হযরত ওয়াহশির কাছে ইসলামের দাওয়াত

হযরত ওয়াহশির কাছে ইসলামের দাওয়াত
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, হযরত হামযা (রা.)-এর হত্যাকারী ওয়াহশী বিন হরবের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলামের দাওয়াত দেয়ার জন্য লোক পাঠালেন। হযরত ওয়াহশী উত্তরে বার্তা পাঠালেন যে, আপনি আমাকে কেমন ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছেন? বরং আপনিই তো বলেছেন হত্যাকারী, মুশরিক, ব্যাভিচারী জাহান্নামে যাবে। আর কেয়ামতের দিন তাদের উপর দ্বিগুণ শাস্তি হবে। চিরদিন লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে জ্বলবে। আমি তো এসবই করেছি। এর থেকে কি বাঁচার কোনো উপায় আছে? সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তাআলা এই আয়াত অবতীর্ণ করলেন।
إِلَّا مَنْ تَابَ وَآَمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولٰئِكَ يُبَدِّلُ اللّٰهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَحِيْمًا
কিন্তু যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ্ তাদের গোনাহকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তিত করে দেবেন। আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।-ফুরকান- ৭০
এই আয়াত শুনে হযরত ওয়াহশী বললেন, তওবা, ঈমান, সৎকাজ এসব আমার জন্য কঠিন, তা আমি করতে পারব না। এর পর আল্লাহ তাআলা আয়াত অবতীর্ণ করলেন
إِنَّ اللّٰهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِه وَيَغْفِرُ مَا دُوْنَ ذٰلِكَ لِمَنْ يَّشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللّٰهِ فَقَدِ افْتَرٰى إِثْمًا عَظِيْمًا
নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তার সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিু পর্যায়ের পাপ, যদি তিনি ইচ্ছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল আল্লাহ্র সাথে, সে যেন অপবাদ আরোপ করল।-নিসা-৪৮
এরপর ওয়াহশী বললেন, ক্ষমা তো আল্লাহর ইচ্ছাধীন। জানি না আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন কি না। এছাড়া কি আরো কোনো সুযোগ আছে? এর পর আল্লাহ আয়াত নাজিল করলেন,
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِيْنَ أَسْرَفُوْا عَلٰى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوْا مِنْ رَحْمَةِ اللّٰهِ إِنَّ اللّٰهَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ جَمِيْعًا إِنَّه هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ
বলুন, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ তোমরা আল্লাহ্র রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ্ সমস্ত গোনাহ্ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।-যুমর -৫৩
হযরত ওয়াহশী বললেন, এবার ঠিক আছে, আমি মুসলমান হবো। এবার লোকেরা জিজ্ঞাসা করলেন, হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমরাও তো এই পাপ করেছি। যা ওয়াহশি করেছেন। এই আয়াত কি আমাদের জন্যও। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ এটা সকল মুসলমানদের জন্য।
প্রত্যেকের জন্য কল্যাণ কামনা, শেষ সময় পর্যন্ত অন্যের কল্যাণের আশা করা, নবীজীর একটি মৌলিক দিক। যা উপেক্ষা করে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। জাতিও বড় কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
মক্কা বিজয়ের সময় দুশমনদের উপর বিজয় দান করেছেন। এই সময়টা ছিল প্রতিদান নেয়ার সময়। জালিমদের ভর্ৎসনা করার সময়। লাঞ্ছিত করার সময়। এসব কিছুর পরিবর্তে তারা রহমতের ধ্বনি লাগিয়ে ছিল। সাহাবায়ে কেরাম ধ্বনি উঠালেন আজকের দিন প্রতিদানের দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উত্তরে বললেনÑ না আজকের দিন রহমতের দিন। এই ধ্বনি ছিল ইতিবাচক চিন্তায় মগ্ন থাকার প্রতিফল।
যারা নিজের জীবনকে সীরাতের সাথে সম্পৃক্ত করতে চায়, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনুগত্য করতে চায়, তার জন্য উচিত সে যেন এই ইতিবাচক ফিকির তার মধ্যে সৃষ্টি করে। সব স্থানে অন্যের জন্য কল্যাণ চাওয়ার তৌফিক দান করুন।
জুনায়েদ বাগদাদী (রহ.) শুনলেন এক চোর বার বার শাস্তি পাওয়ার পরও চুরি করেছে। ফলে আজ তার ফাঁসি দেয়া হচ্ছে। তিনিও তা দেখতে গেলেন। গিয়ে তিনি আকস্মিক চোরের পায়ে চুমু খেতে লাগলেন। মানুষ আশ্চর্যান্বিত হলেন। তিনি বললেন আমি চোরকে চুমু দেইনি। তার দৃঢ়তা এস্তেকামাতকে চুমু দিয়েছি। এই অবস্থাতেও তিনি একটি ভালো দিক বের করে নিয়েছেন।

মূল. হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা.বা.
অনুবাদ. যুবায়ের আহমদ