পথ চললেই পথ বের হয়

পথ চললেই পথ বের হয়
কাঁধে করে একটি বস্তা নিয়ে পায়ে হেঁটে খাতুওয়াল্লি থেকে ফুলাতের দিকে চললাম। পরিচিত একজন হাঁটতে দেখে তার সাইকেলটি দিয়ে দিল। বলল, আপনি ফুলাতে যাচ্ছেন, আমার সাইকেলটি নিয়ে যান। তাঁর হয়তো এই ধারনাই হয় নি যে, একাদশ শ্রেনীর একজন ছাত্র সাইকেল চালাতে পারে না। এই অধমেরও একথা বলতে লজ্জা পাচ্ছিল যে, আমি সাইকেল চালাতে পারি না। সাইকেল চালানো না শিখার কারণ ছিল, আমার কিছু সঙ্গী সাইকেল চালানো শিখতে গিয়ে ব্যথা পেয়ে ছিল, এই জন্য সাইকেল চালানো শিখা খুব অসম্ভব মনে হচ্ছিল। এই ভয়েই এই বয়সেও সাইকেল চালানো শিখা হয় নি। বস্তাটি সাইকেলের উপর রেখে সাইকেল নিয়ে হেঁটে ফুলাতের পথে চলতে লাগলাম। পথে কয়েক জনই জিজ্ঞাসা করল, কী ব্যাপার সাইকেল নিয়ে হেঁটে যাচ্ছ? সাইকেল কি নষ্ট হয়ে গেছে? দু-একজনকে অস্পট উত্তর দিয়েছি। কিন্তু কতক্ষণ। আর এটা বলতেও শরম পাচ্ছিলাম যে, আমি সাইকেল চালাতে পারি না। মানুষ শুনলে বলবে এতো বড় ছেলে এখনো সাইকেল চালাতে পারে না। এই লজ্জায় শেষ পর্যন্ত রাস্তার পাশে একটি টিলার কাছে সাইকেল দাড় করলাম। টিলার উপর পা রেখে সাইকেলের সীটে বসে চালানো শুরু করলাম। কোনো সাইকেল চালানোর প্রশিক্ষকের এতোটুকু কথা মনে ছিল। সাইকেল চালক পেটেল ও হেন্ডেলেরে দিকে তাকাতে পারবে না। তার দৃষ্টি থাকবে তার দূর গন্তব্যের দিকে। আলহামদুলিল্লাহ সাইকেল চালোনো শুরু হয়ে গেল। ২০মিনিটের মধ্যে ফুলাত পৌঁছে গেলাম। আল হামদুলিল্লাহ আজ পযর্ন্ত কারো থেকে সাইকেল চালানো শিখার প্রয়োজন হয়নি এবং কখনো পড়ে গিয়ে ব্যথাও লাগেনি। এখন পযর্ন্ত আমার মনে পড়ে সাইকেল চালানো কত সহজ। এটি কোনো শিখার বিষয়? ব্যাস এতটুকু মনে রাখলে চলবে, দৃষ্টি হবে গন্তব্যের দিকে। শুধু এই সাইকেল চালানোই নয়, মানুুষ জীবনের প্রত্যেক ঐ কাজকেই মুশকিল ও কঠিন মনে করে, যে জিনিসটি সে করে না। আর কিছু নিয়ম নীতি না জানার কারণে পড়েগিয়ে ব্যাথা পায়।
হাজারো মানুষ দুনিয়াতে সাইকেল চালায়, কিন্তু অল্প মানুষই পড়েগিয়ে ব্যথা পায়। কিন্তু ঐ লোকেরাই খুব কঠিন মনে করে সাইকেল চালাতে ভয় পায়। যারা কোনো দিন সাইকেল চালায় নি। মনে করে চিকন দুটি চাকা দিয়ে দাড়িয়েই থাকতে পারে না। আবার চলন্ত অবস্থায় অবশ্যই পড়ে যাবে। এই স্বাভাবিক একটি মূলনীতি মনে থাকে না যে, সাইকেল তখনই পড়ে যাবে, যখন সে দাড়িয়ে যাবে বা থেমে যাবে। চলন্ত অবস্থায় কখনোই সে পড়বে না। তখনই ব্যথা পাবে যখন তার দৃষ্টি গন্তব্যের দিকে থাকবে না।
ইসলামের দাওয়াতের ব্যাপারেও উম্মতের সাথে এধরণের কিছু পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। দাওয়াতী কাজ করেতো দেখি নি, এবং লম্বা সময় থেকে কাজটিকে ছেড়েই দিয়েছি। তাই আমাদের কাছে কাজটি কঠিন মনে হয়। অনেকে তো এটাকে অসম্ভব মনে করে। আল্লাহ তাআলা এই জাতিকে নেতৃত্ব-রাজত্ব এবং তার প্রেমাস্পদের মর্যাদা অর্জনের জন্য দাওয়াতের সাইকেলে বসিয়ে দিলেন, আমরা চালানো ছেড়ে দিয়েছি। গন্তব্যে দৃষ্টি না থাকার ফলে হোঁচট খাচ্ছি, পড়ে যাচ্ছি। লাঞ্ছনার গর্ত থেকে উঠার চিকিৎসা হলো, এই উত্তম জাতির মর্যাদা এবং নিজেদের নেতৃত্বের অবস্থানে পৌঁছার জন্য ভীত সন্ত্রস্ত হওয়ার পারিবর্তে দাওয়াতের ময়দানে প্রেক্টিকেল স্বশরীরে পা রাখুন। এই পছন্দনীয় পথের মুসাফির, সৌভগ্যবান দা‘য়ীদের অভিজ্ঞতা হল, দাওয়াতী কাজ কতই না সহজ। যা না করার করণে আমরা এটাকে কঠিন মনে করে নিয়েছি। বিষেশত এই জ্ঞান বুদ্ধির যুগে মানুষ জ্ঞানকে অভিজ্ঞতা ও প্রেক্টিকেল কাজের ভিত্তিতে নিরিক্ষণ করে। প্রচার মাধ্যমের আধিক্য সত্যের অন্বেষণ এবং খোঁজাখোঁজি প্রগতিশীলদের প্রতীক মনে করা হয়। পুরোনো সাধারণ রীতিনীতি রেওয়াজকে মধ্যযুগীয় ও নি¤œস্তরের মনে করা হয়। এই জ্ঞান বিজ্ঞানের যুগে শুধু ইসলামই মানবতাকে পরিতৃপ্ত ও প্রশান্ত করতে পারে। হায়! আমরা যদি এই সুর্বণ সুযোগকে কাজে লাগাতে পারতাম। দাওয়াতের ময়দানে এগিয়ে আসতাম। আসুন! আমরা বিভ্রান্ত পথভ্রষ্ট মানুষগুলোকে ইসলাম ও ঈমানের দ্বারা পরিতৃপ্ত করি। আমাদের নিজেদের দায়িত্ব আদায় করি। এরপর স্বচক্ষে দেখুন এই দাওয়াতী কাজ, যা আমরা কঠিন মনে করেছি, তা কতই না সহজ। এর মূল কারণ হলো, দাওয়াত থেকে দূরে থাকা।

মূল হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী
অনুবাদ. যুবায়ের আহমদ