প্রকৃত সরল পথ এবং নবী সা. এর অনুসরণ হলো দাওয়াত ইলাল্লাহ

ইসলাম হলো সরল পথ। এটা মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এই জন্য আহকামুল হাকিমীন পৃথিবীর ¯্রষ্টা, মুসলমানদের অন্তরে এর গুরুত্ব বসানোর জন্য পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাযে, সমস্ত দুনিয়া থেকে পৃথক হয়ে, নিজ প্রতিপালকের সামনে উপস্থিত হয়ে প্রতিরাকাতে সুরা ফাতেহার মধ্যে এই দুআকে পড়া ওয়াজিব করে দিয়েছেন। اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ হে আমাদের প্রভু আমাদের সরল পথ দেখান। নিজ প্রভুর সাথে পূর্ণ সম্পর্ক, তার নৈকট্য ও সন্তষ্টির জন্য এবং তাঁর সাথে সম্পর্ক করার পরিপূর্ণ পথ ও পদ্ধতি হলো ইসলাম। দয়াময় প্রভুর করুনার উপর জান কুরবান হোক, যিনি আমাদের জীবনের সফলাতর জন্য, জীবন যাপনের যেই পদ্ধতি আমাদের দান করেছেন, তা খুবই সহজ ও সরল। তার বৈশিষ্ট হলো এটা সরল পথ এবং একেবারে সোজা। এই ধর্মকে সহজ ধর্ম বলা হয়। সভাব জাতধর্মও বলা হয়েছে। এই জন্যই সভাবজাত ও সহজ পথ হওয়ার কারণ হলো, এই পথটি হলো সরল পথ। কোনো স্থান থেকে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য অনেক গুলো পথ থাকতে পারে। গন্তব্যে পৌঁছার বহু পথের মধ্যে সরল পথ কিন্তু একটিই। সোজা ও সরল পথের বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এই পথ হয় সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত। রাস্তা যখন সংক্ষিপ্ত হয়, সেই পথে অল্প চলেই গন্তব্যে পৌঁছা সম্ভব হয়। অর্থাৎ কম কষ্টেই পৌঁছা যায়। ফলে চলতে হয় অল্প। তাই সবচেয়ে সহজ পথ হলো, সরল পথ। সোজা পথের সাথে মানুষের সভাবজাত সম্পর্ক। মনে করুন আপনি কোনো সফরে যাচ্ছেন। যেখানে যাবেন ওখান কার পথ আপনি চিনেন না। গাড়ি দাড় করিয়ে স্থানীয় কাউকে পথের কথা জিজ্ঞাসা করলেন, লোকটি বললো, আপনি যেই পথে আছেন, এটাই সোজা পথ। এ পথে চলতে চলতেই আপনি আপনার গন্তব্যে পৌঁছে যাবেন। এদিক ওদিক কোনো মোড় নিতে হবে না। তাহলে আপনার কাছে সঙ্গে সঙ্গে এক প্রকার আনন্দ ও খুশি অনুভব হবে। বলবেন যে, চলো, আমাদের কোথাও বিভ্রান্ত হতে হয় নি। এই পথ সোজা গন্তব্যে পৌঁছে যাবে। এর বিপরীত লোকটি যদি বলে, সামনে গিয়ে একটি মোড় আসবে, তার পর সামনে চললে ডান দিকে আর একটি মোড় পাবেন, এর পর দ্বিতীয় পথটি বাদ দিয়ে তৃতীয় পথটি ধরবেন। তাহলে অবশ্যই আপনার মনে এক ধরণের সংকির্ণতা ও পেরেশানি অনুভব হবে। মনে করবেন না জানি কত দূর চলার পর রাস্তা পাওয়া যাবে। একটি মোড়ে এলে মনে এক ধরণের খটকা লেগে যায়। আর যদি বলা হয়, সামনে গিয়ে আরো একটি মোড় আছে তাহলে আরো অস্থিরতা বেড়ে যায়। এর দ্বারা বুঝা যায় সোজা পথের সাথে মানুষের মানুষিক সম্পর্ক। সোজা পথের আরো একটি বৈশিষ্ট্য হলো, মানুষ সোজা চলতে থাকবে, আর লেখা দেখে দেখে গন্তব্যের দিকে যেতে থাকবে। আর এও জানতে পারবে গন্তব্য কত দূর। বিভ্রান্ত হওয়ারও ভয় থাকে না। গন্তব্যের দিক থেকে যেই পথ অন্য দিকে গিয়েছে, এতে কিভাবে তৃপ্ত হওয়া যায় যে, আদৌও এই পথ গন্তব্যের দিকে যাবে কি না।
আমাদের দেশের হিন্দু ভাইয়েরা বিভিন্ন ধর্মের লোকেরা বিভিন্ন ধর্মের মধ্য থেকে একটি ধর্মের দাওয়াত দেয়। অনেক ভ্রান্ত দলের লোকেরা কুরআন সুন্নাহ থেকে দূরে সরে এই বিশ্বাস পোষণ করে এবং প্রমাণ হিসাবে বলে, যে সবগুলো পথ আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছায়। সবগুলো পথ তার দিকে নিয়ে যায়। আল্লাহকে সন্তুষ্টির জন্য ভিন্ন ভিন্ন পথ। সবগুলো তার দিকেই গিয়ে পৌঁছবে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সুস্থ বুদ্ধি দান করেছেন। এটা একটি ধোঁকা যে, সব পথ আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছাবে। যদি মেনেও নেওয়া যায় যে, সব পথ সে দিকে যাবে। কিন্তু এর মধ্যে একটি আছে সোজা পথ। যা খুবই সংক্ষিপ্ত পথ। সোজা পথ থাকা সত্যেও যদি কেউ ভুল পথে চলে, তাহলে এটা আহমকি ও বোকামি ছাড়া আর কিছু না। যে পথ উলটো দিকে গিয়েছে এর আদৌও নিশ্চয়তা নেই যে, এই পথ কখোনো গন্তব্যে পৌঁছবে কি না। এ কথা সত্য যে, সোজা পথ ছেড়ে ভিন্ন পথ গ্রহণকারীর ব্যাপারে এ কথা মনে করা হবে যে, ইনি পথ সম্পর্কে অজ্ঞ। অথবা গন্তব্যে যেতে চায় না। যদি সূক্ষ¥ দৃষ্টিতে দেখা যায় তাহলে এই বিষয়টি ফুটে উঠবে। আর এ কথা সর্বসম্মতিক্রমে এক মত যে, সোজা পথ ছাড়া অন্য কোনো পথ গন্তব্যে পোঁছতেই পারে না। সোজা পথ ছাড়া ভিন্ন পথে গেলে আবার ঘুরে ঘুরে সেই পথেই আসতে হয়। চাই সে ভিন্ন পথের কিনারে পৌঁছে যায়। যেই পরিমাণ সোজা পথ থেকে দূরে যেতে থাকবে সেই পরিমাণ গন্তব্য থেকে দূরে সরে যাবে। আবার ফিরে এসে যেই পরিমাণ সোজা পথে চলবে, সেই পরিমাণ গন্তব্যের কাছে পৌঁছে যাবে। তার নিকটবর্তী হবে গন্তব্য। এই জন্য আল্লাহ তাআলা কুরআন হাকীমের মধ্যে বলেছেন- তাঁর নিকট একমাত্র গ্রহণ যোগ্য ও পছন্দনীয় ধর্ম হলো ইসলাম। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآَخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ.
অর্থ. যে ব্যাক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের অনুসরণ করবে, তা আল্লাহ তাআলার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আল্লাহ তাআলা আরো বলেন- إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ আল্লাহর নিকটি এক মাত্র গ্রহনযোগ্য ধর্ম হলো ইসলাম। এই বিষয়টি আরো স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন- وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ অর্থাৎ আমার কাছে আসার পথ মাত্র একটিই। তা হলো সোজা পথ, সীরাতে মুসতাকীম। তোমরা শুধু এই পথেই চলবে এবং তারই অনুসরণ করবে। এই এক পথ ছাড়া যদি তোমরা অন্য কোনো পথে চল তাহলে তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে।
এই সরল পথ একটিই। শুধু এরই অনুসরন করে কোনো মানুষ মুক্তি ও সফলতা অর্জন করতে পারে। করতে পারবে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি। এমনি ভাবে সরল পথের সংজ্ঞাকে আরো স্পষ্ট করতে সুরা ফাতেহায় বলা হয়েছে। صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ . অর্থাৎ ঐ সকল লোকের পথ যাদের উপর আল্লাহ তাআলা তাঁর রহমত ও নেয়ামত দ্বারা সুসজ্জিত করেছেন। আবার এই কথাও বলেছেন, ঐসকল লোকের পথ সীরাতে মুস্তাকীম তথা সরল পথ নয়। তারা মুক্তি ও সফলতা পাবে না। আল্লাহর সন্তুষ্টি, মুক্তি ও নৈকট্য লাভ করতে পারবে না। যারা অহংকার, কপটতা ও আল্লাহর অসুন্তুষ্টির কারণে পথ ছেড়ে দিয়েছে। অথবা অজ্ঞতার কারণে পথভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছে। এর পর আবার أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ এর স্পষ্ট করতে গিয়ে বলেছেন- أُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا.
অর্থ. তারা এমন লোকদের সাথে থাকবে, যাদের উপর আল্লাহ তাআলা নেয়ামত দান করছেন। অর্থাৎ নবীগণ এবং সিদ্দীকগণ, শহীদগণ, এবং নেককার লোকগণ, আর এরা হলেন উত্তম সঙ্গী।
ঐটাই হলো সরল পথ যা আম্বিয়া আ. গণ বলেছেন। এবং সেই পথে চলে দেখিয়েছেন। তার অনুসরনকারী সিদ্দিকীন, শুহাদা, ও সালেহীন যাদেরকে বলা হয়, তাদের মতো সৌভাগ্যবান মানুষের পথ হলো, সরল পথ সীরাতে মুস্তাকীম। আম্বিয়াদের মধ্যে সকল নবীগণের সরদার শেষ নবী রাহমাতুল্লিল আলামিন, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহান সত্তা ও তার পথকে জীবনের আদর্শ ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
অর্থ. আপনি বলে দিন তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও তাহলে আমার অনুসরণ করো। আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ তাআলা আরো বলেন-
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآَخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا .
অর্থ. তোমাদের জন্য রয়েছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মধ্যে আদর্শ। যে আল্লাহ ও পরকালের উপর বিশ্বাস রাখে সে অধিক হারে আল্লাহকে স্মরণ করে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ। যারা আল্লাহ ও আখেরাতের উপর বিশ্বাস রাখে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের পর থেকে কেয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি মানুষ হলো কুরআনের মুখাতাব। لَقَدْ كَانَ لَكُمْ বলে একথা বলেছেন যে, পুরো দুনিয়ার মানুষ, বাদশাহ, মন্ত্রী, গভর্ণর, রাজা-প্রজা, ধনী-গরীব, জমিদার, মজদুর, ব্যবসায়ী, ক্রেতা, ন্যায় প্রতিষ্ঠাকারী, কাজী, কর্মজিবী, রাজনিতীবিদ, অন্য দিকে ঈমান ওয়ালা ও বেঈমান, নবী, পীর মুরশীদ, মুফতী, আলেম, ফাজেল, মুহতামীম, নাজেম, শিক্ষক, মুহাদ্দিস, সুফি, সাধক, নামাজী, রোজাদার, হাজী, কারী, হাফেজ, জিকিরকারী, আরেফ, দা‘য়ী, মোট কথা দ্বীন ও দুনিয়ার এবং দুনিয়ার যে কোনো পদেরই হোক না কেন, জয়, পরাজয়, যে কোনো অবস্থায় কেয়ামত পর্যন্ত আবাদী হোক, সকলকে এই সম্বোধন যে, তোমাদের জন্য আদর্শ হলেন মুহাম্মদ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন। সীরাতে মুস্তাকিম যা একমাত্র সোজা পথ। যা সফলতা ও মুক্তির পথ। আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি এবং নৈকট্যলাভ ও তার পর্যন্ত পোঁছার জন্য একমাত্র পথ হল নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের জীবনকে আদর্শ বানিয়ে নিজের জীবন পরিচালনা করা। আর তার অনুসরণ করা এইটাই সোজা পথ।
আল্লাহ তাআলার সিদ্ধান্ত ছিল প্রতিটি কাজ যেন দ্বীন হয়। এই জন্য কোনো জাকের যেন শুধু অধিক জিকির কারাকে দ্বীন বানিয়ে না নেয়। কোনো ইসলামী স্কলার, কোনো সমাজ সেবক তার সেবাকে, কোনো শিক্ষক তার শিক্ষাকে, কোনো মুরাকাবাকারী তার মুরাকাবা, বা কোনো কাজে লিপ্তব্যক্তি তার কাজকে যেন সীরাতে মুসতাকিম, ও নবীর এত্তেবা ও ইসলাম মনে না করে। জিকিরকারী যেন তার জিকিরকেই ইসলাম মনে না করে। তাই সকল ভুল ধারণা দূর করার জন্য আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করে দিয়েছেন, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি ঘোষণা করে দিন, ভ্রষ্টতা যারা দ্বীনের অংশকে দ্বীন মনে করে, এবং পথের পাথেয়কে পথ মনে করে, তাদেরকে স্পষ্ট ও পরিষ্কার ভাষায় বলে দিন।
قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ .
আধ্যাতিœক পথের পথ বিচরণ কারী, শুধু জিকির আজকারকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম বানানে ওয়ালা। যারা শুধু শিক্ষা শিক্ষণকে শুধু নবীজীর অনুসরণ মনে করে, দ্বীনের কোনো পদে আদিষ্ট সৎ ও সীরাতে মুস্তাকিমের উপর হেদায়াত প্রাপ্ত, এবং নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের আনুগত্য স্বীকারকারী, বিবেককে খুলো, এবং ভুল ধারণাকে দূর করো: قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ আমার পথ হলো আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বান করা। দাওয়াত দেওয়া, অন্ধ ও বধির হয়ে নয়, বরং দলিল প্রমানের ভিত্তিতে। এই পথ শুধু আমার জন্যই নির্দিষ্ট নয়। আমি তো আল্লাহর রাসূল। দাওয়াত ইলাল্লাহর কাজ আমার পর্যন্ত শেষ হয়ে গিয়েছে। আমি তার হক আদায় করে দিয়েছি। আমার আসল নাম আহমদ, মুহাম্মদ, মুস্তফা,??? আর আমি দাওয়াত এবং রেসালাতের পরিচয়ে রাসুলুল্লাহর নামে আসমান যমিন সারা পৃথিবীতে প্রসিদ্ধ হয়ে গিয়েছি। এই দায়িত্ব শুধু আমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং “ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي” এই দাওয়াত ইলাল্লাহ আমার একা পথ নয়, আমার ব্যথা ও অস্থিরতা বুঝে আমার অনুসরণকারী সকল উম্মতের এইটাই পথ। এই দাওয়াত ইলাল্লাহর কাজকে নিজের পরিচয় বানানো ছাড়া যেই পথে চলো, সুবাহানাল্লাহ “ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ ” এই পথ ছাড়া আর কোনো পথ সীরাতে মুস্তাকীম নয়। এই পথ ছাড়া সকল পথ আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আর আমি এর উপর চলে শুকুরগুজার হতে পারবো না।
মোট কথা, দুনিয়ার যে কোনো শ্রেণী, যে কোনো এলাকার লোক হোক না কেন, আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য সীরাতে মুস্তাকীম, দ্বীনে কাইয়্যিম, ইসলাম ছাড়া নাজাত ও মুক্তির আর কোনো পথ ও মাধ্যম নেই। সীরাতে মুস্তাকীম হলো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথ এবং তার অনুসরণ। আর অনুসরণ ও এত্তেবা ঐ সময় পর্যন্ত সম্ভব নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত নবীজীর মতো আল্লাহর রাসুল ও রেসালাতের কাজ তথা আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়া, দা‘য়ী ইলাল ইসলাম নামে প্রসিদ্ধ না হবে। দাওয়াত এবং আল্লাহর বান্দাদেরকে দোজখ থেকে বাঁচানোর জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম এর মতো অস্থিরতা না থাকে। যার মুল ভিত্তি ছিল অমুসলিমদেরকে ঈমান আনার ফিকির। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র জীবন দাওয়াত ও তাবলীগের জন্য এতো ব্যস্ত ছিলেন, রাত দিনের সবচেয়ে বেশী ব্যস্ততা ছিল দাওয়াত। অমুসলিমদেরকে ঈমানে আনার জন্য কী ধরণের ব্যস্থতা ছিল, কি ধরণের ফিকির ও দরদ ছিল, তা আল্লাহ তাআলার এই আয়াত দ্বারা অনুমান করা যায়। সুরা শুআরায় আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের অন্তরের অবস্থাই বর্ণনা করেছেন। “ لعلك باخع نفسك ان لا يكونوا مؤمنين.”
মনে হয় আপনি আপনার নিজেকে এই জন্য ধ্বংস করে দিবেন, যে তারা কেন ঈমান আনছে না।
মূল হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী
অনুবাদ. যুবায়ের আহমদ