বেপক হেদায়াতে এক দৃষ্টান্ত

বেপক হেদায়াতে এক দৃষ্টান্ত
আতিক ভাইয়ের অনুরোধে ট্রেনের রিজার্ভিষণ কেন্সিল করালাম। আর উনার গাড়ি দিয়ে পালনপুর থেকে আজমীরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হল। সফর সঙ্গি বেশী হওয়ার কারণে আতিক ভাই তার গাড়ি রেখে এক বন্ধুর গাড়ি নিয়ে আনন্দের সাথে আমাদেরকে নিয়ে চললেন। আবুর রোড পর একটি মোড় পার হয়ে ট্রাকের সাথে সংঘর্ষ হয়ে একটি গাড়ি রাস্তার পাশে পড়ে ছিল। আমাদের গাড়ীর দ্রুত বেগে চলছিল, ফলে গাড়ি ঘোড়াতে গিয়ে ব্রেক কন্ট্রোল করতে পারে নি। ফলে গাড়ি গিয়ে লাগল আয়লেনের একটি পিলারে। আল্লাহর লক্ষ কোটি শুকরিয়া যে, দাওয়াতের বাজনা বাজানেওয়ালা এক গ্রাম্য ও তার সাথীর সকলেই নিরাপদ রইল। কোনো সাথীর গায়ে একটি আচরও লাগে নি। গাড়ির যথেষ্ট পরিমান ক্ষতি হয়েছে। আতিক ভাই বাসায় ফোন করে গাড়ি আনালেন। প্রায় দেরঘন্টা পর গাড়ি এল। আর ঐ গাড়ি পালনপুর পাঠিয়ে দিয়ে আতিক ভাইয়ের গাড়ী নিয়ে আজমীরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। রাত একটার সময় হঠাৎ করে মাঝপথে গাড়ী পাঞ্চার হয়ে গেল। গাড়ী থামালো, চাকা খুলল,দেখল ইস্টিপিন নেই। আর জেক খারাপ, খবর নিয়ে জানা গেল, ছেলে খেলতে গিয়েছিল, আর চাকা পাঞ্চার হয়ে যাওয়ায় সে চাকা ঠিক করার জন্য টায়ারের দোকানে রেখে এসেছে। আর আনে নি। কোনো রকম একটি চাকা খুলে গাড়ীকে এক পাশের্^ রেখে চাকা নিয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে রেখেছে। হঠাৎ একটি ট্রাক এল, ড্রাইভার মুসলমান ছিল। সে নিচে নেমে নিজেই টায়ার গাড়ীতে উঠালো। অধমের ভাগিনা সাঈদ আল মুজাফ্ফর আর ¯েœহভাজন মৌলভী উসামা নানুতবী, এই দুইজন সাথে গেল পঞ্চার ঠিক করার জন্য। কিছুদূর যাওয়ার পর একটি ফিলিং ষ্টেশনের পার্শ্বে একটি টায়ার ঠিক করার দোকান ছিল। দোকানদার ঘুমিয়ে ছিল দোকানদার ঘুমিয়ে ছিল। ড্রাইভার ডাকছিল সে বলল, আমি কারের চাকা ঠিক করি না। ট্রাকের চাকা ঠিক করি, মৌলভী সাহেব বলল, দেখুন আমরা পরদেশী মুসাফির। এই রাতে কোথায় যাব। তার এই কথা শুনে দোকানদার উঠলো। এদিকে ট্রায়ার ঠিক করতে লাগলো, উসামা কয়েকদিন সাথে থাকার ফলে দাওয়াতের প্রভাব তার মধ্যে ছিল। সে চিন্তা করলো লোকটি আমাদের উপকার করছে। আমাদেরও উচিৎ তার হক তাকে পৌঁছে দেওয়া। তাই উসামা তাকে দাওয়াত দেওয়ার শুরু করে দিল। এদিকে চাকাও ঠিক হয়ে গেলো সে কালেমাও পড়ে নিলো। আর সে টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানালো। আর একটি জেকও দিয়ে দিল। এদিকে ট্রাক ওয়ালা চিন্তা করল, এই রাতে মৌলভী সাহেবরা কোথায় যাবে। তাই সে নিজে ট্রাকে করে তাদেরকে নিয়ে এল। ড্রাইভার নিজে চাকা লাগিয়ে সালাম দুআ করে বিদায় নিলো। উসামা পুরো ঘটনা বর্ণনা করল। ফিরার সময় তার জেকটাও দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। আমারও মনে হলো এমন একজন যুবকের সাথে দেখা করা উচিৎ। আমরা যখন তার দোকানের কাছে পৌছলাম। তখন সময় রাত আড়াইটা বাজে। বেচারা রাতের খাবার খায়নি। ঐ সময় বাতি জ¦ালিয়ে খাবার খাচ্ছিল। আমাদেরকে দেখে খাবার রেখেই হাত ধোয়ে দেখা করল। বলল, বহু দিন থেকে ইচ্ছা ছিল, কোনো ধর্মীয় নেতা আমাকে সত্য ধর্মের পথ দেখিয়ে দিবে। তাই আল্লাহ তা‘লা আমার ভাগ্যে খুলে দিয়েছেন। আপনাদের গাড়ী পাঞ্চার করিয়ে আমার কাছে এই রাতে পৌঁছিয়ে দেন। আমরা সকলেই তার সাথে মুআনাকা করলাম। তাকে ধন্যবাদ জনালাম। আর দ্বীন শিখার জন্য জামাতে বের হতে বললাম। অথবা আমাদের আজমীরে মাদরাসায় কিছুদিন থেকে দ্বীন শিখার জন্য উদ্বুদ্ধ করলাম। পাঞ্চারের টাকা নেওয়ার জন্য অনেক খোশামোদ করার পরও টাকা নেয় নি।
এই সত্য সন্ধানীর হোদায়াত আমাকে সফর সঙ্গিদের পুরো রাতের সকল ক্লান্ত মুছে গেল। অধম আর সঙ্গিদেরকে বললাম, দাওয়াত ছোট বড় সমস্যার কত প্রিয় সমাধান। চাই সফরের কষ্টকে আরামে পরিবর্তন করে হোক, চাই অপরিচিতকে নিকটতম করে হোক।
হযরত থানবী (রহ:) এর এই বানী খুব মনে হল। অসহ্যকর কোনো কাজ সামনে এলে সেটাতে ভালো ভাবে চিন্তা কর, সেটাকি তোমার ইচ্ছাদিন, না অইচ্ছাদিন। যদি ইচ্ছাদিন হয়, তাহলে সেটা ঠিক করে নেও। আর অনইচ্ছাদিন হয়, তাহলে মনে রাখবে অনইচ্ছাদিন সকল অবস্থা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়। আর যেই অবস্থা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় সেটার মধ্যে কোনোনা কোন কল্যাণ নিহিত আছে। عَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ
অর্থ: তোমরা যে জিনিষে অপছন্দ কর হতে পারে তার মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে কল্যণ।
এই অধমের ইয়াকিন হয়েগেছে। বেপক ভাবে হেদাওয়াতের ফয়সালা হয়ে গেছে। তা না হয় রাতের আড়াইটার সময় সেই রাজপুত যুবককে দাওয়াত দেওয়ার জন্য সেখানে পাঠাতেন না। হায় প্রত্যেক মুসলিম যদি এই সিন্ধান্ত থেকে যদি উপকৃত হয়ে নিজ অংশ গ্রহনের মাহবুবিয়াত গ্রহণ যোগ্যতার চেষ্টা করতো কতইনা ভালো হতো।

মূল হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী
অনুবাদ. যুবায়ের আহমদ