মুহাম্মদ ত্বহা (জনি)-এর সাক্ষাৎকার

আমার অস্বস্তি বেড়ে চলল। সেই বিকৃত শিক্ষার ত্র“টি-বিচ্যুতির অনুভূতি আমার মধ্যে প্রকট আকার ধারণ করল। উপরন্তু এই ধর্মের শিক্ষায় মানব-কল্পনায় যেভাবে ঘোড়া দৌঁড়েছে এবং বিকৃতি সাধন করেছে তাতে সংশয় আর অবিশ্বাসের পরিস্থিতি সৃষ্টি হল।

যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

তাদের জন্য দুর্ভোগ, যারা স্বহস্তে লিখিত কিতাবকে আল্লাহর বলে প্রচার করে। এভাবে তারা দুনিয়া উপার্জন করে। দুর্ভোগ তাদের লিখিত বস্তুর ওপর, দুর্ভোগ তাদের উপার্জনের উপর। -সূরা বাকারা : ৭৯

আমি আমার ধর্ম এবং তার ঠিকাদারদের কার্যকালাপের প্রতি মনোযোগ দিলাম। প্রতিটি দিককে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলাম। অনুমিত হল, এই সম্প্রদায়ের যেসব পবিত্র ব্যক্তিত্ব, পাদ্রী ও ধর্মীয় অন্যান্য পথপ্রদর্শক রয়েছেন যাদের খুব নিকট থেকে দেখার এবং যাদের সঙ্গে জীবন-যাপনের আমি সুযোগ পেয়েছি তাদের এবং তাদের ভালবাসা ও একনিষ্ঠতার এবং অন্যান্য কর্মকান্ডের মধ্যে যথেষ্ট বৈপরীত্য রয়েছে। এরা শরীরে বৈরাগ্যের পোশাক ধারণ করেছে কিন্তু বাস্তব জীবনের পথে উল্টো দিকে ধাবমান।

সৌদি আরবে বিভিন্ন পদ্ধতি জাতি-গোষ্ঠির লোকদের মধ্যে দাওয়াতী ও দ্বীনী জাগরণ সৃষ্টিকারী সংস্থায় শ্যামল রঙা এক ব্যক্তি আমার মনোযোগ আকর্ষণ করেন। সব সময় তিনি তন্ময় হয়ে অধ্যয়নে নিমগ্ন থাকতেন। কোনো কিতাব হাতে পেলেই গভীর অভিনিবেশে তার ওপর ঝুঁকে পড়তেন। তাঁর মুখমন্ডলে কখনও ক্লান্তি কিংবা বিরক্তির ছাপ লক্ষ করিনি। কুরআনে কারীমের তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন ছিল তার সবচেয়ে আগ্রহের বিষয়। একদিন আমি তার কাছাকাছি হই। তিনি আনারবী ভঙ্গিমায় আমাকে থেকে থেকে সূরা ফাতিহা পাঠ করে শোনান। বলেন, নামায পড়ার জন্য ছোট ছোট আরও কয়েকটি সূরাও মুখস্ত করে নিয়েছি। বুঝতে পারি, তিনি একজন নও মুসলিম। তখন ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে আমি তাকে কিছু প্রশ্ন করি তিনি হাসিমুখে প্রশান্তিতে সেগুলোর উত্তর দেন। এক্ষণে পাঠকদের সামনে প্রশ্নোত্তর পর্বটি তুলে ধরা হচ্ছে।


মাসিক আরমুগানঃ আপনার পরিচয় জানতে পেলে কৃতজ্ঞ হতাম।
মুহাম্মদ ত্বহাঃ এখন আমার নাম ত্ব-হা। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে আমাকে জনি নামে ডাকা হতো।

মাসিক আরমুগানঃ আপনি কোন্ দেশের বাসিন্দা। বর্তমানে আপনার বয়স কত?
মুহাম্মদ ত্বহাঃ আমি আফ্রিকার দেশ উগান্ডার জাসেম শহরের অধিবাসী। বর্তমানে আমার বয়স ত্রিশ বছর।

মাসিক আরমুগানঃ আগে আপনি কোনো ধর্মাবলম্বী ছিলেন?
মুহাম্মদ ত্বহাঃ ইসলাম গ্রহণের পূর্বে আমি ক্যাথলিক খৃস্টান ছিলাম। শুধু অনুসারীই নয়; আমি ছিলাম সেই ধর্মের একজন আহ্বায়ক, প্রচারক সক্রিয় সদস্য। এজন্য তারা আমাকে চার্চের লাইব্রেরী ইনচার্জ নিয়োগ করেছিল।

মাসিক আরমুগানঃ কীভাবে আপন ধর্মের প্রতি অনীহা আর ইসলামের প্রতি অনুরাগী হলেন?
মুহাম্মদ ত্বহাঃ আমার মধ্যে ধর্মপালন ও দ্বীনদারী অন্যান্য খৃস্টানদের চেয়ে ভিন্নতর কিছু ছিল না। অর্থাৎ, এই ধর্মের অনুসারীরা সাধারণত যেমন অন্ধ অনুকরণ করে থাকে আমিও তেমন মুখ চলতি কথাগুলো বিশ্বাস করতাম ও মেনে চলতাম। কিন্তু চার্চের অধিকাংশ ব্যাপারেই আমি নিঃসংশয় ছিলাম না। তবে সংশয় সত্ত্বেও আমি তা হুবহু মেনে নিতাম এবং পালন করতাম। কারণ, বহুবছর ধরে চার্চ আমাকে এগুলোতে অভ্যস্ত করে তুলেছিল।

মাসিক আরমুগানঃ আপনি কখনও এর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন?
মুহাম্মদ ত্বহাঃ আমার অস্বস্তি বেড়ে চলল। সেই বিকৃত শিক্ষার ত্রুটি বিচ্যুতির অনুভূতি আমার মধ্যে প্রকট আকার ধারণ করল। উপরন্তু এই ধর্মের শিক্ষায় মানব কল্পনা যেভাবে ঘোড়া দৌঁড়েছে এবং বিকৃতি সাধন করেছে তাতে সংশয় আর অবিশ্বাসের পরিস্থিতি সৃষ্টি হল।

যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

তাদের জন্য দুর্ভোগ, যারা স্বহস্তে লিখিত কিতাবকে আল্লাহর বলে প্রচার করে। এভাবে তারা দুনিয়া উপার্জন করে। দুর্ভোগ তাদের লিখিত বস্তুর ওপর, দুর্ভোগ তাদের উপাজনের ওপর। -সূরা বাকারা : ৭৯

আমি আমার ধর্ম এবং তার ঠিকাদারদের কার্যকালাপের প্রতি মনোযোগ দিলাম। প্রতিটি দিককে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলাম। অনুমিত হল, এই সম্প্রদায়ের যেসব পবিত্র ব্যক্তিত্ব, পাদ্রী ও ধর্মীয় অন্যান্য পথপ্রদর্শক রয়েছেন যাদেরকে খুব নিকট থেকে দেখার এবং যাদের সঙ্গে জীবন-যাপনের আমি সুযোগ পেয়েছি তাদের এবং তাদের ভালবাসা ও একনিষ্ঠতার এবং অন্যান্য কর্মকান্ডের মধ্যে যথেষ্ট বৈপরীত্য রয়েছে। এরা শরীরে বৈরাগ্যের পোশাক ধারণ করেছে কিন্তু বাস্তব জীবনের পথে উল্টোদিকে ধাবমান।

মাসিক আরমুগানঃ আপনি কুরআনে কিছু পেয়েছেন?
মুহাম্মদ ত্বহাঃ হ্যাঁ, কুরআনে একটি সূক্ষ্ম কথা পেয়েছি। এর গুরুত্ব আমি পরে অনুধাবন করেছি। আমি সূরা মারয়ামের ইংরেজী অনুবাদ পড়েছি। বুঝতে পেরেছি, ইসলাম এবং এই বিকৃত ধর্মের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। খৃষ্টধর্মে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহর পুত্র সাব্যস্ত করা হয়েছে। অথচ এটা এমন একটা অপবাদ যে, এতে সপ্ত আকাশ ফেটে পড়ার উপক্রম হয়।

 

আল্লাহ তাআলার বাণী-

তারা বলে, রাহমান পুত্র গ্রহণ করেছেন। নিঃসন্দেহে তোমরা এক জঘন্য ও কঠিন কথা বলছো। এই কথার কারণে আসমান ফেটে পড়ার, জমীন বিদীর্ণ হওয়ার এবং পাহাড় ছিন্ন ভিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়।তারা রাহমানের জন্য সন্তান সাব্যস্ত করেছে। অথচ সন্তান গ্রহণ করা রহমানের শান নয়। আসমান-যমীনে যা কিছু আছে সবাই তার নিকট গোলাম হয়ে আসবে। -সূরা মারয়াম : ৮৮-৯৩

মাসিক আরমুগানঃ আপনি আপনার পূর্বের ধর্ম আর ইসলামের মধ্যে এ ছাড়া আর কী পার্থক্য পেয়েছেন?
মুহাম্মদ ত্বহাঃ আরেকটি বিষয়ও আমি পূর্বের ধর্মে পেয়েছি। এর গুরুত্ব আমি আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর অনুধাবন করেছি। আমি আমার সম্প্রদায়কে দেখেছি তারা পবিত্রতা বলতে কোনো কিছু জানে না। এমনকি স্ত্রী সহবাসের পরও তারা পরিচ্ছন্ন হওয়াকে জরুরী মনে করে না। একবার দেখি, মুসলমানদের এক শায়খ এক দোকানে দাঁড়িয়ে আছেন। খৃস্টানরা তার সঙ্গে পবিত্রতা নিয়ে বিদ্রুপ করেছে। তারা শায়খকে একটি কুকুর দেখিয়ে বলল, কুকুরটির স্বপ্নদোষ হলে তার ওপরও কি গোসল ফরয হবে? শায়খ তৎক্ষণাৎ জবাব দিলেন, কুকুরটি আসলে তোমাদেরই মতো যে কিনা পবিত্রতা অর্জন করে না।

মাসিক আরমুগানঃ এছাড়াও হয়তো আরও কোনো বিষয় লক্ষ করেছেন?
মুহাম্মদ ত্বহাঃ এ জাতীয় আরও বহু বিষয় আমি আমার সম্প্রাদয়ের মধ্যে দেখেছি। তারা নিজেদের ধর্মের শিক্ষাকে বিগড়ে ফেলেছে। তাতে পরিবর্তন পরিবর্ধন করেছে। নিজেদের অনুসারীদের ধর্মের নামে ধোঁকা দিচ্ছে। তাদের মূল্যবান ধন-সম্পদ হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা লোকদেরকে ক্ষমা ও গুনাহ মাফের ওয়াদা দিচ্ছে। তাদের বক্তব্য হল, বনী ইসলাঈলের লোকেরা যা ইচ্ছা করুক, কেননা মানুষের পরিত্রাণের জন্য খোদা আপন পুত্রকে উৎসর্গ করে দিয়েছেন। কাজেই পাপের ভয় করার প্রয়োজন নেই। এসব বিষয় আমি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছি। আধ্যাত্মিক ফাদার আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে উপদেশ দিতেন মুসলমানদের সঙ্গে থাকবে না। তারা আমাদের শত্র“।

মাসিক আরমুগানঃ আপনি কিভাবে আপনার জীবনের গতিমুখ বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলেন?
মুহাম্মদ ত্বহাঃ ত্ব-হা নামে আমার এক বন্ধু ছিল। চার বছর পূর্বে তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। সে ছিল ইসলামের পাকা অনুসারী। ইসলামী দাওয়াতের সঙ্গে তার আত্মার সম্পর্ক ছিল। সে আমাকে কুরআনে কারীমের একটি তরজমা উপহার দেয় এবং কুরআন অধ্যয়নের বিশেষভাবে সূরা মারয়াম পড়ার তাগিদ দেয়। অনেকবার সে আমাকে তার বাসায়ও নিয়ে গেছে। একবার সে আমাকে একটি ভিডিও ক্যাসেট দেয় যার মধ্যে হরম শরীফে নামায আদায়ের দৃশ্য ছিল। আমি লক্ষ্য করি নামাযের কাতারে সব মুসলমানই এক সমান। পরস্পরে মিলেমিশে দাঁড়ায়। তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য রেখা কিংবা উঁচু নিচুর ঝলক দেখা যায় না। এটা চার্চের শ্রেণী পার্থক্য, বংশীয় বিভেদ এবং উঁচু-নীচুর জঘন্যতার একেবারে বিপরীত ছিল। এবার আমার অনুসন্ধিৎসা সোচ্চার হল। ধীরে ধীরে ত্ব-হার কাছাকাছি চলে আসলাম।

মাসিক আরমুগানঃ তারপর কীভাবে আপনার ইসলাম প্রকাশ করলেন?
মুহাম্মদ ত্বহাঃ ত্বহার নিকটবর্তী হওয়ার পর খুব কাছ থেকে ইসলামকে জানা ও পড়ার সুযোগ লাভ করি। আমি তার নিকট আমার ইসলামপ্রিয়তা প্রকাশ করি। সে আমাকে যুবকদের সংগঠন ‘আল ক্বামার দাওয়াতে ইসলামী’ নামক সংস্থায় নিয়ে যায় এবং ইসলাম গ্রহণে আমাকে সহযোগিতা করে।

মাসিক আরমুগানঃ ইসলাম গ্রহণের পর আপনার জীবনে কোনো উত্থান-পতন এসেছে কি?
মুহাম্মদ ত্বহাঃ ইসলামকে বুকে ধারণের পর তাওহীদের আকীদা-বিশ্বাসের ছায়াতলে আমি প্রশান্তিময় জীবন-যাপনের পথে যাত্রা করলাম। আজ আমার কাঁধ থেকে ত্রিত্ববাদের বোঝা নেমে গেছে। আমি এক নতুন মানুষে রূপান্তরিত হয়েছি। যে কিনা আল্লাহ তাআলার রব হওয়ার, ইসলামের সত্যদ্বীন হওয়ার, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাসূল হওয়ার এবং সকল নবী রাসূলের এক পয়গামবাহী হওয়ার ওপর ঈমান রাখে।

যেমন কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে অর্থ:

তোমাদের পিতা ইবরাহীমের দ্বীন প্রতিষ্ঠিত রাখো। সেই আল্লাহ তোমাদের নাম মুসলমান রেখেছেন কুরআনের পূর্বে এবং এই কুরআনেও। -সূরা হজ্ব : ৭৮

এরপর থেকে আমার এক নতুন জীবন শুরু হয়। এক নতুন পথে আমি পদচারণা শুরু করি। এই পথ ভীতি প্রদর্শন, সুসংবাদ প্রদান ও বিজ্ঞজনোচিত পন্থায়- আল্লাহর দিকে আহ্বানের এবং ইসলামের দাওয়াত ও তাবলীগের পথ ছিল।

মাসিক আরমুগানঃ আপনি দাওয়াতী কাজ কোথা হতে শুরু করেছেন?
মুহাম্মদ ত্বহাঃ পিতামাতাকে দিয়ে আমি আমার দাওয়াতী কাজ শুরু করি। আমার ইসলাম গ্রহণ ও নতুন নামের কথা জানানোর উদ্দেশ্যে এবং ইসলামী আকীদা বিশ্বাস সম্পর্কে অবহিত করতে ও বোঝাতে আমি তাদের নিকট যাই।

মাসিক আরমুগানঃ পিতামাতার প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
মুহাম্মদ ত্বহাঃ  আমার পিতা হতভম্ব হয়ে জানতে চাইলেন- অবশেষে কেন, কিসের জন্য নিজের বাপ-দাদার ও মুরুব্বীদের ধর্ম ত্যাগ করলে? আজ থেকে তুমি আমাদের সন্তান নও। আজকের পর তুমি আমাদের সঙ্গে থাকতে পারবে না। তবে মাকে আমি স্থির চিত্ত ও বিবেচক মানুষ হিসেবে পেয়েছি। তিনি বললেন, আমার ছেলে এক জন বুদ্ধিমান। ইসলাম গ্রহণ করতে চাইলে সেটা তার নিজের ইচ্ছা। এই জবাব শুনে পিতাজী আমাদের লক্ষ করে বললেন, ওর সঙ্গে থাকতে চাইলে তুমিও চলে যাও। আমি তোমার মুখ দেখতে চাই না।

তারপর আমি আমার জীবন সঙ্গিনীর কাছে গেলাম। আমাদের দুটি সন্তানও ছিল। তাকে বললাম, একটা দারুণ খবর আছে? সে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে জিজ্ঞেস করল, কী সেটা? বললাম, আমার নাম এখন ত্ব-হা। আমি মুসলমান হয়ে গিয়েছি। সে বলল, আমি তোমার সঙ্গে থাকতে চাই না। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে উত্তর দিলাম। তোমার যদি ঘরে মুসলমান দেখতে ইচ্ছে না হয়, তুমি চলে যেতে পারো। সে তার পিত্রালয়ে চলে গেল। আমি এ জাতীয় অসংখ্য প্রতিকূলতা ও বহু পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছি। পিতা সম্পর্কচ্ছেদ করেছে। স্ত্রী সঙ্গ ত্যাগ করেছে। তবে মা সবসময়ই ছিল সহানুভূতিশীল।

মাসিক আরমুগানঃ চার্চের লোকজনের আচরণ কী ছিল?
মুহাম্মদ ত্বহাঃ চার্চের দায়িত্বশীলগণ প্রথমে পাঁচজন লোককে আমাকে চার্চে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠাল। এখান থেকেই আমার বিপদের কাল শুরু হল। তারা আমাকে লোভ দেখায়। সবুজ উদ্যানের টোপ ফেলে। নানা রকম সুযোগ সুবিধার স্বপ্ন দেখায়। বলে, জন! তুমি কি পাগল হয়ে গেলে? তোমাকে কি পাগলাগারদে নিতে হবে? তুমি কিসের আশায় ইসলাম গ্রহণ করেছো? তুমি বিত্তশীল আর ওরা নিঃস্ব। তোমার কী চাই? বাংলো, গাড়ী, অন্য কিছু? তারপর বলে, জন! ওরা হযরত ঈসা আলাইহিসস সালাম সম্পর্কে নেহায়েত মিথ্যা ও অপমানকর বিশ্বাস রাখে। তারপর সেই দায়িত্বশীল কুরআনের একটি কপি বের করে এবং সূরা মারয়াম খুলে বলে, দেখো এরা ঈসার ব্যাপারে বলে। তিনি নাকি মানুষ এবং পয়গম্বর ছিলেন? অথচ আমাদের বিশ্বাস হল, তিনি ছিলেন খোদী। এখন বল, তোমার কী বিশ্বাস? এসব কিছুর পরও তুমি ইসলামের ওপর বহাল থাকতে চাও? আমি হ্যাঁ সূচক উত্তর দিলে তারা আমাকে ধমকি দিতে থাকে। বলে, এ অবস্থায় আমরা কোনমূল্যেই শহরে তোমার অবস্থানকে সহ্য করবো না। জবাবে আমি শুধু এটুকুই বলি, আমাকে হত্যা করে ফেললেও কোনো পরওয়া করি না।। আমি মুসলমান আছি মুসলমানই থাকবো।

এই স্তর আতিক্রম করার পর আমি আমার বাড়ির একাংশকে মসজিদ বানিয়ে নিই। লোকদের মধ্যে দ্বীনে হকের দাওয়াতকে ব্যাপক করার কাজে আত্মনিয়োগ করি। সর্বপ্রথম আমার দাওয়াত কবুলকারী ছিল আমারই প্রাক্তন জীবনসঙ্গিনী। সে এক অমুসলিমকে বিবাহ করার পর তাকে ছেড়ে দিয়ে আবার আমার কাছে চলে আসে। বলে, আমি মুসলমান হতে চাই, চাই তুমি আমাকে তোমার সঙ্গে রাখো বা না রাখো। আমি চুমু খেয়ে তাকে বুকে জড়িয়ে নিই এবং নতুন স্ত্রীর সঙ্গে তাকেও স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করি। এখন আমার দুজন স্ত্রী। বর্তমানে দাওয়াতের কাজের জন্য আমি সব ঝামেলা থেকে অবসর হয়েছি।

মাসিক আরমুগানঃ আপনার দাওয়াতের ফলাফল সামনে এসেছে?
মুহাম্মদ ত্বহাঃ আলহামদুলিল্লাহ! এখন পর্যন্ত এই শহরের ত্রিশজন তরুণ আমার দাওয়াত গ্রহণ করে ইসলামের ছায়াতলে এসে হিদায়াত লাভ করেছে।

মাসিক আরমুগানঃ পরবর্তীতে চার্চওয়ালাদের আচরণ কী ছিল?
মুহাম্মদ ত্বহাঃ তরুণদের এভাবে ইসলাম দাখেল হতে দেখে এবং আমার কর্মকান্ডে দুঃখে-ক্ষোভে চার্চের সেই দায়িত্বশীল আমার বাড়িটি গুড়িয়ে দেয়। অথচ আমি সেটাকে মসজিদ বানিয়ে ছিলাম।
আল্লাহ তাআলা আমাদের ও সকল ইসলাম গ্রহণকারীকে দৃঢ়পদ রাখুন এবং সর্বপ্রকার দুঃখ-কষ্টে ধৈর্যধারণের তাওফীক দান করুন। সর্বোপরি আমাদের দ্বীনের একনিষ্ঠ দা‘য়ী বানিয়ে দিন। আমীন!


সৌজন্যে মাসিক আরমুগান : জানুযারী- ২০০৭ ইং