সফলতার সিঁড়ি

সফলতার সিঁড়ি
যাদের সাথে সম্পর্ক অনেকে সাক্ষাত করতে আসে এমন অনেক মানুষ আছে। যারা তার সন্তানদের সাথে নিয়ে আসে এই নিয়তে যে, হযরত দুআ করে দিবেন এবং মাথায় হাত ভুলিয়ে দিবেন। আমার শাইখ হযরত মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রাহ. কেউ হাত ভুলিয়ে নিতে এলে হাত সারিয়ে ফেলতেন, কখনো বলতেন এই মাসুম বাচ্চাদের হাত আমাদের মাথা রাখা উচিৎ। এটা নয় যে, তাদের মাথায় হাত রাখা হেক। এরদ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায় হযরত ওয়ালা কারণে বাচ্চাদের মাথায় হাত ভুলাতে সংকোচ বোধ করতেন। যে, মাসুম বাচ্চার মাথায় বরকতের হাত রাখার জন্য হাতটি বরকত ওয়ালা হওয়ার প্রোয়োজন। হযরত নিজেকে বরকত ওয়ালা মনে করতেন না। মানুষের অন্তর ভাঙ্গা উলামায়ে রব্বানিয়ীনদের কাছে দুষণীয় মনে করা হত। এই জন্য আবেদ কারী পিরাপিড়ি করত। আর হযরত অনুভব করতেন যে, তার মাথায় হাত না ভুলালে মনে কষ্ট পাবে তাহলে তো মনে উপর চাপ সৃষ্টিকরে অনিচ্ছা সত্যেও মাথায় হাত ভুলিয়ে দিতেন। কিন্তু মাথায় হাত রাখার সময় কিছু দুআ পড়তেন। এই অধম মনে করতো কোনো মাসনুন দোয়া হয়তো পড়তেন। কিন্তু ইচ্ছা থাকা সত্বেও জিজ্ঞাসা করার সাহস হতো না। যে, মাথায় হাত রেখে কি পড়েন? একদিন জুমার দিন রায় বেরলীতে হযরতের এর এক ভক্ত খাঁ সাহেব তার তিন সন্তানকে নিয়ে এলেন। বংশীয় মানুষ বাচ্ছাদের নিয়ে খুব আদরের সাথে উপস্থিত হলেন। এই অধম হযরতের কাছেই ছিল, মনে মনে ভাবছি, খাঁ সাহেব তার বাচ্চাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে বলবেন, আর হযরত দুআ করবেন। তাই হল, খাঁ সাহেব বাচ্চাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে বললেন। হযরত হাত টেনে নিলেন, তার মামুল অনুযায়ী। খাঁ সাহেব অনেক অনুরোদ করার পর বাচ্চাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। আর দুআ পড়লেন। হে আল্লাহ এই মাসুমদের মাথার সদকায় আমাদের হাতকে দুযখের আগুন থেকে বাঁচান।
আমার হযরত অধিকাংশ সময় বলতেন নিজেকে কিছু না বলা তো সহজ কিন্তু আমি কিছু না মনে করা খুব কঠিন। আর ঐ বিনয় যা দ্বীনের দাওয়াত, যার ব্যাপারে বলা হয়েছে। من تواضع لله رفعه الله যে, ব্যক্তি আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে বড় বানিয়েদেন। বিনয় তো হল, আমি কিছু না এটা মনে করা। নিজেকে তো আমি সবচাইতে নিকৃষ্ট বলাতো খুব সহজ কিন্তু অন্য কেউ যদি বলে দেয়, এই অধম তাহলে কি অবস্থা হয়। নিজেকে কিছু মনে করা কাকে বলা হয়, কাউকে যদি এটা দেখার প্রয়োজন হয়, তাহলে সে যেন আমার হযরতকে দেখে। হযরত অধিকাংশ সময় তাঁর খাদেমদেরকে বলতেন এবং লিখতেন, যে, নিজের অস্তিত্বকে না করেদেওয়া সফলতার সিঁড়ি। এই সিঁড়িতে চরে আমার হযরত ওয়ালা মাহবুবিয়াইয়াত ও গ্রহণযোগ্যতার মর্যাদা আজর্ন করে ছিলেন। হযরত ওয়ালার এক খাদেম কম বয়েসের ও না বুঝেই হযরত শাইখুল হাদিস জাকারিয়া রাহ. এর সাথে কিছু বে আদবী করে ফেলে ছিল। এর পর খুব অস্থির হয়ে হযরত শাইখ জাকারিয়া রহ. এর কাছে চিঠি লিখেছিলেন। চিঠির উত্তরে তিনি লিখেছেন। তুমি বড় সৌভাগ্যবান। তুমি অন্যায় করেছ। তো আলীমিঞা ক্রার সাথে যে, ক্ষমার পাহাড় রয়েছে। তার বিনয় তো তার দরজার পাহারাদার, আল্লাহ তা’য়ালা এই বিনয়ের ফসলের অংশত যদি আমাদের তৌফিক দান করেন। তাহলে তাকে কথা থেকে কোথায় পৌছিয়ে দিতে পারে। আল্লামা ইকবাল বলেছেন। অর্থ.
তোমার আস্তিকে মিটিয়ে দাও যদি কোনো মর্তবা চাও।
দানা মাটির সাথে মিশে ফুল হয়ে যয়।
তোমরা অপদস্ত হলে কোরআন ছেড়ে দিয়ে
ঈমানের রুহ ও হাকিকত হলো আল্লাহ তা’য়ালার মুহাব্বাত ভালোবাসা। আর কুরআনে হাকিম হল আল্লাহর কালাম। কেমন জানি মুহবুবের পক্ষ থেকে পত্র। আমাদের মুসলমানদের তার প্রতি ইশকহলো হাস্যকর। আল্লাহ তা’য়ালার হেফাজতের দাবি আনুযায়ী আজ চৌদ্দশ বছর যাবৎ জের জবর ও নুক্তার সহ আমাদের কাছে সংরক্ষিত। কিন্তু আমাদের জানা নেই যে, এই মাহবুবের পত্রে কি লেখা আছে। আমরা অপারগতা পেশ করি যে, কুরআন হল আরবী ভাষায়, আর আমরা অনারব হয়ে কীভাবে বুঝবো। অনারবদের জন্য এই অক্ষমতা কত টুকু গ্রহণযোগ্য, তা পরে আলোচনা করা হবে। আশ্চর্যের বিষয় হল। এই মাহবুবের পত্রের ব্যাপারে হাস্যকর অবস্থা আরবদের মাঝেও বিদ্ধমান। সেখানে কমপক্ষে কুরআন তেলাওয়াতের অনেক আমল আছে। ছোট ছোট মসজিদে হাজারে নুসখা কুরআন শরিফ রাখা আছে। কোনো আবর, জামাতের এক মিনিট আগেও যদি মসজিদে আসে, তাহলে কুরআন তেলাওয়াতের লেগে যান। তাদের মাতৃ ভাষা আরবীতে কুরআন কারীমের এই পরিমান তেলাওয়াতের প্রচলন থাকা সত্যেও কুরআনে কি আছে তা বুঝার ব্যাপার সেখানেও আশ্চর্যজনক উদাসিন। আরব আমিরাতে অবস্থান করে এমন একজন নওজুওয়ান আলেমে দ্বীন আমাকে বলল। যে, আমি একমাস পযর্ন্ত আরবদের থেকে এটাজানতে চাইলাম যে, আপনারা যে কুরআন মাজিদ তেলাওয়াত করেন। কুরআনে কারীম আপানাদের কাছে কি চায়? আজকের তেলাওয়াত কুরআনে কারিম আমাদেরকে কি করতে বলেছে, আর কী করতে না করেছে? এ ব্যপারে কি আপনি কিছু ভেবেছেন? আরব জাতি যেহুতু খুব সত্যবাদী মাওলানা সাহেব বললেন, এক মাস পযর্ন্ত আরবদের এই প্রশ্ন করলাম, তার আফসুস করতো। গাফিল ও উদাসিনতার এবং আফসোস করে বলত। তাদের এখানেও আমলের জন্য বুঝে পাড়ার চর্চা নেই। আরব ওয়ালাদের যখন এই অবস্থা, তাহলে অনারবদের কি হবে? তাদের জন্য বুঝে পড়া কল্পনাও মুশকিল। আমাদের এখানে এই অভিযোগ যে, আমরা ভাষা বুঝি না।
আরবী ভাষা না জানা ও অশিক্ষিত হওয়ার কারণে বুঝিনা এই অজুহাত কতটুকু গ্রহণ যোগ্য। আর এই অযুহাত আল্লাহর নিকট চলবে কি না। এর জন্য আমি এতোটুকু আলোচনা পেশ করা যাতেষ্ট মনে করছি। অধমের জীবনের সব সময় সফরেই অতিবাহিত হয়। একেক দিন দশদশটা বরং কখনও এর থেকে বেশী প্রগ্রাম থাকে। এরজন্য গ্রামে গ্রামে কখনো যেতে হয়। আমি প্রায় পনে তিন বছর পযর্ন্ত একটি জরিপ করেছি। সবজায়গায় গিয়ে সর্ব প্রথম সভার লোকদেরকে ঘোষণা করেছি যে, আপনাদের আত্মিয় সজনদের কাছে এমন কোনো চিঠি আছে যা পড়া হয় নি। এই জন্য যে, প্রাপক অশিক্ষিত। অথবা অপরিচিত কোনো ভাষায় চিঠি লেখা হয়েছে। এই জন্য পত্রটি পড়া হয়নি, তাহলে অনাগ্রহ করে অবশ্য আমাকে এনে দিন। পনে তিন বছর পযর্ন্ত হাজার স্থানে বলার পরও আমার কাছে এমন একটি পত্র হস্থাগত হয় নি, যা এই জন্য পড়া হয়নি যে, প্রাপক সেই ভাষা জানে না। এই জন্য তার নিকটতম লোকটির পত্র পড়া হয় নি। বা প্রাপক অশিক্ষিত এই জন্য পত্র পড়া হয় নি। এমনিই রেখে দেওয়া হয়েছে। এমন একটি পত্রও আমি পাইনি। ……
অধমের ধরানা হল। এমন পত্র দুনিয়াতে পাওয়া অসম্ভব। পত্র এলে মানুষ যে পড়তে জানে এমন মানুষের কাছে নিয়ে যায়। যত নিকটবর্তী মানুষের পত্র হয়, তা পড়ার জন্য ততই অস্থিরতা লাগে। এমন অনেক পত্র আপনি পাবেন, যা পড়া হয় নি। এমনকি খোলাও হয়নি। তাহলে প্রেরকের সাথে সম্পর্ক না থাকার কারণ বা তার সাথে আন্তরিক সম্পর্ক না থাকা। দুনিয়াতে যখন এই আপত্তি ও বাহানা সঠিক নয় যে, কোনো বন্ধু বা নিকটতম কেউ অথবা দুয়ের কেউ পত্র লিখল, আর সেই পত্র এই জন্য পড়া হয়নি যে, ভাষা বুঝিনা বা অশিক্ষিত, তাই তা পড়া হয় নি। তাহলে আহকামুল হাকিমিনের মহান আদালতে এই উযর কীভাবে গ্রহণ যোগ্য হতে পারে, যে, আল্লাহর কথার সাথে আমাদের যেই উদাসিনতা যেখানে এই পবিত্র কালাম এবং মাহবুবের পত্রের এক একটি হুকুমের আমল করা দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনের জন্য খুবই জরুরী। আর কুরআন হাকিম বার বার আমাদেরকে বলছে أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآَنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا (২৪) সুরা মুহাম্মাদ, তোমরা কি কুরআনের উপর চিন্তা ফিকির করবে না? তাদের অন্তরে কি তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আমরা মুসলামান হওয়ার উপর গর্ব করি। এর উপর আমরা বিশ্বাস রাখি যে, কুরআন সকল মানুষের জন্য চিকিৎসা। কিন্তু এই প্রেসক্রিপ্শন থেকে রুগ নিরাময়ের জন্য আমাদের চিন্তাধা কী? আসুন একটু ভাবুন, চিন্তা করুন জীবন মরন আক্রান্ত কোনো রোগী যুগের বড় কোনো চিকিৎসক যেমন আবু আলী সিনা অথবা আজমল খার কাছে গেলে, তিনি রুগীর অবস্থা দেখে বেথিত হয়, রুগী যেন পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। এর জন্য পরিপূর্ণ একটি প্রেসক্রিপ্শন লেখে দিল, আর এই রোগী খুব ভক্তির সাথে প্রেসক্রিপ্শনটিকে চুমু খাচ্ছে। চোখে লাগাচ্ছে। বার বার পড়ছে। মুখস্ত করছে বার বার তাকরার করে যে, সেখানে লেখা আছে, এক তোলা ফুলের রস। এক তোলা সর্নচুড়া ১৫ মাশা আম্বার এগুলো মিশিয়ে সকাল সন্ধ্যা পান করতে হবে। এগুলো বার বার পড়ছে। মুখস্ত করছে। চোখের সাথে লাগাচ্ছে চুমু খাচ্ছে। একজন সচেতন মানুষের জন্য এই কাজ করা এবং ডাক্তারে লেখে দেওয়া ঔষধ না খেয়ে, এধরণের আমল করা হাস্যকর নয় কি? এই বিশ্বাসের কারণে এই প্রেসক্রিপ্শন দ্বারা রোগীর কোনো ফায়দা হবে কি? কক্ষনো হবে না। তাহলে আমরা কুরআনের দ্বারা সুস্থ্যতার জন্য আধ্যাত্মিক ঈমানী সুস্থতার জন্য শুধু কুরআনকে চোখে লাগানো, ও চুমু খাওয়ার দ্বারা বা শুধু মুখস্থ করার দ্বারা না বুঝে কিভাবে আমল করা সম্ভব? আমরা ঈমানদার। আমরা বিশ্বাস রাখি আহকামূল হাকিমীন আসল মালিক যিনি সব বিষয়ে শক্তিমান তার উপর। তিনি কুরআনে কারিমকে সমস্ত মানুষের জন্য জীবন বিধান বানিয়েছেন। বান্দা ও আনুগত্যশীল হিসাবে সকল মুসলমানকে তার প্রতিটি হুকুম মানা খুবই জরুরী।
আসুন এই প্রেক্ষাপটে আমরা একটি মুহাসাবা করি। এক সরদার একজন খাদেম নিয়োগ দিয়েছেন। চিন্তা করলেন আমার কর্মচারী কম বুদ্ধিমান, এই জন্য তার দায়িত্বগুলো বুঝিয়ে দিই। তাহলে তার দায়িত্ব পালন সহজ হবে। তাকে একটি কাগজে ২৪ঘন্টার দায়িত্ব লিখে দিয়েছেন। যে, তাকে কি কি কাজ করতে হবে, আর কি কি কাজ করতে হবে না। উদাহরন স্বরুপ, চাকরকে একটি লিস্ট বানিয়ে দিলো যে, সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠবা, বাড়ীর আঙ্গীনা পরিস্কার করতে হবে। ফুল বাগানে পানি দিতে হবে। ঘোড়ার আস্তাবল থেকে বের করতে হবে। সেগুলোকে খানা খাওয়াতে হবে। পানি পান করাতে হবে। কবুতরদের দানা দিতে হবে। গরু ছাগলকে ঘাস দিতে হবে। সেগুলোর দুধ দোহন করতেহবে। চেয়ার ও চৌকি রোদে গরম করতে হবে। বারান্দায় উঠিয়ে রাখতে হবে। এটা করতে হবে। ওটা করতে হবে। অন্যদিকে এটা করা যাবে না। ওটা করা যাবে না। যেমন কুকুর যেন না আসতে পারে। অপরিচিত মানুষকে বসতে দিবে না ইত্যাদি।
এই আহমক চাকর বা খাদেম এই খেয়াল করে ঐ কাগজটাকে খুব পড়া শুরু করেছে যে, আমার মালিক আমার উপর কত বড় অনুগ্রহ করেছে। আমার জন্য কত সহজ করে দিয়েছে। আমার দায়িত্বগুলো লিখে দিয়েছে। মালিকের খুব প্রশংসা করে সেই লিস্টটিকে চুমু খাচ্ছে, চোখে মিলাচ্ছে। এমনকি তা মুখস্থ করা শুরু করেছে। পর দিন ভক্তির সাথে তা পড়তে লাগল যে, সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে হবে। আঙ্গীনা পরিস্কার করা, ফুল বাগানে পানি দেওয়া ঘোড়াকে তার আস্তাবল থেকে বের করা, সে গুলোকে খানা দেওয়া ইত্যাদি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পযর্ন্ত শুধু এই ফরমানকেই পড়ছে। মালিক যেই দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছিল। তা পালন করে না। এভাবে কয়েক দিন অতিবাহিত হয়ে গেল। এখন বাড়ির আঙ্গীনার কী অবস্থা হবে। কিছু দিন পর পশুগুলো মারা যাবে। পুরো আঙ্গীনা গোবরের টাল হয়ে যাবে। ফলের বাগান শুকিয়ে যাবে। সেটা হবে চোর ও কুকুরের নিরাপদ স্থান। তার কিছুদিন পর মালিক এলো, এসে দেখল চাকর খুব ভক্তির সাথে আমার দেওয়া ফরমান নামা পড়ছে। চোখে লাগাচ্ছে। সাথে সাথে আঙ্গীনার অবস্থা দেখল, তাহলে কি মালিক এই ভক্ত কর্মচারীকে পুরস্কৃত করবে? না তার আহমকী কর্মের জন্য শাস্তি দিবে? তাহলে এমন মুসলমান তেলাওয়াতকারীর জন্য কীভাবে সফলতা কামনা করতে পারি। যে, কুরআন হাকীমকে ভক্তির সাথে চোখে লাগায় চুমু খায়। বেশীর থেকে বেশী না বুঝে তেলাওয়াত করে, ও হিফজ করাকে যথেষ্ঠ মনে করে নিতেছে। নিঃসন্দেহে কুরআনে হাকিম অনেক বড় জিনিস, আল্লাহ তা’য়ালার তার কালামের সাথে এই পর্যায়ের ভালোবাসা যে, তা দর্শনের দ্বারাও কিছুনা কিছু উপকার পায়। এতদসত্ত্বেও তেলাওয়াত কারী, ও হিফজকরী কিন্তু এর মূলনীতি ও এই প্রেক্রিপ্শনের হক আদায় করার জন্য বুজে আমল ছাড়া নাজাত পাওয়া মুশকিল। হাদিস শরীফে যেখানে যেখানে কুরআন শরিফ বা তেলাওয়াত করার ফজিলতের কথা আলোচনা করা হয়েছে। من قرا القران و عمل بما فيه البس والداه ــ ــ ــ ــ যে ব্যক্তি কুরআন পড়ল এবং তার উপর আমল করল, কেয়ামতের দিন তার পিতা মাতার মাথায় একটি তাজ দেওয়া হবে, যার আলো সূর্যের আলো থেকে বেশী হবে। যেখানে এর আলোচনা হয়েছে। উলামায়ে কেরাম তা বুঝে আমল করার শর্ত দিয়েছেন। হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজালি রাহ: লিখেছেন, হাশরের দিন একজন ব্যক্তি কুরআনে হাকিমের অনেক তেলাওয়াত নিয়ে উপস্থিত হবে কিন্তু সাথে সাথে তার উপর একটি গুনাহের বোঝাও থাকবে যে, কুরআনে হাকিম পড়েছে তাতে যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তার আমল করনি কেন? ইমাম গাজালি রহ: এর উদাহরণ দিয়ে বলেছেন যেমন কুরআনে হাকিমে হুকুম দেওয়া হয়েছে,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ. (২৭)
হে ঈমানদারগণ তোমরা তোমাদের বাড়ি ছাড়া অন্য বাড়িতে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করো না এবং তাতে অবস্থান কারীকে সালাম দাও।
এই নির্দেশ অনুযায়ী মানুষ যখন অন্য করো বাড়ি ঘরে প্রবেশ করে তখন যেন সালাম করে। এমনি ভাবে এই নির্দেশ পড়ার পর মানুষ যখন অন্যের ঘরে প্রবেশ করবে তখন সালাম দেওয়া ওয়াজিব হয়ে যাবে। একজন দ্বীনদার মুসলমান পাঁচ বার বাসা থেকে নামযের জন্য বাহিরে গেল, আবার বাসায় ফিরে এল সালাম করল না আরো পাঁচ বার অন্য কারণে বাসা থেকে বের হল, আবার প্রবেশ করল সালাম করল না। এই আয়াতের উপর আমল না করার কারণে প্রতিদিন দশটি গুনাহ হবে। কারণ তারা এই আয়াতটি বুঝে তার উপর আমল করলো না।
আমাদের আকাবীর উলামা পরামর্শ দিয়েছেন। সাধারণ মানুষ যেন কুরআনের অর্থ পাড়ার সময় কোনো আলেমের তত্ত্বাবধানে পড়ে, নিজের বুঝ অনুযায়ী যেন, তাদের রায় পেশ না করে। তাফসির বিররায় এর গুনাহগার যেন না হয়। অথবা শয়তান কোনো ওয়াসওয়াসা দিয়ে তাকে যেন পেরেশান না করতে পারে। কোনো প্রশ্ন থাকলে উস্তাদের থেকে সমাধান করতে পারবে।
কুরআন শরিফের সম্মানের দিকে খেয়াল করে, নিজের মনমতো কুরআন শরীফের ব্যাখ্যা না দেওয়া। এই জন্য কুরআন শরীফের তাফসীর জানার জন্য অনেক প্রকার এলেম প্রয়োজন। আমাদেরকে কুরআনের কল্যাণ থেকে দূরে সরানোর জন্য, শয়তান আমাদের মধ্যে ভুল ধারণা সৃষ্টি করে দিয়েছে। যে, কুরআনের অর্থ না পড়া উচিত। কুরআন বুঝা উচিত না। এর কারণ জাতিকে কুরআনের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত করা উদ্দেশ্য।
নি:সন্দেহে এই কুরআন হলো জ্ঞানের খনি। এলেমের খাজানা ও চাবি। পৃথিবীতে যে কোনো জ্ঞানের বিশেষজ্ঞ এই কুরআনের উপর গবেষণা করবে, ততো তার জ্ঞান সমৃৃদ্ধি হবে। কিন্তু যেখানে সাধারণ মানুষ ও মুসলমানদের কুরআন থেকে উপদেশ গ্রহণ করার সম্পর্ক, পথ পাওয়ার জন্য সে এটা জানতে চায়, যে, আমার মালিক আমাকে কি বলছেন। আমার থেকে কি চান আর কি চান না? আমার প্রিয় প্রতিপালকের কি পছন্দ আর কি অপছন্দ? কী করলে আল্লাহ খুশি হবেন আর কী করলে আল্লাহর রহমত পাওয়া যাবে। আর কী করার দ্বারা আল্লাহর শাস্তি পেতে হবে ও দোযখে যেতে হবে? এই ব্যাপারে বার বার কুরআন এলান করছে।
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآَنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ .
আমি কুরআনকে সহজ করেছি উপদেশ গ্রহনের জন্য। আছে কি কেউ নসিহত গ্রহণ করবে।
শয়তানের একটি বড় ধোঁকা হলো, যে, আমাদের কুরাআন বুঝে পড়ার চেষ্টা না করা। কারণ কুরআন পড়ে মানুষের পথভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এই জন্য আমরা খুব করে কুরআন শরীফের এই আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করি। কুরাআন নিজেই বলেছেন,
আল্লাহ যেখানে বলেছেন, يُضِلُّ بِهِ كَثِيرًا وَيَهْدِي بِهِ كَثِيرًا এর পর সঙ্গে সঙ্গে দিয়েছেন। وَمَا يُضِلُّ بِهِ إِلَّا الْفَاسِقِينَ ফাসেক ছাড়া কেউ পথভ্রষ্ট হবে না।
অর্থাৎ কুরআন কারীম দ্বারাই পথ ভ্রষ্ট হবে, যারা ফাসেক । যাদের মানসিকতাই হলো আল্লাহর নাফরমানী। অপরাধী, খারাপ চিন্তা ফিকির নিয়েই কুরআন পড়তে যায়। এর দ্বারা আরো একটি বিষয় স্পষ্ট হলো, যারা আল্লাহ তাআলাকে খুশি করার ইচ্ছায় ভালো নিয়তে, হেদায়াত পাওয়ার আশায়, চিন্তা ফিকির করে কুরআন বুঝার ও পড়ার চেষ্টা করে তারা গোমরাহ্ হবে না।
আফসোস! এধরণের ভুল ধারণার কারনে জাতি কুরআন শরীফের মহান নেয়ামত থেকে উপকৃত হওয়ার পরিবর্তে বঞ্চিত হয়ে যাচ্ছে। আজ শুধু এই কারনেই জাতি অপমানিত ও লাঞ্ছিত। খাইরুন কুরুনে মুসলমান শুধু এই কুরআনের সাথে সম্পর্ক রেখে দুনিয়ার উপর বিজয়ী হয়েছেন। শুরু থেকে পঞ্চাশ বছরের মধ্যে দুনিয়ার আট ভাগ বিজয় করেছে। যারা বকরি চরাতো তারা রাজত্ব চালিয়েছে।
কুরআনে হাকিমের সাথে আমাদের তুলনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। কিতাবের মধ্যে সাহাবাদের অনেক বানী পাওয়া যায় যে, তারা বলতেন, আমার দশটি আয়াত শিখতাম এর পর যতক্ষণ পর্যন্ত এই আয়াতের উপর আমল না করতাম ততক্ষণ পর্যন্ত অন্য আয়াত শিখতাম না।
(كما روى ابن مسعود رضى الله عنه وعيره انضر شعب الامان للبيهقى فصل فى بعلمالقران )
সাহাবায়ে কেরামের চলাফেরার অবস্থা ছিল এমন, বাহির থেকে আগত কোনো ব্যক্তি তাদেরকে কুরআনের ব্যাপারে প্রশ্ন করতো, তাহলে যে, কোনো সাহাবার দিকে আঙ্গুল দিয়ে ইঙ্গিত করে বলে দেওয়া যেত যে ঐ যে, ব্যক্তি যাচ্ছেন তাকে দেখে নাও চলতে ফিরতে কুরআন।
আল্লামা ইববাল বলেন।
এই কথা কারো জানা নেই যে, মুমিন,
দেখতে দেখা যায় কারী আসলে বাস্তবে হলো কুরআন?
আমাদের যুগের অবস্থা তো হলো এই, যে কোনো নও মুসলিমকে কালেমা পড়ার আগে বা কোনো মাদ‘উকে দাওয়াত দেওয়ার পূর্বে তাকে মুরতাদ না হওয়ার জন্য, যেই কথা দ্বারা বুঝাতে হয়, তা হলো ভাই! আপনাকে যেই ইসলামধর্মের দাওয়াত দিচ্ছি, তা হলো কুরআন ও হাদিস। আমাদের মধ্যে যেই ইসলাম আছে তা দেখিয়েন না। আর এটাকে কুরআনের ইসলাম মনে করবেন না। অন্যথায় দ্বিতীয় বার মুরতাদ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
আল্লামা ইকবাল কত সুন্দর কথা বলেছেন।
……………………………….
ঐ যুগে সম্মানিত ছিল মুসলমান হয়ে।
এখন তোমরা লাঞ্ছিত হলে কুরআন ছেড়ে দিয়ে।
কুরআনে হাকিমের সাথে অপরাধ মূলক উদাসিনতার বড় কারণ আমাদের এই ধারণা। কেমন জানি কুরআনের এই ঘোষণাকে মিথ্যারোপ করছি। কুরআনের এক স্থানে নয়, কয়েক স্থানে বর্ণনা করেছেন সুরা কামারে তাকরারের সাথে এই আয়াত এসেছে। ولقد يسرنا القران আমি কোরআনকে সহজ করেছি। তাজকিরের জন্য। উপদেশের জন্য। আছে কেউ নসিহত গ্রহণ করবে। আমার কিছু ¯েœহ ভাজনরা মুফা্েসরে কুরআন মাওলানা আব্দুল করীম অস্পষ্ট থেকে উপকৃত হয়ে। দিল্লি আলিগড় আরো কিছু স্থানে কুরআন শিখনোর একটি নেসাব শুরু করেছেন। যার পদ্ধতি হল অল্পকিছু উর্দু জানতে পারলেই, ২০০ ঘন্টায়, প্রতিদিন এক ঘন্টা করে দ্ইুশত দিনে কুরআনের অর্থ করতে পারে। প্রতিদিন এক ঘন্টা করে ২০০দিনে পুরো কুরআন অর্থ পড়া হয়ে যায়। আসলে সাধারণ কথা বার্তায় একজন হিন্দুস্থানী উর্দু বলনে ওয়ালা কুরআনের অর্ধেকের বেশী শব্দ প্রতিদিনের কথা বার্তায় বলে। ব্যবহার করে। ফলে তার বুঝা অনেক সহজ হয়ে যায়। কুরআনের অর্থ শিখা কতো সহজ। এর জন্য সুরা বাকারার প্রথম আয়াতগুলোর প্রতি একটু খেয়াল করুন
الم (১) ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ (২) الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ (৩) وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ وَبِالْآَخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ (৪) أُولَئِكَ عَلَى هُدًى مِنْ رَبِّهِمْ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (৫)
الم হল হুরুফে মুকাত্তা‘আত যার অর্থ আল্লাহ তা‘আলাই ভালো জানেন। ذَلِكَ শব্দটি একটি জমির যা উর্দূ ভাষায় ব্যাবহার হয় না। আল কিতাব, লা রাইবা, হেদায়াত, মুত্তাক্কি,ঈমান, খাইব, সালাত কায়েম করা, যাকাত, রিযিক, নফকা, হেদায়াত, রব, ফালাহ এই শব্দগুলো মৌলিকভাবে আমাদের কথাবার্তার মধ্যে ব্যাবহার হয়। এখন শুধু কালগুলো জানা ও মিলানোর পদ্ধতি শিখলেই যথেষ্ট। এইভাবে তিন চার পারা শিখলে পরবর্তি অধিকাংশ শব্দের অর্থ শিখা হয়ে যায়।
এই পদ্ধতিতে আলহামদুলিল্লাহ দিল্লির প্রায় পঞ্চাশের অধিক স্থানে কাজ চলছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে পুরো কুরআন খতম হয়ে গেছে। জামিয়াতে শাহ ওয়ালিউল্লাহ তার প্রতিষ্ঠানগুলোতে জুনিয়ার হাই স্কুলে এই পদ্ধতি শুরু করা হয়েছে। প্রত্যেক ঘন্টা থেকে আড়াই মিনিট কমিয়ে শেষে একটি ঘন্টা রাখা হয়েছে কুরআনের অর্থের জন্য। বোর্ডের মাধ্যমে প্রথম ঘন্টা কুরআনের অর্থের জন্য পড়ানো হয়। আলহামদুলিল্লাহ, কুরআনে হাকিমের প্রাথমিক এই বরকতে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা সহজ হয়ে গেছে। এমনি ভাবে জাতিকে কুরআনের সাথে জুড়ানোর জন্য, আড়াই মিনিট বের করায় অনেক বরকত অনুভব হচ্ছে। এর জন্য আরবি ভাষায় পা-িত্বের প্রয়োজন নেই। আমার সাথিরা শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকেন। দেশের যে কোনো স্থান থেকে নিজের বাড়ি, প্রতিষ্ঠানে ও মসজিদে চালু করতে পারেন। এর জন্য আমাদের সাথিরা যে কোনো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছে। যারা সহযোগিতা চান তারা আরমুগানের অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন ৯৪১২৪১১৮৭৬, ৪১২৩৪০০১৯ এই নাম্বারে। দিল্লি, আলিগড়ের কেন্দ্রগুলোতে উল্লিখিত নাম্বারে ফোনে যোগাযোগ করা যেতে পারে, জাতিকে তার নিজ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আসল সুন্নাত থেকে দূরে থাকার কারণে কুরআনে হাকিমের সাথে এই অবজ্ঞামূলক আচরণ এবং অমুসলিমদের মতো এটা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ মনে করা। (এমন পবিত্র গ্রন্থ যা শুধু নির্দিষ্ট ব্যক্তিরাই বুঝতে পারে।) যার দ্বারা রুগীদেরকে ঝাড়ফুঁক দেয়া হয়। বরকতের জন্য পড়ে ফুঁক দেয়া হয়। মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআনখানি করে বিরিয়ানি, মিষ্টি খাওয়ার মাধ্যম হয়েছে। নিকটতম সময়ে পশ্চিমা বিশে^ ইয়াহুদী খ্রিস্টানদের পক্ষ থেকে যেই অপমানমূলক ব্যবহার পাওয়া গেছে নিশ্চয়ই তা কঠিন বেদনাদায়ক। আমেরিকা এবং পাশর্^বর্তী দেশগুলো নিরাপদ দেশ মনে করা হয়। এরপরেও তারা যে কা- ও অপমানমূলক আচরণ করেছে তা শুধু এর মধ্যেই পাওয়া সম্ভব। সাধারণ মানুষের মধ্যে তা পাওয়া দুঃস্কর। আফসোস! মুসলমানদের বদর, হুনাইন, মক্কার বিজয় থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত তাদের আখলাক এবং বিজয়ী জাতির সাথে যে ধরনের উত্তম আচরণ ও সম্মান, ১৪০০ বছর থেকে ধরে রেখেছে , তারও ফায়দা উঠায় নি।
অমুসলিমরা ছোটো একটি বিজয় লাভ করলে খারাপ আচরণের মাধ্যমে তাদের আসল চেহারা প্রকাশ করছে। তাদের এই কর্র্মের জন্য যে পরিমাণ ঘৃণা করা হবে তা কমই হবে। বরং এর চেয়ে বেশী ঘৃণিত হবে ঐ জাতি যারা এই কুরানের ওপর ঈমানের দাবী করে এবং কুরআনের সাথে অবজ্ঞা করে। তাদেরকে শেষ নবীর পর সারা দুনিয়ার মানুষকে কুরআন পড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়ে ছিলো।
যদি বাস্তবতার সাথে নিরক্ষণ করা হয়, তাহলে দেখা যাবে পশ্চিমা বিশে^ কুরআনের অবমাননার কারণে যে অপরাধ অমুসলিমরা করেছে তারা একদিক থেকে দায়ী। মুসলমান হলো এই কুরআনের শিক্ষকজাতি, যারা তাদের ছাত্রদের কাছে কুরআনে হাকিমের পরিচয় করায়নি, বরং একদিক থেকে আমাদের অন্যায় আরো বেশি। কারণ, তারা অন্যায় করেছে কুরআন সম্পর্কে না জানার কারণে। আমরা যেই অবজ্ঞা করছি তা হলো- জেনে বুঝে। এই উম্মত যদি তার শিষ্য জাতির কাছে কুরআনের এতোটুকু পরিচয় করে দিতো যে, এই কুরআন শুধু আমাদের নয়, কুরআন তোমাদের জন্যও তোমাদের প্রভু পাঠিয়েছেন, তোমাদের জীবন ব্যবস্থা হিসেবে। যার মধ্যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ( যাকে তোমরা না জেনেই শুধু মুসলমানদের নবী মনে কর)-এর কথা মাত্র তিনবার আলোচনা করা হয়েছে। আর ঈসা (আ.) (যাকে তোমরা তোমাদের নবী মনে কর) তার মাতার পবিত্রতার পক্ষে সম্পৃক্ততায় মরিয়ামের নাম ৩৬ স্থানে আলোচনা হয়েছে। তাহলে তারা অবশ্যই কুরআনের সাথে বেয়াদবী না করে কুরআনকে তাদের বুকে মেশাতো। আমাদের কুরআনের সাথে বেয়াদবীর কারণে পৃথিবীর মানবতা আজ অন্ধকারে পথভ্রষ্ট হচ্ছে। কবি বলেছেনÑ

ছোট গলিতে, দুনিয়া খাচ্ছে ঠোকর।
আকাশের সত্য বাণী, ঢেকে রেখেছে গিলাবে।

হায় আমরা যদি হুশিয়ার হতাম, এই অবস্থা থেকে শিক্ষা নিতাম। কুরআনকে মানুষের সাথে মিলানোর কাজে লেগে যেতাম। কুরআনের অর্থ শিখার এই সহজ পদ্ধতি থেকে উপকৃত হয়ে এতোটুকু তো শিখতে পারতাম যে, আমার মাহবুব মালিক আমাকে কী বলছে?

মূল হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী
অনুবাদ. যুবায়ের আহমদ