ভাই হাসান আবদাল (জয় বর্ধন)-এর সাক্ষাতকার

সাথীদের কাওড় দিয়ে আমি মসজিদে গেলাম। ভয়ও লাগছিল, মুসলমানরা আবার কী মনে করে। কিন্তু আমি ভেতর থেকে তাগিদ অনুভব করছিলাম। ইচ্ছে করছিল, জামাআতে গিয়ে দাঁড়াই। কিন্তু সাহস পেলাম না। এক বড় মিয়া বললেন, বেটা কী দেখছো? তোমার কী দরকার? বললাম, আব্বু! একবার নামায পড়তে চাই! তিনি আমার হাত ধরে বললেন, তাহলে আর অতো ভাবছো কেন? একথা বলেই আমাকে নিয়ে জামাআতে দাঁড় করিয়ে দিলেন। আমি নামায পড়তে লাগলাম। যমীনে যখন মাথা রেখে সিজদাবনত হলাম, মনে হল, আজ আমি মালিকের নিকট এসেছি।


আহমদ আওয়াহ: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
হাসান আবদাল: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আহমদ আওয়াহ: হাসান ভাই! জামাআত থেকে কবে ফিরেছেন? আপনার সময় কোথায় লেগেছে?
হাসান আবদাল: আহমদ ভাই! আজই জামাআত থেকে ফিরেছি। আমাদের জামাআত মথুরা সময় লাগিয়ে ফিরেছে।

আহমদ আওয়াহ: জামাআতে কোনো সমস্যা হয়নি তো? আপনার সাথীরা কেমন ছিল?
হাসান আবদাল: আলহামদুলিল্লাহ! সময় বেশ ভালো কেটেছে আর সাথীরাও আমার অনেক খেদমত করেছে। জামাতে বিভিন্ন এলাকার সাথী ছিল। কয়েকজন সাহারানপুরের। তিনজন মেওয়াতের আর দু‘চারজন বিজনুরের। আলহামদুলিল্লাহ! আমীর সাহেব ছিলেন সাহারানপুর জেলার এক গ্রামের আলেম। অনেক পুরানো সাথী। আলহামদুলিল্লাহ! দুআ কুনূতসহ পূর্ণ নামায শিখে নিয়েছি।

আহমদ আওয়াহ: হাসান ভাই! আমাদের এখানে ফুলাত থেকে একটি মাসিক উর্দূ পত্রিকা বের হয়। আল্লাহ তাআলা বর্তমানকালে যাদের আপন অনুগ্রহে হেদায়াতের পথপ্রদর্শন করেছেন, পত্রিকাটিতে তাদের সাক্ষাৎকার ছাপা হয়। আব্বুর নির্দেশ, ওটার জন্য আপনারও যেন একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করি। যাতে অন্যরাও দিক নির্দেশনা পেয়ে যায় বিশেষত পুরনো বংশীয় মুসলমানদের জন্য শিক্ষনীয় হয়।
হাসান আবদাল: হ্যাঁ, মৌলভী সাহেব! মথুরায় আমি অনেকের নিকটই আরমুগানের নাম শুনেছি। আমরা এক মসজিদে গেলাম। ইমাম সাহেব মুম্বাইয়ের নাদীম সাহেবের সাক্ষাৎকার পড়ে শোনালেন। আমার খুবই ভালো লেগেছিল। খেয়াল করেছিলাম মাওলানা সাহেবকে আমারও একটা ইন্টারভিউ ছাপিয়ে দিতে বলবো। আমার ধারণাও ছিলনা, আমার বলার পূর্বেই স্বয়ং মাওলানা সাহেবেরই মনে একথা উদিত হবে। আল্লাহ তাআলা কত পরম মমতাময় সত্তা, আমার মত দুই মাস বিশদিনের ক্ষুদ্র এক মুসলমানের হৃদয়ে যে কথাই উদিত হয় আমার আল্লাহ তা পূর্ণ করে দেন।
আমীর সাহেব একদিন তালীমের মধ্যে হযরত মূসা আ.-এর কাহিনী শুনিয়েছিলেন। তিনি আগুন সংগ্রহ করতে পাহাড়ে গেলেন আর তাঁকে পয়গম্বর বানিয়ে দেয়া হল। (কাঁদতে কাঁদতে) আমার মালিক (তার প্রতি আমার প্রাণ উৎসর্গিত হোক) আমার মতো নাপাককে শিরক ও মূর্তিপূজার পথে বরং মূর্তি পূজার মঞ্জিলে হেদায়াত দান করেছেন। আর আমার সঙ্গে কেমন তার দয়ার আচরণ যে আমার মনে চাচ্ছিল আরমুগানে ইন্টারভিউ ছাপার কথা বলবো আবার ভেতরে ভেতরে শরমও বোধ করছিলাম যে, দুই মাসের মুসলমানের কথা তো আরমুগানে ছাপারই যোগ্য নয়, কিন্তু তিনি ব্যবস্থা করে দিলেন।

আহমদ আওয়াহ:  আব্বু রাতে আমাকে হুকুম করেছিলেন, হাসানের ইন্টারভিউটি অবশ্যই নিতে হবে। যাহোক, আপনি আপনার পারিবারিক পরিচয় বলুন!
হাসান আবদাল: গাজীয়াবাদ জেলার এক গ্রামের ব্রাহ্মণের ঘরে ৯ই সেপ্টেম্বর ১৯৫৭ সালে আমার জন্ম। আব্বু আমার নাম রেখেছিলেন জয় বর্ধন। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত গ্রামের এক স্কুলে লেখাপড়া করি। তারপর গাজীয়াবাদের এক কলেজ থেকে ইন্টার করি। অতঃপর অন্য আরেক কলেজ থেকে বি.কম করি। বি.কম করার পর এক বৎসর ও.অ.ঝ কম্পিটিশনের প্রস্তুতি নিই। ব্যবস্থাপকগণ প্রথম পরীক্ষাটি দু‘বার নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পাশের কাছাকাছি গিয়েও আমি কৃতকার্য হলাম না। এতে মনটা খুব ভেঙ্গে যায়।

পিতাজী এক স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল ছিলেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল, আমি আরেকবার চেষ্টা করে দেখি। কিন্তু দুনিয়া থেকে মন একেবারেই উঠে গিয়েছিল। দ্বিতীয় বার আমার প্রবল আশা ছিল, আমি পরীক্ষাটিতে অবশ্যই পাশ করবো। কিন্তু একেবারে নিকটে গিয়েও বঞ্চিত হওয়ার কারণে আমার মন-মস্তিষ্ক মারাত্মক আহত হয়। সন্নাসব্রত গ্রহণ করতে বাড়ি থেকে পালিয়ে হরিদুয়ার চলে গেলাম। হরিদুয়ার, ঋষিকেশ, উত্তর কাশী, বানারস প্রভৃতি আশ্রমগুলোতে আমি চার বছর ঘুরতে থাকি। কোথাও শান্তি মিলেনি। দু-চার মাস যাওয়ার পরই প্রত্যেক আশ্রমে এমন কিছু জিনিস নজরে পড়তো যার ফলে মন বিষিয়ে উঠতো।

হরিদুয়ার থেকে একদিন দুই সাথীর সঙ্গে কালিয়ার যাই। সেখানে গিয়ে আমি শান্তি পেলাম। কিন্তু সেখানকার অবস্থাও আমার নিকট বাজারী আশ্রমের মতো মনে হল। সেখানে পুষ্প-অর্ঘ্য দিয়ে আমরা ফিরে আসি। ইতোমধ্যে এক পাগল আমাকে ধরে বসে। বারবার বলতে থাকে, দশটা টাকা দিয়ে যাও, আল্লাহ তোমাকে আবদাল বানাবেন। বললাম, আমি একজন সাধু। হরিদুয়ার থেকে এসেছিলাম। কিন্তু পাগলটি আমাকে কিছুতেই ছাড়ছে না। আমি লোকজনকে জিজ্ঞেস করলাম, পাগলটি এখানে কোথায় থাকে? লোকেরা বলল, এ এখানকার ফকীর। কারও কাছে কিছু চায় না। কেউ দিলে খেয়ে নেয় অন্যথায় জঙ্গলে চলে যায়। জান বাঁচানোর জন্য আমি তাকে দশ টাকা দিয়ে দিলাম। তারপর লোকজনের নিকট জানতে চাইলাম, লোকটা ‘আবদাল’ না কী যেন বলছিল, এর অর্থ কী? উপস্থিত এক ব্যক্তি বলল, আবদাল বলা হয় বড় মাপের ফকীরকে। আমি তাকে যেই না দশ টাকা দিয়েছি অমনি ভিক্ষুকরা পারে তো আমার কাপড় ছিঁড়ে নেয়। সবার দাবী, তাকেও কিছু দিতে হবে। আমার মাথায় তিলক দেয়া ছিল। তবুও ভিক্ষুকদের হাত থেকে জান বাঁচানো মুশকিল হয়ে গেল।

সেখানকার এসব বাহ্যিক অবস্থা দেখে আমার মন্দ ধারণার সৃষ্টি হল। কিন্তু ভেতরে গিয়ে আমি এক আশ্চর্যরকম শান্তি অনুভব করেছিলাম। বিশেষ করে সেখানে একটি মসজিদ আছে। ভেতরে গিয়ে বসলাম, তো টানা দুই ঘণ্টা বসেই রইলাম। সেখান থেকে আসতে মন চাচ্ছিল না। মসজিদে কিছু লোক শুয়ে ছিল। কিছু লোক নামায পড়ছিল। সেখান থেকে হরিদুয়ার ফিরে এলাম। এখানে স্বস্তি পেলাম না। সব ছেড়ে বাড়ি চলে গেলাম। পরিবার আরও পড়াশোনা করার জন্য জোর দিল। সি.এ. কিংবা অন্তত এম.বি.এ-টা করে নিতে বলল। আমার মনে আর এ জাতীয় কাজে উৎসাহ ছিল না। তিন মাস বাড়িতে থাকার পর চাপ বাড়লে আমি আবার হরিদুয়ার চলে আসি। অব্যক্ত এক অস্থিরতা নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে মরি। এটা আমার প্রথম জন্মের কথা।

আহমদ আওয়াহ: প্রথম জন্ম মানে কী?
হাসান আবদাল: আমি আমার নতুন জীবন ২৯শে জুলাই ২০০৮ খৃস্টাব্দ থেকে গণনা করি। এটাকে আমি আমার নতুন জীবন বলে অভিহিত করি। কারণ, শিরকের ওপর জীবন কাটানোকে জীবন বলে না।

আহমদ আওয়াহ: আপনার ইসলাম গ্রহণের ঘটনা বলুন!
হাসান আবদাল: একটু আগেই বলেছি, আমার অবস্থা হল, আল্লাহ তাআলা শিরকের পথে আমার ওপর আপন দয়ার হাত রেখে আমাকে হেদায়াত দান করেছেন। দ্বারে দ্বারে ঘুরে মরছিলাম। মনে হতো, আমাকে কী যেন খুঁজে পেতে হবে। ধর্মের কোনো ব্যাপারে যদি মনে হতো, এতে কুরবানী করলে আমার মালিক সন্তুষ্ট হবেন তাহলে আমি সেটা করার চেষ্টা করতাম। এজন্য আমি ‘কাওড়’ নিয়ে যাওয়ার মান্নত করলাম। আপনার জানা আছে হয়তো, মহাশিব রাত্রিতে প্রচন্ড গরম আর বর্ষার মৌসুমে হরকিপুড়ি হরিদুয়ার থেকে কাওড়ে গঙ্গাজল নিয়ে পায়ে হেঁটে যেখানে কাওড় থেকে পানি ছিটানোর মানত করা হয় সেখানে নিয়ে যেতে হয়। পূর্বমহাদেব শেখপুরের এক মন্দিরে সবচেয়ে বেশী প্রায় দশ লাখ লোক পানি ছিটাতে যায়। মাওলানা সাহেব! এই সফর অনেক তপস্যা আর মুজাহাদার। আমিও তিন বছর ধরে কাওড় নিয়ে যেতাম। কোনমতে পানি ছিটিয়ে এসেই কঠিন অসুখে পড়তাম। গত বছর তো এমন অসুস্থই হয়েছিলাম, মনে হচ্ছিল সেটাই বুঝি শেষ যাত্রা। কিন্ত আমার মালিক আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন। পা ফুলে চামড়া ফেটে রক্ত ঝরতে থাকতো। ফোস্কা গলে ঘা হয়ে যেতো। আমি বারবার আসমানের দিকে মুখ তুলে মালিকের কাছে অভিযোগ করতাম।

ফরিয়াদ জানাতাম, মালিক! ধর্মকে আপনি কত কঠিন করে দিয়েছেন। কখনও বলতাম, জল ছিটানো ছাড়াই তুমি খুশী হতে পারো না? এ বছর কাওড় নিয়ে রওয়ানা হলে আমি আশ্চর্য এক দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলাম। কখনও মনে হতো, সবকিছু ভূয়া। কিন্তু ভেতর থেকে কেউ বলে উঠতো, তুমি সত্য হলে এপথেই মালিক পর্যন্ত পৌঁছা নসীব হবে। মুজাফফর নগর শহরে গিয়ে এক কাওড় ক্যাম্পে বিশ্রাম নিলাম। স্বপ্নে দেখলাম, আমি এক মসজিদে আছি। জামাআত দাঁড়িয়ে গেছে। এক ব্যক্তি এসে আমাকে দরওয়াজার নিকট জুতা পায়ে দাঁড়ানো দেখে বলল, বেটা! নামায হচ্ছে, তুমি নামায পড়ছো না কেন? বললাম, আমি হিন্দু বলে এরা আমাকে পড়তে দিচ্ছে না। তিনি বললেন, এসো, আমি তোমাকে নিয়ে যাচ্ছি। তারপর আমার হাত ধরে জামাআতে দাঁড় করিয়ে দিলেন। আমি দেখাদেখি নামায পড়লাম। চোখ খুলে গেল।

আহমদ সাহেব! বলে বোঝাতে পারব না কতটা ভালো লাগছিল। সামান্য বিশ্রাম করে আবার রওয়ানা হলাম। আমার সঙ্গে হরিদুয়ারের আরও তিন সাথী ছিল। পথিমধ্যে রাস্তায় একটি মসজিদ পড়ল। তখন ঝাঁ ঝাঁ দুপুর। দেখলাম লোকজন মসজিদে নামায পড়ছে। আমি অস্থির হয়ে উঠলাম। সাথীদেরকে বললাম, এই মসজিদও তো সেই মালিকেরই ঘর যার জন্য আমরা যাচ্ছি। কিছুটা ভেঁট এখানেও চড়িয়ে আসি। মসজিদে গিয়ে তেলের পয়সা দিয়ে আসি। সাথীদের কাওড় দিয়ে আমি মসজিদে গেলাম। ভয়ও লাগছিল, মুসলমানরা আবার কী মনে করে। কিন্তু আমি ভেতর থেকে তাগিদ অনুভব করছিলাম। ইচ্ছে করছিল, জামাআতে গিয়ে দাঁড়াই। কিন্তু সাহস পেলাম না। এক বড় মিয়া বললেন, বেটা কী দেখছো? তোমার কী দরকার? বললাম, আব্বু! একবার নামায পড়তে চাই? তিনি আমার হাত ধরে বললেন, তাহলে আর অতো ভাবছো কেন? একথা বলেই আমাকে নিয়ে জামাআতে দাঁড় করিয়ে দিলেন। আমি নামায পড়তে লাগলাম। যমীনে যখন মাথা রেখে সিজদাবনত হলাম, মনে হল, আজ আমি মালিকের নিকট এসেছি। নামায পড়ে ফিরে আসলাম।

সাথীদের স্বপ্নের কথা খুলে বললাম। নামাযে যে স্বাদ পেয়েছি তা-ও বললাম। সাথীদের দুজন তো অনেক ভালোমন্দ বলল। আরেক সাথী দীনেশ বলল, আমাকে কেন নিয়ে গেলে না? আমাকেও দেখাতে নামাযে কেমন স্বাদ অনুভূত হয়। আমাদের সফর চলছিল। আমরা উনত্রিশ তারিখ দুপুরে নদীর পাশ্ববর্তী সড়ক ধরে সামনে অগ্রসর হলাম। মসজিদে যোহরের আযান হল। সুযোগ বুঝে এক ক্যাম্পে কাওড় রেখে দীনেশকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের ভেতরে মসজিদে চলে গেলাম। চার-পাঁচজন লোকের জামাআত হচ্ছিল। আমি জামাআতে শরীক হয়ে গেলাম। দীনেশকে বললাম, যমীনে যখন মাথা রাখবে মনে করবে, মালিকের চরণেই মাথা রাখছো। দেখবে কেমন আনন্দ লাগে। নামায পড়ে আমরা ক্যাম্পে ফিরে গেলাম। দীনেশ বলল, বাস্তবিকই তুমি সত্য বলেছো। আসরের পর আমরা পূর্বা মহাদেব পৌঁছলাম। আমরা ভালোয় ভালোয় মঞ্জিলে পৌঁছতে পারার আনন্দে প্রফুল্ল মনে বসে ছিলাম। রাত বারোটার পর জল চড়াতে হবে। প্রচন্ড ভীড় ছিল। ভীড় থেকে একটু দূরে নদীর কিনারে এক সিঁড়ির নীচে আমরা শুয়ে পড়লাম।

আধ ঘণ্টা পর চোখ খুলে গেল। দেখি কয়েকজন তরুণ নিকটেই বসে আছে। তাদের হাতে কিছু কিতাব ছিল। তারা আমাদের কাছে এসে পরিচয় জিজ্ঞেস করল। আমরা নিজেদের পরিচয় দিলে তারা বলল, আমরা সবাই এক মাতা-পিতার সন্তান। আমরা আপনার আদি রক্ত সম্পর্কীয় ভাই। মালিককে খুশী করার জন্য আপনারা কত কঠিন তপস্যা করে এখানে পৌঁছেছেন। আমাদের একজন ধর্মগুরু আছেন। মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কী আর এই সম্পর্কের সবচেয়ে বড় দাবী কী একথা বোঝানোর জন্য এবং এই দাবী কিভাবে পৌঁছানো যায় তার জন্য তিনি বরোটে একটি ক্যাম্প স্থাপন করেছিলেন। মসজিদে তার শেষ প্রোগ্রামের ভাষণে আমাদের সবাইকে অত্যন্ত ভর্ৎসনা করে বলেছেন, এই কাওড় যাত্রীরা আমাদের রক্ত সম্পর্কীয় ভাই। কত দুঃসহ ও কষ্টকর সফর করে তারা আসে। সত্যের পথ জানা না থাকার কারণে প্রতিটি কদমে তারা নরকের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এদিকে আমরা নিজেদের আনন্দ-ফূর্তি আর আয় উপার্জনের ধান্ধায় আছি। এটা কত বড় জুলুমের কথা, সকল অমুসলিমকেই আমরা নিজেদের শত্রু ঠাওরে বসে আছি। এই লক্ষ লক্ষ লোক কেবল মালিককে সন্তুষ্ট করার উদেশ্যেই এই ক্লান্তিকর সফর করে। আমি কয়েকটি কাওড় ক্যাম্পে দেখেছি, পা ফুলে গেলে, ফোস্কা পড়ে, ফেটে ঘা হয়ে গেছে। লোকজন তাদের ব্যান্ডেজ বেঁধে দিচ্ছে। আমরা দয়াল নবীর কেমন অনুসারী যে, আমরা এ সকল ভাইকে তাদের আমানত পৌঁছে দেই না। কিছুটা চেষ্টা তো করা উচিত। আমাদের দায়িত্ব হল, আপন মনে করে তাদের সত্য পৌঁছে দেয়া। কেউ না করুক, আমাদের অন্তত একাজ করতে হবে। ছয় সাতদিনের ক্যাম্পে একজন লোকও কাওড় ভাইদের সঙ্গে দেখা করেনি। কাল হাশরের ময়দানে এরা আমাদের চেপে ধরবে। আমরা এর থেকে নি®কৃতি পাবোনা।

তাঁর দরদভরা কথায় আমাদের মনও ভরে উঠল। আমরা ইচ্ছা করলাম, কিছু ভাইয়ের নিকটে হলেও আমরা সত্যকে পৌঁছে দেবো। আজ সকাল থেকে পাঁচিশজন ভাইয়ের সঙ্গে আমরা ভয়ে ভয়ে সাক্ষাত করেছি। আপনাদের ঘুমন্ত দেখে মনে করলাম, আপনারা আলাদা আছেন, নিশ্চিন্তে আপনাদের সঙ্গে কথা বলা যাবে। আপনাদের খারাপ না লাগলে আমরা আপনাদের এবং আপনাদের মালিক সম্পর্কে কিছু কথা বলতে চাই। দীনেশ বলল, অবশ্যই বলুন। লোকটি আমাদের এক মালিক ও তার পূজার ব্যাপারে কথা বলতে লাগল। তাকে ছাড়া অন্য কারও পূজা করলে যে নরকে জ্বলতে হবে সে ব্যাপারে ভয় দেখাল এবং কুরআন পড়ে পড়ে শোনাল। সে যখন আরবীতে কুরআন পড়ছিল আমাদের সবারই খুব ভাল লাগছিল। আধা ঘণ্টা পর্যন্ত তারা পালাক্রমে কথা বলে যাচ্ছিল।

আমরা যখন তাদের সব কথায় একমত প্রকাশ করলাম তারা আমাদের কালিমা পড়তে বলল। আমরা চার জনই কালিমা পড়ে নিলাম। তারা আমাদের প্রত্যেককে একটা করে ‘আপকী আমানত আপকী সেবা মেঁ’ নামের বই হাদিয়া দিল। আর বলল, যে ধর্মগুরু বড়োটে ক্যাম্প স্থাপন করে আমাদের ভর্ৎসনা করেছিলেন এবং যার কারণে আমরা আপনাদের নিকট এসেছি এটা তারই লেখা কিতাব। আমরা আপনাদের এগুলো উপহার দিচ্ছি। মনোযোগ দিয়ে তিনবার করে পড়বেন। এতে আপনাদের সত্য কী, ইসলাম গ্রহণ করা এবং কালিমা পড়া কেন জরুরী তা জানা হয়ে যাবে। তারপর কিতাবে যা করতে বলা হয়েছে তা করবেন। কিতাবটি নিয়ে আমি সঙ্গে সঙ্গে পড়া শুরু করে দিলাম। আমার অন্যান্য সঙ্গীরাও পড়তে লাগল। আমরা সেই প্রেম-ভালোবাসা মোড়ানো কিতাবে একেবারে হারিয়ে গেলাম। কিতাব পড়ে মনে হল, এটা একান্ত আমার জন্যই লেখা হয়েছে। আমি যে সত্য অনুসন্ধান করে বেড়াচ্ছি, দ্বারে দ্বারে ঘুরে ফিরছি তপস্যার পর তপস্যা করে যাচ্ছি তা আমি পেয়ে গেছি।

সূর্য অস্ত যাচ্ছিল। তারা ‘আমরা যাচ্ছি, বলে রওয়ানা হলেন। আমি বললাম, আপনারা তো যাচ্ছেন কিন্তু আমরা কী করব? বললেন, আপনারা জল ছিটিয়ে বাড়ি ফিরে চিন্তা-ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিবেন। বললাম, আপনি এ কেমন কথা বলছেন? এই কিতাবে শিরককে সবচেয়ে বড় পাপ বলা হয়েছে। কাজেই এখানে জল ছিটানো সবচেয়ে বড় পাপ। তারা বলল, আপনারা যদি এই কাওড় এখানে রেখে যান তাহলে আবার অন্য কিছু ঘটে না বসে। আমি বললাম, হলে হবে, তাতে কী? আমি কাওড় নদীতে ফেলে দিয়ে বললাম, এখন কোনো নামাযের সময় আছে? বললেন, একটু পরেই নামাযের সময় হবে। বললাম, আমাকে নামায পড়তে নিয়ে চলুন। আমার সাথী দীনেশও কাওড় ফেলে দিল। আমরা দুজন তাদের সঙ্গী হয়ে বড়োট পৌঁছলাম। আমার অপর দুই সঙ্গী কাওড় নিয়ে পানি ছিটাতে গেল। কিন্তু পরবর্তীতে তারাও পানি ছিটানো মুলতবী রাখল।

আহমদ আওয়াহ: তারপর কী হল?
হাসান আবদাল: বড়োট পৌঁছে তারা আমাকে আপনার পিতা মাওলানা কালীম সাহেবের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দিলেন। তিনি ফোনেই আমাকে অনেক মুবারকবাদ দিয়ে বললেন, আপনি সাচ্চা অনুসন্ধানী ছিলেন এজন্য মালিক আপনাকে পথ দেখিয়েছেন। আমি তার কাছে ইসলাম সম্পর্কে জানার বিশেষ করে নামায শেখার আবেদন করলাম। তিনি আমাকে জামাআতে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। সাথে একথাও বলে দিলেন, প্রথমে কোর্টে গিয়ে কোনো উকীলের সঙ্গে সাক্ষাত করে আইনী কাগজপত্র করে দিল্লী চলে আসুন, আমি আপনাকে ভালো জামাআতে পাঠিয়ে দেবো।
পরদিন আমি সাহারানপুর গিয়ে হলফনামা দিয়ে সার্টিফিকেট ইত্যাদি বানিয়ে নিলাম। তারপর একত্রিশ তারিখ সন্ধ্যায় আমি আর দীনেশ দিল্লী পৌঁছলাম। হযরতের সঙ্গে সাক্ষাত করে পুরো ঘটনা শোনালাম। তিনি আমার নাম রাখলেন হাসান আর দীনেশের নাম রাখলেন হুসাইন। আমি আরয করলাম, এক ফকীর আমাকে কালিয়ারে বলেছিল, তোমাকে আবদাল বানানো হবে এজন্য আমার নাম আবদাল রেখে দিন, যাতে অন্তত নামের আবদাল হতে পারি। অসম্ভব কী যে, আল্লাহ তাআলা আমাকে সত্যিকার আবদাল বানিয়ে দিবেন। মাওলানা সাহেব বললেন, আল্লাহ তাআলার অত্যন্ত প্রিয় ও বুযুর্গ এক বান্দার নাম ছিল হাসান আবদাল। কাজেই আমি আপনার নাম হাসান আবদাল রেখে দিলাম। যেন আপনি ভালো মানের আবদাল হতে পারেন। যে আল্লাহ আপনাকে পূর্ব মহাদেবে শিরকের ঘাঁটিতে হেদায়াত দান করছেন এবং তার রহমতের কোলে তুলে নিয়েছেন সেই আল্লাহর জন্য আবদাল বানানো খুবই সহজ।

মাওলানা সাহেব বললেন, আমি আশাবাদী! আপনি অবশ্যই আবদাল হবেন ইনশাআল্লাহ। বরং আবদালের চেয়েও বড় কিছু আল্লাহ তায়ালা আপনাকে বানাবেন। মাওলানা সাহেবকে আমি যখন আমার চার বছরের তপস্যার কথা বললাম যে, আমি দিনের পর দিন অভুক্ত কাটিয়েছি। তিন চিল্লা এক পায়ে দাঁড়িয়ে থেকে যজ্ঞ করেছি। ছয়মাস বলতে গেলে না ঘুমিয়ে কাটিয়েছি। যে আশ্রমে যা বলা হতো অম্লান বদনে মেনে নিয়ে তা পালন করেছি। মাওলানা সাহেব কাঁদতে লাগলেন। বললেন, আসলে আপনার এই দুরাবস্থার জন্য আমরা দাঈ’। কারণ, আপনাকে আমরা বলিনি। তবুও আল্লাহর শোকর, তিনি তো আপনার পালনকর্তা, এজন্য নিজেই আপনাকে পথ বাতলে দিয়েছেন।

মাওলানা সাহেব আমাকে একজন মাওলানার সঙ্গে নেযামুদ্দীন মারকাযে পাঠিয়ে দিলেন। আমাদের জামাআত পহেলা আগস্টে মথুরা পৌঁছে। তিন চিল্লার জামাআত ছিল। আগ্রা মথুরার চিল্লায় আমার মন ভরেনি। কেবল কায়দা পড়া শেষ হয়েছে। উর্দূ পড়াও শুরু করে দিয়েছি। আমীর সাহেব আমাকে দ্বিতীয় চিল্লা লাগানোর পরামর্শ দিলেন। জামাআতে আমি বিভিন্ন আশ্চর্যজনক অবস্থার সম্মুখীন হয়েছি। এক দুইবার কীভাবে যেন সাথীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। তখন কিছু আশ্চর্যজনক লোকের সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়। তারা আমাকে কেমন সব বিস্ময়কর জিনিস দেখায়। আর যখনই আমার জামাআতের কথা খেয়াল হতো, তখন হঠাৎ যেন আমার পায়ের নীচে যমীন সরে যেতে থাকতো, ঠিক যেমন রেলে অথবা গাড়িতে বসে অনুভূত হয়।
তারপর আমি আমার জামাআতের সঙ্গে গিয়ে শরীক হতাম। এই ঘটনা আমার সঙ্গে ৮/৯ বার হয়েছে। স্বপ্নে দেখতাম, আমি যেন ডানাওয়ালা পাখি। এখানে উড়ে যেতাম ওখানে উড়ে যেতাম। শুয়ে শুয়েই আমি উড়তে থাকতাম। একদিন আমি আমীর সাহেবকে জিজ্ঞেস করলাম, আবদাল কেমন হন? তিনি বিস্তারিত আলোচনা করলেন, তারা আল্লাহ তাআলার বিশিষ্ট বান্দা। তাদের পায়ের নীচে যমীন সংর্কীণ হয়ে যায়। ফিল্ড অফিসারদের যেমন গাড়ি দেয়া হয় অনুরূপ আবদালদেরও বিভিন্ন রকম কামালাত ও কারামত দান করা হয়। আমার ধ্যান লেগে গেল, ইয়া আল্লাহ! আমাকে আবদাল বানিয়ে দিন। গোটা জামাআতই এই দুআ করছিল। তারপর থেকেই আমার সঙ্গে জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া ইত্যাদি ঘটনা ঘটতে লাগল।

আহমদ আওয়াহ: আপনি আব্বুকে এই অবস্থার কথা বলেছিলেন?
হাসান আবদাল:  দুই ঘণ্টা পর্যন্ত হযরত কারগুযারী শুনেছেন। হযরত আমাকে কঠিনভাবে নিষেধ করে দিয়েছেন, আমি যেন কাউকে আমার কাওড় নিয়ে যাওয়ার কথা এবং নতুন মুসলমান হওয়ার কথা না বলি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একদিন আমি আমীর সাহেবকে বলে দিলাম। আজ আমি মাওলানা সাহেবকে বললাম, আপনি দুআ করুন, আল্লাহ তাআলা যেন আমাকে আবদাল বানিয়ে দেন। মাওলানা সাহেব বললেন, ডাল হয়ে কী হবে, গোশত হোন। আবদাল তো আপনি আছেনই মানুষের জন্য গোশত হয়ে থাকাই উত্তম।

আমি যখন জেদ ধরলাম, মাওলানা সাহেব বললেন, ব্যস, আল্লাহ তাআলা ঈমানের ওপর খাতেমা করেন এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরীকার ওপর উঠিয়ে দেন এর জন্য দুআ করা চাই। আবদাল হওয়া, কাশফ ও কারামতের আকাক্সক্ষা করা এটাও এক ধরনের গায়রুল্লাহ। দেবদেবী হওয়ার আকাক্সক্ষা করা যেমন শিরক তেমনি এটাও বিশেষ লোকদের জন্য এক প্রকার শিরকেরই মতো। কেবল আল্লাহ তাআলাকে সন্তুষ্ট করার ফিকির করাই উচিত। এজন্য দাওয়াতের কাজকে মাকসাদ বানাতে হবে। আবদাল আর গাওস হওয়ার ব্যাপারে কথা হল, মানুষ যদি আল্লাহ তাআলাকে সন্তুষ্ট করার প্রশ্নে খাঁটি হয়, আল্লাহু তাআলা এমনিই তাকে গাওস-আবদাল বানিয়ে দেন। আপনার অবস্থা বলছে, আল্লাহ তাআলা আপনাকে অবশ্যই শুধু আবদালই নয় তার চেয়েও বড় বানিয়ে দেবেন।

আহমদ আওয়াহ: এখন আপনার কী ইচ্ছা?
হাসান আবদাল: হযরত আমাকে কিছু দিনের জন্য এক আল্লাহওয়ালার ওখানে গিয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

আহমদ আওয়াহ: আপনার আর দুই সাথী যারা কাওড়ে আপনার সঙ্গে ছিল তাদের কী অবস্থা?
হাসান আবদাল:  তারা বাড়িতে গিয়ে ১৫ দিন পর মাওলানা সাহেবের সঙ্গে সাক্ষাত করেছিল। পরবর্তীতে তারাও চিল্লা লাগিয়েছে।

আহমদ আওয়াহ: আপনার সঙ্গী দীনেশ কুমারের সময় কেমন কাটছে?
হাসান আবদাল: আলহামদুলিল্লাহ! তারও সময় ভালো কেটেছে। সে খুব সহজ সরল ভালো মানুষ। তার প্রকৃতিতে আগে থেকেই কোনো মন্দ ছিল না। এখন কালিমা পড়ে আরও ভালো মুমিন মুসলমান হয়েছে। জামাআতের সবার চেয়ে দীনেশের সময় সবচেয়ে ভালো কেটেছে। তার খিদমতে সকল সাথীই খুব খুশী হয়েছে।

আহমদ আওয়াহ: আপনি সাথীদের খিদমত করেননি?
হাসান আবদাল: আমার সঙ্গে দু’-একটি আশ্চর্য ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এজন্য সাথীরা আমাকে কী-সব মনে করতে শুরু করে। সবাই আমার খিদমত শুরু করে দেয়। আমাকে তারা কী কী সব বলতো। দুআ করতে আবদার জানাতো। আমার ভয়ও হতো, ভেতরের খারাবী প্রকাশ পেলে সব ভড়ং খুলে যাবে। আমি আল্লাহর নিকট দুআও করতাম।

আহমদ আওয়াহ: আব্বু আপনাকে দাওয়াতের কাজ করতে বলেননি?
হাসান আবদাল: আজ বসে প্ল্যান করেছেন। হযরত আমাকে বলেছেন, প্রথমে নিজেকে গড়ার ফিকির করুন। আমাদের এই দেশ ভালোবাসা আর আধ্যাত্মিকতার দেশ। ভেতরকে কলুষমুক্ত করে সৎগুণাবলী দিয়ে সাজিয়ে তোলে রুহানিয়াতের উন্নতি করা হলে এদের মধ্যে বিশেষত ধার্মিকদের মধ্যে কাজ করা বেশী সহজ হবে। তাই কিছুদিনের জন্য আমাকে এক জায়গায় পাঠাচ্ছেন। সেখানে যিকির ইত্যাদি বাতানো হবে। দুআ করুন, আল্লাহ তাআলা আমার ভেতরের দোষগুলো দূর করে দেন এবং আমার ব্যাপারে হযরতের যে ইচ্ছা তা পূর্ণ করে দেন।

আহমদ আওয়াহ: ইনশাআল্লাহ! আল্লাহু তাআলা অবশ্যই পূর্ণ করবেন। অনেক অনেক ধন্যবাদ হাসান ভাই। একবার হুসাইন ভাইয়ের সঙ্গেও সাক্ষাত করিয়ে দিবেন। তখন তার সঙ্গেও কথা হবে।
হাসান আবদাল: আপনি যখনই বলবেন, ইনশাআল্লাহ তাকে নিয়ে আসবো।

আহমদ আওয়াহ: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। অনেক অনেক শোকরিয়া।
হাসান আবদাল: আহমদ ভাই! আল্লাহ তাআলার লাখ লাখ শোকর, আল্লাহু তাআলা আমার দিলের তামান্না পূর্ণ করে দিয়েছেন। আপনাকেও অনেক অনেক শোকরিয়া। ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।


সাক্ষাৎকার গ্রহণে
মাও. আহমদ আওয়াহ নদভী
মাসিক আরমুগান, অক্টোবর ২০০৮