শয়তানের আগ্রাসন থেকে নিজে বাঁচুন, পরিবারকে বাঁচান

বই পরিচিতিঃ শয়তানের আগ্রাসন থেকে নিজে বাঁচুন, পরিবারকে বাঁচান

ভুমিকাঃ
১৯৮০ সনে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলীতে কর্মরত ছিলাম। বন্ধুদের অনুরোধে একদিন ভূমধ্য সাগরের পারে সমুদ্র সৈকতে গেলাম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগকারীদের ভিড় লেগেই থাকে। ছুটির দিনে ভিড় আরো বেড়ে যায়।
সময়টি ছিল হেমন্তকাল, বিকেল বেলা। আবহাওয়া ছিল পরিস্কার, মনোরম। না ঠান্ডা, না গরম। পাহাড়ের সমতল একটি অংশ সাগরের উপর প্রসারিত হয়ে আছে, তার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সাগরের দৃশ্য উপভোগ করার জন্য লোকজন ওখানে গিয়ে ভিড় জমায়। ঐ স্থানে এক দম্পতির বুক ফাটা কান্না শুনে কৌতূহলী হয়ে এগিয়ে গেলাম। জানতে পারলাম; মিসর দেশের এই দম্পতি খোশ গল্পে বিভোর ছিল। স্বামী-স্ত্রীর অজান্তেই ছোট্ট ছেলেটি হেঁটে হেঁটে সাগরপারে পাহাড়ের কিনারার দিকে চলে গেল। হঠাৎ মহিলার খেয়াল হল, ছেলেটি পাশে নেই। তাকিয়ে দেখে সে বেশ কিছু দূরে চলে গেছে। মা তখন ছেলেকে ধরতে গিয়ে বলছে, আহম্মদ! আহম্মদ! এ দিকে এস। ছেলেটি মাকে দেখে আরো সাগরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। মা যতই ছেলেকে ধরতে এগিয়ে যায়, ছেলে ততই সাগরের দিকে চলে যায় খিল খিল করে হাসে। সে এতেই আনন্দ পাচ্ছিল।
মা বলছে, পড়ে যাবি, এ দিকে আয়। কার কথা কে শুনে। আহম্মদ আনন্দ পাচ্ছে আর সাগরের দিকে যেতেই আছে। আহ্! আহম্মদ কি বুঝেছিল সে কোথায় যাচ্ছে। একটু পরেই সে ঝুপ করে সাগরে পড়ে গেলো। মা-বাবার সেকি কান্না? অনেক লোক জড়ো হলো। নিকটেই কর্মরত পুলিশ এগিয়ে এলো।
ছেলেটির পাশেই একজন তুর্কী লোক পাহাড়ের কিনারায় দাঁড়িয়ে বুকের উপর দুই হাত বেঁধে সাগরের দৃশ্য উপভোগ করছিল। সে ছেলেটির কারসাজি সবই দেখতেছিল। ইচ্ছে করলে ছেলেটিকে

বাঁচাতে পারতো। সে কি যেন ভেবে ছেলেটিকে ধরেনি। পুলিশ মা-বাবার জবান বন্দি নিয়ে তুর্কী লোকটিকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেল।
তুর্কী বলছিল, আমার কী দোষ? আমি তো তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেইনি।
পুলিশ বলছিল, তুমি ঠিকই বলেছ, তুমি তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দাওনি, কিন্তু তুমি তাকে বাঁচাওনি এটাই তোমার অপরাধ।
ইসলামের ভিত্তি যে ঘুণে খাচ্ছে, তিলে তিলে তা ক্ষয় হচ্ছে, ইঁদুরে তার শিকড় কাটছে। ইসলাম বিরোধী এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলো কি করছে? আমাদের আধুনিক প্রজন্মকে ধোঁকা দিয়ে দোযখের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। মুসলমান ভাইয়েরা একটু খেয়াল করুন। অমুসলমান সন্তানেরা নিজেদের অজান্তেই ঐ শিশুটির মতই দোযখের সাগরে পড়ে যাচ্ছে আর আপনি ঐ তুর্কীর মত বুকে হাত বেঁধে তাকিয়ে দেখছেন? মনে রাখবেন, আল্লাহ পাকের পুলিশ আপনাকে ছাড়বে না।
আমরা অমুসলিমদের অপছন্দ করি না কিন্তু তাদের অপবিত্র আকীদাকে অপছন্দ করি। সত্যধর্ম ইসলাম বিরোধী তাদের কার্যকলাপকে ঘৃণা করি। আমরা তাদের ধর্মের গোমর ফাঁক করে দিয়েছি, যাতে তারা সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে পারে। আমরা তাদেরকে দোযখের আগুন থেকে বাঁচাতে চাই, আমরা তাদের শুভাকাঙ্খী। দুআ করি, আল্লাহ সকলকে সত্য ধর্ম চেনার ও আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

গ্রন্থকার
শেখ মুহাম্মদ আব্দুল হাই
মদীনাহ্ মুনাওয়ারাহ

গ্রন্থকারঃ
শেখ মুহাম্মাদ আব্দুল হাই
বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী
সাবেক এসডিই, গণপূর্ত বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
ডিপ্লোমা ইন আরবী, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, মদীনাহ্ মুনাওয়ারাহ
শাখা প্রধান: সাধারণ কর্ম ও পরিদর্শন শাখা, তাইবা ইউনিভার্সিটি,
মদীনাহ্ মুনাওয়ারাহ, সউদী আরব

প্রকাশকালঃ মে-২০১২ ই.

ডাউনলোডঃ
এখানে ক্লিক করুন! অনলাইনে পড়ুন