মুহাম্মুদ মহিব্বুল্লাহ (স্বামী আনন্দ) এক সময়ের খোদা এখন মানুষ

 

বুদ্ধভিক্ষু স্বামী আনন্দের (মুহাম্মাদ মুহিববুল্লাহ) হেদায়াত প্রাপ্তির ঈমানদ্বীপ্ত আত্মকাহিনী।


বুদ্ধ খোদার অবতার হয়ে আমি পঁয়তাল্লিশ বছর এক মজাদার জীবন কাটিয়েছি। লোকেরা আমার পায়ে সিজদা করতো। একসময় তারা আমার খোদা হওয়ার একীন করে নেয়। আমার ভেতরেও ধীরে ধীরে খোদাত্বের একীন হতে থাকে। জীবনের দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশটি বছর খোদাত্বের জোব্বা পরে কাটিয়েছি। প্রচার করেছি আমি বুদ্ধের অবতার। বুদ্ধের সাতবার পুনর্জন্ম হয়েছে। তার মধ্যে আমিও একজন। দাবী করতাম, আমি যা বলি সব খোদার কালাম। এ ব্যাপারে আমার প্রত্যয়ও ছিল। কেবল আমারই নয় গেরুয়া বসনধারী প্রতিটি বুদ্ধ ভিক্ষুই একথার একীন করতো। ‘বুদ্ধমত পৃথিবীর প্রাচীনতম ধর্ম’ এই মতবাদ আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দিয়েছি। ফলে শত শত দেশে আমার শাগরেদ-সহযোগী তৈরী হয়েছে।

আমার আপন ভাই বর্তমানে বিশ্বপ্রসিদ্ধ বুদ্ধ সন্ন্যাসী। সে আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলসে থাকে। আমি যখন খোদাত্বের জোববা পরে জীবন কাটাচ্ছি সে সময় এক মুসলমান ভাই আর আমার এক শাগরেদ মাদ্রাজ নিবাসী ডক্টর চৈপানের মাধ্যমে ইসলামের সঙ্গে পরিচিত হই। আমাকে ইসলাম সম্পর্কিত কয়েকটি পুস্তক দেয়া হয়। আমি অমনোযোগিতার সঙ্গে সেগুলো পাঠ করি। কিন্তু পরবর্তিতে কুরআন মাজীদ এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইতিকথা ও জীবন চরিত নিয়মিত অধ্যয়ন করি। সে সময়ই আমার হৃদয় গভীরে স্বীয় অপরাধের অনুভূতি সৃষ্টি হয়। ফলে খোদাত্বের ভেক ধরে জীবন-যাপনকারী আমি একজনের স্বামী হয়ে যাই। একক দেহধারী আমি পিতৃত্বের গৌরব লাভ করি। ধীরে ধীরে মানবরূপে আত্মপ্রকাশ করি। অপরকে শান্তির পথ প্রদর্শনকারী নিজেই শান্তির অন্বেষী হই। বুদ্ধ সন্ন্যাসীদের খোদা জ্ঞানকারী আমি এক একক আল্লাহকে মাবূদ বলে স্বীকার করে নেই।
সারকথা হল, আগে খোদা ছিলাম এখন মানুষ হয়ে গিয়েছি। আমার জীবনের আদ্যোপান্ত কাহিনী আপনাদের নিকট সংক্ষেপে পেশ করছি।

আমার অবস্থা
বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি
ধর্মং শরণং গচ্ছামি
সংগং শরণং গচ্ছামি

এই মূলনীতির ওপর জীবন অতিবাহিত হয়েছে। আমার মুখে সবসময়ই লেগে থাকতো। আমি বোধিবৃক্ষের নীচে বসে জ্ঞান লাভ করেছি।
বুদ্ধ সন্ন্যাসী : পৃথিবীতে বুদ্ধমতের প্রচারক।
গৌতম বুদ্ধ : মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্তিদানকারী, অজ্ঞতা দূরীভূতকারী। আর্যসমাজের অত্যাচার বিনাশকারী, মানুষকে শান্তি ও নিরাপত্তার পথপ্রদর্শনকারী।
ব্রহ্ম‏চারী : বুদ্ধের আকিদা-বিশ্বাস পৃথিবীতে প্রচারকারী। দুনিয়ার প্রতি নির্মোহ। রাজকীয় ভঙ্গিতে বুদ্ধবিহারগুলোতে প্রফুল্ল জীবন-যাপনকারী। আর্য, আশ্রম ধর্ম (জাতপাতের নীতি)-এর বিরুদ্ধে তরবারী হাতে বেরিয়ে পড়া লোক।

মানুষ কে?


মানুষ কি নিজে নিজেই সৃষ্টি হয়েছে, না কোনো খোদা তাকে সৃষ্টি করেছেন? মৃত্যু কেন আসে, মৃত্যুর পর মানুষের পরিণতি কী? আমার মন আমাকে এ জাতীয় প্রশ্ন করে ফিরতো। প্রশ্নগুলো সবসময় আমাকে খুঁচিয়ে ফিরতো। আমি হারানো বস্তুর মতো এগুলোর উত্তর খুঁজে ফিরতাম। ফলে ধীরে ধীরে আমার মধ্যে পাশবপ্রবৃত্তির প্রতি ঘৃণা জন্মাতে থাকে। আমি সত্যের সন্ধানে ছিলাম। ফলে আমার অন্তরে মহাসত্যের সামান্য আলোকরশ্মি বিচ্ছুরিত হয়। সম্পদের বিনিময়ে যা পাওয়া যায় না সেই দয়া-ভালোবাসা আর বিনয় আমার হৃদয়ে জন্ম নেয়। যে পথের আমি পথিক তা সঠিক না ভুল এটা জানার জন্য আমি ব্যাকুল হয়ে উঠি। এভাবে অন্যান্য ধর্মগুলো যাচাই করে নেয়ার এক প্রবল আকাক্সক্ষা আমাকে তাড়া করে। পৌঢ়ত্বে এসে চিন্তা-ভাবনা আমাকে নাড়া দিয়ে গেল। অতীতের যাপিত জীবন নিয়েও আমাকে ভাবনা-চিন্তার সুযোগ করে দিল। আমি স্বামী আনন্দ সাহেব নামে প্রসিদ্ধি লাভ করলাম। রেশমের কুরসিতে দরবারী খাদেম আমাকে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে নিয়ে যেতো। এই হল আমার অতীত অবস্থা।

আমার পরিবার তামিলনাড়–র রামনাথপুর জেলার প্রেমকাদির নিকটে বসবাস করতো। আমি সিদ্ধার কোতায়ীর বন্দরগাহ থেকে বাদবানী নৌবাদ ব্রহ্মার পথ ধরি। সেখানে আমার দাদা তার পরিবার নিয়ে আরাম-আয়েশে জীবন-যাপন করতেন। আমি যাদব বংশে জন্মগ্রহণ করি। বংশীয় পেশা ছিল পশুচারণ। কিন্তু আজ আমাকে বুদ্ধগুরু স্বামী আনন্দ বলা হয়। জীবিকার সন্ধানে বার্মা চলে যাই। কিন্তু মাতৃভাষা হিসেবে তামিলকে আমি সবময়ই ধারণ করে রেখেছি। আমার পিতা বাল্যকাল থেকেই একজন গোঁড়া বুদ্ধ ছিলেন। এজন্য বুদ্ধধর্ম অনুযায়ী আমাকে লালন-পালন করেন। বিভিন্ন বুদ্ধমন্দিরে আমার শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। পিতাজীর আকাক্সক্ষা ছিল আমাকে বুদ্ধ ভিক্ষু বানাবেন। এ সংক্রান্ত যাবতীয় শাস্ত্র তিনি আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন। রেঙ্গুন, তিব্বত, চীন, কোরিয়া, কম্বোডিয়া, জাপান এই সব দেশের বুদ্ধগুরুদের থেকে আমি শিক্ষা অর্জন করেছি। মাত্র ঊনিশ বছর বয়সে আমি জ্ঞান অর্জন পূর্ণ করি।

তারপর একদিন বার্মার দ্বিতীয় রাজধানী ম্যান্ডেলায় আমাকে বুদ্ধমতের গুরু চ্যানেসরা এশিয়ার পাঁচ বুদ্ধগুরুর একজন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আমাকে গেরুয়া বসন পরানো হয়। এভাবে বুদ্ধ ভিক্ষুদের মধ্যে আমি বিশেষ মর্যাদা লাভ করি। তারপর জাপানের টোকিও শহরে বুদ্ধমতের গুরু ‘বুদ্ধ দাসু ওয়াসু’ আমাকে নাগাসাকিতে বসিয়ে দেন এবং গোটা পৃথিবীতে বুদ্ধধর্মের প্রচার-প্রসারের মহান দায়িত্ব অর্পণ করেন। আমি ছিলাম একশত একজন গুরুর প্রধান। এরপর আমি গোটা দুনিয়ায় ঘুরে ঘুরে বুদ্ধধর্মের প্রচার-প্রসার শুরু করে দিই। দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়ার ১৭ টি দেশ যেখানে কম-বেশী বুদ্ধরা বসবাস করে। এগুলো ছাড়াও ইউরোপে বুদ্ধমত প্রচারের চেষ্টা চলতে থাকে। বুদ্ধমতের পৃথিবীতে আমার এমন মর্যাদা অর্জিত হয় যার কোনো পরিসীমা নেই। গোটা পৃথিবী ভ্রমণের জন্য সরকারীভাবে আমাকে গ্রীনকার্ড দেয়া হয়। ফলে আরব দেশগুলো ছাড়া সারা দুনিয়ার ঘুরে ঘুরে আমি এই ধর্মের প্রচার-প্রসার করতাম। আমার আপন ভাই স্বামী আনন্দ আচার্য আজও আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলসে সাতষট্টি তলাবিশিষ্ট বিশাল বুদ্ধ আশ্রমে মঠপতির পদে অধিষ্ঠিত। আমিও সেখানে সাড়ে তিন বছর মঠপতি ছিলাম।

ঝাড়-ফুঁক ও কেরামতি


চীন, তিব্বত, জাপান ইত্যাদি দেশে ঝাড়-ফুঁকের মাধ্যমে আমি বড় বড় কেরামতি দেখিয়েছিলাম। এতে আমার প্রসিদ্ধি ছড়িয়ে পড়েছিল। ঝাড়-ফুঁকের মাধ্যমে আত্মাসমূহকে ডেকে আনা এবং তাদের দ্বারা ভবিষ্যৎবাণী করানো ছিল আমার আমল। কালীকাড়ি, কলকাত্তাকালী, কেরলা দেবীর (স্থানীয় দেব-দেবীর নাম) পূজা করে তামার পাতে এবং সুতায় ফুঁক দিয়ে লোকদের দিতাম। দেবতাদের একশত একটি রূপার পেয়ালায় বন্দী করতাম। সময় না কাটলে সেই পেয়ালাবন্দী দেবতাদের বের করে অন্ধকারে তাদের সঙ্গে কথা বলতাম।

এভাবে আমি আগত লোকজনের নিকট সারা দুনিয়ার বুদ্ধদের মধ্যে দেবতাদের ভাষা ও ভবিষ্যৎবাণীর পন্ডিত এবং তাদের সঙ্গে কথোপকথনকারী মহাগুরু আনন্দজী নামে প্রসিদ্ধ হলাম। বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ও শাসকগণ তাদের মাথায় আমার পা রেখে আশীর্বাদ নিতে পারাকে অত্যন্ত শুভলক্ষণ মনে করতো। সিঙ্গাপুরের প্রথম রাজার মাথায় পা রেখে আমি তাকে আশীর্বাদ দিয়েছিলাম। অনুরূপ থাইল্যান্ডের রাজা বার্সা পুজু চ্যানসুইনকেও তার মাথায় পা রেখে আশীর্বাদ দিয়েছি। আমাদের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রজীব গান্ধী ও জাপানের নির্বাহী রাষ্ট্রপ্রধানকেও একই কায়দায় আশীর্বাদ দিয়েছিলাম। শুক্র ও মঙ্গলবারে স্বর্ণের আসনে বসে এক মটকা পানি দিয়ে আমার পা ধোয়ানো হতো। পাঁচ ব্যক্তির পানযোগ্য পরিমাণ সে পানির মূল্য হতো একলাখ রুপি। কারণ আমি যে খোদার অবতার!

বুদ্ধের পুনর্জন্ম


দেবতাদের প্রধান খোদার সঙ্গে কথা বলতে সক্ষম আমি সারা দুনিয়ায় সফর করতাম। দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত লোকেরা আমার প্রস্রাব পান করতো। এতে তারা আরোগ্য লাভ করতো। আমি যেহেতু তাদের খোদা ছিলাম তাই আমার প্রস্রাব পান করা তো দোষণীয় ছিল না।
আমি বোধিবৃক্ষের নিচে রূপার আসনে উপবেশন করতাম। স্বর্ণরূপা সামনে রেখে আমার পায়ে লুটিয়ে পড়া ভক্তদের আশীর্বাদ করতাম। আশীর্বাদ নেয়ার জন্য তারা আমার খোঁজ করে ফিরতো। এক ব্যক্তি এসে আমার কাছে নিবেদন করল, গুরুজী! আমি তো খোদাকে দেখতে পারি না। আপনিই সেই মহান জীবিত খোদা। দুনিয়ার সব নেয়ামতই আমি লাভ করেছি। কিন্তু শাদী করেছি পাঁচ বছর হতে চলল, এখনও সন্তানের মুখ দেখি নি। গুরুজী! আপনি আমাকে বিশেষ আশীর্বাদ দান করুন, যাতে আমি সন্তান লাভ করতে পারি। একথা বলেই সে আমার গায়ে হাত রেখে হাতটি তার চোখে মুছে নিল।

আমার এই ভক্ত ছিল অনেক বড় কোটিপতি। তাকে আমার জালে ফাঁসানোর ইচ্ছা করলাম। তাকে বললাম, আজ সান্ধপূজার পর তোমাকে তাবীজ দেবো। শোয়ার সময় সেটাকে বালিশের নিচে রেখে দিবে। আজ রাতে খোদা তোমার সঙ্গে কথা বলবে। আগামীকাল এসে শোনাবে খোদা তোমাকে কী বলেছেন। ঘটনাক্রমে পরদিন সে এসে আমার দরজায় আওয়াজ দেয়। আমার শাগরেদ দ্রুত এসে আমাকে জানায়, গুরুজী! সেই কোটিপতি এসেছে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, কোন কোটিপতি? সে বলল, যে লোকটি সন্তান লাভের আশীর্বাদ নিতে এসেছিল এবং তাবীজ নিয়ে গিয়েছিল। আমি তৎক্ষণাৎ গেরুয়া বসন গায়ে মুড়িয়ে রেশমী পাখা হাতে নিয়ে, ভিক্ষুর পাত্র ধারণ করে এমন ভঙ্গিমায় তার সামনে উপস্থিত হলাম যেন সাক্ষাত বুদ্ধ ধরায় অবতরণ করেছে। লোকটি সাথে সাথে আমার পায়ে পড়ে গেল। বলতে লাগল, খোদা আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। খুশীতে সে কাঁদতে শুরু করল। আমি তো খোদাকে দেখিনি কিন্তু আমার ভুয়া তাবীজ ধারণ করে এই নির্বোধ বলছে, খোদা তার সাথে কথা বলেছে। তার কথা শুনে আমি হতভম্ব ও পেরেশান হয়ে গেলাম। আমি একি শুনছি! পঁয়তাল্লিশ বছর মাথা ন্যাড়া করে তাবীয আর গেরুয়া বসন ধারণ করে ব্রহ্মচারী জীবন-যাপন করে সকল ইচ্ছা-আকাক্সক্ষা দুপায়ে দলে সন্ন্যাসমত অবলম্বন করে বোধিবৃক্ষের নীচে জনমভর বুদ্ধ! বুদ্ধ! বলে চিৎকার করলাম, আর আমাকে পেছনে ফেলে এক ভুয়া তাবীযধারী খোদার সঙ্গে কথা বলে নিল। এটা কোনো ন্যায়-বিচারের কথা? কথা বলতে হলে তিনি আমার সঙ্গেই বলে নিতেন। পঁয়তাল্লিশ বছরেও আমার বুদ্ধ আমার সঙ্গে কথা বলেনি, কিন্তু আমার এক শাগরেদ তোমাকে তাবীজ দিয়ে দিল আর তিনি তোমার সঙ্গে কথা বললেন!

স্বামীদের প্রকৃত অবস্থা হল, গেরুয়া বসনে পবিত্রতার ভেকধারী এই মহান সত্তাদের যদি পুলিশ ধরে নিয়ে যায় তাহলে প্রত্যেকের মহাপাপী রূপটাই প্রকাশিত হবে। এদের অন্যতম হল, ব্রহ্মনন্দ স্বামী, চন্দ্রাস্বামী, মার্ত-তম, জন জোসেফ ইত্যাদি।

আমার মুরুব্বীরা আমার মস্তিষ্কে একথা গেঁথে দিয়েছিলেন যে, মুসলমানরা জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করে থাকে। এরা বংশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। পশুপালন ছিল তাদের বংশীয় পেশা। গরুকে তারা খোদাও মনে করতো। ছোটবেলা থেকেই আমি বুদ্ধ মতাবলম্বী ছিলাম। এরপরও আমার পিতা-মাতা গরুকে খোদা স্বীকার করতো। তারা আমাকেও একথা বলে উত্তেজিত করতো যে, দেখো! এমন মহা খোদাকেও (গরুকে) মুসলমানরা কেটেকুটে ভুনা করে খায়। যা হোক, গুরু হওয়ার কারণে ইসলাম সম্পর্কে অধ্যয়ন করা আমার জন্য সহজসাধ্য ছিল না। কিন্তু এর মধ্যে কিছু মুসলমানের সঙ্গে আমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ইসলাম আমাকে ঘিরে নিল


কিছুদিনের মধ্যেই মুসলমানদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক মজবুত হতে থাকে। সেই সাথে ইসলামকে সঠিক পন্থায় জানারও একটা সহজ পথ বের হয়ে যায়। ছোট ছোট পুস্তিকা অধ্যয়ন করা হচ্ছিল। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনচরিত অধ্যয়নের পর আমার মধ্যে কুরআন পাঠ করার এক অদম্য আকাক্সক্ষা সৃষ্টি হয়। তারপর কুরআন অধ্যয়ন শুরু করি। এক ও একক সত্তাই পৃথিবী ও পৃথিবীর যাবতীয় বস্তুর স্রষ্টা। কুরআন পড়ে একথা আমার বুঝে আসে। জানতে পারি, প্রভাতে সুর্যের উদিত হওয়া ও সন্ধ্যায় অস্ত যাওয়া তারই নির্দেশে হয়ে থাকে। এসব জানার পর তাঁর মহা সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে আমি আশ্চর্য হয়ে যাই। ধীরে ধীরে আমার ভেতর ইসলামী চিন্তা প্রবিষ্ট হতে থাকে। তারপর এই চিন্তা-ভাবনা আমার চেতনায় ঝড় তুলে দেয়। আমার ভেতরে এক আন্দোলন শুরু হয় যে, আমাকে ইসলাম বুঝতে হবে, মুসলমান হয়ে যেতে হবে। ভাবলাম আরেকটু বাজিয়ে দেখি আরেকবার কুরআন পড়ে নেই। আমি একাগ্রচিত্তে কুরআনুল কারীম অধ্যয়নে ডুবে যাই। আশ্রমের প্রাত্যহিক কর্মকান্ডের প্রতি আমার অনীহা বাড়তে থাকে। সকাল-সন্ধ্যায় আগরবাতি আর মোম জ্বালিয়ে পানিতে ফুঁক দিয়ে ‘বুদ্ধং শরনং গচ্ছামি’-এর জপও বন্ধ হয়ে যায়।

যেভাবে ঘুরে গেল জীবনের বাঁক


দুই দুইবার কুরআন অধ্যয়নের পর আমার মনের তালাটি খুলে গেল। জানতে পারলাম, গত পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে আমি ভ্রষ্টতা ও মূর্খতার ভেতর ছিলাম। সবকিছু আল্লাহ তাআলারই কর্তৃত্বাধীন একথা জানার পরও আরাম-আয়েশে অভ্যস্ত স্বামী আয়েশী জীবন পরিত্যাগ করতে প্রস্তুত হল না। আমার শরীরও এ ব্যাপারে সায় দিল না। ইতোমধ্যে এক দলিত নেতা আমার কাছে আশীর্বাদ নিতে আসল। আমি তার মাথায় পা রেখে আশীর্বাদ করলাম, আপনি ১২০ বৎসর জীবিত থাকবেন। কিন্তু আমার আশীর্বাদ নেয়ার ৯০ দিন পর সে মারা গেল। এই ঘটনা আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়ে গেল আমাকে ডাক দিয়ে গেল, সতর্ক করে দিল। আমার জীবনের পট পরিবর্তনের এই ছিল সূত্রপাত। এ সময় অনুরূপ আরেকটি ঘটনা ঘটল। ১৯৯১ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনকালীন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রজীবগান্ধী, কাঞ্চীর শংকর আচার্যের কাছে আশীর্বাদ নিতে যান। শংকর আচার্য তাকে বলেন, আপনি একশত এক বছর বেঁচে থাকবেন। তিনি আরও আশীর্বাদ দিলেন যে, ভারতে আপনিই সবসময় প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। শংকর আচার্যের আশীর্বাদের সাতাশতম দিনে রাজীব গান্ধী সাহেব শ্রীপুরে বোমা বিস্ফোরণে নিহত হন। এই উভয় ঘটনা আমার মনের মধ্যে গভীর অস্বস্তির সৃষ্টি করল। আমাকে ধিক্কার দিতে লাগল যে, আমি এক বুদ্ধ স্বামী আমি যাকে আশীর্বাদ দিলাম সে ৯০ দিনের মাথায় মারা গেল। ও দিকে হিন্দুগুরু শংকর আচার্য যাকে আশীর্বাদ দিল সে মাত্র সাতাশ দিনের মাথায় নিহত হল। আমি জেনে গেলাম, আশীর্বাদদাতা এই আচার্য এবং আমি বুদ্ধভিক্ষু দুজনেই ভুয়া খোদা। খোদার জন্য এরচেয়ে অবমাননাকর আর কী হতে পারে।
এতে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেল যে, মানুষ কোনো ক্ষমতার মালিক নয়। পৃথিবীতে কেবল আল্লাহ তাআলারই রাজত্ব চলে। এই বাস্তবতা আমার হৃদয়ে প্রত্যয় এনে দিল এবং আমার দৃষ্টি উন্মুক্ত করে দিল যে, আমার মতো তুচ্ছ ও অপদার্থের আশীর্বাদ দেয়ার কোনো অধিকার নেই। এই জাগরণ আমাকে দেবতা থেকে মানুষের কাতারে এনে দিল। দীর্ঘজীবনের গেরুয়া বসনটি শরীর থেকে খুলে ছুঁড়ে দিলাম। আমার দৃঢ় প্রত্যয় হয়ে গেল, আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই।
মানুষ কি দেবতা?


আমি কি খোদা? ইসলাম আমাকে এ ব্যাপারে ভাবতে বাধ্য করল। মানুষের জন্য মানুষ হয়ে জীবন-যাপন করাই শ্রেয়। মানুষ সবকিছু থেকে মুক্ত থাকতে পারে কিন্তু বৈবাহিক জীবন থেকে নিবৃত থাকলে সে পঁচে-গলে যায়। ইসলামে একজন পুরুষকে (শর্ত সাপেক্ষে) চারজন স্ত্রী নিয়ে জীবন-যাপনের অধিকার দেয়া হয়েছে। বৈবাহিক জীবন পরিত্যাগ করে সন্ন্যাসী হয়ে শত শত মেয়ের সঙ্গে ব্যভিচার করে তাদের জীবনকে ধ্বংস করার মহা অপরাধ ও অত্যাচার থেকে ইসলাম আমাকে রক্ষা করেছে। যা হোক আমি আমার মাথা থেকে গেরুয়া বসন খুলে ছুঁড়ে দিলাম এবং মানুষে পরিণত হলাম।

গুরুর অভিশাপ


আমার মুসলমান হওয়ার সংবাদ বুদ্ধ দুনিয়ায় দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ল। তৎকালীন মহাগুরু তিব্বতের স্বামীজীর কাছেও এই সংবাদ পৌঁছল। তিনি সবসময়ই আমার প্রশংসা করতেন। সংবাদ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি আমাকে তলব করলেন। তিনি শুধু একজন স্বামীই ছিলেন না; ছিলেন এক মহা জাদুকরও। আমিও খুশি খুশি তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে গেলাম। তাকে আমার সার্বিক অবস্থা খুলে বললাম। তিনি বললেন, আপনার ইসলাম গ্রহণে শুধু বুদ্ধমতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, জনসাধারণের মধ্যে বুদ্ধমত প্রসারে যে একটা আশা ছিল সেটাও ধুলিসাৎ হয়ে যাবে। কাজেই আপনি আপনার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুন। আমি বললাম, এই সিদ্ধান্তে পূর্নবিবেচনার প্রশ্নই ওঠে না। এ জাতীয় উত্তর স্বয়ং আমারও কল্পনায় ছিল না। ভাবতেই পারিনি এমনতরো উত্তর আমার মুখ থেকে বের হবে। একটা সময় ছিল, গুরু যদি বলতো, খরগোশ তিন পেয়ে প্রাণী, আমি চোখ বন্ধ করে তার সত্যায়ন করে বলতাম, হ্যাঁ, খরগোশ আদিকাল থেকেই তিনপেয়ে প্রাণী। সেই আমার মুখ থেকেই এমন উত্তর শুনে তিনি তো হতভম্ব। পারেন তো গোস্বায় ফেটে পড়েন আর কি। রাগে ক্ষোভে তিনি আমাকে অভিশাপ দিলেন। ইতোপূর্বে তার অভিশাপের নাম শুনলেও আমি চমকে উঠতাম। গায়ে কাঁপন ধরে যেতো। তার অভিশাপ ছিল এইÑ আমার কথা অমান্য করে ‘ইসলাম পরিত্যাগ করব না’ বলেছিস, তুই দূর হয়ে যা। একশ পঞ্চাশ দিনের মধ্যে তোর এক হাত আর এক পা অবশ হয়ে যাবে।

এ জাতীয় বাজে কথার ইসলামে কোনো স্থান নেই তা আমার জানা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তবুও শয়তান আমাকে কুমন্ত্রণা দিতো, হয়তো অভিশাপের কোনো অশুভ ক্রিয়া প্রকাশ পাবে। কিন্তু এই সব কুমন্ত্রণা থেকে দৃষ্টি হটিয়ে আমি আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা করে সেখান থেকে ফিরে আসলাম। এরপর থেকে প্রতিটি ক্ষণ আমার এই অস্থিরতায় কাটে যে, না জানি কাল কোনো বিপদ ঘটে যায় আর লোকেরা এটাকে অভিশাপের ফল বলে প্রচার করে বেড়ায়। এসব ভেবে আমি ঘাবড়ে যেতাম শংকিত হতাম। আল্লাহ তাআলার দয়া ও অনুগ্রহ যে, তিনি আমাকে এই একশত পঞ্চাশ দিন কোনো বিপদাপদে ফেলেন নি। দিনগুলো আমি নিরাপদেই কাটিয়ে দেই। একশ পঞ্চাশ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে আমার মক্কা মুকাররামা যাওয়ারও সুযোগ হয়। আলহামদুলিল্লাহ! গুরুর অভিশাপের পর আমার জীবনে অনেক কারামাত অনুভব করেছি। এমনতরো অভিশাপের পর সাধারণত মানুষ দুঃশ্চিন্তায় পড়ে নিজের অবস্থা বিগড়ে ফেলে। আল্লাহ তাআলার দয়া যে, এই শংকাজনক সময়ে তিনি আমাকে পূর্ণ হেফাজত করেছেন। শুধু এতটুকুই নয় বরং ইসলাম গ্রহণের দ্বারা মানব জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়। তার মধ্যে একটি হল প্রতারণা থেকে নিজেকে বিরত রাখা। গত পয়তাল্লিশ বছরে বুদ্ধভিক্ষুর আকৃতিতে আমি হাজারো মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছি। কিন্তু আজ ধোঁকা দেয়ার ঘৃণিত কর্ম বিলকুল বিস্মৃত হয়েছি। অনুরূপ আমার উর্ধ্বতন গুরুদের থেকেও অনেক ধোঁকা পেয়েছি। আমার নতুন জীবনে এই উভয় মন্দ কাজই নিঃশেষ হয়ে গেছে। গেরুয়া বসন আমার স্বভাব কঠোর করে ফেলেছিল, তাওহীদের কালিমার স্বীকারোক্তির পর আমি এক কোমল-হৃদয় মানুষে পরিণত হয়েছি। ইসলামের বদৌলতে আমার জীবনে নতুন পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

কালিমায়ে তাওহীদের স্বাীকারোক্তি


আমি তেসরা অক্টোবর ১৯৯৩ সালে মাদ্রাজের মসজিদে মামুরে তাওহীদের কালিমা স্বীকার করে ইসলামী সমাজে প্রবেশ করেছি। স্বামী আনন্দ থেকে মুহিব্বুল্লাহ (খোদাপ্রেমিক) হয়ে গিয়েছি। আমি নবজাতক শিশুর মত হয়ে গিয়েছিলাম। আল্লাহর নিকট সকল মানুষ সমান এই নীতির স্বাদ নিজের ভেতরে অনুভব করছিলাম। ভাবছিলাম, আজ থেকে পৃথিবীর সকল মসজিদে আমারও আছে সমঅধিকার। আমারও আছে সকল মুসলমানের সাথে এক কাতারে নামায পড়ার হক। ইনশাআল্লাহ আজকের পর পৃথিবীর যে কোনো মসজিদে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে যেতে চাইলে কারো শক্তি নেই আমাকে রুখে দাঁড়ায়।
ইসলাম গ্রহণ করে আমার খেয়াল হল, মানুষের সাথে সৌহার্দ ও ভালোবাসাময় সম্পর্ক রাখবো। ঘোষণা দেবো ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের। এই ভাবনায় ইসলাম সম্পর্কে আরো জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে মুসলমানদের এলাকা চিদমবরনা জেলার কয়েল পটনমের দিকে রওয়ানা হলাম। সেখানে ইসলাম সম্পর্কে আরও জানা শোনার পর আমি জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে নিলাম। এখন আমার জীবনের লক্ষ্য হল, নিজের ঈমানকে মজবুত করা। ইসলাম প্রচার করা এবং মানুষের মধ্যে সাম্যের সঠিক রুপটি তুলে ধরা।
ইসলাম গ্রহণের পূর্বে ইসলাম সম্পর্কে আমার অনেক ভুল বোঝাবুঝি ছিল। এ ধরনের ভুল বোঝাবুঝির শিকার মানুষের সংখ্যা কোটি কোটি। তারা ইসলামের মহান নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে। এমন নাজুক সময়ে তাদের ইসলামের সৌন্দর্য ও ইসলামের সাম্যের পায়গাম পৌঁছে দিয়ে ইসলাম ও পুণ্যের পথে তুলে দেয়া ইসলামের বাস্তব অবস্থার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া, ভুল বোঝাবুঝি দূর করা সর্বোপরি তাদের ইসলামের প্রতি আহবান করা এই উম্মতের গুরু দায়িত্ব।
“তোমরাই সর্বশ্রেষ্ঠ উন্নত। তোমাদের বের করা হয়েছে মানবজাতির কল্যাণের জন্য। তোমরা সৎকাজে আদেশ করো ও অসৎকাজে বাধা প্রদান করো আর ঈমান রাখো আল্লাহর প্রতি।” -সূরা আলে ইমরান : ১১০
অভিন্ন উদ্দেশ্যে একাত্ম হয়ে উম্মত যদি এই আয়াতে কারীমার ওপর আমল করে এবং দ্বীনের প্রচার প্রসারে আত্মনিয়োগ করে তাহলে হাজারো জনগণ ইসলামের ছায়ায় চলে আসবে।

মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন-চরিত


মানবেতিহাসে যদি অনন্য ও অবিস্মরণীয় কোনো ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব ঘটে থাকে তাহলে তিনি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর পবিত্র জীবন চরিত জানার অভিলাষে আমি দশ দশটি কিতাব অধ্যয়ন করেছি। এতে আমার জীবনে পরিবর্তন এসে গেছে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচশত একাত্তর খৃস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেছেন। গভীরভাবে নবীজীবন অধ্যয়ন করলে পাঠকের সামনে তাঁর সমস্ত বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। মেনে নিতে হয় পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত তাঁর মতো ব্যক্তিত্বের জন্মই হয় নি। এমন আরও অসংখ্য বৈশিষ্ট্যে তাঁর জীবন ভরপুর। তাঁর ঈমানী শক্তি ও ঈমানী জযবা, তাঁর ইখলাস ও পারস্পরিক সুসম্পর্ক তাঁর লেনদেন ও ব্যবসা বাণিজ্য, পারস্পরিক কল্যাণকামিতা ও সদাচার, ভদ্রতা ও শিষ্টাচারের প্রতি সজাগ দৃষ্টি, আতিথেয়তার প্রেরণা, অন্যের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতার অনুভূতি এই সকল সদগুণের ভিত্তিতে আজকের আধুনিক বিশ্বও তাঁর অকুণ্ঠ প্রশংসা করে। মানুষ হিসেবে জীবন-যাপনের জন্য তার জীবন এক সহজ-সরল নমুনা। তিনি ব্যতিত আর কাউকে অনুসৃত নমুনা হিসেবে দাঁড় করানো যায় না। নবীজীর মাহাত্ম্য মর্যাদা উপলদ্ধি করতে হলে অন্যান্য জাতির ইতিহাস পাঠ করে দেখুন, কীভাবে তারা মানবজাতির ওপর জুলুম অত্যাচারের বৈধতা দান করেছিল। তারা অন্যায় ও পাপাচারের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। দেখুন তাদের জীবন কেমন ছিল আর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন কেমন ছিল। শুধু এটুকুই নয় কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সকল মানুষের জন্যও তার জীবন চূড়ান্ত নমুনা। এমন কীর্তিময় জীবন ও সর্বজনীন মুজিযা কেবল নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনেই আমরা দেখতে পাই। অন্যদের জীবনে তা পরিলক্ষিত হয় না।
মানবতার ইতিহাসের এক মহান ব্যক্তিত্ব কীভাবে জীবন-যাপন করেছেন অন্যদের সঙ্গে তার আচরণ কী ছিল- আমি দলীল প্রমাণসহ তা অধ্যয়ন করেছি। তাঁর নবুওয়াতপূর্ব চল্লিশটি বছরও এক শ্রেষ্ঠ ও আদর্শ জীবন ছিল। সে সময়েও তিনি সমাজের আদর্শ মানব ছিলেন। প্রতিটি মানুষই কিছু গুণাবলী ধারণ করে কিন্তু একই সময়ে সমস্ত সৎগুণের ধারক কেবলই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। ইসলামের বিরুদ্ধে ইংরেজদের অভিযোগ, ইসলাম তরবারীর জোরে প্রসার লাভ করেছে। এটা মারাত্মক এক অভিযোগ। এর খন্ডনে মিস সরোজিনী নাইডু তার লন্ডনের এক ভাষণে বলেছিলেন, ইসলামের মাহাত্ম্য অন্যান্য ধর্মগুরুদের সম্পর্কে ঘৃণা সৃষ্টি করেনা। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গীগণ ও তাদের অনুসারীগণ সিসিলি পর্যন্ত রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। আটশত বছর পর্যন্ত খৃস্টানদের ভুখন্ড স্পেনে দাপটের সাথে হুকুমত পরিচালনা করেছেন। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে কখনও তারা পরধর্মের অনুসারীদের পূজাপাটে কোনো প্রকারে সামান্যতম হস্তক্ষেপও করেনি। খৃস্টানদের বসবাসের জায়গা দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে সৎব্যবহার করেছেন, তাদের যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান দেখিয়েছেন। সর্বোপরি তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করেছেন। সম্ভবত এর কারণ এই ছিল যে, কুরআনে কারীম মুসলমানদের ধৈর্যের শিক্ষা দিয়েছে।

সালাহুদ্দীন আইয়ুবী সম্পর্কে ফ্রান্সের রাজা মন্তব্য করেছিলেন সালাহুদ্দীনকে নিয়ে আমি আশ্চর্যবোধ করি, তিনি কিভাবে এতো ভালো মানুষ হয়েছেন। অথচ এ ব্যাপারে তার ওপর কোনো প্রকার চাপ ছিল না। আমার মন আমাকে বলছে তুমিও মুসলমান হয়ে যাও। থমাস আর্নল্ড বলেছেন, ধর্মসমূহের মধ্যে একমাত্র ইসলামই সর্বপ্রকার সদগুণের ধারক। সাধারণ মানুষের কথায়-কাজে, আচার-ব্যবহারে ইসলাম প্রসার লাভ করেছে। অর্থ-সম্পদের বিনিময়ে দ্বীনের কাজ করেছে, টাকা-কড়ির লোভে প্রচার কাজ চালিয়েছে এমন লোক ইসলাম প্রসারের ইতিহাসে পাওয়া যায় না। বরং হাজার হাজার বণিক ব্যবসায়ী স্বপ্রণোদিত হয়ে বাণিজ্যের পাশাপাশি ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেছে। আফ্রিকা, চীনে ইসলাম প্রসারের মূল কারণ কুরআনের জ্ঞানের আলো। এই আলো ছড়িয়ে দিয়েছে সেখানকার মুসলিম বণিকগণ।

পন্ডিত সুন্দরলাল বলেছেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের সময় এমন একটি কর্ম সম্পাদন করেছিলেন যা ইতিহাস কখনো ভুলতে পারবে না। সারাটা জীবন যারা তাকে কষ্ট দিয়েছে, জ্বালাতন করেছে, জুলুম, অত্যাচার অবিচার করেছে, অপমান অসম্মান করেছে তাদে সবাইকে তিনি ক্ষমা করে দিলেন। পৃথিবীর যুদ্ধ ইতিহাসে এ এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

ভারতের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ লালা ঈশ্বর প্রসাদ বলেন, মুসলমানগণ উদার মনোভাবের লোক ছিলেন। বাস্তবিকই তারা অত্যাচারী হলে এতো দীর্ঘ শতাব্দী ভারতবর্ষে তাদের রাজত্ব করা সম্ভব হতো না। গোটা পৃথিবীতে এবং ভারতবর্ষে আপন বিশ্বাস মোতাবেক তারা মানুষের হিতকামনাই করে গেছেন। ভারতবর্ষে ধর্মীয় বিষয়ে তারা কখনও হস্তক্ষেপ করেন নি। ধর্মগ্রহণের ব্যাপারেও তারা কখনও হিন্দুদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন নি। অমুসলিমদের সঙ্গে তারা দয়া ও মানবিকতার আচরণই করে গেছেন।

কুরআন আমাকে বদলে দিয়েছে


আমি নিয়মিত কুরআন অধ্যয়ন করেছি। এতে আমার আত্মা প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কুরআন এমন এক গ্রন্থ যাতে মানবজীবনের সর্ববিষয়ের ন্যায়সঙ্গত দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। এর বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণাদি আমাকে আশাবাদী করে তোলে। সন্ন্যাসী হওয়ার কারণে এই অভিজ্ঞতা আমার হৃদয়ের গভীরতম প্রদেশে জায়গা করে নিয়েছে। এখন আমি আমার পুরনো দাস্তান অর্থাৎ, বহুবছর ধরে যে ধর্মকে আমি আকড়ে ধরেছিলাম তার প্রকৃত অবস্থা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

গৌতম বুদ্ধ ও বুদ্ধমত


গৌতমবুদ্ধের মতো পাঁচজন সমাজ সংস্কারক এশিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছেন।
(১) শিবরাষ্ট্র : তিন হাজার বছর পূর্বে ইরানে জন্মগ্রহণ করেন।
(২) লোগাস : দুই হাজার চারশত পঞ্চাশ বছর পূর্বে চীনে জন্মগ্রহণ করেন।
(৩) কনফুসিয়াস : দুই হাজার চারশত পঞ্চাশ বছর পূর্বে চীনে জন্মগ্রহণ করেন।
(৪) গৌতম বুদ্ধ : দুই হাজার ছয়শত বছর পূর্বে ভারতে জন্মগ্রহণ করেন।
(৫) ঈসা মসীহ : দুই হাজার বছর পূর্বে ফিলিস্তিনে জন্মগ্রহণ করেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৫৭০ খৃস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেছেন। আর খৃস্টপূর্ব ৫৭৩ সালে গৌতম বুদ্ধ ভারতবর্ষে জন্মগ্রহণ করেন। গৌতম বুদ্ধ ২৯ বছর বয়সে দরবার ছেড়ে বেড়িয়ে পড়েন এবং সন্ন্যাসী হয়ে যান। ৩৫ বছর বয়সে বোধিবৃক্ষের নীচে জ্ঞান লাভ করেন। ৩৬ বছর বয়সে কাশী নদীর তীরে নদী থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে শরানাথ নামক স্থানে আর্যসভ্যতার বর্ণ আশ্রম ধর্মের (জাতপাত নীতির) অত্যাচারের বিরুদ্ধে তার শিষ্যদের সামনে সর্বপ্রথম ভাষণ দেন। ৪৫ বছর বয়সে উত্তর ভারতে মূর্তিপূজা ও খোদার নামে বেড়িক পশু বলির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে বিপ্লব করেন।

বুদ্ধমতের কতিপয় মূলনীতি


মিথ্যা বলবে না, ব্যভিচার করবে না, নেশাদ্রব্য ব্যবহার করবে না, অহিংসা পরমধর্ম জ্ঞান করবে, পাপাচার থেকে দূরে থাকবে, মূর্তিপূজার বিরোধিতা করবে। এগুলোর পেছনে বুদ্ধ জীবনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেছেন। অযোধ্যা থেকে দুইশত পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরে কাশী নগরে ৮২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তার ভাষা ছিল পালি। পরবর্তীতে বুদ্ধের নামে একটি গ্রন্থ লেখা হয়।
গৌতম বুদ্ধ মানুষ হয়ে জন্মেছিলেন। বিবাহ করেছিলেন। অতঃপর সন্ন্যাসী হয়ে গিয়েছিলেন এবং ন্যায়ের খাতিরে জীবন উৎসর্গ করে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। তার তিরোধানের পর লোকেরা তাকে খোদা বানিয়ে বসে। বুদ্ধ ছিলেন এক দরবারী সন্ন্যাসী। তিনি অরিয়ন জাতির শাস্ত্র ও পুরাণ মানতেন না। দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিজ বুদ্ধি মতে পরামর্শ দিয়েছেন। বুদ্ধ সারা জীবন আর্যসমাজের বিরোধী ছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর এই ধর্মে অরিয়ন সভ্যতা সংমিশ্রণ করা হয়েছে। ফলে মহায়ান (দার্শনিক নাগার্জুন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বুদ্ধ সম্প্রদায়বিশেষ)ও হিনয়ান (পালিত শাস্ত্রে বর্ণিত বুদ্ধমত) উদ্ভূত হয়েছে। আর্য স¤প্রদায়ের চতুরতা ও ষড়যন্ত্রে ভারতবর্ষ হতে বুদ্ধমত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। সে সময় দক্ষিণ ভারতের নাগাপটনম এলাকার হাজার হাজার বুদ্ধভিক্ষুকে আর্য ব্রাক্ষ্মণেরা ফাঁসিতে ঝুলায়। বর্তমানে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিচিত্র পন্থায় লোকেরা এই ধর্ম পালন করছে।
এর বিস্তারিত বিবরণ এই : মহায়ান তিব্বতে, হিনয়ান বার্মা সিলোন ও থাইল্যান্ডে, জামবুত জাপানে, করিনবুত উত্তর বার্মায়।

ভারতের বাইরে এশিয়ার দেশগুলোতে বুদ্ধমত বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে গেছে। ভারতে বর্ণআশ্রমের মিশ্রণে তা টিকে আছে। সিলোন বুদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দেশ। কিন্তু সেখানেও নীচু জাতের লোকের জন্য বুদ্ধবিহার বানানো হয়েছে গ্রামাঞ্চলে আর উুঁচ জাতের জন্য সংগরাজ বুদ্ধবিহার বানানো হয়েছে শহরে। অনুরূপ দ্রাবিড় ও বিভিন্ন জাতের লোকজন স্বাধীনতার জন্য ‘বুদ্ধং শরণং’ শেষে বুদ্ধমত আমাদের, বুদ্ধমত আমাদের বলে হইচই করছে। এমনতরো বুদ্ধমত কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা এনে দিতে পারবে?

মুক্তির পথ


মুক্তিকামী বন্ধুগণ! কিভাবে তোমরা মুক্তি লাভ করবে, তোমরা তো ভ্রান্ত পথে ভ্রষ্টমতে ছুটে বেড়াচ্ছো। ছুটো আরও ছুটো, যেখানে ইচ্ছা ছুটে বেড়াও কিন্তু বুদ্ধদের জাল থেকে মুক্ত হতে চাইলে আপন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নাও। আমার দলিত ভাইয়েরা! তোমরা পরিয়া বুদ্ধও নও, পল বুদ্ধও নও (বুদ্ধজাত বিশেষ) তোমরা পৃথিবীতে এসেছো মানুষ হয়ে আর মানুষের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন তোমরা ইসলামেই পেতে পারো। ‘ চলো তোম ইসলাম কি তরফ’ কিতাবের লেখক কমিউনিস্ট নেতা কোডিক্যাল চাল্লাপা ইসলাম গ্রহণের পর লিখেছেÑ অচ্ছুৎ গান্ধীজীর পূর্বেও ছিল, গান্ধীর পরেও থাকবে, বর্তমানেও আছে। কাজেই দ্রাবিড় জাতের লোকেরা! তোমরা ইসলামের দিকে চলো। স্বাধীনতা কেবল ইসলামে এবং একমাত্র ইসলামেই নিহিত। অল ইন্ডিয়া দলিত ওয়ার্কাস পার্র্টির সেক্রেটারী জেনারেল, চেপ্পান (গ ই ই ঝ) শ্রীলংকার বুদ্ধবিহারে পূজার জন্য নিয়মিত যাতায়াত করতেন। একবার তিনি ওখানের হলরূমে আম্বেদকর জয়ন্তীর প্রোগ্রামের জন্য অনুমতির আবেদন করলেন। সেখানকার বুদ্ধগুরু স্বামী নন্দশাস্ত্র বললেন, আপনাদের সকল পরিয়া বুদ্ধদের শুধুমাত্র জাতপাত ভুলে থাকার জন্যই ‘বুদ্ধং শরণং’ মন্ত্র জপা উচিত। এভাবে তিনি খোলাখুলি জাতের কথা তুলে ধরে আবেদন নাকচ করে দিলেন। ডাক্তার চেপ্পান বুদ্ধবিহার থেকে বের হয়ে সংক্ষুদ্ধ এক আহ উচ্চারণ করে বলেছিলেন, আমার মতো নেতার সঙ্গেই যখন যাচ্ছেতাই ব্যবহার তাহলে আমার জাতের জনসাধারণের সঙ্গে এদের কী আচরণ হবে!
তারপর তিনি ‘পূর্ণ স্বাধীনতা পেতে হলে কেবলই ইসলাম’ নামে একটি গ্রন্থ লিখেন।
ইসলামের স্বাধীনতা, সাম্য ভ্রাতৃত্ব আমার হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এতদসংক্রান্ত আমার হজ্জ সফরের কিছু অনুভূতি পেশ করছি।

হজ্জের সফর


আপনাদের নিকট হজ্জের অভিব্যক্তি তুলে ধরতে আমার খুব আনন্দ লাগছে। এ বছর বিভিন্ন দেশ থেকে কাবাতুল্লাহ তাওয়াফ করতে বিশ লক্ষ লোক জমায়েত হয়েছিল। তাদের সঙ্গে সৌদী আরবের বিশ লক্ষ লোকও একই সঙ্গে অভিন্ন আওয়াজে আল্লাহু আকবার ধ্বনি তুলছিল। আমার জন্য এটা ছিল এক অপূর্ব দৃশ্য। কাবার চারপাশে সমবেত এই যে চল্লিশ লক্ষ মানুষ এদের কারও মধ্যে অচ্ছুৎ এবং হিংসা গৌরবের কোনো বিষয় নজরে পড়েনি। আমি জীবনের সুদীর্ঘ সময় জাতপাতের নিয়মানুবর্তী হয়ে কাটিয়েছি। সেদিন এই দৃশ্য আমার হৃদয়ের গভীরতম অঞ্চলে আসন করে নিল। সাদা ফর্সা আরবী, কৃষ্ণবর্ণ জাপানী, শ্বেতবর্ণ জাপানী, গোধূমবর্ণ ভারতীয়, কৃষ্ণবর্ণ ভারতীয়- যেন গোটা পৃথিবীর মানুষকে একই সূঁতোয় জুড়ে দেয়া হয়েছে। কাবার চারপাশে সারি বেঁধে নামায পড়ার দৃশ্যও ছিল বড় চিত্তাকর্ষক। শুধু মানবজাতির ইতিহাসেই নয় আজকের এই নতুন পৃথিবীতেও এ এক বিস্ময়কর সমাবেশ। ইসলামের ভালোবাসা ও সৌহার্দের শিক্ষা, ভ্রাতৃত্ব বন্ধন, সাম্যের ঘোষণা বাস্তব অভিজ্ঞতা আমি হজ্জের সফরে অর্জন করেছি। তা আমার মন-মস্তিষ্কের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পৌঁছে গেছে।

মুসলমানদের উদ্দেশ্যে আমার পয়গাম


মুসলমানগণ! আপনারা হাদীসের বাণী “তোমাদের উপস্থিত যেন অনুপস্থিতকে এই পয়গাম পৌঁছে দেয়”Ñ এর নমুনা হয়ে যান। আপনারা যদি এই অন্তিম উপদেশ অনুসরণ করেন তাহলে গোটা পৃথিবীতে ইসলাম সাফল্য লাভ করবে। দুনিয়া আপনাদের “আর আপনি লোকদের দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে দাখেল হতে দেখবেন”Ñএর দৃশ্য পেশ করবে ইশআল্লাহ! তবে শর্ত হল আপনারা আল্লাহর দ্বীনের নমুনা হয়ে যান। পৃথিবীবাসীর সামনে বাস্তবে প্রমাণ করুন, ইসলামই মুক্তির একমাত্র পথ। হে জগৎসমূহের প্রতিপালক! আমাকে ও এই উম্মতকে এই মহান আমানত অপরকে পৌঁছে দেয়ার তৌফিক দান করুন এবং আমাদের আখেরাতের আযাব থেকে নাজাত দান করুন। আমীন!
এখন আমি জীবনের বাকি অংশটুকু এই পয়গামকে অপরের নিকট পৌঁছানোর কাজে ওয়াকফ করবো এবং ইনশাআল্লাহ শেষ নিঃশাষ পর্যন্ত এ পথে অবিচল থাকবো। ওয়াস সালাম। আপনার ইসলামী ভাই মুহিব্বুল্লাহ মাদ্রাজী।


সৌজন্যে : মাসিক আরমুগান,
জুলাই-আগস্ট- ২০০৭ ইং