইলাম। কিন্তু সকাল হতেই আমার মনে হচ্ছিল যে, আমার এই সার্টিফিকেট আমার মালিকের আদালতে পেশ করতে হবে। আমাকে মুকাদ্দমা থেকে বাঁচার জন্য এটা আদালতে পেশ করা উচিত হবে না। আমি ‘আপনার আমানত’ বইটি হাতে নিলাম এবং মালিককে হাজির-নাজির মেনে, সত্য দিলে সেখান থেকে কলেমা দেখে পুনরায় পড়লাম। মুকাদ্দমার ফয়সালা আমার স্ত্রীর পক্ষে গেল। আমার উপর এক লক্ষ টাকা জরিমানা এবং মাসিক খরচ প্রদানের সিদ্ধান্ত হলো।

ঈদের পর আমি সোনিপথ মাদরাসায় গিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং ইসলাম গ্রহণ করার আনন্দে সকল ছাত্র ও স্টাফকে দাওয়াত করে মিষ্টি বণ্টন করলাম। আমার খুবই মৃত্যুর ভয় হচ্ছিলো।
একদিন আমি অফিসে থাকাকালে আমার বুকে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হল। ব্যথা বাড়তে বাড়তে আমি বেহুঁশ হয়ে গেলাম। আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো। ডাক্তার হার্ট অ্যাটাকের রিপোর্ট দিলেন। আমি ২৪ দিন ইমার্জেন্সিতে এবং O.T তে ছিলাম। অতএব, অসুস্থ অবস্থায় চার মাস বাসায় ছিলাম এবং এটাকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করে ইসলাম সম্পর্কে আরো জানার চেষ্টা করলাম। এই ক’দিনে নামায শিখে নামায পড়তে লাগলাম এবং দিল্লী থেকে ‘ইসলাম কী’, ‘মৃত্যুর পর কী হবে’ ইত্যাদি কয়েকটি বই ক্রয় করে মনযোগ সহকারে পড়লাম।

মাওলানা সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য খুবই মন চাচ্ছিলো। একদিন এক ব্যক্তি এসে বললো যে, আজ বাগিচার বাগ এলাকায় মাওলানা কালীম সাহেবের প্রোগ্রাম আছে। আমি সাক্ষাৎ করতে যাবো। আমি বললাম, আমাকেও নিয়ে যান, আমারও সাক্ষাৎ করার জন্য খুবই মন চাচ্ছে। সাক্ষাৎ করার জন্য আমরা বাগিচার বাগ এলাকায় পৌঁছলাম। মসজিদে প্রোগ্রাম শুরু হয়ে গিয়েছিলো। বক্তৃতার পর আমরা মাওলানা সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করলাম। মাওলানা সাহেব খুবই খুশি হলেন যে, এতো দিন পর দেখা হলো। আমাকে এত দুর্বল দেখে পেরেশান হলেন। আমি জানালাম, আমার মারাত্মক রোগ হয়েছিল। ২৪ দিন ইমার্জেন্সিতে ছিলাম।

প্রোগ্রামের পর একজনের বাসায় দাওয়াত ছিলো। মেজবান আমাদেরকেও জোর করে নিয়ে গেলেন। মাওলানা সাহেব আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, চোপরা সাহেব! আপনার তো মনে হয় খাওয়ার ব্যাপারে বিধি-নিষেধ আছে। আমি মাওলানা সাহেবকে বললাম, হযরত! এখন আমাকে চোপরা বলে সম্বোধন না করলে ভালো হয়। আপনি নিজেই তো আমার নাম আব্দুল্লাহ রেখেছেন। এবার হযরত বললেন, আব্দুল্লাহ সাহেব! আপনার জন্য আলাদা কিছু ব্যবস্থা করা যাক। আমি বললাম, হযরত! আমি আপনার সাথেই খাব। এটা আমাকে রোগ থেকে মুক্ত করবে।

মাওলানা সাহেবকে বললাম, হযরত! ‘আপনার আমানত’ পড়েছি। আসলে তো আমি আপনার সাথে থেকেই মোটামুটি মুসলমান হয়ে গিয়েছিলাম। যখন আপনার আমানত পড়লাম তখনতো আমার পুরোপুরি বিশ্বাস এলো এবং আমি একাই দ্বিতীয় বার আল্লাহকে হাজির-নাজির মেনে কলেমা পড়লাম এবং আদালতে আর সার্টিফিকেট জমা দেইনি। আল্লাহর শুকরিয়া যে, আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করি এবং আপনি আমার নামায দেখে নিন। যখন আমি নামায এবং জানাযার দুআ শুনিয়ে দিলাম তখন মাওলানা সাহেব আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন এবং খুশিতে ও আদরে আমার হাতে চুমু খেতে লাগলেন আর বারবার অভিনন্দন জানাতে লাগলেন। বললেন, আমি ও আমার সাথীরা সকলে দুআ করেছিলাম যে, হে আল্লাহ! আমরা শুধু মুখে উচ্চারণ করাতে পারি, অন্তর গলানোর মালিক তো তুমি। আপনি তাকে প্রকৃত মুসলমান বানিয়ে দিন। আল্লাহর শোকর যে, মালিক এই নাপাক হাতের সম্মান রেখেছেন।

আহমদ আওয়াহ. আপনার গার্ড মহিন্দর-এর ঈমান আনার ব্যাপারে চেষ্টা করেছেন?

আব্দুল্লাহ. আহমদ সাহেব! আমি তার ফিকির কী-ই-বা করবো। সে তো অনেক উঁচু পর্যায়ের মানুষ।

আহমদ আওয়াহ. তিনি এখন কোথায়?

আব্দুল্লাহ. সে তো এখন জান্নাতে।

আহমদ আওয়াহ. তা কীভাবে, কিছুটা শুনাবেন?

আব্দুল্লাহ. সে অনেক ধার্মিক ছিলো এবং জাঠ পরিবারের সন্তান ছিলো। ফুলাতে আসার পর তার অন্তরে পরিবর্তন এলো। সে ‘আপনার আমানত’ পড়ে আমার কাছে এলো এবং বলতে লাগলো, স্যার! আপনি কি ঐ কিতাবটি পড়েছেন? আমি বললাম, এখনও পড়িনি। সে বলল, আপনি তার গুরুত্ব দিচ্ছেন না স্যার! আপনি বইটা অবশ্যই পড়ুন। আমি তো এখন খাঁটি মুসলমান। আমি আমার নাম মুহাম্মদ কালীম রাখলাম। আজ থেকে আপনি আমাকে মুহাম্মদ কালীম বলে ডাকবেন।

এরপর তার ভেতর দ্বীন শেখার আগ্রহ সৃষ্টি হলো। রূহতাক চৌরাস্তায় একটি মসজিদ আছে যাকে ‘লাল মসজিদ’ বলা হয়। এটি একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। এখানে একজন অনেক বড় পীর সাহেব থাকতেন। যিনি পুরো হিন্দুস্তানে দ্বীন প্রচার করেছেন। কালিম এই মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে আসা যাওয়া করতো। সে চার মাসের ছুটি নিয়ে তাবলীগ জামাতে গেলো এবং লম্বা দাড়ি নিয়ে ফিরে এলো। একদিন আমি কোন কাজে দিল্লী গিয়েছিলাম। সে আমার থেকে জুমার নামাযের অনুমতি নিলো এবং অফিস থেকে ওযু করে বের হয়ে রাস্তা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ এক মটর সাইকেলের সাথে ধাক্কা লেগে মাটিতে পড়ে গিয়ে মাথায় ভীষণ আঘাত পায়। ড্রাইভার আমাকে তার দুর্ঘটনার খবর দিলে আমি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। আট দিন পর্যন্ত সেখানেই ছিল। কিন্তু হুঁশ ফিরে আসেনি। তার পরিবার তার চিকিৎসা করতে থাকলো। পনের দিন পর আমি যখন সাক্ষাৎ করতে গেলাম তখনও সে বেহুঁশ ছিলো। হঠাৎ করে তার শরীর কেঁপে উঠল। আমি আওয়াজ দিলাম। সে চক্ষু মেলল এবং আমাকে ইঙ্গিতে কাছে ডেকে আস্তে আস্তে বললো, স্যার! আমার সার্টিফিকেট কবুল হয়ে গেছে। সে একবার কলেমা পড়ে শোনাল এবং কাঁদতে কাঁদতে চুপ হয়ে গেল। সে আমার অনেক আগে চলে গেছে। সত্যিই সে খুব ভালো মানুষ ছিলো, সে চিরদিনের জন্য চুপ হয় গেছে। তার মুখ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সে সর্বদাই আমার কানে বলে, স্যার! আমার সার্টিফিকেট কবুল হয়ে গেছে, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। সেই দিন থেকে আমি প্রত্যেক দিন দু’আ করি, ‘হে আল্লাহ! আপনি এক প্রকৃত মুসলমানের সার্টিফিকেট কবুল করেছেন। তার সদকায় এবং সত্য রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উসিলা করে আমার মত ধোঁকাবাজের সার্টিফিকেটও কবুল করে নিন (কেঁদে কেঁদে)।

আহমদ আওয়াহ. আপনার স্ত্রী কোথায়? আপনার কি কোন সন্তান আছে? এ ব্যাপারে তো কোন কিছু বলেন নি?

আব্দুল্লাহ. আমি নিজেই তাদের ব্যাপারে বলতে চেয়েছিলাম। আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সাথে বহুদিন থেকে তাহাজ্জুদ নামাযও শুরু করে দিয়েছি। এক রাত্রে আমি আমার স্ত্রীকে স্বপ্নে দেখলাম: সে এক কামরায় বন্দী অবস্থায় আছে এবং আমাকে বলছে, “আমি যেমনই হই না কেন, আপনি আমাকে এই আবদ্ধ কামরা থেকে উদ্ধার করুন। যখন আপনি আছেন তাহলে আপনি ছাড়া এই বন্ধ ঘর থেকে কে আমাকে মুক্ত করবে” এ বলে সে অনেক কাঁদছিলো। আমার দয়া হলো। আমি দেখলাম বড় একটি তালা লাগানো। আমার কাছে চাবি নেই। আমি অনেক পেরেশান হয়ে গেলাম যে, এই তালা কীভাবে খোলা যায়। হঠাৎ আমার গার্ড মুহাম্মদ কালীম পকেট থেকে চাবি বের করে দিলো এবং বললো, স্যার! এই নিন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’-র চাবি। আপনি তাকে উদ্ধার করছেন না কেন? আমার চোখ খুলে গেলো। তখন রাত্র ৩টা বাজছিলো। আমি ওযু করে তাহাজ্জুদের নামায আদায় করলাম। আমার মনে হলো, এই মহিলা সারাটা জীবন আমার জন্য উৎসর্গ করেছিল। এমনকি খরচাও আমার থেকে নিতো এবং তাকে খুব মনে পড়তো। আমিও একা থাকতে থাকতে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। আমি গোনাহগার ভাঙা অন্তর নিয়ে আমার আল্লাহর দরবারে হাত উঠালাম এবং বললাম, হে দয়াময় করুনাময় রহিম, রহমান! আমি এখন সমস্ত মিথ্যা প্রভুকে ছেড়ে আপনার এবাদত করার অঙ্গীকার করলাম। আপনি ব্যতীত আর কেউ নেই যে আমার চাওয়া পাওয়াকে পূরণ করতে পারে। হে আল্লাহ! যে তার পুরো যৌবন আমার জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছে, তাকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন। হে দয়াময় পরম করুনাময় রহমানুর রাহীম! আপনি এক অমুসলিমকে আব্দুল্লাহ বানাতে পেরেছেন, তা হলে এক সীতা দেবীকে ফাতিমা অথবা আমিনা বানিয়ে আমার ‘মুসলমান স্ত্রী’ কেন বানাতে পারবেন না? আমি অনেক দু’আ করেছি এবং আমার প্রত্যেকটি পশম আমার দু’আর সাথে শরিক ছিলো। আমার স্বপ্নের কারণে আমার উপর আল্লাহর মহিমার এক আশ্চর্য অনুভূতি সৃষ্টি হয়।

আহমদ আওয়াহ. তারপর কী হলো?

আব্দুল্লাহ. এক গান্ধা ভিখারী বান্দা মহান দয়ালুর দরজা নক করেছে! এটা কীভাবে সম্ভব ছিল যে, দরজা খুলবে না? দু’দিন পর তৃতীয় দিন আমি আমার ঘরে দুপুরের সময় বসেছিলাম। হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো। আমি কাজের ছেলেকে দরজা খুলতে বললাম। বললাম, দেখতো কে? আমার চোখ বিস্মিত হলো। আমি দেখলাম যে, কাজের ছেলে আমাকে এসে বলছে, অমুক এসেছে। সীতা দুই বাচ্চাসহ আমার সামনে এলো এবং আমার বুকের সাথে মিশে গেলো। আমি ১০ বছর পর তাকে দেখছিলাম। সে তার যৌবন হারিয়ে ফেলেছিল। সে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কাঁদলো। আমার ছেলে-মেয়ে বেশ বড় হয়ে গিয়েছে। সে বলতে লাগল, আপনি যখন আমার থেকে বিমূখ-তাহলে আমার সম্মান, আমার অন্তর আর কে রাখবে।

আমি তাকে সান্তনা দিলাম। আমার মনে হচ্ছিল যে, আমার আল্লাহ এই গান্ধা হাতকে ভিক্ষা দিয়েছেন বলেই সে এসেছে। আমি তাকে বললাম, এখন ব্যাপারটা হাত থেকে বের হয়ে গিয়েছে। সে জিজ্ঞেস করলো, কেন? আমি বললাম, আমি এখন মুসলমান হয়ে গিয়েছি। সে বললো, জাহান্নামেও আমি আপনার সাথেই থাকবো, আমি আপনার; আপনারই থাকব। আমি তাকে কলেমা পড়তে বললাম। তৎক্ষণাৎ সে প্রস্তুত হয়ে গেলো। আমি কলেমা পড়ালাম এবং তার নাম রাখলাম আমেনা, ছেলের নাম হাসান এবং মেয়ের নাম ফাতেমা।

এতদিন সে তার বাবার বাড়িতে পৃথক এক রুমে থাকত। বাচ্চাদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে ভাবীদের সাথে তার ঝগড়া হয়। তার ভাবী তাকে অনেক গালাগালি করে এবং বলে, “যদি তুই কোন কিছুর উপযুক্তই হতিস তাহলে স্বামীর ঘর ছাড়লি কেন? যদি ভালো হতিস তাহলে তুই স্বামীর সাথেই থাকতি। যে স্বামীকে ধিক্কার দিয়েছে সেকি ভালো মেয়ে?” ব্যস্! তার অন্তরে দাগ কাটলো। আসলে এটা তো বাহানা। আমার দয়াময় আল্লাহ আমাকে ভিক্ষা দেওয়ার জন্যই এরূপ করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ! দেড় বছর ধরে সে আমারই সাথে আছে। আমরা সুখে শান্তিতে দ্বীনি জীবন যাপন করছি।

আহমদ আওয়াহ. আব্দুল্লাহ সাহেব! দু’আ কবুলের এই আশ্চর্য ঘটনা আপনার কেমন লাগলো?

আব্দুল্লাহ. এই ঘটনার পর আল্লাহর সাথে আমার অন্য এক সম্পর্ক সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। আমার এখন এই অবস্থা যে, আমার বিশ্বাস, আমি যদি আমার আল্লাহর সাথে এই জিদ করি যে, সূর্য পশ্চিম থেকে উঠবে তাহলে আমার জিদ পুরো হবে।

আহমদ আওয়াহ. আপনি অনেক ভাগ্যবান। আরমুগানের পাঠকদের জন্য আপনি কিছু পয়গাম দিতে চান?

আব্দুল্লাহ. আপনার এবং সকলের কাছে আমার আকুল আবেদন, আমার জন্য এই দু’আ করবেন, আল্লাহ তা’আলা যেন আমাকে ঈমান ও সেজদার অবস্থায় দুনিয়া থেকে তুলে নেন। আমি আমার স্ত্রীকে এই ওসিয়ত করেছি যে, আমি মারা গেলে আমার ঐ সার্টিফিকেট যেন আমার সাথে কবরে দিয়ে দেয়। দূআ করবেন, আল্লাহ তা’আলা যেন এই অধমের সার্টিফিকেট কবুল করেন। আমার জন্য তথা দুনিয়ার সকল মানুষের জন্য দূআর আবেদন যে, আল্লাহ যেন সকলকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দান করেন।

আহমদ আওয়াহ.. আমীন। অনেক শুকরিয়া আব্দুল্লাহ সাহেব। আপনি বলছিলেন যে, ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। তাই কিছুক্ষণ আলোচনা করলাম। অন্য সময় বাকী আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।

আব্দুল্লাহ. অনেক অনেক শুকরিয়া, ফী আমানিল্লাহ।

সাক্ষাৎকার গ্রহণে
মাওলানা আহমদ আওয়াহ নদভী
মাসিক আরমুগান, ২০০৪ইং

দু’আ ও মাগফিরাতের আবেদন

আপনি এখবর শুনে অবশ্যই আশ্চর্যানিত হবেন এবং আপনার ঈর্ষা ও আফসোস হবে যে, আব্দুল্লাহ (গংগা রাম চোপড়া) ১৮ই মার্চ ২০০৫ইং সনের জুমার দিন এশার নামাযে সেজদাবস্থায় নিজ হাদী ও খালেক আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চিরদিনের জন্য চলে গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাযিউন। আশ্চর্য লাগে যে, আল্লাহর সাথে আব্দুল্লাহ সাহেবের কেমন মজবুত সম্পর্ক ছিল। যা চেয়েছেন আল্লাহ তা’আলা তাই দান করেছেন। ঈর্ষা হয় এ ব্যাপারে যে, হায়! যদি এমন প্রিয় মৃত্যু আমাদেরও হতো। আফসুস এব্যাপারে যে আল্লাহর এক নেক বান্দা দুনিয়া থেকে চলে গেছে। আলোর পথের পাঠকদের কাছে তাঁর জন্য মাগফেরাতের দু’আর আবেদন রইলো।
-অনুবাদক
অনুবাদ. মুফতি যুবায়রে আহমদ