শিক্ষার ক্ষেত্রে নারীদের সমান অধিকার

শিক্ষার ক্ষেত্রে নারীদের সমান অধিকার
ইসলামী শিক্ষার ক্ষেত্রেও নারীদেরকে সমান অধিকার দেয়া হয়েছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- طلب العم فريضة على كل مسلم
প্রত্যেক মুসলিম (নর-নারী)-এর ওপর জ্ঞান শিক্ষা করা ফরজ।
জ্ঞান অর্যনের ফজিলত সম্পর্কিত পুরুষদের জন্য যে সব বর্ণনা এসেছে, তার মধ্যে কোরআন হাদিছে এমন একটি শব্দ পাওয়া যাবনা যা থেকে নারীদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে শিক্ষার ক্ষেত্রে নারীদেরকে পুরো অধিকার দিয়েছেন। সীরাতে পাকের একজন বড় বিশ্লেষক ড. হামিদুল্লাহ (রহ.) অনেকগুলো বর্ণনা একত্রিত করেছেন। যে, ওহী নাযিলের পর ওহী লেখকদেরকে যেমন একত্রিত করেছেন এবং আয়াতের মর্ম ও উদ্যেশ্য সাহাবাদেরকে যেমন শিখিয়েছেন। তেমন পর্দার আড়ালে নারী সাহাবা (রা.)-এর জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। কখনো কখনো নারীদের জন্য দুইবার প্রশিক্ষণ মজলিস বসাতেন। তিনি নিজে স্ত্রীদের মাধ্যমে নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতেন। পবিত্র স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে মেধাবী ও বুদ্ধিমতি ছিলেন হযরত আয়েশা (রা.)। তাঁর ব্যপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, অর্ধেক দ্বীন আয়েশা রা. এর থেকে শিখ। আয়েশা রা. এর জ্ঞান ও শিক্ষার মর্যদা বুঝার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে মুহাদ্দিসগণ অনেক হাদিস হযরত সাইয়েদা আয়েশা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার পর সাহাবা রা. এর কোনো মাসআলার ক্ষেত্রে, মতানৈক্য হলে, কোনো ধরনের সন্তুষ্টমূলক সমাধানে না পৌছাতে পারলে, সকলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে আয়েশা রা. এ কাছে যেতেন। হযরত আয়েশা রা. তৎখনাত ঐ মাসআলার ক্ষেত্রে হাদিস অথবা কুরানের আয়াত পেশ করতেন। কখনোত সাহাবাদের মনে হতো এই আয়াত মনে হয় কেবল নাযিল হল, যদিও ঐ আয়াত বার বার তেলাওয়াত করতেন। কখনো এমন হয়নি যে, সাহাবা রা. কোনো এখতেলাফী মাসআলা নিয়ে হযরত আয়েশা রা. এর নিকট গিয়েছেন আর সন্তুষ্ট হওয়া ছাড়া ফিরেছেন।
সম্পদের ক্ষেত্রে নারীর অধীকর
ইসলাম যেমনিভাবে ঈমান, দাওয়াত ও শিক্ষার ক্ষেত্রে সাহাবীদের মর্যাদা দিয়েছে, মাল সম্পদ ও আখলাকের ক্ষেত্রেও নারীদের অধিকার দেয়া হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর অধিকার সম্পর্কে কুরানে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ (২২৮)
অর্থ-আর পুরুষের উপর যেমন স্ত্রীদের উপর অধিকার রয়েছে, তেমনি ভাবে স্ত্রীদেরও অধিকার রয়েছে পুরুষদের উপর নিয়ম অনুযায়ী। আর নারীদের উর পুরুষের শ্রেষষ্ঠত্ব রয়েছে। আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশালী, বিজ্ঞ।
মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদ হতে স্ত্রী- মেয়ে কখনো তো বোন, ফুফু খালাও অংশ পেয়ে যায়। সুরা নিসার ৮নং রুকুতে এর বিস্তারিত আলোচানা এসেছে। তার সংখ্যার দিক থেকে উর্ধতন ও নিন্মস্তরের হিসাব লাগানো যায় তাহলে পুরুষের তুলনায় নারী দ্বিগুন হয়ে যায়। যাদেরকে বিভিন্ন অবস্থায় সম্পদের অংশ পৌঁছানো হয়। এমনাক বিবাহের ক্ষেত্রে যৌতুকের অভিশপ্ত বুঝা নেওয়ার পরিবর্তে মোহরানাকে বিবাহের শর্ত দেওয়া হয়েছে। নারীদারকে কিছু দিয়ে আন। কিছু তাদের থেকে নিয়ে নয়।
কিন্তু আফসোস!
আফসোস আজ আমরা মুসলমানরা নিজেদেরকে ইসলামের অনুসারী দাবীকরা সত্বেও ব্যাপক ভাবে অজ্ঞতার মধ্যে বসবাস করছি। ঐ যুগে জন্ম নেওয়ার পর জিবিত কবর দেয়া হতো। আর এখানে জন্মের পূর্বে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার প্রথা। ( আর এখন ব্যপক হারে ভ্রুন হত্যার প্রথা)
এমন অনেক নারী আছে, যাদেরকে এই জন্য তালাক দেওয়া হয়, যে, সে কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছে। মোহরানাকে তালাকের সময় দেওয়ার প্রথা মনে করা হয়। আনন্দের সময় যদি নারী মহর চায়, তাহলে মনে করে তালাক চাচ্ছে। মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদ ভাইদের মধ্যে বণ্ঠন হয়ে যায়। নারীদেরকে উপেক্ষা করে হারাম মাল খেয়ে দুনিয়া আখেরাত ধ্বংস করার প্রথা ব্যপক হয়ে গেছে। স্ত্রীকে পায়ের জুতার সমান মনে করা হয়। ইসলামের ভালো কাজ, দাওয়াত, শিক্ষা থেকে নারীদেরকে বঞ্চিত করা হয়। বড় আফসোস যে নারীরা এগুলো তাদের অধিকার মনে করে না।
তারা মনে করে ইসলামের মধ্যে এসব ভালো শুধু পুরুষদের জন্য। ঘরের পরিবেশ ইলমী ও দাওয়াতী না হওয়ার কারণ- ইসলামী কালচার, পরিবেশ, অজ্ঞতা আর বদদ্বিনির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

মূল হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী
অনুবাদ. যুবায়ের আহমদ