হেকমতপূর্ণ ভিত্তিতে উঁচু নিচুর ধারণা

হেকমতপূর্ণ ভিত্তিতে উঁচু নিচুর ধারণা
আল্লাহ যাকে সূক্ষ্ম দৃষ্টি দান করেছেন, সেই বাস্তব দৃষ্টি দ্বারা যদি কেউ চিন্তা করে তাহলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, সম্মান ও অসম্মানের যেই পদ্ধতি, তার ভিত্তি খুবই হেকমতপূর্ণ। বিশ্ববাসীর জন্য রয়েছে এর মধ্যে কল্যাণ। বিশেষত মুসলিম জাতির জন্য রয়েছে মহা নেয়ামত। মানবতার কাণ্ডারী বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঐশী বাণী দ্বারা বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন , “উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম।” হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে মুজিযা দান করা হয়েছে তার অন্যতম একটি হলো جوامع الكلم (সার গর্ভকথা ) তাঁর কথা এতটাই অর্থবহ হতো যে, বিশ্লেষক তা বিশ্লেষণ করতে ব্যর্থ হয়ে যায়। নবীজীর বাণীর সামনে মাথানত করা ছাড়া আর কোনো উপায় তাদের সামনে থাকে না। একটু চিন্তা করুনÑ উপরের বস্তুকে সম্মান ও ইজ্জত আর নিচের বস্তুকে অসম্মান ও তুচ্ছ জ্ঞান করা হয়েছে। বলা হচ্ছে উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম। অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিচের হাতের চেয়ে উপরের হাত উত্তম। গ্রহীতার হাত নিচে প্রশস্ত করতে হয়। আর দাতার হাত ইজ্জত ও সম্মানের সাথে উপরে থাকে। এ কথা বাস্তব সত্য যে, দাতা কোনো কিছু দান করলে নিজের মধ্যে স্বস্তি ও সম্মান বোধ করে। আর গ্রহীতা শিকার হয় হীনম্মন্যতার। স্বাভাবিক ভাবেই দাতা সর্বদায় নিজেকে সম্মানিত ও আনন্দিত বোধ করে। আর গ্রহীতা স্বভাবগতভাবেই নিজেকে নিচু ভাবে ও হীনম্মন্যতায় ভোগে। এ কারণেই বুযুর্গদের কাছে হাদিয়া পেশ করার আদব হলো হাদিয়ার বস্তুটি দুই হাতের উপরে রাখা, যাতে শায়খের হাত উপরে থাকে, হাদিয়া গ্রহণ করা অবস্থায় যেন তার ইজ্জত মর্যাদা ঠিক থাকে।

মূল হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা.বা.
অনুবাদ. যুবায়ের আহমদ