নবীজীর আনুগত্যের দাবি: একটি পর্যালোচনা

নবীজীর আনুগত্যের দাবি: একটি পর্যালোচনা


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনুগত্যের মৌখিক দাবিদার আর কিছু নয়। মানুষ এই মহান অধ্যায় থেকে বঞ্চিত। আমাদের ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক জীবন, লেন-দেন, আকিদা-বিশ্বাস জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত থেকে পৃথক বরং তার উল্টো। ঐসব জিনিস যা আমরা দুনিয়াদারী মনে করি। যেমন ক্ষেত-খামার, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিয়ে-সাদি, সুখ-দঃখ, চলা-ফেরা ইত্যাদি বিষয়ে তো নবীর আনুগত্য প্রয়োজনই মনে করি না। কিন্তু যে সব কাজকে আমরা দ্বীন মনে করি সেগুলোও যদি একটু সীরাতের আয়নায় দেখি, তাহলে দেখব এটাও আমাদের ভিন্ন জগৎ। উদাহরণস্বরূপ আমরা আমাদের মসজিদ গুলোকে মসজিদে নববীর সাথে তুলনা করি। তাহলে দেখব মসজিদে নববী ইসলামি রাষ্ট্রের কেন্দ্র ছিল। ইসলামি আদালত, ইসলামি পার্লামেন্ট ছিল। সেটাই ছিল আবার জেল খানা ও সেনাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। সেখানেই ছিল শিক্ষা-প্রশিক্ষণ, সব কিছুর মূল কেন্দ্র। নফল ও ব্যক্তিগত ইবাদতের কেন্দ্র ছিল ঘর। তাই তো মসজিদে নববীর ফরমান ছিল “তোমরা তোমাদের বাড়িকে কবরস্থানে পরিণত করো না। এর উদ্দেশ্য ছিল জামাত ছাড়া ব্যক্তিগত কাজের মারকাজ বানাও বাড়িকে। আর মসজিদকে জাতীয় ও দাওয়াতের কাজের জন্য ছেড়ে দাও।

সে সময় সরকারি বেসরকারি সব কাজের জন্য মানুষকে মসজিদে যেতে হতো। মানুষকে মসজিদের সাথে সম্পর্ক করে কত সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন। আমাদেরকে হুকুম দেয়া হয়েছে মসজিদে দুনিয়াবী কথা বলবে না। দুনিয়া তো হলো আল্লাহকে ভুলে গিয়ে গাইরুল্লাহর জন্য কোনো কাজ করা। আল্লাহকে বাদ দিয়ে কি কোনো মানুষ কোনো কিছু করতে পারত? নির্দেশ ছিল মসজিদে পবিত্র অবস্থায় এসো। যেই মুসলমানকে বার বার মসজিদে যেতে হতো সে কি অপবিত্র অবস্থায় থাকতে পারতো?
এর বিপরীত যত বড় এজতেমায়ী মাসওয়ারই হোক না কেন আমরা মিম্বারের পাশে দাঁড়িয়ে নফল পড়াকে মসজিদের হক আদায় করা মনে করছি। যেখানে সকল দ্বীনি কাজের কেন্দ্র হলো মসজিদ, সেই মসজিদকে মসজিদে নববীর মতো বানাতে পারলাম না। তা হলে অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রে আমাদের কী অবস্থা হবে। এতেই বুঝা যায়Ñ নবীর আনুগত্যকে ছেড়ে অন্যের অকল্যাণ ও বেরহমী, অন্যের দোষ খুঁজে বেড়াই।

সীরাতে পাকের আনুগত্য করার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন,

أَفَمَنْ شَرَحَ اللَّهُ صَدْرَه لِلْإِسْلَامِ فَهُوَ عَلٰى نُوْرٍ مِنْ رَبِّه فَوَيْلٌ لِلْقَاسِيَةِ قُلُوْبُهُمْ مِنْ ذِكْرِ اللّٰهِ أُولٰئِكَ فِي ضَلَالٍ مُبِيْنٍ
আল্লাহ্ যার বক্ষ ইসলামের জন্যে উনমুক্ত করে দিয়েছেন, অতঃপর সে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত আলোর মাঝে রয়েছে, (সে কি তার সমান, যে এরূপ নয়) যাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণের ব্যাপারে কঠোর, তাদের জন্যে দুর্ভোগ। তারা সুস্পষ্ট গোমরাহীতে রয়েছে।-যুমার ২২

আলোর মধ্যে মানুষ নিজেকে স্বাধীন ও মুক্ত মনে করে। আর খুব স্বাধীনতার সাথে চলতে পারে। আর অন্ধকারে থাকে সব প্রকারের প্রতিবন্ধকতা ও বাধা। সব জায়গায় বাধা অনুভূত হয়। এমনি আমাদের
অন্তরের সংকির্ণতার কারণে আমাদের শক্তি ও আমলের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। আমাদের উপর নৈরাশ্য ছেয়ে গেছে। আজ যদি আমাদের খোলা অন্তরের সম্পদ অর্জন হয় তাহলে আমাদের চিন্তা-ফিকির নববী চিন্তা-ফিকিরে পরিণত হবে। সকল পথ মনে হবে খোলা। দাওয়াত ও জীবনের সব ময়দানে আমরা আগে বাড়ার স্পৃহা পাব। নিজের বন্ধু বান্ধব, ও সমমনা ব্যক্তিদের সাথে ভালোবাসা ও দয়া প্রদর্শনের ব্যাপারে তো আমরা বাধ্য। দুনিয়ার প্রতিটি মানুষকে দয়া করা এবং ভালোবাসা, ছোটদের উপরে দয়া এবং বড়দের জন্য ভালোবাসা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনুগত্য করা এছাড়া মুসলমান দাবি করতে পারবে না।
দা‘য়ীর দুটি গুণ
খুব অল্প সময়ে মাত্র ২৩ বছরের সময়ে নবীর পয়গামকে সারা দুনিয়াতে পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাওয়াতি মিশনের দুটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন।

এক : কোনো ধরনের লোভ ছাড়া, মানুষের কল্যাণকামিতা ও ভালো চাওয়া।
দ্বিতীয় : অন্যের তুলনায় ব্যক্তিগত আমলকে আগে রাখা।

উদাহরণস্বরূপ তিনি উম্মতকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের দাওয়াত দিয়েছেন। তার আগে তিনি বেশী বেশী নামাজ পড়েছেন। অন্যকে রোজা রাখার দাওয়াত দিয়েছেন। তিনি এক মাস রোজা ছাড়াও মাসে তিন দিন, সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। অন্যকে যাকাত দেয়ার দাওয়াত দিতেন, আর নিজের বাড়িতে একটি আশরাফি থাকলে যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষকে দান করে শেষ না করবেন, ততক্ষণ তিনি স্বস্তিলাভ করতে পারতেন না। অন্যের জন্য যেটা সহজ করতেন নিজের জন্য রাখতেন কঠিন। দা‘য়ীকে তার দাওয়াতের মধ্যে প্রভাব সৃষ্টি করার জন্য এসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। বাহির থেকে বেশী নিজের ভেতর খেয়াল রাখতে হবে। দা‘য়ীর চরিত্রে যদি আমল না থাকে তাহলে তার দাওয়াতে প্রভাব থাকে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার দাওয়াত পয়গামের সততার জন্য নিজের কৃতিত্ব পেশ করেছেন।

দা‘য়ী নিজের কাজে এ ধরনের উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে। এটাও সত্য যে, কখনো যদি কেউ অন্য কাউকে দাওয়াত দেয় তাহলে সেই আমল তার মধ্যে চলে আসে। দাওয়াত দেয়ার সময় এ কথা খেয়াল রাখতে হবে যে, আমি যেই জিনিসের দিকে দাওয়াত দিচ্ছি সেটা যেন আমার ভিতর চলে আসে। এভাবে দাওয়াতকে নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস মনে করবে।

দাওয়াতি সাফল্যের সহজ পথ

এটাই বাস্তবতা, যা হযরত মাওলানা সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.) বলেন- দাওয়াতের হুকুম তো (মানসুস) নির্দিষ্ট। কিন্তু তার পদ্ধতি নির্দিষ্ট নয়। এই পদ্ধতি দা‘য়ীর অন্তরে ঢেলে দেয়া হয়। একটু গভীরতার সাথে সীরাত মুতালা করলে, মানুষের সামনে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। কিভাবে দাওয়াত দিতে হবে তা দা‘য়ীর জেহেনে চলে আসবে। এই জন্য কাজ শুরু করার জন্য কিছু লোককে টার্গেট বানাতে হবে। সে অনুযায়ী কাজ শুরু করতে হবে। এই কাজই তাকে চূড়ান্তে পৌঁছে দেবে। শুরুর দিকে ঈমান ওয়ালা মানুষ দা‘য়ীর সমাজে কম থাকলেও এই কাজে সাড়া দেয়ার জন্য আল্লাহ তাআলা তাকে সম্মান ও ওয়াকার দিয়ে দেন। কুরআনে কারিমে হযরত নুহ (আ.)-এর ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন-

فَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنْ قَوْمِه مَا نَرَاكَ إِلَّا بَشَرًا مِثْلَـنَا وَمَا نَرَاكَ اتَّبَعَكَ إِلَّا الَّذِيْنَ هُمْ أَرَاذِلُنَا بَادِيَ الرَّأْيِ وَمَا نَرٰى لَكُمْ عَلَيْنَا مِنْ فَضْلٍ بَلْ نَظُنُّكُمْ كَاذِبِيْنَ
অর্থ: তখন তার কওমের কাফের প্রধানরা বলল- আমরা তো আপনাকে আমাদের মতো একজন মানুষ ব্যতীত আর কিছু মনে করি না; আর আমাদের মধ্যে যারা ইতর ও স্থুল-বুদ্ধিসম্পন্ন তারা ব্যতীত কাউকে তো আপনার আনুগত্য করতে দেখি না এবং আমাদের ওপর আপনাদের কোনো প্রাধান্য দেখি না, বরং আপনারা সবাই মিথ্যাবাদী বলে আমরা মনে করি।-হুদ-২৭

হযরত মুসা (আ.)-এর ব্যাপারে একটি ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন-

فَمَا آَمَنَ لِمُوْسَى إِلَّا ذُرِّيَّةٌ مِنْ قَوْمِه عَلٰى خَوْفٍ مِنْ فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِمْ أَنْ يَفْتِنَهُمْ وَإِنَّ فِرْعَوْنَ لَعَالٍ فِي الْأَرْضِ وَإِنَّهُ لَمِنَ الْمُسْرِفِيْنَ
অর্থ: আর কেউ ঈমান আনল না মুসার প্রতি তার কওমের কতিপয় বালক ছাড়া- ফেরাউন ও তার সর্দারদের ভয়ে যে, এরা না আবার কোনো বিপদে ফেলে দেয়। ফেরাউন দেশময় কর্তৃত্বের শিখরে আরোহণ করেছিল। আর সে তার হাত ছেড়ে রেখেছিল।-ইউনুস-৮৩

দাওয়াতে বড় লোকদের তুলনায় গরিবরা সহজে সাড়া দেয়। এই ব্যাপারে আমার এক স্নেহভাজন বলেছেন, ক্যান্সার হসপিটালে যদি কাজ শুরু করা যায়, তাহলে সেখানে কাজের সুযোগ বেশী। তাই দাওয়াতের কাজে সমাজের দুর্বল লোকদের দিয়ে কাজ শুরু করা। কিছু লোককে টার্গেট বানিয়ে দুআ শুরু করা। টার্গেট বানিয়ে দুআ করা আমাদের নবীজীর বড় একটি সুন্নাত। যা আজকাল বিশেষ লোকদের থেকেও পাওয়া যাচ্ছে না। এই ব্যাপারে একটি হাদিস আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

“ফেতনা-ফাসাদের যুগে যে ব্যক্তি আমার একটি সুন্নাত প্রতিষ্ঠা করবে তার জন্য একশত শহীদের সওয়াব দান করা হবে।”
দুআর আরেকটি লাভ হলো, দা‘য়ী যখন বার বার এই দুআ করবে যে, হে আল্লাহ! অমুক ব্যক্তিকে দোযখের আগুন থেকে বাঁচান। চিরস্থায়ী আগুন থেকে তাকে বের করে দিন। তখন তার মনে মাদউর ব্যাপারে ব্যথা সৃষ্টি হবে, আর সেই ব্যথা মাদউর উপর খুবই প্রভাব পড়বে। বার বার এই দুআ করার কারণে, নিজ ব্যক্তিত্ব থেকে দৃষ্টি সরে আল্লাহর উপর আস্থা সৃষ্টি হবে। আমাদের একটি বড় ভুল ধারণা হলো, আমার তো অনেক যোগ্যতা আছে। আমি এই কাজ করে ফেলব। এটা হলো অহংকার। এছাড়া এ কথা যেহেনে থাকতে হবে যে, সারা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দা‘য়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাপারে এই এরশাদ হয়েছে- আল্লাহ তাআলা বলেন-

إِنَّكَ لَا تَهْدِىْ مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللّٰهَ يَهْدِىْ مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِيْنَ
অর্থ: আপনি যাকে পছন্দ করেন, তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না, তবে আল্লাহ্ তায়ালাই যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন। কে সৎপথে আসবে, সে সম্পর্কে তিনিই ভালো জানেন।-সূরা কাসাস-৫৬

কখনো এমন হীনম্মন্যতার শিকার হয় যে, এই কাজের জন্য তো অনেক যোগ্যতার প্রয়োজন। আমি এই মহান কাজটি কিভাবে আঞ্জাম দিব। যখন সে এই মনে করে দুআ করবে- হেদায়াতের মালিক তো হলেন আল্লাহ। তাহলে নিজের সত্তার উপর কোনো ভরসা থাকবে না। হীনম্মন্যতার শিকারও হবে না। এই চিন্তা থাকলে দা‘য়ী বড় বড় মানুষকে দাওয়াত দিতে পারবে।
দু‘আর একটি বড় উপকার হলো, কোন্ মাদউকে কীভাবে দাওয়াত দিতে হবে, এর কী পদ্ধতি হবে, তা আল্লাহ নিজেই দা‘য়ীর অন্তরে ঢেলে দেন। কয়েক দিন দুআ করার পর মাদউর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। এরপর কেনো এক সুযোগে পরিষ্কার দাওয়াত দিতে হবে। যদি গ্রহণ করে তো ঠিক আছে। অন্যথায় নিরাশ হবে না। ধারাবাহিক চেষ্টা চালিয়ে যাবে। এ কথা মনে রাখবে যে, এই লোকটিকে কুফর থেকে বাঁচাতে হবে। এটা ভাবা যাবে না যে, তার কাছে দাওয়াত পৌঁছে দিবো। তাকে কুফর থেকে বাঁচানোকে মাকসাদ বানাবে। ইনশাআল্লাহ বিজয় অর্জন হবে।

এ ব্যাপারে একটি জিনিস মনে রাখতে হবে- এক লক্ষ মানুষও যদি বলে- হ্যাঁ ইসলাম সত্য ধর্ম। সুন্দর ধর্ম। বিজ্ঞানসম্মত ধর্ম, ইত্যাদি। এর চেয়ে অনেক ভালো, একজন প্রতিবন্ধী লোককে কালেমা পড়ানো। যে কোনো ভাবে মানুষকে কুফর আর শিরক থেকে বাঁচানোর বিষয়টি মাকসাদ বানাতে হবে। হেকমত আর সতর্কতার কারণে স্পষ্ট দাওয়াত দেয়া হয় না। শুধু ইসলামের সাথে পরিচয় করানোর ফিকিরে সীমাবদ্ধ থেকে যাই। শুধু ভুল ধারণা দূর করেই শেষ করে দেয়া হয়।
সীরাত পাঠের একজন ণ্যূনতম পাঠকও জানেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর লিখিত দাওয়াতের মধ্যে শুধু এতটুকুই থাকতো- “মুসলমান হয়ে যাও, নিরাপদে থাকবে।” আর মৌখিক দাওয়াতের শব্দটিও এমন হতো “তোমরা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়, বিজয়ী হয়ে যাবে।” এছাড়া অন্য কোনো বাক্য পাওয়া যায় না।
বাস্তবতা এই, দা‘য়ীর মনে বিশ্বাস জন্মিবে যে, ওই লোকটি ইসলাম গ্রহণ না করলে চিরস্থায়ী জাহান্নামে যাবে। মৃত্যুর এক মুহুর্ত গ্যারান্টি নেই। তাকে আগুন থেকে বাঁচাতে হবে। তাহলে সে আর হেকমত আর সুযোগের কথা চিন্তা করবে না। সে অনিচ্ছায় চিৎকার করে উঠবে, বাঁচো ! আগুন থেকে বাঁচো!!
মনে করুন আপনার প্রতিবেশীর বাড়িতে আগুন লেগেছে। সেই বাড়ির কর্তা আপনার দুশমন। এখন আওয়াজ শুনছেন, আগুন! আগুন!! এমতোবস্থায় আপনি কী করবেন? আপনি কি মনে করবেন সে তো আমার দুশমন, যার বাড়িতে আমি আগুন নিভাতে জাচ্ছি, সে কি আমার পানি গ্রহণ করবে? কী যেন মনে করে? খারাপ তো ভাববে না? তাহলে এটা কিভাবে সম্ভব একজন মানুষ চিরস্থায়ী আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছে আর আমি তাকে আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য একটুু ফিকিরও করছি না।
দা‘য়ীর জন্য জরুরি যে, অমুসলিমদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা। আমরা মনে করি যে, ইসলামের বিরোধীদের উত্তর দেয়ার জন্য খুব প্রস্তুতি নিতে হয়। এটা বাস্তব যে, সাধারণত যারা ইসলাম গ্রহণ করতে আসে, তাদের ইসলাম বিরোধী কোনো প্রশ্নই থাকে না।
আল্লাহ যাকে হেদায়াত দিতে চান, দা‘য়ীর ফিকিরের প্রতিফল যার উপর হবে তার সকল প্রশ্ন আপনা আপনিই শেষ হয়ে যায়। তাই দা‘য়ীর জন্য জরুরি যে, দা‘য়ী তার রুহানী ও আত্মিক শক্তিকে মজবুত করার চেষ্টা করবে। কারণ এই ঈমানী রুহানী শক্তি আশ্চর্যজনক প্রভাব রাখে।
কবির ভাষায়-

‘প্রভাত খুবই কাছে আল্লাহর নাম নাও হে সাকি’

এখন সময় খুবই অনুকূল। শুধু ইচ্ছার প্রয়োজন। পুরো দুনিয়া সত্যের পিপাসায় তৃষ্ণার্ত। খুবই অস্থিরতার সাথে আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। এমন কে আছে যে, তাদের এই তৃষ্ণার্ত অন্তরকে ইসলামের পথ দেখাবে। এবং তাদেরকে মানবতার সম্মানিত স্থান দান করবে। হায়! আমাদের যদি এই দিকে ভ্রুক্ষেপ বা আগ্রহ থাকতো। আর পুরো জাতি যদি তাদের দাওয়াতি জিম্মাদারী আদায় করাকে সৌভাগ্য মনে করতো।


মূল. হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা.বা.
অনুবাদ. যুবায়ের আহমদ