ভীতি প্রদর্শনের দিন থেকে সতর্ক হয়ে ঈদ উদযাপন করুনল

ভীতি প্রদর্শনের দিন থেকে সতর্ক হয়ে ঈদ উদযাপন করুনল
খেলাফতের কাজ থেকে ফারেগ হয়ে আমিরুল মুমিনিন একটু দেরী করেই বাসায় ফিরলেন, বাচ্চারা তাঁকে দেখে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। আমিরুল মুমিনিন হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহ: কাঁদার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন উনি জানতে পারলেন আগামী পরশুদিন ঈদ। এখন পযর্ন্ত বাচ্চাদের জন্য ঈদের কাপড়ের কোনো ব্যবস্থা হয় নি। পরিচিত সকলেই ঈদের নুতন কাপড় বানিয়ে ফেলেছে। বাচ্চাদের জায়েজ একটি প্রয়োজনের জন্য কান্না কাটির কারণে আমিরুল মুমিনিনের অন্তুরে প্রভাব পড়েছে। তিনি বাইতুল মালের কেরানীর কাছে একটি চিরকুট লিখে খাদেমের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিলেন। যার মধ্যে একমাসের আগ্রীম বেতনের নির্দেশ ছিল। বাইতুল মালের কেরানীও ছিল, হযরত উমর ইবনুল আব্দুল আজিজ রহ: এর ন্যায় ইনসাফের খেলাফতের কেরানী। তিনি উত্তর লিখে পাঠালেন আমিরুল মুমিনিন। আপনার নির্দেশ আমি মাথা পেতে মেনে নিতে বাধ্য। কিন্তু আমার জানার বিষয় হল, এর তো কোনো জামিন নেই, যে, আপনি একমাস বেচে থাকবেন। আপনাকে এই বেতন খেলাফতের বিনিময়ে দেয়া হয়। আল্লাহ না করুন একমাস যদি আপনি জীবিত না থাকেন তাহলে অগ্রীম নেয়া বেতন কোন ফান্ডে লিখব? হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহ: চিরকুর্টের উত্তর পড়ে ঠান্ডা স¦াষ ছাড়লেন। তার গাল অশ্রুতে ভিজে গেল, কাঁদেতে কাদঁতে দু:খ বেদনার সাথে বাচ্চাদের কাছে টেনে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলেন। আর বললেন, প্রিয় ছেলে,পরিস্কার ধোয়া পুরোনো কাপড় দিয়ে ঈদ পালন করে নিও। তোমার পিতার অগ্রীম বেতন নিয়ে জিজ্ঞাসা বাদের পর জাহান্নামে জ্বলার চেয়ে এটা অনেক উত্তম। আমার এই অবস্থা দেখে তোমরা আফসোস করবে। তোমরা অস্থির হওয়ো না। কিছুক্ষণ বাচ্চাদের সান্তানা দিয়ে, আমিরুল মুমিনিন নামাজের মুসল্লায় দাড়িয়ে গেলেন। সেজদায় পড়ে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ! আপনার শুকরিয়া, বিপদ আসার পূর্বেই এই দূর্বল বান্দাকে আমাকে সর্তক করে দিয়েছেন। আপনার অনুগ্রহ আপনি আমাকে এমন হুশিয়ার কর্মচারি দান করেছেন। পরকালের হিসাবী তিনি একজন মুসলমান। আখেরাতের উপর ঈমানের দাবিদার। আমরাও মুসলমান। ঈদের আনন্দ আর অনুষ্ঠানের কারণে সর্ব প্রকারের হালাল হারামের পার্থক্যকে উঠিয়ে রেখেছি। ছেলে মেয়ে ও পরিবারকে খুশি করার জন্য এবং তাদের আব্দার পুরনের জন্য নিজেকে হিসাব নিকাশের দিন জবাব দিহিতার বিপদে ঠেলে দিচ্ছি।
ঈদ কি? ঈদ হলো এক মাস রোজা দারের আনুগত্যের সুযোগ হওয়ার বিনিময়ে তাক্বওয়া ও পরহেজগারী অর্জন হয়েছে। সেই আনন্দ ও শুকরিয়া আদায়ের নাম হলো ঈদ। প্রকাশ থাকে ঈদ পালনের আধিকার তো তারাই রাখে, যাদের আল্লাহর ভয় ও পরহেজগারী অর্জন হয়েছে। হারাম খুরদের হারাম মাল দ্বারা ঈদ পালন কারী এবং পরকালে জবাব দিহি থেকে নির্বাক হয়ে, বাচ্চা ও পরিবারের নির্দেশ পালন কারীদের জন্য এটা ঈদ নয়। ভীতি প্রদর্শন, অভিশাপ। এই জন্যই হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজালী র. একটি রেওয়াতে এই বিষয়টি বর্ণনা করেছেন, যার দ্বারা এই কথাই প্রমানীত হয় যে, হাশরের দিন, মানুষের সামনে সর্ব প্রথম যেই লোকগুলো বিচার দায়ের করবে, তারা হবে ছেলে সন্তান ও স্ত্রী পুত্ররা। তারা আল্লাহর দরবারে আবেদন করবে হে আল্লাহ! আপনি আমাদের ভরণ পোষণ আমাদের পিতা বা স্বামীর দায়ীত্বে রেখেছিলেন। তিনি আমাদেরকে হালালের পরিবর্তে হারাম খাইয়েছে পড়িয়েছে। যার কারণে আমাদের অন্তর কালো হয়ে গেছে। আমরা পাপে লিপ্ত হয়ে গিয়েছিলাম। হে আল্লাহ! আমাদের পাপের কারণে বাস্তবে আমাদের পিতা বা স্বামী এই জন্য আমাদের সামনে তাদেরকে শাস্তি দিয়ে আমাদেরকে সান্ত করুন। হায়! এই মামলা পেশ হওয়ার পূর্বেই যাদি আমরা সর্তক হয়ে যেতে পারতাম।

মূল হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী
অনুবাদ. যুবায়ের আহমদ