মুহাম্মদ উমর সাহেব (আদেশ)-এর সাক্ষাৎকার

আমি শুধু এতটুকু বলতে চাই যে, আল্লাহ তাআলা যাদের ইসলামের মত মহা দৌলত দান করেছেন তারা যেন এর কদর করে আর হাদীস শরীফের বাণী প্রত্যেক কাঁচা-পাকা ঘরে ইসলাম প্রবেশ করবে এর জন্য দুআ ও চেষ্টা করবে, যেন আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক ঘরে ইসলাম পৌছার ক্ষেত্রে আমাকে আপনাকেও শামিল করেন এবং আমার জন্য দুআ করবেন যেন আল্লাহ তাআলা এই ভাল কাজের জন্য কবুল করেন।


আহমদ আওয়াহ: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
মুহাম্মদ উমর: ওয়া আলাইকুমু সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আহমদ আওয়াহ: উমর ভাই! গত বছর আমি আপনার থেকে যে ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম তা আপনার অমতের কারণে প্রকাশ করা হয়নি। এখন সেই ইন্টারভিউটি আমার কাছে ভালভাবে সংগ্রহে নেই। আমার ইচ্ছা, আপনার ইন্টারভিউ ছাপাবো। এখন আপনি যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আবার কিছু কথা বলতে চাই।
মুহাম্মদ উমর: আহমদ ভাই! অবশ্যই বলেন, আমি তো ইন্টারভিউ প্রকাশিত হওয়ার অপেক্ষা করছিলাম। সে সময় ছাপানোর মত অবস্থা ছিল না। আলহামদুলিল্লাহ এখন অবস্থা অনুকূল। এখন প্রকাশ করতে কোনো সমস্যা নেই।

আহমদ আওয়াহ: প্রথমে আপনার পরিচয় দিন।
মুহাম্মদ উমর: আমার পূর্ব নাম ছিল আদেশ। সাহারানপুর জেলার সাহজী নামক গ্রামের বাসিন্দা আমি। সাহজী জনতা হাইস্কুল থেকে পাশ করে এখন মাদরাসায়ে কাসেমুল উলুম তেউড়ায় পড়ালেখা করছি।

আহমদ আওয়াহ: কিভাবে আপনি ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হলেন আর কী কারণে ইসলাম গ্রহণ করলেন?
মুহাম্মদ উমর: শৈশব থেকেই মুসলমানদের অনেক জিনিস আমার ভালো লাগতো। বিশেষ করে ইসলামের পর্দার বিধান, কারণ। এই বিধান অন্য কোনো ধর্মের নজরে পড়েনি। দ্বিতীয় আরেকটি কারণ হল একটি স্বপ্ন-যার দরুন আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। ছোট কাল থেকেই আমি আমার নাম আদেশ লেখা পছন্দ করতাম। হয়তো এ কারণেই হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্ন দেখলাম। নবীজি আমাকে বললেন, কালিমা পড়ে নাও এবং এখান থেকে চলে যাও। তারপর একটি সুন্দর কুয়া দৃষ্টিগোচর হল। বলা হল, তুমি সেখানে যাও। আশ্চর্য! কুয়ার ভিতর থেকেও সেই আওয়াজ শুনা গেল। এরপর আমি এই কথা আমার মুসলমান বন্ধুদের বললে তারা বলল, তুমি যা ইচ্ছা করো তবে অবশ্যই মুসলমান হয়ে যাও। এর কিছুদিন পরেই আল্লাহ তাআলা আমাকে ইসলামের দৌলত দান করেন।

আহমদ আওয়াহ: আপনার ইসলাম গ্রহণের পূর্ণ ঘটনা শুনান!
মুহাম্মদ উমর: আহমাদ ভাই শৈশব থেকেই আমার মূর্তিপূজার প্রতি ঘৃণা ছিল। আমি আমার আম্মাকেও বাঁধা দিতাম! বাসায় কেউ আমার সামনে পূজা করতে পারত না। সবাই আমার অগোচরে পূজা করত। একবার আমি বাসার সমস্ত ভগবানের পোস্টার ছিঁড়ে পকেটে রেখে দিলাম আর আমার ভাইকে বললাম, সেগুলো কুয়ায় ফেলে দিতে। আমার আম্মা তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সুযোগে আমি ছবিগুলোতে আগুন লাগিয়ে দিলাম। আগুন লাগার পর যখন সেগুলো কোনো বাঁধা দিল না। তখন আমার পরিপূর্ণ বিশ্বাস হয়ে গেল যে, এগুলো সব বেকার। আমার মা ঘুম থেকে উঠে যখন জানতে পারলেন, আমরা সব ভগবানগুলো জ্বালিয়ে দিয়েছি তখন আমাকে ডেকে জিজ্ঞসাবাদ করলেন- আমি কেন এমন করলাম? আমি তখন আম্মাকে বুঝালাম, যে নিজের হেফাজত করতে পারে না সে অন্যের হেফাজত কিভাবে করবে?। এ কথা বলার পর আম্মা আমাকে অনেক মারধর করেন। আর বলতে থাকেন তুই মুসলমান হয়ে গেছিস। আমি বললাম, আমি মুসলমান হইনি।
আমার এখনো বুঝে আসে নাই যে, কোনটা সঠিক! হিন্দুরা বলে মুসলমান ভুল আর মুসলমানরা বলে হিন্দু ধর্ম মিথ্যা। তাই যতক্ষণ আমার কাছে স্পষ্ট না হবে, কোনটা সঠিক ততক্ষণ আমি হিন্দুও না মুসলমান না। এর কিছুদিন পর আমি সেই স্বপ্ন দেখি। আমি পূর্ব থেকেই ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট ছিলাম। এই স্বপ্ন দেখার পর আমার আগ্রহ আরো বেড়ে গেল। এদিকে আমি পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে সাহারানপুর কাজ শেখার জন্য গেলাম। সেখানে সৈয়দ সাহেবের দোকানে কাজ শিখতাম। তার সাথে ইসলাম সম্বন্ধেও কিছু কথাবার্তা হতো। যার কারণে সে বুঝতে পারল, আমি ইসলাম ধর্ম পছন্দ করি এবং ইসলাম গ্রহণ করতে চাই। একদিন সৈয়দ সাহেব আমার ইসলামে প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কথাও শুনেছিল। সে আমার সাথে কথা বলে- আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিই যে, আমি মুসলমান হতে চাই। পরের দিনই সে আমাকে দেওবন্দে মাওলানা আসলাম সাহেবের কাছে নিয়ে যান। মাওলানা আমাকে কালিমা পড়ান আর আমার নাম রাখেন উমর।

আহমদ আওয়াহ: এরপর কী হল?
মুহাম্মদ উমর: কালিমা পড়ার পর মাওলানা আসলাম সাহেব আমাকে ফুলাত পাঠিয়ে দেন নামায কালাম শিখার জন্য। এখানে অনেক তাড়াতাড়ি নামায এবং অনেক দুআ শিখে ফেলি। এর প্রায় সোয়া একমাস পর বাড়ীতে যাই। পরিবারের লোকেরা জিজ্ঞাসা করল কোথায় কাজ করি। বললাম দিল্লিতে কাজ শিখেছি। দু-চার দিন পর বাড়ী থেকে যখন চলে আসছিলাম তখন পরিবারের লোকজন দিল্লির কোনো ফোন নাম্বার বা ঠিকানা দিতে বলল, আমি বললাম, আমার ব্যাগ দিল্লিতে রেখে এসেছি, ফোন নাম্বার ঠিকানা সব ব্যাগের মধ্যেই আছে। আমি দিল্লি পৌঁছে ফোন নাম্বার এবং ঠিকানা দিয়ে দিব।
বাড়ী থেকে আসার সময় আমাকে খরচ করার জন্য ৫০০ রুপি দেয়। কয়েকদিন কোনো খোঁজ-খবর না পেয়ে তারা আমাকে খোঁজা শুরু করে। আমার কোনো হদিস না পেয়ে আমার ইসলামের প্রতি ঝোঁক থাকা এবং আমাদের গ্রামের বাসিন্দা জনাব জহুর সাহেবের কাছে আমার আসা যাওয়ার কারণে তার উপর অপহরণের অপবাদ লাগিয়ে দিল এবং তার প্রতি গ্রামবাসী চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। তিনি অপারগ হয়ে বলে দিলেন, তোমাদের সন্তান আট (৮) দিনের মধ্যে পেয়ে যাবে। একথা শুনামাত্রই তাদের দৃঢ় বিশ্বাস হয়ে গেল, আমি তার নিকটেই আছি। তিনি অত্যন্ত পেরেশান হয়ে আমার কাছে আসলেন এবং আমাকে নিয়ে কাযী রশীদ মাসুদ এমপির কাছে গেলেন। এমপি সাহেব আমাদের সান্তনা দিয়ে বলেন, চিন্তা করবেন না সব কিছুঠিক হয়ে যাবে। আমি কাযী সাহেবের নিকট তিন-চার দিন ছিলাম।
এদিকে জহুর সাহেবকে জেলে যেতে হয়। পরবর্তীতে তার জামিন হয়ে গেলেও আবার মামালার শুনানি শুরু হয়। তাকে বাঁচানোর জন্য আমার সাক্ষ্য দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য এমপি সাহেব পুলিশের লোকদের সাথে আমাকে পাঠিয়ে দিলেন। আর তাদের আমার সাথে কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি না করার নির্দেশ দিলেন। সমস্ত কাজ আমার ইচ্ছামত করতে বললেন। পুলিশ আমাকে দেওবন্দ নিয়ে যাওয়ার সময় নানুতায় আমার আত্মীয়-স্বজনের সাক্ষাত হয়ে গেল। তারা আমাকে বাঁধা দিয়ে অনেক বুঝালো। কিন্তু আমি তাদের অত্যন্ত শক্ত ভাষায় জবাব দিয়ে দেই। এসও (ঝঙ) সাহেব যখন দেখল, আমি তাদের কথা মানছিনা তখন তিনি বললেন, তুমি তোমার মতো কাজ করো ঠিক আছে কিন্তু মা-বাবার কথাও রক্ষা করো। আমি এসও সাহেবের কথায় আমার জন্য কিনে আনা প্যান্টশার্ট নেই এবং কোলড্রিংস পান করি। তবে খানা খাইনি। আত্মীয়-স্বজন বলল, কাপড়টাও পরিবর্তন করে নাও। আমি বললাম, এখন না সকালে করব। এদিকে তারা সারা গ্রামে একথা ছড়িয়ে দিল, নাউযুবিল্লাহ আমি মুরতাদ হয়ে গেছি এবং দাড়ি কেটে ফেলেছি এ সংবাদের দ্বারা মুসলমানদের উদ্দীপনা কমে গেল এবং এই কথা ভেবে চিন্তিত হল যে, আমি আবার জহুর সাহেবের বিরুদ্ধে বলি কিনা।
আহমদ ভাই! দেওবন্দ পৌঁছার পর অফিসার আমাকে পাঁচ ঘণ্টা হয়রানি করে। এটা বলে সেটা বলে এভাবে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ চলে। অবশেষে আমাকে চার-পাঁচ জন অফিসার মিলে জিজ্ঞাসা করল তুমি এখন কী করতে চাও?

উত্তরে বললাম আমি স্বেচ্ছায় মুসলমান হয়েছি কেউ আমার উপর চাপ প্রয়োগ করে নাই এখন আমি ইসলাম সম্বন্ধে পড়ালেখা করতে চাই আপনারা আমাকে কোনো মাদরাসায় পাঠিয়ে দিন। তারা আমার কথা মেনে নিল এবং আমাকে নিয়ে মাদরাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল। রাস্তায় পুলিশ আমাদের পথরোধ করে। দেখতে দেখতেই সেখানে ৩০০ মানুষ জমা হয়ে গেল, তারা আমাকে গাড়ী থেকে নামাতে চেষ্টা করল। আমি গাড়ীর পাইপ শক্তভাবে ধরে রাখি। তারা আমাকে গাড়ী থেকে টানছিল ঠিক এ অবস্থাই আল্লাহ তাআলা সাহায্য করলেন। আরেকটি পুলিশের গাড়ী এসে সেখানে থামলো।
গাড়ী থামার সাথে সাথে তারা সবাই পলায়ন করল। তারপর এই পুলিশের লোকেরা আমাকে মাদরাসা কাসেমুল উলুম তেউড়ায় দিয়ে আসে। পরের দিন বজরং দলের লোকজন গ্রামের সমস্ত মানুষকে একত্রিত করে জহুর সাহেব এবং সমস্ত মুসলমানদের উপর চড়াও হয়। জহুর সাহেবের ক্ষেতের ক্ষতি সাধন করে। সামান্য সময়ের মধ্যে সাহজী গ্রাম পুলিশ বাহিনীর লোকেরা ঘিরে ফেলে। তারা অনেক কঠোরতা করে এবং লাঠিচার্জ করে। গ্রামের মানুষ বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ল। এরপর সাহজীতে কারফিউ জারী করা হয় এবং কয়েকদিন বলবৎ থাকে। আহমদ ভাই আপনি যখন আমার ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন তখন পরিবেশ অনুকুল ছিল না অনেক কষ্টে কিছুটা ঠান্ডা হয়েছিল তাই উত্তপ্ত হয়ে যাওয়ার আশংকা ছিল। আলহামদুলিল্লাহ এখন কোনো সমস্যা নাই।

আহমদ আওয়াহ: ইসলাম গ্রহণের পর আর কী কী সমস্যায় পড়েছেন?
মুহাম্মদ উমর: বাড়ীতে যে সমস্ত সুবিধা পেতাম তা বাড়ী থেকে আসার পর বন্ধ হয়ে গেছে। এই জাতীয় আরো কিছু ছোট ছোট সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি।

আহমদ আওয়াহ: উমর ভাই! আপনার কথা বাস্তব। বাড়ী থেকে বের হয়ে গেলে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে এত বড় নেয়ামত লাভ করেছেন যে, দুনিয়ার সমস্ত সুবিধা একত্রিত করলেও তার সামনে মূল্যহীন হয়ে যাবে। প্রকৃত মুসলমান তো আপনিই আপনার কাছে সত্য আসার পর তা আপনি গ্রহণ করে নিয়েছেন। আমরা ইসলাম মীরাস সূত্রে পেয়েছি। আল্লাহ তাআলার লাখ লাখ শোকর যে, আমাদের মুসলমানের ঘরে জন্ম দিয়েছেন এবং ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত রেখেছেন। উমর ভাই! আপনার কি জহুর সাহেবের এবং আত্মীয়-স্বজনের সাথে সাক্ষাত হয়?
মুহাম্মদ উমর: না, আহমদ ভাই! এরপর একবারও আত্মীয়-স্বজনের সাথে সাক্ষাৎ হয় নাই। তবে জহুর সাহেবের সাথে নিয়মিত সাক্ষাৎ হয়। তিনি আমাকে ছেলে বানিয়েছেন, আমাকে দেখার জন্য মাদরাসায় আসেন, সন্তানের মতই ভালোবাসেন তার ছেলেরা আমার সাথে ভাই-বোনোর মতো থাকে। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। ছুটির সময় সেখানেই যাই।

 

আহমদ আওয়াহ: ইসলাম গ্রহণ করার পর আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
মুহাম্মদ উমর: আত্মিক প্রশান্তি বলতে যা বুঝায় তা পরিপূর্ণ ইসলামের মধ্যে পেয়েছি।

 

আহমদ আওয়াহ: আলেম হওয়ার পর কী করবেন?
মুহাম্মদ উমর: আলেম হয়ে দাওয়াতের কাজ করব। আমি তো এজন্যই আলেম হচ্ছি যে, ইসলামকে সঠিকভাবে জেনে অমুসলিম ভাইদের ইসলামের দিকে আহ্ববান করব। আল্লাহ তাআলার বাণী তাদের নিকট পৌছাব আপনার কাছে এবং আরমুগানের সকল পাঠকের নিকট দুআ চাই আল্লাহ তাআলা যেন আমাকে এই কাজের জন্য কবুলকরেন।

আহমদ আওয়াহ: আমীন। আরমুগানের পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।
মুহাম্মদ উমর: আমি শুধু এতটুকু বলতে চাই যে, আল্লাহ তাআলা যাদেরকে ইসলামের মতো মহা দৌলত দান করেছেন তারা যেন এর কদর করে আর হাদীস শরীফের বাণী-প্রত্যেক কাঁচা-পাকা ঘরে ইসলাম প্রবেশ করবে এর জন্য দুআ ও চেষ্টা করবে, যেন আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক ঘরে ইসলাম পৌছার ক্ষেত্রে আমাকে আপনাকেও শামিল করেন এবং আমার জন্য দুআ করবেন যেন আল্লাহ তাআলা এই ভাল কাজের জন্য কবুল করেন।
দ্বিতীয় জরুরী কথা, মানুষের মাঝে যদি ঈমানের দৃঢ়তা থাকে তাহলে যত সমস্যাই আসুক সেই সমস্যা নিজে নিজেই সমাধান হয়ে যাবে। আল্লাহর উপর ভরসাকারীদের তিনি সাহায্য করেন। দাওয়াতের জন্য মেহনতকারীদের সাথে আল্লাহ তাআলা সাহায্যের ওয়াদা করেছেন। লোকেরা জহুর সাহেবের এত বিরোধিতা করল অথচ তার একটা চুলও ছিঁড়তে পারলনা। তার ক্ষেতের ক্ষতিসাধন করেছে এর কারণে পরবর্তী বছর দ্বিগুণ ফসল হয়েছে। তিনি বলেন, আমি তো নামে মুসলমান ছিলাম, তোমাকে ছেলে বানানোর কারণে আল্লাহ এবং আল্লাহর সাহায্যের উপর পরিপূর্ণ ঈমান লাভ হয়েছে এখন আমরা যে কোনো সমস্যায় আল্লাহ তাআলাকেই মুক্তিদাতা মনে করি। আগে এমনটি ছিল না।

আহমদ আওয়াহ: শুনলাম আপনি নাকি মুসলমানি (খতনা) করেছেন?
মুহাম্মদ উমর: হ্যাঁ, আহমাদ ভাই! একটা কারণ তো এই যে, আমি ভাবছিলাম আমার থেকে একটা সুন্নত ছুটে যাচ্ছে আর দ্বিতীয় কারণ হল, যদি কখনো অচেনা এলাকায় মারা যাই তাহলে তো আমাকে হিন্দু মনে করে আগুনে পোড়াবে। এদুটির চেয়ে বড় কারণ হল, প্রস্রাব করার পর পেশাবের ফোটা আটকে আছে মনে হত, আর খালি মনে হত যে, আমি পবিত্র হইনি। আর পবিত্র না হলে তো নামাজ রোজা সব বেকার। এজন্য মাওলানা সাহেবকে অনেক পিড়াপিড়ী করি। দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার ছুটিতে ফুলাত চলে আসি। মাওলানা সাহেব আমাকে সরধনা পাঠিয়ে খৎনা করিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ কোনো কষ্ট হয়নি এবং খুব শান্তিতে আছি।

আহমদ আওয়াহ: শুকরিয়া জাযাকুমুল্লাহ! আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ও বারাকাতুহু।
মুহাম্মদ উমর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।


সাক্ষাৎকার গ্রহণে
মাও. আহমদ আওয়াহ নদভী
মাসিক আরমুগান, মে -২০০৭