মাওলানা উসমান কাসেমী (সুনীল কুমার)-এর সাক্ষাৎকার

আরমুগানের পাঠকদেরকে আমি বলবো আরমুগান হলো একটি আন্দোলন। এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি মুসলমানকে দীনি দাওয়াতের জন্য প্রস্তুত করে তোলা। এই উম্মতের প্রতিটি মুসলমান যেন বাস্তব ক্ষেত্রে অবতরণ করে, আমাদের মতো কুফর এবং শিরকে নিমজ্জিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করে। কেবল মাত্র সমর্থন ও বাহবা দিয়ে সকলেই আরমুগানের এই মিশনের সম্মান রক্ষা করবেন এবং যতটুকু সম্ভব প্রত্যেকেই দাওয়াতি কাজে অংশগ্রহণ করবেন। আমার আরেকটি অনুরোধ হলো, আমার পরিবার এবং খান্দানের জন্য দুআ করবেন। আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের হেদায়েত নসীব করেন আর আমাকে তাঁর নবীর কিছু দরদ হলেও দুরুদ নসীব করেন।


আহমদ আওয়াহ: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
উসমান কাসেমী: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আহমদ আওয়াহ: আরমুগানের পাঠকদের পক্ষ থেকে হযরত মাওলানার সাথে কিছু কথা বলতে চাচ্ছি।
উসমান কাসেমী: অবশ্যই বলুন! আমার জন্য এটা সৌভাগ্যের বিষয়।

আহমদ আওয়াহ: প্রথমেই আপনার সংক্ষিপ্ত পরিচয় জানতে চাইবো।
উসমান কাসেমী: আমার নাম মুহাম্মদ উসমান। হরিয়ানা জেলার কাছে পালওয়ালা নামক গ্রামের এক অমুসলিম রাজপুত পরিবারে আমার জন্ম। আমার পূর্বের নাম ছিল সুনীল কুমার। আমার বাবা ছিলেন গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক। ১৯৯২ সালের ফেব্র“য়ারিতে আল্লাহ তায়ালা আমাকে ইসলামের ঋণদান করেছেন। এখন আমার বয়স প্রায় পঁচিশ বছর। হারসুলি মাদরাসায় ১৯৯২ সালেই পড়াশোনা শুরু করি। প্রথমে নাজেরা তারপর কুরআন কারীম হেফয করি। হেফয এবং দাওরায়ে হাদীস দারুল উলুম দেওবন্দেই কমপ্লিট করেছি। আলহামদুলিল্লাহ!

আহমদ আওয়াহ: কিভাবে মুসলমান হলেন বলবেন কি?
উসমান কাসেমী: আমার জীবন আল্লাহর রহমত ও করুণার এক চমৎকার নিদর্শন। আমার মতো এক অপবিত্রকে হেদায়েত দিবেন বলে আল্লাহ তায়ালা যে বিস্ময়কর ঘটনা ও অবস্থার সৃষ্টি করেছেন তা এখনও ভেবে মুগ্ধ হই। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে আমাকে অষ্টম শ্রেণীর পর লেখাপড়া ছেড়ে দিতে হয়। লেখাপড়া ছেড়ে জীবিকার সন্ধান করতে থাকি। আমাদের ক্লাসেই মেওয়াতের একজন ছেলে পড়তো। নাম আব্দুল হামিদ।
তার সাথে ছিল আমার গভীর বন্ধুত্ব। তার বাড়ি ছিল হাথিয়ানের কাছে। পারিবারিক প্রতিকূলতার কারণে আবদুল হামিদকেও পড়াশোনা ছাড়তে হয়। আবদুল হামিদ পালওয়ালে কার মেকিংয়ের কাজ শিখতে শুরু করে। কিছদিন পর আমিও তার সাথে গিয়ে ওয়ার্কশপে ভর্তি হই। আবদুল হামিদের বাবা ছিলেন একজন মসজিদের ইমাম। জমিয়তে শাহ ওয়ালীউল্লাহ- এর পক্ষ থেকে হাথিয়ানের কাছেই একটি মসজিদে তিনি ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেখানকার পশ্চাৎপদ মুসলমানগণ ১৯৪৭ এবং কেউ কেউ তারও আগে মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল। এই অঞ্চলেই হযরত থানভী রহ. তাঁর কিছু ভক্তকে দীনি দাওয়াতের উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছিলেন। যারা সেখানে দাওয়াতের কাজ করেছেন।

হযরত থানভী রহ. তাদের অনেক দুআ দিয়েছিলেন এবং অনেক সুসংবাদও শুনিয়েছিলেন। গ্রামটিতে কোনো মসজিদ ছিল না। ছিল একটি মাজার। এই মাজারটির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা সেখানকার সকলেই জানতো। কেউ কখনও মাজারে কোথাও কোনো ধরনের ময়লা এমন কি ছেঁড়া পাতাও পড়ে থাকতে দেখেনি। সর্বদাই পরিচ্ছন্ন ঝকঝকে থাকতো মাজারটি। অথচ মাজারটির উপরে ছিল কবুতরের নিবাস। কবুতরগুলোও মাজারে কিংবা তার আশপাশে বিষ্ঠা ছাড়তো না। এই মাজারের এক পাশেই আবদুল হামিদের বাবা মিয়াজী সাহেব থাকতেন। এলাকার লোকজন তাকে খানাপিনা পর্যন্ত দিতো না। তিনি সেখানে আযান দিতেন, নামায পড়তেন। মাঝে মধ্যে এলাকার কিছু শিশু এখানে চলে আসতা। তিনি তাদের কালেমা পড়াতেন। সেখানকার ধর্মত্যাগী মুসলমানগণ মহিষের গাড়িতে করে বোঝা বহনের কাজ করতো। কাছেই ছিলো মাটির একটি বড় ঢিপি। মানুষ এখান থেকে মাটি কেটে অন্যত্রে নিয়ে যেতো। একদিন সেখানে যারা মাটি কাটার কাজ করতো তার মাটি কাটতে কাটতে হঠাৎ লক্ষ করলো শূন্য-গর্ভের মতো একটি জায়গা। সাদা ধবেধবে কাপড় দেখা যাচ্ছে। তারা আরেকটু যখন মাটি সরালো, তখন দেখতে পেলোÑ একটি লাশ। ভয় পেয়ে গেলো। সঙ্গে সঙ্গে মিয়াজীকে ডেকে আনলো। তারা ভেবেছিল, কোনো জিন-ভূত হবে। মিয়াজী এসে দেখলেন সাদা দাড়ি মন্ডিত একজন বুযুর্গ মানুষের লাশ। দেখে মনে হচ্ছে যেন আজই মারা গেছেন। তিনি উপস্থিত লোকদের বললেন, এটা কোনো ঈমানদার আল্লাহওয়ালা মানুষের লাশ। আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের মর্যাদা এমনই হয়। মৃত্যুর পর তাদেরকে নববধূর মতো ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়। মাটিও তাদের হেফাজত করে।

ঘটনাটি এলাকার লোকদের মধ্যে সাড়া ফেলে দেয়। এলাকার লোকজন খুব প্রভাবিত হয়। এই ঘটনার পর ধর্মত্যাগী হয়ে যাওয়া অনেকেই তাওবা করে পুনরায় মুসলমান হয়ে যায়। তারা তাদের সন্তানদের মিয়াজীর কাছে পড়তে পাঠাতে শুরু করে। মাজারের কাছে মসজিদ বানাবার জন্য জায়গা দান করে। আল্লাহর মেহেরবানীতে সেখানে মসজিদ গড়ে ওঠে। একদিন আবদুল হামিদ তার বাবার সাথে দেখা করার জন্য সেখানে যায়। বন্ধু বলে আমিও সাথে যাই। যাওয়ার পর আবদুল হামিদের বাবা আমাদের জন্যে খানাপিনার ব্যবস্থা করেন। খাওয়ার জন্যে সেখানে একটি মাত্র প্লেট ছিল। খাওয়া শুরু করার আগে মিয়াজী বললেনÑ একটু অপেক্ষা কর। আমি গ্রাম থেকে আরেকটা প্লেট আনার ব্যবস্থা করছি। আমরা উভয়ে বললাম, আলাদা প্লেটের দরকার নেই। আমরা দু’বন্ধু এক প্লেটেই খাই। একথা বলে আমরা খেতে শুরু করি।

মিয়াজী সাহেব তখন আবদুল হামিদকে বললেনÑ বেটা! তোমাদের পরস্পরে যখন এতই বন্ধুত্ব তখন তুমি তোমার বন্ধুকে মুসলমান করে নিচ্ছো না কেন? এটা কেমন কথা, এক বন্ধু মুসলমান আরেক বন্ধু হিন্দু! খানাপিনার পর আবদুল হামিদ এবং তার বাবা আমাকে মুসলমান হওয়ার জন্য অনুনয় বিনয় করতে লাগলেন। কথায় কথায় কয়েকবার তো কেঁদে পর্যন্ত ফেললেন। আমি বললামÑ আপনি আমাকে ইসলামের কোনো মন্ত্র শিখিয়ে দিন। আমি মন্ত্রটি রীতিমতো পড়বো। যদি কোনো কারিশমা দেখি, তাহলে মুসলমান হবো। তাবলীগ জামাতের লোকেরা মিয়াজীকে একটি দুআ শিখিয়েছিল, তিনি আমাকে সেই দুআটি শিখিয়ে দিলেন। দুআটি হলো- ‘‘আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান্নার’’হ আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দাও। তারপর বললেন তুমি সব সময় এটা পাঠ করবে। আমি বললামÑ এই মন্ত্রের অর্থও বলে দিন। তিনি বললেনÑ এর অর্থ তো আমার জানা নেই। হাথিয়ানে মুফতি রশীদ সাহেব আছেন, তাঁর কাছে জেনে আসবো।

পরদিন তিনি হাথিয়ান গেলেন। সন্ধ্যায় আমিও হাথিয়ান গেলাম। গিয়ে মিয়াজীকে মন্ত্রটির অর্থ জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন- এর অর্থ হলো, হে আমার মালিক! আমাকে নরকের আগুন থেকে রক্ষা করো। আমি বললাম, নরকের আগুন থেকে রক্ষা করার কী অর্থ? তিনি বললেন, ঈমান ছাড়া যদি কোনো ব্যক্তি মারা যায়, তাকে অনন্তকাল নরকের আগুনে জ্বলতে হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে মারা যাবে, সে বেহেশতে যাবে। বললাম- সত্যিই বিষয়টা এমন? তিনি বললেন- একশ ভাগ সত্য।
কথাটি শোনার পর আমার খুব দুঃখ হয়। আমি আবদুল হামিদকে বললামÑ তুমি আমার কেমন বন্ধু আমি যদি এই অবস্থায় মারা যেতাম তাহলে তো নরকে যেতাম। তুমি তো কখনও আমাকে একথা বলনি? মিয়াজী বললেন, বেটা! তুমি সত্যিই বলেছো! আবদুল হামিদের কর্তব্য ছিল, তোমাকে ঈমানের দাওয়াত দেয়া। সে যাই হোক, এখন তুমি কালেমা পড়ে নাও। আমি প্রস্তুত হয়ে গেলাম। পরের দিন তিনি আমাকে হাথিয়ান মাদরাসায় নিয়ে গেলেন। মুফতি সাহেব আমাকে কালেমা পড়ালেন। আমার নাম রাখলেন মুহাম্মদ উসমান। আলহামদুলিল্লাহ!

আহমদ আওয়াহ: মুসলমান হওয়ার পর সাবইকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, না বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন করেছিলেন?
উসমান কাসেমী: আসলে শোনার ঘটনা তার পরেরটিই। তৃতীয় দিন মুফতী সাহেব আমাকে আইনি কাগজপত্র করার জন্য এক ব্যক্তির সাথে হরিয়ানার ফরিদাবাদ পাঠিয়ে দেন। ফরিদাবাদ জেলা জজের সামনে আমি হলফনামা পেশ করি। জেলা জজ ছিলেন কট্টর হিন্দু। তিনি আমাকে নাবালক বলে স্থানীয় থানা ইনচার্জকে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য পাঠিয়ে দেন। হাথিয়ান থানা ইনচার্জ ছিলেন তখন উমেশ শর্মা। তিনি কোনো জরুরি তদন্তকাজে তখন বাইরে যাচ্ছিলেন। ইনসপেক্টর বলবীর সিংকে আমার কেসটি দিয়ে যান। বলবীর সিং ছিল কট্টর আর জালেম চরিত্রের মানুষ। তিনি আমাকে প্রথমে কতক্ষণ ধমকালেন। হাতে মারলেন। যখন আমি পরিষ্কার জানিয়ে দিলামÑ ঈমান ছাড়বো নাÑ তখন বেধড়ক পিটুনি। মারের চোটে বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়তে লাগলো। আমি তখন অবিরাম জঁপে যাচ্ছিলামÑ আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান্নার। তার মারের কারণে মাঝে মধ্যে আমার জঁপের আওয়াজ বড় হয়ে উঠতো। বলবীর আমাকে পেটাচ্ছিল আর গালাগাল করছিল। একবার সে আমাকে ধমকের সুরে জিজ্ঞেস করলো কী পড়ছিস? আমি দাওয়াতের নিয়তে তাকে মন্ত্রটি বললাম এবং তার অর্থও বললাম। তার রাগ চরমে পৌঁছে গেল। বলবীর দুজন সিপাহীকে বললোÑ কামারের দোকানে গিয়ে লোহার রড গরম করে নিয়ে এসো। তারপর গরম লোহা দিয়ে একে ছ্যাঁকা দাও। দেখবো, কে তাকে আগুন থেকে রক্ষা করে! যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার নিজ ধর্মে ফিরে না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত শাস্তি চলতে থাকবে। ছাড়বে না।
সিপাহী দুজন কামারের দোকানে গেলো। চারটি লোহার রড় গরম করে নিয়ে এলো। রডগুলো আগুনের মতো লাল হয়ে গিয়েছিল। আমাকে নিয়ে তারা থানার ভেতরে ঢুকলো। আল্লাহর মেহেরবানীতে আমি অবিরাম আমার মন্ত্র পড়ে যাচ্ছি। তারা আমার শরীর থেকে শার্ট খুলে ফেললো। তারপর আমার শরীরে জ্বলন্ত রডের ছ্যাঁকা দিতে লাগলো।
আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ আমার শরীরে লোহার রড কোনো চিহ্নও ফেলতে পারলো না। সিপাহীরা তো তাজ্জব! বিষয়টি তার ইন্সপেক্টর বলবীরকে জানালো। ততক্ষণে রডের লাল আভা চলে গেছে। বলবীর যখন দেখলো আমার শরীরে কোথাও পোড়ার চিহ্ন নেই তখন সে সিপাহীদের গালি দিতে দিতে বললো তোমরা রড গরমই করনি। তারপর সে দেখার জন্য যখন রড ধরতে যায় তখন মারাত্মকভাবে তার হাত পুড়ে যায়। যন্ত্রণায় সে কঁকিয়ে ওঠে। ‘মা’রে, বাবারে’ বলে চেঁচাতে থাকে। দুজন সিপাহীকে বলে একে সামনের দিকে দৌড়াতে বল। তারপর পিছন থেকে গুলি করে শেষ করে দাও। এ মানুষকে ধর্মভ্রষ্ট করে ছাড়বে। আর আমি ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি। এই বলে ইন্সপেক্টর চলে যায়।

সিপাহীরা আমাকে দৌঁড় দেয়ার জন্য চাপাচাপি করতে থাকে। কিন্তু আমি পরিষ্কার বলে দেইÑ আমি চোর নই যে, দৌড়ে পালাবো। গুলি যদি করতে হয় তাহলে আমার বুকে করো। যখন সিপাহীদের সাথে আমার তর্ক হচ্ছে ঠিক তখন থানা ইনচার্জ জনাব উমেশ শর্মা এসে উপস্থিত। তিনি পুরো কাহিনী শুনলেন। পুলিশদের ধমকালেন। বললেন, এর বিশ্বাস এত্ত পাকা, তোমরা যদি গুলি করো তার গায়ে গুলি লাগবে না। শর্মাজি আমাকে খানা খাইয়ে চার্জশিট তৈরি করে রাহতক জেলে চালান করে দিলেন। বললেনÑ বেটা! তোমার জন্য এটাই ভালো হবে। তোমাকে যদি ছেড়ে দেই তাহলে মানুষ তোমাকে মেরে ফেলবে। আল্লাহ তায়ালার মেহেরবানীতে আমি জানে বেঁচে যাই। আল্লাহ তায়ালার রহমত ও করুণার প্রতি আমার বিশ্বাস আগের চাইতে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

আহমদ আওয়াহ: শুনেছি, আপনার সাথে একজন কোতয়াল মুসলমান হয়েছিল। ঘটনাটি বলবেন?
উসমান কাসেমী: সে কথাই বলতে যাচ্ছিলাম। সেই কোতয়ালই উমেশ শর্মাজি। আমার ইসলাম গ্রহণের কাহিনী, আগুন আমার শরীরকে না পোড়ানো এসব শুনলেন। তদন্ত করলেন। আসলেই গরম রড আমাকে ছেড়ে দিয়েছে। আমি বললাম, আপনি আমার একজন কল্যাণকামী। আপনাকে যদি সত্য না বলি, তাহলে কাকে বলবো, আমার কথা তার বিশ্বাস হলো। তিনি প্রভাবিতও হলেন। আমার জামিনের ব্যবস্থা করলেন। ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করে জেল থেকে ছাড়িয়ে নিলেন। তারপর বললেনÑ যে মাওলানা তোমাকে মুসলমান বানিয়েছে আমাকে তার কাছে নিয়ে চলো। আমি তাকে হাথিয়ান এ মুফতী রশীদ আহমদ সাহেবের কাছে নিয়ে গেলাম। ইসলাম সম্পর্কে তিনি কিছু প্রশ্ন করলেন। তারপর মুফতি সাহেবের হাতেই ইসলাম গ্রহণ করলেন। মুফতি সাহেব তাকে ইসলাম প্রকাশ না করার জন্য পরামর্শ দিলেন। তার কিছু দিন পর বাবরি মসজিদ শাহাদাতের ঘটনা ঘটলো। মেওয়াত অঞ্চলে নানা রকমের দাঙ্গা হলো। হাথিয়ানের মুসলমানগণ বরাবরই দাঙ্গার শিকার হতো। দেখা গেছে, কোতয়াল শর্মাজির উসিলায় এবার এ এলাকায় মুসলমানদের উপর কোনোরূপ জুলুম হয়নি। তিনি তখন মুসলমানদের খুব সাহায্য করেছেন।

আহমদ আওয়াহ: আজকাল কী করছেন?
উসমান কাসেমী: আমি আজকাল জমিয়তে শাহ ওয়ালীউল্লাহর তত্ত্বাবধানে আলোয়ার জেলায় দাওয়াতি কাজ করছি। সেখানকার একটি প্রতিষ্ঠান আমার তত্ত্বাবধানে চলছে। হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী সাহেবের মাধ্যমে আমি হারসুলি মাদরাসায় ভর্তি হয়েছিলাম। তার তত্ত্ববধানেই আমি চলছি।

আহমদ আওয়াহ: আরমুগানের পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন!
উসমান কাসেমী: আরমুগানের পাঠকদেরকে আমি বলবো আরমুগান হলো একটি আন্দোলন। এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি মুসলমানকে দীনি দাওয়াতের জন্য প্রস্তুত করে তোলা। এই উম্মতের প্রতিটি মুসলমান যেনো বাস্তব ক্ষেত্রে অবতরণ করে, আমাদের মতো কুফর এবং শিরকে নিমজ্জিতদেরকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। কেবল মাত্র সমর্থন ও বাহবা দিয়ে সকলেই আরমুগানের এই মিশনের সম্মান রক্ষা করবেন এবং যতটুকু সম্ভব প্রত্যেকেই দাওয়াতি কাজে অংশগ্রহণ করবেন। আমার আরেকটি অনুরোধ হলো, আমার পরিবার এবং খান্দানের জন্য দুআ করবেন। আল্লাহ তায়ালা যেন তাদেরকে হেদায়েত নসীব করেন আর আমাকে তাঁর নবীর কিছু দরদ হলেও দুরুদ নসীব করেন।

আহমদ আওয়াহ: অনেক অনেক শোকরিয়া। ফী আমানিল্লাহ!
উসমান কাসেমী: আপনাকেও অনেক অনেক শোকরিয়া। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।


সাক্ষাৎকার গ্রহণে
মাও. আহমদ আওয়াহ নদভী
মাসিক আরমুগান, জুলাই- ২০০৩