শয়তানের আগ্রাসন থেকে, নিজে বাঁচুন, আহালকে বাঁচান

যে শয়তান আমাদের আদি পিতা-মাতাকে বেহেশত থেকে কিভাবে বের করে দিয়েছিল শুনুন :
আমাদের আদি পিতা হযরত আদম (আ.) ও আদি মাতা হাওয়া (আ.) বেহেশতে ছিলেন। সেখানে আল্লাহ তায়ালা আদম (আ.) ও ফেরেশতাদের মধ্যে পরীক্ষা নিলেন। পরীক্ষায় ফেরেশতাদের উপর আদম (আ.)-এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হলো। দুনিয়াতে আদম (আ.)-এর খেলাফত প্রতিষ্ঠার যোগ্যতা স্পষ্ট করে বলে দেয়া হলো। ফেরেশতারা তা মেনে নিলেন কিন্তু মানল না একমাত্র শয়তান-ইবলিশ। সে নিজেকে বড় মনে কুেুর অহংকার ও হঠকারিতা করল। সে বলল :
أَنَاْ خَيْرٌ مِّنْهُ خَلَقْتَنِي مِن نَّارٍ وَخَلَقْتَهُ مِن طِينٍ
“আমি তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁকে করেছেন কাঁদা মাটি থেকে।” (কুরআন-৭:১২)
অহংকার ও হঠকারিতার অপরাধে আল্লাহ তায়ালা তাকে বেহেশত থেকে বের করে দিলেন। শয়তান আদম (আ.)-এর কারণেই অভিশপ্ত হলো মনে করে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকল। সে আদম (আ.)-কে পথভ্রষ্ট করার শপথ করল।
يَـٰبَنِىۤ آدَمَ لاَ يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَٰنُ كَمَآ أَخْرَجَ أَبَوَيْكُم مِّنَ الْجَنَّة يَنزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْءَٰتِهِمَآ.إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لاَ تَرَوْنَهُمْ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَـٰطِينَ أَوْلِيَآءَ لِلَّذِينَ لاَ يُؤْمِنُونَ
“শয়তান বলল: হে আল্লাহ আমাকে কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দিন। আল্লাহ তাকে বেহেশত থেকে বের করে দিলেন সেই আদমের সন্তান যাতে সেই বেহেশতে প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্য আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালাব। আমি আপনার সরল রাস্তার উপরে বসে থাকব। আমি চতুর্দিক থেকে তাদের উপর আক্রমণ চালাব, তাঁদেরকে বেহেশতে প্রবেশ করতে দিব না।”
(কুরআন ৭ : ২৭ দ্রষ্টব্য)।
ইবলিস আল্লাহ পাকের নিকট কসম খেয়ে বলল :
فَبِعِزَّتِكَ لاَُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ
“আপনার ইজ্জতের কসম, আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে বিপথগামী করব”। (কুরআন ৮২- ৩৮)
আল্লাহ তায়ালা বললেন : যা, তুই যা পারিস করগে, তবে মনে রাখিস।
إِنَّ عِبَادِى لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَـٰنٌ
“আমার বিশিষ্ট বান্দাদের উপর তোর কোনো ক্ষমতা চলবে না।”
(১৭:৬৫)
এখান থেকে আমি মনে করি, দু’টি দল হয়ে গেল। একটি হচ্ছেÑ আল্লাহ পাকের খাঁটি বান্দাদের দল, যাকে কুর’আনে বলা হয়েছে ‘হিয্বুল্লাহ’ (حزب الله) আল্লাহ পাকের দল। অন্যটি হচ্ছে ‘হিযবুশ শাইতান’ (حزب الشيطان) শয়তানের দল।
(কুর’আন ৫৮ : ১৯-২১ দ্রষ্টব্য, আরো দেখুন ৯ : ১০)
আল্লাহ তায়ালা আদম সন্তানকে সতর্ক করে দিয়ে বলছেন :
২৭يَـٰبَنِىۤ آدَمَ لاَ يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَـٰنُ كَمَآ أَخْرَجَ أَبَوَيْكُم مِّنَ الْجَنَّةِ يَنزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْءَٰتِهِمَآ إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لاَ تَرَوْنَهُمْ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَـٰطِينَ أَوْلِيَآءَ لِلَّذِينَ لاَ يُؤْمِنُونَ
হে আদম সন্তান! শয়তান যেন তোমাদের কোনো মন্দ কাজে লিপ্ত করতে না পারে। যেমন, সে তোমাদের আদি পিতা-মাতাকে বেহেশত থেকে বের করিয়ে দিয়েছে, এমন অবস্থায় যে, তাঁদের পোশাক তাঁদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছিল, যাতে উভয়ের লজ্জা স্থান উভয়েরই দৃষ্টিগোচর হয়। সে এবং তার দলবল তোমাদের এমনভাবে দেখে যে, তোমরা তাদের দেখ না। আমি শয়তানদেরকে তাদের বন্ধু করে দিয়েছি, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না।
(কুর’আন-৭:২৭)

—————————————————-
* কুর’আন শরীফের আয়াতের উদ্ধৃতিগুলোর প্রথমে সূরার ক্রমিক নম্বর, পরে আয়াতের ক্রমিক নং দেয়া হয়েছে। যেমন কুর’আন (৫৮:১৯)। এখানে ‘৫৮’ কুর’আন শরীফের ‘৫৮’ নং সূরা এবং ‘১৯’ ঐ সূরার আয়াত নং। অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থগুলোর ক্ষেত্রে প্রথমে পুস্তিকার নাম, পরে অধ্যায়ের ক্রমিক নং, এরপরে বাক্যের ক্রমিক নং দেয়া হয়েছে। যেমন, মথি (৫:১৭)। এখানে ‘মথি’ বাইবেলের একটি পুস্তিকার নাম মথি লিখিত ইঞ্জিল। ‘৫’ পুস্তিকার ‘৫’ নং অধ্যায় এবং ‘১৭’ উক্ত অধ্যায়ের বাক্যের ক্রমিক নং।

তিনি আরো বলেছেন :
إِنَّ الشَّيْطَـٰنَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوّاً إِنَّمَا يَدْعُو حِزْبَهُ لِيَكُونُواْ مِنْ أَصْحَـٰبِ السَّعِيرِ
“শয়তান তোমাদের শত্র“, অতএব তাকে শত্র“রূপেই গ্রহণ কর। সে তার দলবলকে আহ্বান করে, যেন তারা জাহান্নামী হয়।”
(কুর’আন ৩৫ : ৬ দ্রষ্টব্য)।
কুর’আন বলছে, শয়তান দুই প্রকার : জ্বিন শয়তান এবং মানুষ শয়তান।
(কুর’আন ১১৪:৫)

যারা মানুষকে আল্লাহ পাকের রাস্তা থেকে বিরত রাখে, মিথ্যা শপথ করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সঙ্গে আন্তরিক বন্ধুত্ব করে এরা সকলেই শয়তানের দলের সদস্য অর্থাৎ মানুষ শয়তান।
শয়তান প্রতিজ্ঞা করেছে যে, সে সামনে, পিছনে, ডানে, বামে চতুর্দিক থেকে হকপন্থী মানুষের উপর আক্রমণ চালাবে। আজ হচ্ছেও তাই। সত্য ধর্মের অনুসারী খাঁটি মুসলমানরা আজ ভিতরে-বাইরে, সামনে-পিছনে, ডানে-বামে সব দিক থেকে আক্রান্ত হচ্ছে।
শয়তানের প্রতিনিধিত্ব করছে আন্তর্জাতিক ইসলাম বিরোধী চক্র
মানুষ যখন আপন সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে ভুলে অজ্ঞতার ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যেত তখন তিনি তাদের ওপর দয়া পরবশ হয়ে তাদের দুনিয়াতে শান্তি এবং পরকালে মুক্তি দেয়ার উদ্দেশ্যে যুগে যুগে নবী-রাসূলদেরকে পাঠাতেন। তাঁরা মানুষকে মুক্তি ও শান্তির রাস্তা দেখাতেন, তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাতের কথা বোঝাতেন, আল্লাহ্ পাকের দিকে দাওয়াত দিতেন। নবীদের অনুসরণ করে মানুষ শান্তি পেত। নবীদের উপস্থিতিতে শয়তান সুবিধা করতে পারতো না। কিন্তু নবীরা চলে যাওয়ার পরে সে আবার সবল হত, মানুষকে বিপথগামী করার চেষ্টা চালাত।
আদম (আ.)-এর সময় থেকেই শয়তান ও তার দল আল্লাহর বান্দাদেরকে বিপথগামী করার চেষ্টায় আছে। তারা সব যুগেই নবীদের প্রচারিত সত্য ধর্মের বিরোধীতা করে আসছে। বর্তমান যুগে পৃথিবীতে শয়তানের যোগ্য প্রতিনিধিত্ব করছে আন্তর্জাতিক ইসলাম বিরোধী চক্র, ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের অনেকেই। তারা ধরা পৃষ্ঠ থেকে আল্লাহ পাকের মনোনীত একমাত্র ধর্ম-ইসলামকে মুছে ফেলার জন্য আদা-নুন খেয়ে মাঠে নেমেছে।
বনী-ইস্রাঈলের সব নবীদের সাথেই ইয়াহুদীরা দুশমনী করেছিল।
* তারা মূসা (আ.)-এর বিরোধিতা করেছিল,এবং তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল :
* তারা ধর্মকে বিকৃত করত:এবং ওজায়ের (আ.)-কে খোদার পুত্র বলে প্রচার করেছিল,
* অন্যায়ভাবে অনেক নবী-রাসূলদেরকে হত্যা করেছিল।
* মরিয়ম (আ.)-এর প্রতি গুরূতর অপবাদ দিয়েছিল।
(কুর’আন ৪ :১৫৫-১৫৭)।
* তারাই আল্লাহর নিষ্পাপ ও পুণ্যবান বান্দা নবী-রাসূলদের প্রতি যিনা-ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করেছে।
(বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, সত্যের সন্ধানে, পবিত্র কুর’আন ও পরিবর্তিত বাইবেল, পৃ. নং ৭ থেকে ২৫পৃষ্টা পর্যন্তু নবীদের প্রতি আরোপিত অপবাদ)।
এরপর ঈসা (আ.) দুনিয়াতে আগমন করলেন। তিনি মানুষকে মূসা (আ.)-এর প্রচারিত ধর্মের দিকে দাওয়াত দিতে থাকলেন। তখন এই ধূর্ত ও স্বার্থবাজ ইয়াহুদীদের ব্যক্তিগত হীনস্বার্থে নিদারূন আঘাত লাগে। তখন তারা নানাভাবে ঈসা (আ.) ও তাঁর সাহাবাদের বিরোধিতা করতে থাকে। ঈসা (আ:)এর বিরূদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে তৎকালীন সরকার কর্তৃক তাঁকে শুলিকাষ্ঠে চড়িয়ে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে । কিন্তু তারা তাঁকে হত্যা করতে পারেনি, শূলেও চড়াতে পারেনি বরং পরাক্রমশালী আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জীবন্ত আসমানে তুলে নিয়েছেন।
(কুর’আন ৪ : ১৫৭-১৫৯ দ্রষ্টব্য)।
ষড়যন্ত্রকারীরা নিজেদের ব্যর্থতার লজ্জা ঢাকার জন্য প্রচার করে যে, তারা ঈসা (আ.)-কে শুলিকাষ্ঠে চড়িয়ে হত্যা করেছে। এরপর তারা তাঁর ধর্মের মূল ভিত্তি-তাওহীদ, রিসালাত ও আখেরাতের বিশ্বাসকে সমূলে বিনাশ করার জন্য ষড়যন্ত্র করতে থাকে।
পৌল (ঝধঁষ) নামে এক ধূর্ত ইয়াহুদী ছিল সে ঈসা (আ.)-এর শত্র“দের অন্যতম। সে ছিল তৎকালীন প্রশাসনিক ক্ষমতার অধিকারী। সে ঈসা (আ.)-এর অনুসারীদের উপর ভীষণ নির্যাতন চালায়, স্টীফেন সহ অনেককেই মেরে ফেলে।
(ইঞ্জিল শরীফ, প্রেরিত ২২ : ৩ দ্রষ্টব্য)।
সে ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিল যে, যীশুর [খ্রীষ্টানরা ঈসা (আ.)-কে যীশু বলে] অনুসারীদের উপর প্রকাশ্যে বল প্রয়োগ করে তাঁদের অন্তরে বদ্ধমূল আকিদাকে বিকৃত করা সম্ভব নয়। তাই সে মিত্রবেশে উক্ত ধর্মমতকে মিথ্যারূপে রূপান্তরিত করার জন্য মোনাফেকীর রাস্তা অবলম্বন করে। পৌল ইয়াহুদী ধর্ম পরিত্যাগ করত: নিজেকে মিছেমিছি খৃষ্টধর্মে দীক্ষিত বলে প্রকাশ করে।
সে পৌল নাম ধারণ করে সমাজে আত্মপ্রকাশ করে এবং ঈসা (আ.)-এর সত্য ধর্মকে বিকৃত করতে শুরু করে । পৌল তার ধর্ম প্রচারের বৈধতা প্রমাণ করে সমাজের নিকট আস্থা ভাজন হওয়ার জন্য এক অভিনব ফন্দি আটল । সে রাজা অগ্রিপের কাছে গিয়ে বলল :
“দামেস্কে যাবার পথে ঈসা (আ.) এসে তার সঙ্গে দেখা দিয়েছেন, তাকে তাঁর পদ দান করেছেন এবং তাকে অ-ইয়াহুদীদের নিকট ধর্ম প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন?”
(সত্যের সন্ধানের পৃষ্ঠা ৬২ থেকে বিস্তারিত দেখা যেতে পারে)।
এ কথা শুনে লোকেরা তার প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে। পৌল যীশুর জীবদ্দশায় তাঁকে কোনো দিন চিনতও না, তাঁর সঙ্গে পৌলের কখনো সাক্ষাৎও হয়নি বা পরিচয়ও ঘটেনি বরং পৌল ছিল যীশুর ধর্মমতের প্রবল বিরোধী। যীশুর হাতে গড়া শিষ্যরা, তাঁর প্রিয় সঙ্গী-সাথীরা এবং আপন আত্মীয়-স্বজন তাঁর বিরহ বেদনায় ছিলেন জর্জরিত ও মর্মাহত। কিন্তু কি আশ্চার্য! যীশু তাঁদের সঙ্গে দেখা দিলেন না বরং দেখা দিলেন (?) এমন একজন লোকের সঙ্গে যে ছিলেন তাঁর ও তাঁর শিষ্যদের শত্র“ এবং তাঁর ধর্মমতের চরম বিরোধী।
পৌলের হাস্যকর দাবী
পৌল ঘোষণা করে দিলেন যে, ঈসা তার সঙ্গে দেখা দিয়েছেন এবং সেবক ও সাক্ষী হিসাবে তাকে নিযুক্ত করেছেন। (প্রেরিত ২৬ : ১২-১৮ দ্রষ্টব্য)।
পৌলের এ দাবীর সমর্থনে কোনো প্রমাণ নেই। এটা এককভাবে তার নিজস্ব দাবী। এ দাবী সত্যও হতে পারে, মিথ্যাও হতে পারে। কে জানে সে সত্যবাদী, না মিথ্যাবাদী? কিন্তু তার সৃষ্টিকর্তার নিকট সে মিথ্যাবাদীদের একজন। (দেখুন,কুরআন ৩৭:১৫১-১৫২)
তিনি (পৌল) বিভিন্ন মজলিসে এই কথা প্রচার করতে লাগলেন যে, ঈসা-ই খোদার পুত্র। (ইঞ্জিল শরীফ, প্রেরিত ৯ : ২০ দ্রষ্টব্য)।
প্রিয় পাঠক, আপনি যদি কোন খৃষ্টানকে বলেন যে, আপনার মৃত পিতা আমার সঙ্গে দেখা দিয়েছেন এবং আপনার সঙ্গে আমাকে তার স্থাবর-অস্থাবর যাবতীয় সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করেছেন। আপনি কি তা মেনে নিবেন? নিশ্চয়ই কেউ-ই তা মেনে নিবে না। তাহলে ঈসা (আ.) রূহানী জগত থেকে ফিরে এসে তাঁর হাতে গড়া সাহাবাদের বাদ দিয়ে তাঁর নবুওতের কাজে ভাগ বসাতে পৌলকে সেবাকারী ও সাক্ষী হিসাবে নিযুক্ত করেছেনÑ এটা কিভাবে আপনারা মেনে নিতে পারলেন? সুতরাং শৌল ওরফে পৌলের এ সকল পাগলের প্রলাপে যারা বিশ্বাস করে তারা নিশ্চয়ই বোকার স্বর্গে বাস করে।
(পৌলের হাস্যকর দাবী সম্বন্ধে বিস্তারিত জানার জন্য ‘সত্যের সন্ধ্যানে’ পৃষ্ঠা নং ৬২ থেকে দেখুন)
পৌল বলেছেন : মিথ্যা কথা বলার দরুন আরো ভালোভাবে প্রকাশ পায় যে, খোদা সত্যবাদী। এতে যখন খোদা গৌরব লাভ করেন তখন পাপী বলে আমাকে দোষী করা হয় কেন? (ইঞ্জিল শরীফ, রোমীয় ৩ : ৭)
ঈসা (আ.)-এর আনীত সত্যধর্ম বিকৃত করার জন্য পৌল মিথ্যা কথা ও মিথ্যাধর্ম প্রচার করা শুরু করে দিলেন। নতুন নতুন বিষয় রচনা করে ইঞ্জিলের সঙ্গে জুড়ে দিতে লাগলেন। আল্লাহ তায়ালা বলছেন: স্বহস্তে লিখে ওরা বলেÑএটা আল্লাহ পাকের বাণী (কুর’আন ২:৭৯ দ্রষ্টব্য)। বর্তমান ইঞ্জিলের ২৭ খানা পুস্তিকার মধ্যে ১৪ খানাই পৌলের স্বহস্তে লিখা। (সত্যের সন্ধানের ৮৪ পৃষ্ঠায় দ্রষ্টব্য)। পৌল স্বীকার করেছেন যে, তিনি ইঞ্জিলের লেখক। পৌল বলেছেন : আমার ইঞ্জিল অনুসারে তিনি [যীশু] মৃতদের মধ্য থেকে উত্থাপিত। (২ তীমথিয় ২ : ৮) পৌল দাবী করেছেন যে, তিনি যে ইঞ্জিল প্রচার করেন তা কোনো মানুষের নিকট থেকে পাননি বরং যীশুর প্রত্যাদেশ দ্বারা পেয়েছেন।
(গালাতীয় ১ : ১১-১২)।
(?) ফেরেস্তা একমাত্র নবীদের নিকট ওহী (প্রত্যাদেশ) নিয়ে আসেন। পৌল না কোনো নবী, না কোনো নবীর সাহাবা। সে নিজে নিজেই যীশুর শীষ্য বলে দাবী করেছে। সে স্বঘোষিত শিষ্য। সে কীভাবে ইঞ্জিলের ২৭ খানা পুস্তকের লেখক হতে পারল? এটা তার হাস্যকর দাবী।
আল্লাহ পৌলের মত ধর্মগ্রন্থ লেখকদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন।
সুতরাং অভিশাú তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে এবং নিকৃষ্ট মূল্য লাভের জন্য বলে এটা আল্লাহ পাকের নিকট হতে।
তাদের হাত যা রচনা করেছে তার জন্য তাদের শাস্তি অবধারিত এবং তারা যা উপার্জন করে তার জন্যও শাস্তি। (আল-কুর’আন ২ : ৭৯)।
খ্রীষ্টানদের তথাকথিত আল্লাহর বাণী-বাইবেল যেন একটি মোমের ছাঁচ। চার্চের নেতাগণ সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য পূর্ণ করার জন্য যখন যেখানে যতটুকু প্রয়োজন ইচ্ছামত তার মধ্যে সংযোজন,বিয়োজন ও পরিবর্তন করেন।
(বিস্তারিত জানার জন্য ‘সত্যের সন্ধানে’ পৃষ্ঠা নং ১৬৮ থেকে দেখুন)।
পক্ষান্তরে কুর’আন অত্যন্ত শক্তভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ কুর’আনের প্রামাণিকতা সম্বন্ধে যারা সন্দেহ পোষণ করে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
(দেখুন কুর’আন ২:২৩-২৪; ১০:৩৭; ১৭:৮৮; ২৮:৪৯)।
কুর’আনের ছোট একটি অধ্যায়ের মত একটি অধ্যায় রচনা করে দেখানোর ক্ষমতা নেই কোনো মানুষের। আরব দেশগুলোতে এক কোটি চল্লিশ লক্ষ খ্রীষ্টান বাস করে যাদের মাতৃভাষা আরবী। এদের মধ্যে বড় বড় কবি, সাহিত্যিক ও বিজ্ঞানী বিদ্যমান, অনেকেই বড় বড় অভিধান লিখেছেন। ১৪০০ বছর যাবৎ তাদের কেউই আল্লাহ কর্তৃক চ্যালেঞ্জের মুকাবেলা করার সাহস পায়নি। এই অলৌকিক কুর’আনের বিরোধীতা করে যারা পরিবর্তিত বাইবেলের অনুসরণ করে তারা অনন্তকাল দোযখের আগুনে জ্বলবে।
বিখ্যাত দশ আজ্ঞা (ঃবহ পড়সসধহফসবহঃং)
বাইবেলে বর্ণিত আছে, আল্লাহ মূসা (আ.)-এর উপর সীনাই পর্বতে দশ আজ্ঞা অবতীর্ণ করেন। আর মূসা (আ.) বনি-ইস্রায়েলকে তা জানিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, ঈশ্বর এই সকল কথা বলেছেন।
১. আমায় ব্যতিরেকে তোমার অন্য দেবতা না থাকুক (অর্থাৎ আমার সঙ্গে অন্য কাউকে শরীক করো না।)
২. তুমি কোনো মূর্তি নির্মাণ করো না।
৩. তুমি তাদের কাছে প্রণিপাত করো না।
৪. তুমি বিশ্রাম দিন স্মরণ করে পবিত্র করো।
৫. তোমার পিতা ও তোমার মাতাকে সমাদর করো।
৬. নর হত্যা করো না। ৭.ব্যভিচার করো না ৮. চুরি করো না।
৯. তোমার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না।
১০. তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রী কিংবা দাস- দাসীতে … …
অর্থাৎ তার কোনো বস্তুতেই লোভ করো না। পরে ঈশ্বর এই সমস্ত কথা দুইখানা প্রস্তরফলকে লিখে আমাকে দিলেন।
(পবিত্র বাইবেল, পুরাতন ও নূতন নিয়ম, ১৯৭৩ সাল, যাত্রা পুস্তক ২০:৩-১৭ এবং দ্বিতীয় বিবরণ ৫ : ১,১৬-২১)।
এক ব্যক্তি ঈসা (আ.)-কে জিজ্ঞাসা করল, হে গুরু অনন্ত জীবন পাইবার জন্য আমি কিরূপ সৎকর্ম করব? তিনি তাওরাতের অনুসরণে বললেন: আজ্ঞা সকল [মূসার শরীয়ত] পালন করো।
১. তোমার পিতা ও তোমার মাতাকে সমাদর করো।
২. নর হত্যা করো না।
৩.ব্যভিচার করো না।
৪.চুরি করো না।
৫.তোমার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না।
৬. তোমার প্রতিবেশীকে আপনার মত প্রেম করো।
(ঐ, মথি ১৯:১৬-১৯ এবং লুক ১৮:২০)।
তিনি আরো বললেন : মূসার শরীয়তের সব চেয়ে বড় হুকুম- প্রভু, যিনি আমাদের খোদা, তিনি এক, আর তোমার সমস্ত অন্তর, তোমার সমস্ত প্রাণ, তোমার সমস্ত মন দিয়া তোমার প্রভুকে মহব্বত করবে। আর তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত ম‏হব্বত করবে। মূসার গোটা শরীয়ত এবং নবীদের সমস্ত শিক্ষা (অর্থাৎ হককুল্লাহ ও হুকুকুল ইবাদ) এই দুইটি হুকুমের উপরই নির্ভর করে আছে। (২৯:৩১, লুক ১০:২৫-২৫)।
শয়তান তো আল্লাহ পাকের কসম খেয়ে বলেছে-আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে বিপথগামী করে দিব
(কুরআন ৩৮:৮২)।
শয়তানের কাজই হচ্ছে মানুষকে বিপথগামী করে দোযখের দিকে টেনে নেয়া। ঈসা (আ.)-এর প্রকৃত সাহাবা বার্ণবা শয়তান কর্তৃক প্রতারিত ও প্রবঞ্চিত পৌল থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন (“সত্যের সন্ধানে” পুস্তকের পৃষ্ঠা নং ৭৮, বার্ণবা কর্তৃক সংকলিত ইঞ্জিল শরীফের ভূমিকা ও উপসংহার দ্রষ্টব্য) পৌল তার নেতা-ইবলিশের আদেশ পালন করতে শুরুকরে দিলেন। তিনি ঈসা-মূসা (আ.)-এর প্রচারিত ধর্মমতের স¤পূর্ণ বিপরীত মতবাদ প্রচার করতে লাগলেন (“সত্যের সন্ধানে” পুস্তকের ৭০-৭১ পৃষ্ঠায় বিস্তারিত দেখুন) তিনি বললেন: অনন্ত জীবন পাবার জন্য….আজ্ঞা সকল;[ মূসার শরীয়ত] পালন করার কোনই প্রয়োজন নেই। ঈসা মসীহের মধ্য দিয়ে অনন্ত জীবন পাওয়া যাবে।
(ইঞ্জিল শরীফ, রোমীয় ৫ : ২১)।
কিছুদিন পূর্বেই যীশু আপন শিষ্যদের কাছে নিশ্চিত করে বলে গেলেন, আমি মূসার শরীয়ত বাতিল করতে আসি নাই, বরং তা পূর্ণ করতে এসেছি।
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ৫ : ১৭-১৯)
কিন্তু, কি আশ্চর্য! কিছু দিন পরেই ঈসা (আ.) নাকি পৌলের কানে কানে বলে গেলেন (পৌলের ভাষায়) : তুমি মূসার শরীয়ত বাতিল করে ফেল ?

ঈসা (আ.) বলেছেন: এই কথা মনে করো না যে, আমি মূসার শরীয়ত আর নবীদের লেখা বাতিল করতে এসেছি। আমি সেইগুলো বাতিল করতে আসিনি বরং পূর্ণ করতে এসেছি।
আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, যতদিন আসমান ও যমীন লুপ্ত না হবে ততদিন এই শরীয়তের এক বিন্দু কি একমাত্রাও মুছে যাবে না।
(মথি ৫:১৭-১৮) আর পৌল ঘোষণা করে দিলেন:
মূসার শরীয়ত কোনো কিছুকেই পূর্ণতা দান করতে পারেনি। (ইব্রাণী ৭:১৮)
মূসার শরীয়ত দুর্বল ও অকেজো বলে তা বাতিল করা হলো।
(ইব্রাণী ৭:১৯)
মূসার শরীয়ত পুরাতন বলে বাতিল করা হলো। (ইব্রাণী ৭:১৩)
মূসার শরীয়ত ক্রুশে পেরেক দিয়ে গেঁথে বাতিল করা দিয়েছেন।
(কলসীয় ২:১৪)

সুতরাং পৌলের মতে ঈসা-মুসার শরীয়ত মানার কোনোই প্রয়োজন নেই। সে বলেছে শুধু মুখে উচ্চারণ কর ও অন্তরে বিশ্বাস কর যে,ঈসা মৃত্যু থেকে জীবিত হয়েছেন। (প্ররিত ১৬:৩১)
তাহলে বেহেস্ত তোমার জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বেহেস্ত যদি এত সস্তা হয় তবে, দোযখ বানানোর কী প্রয়োজন ছিল? এভাবে ইঞ্জিল লেখক পৌল বেহেস্ত পাওয়া সহজ করে দিয়েছেন। তাই মানুষ দলে দলে ওদের খ্রীষ্টধর্মে ঢুকে পড়েছে। যেমন ভন্ড পীররাও বেহেস্তে পৌছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে মুরীদদের ধন-সম্পদ আদায় করে নেয়। এদের আগ্রাসন থেকে নিজে বাঁচুন পরিবারকে বাঁচান।
পৌল আরো বললেন: তিনি [ঈশ্বর] আমাদের সকল অপরাধ ক্ষমা করেছেন। মূসার যে শরীয়ত আমাদের বিরুদ্ধে ছিল তা মুছে ফেলেছেন এবং ক্রুশকাষ্ঠে পেরেক বিদ্ধ করে তা দূর করেছেন।
(ত্রাণকর্তা প্রভু যীশুখ্রীষ্টের নূতন নিয়ম, কলসীয় ২ :১২-১৪)।
পৌলের উত্তরসুরি প্রটেষ্ট্যান্ট ধর্মমতের প্রতিষ্ঠাতা মার্টিন লুথার পৌলের মতবাদে প্রভাবিত হয়ে তার পুস্তকে লিখেছেন :
আমরা মূসাকেও বিশ্বাস করি না এবং তাঁর উপর অবতীর্ণ তাওরাতেও বিশ্বাস করি না। কারণ, তিনি ছিলেন যীশুর শত্র“। দশ আজ্ঞার সাথে খ্রীষ্টানদের কোনোই সম্পর্ক নাই।….এইগুলো হলো প্রচলিত ধর্মমতের বিরোধী সকল মতবাদের মূল।
(ক্যাথলিক হেরাল্ড, ভলিউম ৯, পৃ. ২৭৭)।
পৌল আরো বললেন : দেখ, আমি পৌল তোমাদের বলছি তোমরা যারা মূসার শরীয়ত পালন করে খোদার নিকট গ্রহণযোগ্য হতে চাও, তোমরা তো মসীহের নিকট থেকে আলাদা হয়ে খোদার রহমত থেকে সরে গিয়েছ।
(ইঞ্জিল শরীফ, গালাতীয় ৫ : ৪)
পৌল এসে শিক্ষা দিল: যীশু সকলের পাপের বোঝা বহন করবে। তিনি ক্রুশকাষ্ঠে প্রাণ দিয়ে খ্রীষ্টানদের সমস্ত পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে গিয়েছেন। যারা মূসার শরীয়ত তথা আজ্ঞা সকল পালন করে তারা খোদার রহমত থেকে সরে যায়। তাহলে পৌলের মতে খোদার রহমত পেতে হলে কি আজ্ঞাগুলোর বিপরীত কাজ করতে হবে? অর্থাৎ ব্যভিচার করো, নর হত্যা করো, চুরি করো, পিতা-মাতাকে সমাদর করো না ইত্যাদি! অর্থাৎ শয়তান তার দলবলের মাধ্যমে তার শপথ অনুযায়ী আদম সন্তানকে বিপথগামী করে দেয়ার কাজ ঠিকভাবেই পালন করে যাচ্ছে।
পূর্বে ঈসা-মূসা (আ.)-এর বিধান ছিল : এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টার প্রতি একনিষ্ঠ বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত সৎকর্ম (শরিয়ত পালন করা) মুক্তি পাওয়ার ভিত্তি, কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না।
(দ্বিতীয় বিবরণ ২৪:১৬ এবং যিহিস্কেল ১৮:২০)
কিন্তু (ইঞ্জিল শরীফ, রোমীয় ৫:৮, ১২-১৯) এখন তারা যত পাপই করুক না কেন, ঈসা (আ:)-এর উপর ঈমান আনলেই খোদা তাদের নির্দোষ বলে গ্রহণ করবেন।
(ইঞ্জিল শরীফ, রোমীয় ৩:১২)।
কোনো পাপ কার্যে তাদের বাধা থাকবে না। পাপের কোনো শাস্তিও তাদের ভোগ করতে হবে না, এক লাফেই তারা বেহেস্তে পৌঁছে যাবে।
মার্টিন লুথার আরো লিখেছেন: যদি তুমি দিনে হাজার বার ব্যভিচার কর ও নর হত্যা করো, কোনো দোষ নেই, শুধু তোমার খাঁটি বিশ্বাসের কারণে মুক্তি পাওয়া তোমার জন্য অবধারিত।
(ক্যাথলিক হেরাল্ড, ভলিউম ৯, পৃ.২৭৭)।

পৌল আরো বললেন: যদি কেহ পাপ করে তবে পিতার কাছে আমাদের সমর্থক একজন সহায় আছেন, তিনি সেই ধর্মময় যীশুখ্রীষ্ট। তিনি আমাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত, এবং কেবল আমাদের নয়, বরং সমস্ত জগতবাসীর পাপের প্রায়শ্চিত্ত।
(ত্রাণকর্তা প্রভু যীশুখ্রীষ্টের নূতন নিয়ম, ১ যোহন, ২:১-২)।
পৌলের এরূপ মিথ্যা উদ্ভাবন কি হাস্যকর! বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.) আত্মীয়-স্বজন, তাঁর চাচা, তাঁর ফুফু এবং স্নেহের কন্যাকে বললেন, দোযখের আগুন থেকে নিজেদের বাঁচাও, আল্লাহর আযাব থেকে আমি তোমাদের বাঁচাতে পারবো না। (সহীহ বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, অধ্যায়-৯)
পৌলের দল নতুন নতুন কথা ঈসা (আ.)-এর মুখে তুলে দিল: যীশু বলেছেন! আমি দুনিয়াতে শান্তি দিতে এসেছি এ কথা মনে করো না। আমি শান্তি দিতে আসিনি, বরং মানুষকে মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে এসেছি। ছেলেকে পিতার বিরুদ্ধে, মেয়েকে মায়ের বিরুদ্ধে, বউকে শাশুড়ীর বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে এসেছি। নিজের পরিবারের লোকেরাই মানুষের শত্র“ হবে।
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ১০ : ৩৪-৩৫ আরো দেখুন নারী অধিকার, পৃষ্ঠা ৫৬)।
এখানে স্ত্রীকে স্বামীর “বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে এসেছি”-কথাটি বাদ পড়েছে। ওদের কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান এসে তা পূর্ণ করে দিচ্ছে। তারা মহিলাদের শিখাচ্ছে: স্বামীর কথা মানব না, সাহেবকে ভুলব না। এভাবে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের শত্র“ হচ্ছে।
প্রিয় পাঠক, আপনাদের কী মনে হয়? কোনো নবী কি তাঁর উম্মতকে এমন কথা শিখাতে পারেন? এভাবে পৌল যীশুর সহচরবৃন্দ ও প্রেরিতদের বর্জন করে রোমীয়, গ্রীক প্রভৃতি অ-ইয়াহুদীদের মধ্যে এমন এক ধর্মমত প্রচার করা শুরু করে দিলেন যা যীশুর প্রচারিত ধর্মমতের সম্পূর্ণ বিপরীত। এ কারণে নতুন নিয়মের এক বিরাট অংশ ঈসা (আ.)-এর দেয়া শিক্ষার বিপরীত। (বিস্তারিত জানার জন্য ‘সত্যের সন্ধানে’ পৃষ্ঠা নং ২৬ থেকে বিপরীত বর্ণনাগুলো দেখুন)
এভাবে পৌলের হাতেই ঈসা (আ.)-এর সত্যধর্ম নষ্ট হয়ে গেল। নিরপেক্ষ খ্রীষ্টান বিশেষজ্ঞদের অভিমত: সেন্ট পৌলই হলেন (সত্যের সন্ধানের ৮৮ পৃষ্ঠায় দেখুন)
বর্তমান কালে খ্রীষ্টধর্ম নামে যে ধর্ম দুনিয়াতে চালু আছে তা ঈসা (আ.) কতৃক প্রচারিত ধর্ম নয় বরং তা পৌল কতৃক প্রচারিত ধর্ম।
২৪শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সালে বড়দিন উপলক্ষে বাংলাদেশের আর্চবিশপ পৌলিনুস কস্তা বলেছিলেন: যীশুখ্রীষ্ট শুধু খ্রীষ্টানদের জন্য এ পৃথিবীতে আসেননি, বরং তিনি এসেছেন বিশ্ববাসীর জন্য।
(দৈনিক ইনকিলাব, ২৪-১২-০৯)।
আচ্ছা, বলুন তো, নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পরে, পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রীর বৈধতা থাকে কিভাবে? যদি না থাকে তাহলে আখেরী নবী (সা.)-এর আগমন হওয়ার পরে ঈসা (আ.)-এর নবুয়ত বলবৎ থাকে কিভাবে? তা ছাড়া যীশুখ্রীষ্ট তো বিশ্ববাসীর জন্যে আসেন নি। তাদের বাইবেলেই এর প্রমাণ আছে। কাজেই মিষ্টার ক্যাথলিক সত্য বলেনি।
ঈসা (আ.) ছিলেন কেবল ইস্রায়ীল জাতির কাছে প্রেরিত রাসূল। (কুর’আন ৩:৪৯; ৬১:৬ দ্রষ্টব্য) তাই যখন তিনি তাঁর প্রেরিতদের ধর্ম প্রচারের জন্য পাঠাতেন তখন তাঁদের বলে দিতেন: ইস্রায়েল কুলের হারান মেষ [ইয়াহুদীদের] ছাড়া আর কাহারও নিকটে আমি প্রেরিত হইনি।
(মথি ১৫:২৪, ২৬)।
সুতরাং তোমরা অ-ইয়াহুদীদের নিকট বা শমরীয়দের কোনো গ্রামে যাবে না, বরং ঈস্রায়েল জাতির হারানো মেষদের নিকটে যাও।
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ১০:৫-৬)।
কিছু দিন পরেই পৌল প্রচার করে দিলেন: যীশু আমাকে দেখা দিয়ে বলেছেন: তুমি যাও, আমি তোমাকে দূরে অ-ইয়াহুদীদের নিকট পাঠাব।
(ইঞ্জিল শরীফ, প্রেরিত ২২: ১৮, ২১; ১৩:৪৭)
ঈসা (আ.)-এর দেয়া শিক্ষাকে অবজ্ঞা করে পৌল গ্রীক ও রোমীয় প্রভৃতি তখনকার অ-ইয়াহুদীদের নিকট গেলেন, গ্রীক ও রোমীয়দের দলে ভিড়ানোর আশায় সে যীশুর ধর্মমতকে পরিবর্তন করে তাদের পৌত্তলিক ধর্মমতের উপযোগী করে তার নতুন ধর্মমত প্রচার করতে লাগলেন। নিজের দল বাড়ানোর জন্য পৌল যেখানে যা প্রয়োজন তাই করতেন। বিশ্বকোষ ব্রিটেনিকা (ভলিউম-৫১৮)-তে বলা হয়েছে:
১. ঞযব ১০০, অ ৎধসশরহম ড়ভ ঃযব সড়ংঃ রহভষঁবহঃরধষ ঢ়বৎংড়হং রহ যরংৎড়ৎু.ঢ়-৮৪
পৌল ছিলেন নীতিজ্ঞানহীন অসৎ সুবিধাবাদী
তিনি করিন্থীয়দের নিকট এক পত্রে লিখেছিলেন:
……..ইয়াহুদীদের জয় করবার জন্য আমি ইয়াহুদীদের নিকট ইয়াহুদীদের মত হয়েছি। যদিও আমি মূসার শরীয়তের অধীন নই, তবুও যারা শরীয়তের অধীনে আছে তাদের জয় করবার জন্য আমি তাদের মত হয়েছি। আবার শরীয়তের বাইরে যারা আছে তাদের জয় করবার জন্য আমি শরীয়তের বাইরে থাকা লোকের মতো হয়েছি।…….’ বিশ্বাসে যারা দুর্বল তাদের নিকট আমি সে রকম লোকের মতই হয়েছি, যেন মসীহের জন্য তাদেরকে সম্পূর্ণভাবে জয় করতে পারি। মোটকথা, আমি সকলের নিকট সকল কিছুই হয়েছি, যেন যে কোনো উপায়ে কিছু লোককে উদ্ধার করতে পারি।
(৯৯৩ পৃষ্ঠায় দেখুন, ইঞ্জিল শরীফ, ১ করিন্থিয় ৯:২০-২৩)
পৌলের দল ইঞ্জিলের সঙ্গে জুড়ে দিল : তোমরা দুনিয়ার সমস্ত জায়গায় যাও এবং সমস্ত লোকের নিকট খোদার দেয়া সুখবর প্রচার কর।
(ইঞ্জিল শরীফ, মার্ক ১৬:১৫)।
মার্ক ১৬:১৫-উদ্ধিৃতিটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে নেই, পরবর্তী যুগে তা জুড়ে দেয়া হয়েছে। অতএব, এটা বানোয়াট।
(মথি ২৮:১৯)
এ যে দাবী করা হয় তার উত্তর হচ্ছে : আমেরিকান ষ্ট্যান্ডার্ড বাইবেলে ইস্রায়েল জাতির বারটি গোত্রের কথা বুঝানো হয়েছে।
সকল নবীর মৌলিক শিক্ষা ছিল এক ও অভিন্ন। আল্লাহ তা’য়ালা নবীদের থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যাতে তাঁরা একে অপরকে সাহায্য করেন ও সমর্থন দান করেন। (কুর’আন ৩ :৮১-৮২ দ্রষ্টাব্য)।
এই শিক্ষার বিপরীত কথা ঈসা (আ.)-এর মুখে তুলে দেয়া হল: যীশু (?)বলেছেন: আমার আগে যারা (যে নবীরা) এসেছিলেন তারা সকলে চোর আর ডাকাত । চোর কেবল চুরি করে, আর ডাকাত খুন ও নষ্ট করার উদ্দেশ্য নিয়েই আসে। আমি এসেছি, যেন তারা জীবন পায়, আর সেই জীবন যেন পরিপূর্ণ হয়। আমিই ভালোরাখাল। আর ভালোরাখাল তার ভেড়ার জন্য নিজের প্রাণ দেয়। (ইঞ্জিল শরীফ, ইউহোন্না ১০:৮-১১)।
ঈসা (আ.) প্রচার করে গেছেন : খোদা এক এবং তিনি ছাড়া আর কোনো খোদা নেই। (ইঞ্জিল শরীফ, মার্ক ১২:৩২)।
অথচ পৌলের দল প্রচার করে যে খোদা তিন জন ১। পিতা ঈশ্বর, ২। পুত্র ঈশ্বর ৩। পবিত্র আত্মা ঈশ্বর। তথাপি তারা তিনজন নন বরং একজন। (সত্যের সন্ধানে পুস্তকের ২৬ নং পৃষ্ঠায় দেখুন।)
ঈসা (আ.) যদি নিজেই খোদা হয়ে থাকেন তবে ক্রুশকাষ্ঠে তিনি কার কাছে অভিযোগ করেছিলেন?

কীভাবে খ্রীষ্টধর্মের উৎপত্তি হলো
ইউহোন্না লিখেছেন, তিনি [যীশু] নিজের দেশে আসলেন, কিন্তু তাঁর নিজের লোকেরাই [ইয়াহুদীরাই] তাঁকে গ্রহণ করল না। (ইউহোন্না ১:১১)।
তাঁর নিজের লোক- ইয়াহুদীরাই তাঁকে প্রত্যাখ্যান করল। সুতরাং যারা সত্য নবীকে প্রত্যাখ্যান করল তারা আর বিশ্বাসী থাকল না, অবিশ্বাসী হয়ে গেল, সত্য ধর্ম থেকে পৃথক হয়ে গেল। তারা নতুন এক ধর্মের জন্ম দিল। যীশু খ্রীষ্টের নামানুসারে তারা নতুন ধর্মের নাম রাখল খ্রীষ্টধর্ম, আর নিজেদের নাম রাখল খ্রীষ্টান। তাদের ধর্মগ্রন্থই এ কথার সাক্ষ্য দিচ্ছে: আর আন্তিয়খিয়াতেই প্রথম খ্রীষ্টিয়ান নামে অভিহিত হলো। (ত্রাণকর্তা প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নূতন নিয়ম, পেরিত ১১ : ২৬ দ্রষ্টব্য)
কুর’আনেও এ কথার প্রমাণ মিলে : যারা নিজেদেরকে খ্রীষ্টিয়ান বলে। (কুর’আন ৫:৮২) সুতরাং তারা নিজেরাই নিজেদেরকে এই প্রথম খ্রীষ্টিয়ান নামে অভিহিত করেছিল ৪৩ খ্রীষ্টাব্দে। ঈসা (আ.)-এর উর্ধে আরোহণের অনেক বছর পর অবিশ্বাসীরা নিজেদের নাম রাখল খ্রীষ্টিয়ান। আল্লাহ তাদেরকে খ্রীষ্টান বলেননি, ঈসা (আ.) ও তাদেরকে খ্রীষ্টান বলে ডাকেননি। সুতরাং খ্রীষ্টান, খ্রীষ্ট ধর্ম, খ্রীষ্টিয়ানিটি, ইত্যাদি বিদ্রোহীদের নিজেদেরই সৃষ্টি, তাদের আবিষ্কার।
ঈসা (আ.)-এর প্রকৃত সাহাবা জেমস, যোহন, পিটার প্রমুখ গণ্যমান্যরা ছিলেন যেরূশালেমের দায়িত্বশীল। তারা শীর্ষস্থানীয় সাহাবা-বার্ণবাকে আন্তিয়খিয়ায় ধর্ম প্রচার করার জন্য প্রেরণ করলেন। (ত্রাণকর্তা প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নতুন নিয়ম, প্রেরিত ১১:২২ দ্রষ্টব্য)।
বার্ণবা আন্তিয়খিয়ার বাইরেও ধর্ম প্রচারের তৎপরতা প্রসারিত করতে চাইলেন, আর তাই তিনি তাঁর সহকারী হিসাবে কাজ করার জন্য পৌলকে ডেকে পাঠালেন।
(বিশ্বকোষ ব্রিটেনিকা, জবধফু ৎবভবৎবহপব. ঠড়ষ পৃ. : ৮২২ দ্রষ্টব্য)।
তাঁরা (বার্ণবা ও পৌল] সম্পূর্ণ এক বৎসর মন্ডলির সহিত মিলিত হয়ে অনেক লোককে খ্রীষ্ট ধর্ম শিক্ষা দিলেন।
(প্রেরিত ১১ : ২৬)
খ্রীষ্টিয়ান বিশেষজ্ঞগণ মন্তব্য করেছন: তারা [বার্ণবা ও পৌল] উভয়ে যৌথ মিশনারী তৎপরতা চালিয়েছিলেন। (প্রেরিত ১৩ এবং ১৪ নং অধ্যায় দ্রষ্টব্য)।
অতঃপর ৪৮ খ্রীষ্টাব্দে যেরূযালেমে চলে যান। (বিশ্বকোষ ব্রিটেনিকা, বার্ণবা প্রসংগ দ্রষ্টব্য) ঈসা (আ.)-এর প্রকৃত সাহাবাগণ পৌলের ধর্মকে সন্দেহ পোষণ করছিলেন।
(ত্রাণকর্তা প্রভু যীশু ধ্রীষ্টের নূতন নিয়ম প্রেরিত ৯:২৬-২৮ দ্রষ্টব্য)।
তখন বার্ণবা পৌলের হাত ধরে প্রেরিত (শিষ্য) দের নিকট নিয়ে গেলেন।
(প্রেরিত ৯ : ২৭)।
বলাবাহুল্য, বার্ণবা যদি পৌলের এই সংকটকালে সাহায্য ও সমর্থন না করতেন, তবে খ্রীষ্ট ধর্মের ইতিহাসে সম্ভবত পৌলের নাম-গন্ধও থাকত না। আজ পৌল হচ্ছেন আধুনিক খ্রীষ্ট ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা, অথচ যীশুর প্রকৃত সাহাবা বার্ণবার কথা উল্লেখ করতে খ্রীষ্টানদের গা ঘিন্ ঘিন্ করে।
গুরুতর ধর্মতত্ত্ব সম্মন্ধীয় মতভেদের কারণে ঈসা (আ.)-এর প্রকৃত সাহাবাগণ পৌল থেকে পৃথক হয়ে গেলেন। (বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন সত্যের সন্ধানে, পবিত্র কুর’আন ও পরিবর্তিত বাইবেল, পৃষ্ঠা নং ৬২ থেকে ১৪২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত)
এখান থেকে খ্রীষ্টানরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে গেল। ঈসা (আ.)-এর প্রকৃত শিষ্যদের বলা হয় জুডিও-খ্রীষ্টান, আর পৌঁলের অনুসারীদের বলা হয় পৌলীয়-খ্রীষ্টান। গুরূতর ধর্মতত্ত্ব সম্মন্ধীয় মতভেদের কারণে পৌল জেরুযালেমে প্রবল বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তাকে তথায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। (ঞযব-১০০ পৃষ্ঠা নং-৬২ দ্রষ্টব্য)।
পৌল বিফল হয়ে দক্ষিণ ইউরোপে তথা রোমীয় ও গ্রীকদের মধ্যে তার মতবাদ প্রচার করতে লাগলেন।
১৪০ খ্রীষ্টাব্দের আগে পর্যন্ত জুডিও-খ্রীষ্টান মতবাদই সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নিজেদের প্রাধান্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল। (সত্যের সন্ধানে, পৃষ্ঠা নং-৭ দেখা যেতে পারে)। কিন্তু পৌল সহজলভ্য মুক্তির যে দরজা খুলে দিয়েছিলো, তা দিয়ে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী জনস্রোতের এমন এক বিরাট বন্যা পৌলীয় খ্রীষ্টধর্মে ঢুকে পড়ল, যাদের সামনে সত্যের বাহক (যীশুর মুষ্টিমেয়) প্রকৃত শিষ্যরা টিকতে পারলেন না।
(সত্যের সন্ধানে, ৯৭ থেকে ৯৯ পৃষ্ঠা পর্যন্তদেখুন)।
পরাজিত জুডিও-খ্রীষ্টানদের অস্তিত্ব আজ আর দুনিয়ার কোথাও নেই। বিজয়ী পৌলীয়-খ্রীষ্টানদের উত্তরসূরীরা স্বভাবতই আজ দুনিয়াতে প্রভাব বিস্তার করে আছে। তারা অবৈধভাবে যীশুর অনুসারী বলে দাবী করছে। প্রকৃতপক্ষে তারা যীশুর অনুসারী নয়, বরং তারা পৌলের অনুসারী।
খ্রীষ্টানরা ঈসা (আ:) এর নাম ব্যবহার করে কিন্তু তারা তাকে মানে না, তারা মানে ঈসা (আ:) এর দুশমন পৌল কে। ইঞ্জিল লেখক পৌল ঈসা (আ) এর দেয়া শিক্ষাকে পেছনে ফেলে পৌলের দেয়া শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নিম্নে দৃষ্টান্ত দেখা যেতে পারে: পৌল বলেছেন: ঈসা (আঃ) এর শিক্ষা প্রাথমিক (ঊষবসঁঃধৎু) শিক্ষা, দুধপানকারী শিশুদের জন্য প্রযোজ্য, প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য নয়।
যারা প্রাপ্ত বয়স্ক (গোস্ত রুটি) খেতে পারে, তাদের জন্য আমার দেয়া শিক্ষ প্রযোজ্য। তা হলে চল, আমরা ঈসা (আ:) এর অপ্যর্ণ শিক্ষাকে পিছনে ফেলে পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাই।
(ইবরানী ৫:১৩ এবং ৬:১)

ইঞ্জিল লেখকরা ঈসা (আ:) এর সাহাবাদের মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। কুর’আন ঈসা (আ:) এর সাহাবাদেরকে মহিমান্বিত করেছেন।
পৌল ঈসা (আ:) এর সাহাবাদের দাষারোপ করেছেন:পৌল পিতরকে ভন্ড বললেন, পৌল বললেন: এন্টিয়কের অন্যান্য ইয়াহুদিরাও পিতরের সঙ্গে এই ভণ্ডামিতে যোগ দিয়েছিল। এমন কি বার্নবাও তাদের ভণ্ডামীর দরুন ভুল পথে পা বাড়িয়ে ছিলেন। (গালাতীয় ২:১৩-১৪)
খ্রীষ্টানধর্মে দীক্ষিত একজন নতুন মানুষ কিভাবে ঈসা (আ:) এর সাহাবাদেরকে ইঞ্জিল না মানার অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করলেন? কতবড় সাহস! স্পর্ধা! সে বলল জামাতের গন্যমান্য লোকেরা যীশুর সাহাবারা সুসংবাদের বিষয় নতুন কোনো কিছুই আমাকে জানাননি। আসলে তারা যা-ই হননা কেন তাতে আমার কিছুই যাই আসে না।
(গালাতীয়২:৬)
পৌল ঈসা (আ:) এর শিষ্যদেরকে অভিশাপ দিলেন, পৌল বললেন যে, (ইঞ্জিল) আমরা তোমাদের কাছে তাবলিগ করেছি তা থেকে আলাদা কোনো সুসংবাদ (আসল ইঞ্জিল ) যদি তোমাদের কাছে তাবলিগ করা হয় তা কোনো ফেরেস্তাই (সাহাবাই) করেন তবে তার উপর দেয়া অভিশাপ পড়–ক।
(গালাতীয় ১:৮)
ইঞ্জিল লেখকরা ঈসা (আ:) এর সাহাবাদের চরিত্রে কলঙ্ক আরোপ করেছেন। কাউকে বলেছেন চোর, কাউকে বলেছেন বিশ্বাসঘাতক ইত্যাদি। ১। জুদাসকে বলেছেন চোর এবং বিশ্বাসঘাতক। আসলে সে (এহুদা) ছিল চোর। টাকার বাক্স তার কাছে থাকত বলে যা কিছু জমা রাখা হত তা থেকে সে চুরি করত।
(ইউহান্না ১২:৬)

২। ঈসা (আ:) পিতরকে বললেন ঃ “আমার কাছ থেকে দূর হও, শয়তান। (মথি ১৬:২৩)
৩। ঈসা (আ:) এর জীবনে সব চাইতে সংকটময় মুহুর্তে উম্মতেরা সবাই তখন ঈসাকে ফেলে পালিয়ে গেলেন।
(মথি ২৬:৫৭)
সৈন্যরা পিতরকে বন্দী করতে এলো। সে ঈসা (আ:) কে অভিশাপ দিলেন, শপথ করে তিনি ঈসাকে অস্বীকার করলেন।
(মথি২৬:৭০,৭২,৭৪,মার্ক১৪:৬৬-৭২। এবং,লুক-২২:৫৪,৬০)

অর্থঃ কুর’আন ঈসা (আ:) এর সাহাবাদের নিরপরাধ (মার্যনা) করেছে এবং তাঁদের প্রসংশা করেছে। এভাবে বাইবেলের ভুলগুলোর সংশোধন
করেছে। আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন: ঈসা যখন বনী ঈস্রায়েলদের কুফরী সর্ম্পকে উপলব্দি করতে পারলেন, তখন বললেন তারা আছে আল্লাহর পথে আমাকে সাহায্য করবে? সাহাবীরা বললেন, আমরা রয়েছি আল্লাহর পথে সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি আর আপনি সাক্ষ্য থাকুন যে, আমরা হুকুম কবুল করে নিয়েছি ।
(কুর’আন ৩:৫২-৬১:১৪)

ইসলাম বিরোধী চক্র খ্রীষ্টানদের ধর্মগ্রন্থ থেকে বাছাই করে কিছু কিছু ভালোকথা মানুষের কাছে প্রচার করে, এভাবে তাদেরকে গোলক-ধাঁধাঁর মধ্যে ফেলে দেয়। মানুষ ওদের প্রতারণা ও প্রবঞ্চনা বুঝতে পারে না। আর স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, বিনোদন কেন্দ্র ইত্যাদি গড়ে ফাঁদ পেতে রাখে। এ সকল ফাঁদে পা দিয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। এভাবে ওরা ধর্মান্তরের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে বিভ্রান্ত হচ্ছে আমাদের সমাজের অসংখ্য সরলপ্রাণ মুসলমান। এ দল যে দেশে প্রবেশ করে সে দেশের পরিবেশ সম্পূর্ণ অপবিত্র ও বিষাক্ত করে ফেলে।
এর একটি বাস্তব প্রমান আমি পেশ করছি:
আয়ারল্যান্ডে ক্যাথলিক স্কুলের বোডিং-এ হাজার হাজার বালক-বালিকারা অবস্থান করে, আর এতিমখানায় লেখাপড়া করে মাতাপিতাহীন শিশুরা। এরূপ হাজার হাজার বালক-বালিকাদের উপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছে খ্রীষ্টান পাদ্রীরা, সন্ন্যাসীরা এবং অন্যান্য ধর্মযাজকেরা। ক্ষমতার অপব্যবহার করে হাজার হাজার নিরীহ ও নিরপরাধ বালক-বালিকাদের সঙ্গে এবং সন্ন্যাসিনীদের সঙ্গে যিনা-ব্যভিচার করা এদের মধ্যে নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার। ক্ষতিগ্রস্তদের ও ধর্ষিতাদের অভিভাবকরা অভিযুক্তদের চাকুরী থেকে বরখাস্ত করাব দাবী জানিয়ে তাদের সমুচিত শাস্তির বিধান করার জন্য পোপের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। ক্যাথলিক খ্রীষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ২০ শে মার্চ, ২০১০ তারিখে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে, তাদের অভিভাবকদের কাছে, আইরিস জনগণের কাছে এবং ক্যাথলিক বিশ্বাসী সদস্যদের উদ্দেশ্য করে এক খোলা পত্র পাঠিয়েছেন। উক্ত পত্রে তিনি দোষ স্বীকার করে দু:খ প্রকাশ করেছেন। এর পর অভিযোগকারীরা এ সকল কাজের জন্য পোপকেও দায়ী করে। এ ব্যাপারে ইন্টারনেটে ডজন খানেক মন্তব্য প্রকাশ পেয়েছে এবং পত্র-পত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়েছে।
খ্রীষ্টধর্মের ধর্মগুরুরা বিশেষ করে বিশ্প, পাদরী, ব্রাদার, সিস্টাররা বিবাহ-শাদী করে না, বরং যিনা-ব্যভিচার করে মানুষের পারিবারিক জীবনকে করে কলুষিত ও কলঙ্কিত। নিজেদের সমাজ ও ধর্মের কুৎসিত দিকটা ওরা দেখে না অথচ মহান নবীর মহান ধর্ম ও তাঁর পাক পবিত্র ব্যক্তিত্বের উপর কলঙ্ক আরোপ করতে চায়। প্রকৃত পক্ষে ওদের জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পেয়েছে, বিবেকের অপমৃত্যু হয়েছে। বি,বি,এস, (ঢাকা) ১৯৮০, নোংরা, অশ্লীল রচনাকে ধর্মের রং পরিয়ে আল্লাহর বাণী বলে চালানোর প্রয়াস পেয়েছে, আর গর্ব করছে: “সারা দুনিয়ার অসংখ্য লোকের অন্তরে খোদাতা’য়ালার এই কালাম পাপ হইতে উদ্ধার, আশা এবং উৎসাহ আনিয়াছে”। তারা কামনা করেছেঃ বাংলাদেশে কোটি কোটি মানুষের জীবনে এই অনুবাদটি যেন এই একইরকমের রহমত বহিয়া আনে। এদের ধোঁকা থেকে নিজে বাঁচুন পরিবারকে বাঁচান।
সকল দিক থেকে মুসলমানদের অবস্থান অত্যন্ত সঠিক
وَقَالَتِ الْيَهُودُ لَيْسَتِ النَّصَـٰرَىٰ عَلَىٰ شَىْءٍ وَقَالَتِ النَّصَـٰرَىٰ لَيْسَتِ الْيَهُودُ عَلَىٰ شَىْءٍ
ইয়াহুদীরা বলে, খ্রীষ্টানরা কোনো ধর্মের ভিত্তির উপরে নয় এবং খ্রীষ্টানরা বলে ইয়াহুদীরা কোনো ধর্মের ভিত্তির উপরে নয়।
(কুর’আন ২ : ১১৩)।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুর’আন পুরাপুরি পালন না করলে ইয়াহুদী-খ্রীষ্টান উভয় দলই কোনো ভিত্তির উপর নেই।
قُلْ يَـٰۤأَهْلَ الْكِتَـٰبِ لَسْتُمْ عَلَىٰ شَىْءٍ حَتَّىٰ تُقِيمُواْ التَّوْرَاةَ وَالإِنجِيلَ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْكُمْ مِّن رَّبِّكُمْ
হে নবী! আপনি বলে দিন : হে আহলে কিতাব (ইয়াহুদী-খ্রীষ্টান) গণ! তোমরা কোনো ধর্মীয় ভিত্তির উপর নও, যে পর্যন্ত না তোমরা তাওরাত-ইঞ্জিল এবং আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে (কুর’আন) পুরাপুরি পালন না কর।
(কুর’আন ৫ : ৬৮)
১.ইয়াহুদীদের দাবী যদি সত্য হয়, তাদের ধর্ম যদি সঠিক হয়, তবে খ্রীষ্টানরা বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। কারণ, তারা তাওরাতে বিশ্বাস করে না, মূসা (আ.) কেও বিশ্বাস করে না। প্রমাণ, যীশু নাকি বলেছিলেন :
আমার আগে যারা এসেছিলেন তারা সকলে চোর আর ডাকাত, কিন্তু ভেড়াগুলো তাদের কথা শুনেনি। আমিই দরজা। যদি কেউ আমার মধ্য দিয়ে ভিতরে ঢুকে, তবে সে পাপ থেকে মুক্তি পাবে।
(ইঞ্জিল শরীফ, ইউহোন্না ১০ : ৮-১১)।
প্রটেষ্ট্যান্ট খ্রীষ্টানরা উপরোল্লিখিত অনুচ্ছেদ দ্বারা পরিচালিত হয়ে বিশ্বাস করে যে, মূসা (আ.) সহ পূর্ববর্তী সকল নবীরাই ছিলেন চোর আর ডাকাত।
প্রটেষ্ট্যান্ট ধর্ম মতের প্রতিষ্ঠাতা মার্টিন লুথার তার পুস্তকে লিখেছেন :
আমরা মূসা (আ.) কেও বিশ্বাস করি না এবং তাঁর উপর অবতীর্ণ তাওরাতেও বিশ্বাস করি না। কারণ, তিনি ছিলেন যীশুর শত্র“। দশ আজ্ঞার সাথে খ্রীষ্টানদের কোনোই সম্বন্ধ নেই এগুলো হলো প্রচলিত ধর্মমতের বিরোধী সকল মতবাদের মূল।
ইয়াহুদীদের দাবী যদি সত্য হয়, মুসলমানরা ইয়াহুদীদের সঙ্গে বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে, কারণ, তারা তাওরাতে বিশ্বাস করে, মূসা (আ.) কেও বিশ্বাস করে। কোন মুসলমানই মুসলমান নয় যদি মূসা (আ.) -কে বিশ্বাস না করে।
২. খ্রীষ্টানদের দাবী যদি সত্য হয়, তাদের ধর্ম যদি সঠিক হয়, তবে ইয়াহুদীরা বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। কারণ, তারা
ইঞ্জিলে বিশ্বাস করে না, ঈসা (আ.) কেও বিশ্বাস করে না। ঈসা (আ.)-এর স্বজাতি ইয়াহুদীরা, মোটের উপর, তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। বাইবেলের বর্ণনা অনুসারে-তিনি নিজের দেশে আসলেন, কিন্তু তাঁর নিজের লোকেরাই তাঁকে গ্রহণ করল না। মুসলমানরা খ্রীষ্টানদের সঙ্গে বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে, কারণ, তারা ইঞ্জিলে বিশ্বাস করে, ঈসা (আ.)-কেও বিশ্বাস করে। কোনো মুসলমানই মুসলমান নয় যদি সে ঈসা (আ.)-কে বিশ্বাস না করে।
৩. কিন্তু মুসলমানদের দাবী যদি সত্য হয়, তাদের ধর্ম যদি সঠিক হয়, (অবশ্যই তাঁদের দাবী সত্য) তবে খ্রীষ্টানরা বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। ইহুয়াদীরাও বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। কারণ, তারা উভয় জাতিই কুর’আনে বিশ্বাস করে না, মুহাম্মদ কেও বিশ্বাস করে না। মুসলমানরা বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে, কারণ, তারা সকল নবীকেই সমভাবে সম্মান করে, মূল আকৃতিতে সকল ধর্ম গ্রন্থগুলোতে তারা বিশ্বাস করে।
(কুর’আন ২ : ২৮৫)

সকল দিক থেকে মুসলমানদের অবস্থান অত্যন্ত সঠিক এবং নির্ভেজাল।

বাইবেল লেখকরা ঈসা (আঃ) এবং তাঁর মাকে অসম্মান করেছে। ঈসা (আঃ) তাঁর মাকে নারী বলে সম্বোধন করলেন, ঈসা তাঁর মাকে বললেন: নারী এই ব্যাপারে তোমার সঙ্গে আমার কি সম্বন্ধ?
(ইউহান্না ২:৩)
ঈসার মা তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য বাহিরে দাড়িয়ে ছিলেন, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন। তিনি বললেন, “কে আমার মা ….. তিনি তাঁর উম্মতদের দেখিয়ে বললেন, এই দেখ, আমার মা….. কারণ, যারা আমার বেহেশতী পিতার ই্চ্ছা পালন করে তারা-ই আমার ভাইবোন আর মা।
(মথি ১২:৪৬-৫০)
ঈসাকে উদ্দেশ্য করে লোকে বলছেন, ঐ দেখ একজন পেটুক ও মদখোর, খাজনা আদায়কারী ও খারাপ লোকদের বন্ধু।
(মথি ১১:১৯) কুর’আন ঈসা (আ:) এবং তার মাকে মহিমান্বিত করেছেঃ কুর’আন বলছে: ঈসা (আ:) তার মায়ের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত অনুগত। ঈসা বললেন, আল্লাহ আমাকে নিদের্শ দিয়েছেন: আমি আমার জননীর অনুগত থাকতে এবং আমাকে তিনি উদৃত ও হতভাগ্য করেননি।
ফেরেস্তারা মরিয়ম (আ:) কে বললেন, হে মরিয়ম! আল্লাহ তোমাকে তার এক বানীর সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম হলো ঈসা…. , দুনিয়া ও আখেরাতে তিনি মহা সম্মানের অধিকারী এবং আল্লাহর ঘনিষ্টদের অন্তর্ভক্ত। (কুর’আন ৩:৪৫)

আল্লাহ বলেছেন: যখন আমি ঈসা (আঃ) এর সাহাবাদের মনে জাগ্রত করলাম যে আমার প্রতি এবং আমার রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তখন তারা বলতে লাগল, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা আনুগত্যশীল।
(কুর’আন ৫:১১১)
খ্রীষ্টানরা ঈসা (আঃ) এর নাম ব্যবহার করে কিন্তু তারা তাকে মানে না
সুতরাং কেউ যদি ঈসা (আঃ) কে ভালোবাসে এবং তার দেয়া শিক্ষা পালন করতে চান তবে তার উচিৎ ইসলাম কবুল করা। খ্রীষ্টানরা ঈসা (আঃ) এর নাম ব্যবহার করে কিন্তু তারা তাকে মানে না। আমরা মুসলমানরা তাকে মানি। কি ভাবে? শুনুন: ঈসা (আঃ) বলতেন ঃযবৎব রং হড় মড়ফ, নঁঃ ড়হব মড়ফ
যার আরবী অনুবাদ:“লাইলাহা ইল্লাল্লাহ” মুসলমানরা বলে “লাইলাহা ইল্লাল্লাহ”।
(মার্ক ১২:৩২)
ঈসা (আ:) এর ১২জন শিষ্যকে নির্দেশ দিলেন “সেই বাড়ীর ভিতরে ঢুকবার সময় তাদের সালাম জানাবে”। (মথি ১০:১২)
আমাদের প্রিয় নবী বলেছেন, কারো বাড়ীতে ঢুকবার সময় সালাম জানাবে।
ঈসা (আ:) তাদের মধ্যে এসে দাড়িয়ে তাদের সবাইকে বললেন, “আস্সালামু আলাই কুম”
ঈসা (আ.) যেরূপে সালাম দিয়েছিলেন মুসলমানগণ সবাইকে অবিকল সেরূপই সালাম দেয়। ঈসা (আ.) শিক্ষা দিয়েছেন “আস্সালামু আলাই কুম” বলতে অথচ খ্রীষ্টানরা বলে,মড়ড়ফ সড়ৎহরহম, মড়ড়ফ বাবহরহম, মড়ড়ফ ধভঃবৎহড়ড়হ
তাহলে কে ঈসাকে অনুসরন করে, খ্রীষ্টানরা নাকি মুসলমানরা?

একজন খ্রীষ্টান যতই ঈসা (আ.) এর দেয়া শিক্ষা গ্রহন করবেন, ততই ইসলামের নিকটবর্তী হবেন। ঈসা (আ.) এর দাড়ি ছিল, মুসলমানরা দাড়ি রাখেন। কিন্তু খ্রীষ্টানারা দাড়ি রাখেন না। সুতরাং কে ঈসাকে মানে, খ্রীষ্টানরা নাকি মুসলমানরা? ঈসা (আ.) রুকু করে, সিজদা দিয়ে নামাজ আদায় করতেন।
(মার্ক ১:৩৫)
মুসলমানরা তেমনি ভাবে নামাজ পড়ে। কিন্তু খ্রীষ্টনরা পড়ে না। ঈসা (আ.) ইসলাম মানতেন। খ্রীষ্টানরা ইসলাম মানে না। বাইবেল ঈসা (আ.) এবং তাঁর সাহাবাদের অভিশাপ দিয়েছে, কিন্তু কুর’আন তাদেরকে মহিমান্বিত করেছে। কেউ যদি ঈসা (আ.) ও তাঁর সাহাবাদেরকে ভালোবাসতে চান, তাকে ইসলাম গ্রহণ করতে হবে। নিম্ন দৃষ্টান্তগুলো দ্রষ্টব্যঃ
ইঞ্জিল লেখকরা ঈসা (আ:) এবং তাঁর মাকে মহা অপবাদ দিয়েছিল, অভিযোগ করা হয়েছিল যে, ঈসা (আ:) অবৈধ ভাবে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন: যেমন তাঁরা (ইস্রায়েল) ঈসাকে বললেন “আমরা তো জারজ নই। আমাদের একজনই পিতা আছেন। সেই পিতা হলেন আল্লাহ”। (ইউহোন্না ৮:২২, কুর’আন ৪:১৫৬ এবং ১৯:১৮)
বাইবেল লেখকরা ঈসা (আ:) কে বললেন অভিশপ্ত (ধপপঁৎংবফ ড়ভ মড়ফ) “যাকে গাছে টাংগানোহয় সেঅভিশপ্ত/ বদদোয়াপ্রাপ্ত (ধপপঁৎংবফ ড়ভ মড়ফ)। সেই জন্যই মুসীহ্ সেই বদদোয়া নিজের উপর নিয়েছিলেন”

(গালাতীয় ৩:১৩)
কুর’আন ঈসা (আ:) কে এবং তাঁর মাতাকে মহিমান্বিত করেছে। কুর’আন ইহুদীদের অভিযোগ খন্ডন করেছে, তাদের আরোপিত মিথ্যা অপবাদ থেকে পাক-পবিত্র ঘোষনা করেছে। আল্লাহ বলেছেন: “মরিয়ম তাঁর সতীত্ব বজায় রেখেছিলেন। অত:পর আমি তাঁর মধ্যে আমার পক্ষ থেকে জীবন ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং সে তাঁর পালনকর্তার বাণী ও কিতাবকে সত্যে পরিণত করেছিল। সে ছিল বিনয় প্রকাশকারীনীদের একজন”।
(কুর’আন ৬৬:১২)
ফেরেস্তারা বলল: হে মরিয়ম! আল্লাহ তোমাকে পছন্দ করেছেন এবং তোমাকে পবিত্র-পরিচ্ছন্ন করে দিয়েছেন। আর তোমাকে বিশ্বনারী সমাজের উর্ধে মনোনীত করেছেন”।
(কুর’আন ৩:৪২)

একটি বাস্তব পরিক্ষা
বাইবেলে বর্ণিত হয়েছে যে, যীশুর উপর যারা ঈমান আনে তাদের মধ্যে নিম্নের চিহ্নগুলো থাকতে হবে; অন্যথায় তারা যীশুর উপর বিশ্বাসী নয়। যীশু যেমন বলেছেন: যারা ঈমান আনে তাদের মধ্যে এই চিহ্নগুলো দেখা যাবেÑ
 আমার নামে তাহারা ভূত ছাড়াইবে।
 তাহারা নতুন নতুন ভাষায় কথা বলবে।
 তাহারা হাতে করিয়া সাপ তুলিয়া ধরবে।
 যদি তাহারা ভীষন বিষাক্ত কিছু খায় তবে তাহাদের কোনো ক্ষতি হইবে না।
 আর তাহারা রোগীদের গায়ে হাত দিলে রোগীরা ভালো হইবে। (মার্ক ১৬:১৭-১৮। আরো দেখুন, মথি ১৭:২০, মার্ক ১১:২২-২৩, এবং ইউহান্না ১৪:১২)
প্রিয় পাঠক-পাঠিকাগণ, শয়তানের দলের আগ্রাসন থেকে মুসলমানদের রক্ষা করা এবং অমুসলমানদের কাছে দ্বীন পৌঁছে দেয়া আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। এতক্ষণ আমি যে সকল দলিল-প্রমাণের সন্ধান আপনাদেরকে দিলাম তা ওদের সামনে পেশ করুন, ওদের সত্যের মধ্যে ছিদ্র দেখিয়ে দিন। ওরা বুঝে না, ইঞ্জিল কিনে ওদের বুঝিয়ে দিন। এভাবে নিজেদের ঈমানী দায়িত্ব পালন করুন, নিজে বাঁচুন, আহালকে বাঁচান।
মানুষের হস্তক্ষেপে পূর্ববর্তী ধর্মগ্রন্থ ইঞ্জিল শরীফ পরিবর্তিত ও বিকৃত হয়ে গেছে। ফলে আর একটি ধর্মগ্রন্থ দুনিয়াতে আসার প্রয়োজন হয়েছে। কুর’আন সেই পবিত্র ও সর্বশেষ গ্রন্থ। আমি আমার বই “সত্যের সন্ধানে”- এ পবিত্র কুর’আন ও পরিবর্তিত বাইবেলের তুলনামূলক আলোচনা পাঠক-পাঠিকার সামনে তুলে ধরেছি। আল্লাহ এটিকে পাঠ করার তৌফিক দিন এবং সকলকে হেদায়েত নছিব করুন।
এই ক্ষুদ্র পুস্তিকাটি প্রকাশনায় যারা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের সকলকে আমি জানাই আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা। পরিশেষে হামদ ও শুকর জানাই মহান আল্লাহ পাকের দরবারে যার রহম ও করম ছাড়া আমাদের পক্ষে এ কাজটি করা সম্ভব হত না। অত:পর সালাত ও সালাম জানাই আমাদের প্রিয় নবী -এর উপর, তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর, তাঁর সাহাবীদের উপর এবং কিয়ামত পর্যন্তআগত তাঁর সকল অনুসারী ও অনুগামীদের উপর। আমি ঐ সকল মুসলমান ভাইবোনদের জন্য দু‘আ করি যারা এ পুস্তিকাটি পাঠ করবেন, যারা এটি ছাপিয়ে বিতরণ করবেন এবং যারা এর প্রচার ও প্রসারের জন্য চেষ্টা করবেন।
শয়তানের আগ্রাসন থেকে, নিজে বাঁচুন, আহালকে বাঁচান
শয়তানের আগ্রাসন থেকে নিজে বাঁচুন, আহালকে বাঁচান, যে শয়তান আমাদের আদি পিতা-মাতাকে বেহেশত থেকে কিভাবে বের করে দিয়েছিল শুনুন :
আমাদের আদি পিতা হযরত আদম (আ.) ও আদি মাতা হাওয়া (আ.) বেহেশতে ছিলেন। সেখানে আল্লাহ তায়ালা আদম (আ.) ও ফেরেশতাদের মধ্যে পরীক্ষা নিলেন। পরীক্ষায় ফেরেশতাদের উপর আদম (আ.)-এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হলো। দুনিয়াতে আদম (আ.)-এর খেলাফত প্রতিষ্ঠার যোগ্যতা স্পষ্ট করে বলে দেয়া হলো। ফেরেশতারা তা মেনে নিলেন কিন্তু মানল না একমাত্র শয়তান-ইবলিশ। সে নিজেকে বড় মনে কুেুর অহংকার ও হঠকারিতা করল। সে বলল :
أَنَاْ خَيْرٌ مِّنْهُ خَلَقْتَنِي مِن نَّارٍ وَخَلَقْتَهُ مِن طِينٍ
“আমি তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁকে করেছেন কাঁদা মাটি থেকে।” (কুরআন-৭:১২)
অহংকার ও হঠকারিতার অপরাধে আল্লাহ তায়ালা তাকে বেহেশত থেকে বের করে দিলেন। শয়তান আদম (আ.)-এর কারণেই অভিশপ্ত হলো মনে করে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকল। সে আদম (আ.)-কে পথভ্রষ্ট করার শপথ করল।
يَـٰبَنِىۤ آدَمَ لاَ يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَٰنُ كَمَآ أَخْرَجَ أَبَوَيْكُم مِّنَ الْجَنَّة يَنزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْءَٰتِهِمَآ.إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لاَ تَرَوْنَهُمْ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَـٰطِينَ أَوْلِيَآءَ لِلَّذِينَ لاَ يُؤْمِنُونَ
“শয়তান বলল: হে আল্লাহ আমাকে কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দিন। আল্লাহ তাকে বেহেশত থেকে বের করে দিলেন সেই আদমের সন্তান যাতে সেই বেহেশতে প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্য আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালাব। আমি আপনার সরল রাস্তার উপরে বসে থাকব। আমি চতুর্দিক থেকে তাদের উপর আক্রমণ চালাব, তাঁদেরকে বেহেশতে প্রবেশ করতে দিব না।”
(কুরআন ৭ : ২৭ দ্রষ্টব্য)।
ইবলিস আল্লাহ পাকের নিকট কসম খেয়ে বলল :
فَبِعِزَّتِكَ لاَُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ
“আপনার ইজ্জতের কসম, আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে বিপথগামী করব”। (কুরআন ৮২- ৩৮)
আল্লাহ তায়ালা বললেন : যা, তুই যা পারিস করগে, তবে মনে রাখিস।
إِنَّ عِبَادِى لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَـٰنٌ
“আমার বিশিষ্ট বান্দাদের উপর তোর কোনো ক্ষমতা চলবে না।”
(১৭:৬৫)
এখান থেকে আমি মনে করি, দু’টি দল হয়ে গেল। একটি হচ্ছেÑ আল্লাহ পাকের খাঁটি বান্দাদের দল, যাকে কুর’আনে বলা হয়েছে ‘হিয্বুল্লাহ’ (حزب الله) আল্লাহ পাকের দল। অন্যটি হচ্ছে ‘হিযবুশ শাইতান’ (حزب الشيطان) শয়তানের দল।
(কুর’আন ৫৮ : ১৯-২১ দ্রষ্টব্য, আরো দেখুন ৯ : ১০)
আল্লাহ তায়ালা আদম সন্তানকে সতর্ক করে দিয়ে বলছেন :
২৭يَـٰبَنِىۤ آدَمَ لاَ يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَـٰنُ كَمَآ أَخْرَجَ أَبَوَيْكُم مِّنَ الْجَنَّةِ يَنزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْءَٰتِهِمَآ إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لاَ تَرَوْنَهُمْ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَـٰطِينَ أَوْلِيَآءَ لِلَّذِينَ لاَ يُؤْمِنُونَ
হে আদম সন্তান! শয়তান যেন তোমাদের কোনো মন্দ কাজে লিপ্ত করতে না পারে। যেমন, সে তোমাদের আদি পিতা-মাতাকে বেহেশত থেকে বের করিয়ে দিয়েছে, এমন অবস্থায় যে, তাঁদের পোশাক তাঁদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছিল, যাতে উভয়ের লজ্জা স্থান উভয়েরই দৃষ্টিগোচর হয়। সে এবং তার দলবল তোমাদের এমনভাবে দেখে যে, তোমরা তাদের দেখ না। আমি শয়তানদেরকে তাদের বন্ধু করে দিয়েছি, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না।
(কুর’আন-৭:২৭)

—————————————————-

তিনি আরো বলেছেন :
إِنَّ الشَّيْطَـٰنَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوّاً إِنَّمَا يَدْعُو حِزْبَهُ لِيَكُونُواْ مِنْ أَصْحَـٰبِ السَّعِيرِ
“শয়তান তোমাদের শত্র“, অতএব তাকে শত্র“রূপেই গ্রহণ কর। সে তার দলবলকে আহ্বান করে, যেন তারা জাহান্নামী হয়।”
(কুর’আন ৩৫ : ৬ দ্রষ্টব্য)।
কুর’আন বলছে, শয়তান দুই প্রকার : জ্বিন শয়তান এবং মানুষ শয়তান।
(কুর’আন ১১৪:৫)

যারা মানুষকে আল্লাহ পাকের রাস্তা থেকে বিরত রাখে, মিথ্যা শপথ করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সঙ্গে আন্তরিক বন্ধুত্ব করে এরা সকলেই শয়তানের দলের সদস্য অর্থাৎ মানুষ শয়তান।
শয়তান প্রতিজ্ঞা করেছে যে, সে সামনে, পিছনে, ডানে, বামে চতুর্দিক থেকে হকপন্থী মানুষের উপর আক্রমণ চালাবে। আজ হচ্ছেও তাই। সত্য ধর্মের অনুসারী খাঁটি মুসলমানরা আজ ভিতরে-বাইরে, সামনে-পিছনে, ডানে-বামে সব দিক থেকে আক্রান্ত হচ্ছে।
শয়তানের প্রতিনিধিত্ব করছে আন্তর্জাতিক ইসলাম বিরোধী চক্র
মানুষ যখন আপন সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে ভুলে অজ্ঞতার ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যেত তখন তিনি তাদের ওপর দয়া পরবশ হয়ে তাদের দুনিয়াতে শান্তি এবং পরকালে মুক্তি দেয়ার উদ্দেশ্যে যুগে যুগে নবী-রাসূলদেরকে পাঠাতেন। তাঁরা মানুষকে মুক্তি ও শান্তির রাস্তা দেখাতেন, তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাতের কথা বোঝাতেন, আল্লাহ্ পাকের দিকে দাওয়াত দিতেন। নবীদের অনুসরণ করে মানুষ শান্তি পেত। নবীদের উপস্থিতিতে শয়তান সুবিধা করতে পারতো না। কিন্তু নবীরা চলে যাওয়ার পরে সে আবার সবল হত, মানুষকে বিপথগামী করার চেষ্টা চালাত।
আদম (আ.)-এর সময় থেকেই শয়তান ও তার দল আল্লাহর বান্দাদেরকে বিপথগামী করার চেষ্টায় আছে। তারা সব যুগেই নবীদের প্রচারিত সত্য ধর্মের বিরোধীতা করে আসছে। বর্তমান যুগে পৃথিবীতে শয়তানের যোগ্য প্রতিনিধিত্ব করছে আন্তর্জাতিক ইসলাম বিরোধী চক্র, ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের অনেকেই। তারা ধরা পৃষ্ঠ থেকে আল্লাহ পাকের মনোনীত একমাত্র ধর্ম-ইসলামকে মুছে ফেলার জন্য আদা-নুন খেয়ে মাঠে নেমেছে।
বনী-ইস্রাঈলের সব নবীদের সাথেই ইয়াহুদীরা দুশমনী করেছিল।
* তারা মূসা (আ.)-এর বিরোধিতা করেছিল,এবং তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল :
* তারা ধর্মকে বিকৃত করত:এবং ওজায়ের (আ.)-কে খোদার পুত্র বলে প্রচার করেছিল,
* অন্যায়ভাবে অনেক নবী-রাসূলদেরকে হত্যা করেছিল।
* মরিয়ম (আ.)-এর প্রতি গুরূতর অপবাদ দিয়েছিল।
(কুর’আন ৪ :১৫৫-১৫৭)।
* তারাই আল্লাহর নিষ্পাপ ও পুণ্যবান বান্দা নবী-রাসূলদের প্রতি যিনা-ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করেছে।
(বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, সত্যের সন্ধানে, পবিত্র কুর’আন ও পরিবর্তিত বাইবেল, পৃ. নং ৭ থেকে ২৫পৃষ্টা পর্যন্তু নবীদের প্রতি আরোপিত অপবাদ)।
এরপর ঈসা (আ.) দুনিয়াতে আগমন করলেন। তিনি মানুষকে মূসা (আ.)-এর প্রচারিত ধর্মের দিকে দাওয়াত দিতে থাকলেন। তখন এই ধূর্ত ও স্বার্থবাজ ইয়াহুদীদের ব্যক্তিগত হীনস্বার্থে নিদারূন আঘাত লাগে। তখন তারা নানাভাবে ঈসা (আ.) ও তাঁর সাহাবাদের বিরোধিতা করতে থাকে। ঈসা (আ:)এর বিরূদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে তৎকালীন সরকার কর্তৃক তাঁকে শুলিকাষ্ঠে চড়িয়ে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে । কিন্তু তারা তাঁকে হত্যা করতে পারেনি, শূলেও চড়াতে পারেনি বরং পরাক্রমশালী আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জীবন্ত আসমানে তুলে নিয়েছেন।
(কুর’আন ৪ : ১৫৭-১৫৯ দ্রষ্টব্য)।
ষড়যন্ত্রকারীরা নিজেদের ব্যর্থতার লজ্জা ঢাকার জন্য প্রচার করে যে, তারা ঈসা (আ.)-কে শুলিকাষ্ঠে চড়িয়ে হত্যা করেছে। এরপর তারা তাঁর ধর্মের মূল ভিত্তি-তাওহীদ, রিসালাত ও আখেরাতের বিশ্বাসকে সমূলে বিনাশ করার জন্য ষড়যন্ত্র করতে থাকে।
পৌল (ঝধঁষ) নামে এক ধূর্ত ইয়াহুদী ছিল সে ঈসা (আ.)-এর শত্র“দের অন্যতম। সে ছিল তৎকালীন প্রশাসনিক ক্ষমতার অধিকারী। সে ঈসা (আ.)-এর অনুসারীদের উপর ভীষণ নির্যাতন চালায়, স্টীফেন সহ অনেককেই মেরে ফেলে।
(ইঞ্জিল শরীফ, প্রেরিত ২২ : ৩ দ্রষ্টব্য)।
সে ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিল যে, যীশুর [খ্রীষ্টানরা ঈসা (আ.)-কে যীশু বলে] অনুসারীদের উপর প্রকাশ্যে বল প্রয়োগ করে তাঁদের অন্তরে বদ্ধমূল আকিদাকে বিকৃত করা সম্ভব নয়। তাই সে মিত্রবেশে উক্ত ধর্মমতকে মিথ্যারূপে রূপান্তরিত করার জন্য মোনাফেকীর রাস্তা অবলম্বন করে। পৌল ইয়াহুদী ধর্ম পরিত্যাগ করত: নিজেকে মিছেমিছি খৃষ্টধর্মে দীক্ষিত বলে প্রকাশ করে।
সে পৌল নাম ধারণ করে সমাজে আত্মপ্রকাশ করে এবং ঈসা (আ.)-এর সত্য ধর্মকে বিকৃত করতে শুরু করে । পৌল তার ধর্ম প্রচারের বৈধতা প্রমাণ করে সমাজের নিকট আস্থা ভাজন হওয়ার জন্য এক অভিনব ফন্দি আটল । সে রাজা অগ্রিপের কাছে গিয়ে বলল :
“দামেস্কে যাবার পথে ঈসা (আ.) এসে তার সঙ্গে দেখা দিয়েছেন, তাকে তাঁর পদ দান করেছেন এবং তাকে অ-ইয়াহুদীদের নিকট ধর্ম প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন?”
(সত্যের সন্ধানের পৃষ্ঠা ৬২ থেকে বিস্তারিত দেখা যেতে পারে)।
এ কথা শুনে লোকেরা তার প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে। পৌল যীশুর জীবদ্দশায় তাঁকে কোনো দিন চিনতও না, তাঁর সঙ্গে পৌলের কখনো সাক্ষাৎও হয়নি বা পরিচয়ও ঘটেনি বরং পৌল ছিল যীশুর ধর্মমতের প্রবল বিরোধী। যীশুর হাতে গড়া শিষ্যরা, তাঁর প্রিয় সঙ্গী-সাথীরা এবং আপন আত্মীয়-স্বজন তাঁর বিরহ বেদনায় ছিলেন জর্জরিত ও মর্মাহত। কিন্তু কি আশ্চার্য! যীশু তাঁদের সঙ্গে দেখা দিলেন না বরং দেখা দিলেন (?) এমন একজন লোকের সঙ্গে যে ছিলেন তাঁর ও তাঁর শিষ্যদের শত্র“ এবং তাঁর ধর্মমতের চরম বিরোধী।
পৌলের হাস্যকর দাবী
পৌল ঘোষণা করে দিলেন যে, ঈসা তার সঙ্গে দেখা দিয়েছেন এবং সেবক ও সাক্ষী হিসাবে তাকে নিযুক্ত করেছেন। (প্রেরিত ২৬ : ১২-১৮ দ্রষ্টব্য)।
পৌলের এ দাবীর সমর্থনে কোনো প্রমাণ নেই। এটা এককভাবে তার নিজস্ব দাবী। এ দাবী সত্যও হতে পারে, মিথ্যাও হতে পারে। কে জানে সে সত্যবাদী, না মিথ্যাবাদী? কিন্তু তার সৃষ্টিকর্তার নিকট সে মিথ্যাবাদীদের একজন। (দেখুন,কুরআন ৩৭:১৫১-১৫২)
তিনি (পৌল) বিভিন্ন মজলিসে এই কথা প্রচার করতে লাগলেন যে, ঈসা-ই খোদার পুত্র। (ইঞ্জিল শরীফ, প্রেরিত ৯ : ২০ দ্রষ্টব্য)।
প্রিয় পাঠক, আপনি যদি কোন খৃষ্টানকে বলেন যে, আপনার মৃত পিতা আমার সঙ্গে দেখা দিয়েছেন এবং আপনার সঙ্গে আমাকে তার স্থাবর-অস্থাবর যাবতীয় সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করেছেন। আপনি কি তা মেনে নিবেন? নিশ্চয়ই কেউ-ই তা মেনে নিবে না। তাহলে ঈসা (আ.) রূহানী জগত থেকে ফিরে এসে তাঁর হাতে গড়া সাহাবাদের বাদ দিয়ে তাঁর নবুওতের কাজে ভাগ বসাতে পৌলকে সেবাকারী ও সাক্ষী হিসাবে নিযুক্ত করেছেনÑ এটা কিভাবে আপনারা মেনে নিতে পারলেন? সুতরাং শৌল ওরফে পৌলের এ সকল পাগলের প্রলাপে যারা বিশ্বাস করে তারা নিশ্চয়ই বোকার স্বর্গে বাস করে।
(পৌলের হাস্যকর দাবী সম্বন্ধে বিস্তারিত জানার জন্য ‘সত্যের সন্ধ্যানে’ পৃষ্ঠা নং ৬২ থেকে দেখুন)
পৌল বলেছেন : মিথ্যা কথা বলার দরুন আরো ভালোভাবে প্রকাশ পায় যে, খোদা সত্যবাদী। এতে যখন খোদা গৌরব লাভ করেন তখন পাপী বলে আমাকে দোষী করা হয় কেন? (ইঞ্জিল শরীফ, রোমীয় ৩ : ৭)
ঈসা (আ.)-এর আনীত সত্যধর্ম বিকৃত করার জন্য পৌল মিথ্যা কথা ও মিথ্যাধর্ম প্রচার করা শুরু করে দিলেন। নতুন নতুন বিষয় রচনা করে ইঞ্জিলের সঙ্গে জুড়ে দিতে লাগলেন। আল্লাহ তায়ালা বলছেন: স্বহস্তে লিখে ওরা বলেÑএটা আল্লাহ পাকের বাণী (কুর’আন ২:৭৯ দ্রষ্টব্য)। বর্তমান ইঞ্জিলের ২৭ খানা পুস্তিকার মধ্যে ১৪ খানাই পৌলের স্বহস্তে লিখা। (সত্যের সন্ধানের ৮৪ পৃষ্ঠায় দ্রষ্টব্য)। পৌল স্বীকার করেছেন যে, তিনি ইঞ্জিলের লেখক। পৌল বলেছেন : আমার ইঞ্জিল অনুসারে তিনি [যীশু] মৃতদের মধ্য থেকে উত্থাপিত। (২ তীমথিয় ২ : ৮) পৌল দাবী করেছেন যে, তিনি যে ইঞ্জিল প্রচার করেন তা কোনো মানুষের নিকট থেকে পাননি বরং যীশুর প্রত্যাদেশ দ্বারা পেয়েছেন।
(গালাতীয় ১ : ১১-১২)।
(?) ফেরেস্তা একমাত্র নবীদের নিকট ওহী (প্রত্যাদেশ) নিয়ে আসেন। পৌল না কোনো নবী, না কোনো নবীর সাহাবা। সে নিজে নিজেই যীশুর শীষ্য বলে দাবী করেছে। সে স্বঘোষিত শিষ্য। সে কীভাবে ইঞ্জিলের ২৭ খানা পুস্তকের লেখক হতে পারল? এটা তার হাস্যকর দাবী।
আল্লাহ পৌলের মত ধর্মগ্রন্থ লেখকদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন।
সুতরাং অভিশাú তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে এবং নিকৃষ্ট মূল্য লাভের জন্য বলে এটা আল্লাহ পাকের নিকট হতে।
তাদের হাত যা রচনা করেছে তার জন্য তাদের শাস্তি অবধারিত এবং তারা যা উপার্জন করে তার জন্যও শাস্তি। (আল-কুর’আন ২ : ৭৯)।
খ্রীষ্টানদের তথাকথিত আল্লাহর বাণী-বাইবেল যেন একটি মোমের ছাঁচ। চার্চের নেতাগণ সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য পূর্ণ করার জন্য যখন যেখানে যতটুকু প্রয়োজন ইচ্ছামত তার মধ্যে সংযোজন,বিয়োজন ও পরিবর্তন করেন।
(বিস্তারিত জানার জন্য ‘সত্যের সন্ধানে’ পৃষ্ঠা নং ১৬৮ থেকে দেখুন)।
পক্ষান্তরে কুর’আন অত্যন্ত শক্তভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ কুর’আনের প্রামাণিকতা সম্বন্ধে যারা সন্দেহ পোষণ করে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
(দেখুন কুর’আন ২:২৩-২৪; ১০:৩৭; ১৭:৮৮; ২৮:৪৯)।
কুর’আনের ছোট একটি অধ্যায়ের মত একটি অধ্যায় রচনা করে দেখানোর ক্ষমতা নেই কোনো মানুষের। আরব দেশগুলোতে এক কোটি চল্লিশ লক্ষ খ্রীষ্টান বাস করে যাদের মাতৃভাষা আরবী। এদের মধ্যে বড় বড় কবি, সাহিত্যিক ও বিজ্ঞানী বিদ্যমান, অনেকেই বড় বড় অভিধান লিখেছেন। ১৪০০ বছর যাবৎ তাদের কেউই আল্লাহ কর্তৃক চ্যালেঞ্জের মুকাবেলা করার সাহস পায়নি। এই অলৌকিক কুর’আনের বিরোধীতা করে যারা পরিবর্তিত বাইবেলের অনুসরণ করে তারা অনন্তকাল দোযখের আগুনে জ্বলবে।
বিখ্যাত দশ আজ্ঞা (ঃবহ পড়সসধহফসবহঃং)
বাইবেলে বর্ণিত আছে, আল্লাহ মূসা (আ.)-এর উপর সীনাই পর্বতে দশ আজ্ঞা অবতীর্ণ করেন। আর মূসা (আ.) বনি-ইস্রায়েলকে তা জানিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, ঈশ্বর এই সকল কথা বলেছেন।
১. আমায় ব্যতিরেকে তোমার অন্য দেবতা না থাকুক (অর্থাৎ আমার সঙ্গে অন্য কাউকে শরীক করো না।)
২. তুমি কোনো মূর্তি নির্মাণ করো না।
৩. তুমি তাদের কাছে প্রণিপাত করো না।
৪. তুমি বিশ্রাম দিন স্মরণ করে পবিত্র করো।
৫. তোমার পিতা ও তোমার মাতাকে সমাদর করো।
৬. নর হত্যা করো না। ৭.ব্যভিচার করো না ৮. চুরি করো না।
৯. তোমার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না।
১০. তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রী কিংবা দাস- দাসীতে … …
অর্থাৎ তার কোনো বস্তুতেই লোভ করো না। পরে ঈশ্বর এই সমস্ত কথা দুইখানা প্রস্তরফলকে লিখে আমাকে দিলেন।
(পবিত্র বাইবেল, পুরাতন ও নূতন নিয়ম, ১৯৭৩ সাল, যাত্রা পুস্তক ২০:৩-১৭ এবং দ্বিতীয় বিবরণ ৫ : ১,১৬-২১)।
এক ব্যক্তি ঈসা (আ.)-কে জিজ্ঞাসা করল, হে গুরু অনন্ত জীবন পাইবার জন্য আমি কিরূপ সৎকর্ম করব? তিনি তাওরাতের অনুসরণে বললেন: আজ্ঞা সকল [মূসার শরীয়ত] পালন করো।
১. তোমার পিতা ও তোমার মাতাকে সমাদর করো।
২. নর হত্যা করো না।
৩.ব্যভিচার করো না।
৪.চুরি করো না।
৫.তোমার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না।
৬. তোমার প্রতিবেশীকে আপনার মত প্রেম করো।
(ঐ, মথি ১৯:১৬-১৯ এবং লুক ১৮:২০)।
তিনি আরো বললেন : মূসার শরীয়তের সব চেয়ে বড় হুকুম- প্রভু, যিনি আমাদের খোদা, তিনি এক, আর তোমার সমস্ত অন্তর, তোমার সমস্ত প্রাণ, তোমার সমস্ত মন দিয়া তোমার প্রভুকে মহব্বত করবে। আর তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত ম‏হব্বত করবে। মূসার গোটা শরীয়ত এবং নবীদের সমস্ত শিক্ষা (অর্থাৎ হককুল্লাহ ও হুকুকুল ইবাদ) এই দুইটি হুকুমের উপরই নির্ভর করে আছে। (২৯:৩১, লুক ১০:২৫-২৫)।
শয়তান তো আল্লাহ পাকের কসম খেয়ে বলেছে-আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে বিপথগামী করে দিব
(কুরআন ৩৮:৮২)।
শয়তানের কাজই হচ্ছে মানুষকে বিপথগামী করে দোযখের দিকে টেনে নেয়া। ঈসা (আ.)-এর প্রকৃত সাহাবা বার্ণবা শয়তান কর্তৃক প্রতারিত ও প্রবঞ্চিত পৌল থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন (“সত্যের সন্ধানে” পুস্তকের পৃষ্ঠা নং ৭৮, বার্ণবা কর্তৃক সংকলিত ইঞ্জিল শরীফের ভূমিকা ও উপসংহার দ্রষ্টব্য) পৌল তার নেতা-ইবলিশের আদেশ পালন করতে শুরুকরে দিলেন। তিনি ঈসা-মূসা (আ.)-এর প্রচারিত ধর্মমতের স¤পূর্ণ বিপরীত মতবাদ প্রচার করতে লাগলেন (“সত্যের সন্ধানে” পুস্তকের ৭০-৭১ পৃষ্ঠায় বিস্তারিত দেখুন) তিনি বললেন: অনন্ত জীবন পাবার জন্য….আজ্ঞা সকল;[ মূসার শরীয়ত] পালন করার কোনই প্রয়োজন নেই। ঈসা মসীহের মধ্য দিয়ে অনন্ত জীবন পাওয়া যাবে।
(ইঞ্জিল শরীফ, রোমীয় ৫ : ২১)।
কিছুদিন পূর্বেই যীশু আপন শিষ্যদের কাছে নিশ্চিত করে বলে গেলেন, আমি মূসার শরীয়ত বাতিল করতে আসি নাই, বরং তা পূর্ণ করতে এসেছি।
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ৫ : ১৭-১৯)
কিন্তু, কি আশ্চর্য! কিছু দিন পরেই ঈসা (আ.) নাকি পৌলের কানে কানে বলে গেলেন (পৌলের ভাষায়) : তুমি মূসার শরীয়ত বাতিল করে ফেল ?

ঈসা (আ.) বলেছেন: এই কথা মনে করো না যে, আমি মূসার শরীয়ত আর নবীদের লেখা বাতিল করতে এসেছি। আমি সেইগুলো বাতিল করতে আসিনি বরং পূর্ণ করতে এসেছি।
আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, যতদিন আসমান ও যমীন লুপ্ত না হবে ততদিন এই শরীয়তের এক বিন্দু কি একমাত্রাও মুছে যাবে না।
(মথি ৫:১৭-১৮) আর পৌল ঘোষণা করে দিলেন:
মূসার শরীয়ত কোনো কিছুকেই পূর্ণতা দান করতে পারেনি। (ইব্রাণী ৭:১৮)
মূসার শরীয়ত দুর্বল ও অকেজো বলে তা বাতিল করা হলো।
(ইব্রাণী ৭:১৯)
মূসার শরীয়ত পুরাতন বলে বাতিল করা হলো। (ইব্রাণী ৭:১৩)
মূসার শরীয়ত ক্রুশে পেরেক দিয়ে গেঁথে বাতিল করা দিয়েছেন।
(কলসীয় ২:১৪)

সুতরাং পৌলের মতে ঈসা-মুসার শরীয়ত মানার কোনোই প্রয়োজন নেই। সে বলেছে শুধু মুখে উচ্চারণ কর ও অন্তরে বিশ্বাস কর যে,ঈসা মৃত্যু থেকে জীবিত হয়েছেন। (প্ররিত ১৬:৩১)
তাহলে বেহেস্ত তোমার জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বেহেস্ত যদি এত সস্তা হয় তবে, দোযখ বানানোর কী প্রয়োজন ছিল? এভাবে ইঞ্জিল লেখক পৌল বেহেস্ত পাওয়া সহজ করে দিয়েছেন। তাই মানুষ দলে দলে ওদের খ্রীষ্টধর্মে ঢুকে পড়েছে। যেমন ভন্ড পীররাও বেহেস্তে পৌছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে মুরীদদের ধন-সম্পদ আদায় করে নেয়। এদের আগ্রাসন থেকে নিজে বাঁচুন পরিবারকে বাঁচান।
পৌল আরো বললেন: তিনি [ঈশ্বর] আমাদের সকল অপরাধ ক্ষমা করেছেন। মূসার যে শরীয়ত আমাদের বিরুদ্ধে ছিল তা মুছে ফেলেছেন এবং ক্রুশকাষ্ঠে পেরেক বিদ্ধ করে তা দূর করেছেন।
(ত্রাণকর্তা প্রভু যীশুখ্রীষ্টের নূতন নিয়ম, কলসীয় ২ :১২-১৪)।
পৌলের উত্তরসুরি প্রটেষ্ট্যান্ট ধর্মমতের প্রতিষ্ঠাতা মার্টিন লুথার পৌলের মতবাদে প্রভাবিত হয়ে তার পুস্তকে লিখেছেন :
আমরা মূসাকেও বিশ্বাস করি না এবং তাঁর উপর অবতীর্ণ তাওরাতেও বিশ্বাস করি না। কারণ, তিনি ছিলেন যীশুর শত্র“। দশ আজ্ঞার সাথে খ্রীষ্টানদের কোনোই সম্পর্ক নাই।….এইগুলো হলো প্রচলিত ধর্মমতের বিরোধী সকল মতবাদের মূল।
(ক্যাথলিক হেরাল্ড, ভলিউম ৯, পৃ. ২৭৭)।
পৌল আরো বললেন : দেখ, আমি পৌল তোমাদের বলছি তোমরা যারা মূসার শরীয়ত পালন করে খোদার নিকট গ্রহণযোগ্য হতে চাও, তোমরা তো মসীহের নিকট থেকে আলাদা হয়ে খোদার রহমত থেকে সরে গিয়েছ।
(ইঞ্জিল শরীফ, গালাতীয় ৫ : ৪)
পৌল এসে শিক্ষা দিল: যীশু সকলের পাপের বোঝা বহন করবে। তিনি ক্রুশকাষ্ঠে প্রাণ দিয়ে খ্রীষ্টানদের সমস্ত পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে গিয়েছেন। যারা মূসার শরীয়ত তথা আজ্ঞা সকল পালন করে তারা খোদার রহমত থেকে সরে যায়। তাহলে পৌলের মতে খোদার রহমত পেতে হলে কি আজ্ঞাগুলোর বিপরীত কাজ করতে হবে? অর্থাৎ ব্যভিচার করো, নর হত্যা করো, চুরি করো, পিতা-মাতাকে সমাদর করো না ইত্যাদি! অর্থাৎ শয়তান তার দলবলের মাধ্যমে তার শপথ অনুযায়ী আদম সন্তানকে বিপথগামী করে দেয়ার কাজ ঠিকভাবেই পালন করে যাচ্ছে।
পূর্বে ঈসা-মূসা (আ.)-এর বিধান ছিল : এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টার প্রতি একনিষ্ঠ বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত সৎকর্ম (শরিয়ত পালন করা) মুক্তি পাওয়ার ভিত্তি, কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না।
(দ্বিতীয় বিবরণ ২৪:১৬ এবং যিহিস্কেল ১৮:২০)
কিন্তু (ইঞ্জিল শরীফ, রোমীয় ৫:৮, ১২-১৯) এখন তারা যত পাপই করুক না কেন, ঈসা (আ:)-এর উপর ঈমান আনলেই খোদা তাদের নির্দোষ বলে গ্রহণ করবেন।
(ইঞ্জিল শরীফ, রোমীয় ৩:১২)।
কোনো পাপ কার্যে তাদের বাধা থাকবে না। পাপের কোনো শাস্তিও তাদের ভোগ করতে হবে না, এক লাফেই তারা বেহেস্তে পৌঁছে যাবে।
মার্টিন লুথার আরো লিখেছেন: যদি তুমি দিনে হাজার বার ব্যভিচার কর ও নর হত্যা করো, কোনো দোষ নেই, শুধু তোমার খাঁটি বিশ্বাসের কারণে মুক্তি পাওয়া তোমার জন্য অবধারিত।
(ক্যাথলিক হেরাল্ড, ভলিউম ৯, পৃ.২৭৭)।

পৌল আরো বললেন: যদি কেহ পাপ করে তবে পিতার কাছে আমাদের সমর্থক একজন সহায় আছেন, তিনি সেই ধর্মময় যীশুখ্রীষ্ট। তিনি আমাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত, এবং কেবল আমাদের নয়, বরং সমস্ত জগতবাসীর পাপের প্রায়শ্চিত্ত।
(ত্রাণকর্তা প্রভু যীশুখ্রীষ্টের নূতন নিয়ম, ১ যোহন, ২:১-২)।
পৌলের এরূপ মিথ্যা উদ্ভাবন কি হাস্যকর! বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.) আত্মীয়-স্বজন, তাঁর চাচা, তাঁর ফুফু এবং স্নেহের কন্যাকে বললেন, দোযখের আগুন থেকে নিজেদের বাঁচাও, আল্লাহর আযাব থেকে আমি তোমাদের বাঁচাতে পারবো না। (সহীহ বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, অধ্যায়-৯)
পৌলের দল নতুন নতুন কথা ঈসা (আ.)-এর মুখে তুলে দিল: যীশু বলেছেন! আমি দুনিয়াতে শান্তি দিতে এসেছি এ কথা মনে করো না। আমি শান্তি দিতে আসিনি, বরং মানুষকে মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে এসেছি। ছেলেকে পিতার বিরুদ্ধে, মেয়েকে মায়ের বিরুদ্ধে, বউকে শাশুড়ীর বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে এসেছি। নিজের পরিবারের লোকেরাই মানুষের শত্র“ হবে।
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ১০ : ৩৪-৩৫ আরো দেখুন নারী অধিকার, পৃষ্ঠা ৫৬)।
এখানে স্ত্রীকে স্বামীর “বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে এসেছি”-কথাটি বাদ পড়েছে। ওদের কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান এসে তা পূর্ণ করে দিচ্ছে। তারা মহিলাদের শিখাচ্ছে: স্বামীর কথা মানব না, সাহেবকে ভুলব না। এভাবে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের শত্র“ হচ্ছে।
প্রিয় পাঠক, আপনাদের কী মনে হয়? কোনো নবী কি তাঁর উম্মতকে এমন কথা শিখাতে পারেন? এভাবে পৌল যীশুর সহচরবৃন্দ ও প্রেরিতদের বর্জন করে রোমীয়, গ্রীক প্রভৃতি অ-ইয়াহুদীদের মধ্যে এমন এক ধর্মমত প্রচার করা শুরু করে দিলেন যা যীশুর প্রচারিত ধর্মমতের সম্পূর্ণ বিপরীত। এ কারণে নতুন নিয়মের এক বিরাট অংশ ঈসা (আ.)-এর দেয়া শিক্ষার বিপরীত। (বিস্তারিত জানার জন্য ‘সত্যের সন্ধানে’ পৃষ্ঠা নং ২৬ থেকে বিপরীত বর্ণনাগুলো দেখুন)
এভাবে পৌলের হাতেই ঈসা (আ.)-এর সত্যধর্ম নষ্ট হয়ে গেল। নিরপেক্ষ খ্রীষ্টান বিশেষজ্ঞদের অভিমত: সেন্ট পৌলই হলেন (সত্যের সন্ধানের ৮৮ পৃষ্ঠায় দেখুন)
বর্তমান কালে খ্রীষ্টধর্ম নামে যে ধর্ম দুনিয়াতে চালু আছে তা ঈসা (আ.) কতৃক প্রচারিত ধর্ম নয় বরং তা পৌল কতৃক প্রচারিত ধর্ম।
২৪শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সালে বড়দিন উপলক্ষে বাংলাদেশের আর্চবিশপ পৌলিনুস কস্তা বলেছিলেন: যীশুখ্রীষ্ট শুধু খ্রীষ্টানদের জন্য এ পৃথিবীতে আসেননি, বরং তিনি এসেছেন বিশ্ববাসীর জন্য।
(দৈনিক ইনকিলাব, ২৪-১২-০৯)।
আচ্ছা, বলুন তো, নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পরে, পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রীর বৈধতা থাকে কিভাবে? যদি না থাকে তাহলে আখেরী নবী (সা.)-এর আগমন হওয়ার পরে ঈসা (আ.)-এর নবুয়ত বলবৎ থাকে কিভাবে? তা ছাড়া যীশুখ্রীষ্ট তো বিশ্ববাসীর জন্যে আসেন নি। তাদের বাইবেলেই এর প্রমাণ আছে। কাজেই মিষ্টার ক্যাথলিক সত্য বলেনি।
ঈসা (আ.) ছিলেন কেবল ইস্রায়ীল জাতির কাছে প্রেরিত রাসূল। (কুর’আন ৩:৪৯; ৬১:৬ দ্রষ্টব্য) তাই যখন তিনি তাঁর প্রেরিতদের ধর্ম প্রচারের জন্য পাঠাতেন তখন তাঁদের বলে দিতেন: ইস্রায়েল কুলের হারান মেষ [ইয়াহুদীদের] ছাড়া আর কাহারও নিকটে আমি প্রেরিত হইনি।
(মথি ১৫:২৪, ২৬)।
সুতরাং তোমরা অ-ইয়াহুদীদের নিকট বা শমরীয়দের কোনো গ্রামে যাবে না, বরং ঈস্রায়েল জাতির হারানো মেষদের নিকটে যাও।
(ইঞ্জিল শরীফ, মথি ১০:৫-৬)।
কিছু দিন পরেই পৌল প্রচার করে দিলেন: যীশু আমাকে দেখা দিয়ে বলেছেন: তুমি যাও, আমি তোমাকে দূরে অ-ইয়াহুদীদের নিকট পাঠাব।
(ইঞ্জিল শরীফ, প্রেরিত ২২: ১৮, ২১; ১৩:৪৭)
ঈসা (আ.)-এর দেয়া শিক্ষাকে অবজ্ঞা করে পৌল গ্রীক ও রোমীয় প্রভৃতি তখনকার অ-ইয়াহুদীদের নিকট গেলেন, গ্রীক ও রোমীয়দের দলে ভিড়ানোর আশায় সে যীশুর ধর্মমতকে পরিবর্তন করে তাদের পৌত্তলিক ধর্মমতের উপযোগী করে তার নতুন ধর্মমত প্রচার করতে লাগলেন। নিজের দল বাড়ানোর জন্য পৌল যেখানে যা প্রয়োজন তাই করতেন। বিশ্বকোষ ব্রিটেনিকা (ভলিউম-৫১৮)-তে বলা হয়েছে:
১. ঞযব ১০০, অ ৎধসশরহম ড়ভ ঃযব সড়ংঃ রহভষঁবহঃরধষ ঢ়বৎংড়হং রহ যরংৎড়ৎু.ঢ়-৮৪
পৌল ছিলেন নীতিজ্ঞানহীন অসৎ সুবিধাবাদী
তিনি করিন্থীয়দের নিকট এক পত্রে লিখেছিলেন:
……..ইয়াহুদীদের জয় করবার জন্য আমি ইয়াহুদীদের নিকট ইয়াহুদীদের মত হয়েছি। যদিও আমি মূসার শরীয়তের অধীন নই, তবুও যারা শরীয়তের অধীনে আছে তাদের জয় করবার জন্য আমি তাদের মত হয়েছি। আবার শরীয়তের বাইরে যারা আছে তাদের জয় করবার জন্য আমি শরীয়তের বাইরে থাকা লোকের মতো হয়েছি।…….’ বিশ্বাসে যারা দুর্বল তাদের নিকট আমি সে রকম লোকের মতই হয়েছি, যেন মসীহের জন্য তাদেরকে সম্পূর্ণভাবে জয় করতে পারি। মোটকথা, আমি সকলের নিকট সকল কিছুই হয়েছি, যেন যে কোনো উপায়ে কিছু লোককে উদ্ধার করতে পারি।
(৯৯৩ পৃষ্ঠায় দেখুন, ইঞ্জিল শরীফ, ১ করিন্থিয় ৯:২০-২৩)
পৌলের দল ইঞ্জিলের সঙ্গে জুড়ে দিল : তোমরা দুনিয়ার সমস্ত জায়গায় যাও এবং সমস্ত লোকের নিকট খোদার দেয়া সুখবর প্রচার কর।
(ইঞ্জিল শরীফ, মার্ক ১৬:১৫)।
মার্ক ১৬:১৫-উদ্ধিৃতিটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে নেই, পরবর্তী যুগে তা জুড়ে দেয়া হয়েছে। অতএব, এটা বানোয়াট।
(মথি ২৮:১৯)
এ যে দাবী করা হয় তার উত্তর হচ্ছে : আমেরিকান ষ্ট্যান্ডার্ড বাইবেলে ইস্রায়েল জাতির বারটি গোত্রের কথা বুঝানো হয়েছে।
সকল নবীর মৌলিক শিক্ষা ছিল এক ও অভিন্ন। আল্লাহ তা’য়ালা নবীদের থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যাতে তাঁরা একে অপরকে সাহায্য করেন ও সমর্থন দান করেন। (কুর’আন ৩ :৮১-৮২ দ্রষ্টাব্য)।
এই শিক্ষার বিপরীত কথা ঈসা (আ.)-এর মুখে তুলে দেয়া হল: যীশু (?)বলেছেন: আমার আগে যারা (যে নবীরা) এসেছিলেন তারা সকলে চোর আর ডাকাত । চোর কেবল চুরি করে, আর ডাকাত খুন ও নষ্ট করার উদ্দেশ্য নিয়েই আসে। আমি এসেছি, যেন তারা জীবন পায়, আর সেই জীবন যেন পরিপূর্ণ হয়। আমিই ভালোরাখাল। আর ভালোরাখাল তার ভেড়ার জন্য নিজের প্রাণ দেয়। (ইঞ্জিল শরীফ, ইউহোন্না ১০:৮-১১)।
ঈসা (আ.) প্রচার করে গেছেন : খোদা এক এবং তিনি ছাড়া আর কোনো খোদা নেই। (ইঞ্জিল শরীফ, মার্ক ১২:৩২)।
অথচ পৌলের দল প্রচার করে যে খোদা তিন জন ১। পিতা ঈশ্বর, ২। পুত্র ঈশ্বর ৩। পবিত্র আত্মা ঈশ্বর। তথাপি তারা তিনজন নন বরং একজন। (সত্যের সন্ধানে পুস্তকের ২৬ নং পৃষ্ঠায় দেখুন।)
ঈসা (আ.) যদি নিজেই খোদা হয়ে থাকেন তবে ক্রুশকাষ্ঠে তিনি কার কাছে অভিযোগ করেছিলেন?

কীভাবে খ্রীষ্টধর্মের উৎপত্তি হলো
ইউহোন্না লিখেছেন, তিনি [যীশু] নিজের দেশে আসলেন, কিন্তু তাঁর নিজের লোকেরাই [ইয়াহুদীরাই] তাঁকে গ্রহণ করল না। (ইউহোন্না ১:১১)।
তাঁর নিজের লোক- ইয়াহুদীরাই তাঁকে প্রত্যাখ্যান করল। সুতরাং যারা সত্য নবীকে প্রত্যাখ্যান করল তারা আর বিশ্বাসী থাকল না, অবিশ্বাসী হয়ে গেল, সত্য ধর্ম থেকে পৃথক হয়ে গেল। তারা নতুন এক ধর্মের জন্ম দিল। যীশু খ্রীষ্টের নামানুসারে তারা নতুন ধর্মের নাম রাখল খ্রীষ্টধর্ম, আর নিজেদের নাম রাখল খ্রীষ্টান। তাদের ধর্মগ্রন্থই এ কথার সাক্ষ্য দিচ্ছে: আর আন্তিয়খিয়াতেই প্রথম খ্রীষ্টিয়ান নামে অভিহিত হলো। (ত্রাণকর্তা প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নূতন নিয়ম, পেরিত ১১ : ২৬ দ্রষ্টব্য)
কুর’আনেও এ কথার প্রমাণ মিলে : যারা নিজেদেরকে খ্রীষ্টিয়ান বলে। (কুর’আন ৫:৮২) সুতরাং তারা নিজেরাই নিজেদেরকে এই প্রথম খ্রীষ্টিয়ান নামে অভিহিত করেছিল ৪৩ খ্রীষ্টাব্দে। ঈসা (আ.)-এর উর্ধে আরোহণের অনেক বছর পর অবিশ্বাসীরা নিজেদের নাম রাখল খ্রীষ্টিয়ান। আল্লাহ তাদেরকে খ্রীষ্টান বলেননি, ঈসা (আ.) ও তাদেরকে খ্রীষ্টান বলে ডাকেননি। সুতরাং খ্রীষ্টান, খ্রীষ্ট ধর্ম, খ্রীষ্টিয়ানিটি, ইত্যাদি বিদ্রোহীদের নিজেদেরই সৃষ্টি, তাদের আবিষ্কার।
ঈসা (আ.)-এর প্রকৃত সাহাবা জেমস, যোহন, পিটার প্রমুখ গণ্যমান্যরা ছিলেন যেরূশালেমের দায়িত্বশীল। তারা শীর্ষস্থানীয় সাহাবা-বার্ণবাকে আন্তিয়খিয়ায় ধর্ম প্রচার করার জন্য প্রেরণ করলেন। (ত্রাণকর্তা প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নতুন নিয়ম, প্রেরিত ১১:২২ দ্রষ্টব্য)।
বার্ণবা আন্তিয়খিয়ার বাইরেও ধর্ম প্রচারের তৎপরতা প্রসারিত করতে চাইলেন, আর তাই তিনি তাঁর সহকারী হিসাবে কাজ করার জন্য পৌলকে ডেকে পাঠালেন।
(বিশ্বকোষ ব্রিটেনিকা, জবধফু ৎবভবৎবহপব. ঠড়ষ পৃ. : ৮২২ দ্রষ্টব্য)।
তাঁরা (বার্ণবা ও পৌল] সম্পূর্ণ এক বৎসর মন্ডলির সহিত মিলিত হয়ে অনেক লোককে খ্রীষ্ট ধর্ম শিক্ষা দিলেন।
(প্রেরিত ১১ : ২৬)
খ্রীষ্টিয়ান বিশেষজ্ঞগণ মন্তব্য করেছন: তারা [বার্ণবা ও পৌল] উভয়ে যৌথ মিশনারী তৎপরতা চালিয়েছিলেন। (প্রেরিত ১৩ এবং ১৪ নং অধ্যায় দ্রষ্টব্য)।
অতঃপর ৪৮ খ্রীষ্টাব্দে যেরূযালেমে চলে যান। (বিশ্বকোষ ব্রিটেনিকা, বার্ণবা প্রসংগ দ্রষ্টব্য) ঈসা (আ.)-এর প্রকৃত সাহাবাগণ পৌলের ধর্মকে সন্দেহ পোষণ করছিলেন।
(ত্রাণকর্তা প্রভু যীশু ধ্রীষ্টের নূতন নিয়ম প্রেরিত ৯:২৬-২৮ দ্রষ্টব্য)।
তখন বার্ণবা পৌলের হাত ধরে প্রেরিত (শিষ্য) দের নিকট নিয়ে গেলেন।
(প্রেরিত ৯ : ২৭)।
বলাবাহুল্য, বার্ণবা যদি পৌলের এই সংকটকালে সাহায্য ও সমর্থন না করতেন, তবে খ্রীষ্ট ধর্মের ইতিহাসে সম্ভবত পৌলের নাম-গন্ধও থাকত না। আজ পৌল হচ্ছেন আধুনিক খ্রীষ্ট ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা, অথচ যীশুর প্রকৃত সাহাবা বার্ণবার কথা উল্লেখ করতে খ্রীষ্টানদের গা ঘিন্ ঘিন্ করে।
গুরুতর ধর্মতত্ত্ব সম্মন্ধীয় মতভেদের কারণে ঈসা (আ.)-এর প্রকৃত সাহাবাগণ পৌল থেকে পৃথক হয়ে গেলেন। (বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন সত্যের সন্ধানে, পবিত্র কুর’আন ও পরিবর্তিত বাইবেল, পৃষ্ঠা নং ৬২ থেকে ১৪২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত)
এখান থেকে খ্রীষ্টানরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে গেল। ঈসা (আ.)-এর প্রকৃত শিষ্যদের বলা হয় জুডিও-খ্রীষ্টান, আর পৌঁলের অনুসারীদের বলা হয় পৌলীয়-খ্রীষ্টান। গুরূতর ধর্মতত্ত্ব সম্মন্ধীয় মতভেদের কারণে পৌল জেরুযালেমে প্রবল বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তাকে তথায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। (ঞযব-১০০ পৃষ্ঠা নং-৬২ দ্রষ্টব্য)।
পৌল বিফল হয়ে দক্ষিণ ইউরোপে তথা রোমীয় ও গ্রীকদের মধ্যে তার মতবাদ প্রচার করতে লাগলেন।
১৪০ খ্রীষ্টাব্দের আগে পর্যন্ত জুডিও-খ্রীষ্টান মতবাদই সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নিজেদের প্রাধান্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল। (সত্যের সন্ধানে, পৃষ্ঠা নং-৭ দেখা যেতে পারে)। কিন্তু পৌল সহজলভ্য মুক্তির যে দরজা খুলে দিয়েছিলো, তা দিয়ে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী জনস্রোতের এমন এক বিরাট বন্যা পৌলীয় খ্রীষ্টধর্মে ঢুকে পড়ল, যাদের সামনে সত্যের বাহক (যীশুর মুষ্টিমেয়) প্রকৃত শিষ্যরা টিকতে পারলেন না।
(সত্যের সন্ধানে, ৯৭ থেকে ৯৯ পৃষ্ঠা পর্যন্তদেখুন)।
পরাজিত জুডিও-খ্রীষ্টানদের অস্তিত্ব আজ আর দুনিয়ার কোথাও নেই। বিজয়ী পৌলীয়-খ্রীষ্টানদের উত্তরসূরীরা স্বভাবতই আজ দুনিয়াতে প্রভাব বিস্তার করে আছে। তারা অবৈধভাবে যীশুর অনুসারী বলে দাবী করছে। প্রকৃতপক্ষে তারা যীশুর অনুসারী নয়, বরং তারা পৌলের অনুসারী।
খ্রীষ্টানরা ঈসা (আ:) এর নাম ব্যবহার করে কিন্তু তারা তাকে মানে না, তারা মানে ঈসা (আ:) এর দুশমন পৌল কে। ইঞ্জিল লেখক পৌল ঈসা (আ) এর দেয়া শিক্ষাকে পেছনে ফেলে পৌলের দেয়া শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নিম্নে দৃষ্টান্ত দেখা যেতে পারে: পৌল বলেছেন: ঈসা (আঃ) এর শিক্ষা প্রাথমিক (ঊষবসঁঃধৎু) শিক্ষা, দুধপানকারী শিশুদের জন্য প্রযোজ্য, প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য নয়।
যারা প্রাপ্ত বয়স্ক (গোস্ত রুটি) খেতে পারে, তাদের জন্য আমার দেয়া শিক্ষ প্রযোজ্য। তা হলে চল, আমরা ঈসা (আ:) এর অপ্যর্ণ শিক্ষাকে পিছনে ফেলে পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাই।
(ইবরানী ৫:১৩ এবং ৬:১)

ইঞ্জিল লেখকরা ঈসা (আ:) এর সাহাবাদের মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। কুর’আন ঈসা (আ:) এর সাহাবাদেরকে মহিমান্বিত করেছেন।
পৌল ঈসা (আ:) এর সাহাবাদের দাষারোপ করেছেন:পৌল পিতরকে ভন্ড বললেন, পৌল বললেন: এন্টিয়কের অন্যান্য ইয়াহুদিরাও পিতরের সঙ্গে এই ভণ্ডামিতে যোগ দিয়েছিল। এমন কি বার্নবাও তাদের ভণ্ডামীর দরুন ভুল পথে পা বাড়িয়ে ছিলেন। (গালাতীয় ২:১৩-১৪)
খ্রীষ্টানধর্মে দীক্ষিত একজন নতুন মানুষ কিভাবে ঈসা (আ:) এর সাহাবাদেরকে ইঞ্জিল না মানার অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করলেন? কতবড় সাহস! স্পর্ধা! সে বলল জামাতের গন্যমান্য লোকেরা যীশুর সাহাবারা সুসংবাদের বিষয় নতুন কোনো কিছুই আমাকে জানাননি। আসলে তারা যা-ই হননা কেন তাতে আমার কিছুই যাই আসে না।
(গালাতীয়২:৬)
পৌল ঈসা (আ:) এর শিষ্যদেরকে অভিশাপ দিলেন, পৌল বললেন যে, (ইঞ্জিল) আমরা তোমাদের কাছে তাবলিগ করেছি তা থেকে আলাদা কোনো সুসংবাদ (আসল ইঞ্জিল ) যদি তোমাদের কাছে তাবলিগ করা হয় তা কোনো ফেরেস্তাই (সাহাবাই) করেন তবে তার উপর দেয়া অভিশাপ পড়–ক।
(গালাতীয় ১:৮)
ইঞ্জিল লেখকরা ঈসা (আ:) এর সাহাবাদের চরিত্রে কলঙ্ক আরোপ করেছেন। কাউকে বলেছেন চোর, কাউকে বলেছেন বিশ্বাসঘাতক ইত্যাদি। ১। জুদাসকে বলেছেন চোর এবং বিশ্বাসঘাতক। আসলে সে (এহুদা) ছিল চোর। টাকার বাক্স তার কাছে থাকত বলে যা কিছু জমা রাখা হত তা থেকে সে চুরি করত।
(ইউহান্না ১২:৬)

২। ঈসা (আ:) পিতরকে বললেন ঃ “আমার কাছ থেকে দূর হও, শয়তান। (মথি ১৬:২৩)
৩। ঈসা (আ:) এর জীবনে সব চাইতে সংকটময় মুহুর্তে উম্মতেরা সবাই তখন ঈসাকে ফেলে পালিয়ে গেলেন।
(মথি ২৬:৫৭)
সৈন্যরা পিতরকে বন্দী করতে এলো। সে ঈসা (আ:) কে অভিশাপ দিলেন, শপথ করে তিনি ঈসাকে অস্বীকার করলেন।
(মথি২৬:৭০,৭২,৭৪,মার্ক১৪:৬৬-৭২। এবং,লুক-২২:৫৪,৬০)

অর্থঃ কুর’আন ঈসা (আ:) এর সাহাবাদের নিরপরাধ (মার্যনা) করেছে এবং তাঁদের প্রসংশা করেছে। এভাবে বাইবেলের ভুলগুলোর সংশোধন
করেছে। আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন: ঈসা যখন বনী ঈস্রায়েলদের কুফরী সর্ম্পকে উপলব্দি করতে পারলেন, তখন বললেন তারা আছে আল্লাহর পথে আমাকে সাহায্য করবে? সাহাবীরা বললেন, আমরা রয়েছি আল্লাহর পথে সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি আর আপনি সাক্ষ্য থাকুন যে, আমরা হুকুম কবুল করে নিয়েছি ।
(কুর’আন ৩:৫২-৬১:১৪)

ইসলাম বিরোধী চক্র খ্রীষ্টানদের ধর্মগ্রন্থ থেকে বাছাই করে কিছু কিছু ভালোকথা মানুষের কাছে প্রচার করে, এভাবে তাদেরকে গোলক-ধাঁধাঁর মধ্যে ফেলে দেয়। মানুষ ওদের প্রতারণা ও প্রবঞ্চনা বুঝতে পারে না। আর স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, বিনোদন কেন্দ্র ইত্যাদি গড়ে ফাঁদ পেতে রাখে। এ সকল ফাঁদে পা দিয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। এভাবে ওরা ধর্মান্তরের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে বিভ্রান্ত হচ্ছে আমাদের সমাজের অসংখ্য সরলপ্রাণ মুসলমান। এ দল যে দেশে প্রবেশ করে সে দেশের পরিবেশ সম্পূর্ণ অপবিত্র ও বিষাক্ত করে ফেলে।
এর একটি বাস্তব প্রমান আমি পেশ করছি:
আয়ারল্যান্ডে ক্যাথলিক স্কুলের বোডিং-এ হাজার হাজার বালক-বালিকারা অবস্থান করে, আর এতিমখানায় লেখাপড়া করে মাতাপিতাহীন শিশুরা। এরূপ হাজার হাজার বালক-বালিকাদের উপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছে খ্রীষ্টান পাদ্রীরা, সন্ন্যাসীরা এবং অন্যান্য ধর্মযাজকেরা। ক্ষমতার অপব্যবহার করে হাজার হাজার নিরীহ ও নিরপরাধ বালক-বালিকাদের সঙ্গে এবং সন্ন্যাসিনীদের সঙ্গে যিনা-ব্যভিচার করা এদের মধ্যে নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার। ক্ষতিগ্রস্তদের ও ধর্ষিতাদের অভিভাবকরা অভিযুক্তদের চাকুরী থেকে বরখাস্ত করাব দাবী জানিয়ে তাদের সমুচিত শাস্তির বিধান করার জন্য পোপের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। ক্যাথলিক খ্রীষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ২০ শে মার্চ, ২০১০ তারিখে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে, তাদের অভিভাবকদের কাছে, আইরিস জনগণের কাছে এবং ক্যাথলিক বিশ্বাসী সদস্যদের উদ্দেশ্য করে এক খোলা পত্র পাঠিয়েছেন। উক্ত পত্রে তিনি দোষ স্বীকার করে দু:খ প্রকাশ করেছেন। এর পর অভিযোগকারীরা এ সকল কাজের জন্য পোপকেও দায়ী করে। এ ব্যাপারে ইন্টারনেটে ডজন খানেক মন্তব্য প্রকাশ পেয়েছে এবং পত্র-পত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়েছে।
খ্রীষ্টধর্মের ধর্মগুরুরা বিশেষ করে বিশ্প, পাদরী, ব্রাদার, সিস্টাররা বিবাহ-শাদী করে না, বরং যিনা-ব্যভিচার করে মানুষের পারিবারিক জীবনকে করে কলুষিত ও কলঙ্কিত। নিজেদের সমাজ ও ধর্মের কুৎসিত দিকটা ওরা দেখে না অথচ মহান নবীর মহান ধর্ম ও তাঁর পাক পবিত্র ব্যক্তিত্বের উপর কলঙ্ক আরোপ করতে চায়। প্রকৃত পক্ষে ওদের জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পেয়েছে, বিবেকের অপমৃত্যু হয়েছে। বি,বি,এস, (ঢাকা) ১৯৮০, নোংরা, অশ্লীল রচনাকে ধর্মের রং পরিয়ে আল্লাহর বাণী বলে চালানোর প্রয়াস পেয়েছে, আর গর্ব করছে: “সারা দুনিয়ার অসংখ্য লোকের অন্তরে খোদাতা’য়ালার এই কালাম পাপ হইতে উদ্ধার, আশা এবং উৎসাহ আনিয়াছে”। তারা কামনা করেছেঃ বাংলাদেশে কোটি কোটি মানুষের জীবনে এই অনুবাদটি যেন এই একইরকমের রহমত বহিয়া আনে। এদের ধোঁকা থেকে নিজে বাঁচুন পরিবারকে বাঁচান।
সকল দিক থেকে মুসলমানদের অবস্থান অত্যন্ত সঠিক
وَقَالَتِ الْيَهُودُ لَيْسَتِ النَّصَـٰرَىٰ عَلَىٰ شَىْءٍ وَقَالَتِ النَّصَـٰرَىٰ لَيْسَتِ الْيَهُودُ عَلَىٰ شَىْءٍ
ইয়াহুদীরা বলে, খ্রীষ্টানরা কোনো ধর্মের ভিত্তির উপরে নয় এবং খ্রীষ্টানরা বলে ইয়াহুদীরা কোনো ধর্মের ভিত্তির উপরে নয়।
(কুর’আন ২ : ১১৩)।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুর’আন পুরাপুরি পালন না করলে ইয়াহুদী-খ্রীষ্টান উভয় দলই কোনো ভিত্তির উপর নেই।
قُلْ يَـٰۤأَهْلَ الْكِتَـٰبِ لَسْتُمْ عَلَىٰ شَىْءٍ حَتَّىٰ تُقِيمُواْ التَّوْرَاةَ وَالإِنجِيلَ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْكُمْ مِّن رَّبِّكُمْ
হে নবী! আপনি বলে দিন : হে আহলে কিতাব (ইয়াহুদী-খ্রীষ্টান) গণ! তোমরা কোনো ধর্মীয় ভিত্তির উপর নও, যে পর্যন্ত না তোমরা তাওরাত-ইঞ্জিল এবং আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে (কুর’আন) পুরাপুরি পালন না কর।
(কুর’আন ৫ : ৬৮)
১.ইয়াহুদীদের দাবী যদি সত্য হয়, তাদের ধর্ম যদি সঠিক হয়, তবে খ্রীষ্টানরা বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। কারণ, তারা তাওরাতে বিশ্বাস করে না, মূসা (আ.) কেও বিশ্বাস করে না। প্রমাণ, যীশু নাকি বলেছিলেন :
আমার আগে যারা এসেছিলেন তারা সকলে চোর আর ডাকাত, কিন্তু ভেড়াগুলো তাদের কথা শুনেনি। আমিই দরজা। যদি কেউ আমার মধ্য দিয়ে ভিতরে ঢুকে, তবে সে পাপ থেকে মুক্তি পাবে।
(ইঞ্জিল শরীফ, ইউহোন্না ১০ : ৮-১১)।
প্রটেষ্ট্যান্ট খ্রীষ্টানরা উপরোল্লিখিত অনুচ্ছেদ দ্বারা পরিচালিত হয়ে বিশ্বাস করে যে, মূসা (আ.) সহ পূর্ববর্তী সকল নবীরাই ছিলেন চোর আর ডাকাত।
প্রটেষ্ট্যান্ট ধর্ম মতের প্রতিষ্ঠাতা মার্টিন লুথার তার পুস্তকে লিখেছেন :
আমরা মূসা (আ.) কেও বিশ্বাস করি না এবং তাঁর উপর অবতীর্ণ তাওরাতেও বিশ্বাস করি না। কারণ, তিনি ছিলেন যীশুর শত্র“। দশ আজ্ঞার সাথে খ্রীষ্টানদের কোনোই সম্বন্ধ নেই এগুলো হলো প্রচলিত ধর্মমতের বিরোধী সকল মতবাদের মূল।
ইয়াহুদীদের দাবী যদি সত্য হয়, মুসলমানরা ইয়াহুদীদের সঙ্গে বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে, কারণ, তারা তাওরাতে বিশ্বাস করে, মূসা (আ.) কেও বিশ্বাস করে। কোন মুসলমানই মুসলমান নয় যদি মূসা (আ.) -কে বিশ্বাস না করে।
২. খ্রীষ্টানদের দাবী যদি সত্য হয়, তাদের ধর্ম যদি সঠিক হয়, তবে ইয়াহুদীরা বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। কারণ, তারা
ইঞ্জিলে বিশ্বাস করে না, ঈসা (আ.) কেও বিশ্বাস করে না। ঈসা (আ.)-এর স্বজাতি ইয়াহুদীরা, মোটের উপর, তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। বাইবেলের বর্ণনা অনুসারে-তিনি নিজের দেশে আসলেন, কিন্তু তাঁর নিজের লোকেরাই তাঁকে গ্রহণ করল না। মুসলমানরা খ্রীষ্টানদের সঙ্গে বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে, কারণ, তারা ইঞ্জিলে বিশ্বাস করে, ঈসা (আ.)-কেও বিশ্বাস করে। কোনো মুসলমানই মুসলমান নয় যদি সে ঈসা (আ.)-কে বিশ্বাস না করে।
৩. কিন্তু মুসলমানদের দাবী যদি সত্য হয়, তাদের ধর্ম যদি সঠিক হয়, (অবশ্যই তাঁদের দাবী সত্য) তবে খ্রীষ্টানরা বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। ইহুয়াদীরাও বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। কারণ, তারা উভয় জাতিই কুর’আনে বিশ্বাস করে না, মুহাম্মদ কেও বিশ্বাস করে না। মুসলমানরা বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে, কারণ, তারা সকল নবীকেই সমভাবে সম্মান করে, মূল আকৃতিতে সকল ধর্ম গ্রন্থগুলোতে তারা বিশ্বাস করে।
(কুর’আন ২ : ২৮৫)

সকল দিক থেকে মুসলমানদের অবস্থান অত্যন্ত সঠিক এবং নির্ভেজাল।

বাইবেল লেখকরা ঈসা (আঃ) এবং তাঁর মাকে অসম্মান করেছে। ঈসা (আঃ) তাঁর মাকে নারী বলে সম্বোধন করলেন, ঈসা তাঁর মাকে বললেন: নারী এই ব্যাপারে তোমার সঙ্গে আমার কি সম্বন্ধ?
(ইউহান্না ২:৩)
ঈসার মা তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য বাহিরে দাড়িয়ে ছিলেন, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন। তিনি বললেন, “কে আমার মা ….. তিনি তাঁর উম্মতদের দেখিয়ে বললেন, এই দেখ, আমার মা….. কারণ, যারা আমার বেহেশতী পিতার ই্চ্ছা পালন করে তারা-ই আমার ভাইবোন আর মা।
(মথি ১২:৪৬-৫০)
ঈসাকে উদ্দেশ্য করে লোকে বলছেন, ঐ দেখ একজন পেটুক ও মদখোর, খাজনা আদায়কারী ও খারাপ লোকদের বন্ধু।
(মথি ১১:১৯) কুর’আন ঈসা (আ:) এবং তার মাকে মহিমান্বিত করেছেঃ কুর’আন বলছে: ঈসা (আ:) তার মায়ের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত অনুগত। ঈসা বললেন, আল্লাহ আমাকে নিদের্শ দিয়েছেন: আমি আমার জননীর অনুগত থাকতে এবং আমাকে তিনি উদৃত ও হতভাগ্য করেননি।
ফেরেস্তারা মরিয়ম (আ:) কে বললেন, হে মরিয়ম! আল্লাহ তোমাকে তার এক বানীর সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম হলো ঈসা…. , দুনিয়া ও আখেরাতে তিনি মহা সম্মানের অধিকারী এবং আল্লাহর ঘনিষ্টদের অন্তর্ভক্ত। (কুর’আন ৩:৪৫)

আল্লাহ বলেছেন: যখন আমি ঈসা (আঃ) এর সাহাবাদের মনে জাগ্রত করলাম যে আমার প্রতি এবং আমার রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তখন তারা বলতে লাগল, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা আনুগত্যশীল।
(কুর’আন ৫:১১১)
খ্রীষ্টানরা ঈসা (আঃ) এর নাম ব্যবহার করে কিন্তু তারা তাকে মানে না
সুতরাং কেউ যদি ঈসা (আঃ) কে ভালোবাসে এবং তার দেয়া শিক্ষা পালন করতে চান তবে তার উচিৎ ইসলাম কবুল করা। খ্রীষ্টানরা ঈসা (আঃ) এর নাম ব্যবহার করে কিন্তু তারা তাকে মানে না। আমরা মুসলমানরা তাকে মানি। কি ভাবে? শুনুন: ঈসা (আঃ) বলতেন ঃযবৎব রং হড় মড়ফ, নঁঃ ড়হব মড়ফ
যার আরবী অনুবাদ:“লাইলাহা ইল্লাল্লাহ” মুসলমানরা বলে “লাইলাহা ইল্লাল্লাহ”।
(মার্ক ১২:৩২)
ঈসা (আ:) এর ১২জন শিষ্যকে নির্দেশ দিলেন “সেই বাড়ীর ভিতরে ঢুকবার সময় তাদের সালাম জানাবে”। (মথি ১০:১২)
আমাদের প্রিয় নবী বলেছেন, কারো বাড়ীতে ঢুকবার সময় সালাম জানাবে।
ঈসা (আ:) তাদের মধ্যে এসে দাড়িয়ে তাদের সবাইকে বললেন, “আস্সালামু আলাই কুম”
ঈসা (আ.) যেরূপে সালাম দিয়েছিলেন মুসলমানগণ সবাইকে অবিকল সেরূপই সালাম দেয়। ঈসা (আ.) শিক্ষা দিয়েছেন “আস্সালামু আলাই কুম” বলতে অথচ খ্রীষ্টানরা বলে,মড়ড়ফ সড়ৎহরহম, মড়ড়ফ বাবহরহম, মড়ড়ফ ধভঃবৎহড়ড়হ
তাহলে কে ঈসাকে অনুসরন করে, খ্রীষ্টানরা নাকি মুসলমানরা? একজন খ্রীষ্টান যতই ঈসা (আ.) এর দেয়া শিক্ষা গ্রহন করবেন, ততই ইসলামের নিকটবর্তী হবেন। ঈসা (আ.) এর দাড়ি ছিল, মুসলমানরা দাড়ি রাখেন। কিন্তু খ্রীষ্টানারা দাড়ি রাখেন না। সুতরাং কে ঈসাকে মানে, খ্রীষ্টানরা নাকি মুসলমানরা? ঈসা (আ.) রুকু করে, সিজদা দিয়ে নামাজ আদায় করতেন।
(মার্ক ১:৩৫)
মুসলমানরা তেমনি ভাবে নামাজ পড়ে। কিন্তু খ্রীষ্টনরা পড়ে না। ঈসা (আ.) ইসলাম মানতেন। খ্রীষ্টানরা ইসলাম মানে না। বাইবেল ঈসা (আ.) এবং তাঁর সাহাবাদের অভিশাপ দিয়েছে, কিন্তু কুর’আন তাদেরকে মহিমান্বিত করেছে। কেউ যদি ঈসা (আ.) ও তাঁর সাহাবাদেরকে ভালোবাসতে চান, তাকে ইসলাম গ্রহণ করতে হবে। নিম্ন দৃষ্টান্তগুলো দ্রষ্টব্যঃ
ইঞ্জিল লেখকরা ঈসা (আ:) এবং তাঁর মাকে মহা অপবাদ দিয়েছিল, অভিযোগ করা হয়েছিল যে, ঈসা (আ:) অবৈধ ভাবে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন: যেমন তাঁরা (ইস্রায়েল) ঈসাকে বললেন “আমরা তো জারজ নই। আমাদের একজনই পিতা আছেন। সেই পিতা হলেন আল্লাহ”। (ইউহোন্না ৮:২২, কুর’আন ৪:১৫৬ এবং ১৯:১৮)
বাইবেল লেখকরা ঈসা (আ:) কে বললেন অভিশপ্ত (ধপপঁৎংবফ ড়ভ মড়ফ) “যাকে গাছে টাংগানোহয় সেঅভিশপ্ত/ বদদোয়াপ্রাপ্ত (ধপপঁৎংবফ ড়ভ মড়ফ)। সেই জন্যই মুসীহ্ সেই বদদোয়া নিজের উপর নিয়েছিলেন”

(গালাতীয় ৩:১৩)
কুর’আন ঈসা (আ:) কে এবং তাঁর মাতাকে মহিমান্বিত করেছে। কুর’আন ইহুদীদের অভিযোগ খন্ডন করেছে, তাদের আরোপিত মিথ্যা অপবাদ থেকে পাক-পবিত্র ঘোষনা করেছে। আল্লাহ বলেছেন: “মরিয়ম তাঁর সতীত্ব বজায় রেখেছিলেন। অত:পর আমি তাঁর মধ্যে আমার পক্ষ থেকে জীবন ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং সে তাঁর পালনকর্তার বাণী ও কিতাবকে সত্যে পরিণত করেছিল। সে ছিল বিনয় প্রকাশকারীনীদের একজন”।
(কুর’আন ৬৬:১২)
ফেরেস্তারা বলল: হে মরিয়ম! আল্লাহ তোমাকে পছন্দ করেছেন এবং তোমাকে পবিত্র-পরিচ্ছন্ন করে দিয়েছেন। আর তোমাকে বিশ্বনারী সমাজের উর্ধে মনোনীত করেছেন”।
(কুর’আন ৩:৪২)

একটি বাস্তব পরিক্ষা
বাইবেলে বর্ণিত হয়েছে যে, যীশুর উপর যারা ঈমান আনে তাদের মধ্যে নিম্নের চিহ্নগুলো থাকতে হবে; অন্যথায় তারা যীশুর উপর বিশ্বাসী নয়। যীশু যেমন বলেছেন: যারা ঈমান আনে তাদের মধ্যে এই চিহ্নগুলো দেখা যাবেÑ
 আমার নামে তাহারা ভূত ছাড়াইবে।
 তাহারা নতুন নতুন ভাষায় কথা বলবে।
 তাহারা হাতে করিয়া সাপ তুলিয়া ধরবে।
 যদি তাহারা ভীষন বিষাক্ত কিছু খায় তবে তাহাদের কোনো ক্ষতি হইবে না।
 আর তাহারা রোগীদের গায়ে হাত দিলে রোগীরা ভালো হইবে। (মার্ক ১৬:১৭-১৮। আরো দেখুন, মথি ১৭:২০, মার্ক ১১:২২-২৩, এবং ইউহান্না ১৪:১২)
প্রিয় পাঠক-পাঠিকাগণ, শয়তানের দলের আগ্রাসন থেকে মুসলমানদের রক্ষা করা এবং অমুসলমানদের কাছে দ্বীন পৌঁছে দেয়া আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। এতক্ষণ আমি যে সকল দলিল-প্রমাণের সন্ধান আপনাদেরকে দিলাম তা ওদের সামনে পেশ করুন, ওদের সত্যের মধ্যে ছিদ্র দেখিয়ে দিন। ওরা বুঝে না, ইঞ্জিল কিনে ওদের বুঝিয়ে দিন। এভাবে নিজেদের ঈমানী দায়িত্ব পালন করুন, নিজে বাঁচুন, আহালকে বাঁচান।
মানুষের হস্তক্ষেপে পূর্ববর্তী ধর্মগ্রন্থ ইঞ্জিল শরীফ পরিবর্তিত ও বিকৃত হয়ে গেছে। ফলে আর একটি ধর্মগ্রন্থ দুনিয়াতে আসার প্রয়োজন হয়েছে। কুর’আন সেই পবিত্র ও সর্বশেষ গ্রন্থ। আমি আমার বই “সত্যের সন্ধানে”- এ পবিত্র কুর’আন ও পরিবর্তিত বাইবেলের তুলনামূলক আলোচনা পাঠক-পাঠিকার সামনে তুলে ধরেছি। আল্লাহ এটিকে পাঠ করার তৌফিক দিন এবং সকলকে হেদায়েত নছিব করুন।
এই ক্ষুদ্র পুস্তিকাটি প্রকাশনায় যারা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের সকলকে আমি জানাই আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা। পরিশেষে হামদ ও শুকর জানাই মহান আল্লাহ পাকের দরবারে যার রহম ও করম ছাড়া আমাদের পক্ষে এ কাজটি করা সম্ভব হত না। অত:পর সালাত ও সালাম জানাই আমাদের প্রিয় নবী -এর উপর, তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর, তাঁর সাহাবীদের উপর এবং কিয়ামত পর্যন্তআগত তাঁর সকল অনুসারী ও অনুগামীদের উপর। আমি ঐ সকল মুসলমান ভাইবোনদের জন্য দু‘আ করি যারা এ পুস্তিকাটি পাঠ করবেন, যারা এটি ছাপিয়ে বিতরণ করবেন এবং যারা এর প্রচার ও প্রসারের জন্য চেষ্টা করবেন।

বি.দ্র.
* কুর’আন শরীফের আয়াতের উদ্ধৃতিগুলোর প্রথমে সূরার ক্রমিক নম্বর, পরে আয়াতের ক্রমিক নং দেয়া হয়েছে। যেমন কুর’আন (৫৮:১৯)। এখানে ‘৫৮’ কুর’আন শরীফের ‘৫৮’ নং সূরা এবং ‘১৯’ ঐ সূরার আয়াত নং। অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থগুলোর ক্ষেত্রে প্রথমে পুস্তিকার নাম, পরে অধ্যায়ের ক্রমিক নং, এরপরে বাক্যের ক্রমিক নং দেয়া হয়েছে। যেমন, মথি (৫:১৭)। এখানে ‘মথি’ বাইবেলের একটি পুস্তিকার নাম মথি লিখিত ইঞ্জিল। ‘৫’ পুস্তিকার ‘৫’ নং অধ্যায় এবং ‘১৭’ উক্ত অধ্যায়ের বাক্যের ক্রমিক নং।

শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হাই