নবীজীর আদর্শ ও আমাদের জীবন বাস্তবতা

বই পরিচিতিঃ নবীজীর আদর্শ ও আমাদের জীবন বাস্তবতা

ভুমিকাঃ

১৯৯৫ সনে নভেম্বর মাসে এই অধম হারদুইতে মহিউসসুন্নাহ শাহ আবরারুল হক (রহ.)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়েছিল। হযরত আসরের পর চা পানের জন্য তাঁর বাসায় ডাকলেন। সেখানে অনেক ওলামায়ে কেরামের উপস্থিত ছিলেন। হায়দারাবাদের কিছু বড় বড় ওলামায়ে কেরামও এসেছিলেন। চা পানের সময় হযরত মাওলানা (রহ.) বললেন, ‘মাদরাসার ছাত্র-উস্তাদগণের উপকারার্থে আগত মেহমান ওলামায়ে কেরাম দ্বারা আলোচনা করানো হয়। ভালো হলো আজকেও নামাযের শেষে মাওলানা কিছু কথা রাখবেন। আমাকে তো একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ডাক্তার কথা বলতে নিষেধ করেছেন। শহরে আমার একটি প্রোগ্রামও আছে, আগে থেকে ওয়াদা করে রেখেছি, সেখানে যেতে হবে। এস্তেফাদার জন্য আমিও কোনো একটি সুযোগ করে নিব।’
হযরতের সম্বোধনে আমি ধারণা করেছিলাম যে, ওই বড় ওলামাদের কাউকে হয়তো বলছেন। এই অধমও সমর্থন দিল যে, জী হযরত! এটা হতে পারে। আমিও এতে আগ্রহী। চা পানের পর বাইরে চলে এলাম। হারদুই হযরত (রহ.)-এর এক খাদেম (সাইয়েদ কালীম হাসান সাহেব) এসে ফুলাতের কালীম সিদ্দিকী সাহেব বলে ডাক দিলেন। নায়েব সাহেব (মাওলানা বাশারত আলী রহ.) মজলিসে মালফুজাত পড়ে শুনাচ্ছিলেন। তিনি থেমে গেলেন এবং ভাবলেন Ñমনে হয় তাকে হযরত কিছু বলার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। কালীম হাসান সাহেব আমাকে বললেন, আপনি কখন আলোচনা করবেন, হযরত তা জানতে চেয়েছেন। এই অধম বিচলিত হয়ে গেল। এক মহান মুসলেহ-এর দরবারে এই এক অধম কিভাবে বয়ান করার সাহস করতে পারে। আমি আবেদন করলাম, আমি কিভাবে বয়ান পেশ করব, আমি তো ভাবছিলাম, অন্য কোনো আলেমকে হযরত হুকুম করেছেন। কালীম হাসান সাহেব বললেন, হযরত আপনাকেই হুকুম করেছেন। এই অধম হুকুম অমান্য করার হিম্মত না করতে পেরে আবেদন করল যে, হযরতের হুকুম তো মানতেই হবে তাহলে হযরত যখনই হুকুম করবেন, আমি আমার সবক শুনিয়ে দেব। তিনি হযরতের কাছে গেলন এবং ফিরে এসে বললেন, হযরত (রহ.) বলেছেন, এশার পর সবচাইতে উপযুক্ত সময়। এক দেড় ঘণ্টা যতক্ষণ চান বয়ান করতে পারবেন।
এই অধমের ওপর আতঙ্কের এক অবস্থা কাজ করছিল, কোনো বিষয়ই জেহেনে আসতে ছিল না। এশার পর পর্যন্ত জেহেন ছিল অপ্রস্তুত। ছাত্র ও উস্তাদগণ মসজিদে একত্রিত হলেন। ৪টি টেপরেকর্ট সামনে রেখে দেয়া হলো। এক শিক্ষক বললেন, আমাদের উস্তাদদের উস্তাদ, শাইখুল কুররা (এই মুহূর্তে তাঁর নাম মনে আসছে না) এখানে উপস্থিত আছেন। তিনি যদি কিছু তেলায়াত করেন তো ভালো হবে। এই অধম খুশির সাথে আবেদন করল, অবশ্যই হতে পারে। মনে এই খেয়াল সৃষ্টি হলো যে, কুরআনের আয়াতের বরকতে হয়তো কোনো বিষয় মনে হয়ে যাবে। কারী সাহেব তেলাওয়াতের আদব বর্ণনার পর তেলাওয়াত শুরু করলেন, তেলাওয়াদের মধ্যে মুশাব্বা লেগে গেল, ছোট ছোট কচি কাঁচা বাচ্চারা, কারী সাহেবের তেলাওয়াত ঠিক করে নেয়ার জন্য নিঃসঙ্কোচে (লুকমা) সুধরিয়ে দিতে লাগলো। কারী সাহেব তেলাওয়াত পূর্ণ করলেন এবং ছাত্রদের ধন্যবাদ জনালেন। পরবর্তীতে জানতে পারলাম ওই টেপ রেকর্ট হযরত মহিউস্সুন্নাহ (রহ.) রাখিয়েছিলেন। যাতে আলোচনাটি সংরক্ষিত থাকে। পরে হযরত আমার সবকটি দ্বিতীয় বার শুনেছেন এবং খুব পছন্দও করেছেন।
এর কিছুদিন পর মিরাটের এক সফরে কোনো এক সুযোগে সাক্ষাৎ হয়ে গেল। পথেই খুব স্নেহের সাথে বলতে লাগলেন যে, কালীম সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ হয়ে গেল। সাক্ষাতের পর সেই সবকটির ওপর খুব সমর্থন দিলেন এবং উৎসাহ দিলেন। হযরতের এই সমর্থনের পর হযরত মহিউসসুন্নাহ (রহ.)-র খাস ফয়জ মনে করে এই বয়ানটিকে ‘‘উসওয়ায়ে নবীয়ে রাহমত আওর হামারে যিন্দিগী’’(নবীজীর আদর্শ ও আমাদের জীবন বাস্তবতা ) নামে প্রকাশ করা হলো। যার মধ্যে মাওলানা উসমান সাহেবের একটি অভিমতও পেশ করা হয়েছে। পরবর্তীতে বহুবার ছাপানোর পর কম্পোজ গত কিছু সমস্যা ও নিজের উদাসীনতার কারণে বিষয়টির বহু স্থানে অস্পষ্ট রয়ে গেল, যা বোঝার উপযুক্ত রইল না। তাই দ্বিতীয় বার দেখে প্রয়োজন মতো কিছু স্থানে পরিবর্তন পরিবর্ধন করে পাঠকদের সমীপে পেশ করা হলো, আল্লাহ তাআলা এই সবকটিকে এই অধম ও পাঠকদের জন্য সীরাতের মুতালার হক আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন
মুহাম্মদ কালীম সিদ্দিকী
জমিয়তে শাহ ওলিউল্লাহ ফুলাত, মুজাফফরনগর।

মূল: দা’য়ী-এ ইসলাম
হযরত মাওলানা কালীম সিদ্দিকী
খলিফা, সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.)
পরিচালক: জমিয়তে শাহ ওয়ালিউল্লাহ, মুজাফফরনগর, ইউ,পি

অনুবাদঃ
মুফতি যুবায়ের আহমদ
পরিচালক: ইসলামী দাওয়াহ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
মান্ডা শেষ মাথা, মুগদা, ঢাকা-১২১৪
০১৯১৭ ৫৯৭ ৫৫১

প্রকাশকালঃ ২০১২

ডাউনলোডঃ
এখানে ক্লিক করুন! অনলাইনে পড়ুন