সালমান সিদ্দিকী (অরুণ কুমার)-এর সাক্ষাৎকার

কেবল মুসলমানদেরই নয় সকল মানুষের প্রতি আমার পয়গাম, যে ব্যক্তিই সাচ্চা দিলে সত্য খুঁজে বেড়ায় সে পেয়েই যায়। কতো সত্যসন্ধানী পথে বিপথে ঘুরতে থাকে, মুসলমানদের কর্তব্য তাদেরকে ভুল পথে চলতে দেখে ঘৃণা না করে নম্রতা কোমলতার সাথে রাহনুমায়ী করা।


আহমাদ আওয়াহ: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু!
সালমান সিদ্দিকী: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু!

আহমাদ আওয়াহ: জনাব সালমান সাহেব! আপনি এসেছেন, খুব খুশী হয়েছি। আব্বু বলছিলেন, আরমুগানের এবারের সাক্ষাৎকারটা একেবারে নবীন কারও হওয়া চাই। কয়েকবার বলেছেন আমি যেন আপানার সাথে দেখা করতে হরিদুয়ারে যাই। আসলে এমনিতেও আমার হরিদুয়ার যেতে হতো। কিছুদিন ধরে গায়ত্রী সমাজের কেন্দ্র শান্তিকুঞ্জ থেকে লোকজন যোগাযোগ করছিল। তারা আব্বুকে ওখানে দাওয়াত করতে চায়। কয়েকদিন আগে আব্বু রামপুরা স্টেটের একটি প্রোগ্রামে গিয়ে ছিলেন। তারপর থেকে তো ওরা ফোন করেই যাচ্ছে। আব্বু বলছিলেন, তুমি কয়েকবার আসা-যাওয়া করো তারপর দেখা যাক। যা হোক, আল্লাহ তাআলা আপনাকে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
সালমান সিদ্দিকী: হযরতের সঙ্গে দেখা করতে আমি উদগ্রীব ছিলাম। গত সপ্তাহে আমরা এসেছিলাম কিন্তু পথে গাড়ি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সম্ভবত আমাদের মধ্যে কোনো ক্রটি ছিল এজন্য সাক্ষাত হয়নি। আজকে নিয়ত করে এসেছি, সাক্ষাত করে তবেই ফিরবো। প্রয়োজনে কয়েক বছর এখানে পড়ে থাকবো। আল্লাহ তাআলার শোকর এসেই সাক্ষাত পেয়ে গেছি।

আহমাদ আওয়াহ: আব্বু সম্ভবত আপনাকে বলেই দিয়েছেন, আমাদের ফুলাত হকে আরমুগান নামে একটি মাসিক পত্রিকা বের হয়। সেখানে নতুন ইসলাম গ্রহণকারীদের বিভিন্ন অবস্থা তুলে ধরা হয়। এজন্য আপনার সঙ্গেও কিছু কথা বলতে চাই।
সালমান সিদ্দিকী: জ্বী, হ্যাঁ, হযরতও এইমাত্র বলে গেলেন, কিন্তু ভাবছি, আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি এক মাস হয়নি। আমিই কী আর আমার কাহিনীই বা কী? হযরত সাহেব বলেছেন, না, না, আপনি অবশ্যই আপনার অবস্থা বয়ান করবেন। এটা অন্যদের হেদায়াতের উপলক্ষ্য হলে আপনারও সাওয়াব হবে।

আহমাদ আওয়াহ: জ্বী, হ্যাঁ, আব্বু ঠিকই বলেছেন, আপনি আপনার পারিবারিক পরিচয় দিন?
সালমান সিদ্দিকী: আমি বেরেলী জেলার ছোট্ট এক গ্রামের ব্রাক্ষণ পরিবারে ১৯৫৩ সালের ২রা জানুয়ারী জন্মগ্রহণ করেছি। আব্বু আমার নাম রেখেছিলেন অরুণ কুমার মিশরা। তিনি ছিলেন জুনিয়ার হাইস্কুলের হেডমাস্টার। স্থানীয় স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষালাভ করি। কিছু দিন নিঃসন্তান চাচার ওখানে মহারাষ্টের আহমদ নগরে ছিলাম। সেখান থেকেই গ্রাজুয়েশন করি। সাইকোলোজিতে এম.এম এবং পিএইচডি করেছি। তার পর রোহিলাখ ইউনিভার্সিটিতে লেকচারার হই। পরে রিডার এবং প্রফেসর হই। রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এক পরিবারে বিবাহ করি। আমার শ্বশুর সাহেব ইউপির অনেক বড় রাজনৈতিক নেতা। বরং নেতাদেরও গুরু। তিনি আমাকে রাজনীতিতে আনতে চাইতেন। এজন্য দুজনের মধ্যে মিল ছিল না। ফলে পারিবারিক জীবনেও অশান্তি লেগে থাকতো। এই ব্যাপারটিই আমার সবকিছু ত্যাগ করে সন্ন্যাসব্রত গ্রহণের উপলক্ষ্য হয়েছে।

আহমাদ আওয়াহ: আপনার ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে বলুন!
সালমান সিদ্দিকী: ২০০২ খৃস্টাব্দে চাকুরীতে ইস্তফা দিয়ে আমি সন্নাসব্রত গ্রহণ করি এবং হরিদুয়ার চলে যাই। একের পর এক আশ্রমে ঘুরে ঘুরে শান্তি অন্বেষণ করতে থাকি। কঠিন তপস্যায় লিপ্ত হই। বড় বড় জপ-জপান্ত শেষ করি। কিন্তু শান্তি যে জিনিস তার কোথাও দেখা পাইনি। যেখানেই গিয়েছি, কাছাকাছি হওয়ার পর মনে হয়েছে ধর্ম একটা প্রফেশন একটা ব্যবসা, একটা ধান্ধা। আমার নিজের অবস্থা ছিল লবণের খনিতে পড়ে লবণে পরিণত হওয়ার দশা। আমিও ‘শান্তিবান আশ্রম’ নামে একটি আশ্রম খুলে বসি। কিন্তু পথ উল্টো হলে মঞ্জিলে কিভাবে পৌঁছা যায়? মঞ্জিল পেতে হলে পথ সঠিক হওয়া জরুরী। অস্থিরতা ক্রমে বেড়ে চলল। কখনও কখনও মনে হতো পারিবারিক জীবনে ফিরে যাই। কিন্তু আমি তখন আশ্রমের বন্ধনে জড়িয়ে গেছি। কয়েকবার আশ্রম বেঁচে দেয়ার কথাও উঠেছে। কয়েকমাস পূর্বে তো বিক্রি হয়েই গিয়েছিল। কিন্তু সঙ্গীরা পরামর্শ দিল, মহাকুম্ভ চলে যাক, তারপর না হয় বেঁচে দিবেন। মহাকুম্ভের পূর্বে লক্ষ্য করি, গোটা হরিদুয়ার আর ঋষিকেশ প্রতিযোগিতায় নেমেছে। যেন সামনে ব্যবসা মৌসুম।
কাস্টমারকে আকর্ষণ করার হাজারও রকম প্রস্তুতি চলছে। এই দৃশ্য আমি সর্বত্রই প্রত্যক্ষ করি। মহাকুম্ভের জন্য আশ্রমগুলোকে প্রস্তুত করতে অনেক অনেক টাকা ব্যয় করা হল। কিন্তু পুলিশ ভীড় কমানোর লক্ষে সন্ত্রাসী হামলার গুজব ছাড়িয়ে দিল। ভয়ে লোকজন আসল না। পুলিশ বার বার ব্যাগ নিক্ষেপ করে, কোথাও কোনো জিনিস রেখে দিয়ে গুজবকে সত্যে পরিণত করল। আশ্রমওয়ালা আর ধর্মগুরুরা অনেক সাফাই গাইল যে, এসব পুলিশী প্রোপাগান্ডা। কিন্তু কে শোনে কার কথা যা আশা করা হয়েছিল তার এক-দশমাংশ লোকও আসল না। এই পরিমাণ ফোর্স নিয়োগ করা হল যে, দর্শনার্থীরা দেখেই ঘাবড়ে যেতো, অবশ্যই কোনো না কোনো সমস্যা আছে। আশ্রমগুলোতে নিরাশা ছড়িয়ে পড়ল। এত ব্যয় করা হল কিন্তু নৈবেদ্য নেই। সাইকোলোজি আমার সাবজেক্ট ছিল আমি পুরো ব্যাপারটিকে সেই আলোকে পর্যাবেক্ষণ করি। আমি আঁৎকে উঠি। উপলদ্ধি করলাম ধর্মের নামে এগুলো সব প্রতারণা। কখনও আমি আমার অন্তরাত্মার সঙ্গে বুঝতে থাকি। ভাবতে থাকি, একদিন সবকিছু ফেলে চলে যাবো।
মহা শিবরাত্রির একদিন পূর্বে বড় এক আশ্রমের মহাধর্মগুরুর কাছে যাই। সেখানে যে বাণিজ্যিক হালচাল দেখি, তাতে এই ধান্ধা থেকে আমার মন একেবারেই উঠে যায়। ধোঁকা যদি দিতেই হয় তাহলে নেতা হয়েই দেয়া উচিত। ধর্মের নামে ধান্ধাবাজি তো লজ্জার কথা! নিজের ওপর আমার লজ্জা হতে থাকে। পরিবারের সঙ্গে থাকা এরচেয়ে বহুগুণে ভালো ছিল। সন্তানাদি আর পরিবারের সেবা করলে সম্ভবত মালিককে পেয়ে যেতাম। রাতের বেলা বহু সময় ধরে মালিকের কাছে অনুযোগ করতে থাকি। বার বার চোখ ভিজতে থাকে। মালিক! তোমার সন্ধানে সবকিছু ত্যাগ করে এসেছি কিন্তু তুমি সম্ভবত আরও বেশী আড়ালে থাকো। এই সব স্থানে তোমার সন্ধান করা সম্ভবত ছাদের ওপর হারানো উট খোঁজার শামিল।
বহুক্ষণ পর্যন্ত ঘুম আসল না। দুটোর সময় চোখ লেগে এল। স্বপ্নে দেখি, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেছেন। শ্বেত-শ্রভ্র বসন। কান্তিময় মুখাবয়ব। আলোই আলো। মুখমন্ডলের চারপাশে যেন চাঁদের দীপ্তি। আমি আশীর্বাদ নিতে মাথানত করি। তিনি আমার কোমরে হাত রেখে বলেন, পন্ডিতজী ! সত্য পেতে চাইলে জাওয়ালাপুর গিয়ে মুফতী ইউসুফের সঙ্গে দেখা করুন।
চোখ খুলে দেখি, পাঁচটা বাজছে। উঠে স্নান ইত্যাদি সারলাম, নাস্তা করলাম। তারপর পরিষ্কার কাপড় পরে আশ্রমের সাধুদের কাছে জাওয়ালাপুরের রাস্তা জানতে চাইলাম। জানতে পেলাম জায়গাটি আমাদের একেবারে কাছে। সকাল নয়টায় বাসস্ট্যান্ড পৌঁছি। দেখি চার পাঁচজন মাওলানা বাস থেকে নামছে। তাদের একজনকে বড় মনে হচ্ছিল। জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কোত্থেকে আসছেন? বললেন, জাওয়ালপুর থেকে। জিজ্ঞেস করলাম, সেখানে মুফতী ইউসুফ সাহেব নামের কেউ আছেন? তিনি চমকে উঠে বললেন, আপনি তাকে কিভাবে চেনেন? আমি আমার পরিচয় দিয়ে রাতের সব অবস্থা এবং স্বপ্ন বৃত্তান্ত বললাম। তিনি বললেন, আমার নামই মুহাম্মদ ইউসুফ। আমি মুফতী। কিন্তু আমি জাওয়ালপুরের কাছে এক গ্রামে বাস করি। আমি ছাড়া এলাকায় মুফতী ইউসুফ নামে আর কোনো লোক নেই।
গত রাতে আমি আমার সঙ্গীদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রোগ্রাম বানিয়েছিলাম। আমাদের হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী সাহেব বলেন, সত্যসন্ধানী কত নিষ্ঠাবান মানুষ আল্লাহর পথ খুঁজে ফিরছে। আমরা তাদের কাছে সত্য পৌঁছে দেই এটা তাদের অধিকার। কাজেই আমাদের মহাকুম্ভে যেতে হবে। এরা চারজন আমার সঙ্গে যেতে প্রস্তুত হয়েছে। সকালে কিতাবাদি নিয়ে এখানে চলে এসেছি। বাস্তবিকই আপনি সত্যানুসন্ধানী হলে আমাদের হযরতজীর কিতাব পড়–ন। তারপর তাঁরা আমাকে ‘আপকি আমানত আপকি সেবা মে’ পুস্তিকটি পড়তে দেন। বলেন, এটা পড়–ন আপনি আমাদের সঙ্গেই সাক্ষাত করতে যাচ্ছিলেন। মালিক স্বয়ং আমাদেরই আপনার নিকট সত্যসহ পাঠিয়ে দিয়েছেন। আমি কিতাবটি নিয়ে বাসস্ট্যান্ডের বেঞ্চিতে বসে পড়া শুরু করি। সহজ-সরল প্রাঞ্জলভাবে দরদমাখা ভাষায় লেখা কিতাবটি পড়ে মনে হল, মালিক আমার অনুযোগ শ্রবণ করেছেন। আর আমি যে সত্য খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম তা পেয়ে গেছি।
আমি মুফতী সাহেবকে বললাম, আমাকে মাওলানা সাহেবের নিকট নিয়ে চলুন। মুফতী সাহেব তাঁকে ফোনে পাওয়ার চেষ্টা করলেন কিন্তু পাওয়া গেল না। আমি তাঁদের আমার আশ্রমে যেতে বললাম। তাঁরা বললেন, আধঘন্টা পর আমরা নিজেরাই হাজির হবো। আমি তাদের ঠিকানা বলে আমার এক সঙ্গীকে তাদের সঙ্গে রেখে গেলাম। আর নিজে গিয়ে নাস্তা তৈরী করতে লেগে গেলাম। আধ ঘন্টা পর তারা বললেন, হযরতজী মুম্বাই সফরে আছেন। আপনি তাঁর সঙ্গে কথা বলুন। ফোন করা হল। মাওলানা সাহেবের সঙ্গে আমার কথা হল। বললাম, আপনার কিতাব পড়েই এতটা আনন্দিত হয়েছি, সাক্ষাতে না জানি কতটা মজা পাবো। হযরত সাহেব বললেন, না আমার কিতাবে সেই স্বাদ আছে, আর না আমার সাক্ষাতে; প্রকৃত স্বাদ তো পাবেন মালিকের স্বর্গদর্শন করে। আর সেটা পন্ডিতজী! বিদ্রোহ থেকে তওবা করে মালিকের সর্বশেষ ও পরিপূর্ণ বিধানের শপথ নেয়া ছাড়া সম্ভব নয়।
তারপর মাওলানা সাহেব ঈমান আনা এবং কালিমা পড়া ব্যতীত মানুষ কতটা শংকাজনক পরিস্থিতিতে থাকে তার বিবরণ দিয়ে আমাকে তৎক্ষণাৎ কালিমা পড়ে নিতে বললেন। আমি বললাম, আমরা ফুলাত আসতে চাচ্ছি আপনি একটু সময় দিন। মাওলানা সাহেব তার সফরের দীর্ঘতার কথা বলে আমাকে এক্ষুণি মুফতী ইউসুফ সাহেবের নিকট কালিমা পড়ে নিতে বললেন। শুরুতে তো আমি ফুলাত গিয়েই কালিমা পড়ার কথা বলছিলাম কিন্তু পরে নগদ নগদ পড়তে প্রস্তুত হয়ে গেলাম।
মুফতী সাহেব আমাকে কালিমা পড়াতে লাগলেন। আমার মনে হল, তাঁর পীর সাহেবের নিকটই কালিমা পড়া দরকার। মুফতী সাহেবকে একথা বললে তিনি মাওলানা সাহেবকে ফোন করে জানালেন। হযরত বললেন, তাকে ফোন দিন। আমি হযরতের সাথে কথা বলি। তিনি ফোনেই কালিমা পড়ে নিতে জোর দিলেন। আমি রাজী হলে তিনি ফোনের মধ্যেই আমাকে কালিমা পড়িয়ে দেন। তারপর হিন্দিতে তার অনুবাদ করে বরং কিছুটা ব্যাখ্যাসহ আমাকে অঙ্গিকার করান। বলেন, নাম পরিবর্তন জরুরী নয়। তবে কোনো ইসলামী নাম পছন্দ করলে ভালো হবে। আমি মুফতী সাহেবেকে বললাম, নামটা হযরতই রাখলে ভালো হবে। হযরত সাহেব ফোনেই বললেন, পুরনো ধর্মীয় কিতাবের আলেম ছিলেন হযরত সালমান ফারেসী। এই নামের বরকত অর্জন করতে চাইলে আপনার নাম সালমান মিশরা রাখতে পারেন। আমি বললাম, মিশরা বিশরা বাদ দিন, পুরো সালমান ফারেসীই রেখে দিন। হযরত সাহেব বললেন, ফারেসী আসলে ইরানের অধিবাসী হওয়ার কারণে বলা হয়। আপনি সালমান বেরেলভী রেখে দিন। বললাম, কালিম সিদ্দিকীর মতো যদি সালমান সিদ্দিকী রাখি তাহলে কেমন হয়? বললেন, আপনি সাচ্চা দিলে ইসলামের সত্যায়ন করেছেন। আপনি সিদ্দিক নাম রাখতে পারেন। বললাম ব্যস, সালমান সিদ্দিকীই বেশ সুন্দর।

আহমাদ আওয়াহ: বেশ বেশ! তারপর কী হল?
সালমান সিদ্দিকী: হযরত সাহেবের সঙ্গে ফোনে কথা হতে থাকে। মুফতী সাহেব আমাদের আশ্রমেই অবস্থান করছিলেন। আল্লাহর মেহেরবানীতে জামাআতেই নামায আদায় হচ্ছিল। একে একে সব মূর্তি বের করে ফেলা হল। আমি হযরতের সাথে দেখা করতে উদগ্রীব হয়ে উঠেছিলাম। এক সপ্তাহ আগেও এসেছিলাম। আজ সাক্ষাত হয়েছে। হযরত সাহেব পরিবারকে হরিদুয়ার নিয়ে আসতে কিংবা নিজেই বেরেলী চলে যেতে বলেছেন। কিছুদিন ফুলাত এসে যিকির ইত্যাদি করারও পরামর্শ দিয়েছেন। হযরত সাহেবের পরামর্শে ফুলাতে তার পীর সাহেবের এলাকা রায়পুরে গিয়ে কয়েক মাস থাকবো। এখন আমরা মহাকুম্ভেই থাকবো। যেন সত্যের সন্ধানে ঘুরে বেড়ানো লোকদেরকে খুঁজে বের করে জুলুম থেকে উদ্ধার করতে পারি।

আহমাদ আওয়াহ: এখনও পর্যন্ত অন্য কারও ওপর কাজ করেছেন কি?
সালমান সিদ্দিকী: আল্লাহ তাআলার শোকর! বর্তমানে আমরা আশ্রমেই অবস্থান করছি এবং কাজ করে যাচ্ছি।

আহমাদ আওয়াহ: আব্বু বলছিলেন, আপনি নাকি ভালো ভালো স্বপ্ন দেখেছেন?
সালমান সিদ্দিকী: আলহামদুলিল্লাহ! আমি সাতবার আমাদের প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখেছি। একবার আমি একশত লোককে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে নিয়ে গিয়ে স্বপ্নের মধ্যে কালিমা পড়িয়েছি। এদের মধ্যে গায়ত্রী সমাজের তিনজন বিশিষ্ট লোকও ছিল। আল্লাহ তাআলা অতিদ্রুত এর ব্যাখ্যা বাস্তব করে দিন।

আহমাদ আওয়াহ: আপনি আপনার বাড়িতে এসব বলেছেন?
সালমান সিদ্দিকী: জ্বী, হ্যাঁ, হযরত সাহেবের সঙ্গে সাক্ষাতের পর আমি আমার স্ত্রীকে ফোন করেছি। সে খুব কাঁদছিল। যখন তাকে বললাম, সুফী-সুন্নতীদের এক মহান বস্তি ফুলাতে এক বড় ধর্মগুরু সুফী সাহেব বাস করেন। তিনি আমাকে আশ্রম ছেড়ে ছেলে-সন্তানদের সঙ্গে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি শীঘ্রই বাড়ি ফিরছি। আট বছর পর সে একথা শুনে পাগলের মতো হয়ে গেছে। বলেছে, আমাকে অবশ্যই ধর্মগুরু সুফী সাহেবের ঠিকানা দিতে হবে যেন আমিও তার শরণ নিতে পারি এবং তার আশীর্বাদ গ্রহণ করতে পারি। আমি অবশ্যই আমার তিন সন্তানকে নিয়ে তাঁর কাছে হাজির হবো।

আহমাদ আওয়াহ: মাশাআল্লাহ! মনে হচ্ছে আপনার সমস্যার সামাধান হয়েই গেছে।
সালমান সিদ্দিকী: জ্বী, আমারও এমনই মনে হচ্ছে। সে তো হযরতজীর প্রতি এতটাই আবেগপ্রবণ, মনে হল প্রথমবার বললেই কালিমা পড়ে নিবে।

আহমাদ আওয়াহ: মুসলমানদের কোনো পয়গাম দিতে চান?
সালমান সিদ্দিকী: কেবল মুসলমানদেরই নয় সকল মানুষের প্রতি আমার পয়গাম, যে ব্যক্তিই সাচ্চা দিলে সত্য খুঁজে বেড়ায় সে পেয়েই যায়। কতো সত্যসন্ধানী পথে বিপথে ঘুরতে থাকে, মুসলমানদের কর্তব্য তাদের ভুল পথে চলতে দেখে ঘৃণা না করে নম্রতা কোমলতার সাথে রাহনুমায়ী করা।

আহমাদ আওয়াহ: অনেক অনেক শোকরিয়া সালমান সিদ্দিকী সাহেব! আল্লাহ তাআলা আপনার প্রকৃত সিদ্দিকিয়্যাতের কিছু অংশ আমাদের মতো নাম সর্বস্ব বংশীয় সিদ্দিকদেরও নসীব করুন।
সালমান সিদ্দিকী: আপনি আমাকে শরমিন্দা করছেন।


সাক্ষাৎকার গ্রহণে
মাও. আহমদ আওয়াহ নদভী
মাসিক আরমুগান, এপ্রিল- ২০১০

অনুবাদঃ মুফতি যুবায়ের আহমদ