সফলতার সহজ পথের এক নববী পদ্ধতি

সফলতার সহজ পথের এক নববী পদ্ধতি
দুনিয়ার প্রতিটি মানুষ সফলতা চায়, এর জন্যই নিজ নিজ পদ্ধতিতে চেষ্টা সাধানা করে। সে যেই লাইনে নিজের সফলতা মনে করে সেই লাইনেই লেগে যায়। বিভিন্ন রঙ্গের মানুষের জন্য আল্লাহ তা‘লা বিভিন্ন রঙ্গের মেজাজ ও রুচি দান করেছেন। এই রুচি অনুযায়ী তাদের চিন্তাধারা ও সামনে চলে এসেছে। কেউ মনে করছে ব্যবসা বানিজ্য সফলতা রয়েছে। তাই রাত দিনের আরাম ও সুখ সেখানেই ব্যয় করছে। কিছু লোক মনে করছে চাকুরীতেই সফলতা রয়েছে। কেউ আবার ক্ষেত কর্মে, কেউ আবার নেত্রিত্বের মধ্যে সফলতা মনে করে, তার মধ্যে সর্বদা লিপ্ত থাকে। এমন কি কিছু মানুষ তো জুওয়া, চুরি, ডাকাতির মধ্যে সফলতা মনে করে জীবন জাপন করছে। কতো মানুষ আর কতো লাইনে ও পথ প্রত্যেকেই তার নিজেস্ব লাইনেই সফলতা মনে করে।
বুদ্ধিমান তো সেই, যে রাস্থায় চলার পূর্বে নির্দিষ্টভাবে যেনে নেয় যে, আমি যেই পথ খুজছি, সে পথ কোথায়? আর কোন পথে চললে তা পাওয়া যাবে। পূর্ব থেকে না জেনেই রাস্তায় চলা শুরু করেদেয়, তাহলে তার গন্তব্যে যাওয়ার পরিবর্তে উল্টা পথে চলবে। ফলে তার রাস্তা পুরো উল্টা হয়ে যাবে। পা উঠালেই গন্তব্য থেকে দূরুত্ব বারতে থাকবে এই জন্য যে ব্যক্তি সফলতা অন্মেষণ করে, তার জন্য জরুরী নিজের জন্য কোনো পথ খোজার পূর্বে ঠিক মতো জেনে নেওয়া যে, সফলতা কি? আর এই সফলতা কোন পথে চললে পাওয়া যাবে। এর জন্য দুনিয়ার বিভিন্ন স্থানের মানুষের রায়ও ভিন্ন। আর প্রত্যেকের ধারনা তার রায় ও সিদ্ধান্তই সঠিক। বাস্তবতাও এই যে, প্রত্যেকে এই কারনে নিজের রায়কে প্রধান্য দেয়। এর উপর তাদের শতভাগ বিশ^াস রয়েছে যে, এর মধ্যে সফলতা আছে।
একজন সাধাসিধে মানুষ সোজা পথে চলার পূর্বে যদি জানতে চায়, এতো গুলো পথের মধ্যে কোনটি সঠিক পথ? কোন পথে চললে সফলতা অজর্ন হবে। বা এগুলো ছাড়াও কোন পথে চললে সফলতা আসবে।
জ্ঞানীদের সর্বসম্মত উসূল মূলনীতি হল, যে কোনো লাইনের হোক, সেই লাইনের সবচেয়ে বেশী অভিজ্ঞ মানুষের রায় গ্রহণ যোগ্য হয়। নির্মানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ইঞ্জিনিয়ারের কথা বেশী গ্রহণ যোগ্য। আইনের ক্ষেত্রে উদাহরণ সরুপ আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় আদালত হল সুপ্রিম কোর্র্র্ট। আর প্রধান বিচার পতির কথা সবচেয়ে বেশী গ্রহণ যোগ্য মনে করা হয়। তার সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত মনে করা হয়। এর পর কোনো আপিলের সুযোগ থাকে না। মোট কথা আমাদের সকলে এ ব্যাপারে একমত যে, যে কোনো ক্ষেত্রে ঐ লাইনের সবচেয়ে বেশী অভিজ্ঞ মানুষের কথা সবচেয়ে বেশী গ্রহণ যোগ্য। ঠিক তেমনি সফলতার ব্যাপারে সফলতা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশী জ্ঞাত ব্যক্তির কথা বেশী গ্রহন যোগ্য হবে। আল হামদুলিল্লাহ আমরা মুসলমান। আমরা সবাই বিশ^াস করি যে, সফলতার ব্যাপারে বরং সব কিছু সম্পর্র্কে সব চেয়ে বেশী জ্ঞাত মহান সত্বা। যিনি সফলতা দ্বান কারী বরং সকল কিছুর স্রষ্টা। জ্ঞানীদের মূলনীতি অনুযায়ী সফলতার ¯্রষ্টা, সর্বজ্ঞ মহান আল্লাহ তা’য়ালা। যেটাকে সফল বলেছেন সেই পথই সফল। উনার মোকাবেলায় কোনো বড় বড় বিশ্লেষকের বা সেই ফনের সেই মাহের ব্যক্তির রায়ের এতোটুকু মূল্যনেই যেমন ড্রেনের কিড়ার রায়ের মূল্য যেমন একজন ইঞ্জিনিয়ারের কাছে নাই।
সফলতা কি? এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ তা’য়ালা তার কালামে পাক যা আমাদের জন্য জীবন বিধান এই মহা পবিত্র গ্রন্থে সফলতা কী তা নিজেই বর্ণনা করছেন-
وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ
অর্থ কুরাআন অন্তরের রুগের শিফা আর সর্ব অবস্থায় পথনির্শে ও রহমত
মুমিনদের জন্য।

কুরআনে কারিম থেকে সফলতার ঠিকানা জানা যায়। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-
كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ.
অর্থ . ৩.১৮৫ প্রত্যেক প্রাণীকে আ¯¦াদন করতে হবে মৃত্যু। আর তোমরা কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ বদলা প্রাপ্ত হবে। তারপর যাকে দোযখ থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, তার কার্যসিদ্ধি ঘটবে। আর পার্থিব জীবন ধোঁকা ছাড়া অন্য কোন স¤পদ নয়।
কুরআনের সিদ্ধান্ত হল যে ব্যক্তি এমন ভাবে জীবন জাপন করবে মৃত্যুর পর জাহান্নাম হতে মুক্তি পেয়ে জান্নাতের পারওয়ানা পেয়ে যাবে। আর এটাই হল সফলতা فَقَدْ فَازَ যার অর্থ হল অবশ্যই সে সফল হবে।
আল্লাহ তা’য়ালার মহান বাণী দ্বারা একথা প্রমানিত হল যে, একজন ব্যক্তি এমন ভাবে জীবন জাপন করল, সর্ব প্রকার বিলাশিতা অজর্ন করেছে। বড় বড় কুঠিরে ও প্রাসাদে বসবাস করে। বড় বড় পদে সমাসিন। রাজত্বের মালিক জীবনে কোনো দিন কোনো প্রকারের দুঃখ কষ্ট স্পর্শ করে নি। কিন্তু মৃত্যুর সময় ঘোষণা হল এই দূর্ভাগা, যা জাহান্নামে যা। দুযখের ইন্ধন হও। তাহলে এটা হবে ধ্বংশ ও ব্যার্থতার এর বিপরিত যদি কোনো ব্যক্তি জীবনে কোনো দিন আনন্দের মুখ দেখে নি। পুরো জীবন দুঃখ কষ্টে কাটিয়েছে। শরীরে পুুকা লেগে থাকত, ঠিকমত খাবার মিলতনা। মিলত না থাকার জন্য একটি ঝুপরি। কিন্তু মৃত্যুর পর ঘোষণা হল, হে আমার প্রিয় বান্দা! আমি তোমার উপর সন্তুষ্ট। যাও জান্নাতে প্রবেশ কর। পকৃত পক্ষে এই লোক সফল ও কামিয়াব।
একজন জ্ঞানি ব্যক্তির জন্য উচিৎ সে যখন জীবনের উদ্দেশ্য ও সফলতা কোনো লাইনে বলতে চায়, সে যেন জাহান্নাম থেকে বেচে জান্নাতে যাওয়ার সিদ্ধান্তই যেন বেছে নেয়।
আর ঐ গন্তব্যে পৌছার জন্য যদি নিশ্চিত কোনো পদ্ধিতি পাওয়া যায় তাহলে তা অর্জনের জন্য জীবন বাজী লাগানো উচিৎ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কোনো ধরনের আবেদন ছাড়াই তার অনুগ্রহে ইসলাম ধর্মের মত মহা নেয়ামত দান করেছেন। যার মাধ্যমে আমাদের বড় বড় সমস্যার সমাধান বলে দিয়েছেন। লক্ষ কোটি দরুদ ও সালাম নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর। যিনি এতো সহজ সমাধান আমাদের পর্যন্ত পৌছিয়েছেন। কঠিন কঠিন সমস্যা অল্পতেই সমাধান দিয়েছেন। জাহান্নাম হতে মুক্তি আর জান্নাতে যাওয়ার নিশ্চিৎ এক পদ্ধতি আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন। ঈমাম তিরমিযি রহ: হাদিসের বিশুদ্ধতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন هذا حديث حسن صحيح হাদিসটি হল এই-
عن انس بن مالك قال قال رسول الله صلي الله عليه و سلم يا بني ان قدرت ان تصبح وتمسي وليس في قلبك غش لأحد فا فعل و ذالك من سنتي ومن احب سنتي فقد احبني من احبني كان معي في الجنة ـ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খাদেম হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা:) বর্ণনা করেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব আদর করে বললেন, হে বৎস! তোমার সকাল সন্ধা যদি এমন করতে পার যে, তোমার অন্তরে কারো প্রতি কোনো ময়লা, কিনা না থাকে তাহলে তোমার জবানকে এমন করিও কারণ এটা হল, আমার বিশেষ সুন্নাত। যে আমার সুন্নাতকে ভালো বাসে, সে আমাকে ভালোবাসে। আর যে, আমাকে ভালোবাসে সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে।
আল্লাহ তা’য়ালা ইমাম তিরমিযি ও সকল মাধ্যম গুলোকে বিশেষ করে আনাস রা: কে পুরো উম্মতের পক্ষ থেকে জাযায়ে খাইর দান করুন। কারণ তাঁরা আমাদের পযর্ন্ত এই মহান পদ্ধতিটি পৌঁছিয়েছে।
এই হাদিসের কয়েকটি বিষয়ের উপর চিন্তা করা জরুরী।
প্রথমত: এই ধর্ম কত সহজ। বলেছেন ان قدرت যদি তোমার দ্বারা সম্ভব হয়। করতেই হবে এমন বলেন নি। কারণ অনেক সময় এমন হয়, অনেক চেষ্টা করার পরেও মনে কষ্টের অনুভব বোধ হয় না। ফলে শুধু চেষ্টার নিদের্শ দিয়েছেন। অন্তর পরিস্কার করার জন্য আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চিকিৎসা সরুপ দুটি কথা বলেছেন। একতো হল, যার প্রতি অন্তরে কষ্ট পায়, তার জন্য তার অনপুস্তিতে দুআ করা। আর দ্বীতিয় হল, তার কাছে হাদিয়া পাঠানো। এই চিকিৎসা করলে অন্তর পরিস্কার হয়ে যায়।
দ্বিতিয়ত : তিনি বলেছেন- غش لأحد অর্থাৎ কারো পক্ষ থেকে কষ্ট না পাওয়া। যার সাথে মানুষের উঠাবসা হয়, তার দ্বারা মানুষের অন্তর পরিস্কার থাকে। এখানে কারো দ্বারা লোক উদ্দেশ্য যার পক্ষ থেকে ব্যথিত হয়েছে। অজনা সত্তেও কারো সাথে কোনো ঝগড়া হয়েগেল বা কোনো সমস্যা হয়ে গেছে ইত্যাদি।
তৃতিয়ত: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক মানুষ থেকে অন্তর পরিস্কার রাখাকে বলেছেন এটা আমার সুন্নাত।
ذالك من سنتي
সুন্নাত বলা হয় ঐ পদ্ধতিকে, যা কারো পরিচয় মনে করা হয়। কাউকে ঐ কাজ করতে দেখে, আসল ব্যক্তির প্রতি দৃষ্টি চলে যায়। কারো পক্ষ থেকে অন্তরকে পরিস্কার রাখা আমাদের প্রিয় নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিচয় বুঝায় ও এটা তার অভ্যাস।
৪র্থ : সফলতা হল জাহান্নাম থেকে বেঁচে জান্নাতে প্রবেশ করা। তবে সফলতার স্তর রয়েছে। কিছু লোক আছে যারা দ্বিতীয় বার পরিক্ষা দিয়ে পাস করে। আর কিছু লোক আছে যারা ছাড় পেয়ে কোনো রকম পাস করে। তৃতীয় স্তরের লোকদেরকে বলা হয়, থার্ট ডিভিশনে পাস করেছে। দ্বিতিয় স্তর ওয়ালাকে বলা হয় সেকেন্ট ডিভিশন, আর প্রথম স্থান কে বলা হয়, ফাস্ট ডিভিশন। কিছু লোক ৭৫% ভাগ নাম্বার পেয়ে ভালো নাম্বার অজর্ন করে। কেউ স্কুলে সর্বউচ্চ নাম্বার পায় কেউ আবার পুরো বিভাগে নাম্বারে উত্তির্ণ হয়। কেউ আবার পুরো দেশের, আবার কেউ সারা বিশে^ রের্কট করে সফলতা অজর্ন করে। তেমনি ভাবে জান্নাতেও সফলতার স্তর থাকবে। যেমন কুরআনে হাফেজকে হুকুম করা হবে। এক একটি আয়াত পড়বে আর জান্নাতের এক একটি স্তর উপরে উঠতে থাবে। (ابو داود ـ
না জানি এর পর জান্নাতের কতগুলো স্তর রয়েছে। আদম আ. থেকে নিয়ে কেয়ামত পযর্ন্ত আগত সকল মানুষের মধ্যে বিশ^রেকর্ট করীরা জান্নাতের ঐ স্থানে থাকবে। যেখানে থাকবেন আমার প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সেটাই হবে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান। এই সহজ পদ্ধতির কত সম্মান রাখা প্রয়োজন। নিদের্শ শুধু এতটুকু যে, অন্যের থেকে অন্তরকে পরিস্কার রাখা শুধু অন্তরকে হাসাদ ও কিনা থেকে পরিস্কার রাখা তাহলে এটা হবে সফলতার বিশ^ রেকর্ট।
আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি উম্মতের রয়েছে চুড়ান্ত পর্যায়ের ভালোবাসা। আর এই ভালোবাসা হল ঈমানের মূল। কোনো নূন্যতম ঈমানদারের সামনে যদি নবীর শানে নাত বা কবিতা গাওয়া হয়, তাহলে মুহাব্বত ও ভালোবাসায় মুমিনের চোখে পানি এসে যায়। মদিনা মুনাওয়ারার আলোচনা এলে মন অস্থির হয়ে যায়। হাজী সাহেব মদিনা হতে এলে তার শারীরের প্রতি ভক্তির সাথে দেখা কেউ যদি বলে আমি নবীজীকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্বপ্নে দেখেছি। তাহলে মুমিন ব্যক্তি আফসুস ও মুহাব্বতে স্বপ্নের কথা শুনানে ওয়ালার চোখের প্রতি তাকিয়ে থাকে। বরং ঐ চোখ দিয়ে স্বপ্নে দেখেনি। কিন্তু ঈমানদার মাত্রই আশা থাকে স্বপ্নেও যেন নবীজীকে দেখতে পায়। নিঃসন্দেহে ভালোবাসার দাবিও হল এটা যে, মুমিন জীবনে কম পক্ষে স্বপ্নে হলেও নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দর্শন লাভ করবে। স্বপ্নে দেখার জন্য জীবন ভরা অধিক হারে দরুদ পড়ে। এবং আজিফা পালন করে। এই ব্যাপারে এই অস্থিরতার কারণ বইও লেখা হয়েছে। কিন্তু একটি বাস্তব কথা হল, কারো হাজারো নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখার চেয়ে হাজার গুন উত্তম হল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে জান্নাতে স্থান পাওয়া। কারণ এটা হবে চিরস্থায়ী। আর স্বপ্ন তো স্বপ্নই থেকে যায়।
একটি প্রশিদ্ধ প্রবাদ রয়েছে। মানুষ উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য গাধাকেও বাপ বানার। আমাদের জন্য এর চেয়ে বড় মতলব উদ্দেশ্য আর কি হতে পারে? যে, জান্নাতের মুঞ্জুরী হয়ে যায়, যা সফলতার এক মাত্র উপায়। আর সর্বোচ্চ জান্নাত যেখানে দুজাহানের তাজ নবীদের সরদার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে শুধু জান্নাতে প্রবেশ করান। বরং থাকা এর চেয়ে উত্তম সফলতা আর কি হতে পারে এর জন্য চাও শুধু একটিই অন্তর থেকে অন্যের দোষ ও কিনা থেকে পরিস্কার করা। এই এতো সুন্দর পদ্ধতির পাওয়ার পরও যদি আমরা আমাদের নিকটতম লোকদের ও বন্ধুদের প্রতি কুধারনা রাখি তাহলে এর চেয়ে দুর্ভাগা আর কি হতে পারে। অন্যের অন্তরকে জোড়া মিলানো এবং অন্তরকে পরিস্কার করার ব্যপারে কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা’আলা বলেন-
وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنْتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ فَأَنْقَذَكُمْ مِنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آَيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ .
৩.১০৩ ) আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ কর; পর¯পর বিচিছন্ন হয়ো না। আর তোমরা সে নেয়ামতের কথা স¥রণ কর, যা আল্লাহ্ তোমাদিগকে দান করেছেন। তোমরা পর¯পর শত্রু ছিলে। অত:পর আল্লাহ্ তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন। ফলে, এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহের কারণে পর¯পর ভাই ভাই হয়েছ। তোমরা এক অগ্নিকুন্ডের পাড়ে অবস্থান করছিলে। অত:পর তা থেকে তিনি তোমাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন। এভাবেই আল্লাহ নিজের নিদর্শনসমুহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হতে পার।
মানুষের একটি দূর্বলতা হল, সে সব সময় ফলা ফলের আশাকরে। ছাত্রদেরও একই চিন্তা থাকে কিন্তু, খাতা লিখার পর সে অনুমান করতে পারে যে, আমি কতটুকু উত্তর লিখেছি। কুরআন শরীফে জান্নাতী এবং জাহান্নামী দুনোটার অবস্থা বর্ণনা করেছেন। মানুষ তার আমলের আলোকে তার অবস্থা বর্ণনা করতে পারবে। সে কি জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত না জাহান্নামীদের এ ব্যপারে কুরআন বলে।
وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِنْ غِلٍّ إِخْوَانًا عَلَى سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ
(সূরা আল-হিজর আয়াত-৪৭)
(অর্থ লিখতে হবে। )
আর জাহান্নামীদের আলোচনা করতে গিয়ে বলেন-
كُلَّمَا دَخَلَتْ أُمَّةٌ لَعَنَتْ أُخْتَهَا حَتَّى إِذَا ادَّارَكُوا فِيهَا جَمِيعًا قَالَتْ أُخْرَاهُمْ لِأُولَاهُمْ رَبَّنَا هَؤُلَاءِ أَضَلُّونَا فَآَتِهِمْ عَذَابًا ضِعْفًا مِنَ النَّارِ قَالَ لِكُلٍّ ضِعْفٌ وَلَكِنْ لَا تَعْلَمُونَ
৭.৩৮ ) আল্লাহ্ বলবেন: তোমাদের পূর্বে জিন ও মানবের যেসব সম্প্রদায় চলে গেছে, তাদের সাথে তোমরাও দোযখে যাও। যখন এক সম্প্রদায় প্রবেশ করবে; তখন অন্য সম্প্রদায়কে অভিস¤পাত করবে। এমনকি, যখন তাতে সবাই পতিত হবে, তখন পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের স¤পর্কে বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক এরাই আমাদেরকে বিপথগামী করেছিল। অতএব, আপনি তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন। আল্লাহ্ বলবেন প্রত্যেকেরই দ্বিগুণ; তোমরা জান না।
আমরা যদি নিজেদের অবস্থা নিয়ে আত্মসমালোচনা করি। তাহলে আমরা নিজেদের অবস্থান ঠিক করতে পারবো। আমাদের অবস্থা যদি এমন হয় যে, আমরা অন্যের আনন্দে আনন্দিত। কাহারো সাক্ষাতে যদি আমাদের অন্তর আনন্দীত হয়, মানুষের ন্যায় সাফ ও লেদেন পরিস্কার হয়, তাহলে তাকে মোবাকবাদ ও ধন্যবাদ। আল্লাহর কালাম আমাদেরকে জান্নাতী হওয়ার সুসংবাদ দেয়। এর বিপরিতে যদি আমরা ঝগড়া ঝাটি করি, প্রত্যেক মানুষ আমার কাছে অপরাধি মনে হয়। লা’নত আর অভিশাপে ভোরপুর আমাদের কবিতা। তাহলে খুব চিন্তার বিষয়। আসল চিকিৎসক আমাদেরকে জাহান্নামী বলে চিহ্ণিত করবে।
সীরাতে পকের কিছু ঘটনা দ্বারা এর সত্যতা প্রমানিত হয়। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ: এই ঘটনা বর্ণনা করেন। কিছুটা পার্থক্যের সাথে অন্যান্য মুহাদ্দিসীনও এই ঘটনা বর্ণনা কনেছেন। ঘটনাটির সারমর্ম হলো এই, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসা ছিলেন। সাহাবা রা. আদবের সাথে তাঁর সামনে বসা ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, দেখ সামনে একজন লোক আসছে, লোকটি জান্নাতি। সাহাবা রা. ভালো করে দেখলেন, আনসারী সাহাবী, সামনে দিয়ে অতিবাহিত হলেন। যার দাড়ি দিয়ে অযুর পানি পড়ছিল। সাহাবা রা. খুব ভালো করে জানতেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখ দিয়ে জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়ার মর্ম। দ্বিতীয় দিন আবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, একজন লোক আসছে লোকটি জান্নাতি। সাহাবা রা. খুব ভালোভাবে দেখতে লাগলেন। দেখেন ঐ আনসারী সাহাবী সমনে দিয়ে অতিবাহিত হলেন। তার দাড়ি দিয়ে অযুর পানির ফুটা পড়াছিল। তৃতীয় দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই কথা বললেন। আর ঐ একই সাহাবী সামনে দিয়ে অতিবাহিত হলেন। মজলিস শেষ হওয়ার পর সাহাবা রা. পরামর্শ করলেন, তিন দিন পযর্ন্ত সেই ব্যক্তির ব্যপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখে জান্নাতের সুসংবাদ শুনলাম সেই কোলটির ব্যাপারে খুজ খবর নিয়ার প্রয়োজন। যে কোন আমলটি করেন, যার ফলে জান্নাতের সুসংবাদ পেলেন। পরস্পরে পরামর্শের পর আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হলো যে আপনি অনেক মেধাবী, আপনি তাঁর কাছে অনুমতি নিয়ে তিন দিন উনার কাছে থাকবেন। আর দেখবেন তিনি কী আমল করেন। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. ঐ আনসারী সাহাবী রা. এর নিকট গেলেন, আর তিনদিন উনার ওখানে থাকার অনুমতি চাইলেন। আনসারী সাহাবী তাকে আনন্দের সাথে গ্রহণ করেনিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা: তার রাতদিন ঘুমানো জাগ্রত সব সময় খুব ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতে থাকলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. অনুভব করলেন, তিনি শান্দার মানুষ ঘরের ব্যস্ততার কোনো জিকির আজকার বা নফল ইবাদত করে নি। তাবে ঘুমানোর সময় চোখ খোলে গেলে পার্শ পরিবর্তন করার সময় দুয়েকটি তাসবিহ পড়ে নিতেন। তিনদিন পযর্ন্ত কোনো বিশেষ আমল উনার থেকে দেখতে পান নি। ফলে উনি মাসুম। নিরাশ হয়েগেলন আনসারী সাহাবী রা. উনার নিরাশ উপলব্ধী করতে পেরে জিজ্ঞাসা করলেন, আব্দুল্লাহ কি ব্যপার আমি আপনাকে খুব অস্থির ও নিরাশ দেখছি কারণ কি? তিনি পুরো ঘটনা শুনালেন যে, তিন দিন পযর্ন্ত প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জবান মোবারক দ্বারা আপনার জান্নাতী হওয়ার সুসংবাদ দান করেছে। সাহাবা রা. শুনার পর পারার্মশ করে আমাকে নির্বাচিত করে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। এটা দেখার জন্য যে, আপনি কী আলম করেছেন? কিন্তু আমি তিন দিন পযর্ন্ত খুব ভালোভাবে পর্যব্যক্ষনের পর বিশেষ কোনো আমল দেখতে পেলাম না। আনসারী সাহাবী এ কথা শুনে কাদঁতে লাগলেন। আর বললেন, আমি তো একজন সাংসারিক মানুষ। আমার দ্বারা বিশেষ কোনো আমল হয় না। জিজ্ঞাসা করার পরও যখন কোনো বিশেষ আমলের সন্ধান পাওয়া গেল না। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. আরো নিরাশ হয়েগেলেন। তার নিরাশা হওয়া দেখে আনসারী সাহাবী বললেন, আমার দ্বারা তো কোনো আমল হয় না। তবে একটি বিশেষ আমল আমি নিজের উপর বাধ্য করে নিয়েছি। যখন সকাল হয়, তখন আমার অন্তরকে পরীক্ষা করে নিই, আমার অন্তরে কোনো মুসলমানের পক্ষ থেকে ময়লা ব্যাথা তো নেই। আলহামদুলিল্লাহ অন্তরকে পরিস্কার পাই। আর যখন সন্ধ্যা হয়, তখন শোওয়ার পূর্বে অন্তরকে জাচায় করে নিই, আমার অন্তরে করো ব্যাপারে কোনো ব্যাথা নেই তো? আলহামদুলিল্লাহ! আমার অন্তরকে কিনা থেকে পবিত্র ও পরিস্কার পাই। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. উনার সাথে মিসেগেলেন, বললেন নিঃদেহে আমার ভাই, এটাই ঐ আমল, যার কারণে আপনাকে জান্নাতী হওয়ার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। এরপর আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. ফিরেগেলেন।
কিছু বর্ণনায় এটাও আছে যে, তিনি ফিরে এসে সাহাবা রা. কে পুরো ঘটনা শুনালেন। আত্ম তৃপ্তীর জন্য পরের দিন সাহাবা রা. পুরো ঘটনা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শুনালেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সত্যায়ীত করলেন। বললেন হ্যাঁ তার অন্তর পরিস্কার করার গুরুত্বই হলো ঐ গুন, যার কারণে দুনিয়াতেই জান্নাতী বলার অধিকার রাখে।
সীরাতে পাকের মধ্যে এর বিপরীত একটি ঘটনা পাওয়া যায়। সম্ভবত তাবুক যুদ্ধে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল প্রকার প্রস্তুতির পর সাহাবায়ে কেরাম রা. কে একত্রি করলেন। কারণ লম্বা সফর, কঠিন যুদ্ধ। সফর শুরুর পূর্বে দুআ করে নেন. সাহাবা রা. একত্রি হলেন, ও সাহাবা রা.-কেউ গুরুত্বের সাথে ডেকে আনালেন, যারা অনুপুস্তিত ছিলেন। দুআ শুরু কারার পূর্বে বললেন, আমাদের এই মজলিস থেকে ঐ লোকেরা বাহিরে চলে যাক, যারা কোনো ঝগড়ার কারণে অন্তরে ব্যাথা জমা করে রেখেছে। কারণ তাদের এখানে থাকা আমাদের দুআ কবুল হওয়ার প্রতিবন্ধক হবে। তারা তো আমাদের যুগের মুসলমানদের মতো ছিল না। তারা ছিলেন ঐ লোক-
وَمَا آَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ .
অর্থ. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম যা কিছু নিয়ে এসেছেন, তা আক্রিয়ে ধর। যা নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকো। আল্লাহকে ভয় করো। আল্লাহ কঠিন শাস্তি দাতা।
এর উপর আমল করে তার হক আদায় করেছিলেন এক সাহাবী রা: এক দিক থেকে উঠলে উপর দিক থেকে দাড়িয়ে গেলেন এবং মজলিস থেকে বের হয়েগেলেন প্রথম জন দ্বিয়ীয় জনকে বললেন আমার ভাই আল্লাহর জন্য আমাকে ক্ষমা করে দিন আমি অনুভব করিনি যে, আমি এ ধরণের ব্যধিতে আক্রান্ত। আমি আপনার সাথে অনেক বাড়া বাড়ি করে ফেলেছি। চাই এর প্রতিশোধ নিয়ে নিন। না হয় আল্লাহর জন্য ক্ষমা করে দিন। দ্বিতীয় জন প্রথম জনকে বললেন, এটা তো আপনার মহত্ব। আমি যা কিছু আপনার সাথে করেছি এটা আপনার বরত্ব, যে আপনি সহ্য করে নিয়েছেন। আল্লাহর জন্য ক্ষমা করে দিন, দুনোজন নিজেকে অপর জন থেকে বেশি অপরাধী সাবস্ত্য করেছিলেন। উভয় জন মুআনাকা করলেন এবং কাঁদলেন। এরপর মজলিসে ফিরে এলেন, আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন। হে আল্লাহর রাসূল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের পিতা মাতা আপনা উপর কুরবান হোক ! আমরা আমাদের অন্তর পরিস্কার করে নিয়েছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুআ করলেন সাহাবা রা: আমিন! বললেন। আর দুআ এমন ভাবে কবুল হল কেমন যানি যুদ্ধ ছাড়াই বিজয় এখানে চিন্তা করার বিষয় হলো যে, দুআ কারী হলেন সকল নবীদের সরদার এবং রাসূলদের নেতা আর দুআ সাথে আমিন বলনেওয়ালা জামাত হলেন, সাহাবায়ে কেরাম রা. যাদের মধ্যে ছিলেন সীদ্দিকে আকবর রা. উমর ফারূক রা. উসমান যুননুরাইন রা. আলী মুরতাজা রা. মুহাজির ও আনসার সাহাবা রা: যদি এটা বলি যে, যখন থেকে দুনিয়ার আদাব শুরু হয়েছে। ঐ সময় থেকে নিয়ে কেয়ামত পযর্ন্ত আগতদের মধ্যে সবচেয়ে মকবুল জামাত দুআ উপর আমিন! বলেছে। এই মুবারক মজলিসের মধ্যে এমন দুই ব্যক্তির উপস্থিতি যারা সাহাবী ছিলেন। বড় বড় ওলী এক জন সাহাবার পায়ের ধুলোর সমতুল্যও মার্যাদার স্তরে পৌছাতে পারে না। ইতিহাসের প্রসিদ্ধ একটি ঘটনা রইসুলমুহাদ্দিসিন, ইমামুল আরেফিন, হযরত হাসান বসরী রহ: কে কেউ জিজ্ঞাসা করল যে, আমীরে মুয়াবীয়া রা: উত্তম না উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহ: উত্তম? প্রশ্নকারীর উদ্দেশ্য ছিল যে আমীরে ম্য়ুাবীয়া রা. সাহবীয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন। কিন্তু উনার খেলাফতের সময় সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে যুদ্ধ এখতেলাফ হয়েছিল। এবং কঠিন বিশৃঙ্খল ছিল। তার মুকাবেরায় উমর ইবনে আব্দুল আজিজ তাবীয়ে ছিলেন। কিন্তু উনার যুগকে ন্যায় ইনসাফের দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়। উনাকে মানুষ পঞ্চম খলিফায়ে রাসেদিন বলে। হাসান বসরী বালিশে হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। জশের সাথে বসে গেলেন। আর বললেন হযরত আমীরে মুয়াবিয়া রা: এর ঘুড়ার লেদের সাথে যেই দুলা লেগে থাকতো সেই দুলার সামান্য মর্যাদায় উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহ. পৌছাতে পারবে না। কারণ আমীরে মুয়াবিয়া রা. আর উমর ইবনে আব্দুল আজিজ হলেন, তাবেয়ী যদিওচ তাবেয়ী, বাকী সকলের চেয়ে উত্তম। কিন্তু তিনিও কোনো সাহাবী রা:এর ঘুড়ার লেদের ধুলার মর্যাদায় পৌঁছাতে পারবে না। চিন্তার বিষয় হলো এই, এই মোবারক মজলিসের দুআ কারী আর আমিন! বলনে ওয়ালা এমন পর্যায়ের মানুষ ছিলেন, কিন্তু ঐ দুই ব্যক্তির উপস্থিতির কারণে যারা সাহাবীইয়াতের মর্যাদায় সমাসীন ছিলেন। কিন্তু কোনো ঝগড়ার কারণে অন্তরে ময়লা ছিল, দিলে ব্যথা ছিল। তা দুআ কবুলের জন্য ছিল প্রতিবন্ধক। আর যেই বাড়িতে ভাই ভাইয়ের মধ্যে কিনা। মা মেয়ের মধ্যে মন মালিন্যতা। যেই মহল্লার মধ্যে প্রতিবেশীর মধ্যে বিরাজ করছে হীংশা আর ফাসাদ। যাকে ঐ মহাল্লার প্রতি আল্লাহর রহমত কিভাবে মুতাওয়াজ্জু হতে পারে। কিন্তু আফসুস আজ জাতীর মধ্যে ঐ রোগ, মহামারীর ন্যায় ছড়িয়ে পরেছে। আর আমরা আজ অল্প একটু কিছুতে শয়তানের জালে আবদ্ধ হয়ে কত বড় কল্যাণ হতে বঞ্চিৎ হায়! আমরা যদি আমাদের সফলতা জান্œাতে প্রবেশ করার অঙ্গীকার বানাতে পারতাম। আর প্রিয় সরদারের সাথে জান্নাতের সঙ্গী হওয়ার সফলতা অজর্ন করতে পারতাম। তিনিই এই সহজ পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। তার মূল্যায়ন করতে পারতাম। হে বৎস! তোমার দ্বারা যদি সম্ভব হয়, সকাল সন্ধ্যায় এমন করতে পার যে, তোমার অন্তরে কোরো পক্ষ থেকে কোনো ময়লা অর্থ্যাৎ কিনা না থাকে। অবশ্যই এমন কারো এটা আমার বিশেষ সুন্নাত। আর যে আমার সুন্নাতকে ভালোবাসবে, সে আমাকে ভালোবাসবে। যে আমাকে ভালোবাসবে, সে জান্নাতে আমার সাথে থাকবে ।
মূল হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী
অনুবাদ. যুবায়ের আহমদ