আপনি তো আমাদের মেহমান

সাজু ভাই একদিন আমাকে নিয়ে যায় তার উস্তাদ ফাদার শিবের কাছে। এই শিবের দাওয়াতেই সাজু খ্রিস্টান হয়েছে। তিনি খুবই আখলাকী মানুষ। ফাদার শিবে ২০০১ সালে স্বপরিবারে ধর্ম প্রচারের জন্য এসেছেন পার্বতীপুরে। সুদুর নরওয়ে থেকে এই অজপাড়া গাঁয়ে ধর্ম প্রচার করতে এসে ছেন। ল্যাম্পের পাশেই একটি বাসা ভাড়া করে থাকেন। সাজুভাই আগে থেকে তার সাথে বলে রেখে ছিলেন যে তিনি আমাকে তার সাথে দেখা করাতে নিয়ে যাবেন। যাওয়ার সাথে সাথে আমাকে সালাম দিয়ে মুসাফাহা করলেন। আমিও মুআনাকা করলাম। লোকটি লম্বা গঠনের লাল চামড়ার মানুষ। গায়ে নীল কালারের একটি টিশার্ট পরনে লুঙ্গি। তার বাসায় গিয়ে সোফা চেয়ারে বসলাম। প্রথমেই আমাকে বলছে, আমি বাঙ্গালীকে ভালোবাসি। তাই তাদের পোষাক গেঞ্জি ও লুঙ্গি পড়েছি। আমাকে কাছে করার জন্য বিভিন্ন কথাবার্তা বলছে।
– জিজ্ঞাসা করলাম আপনি এখানে কি করেন?
-বললেন, আমি এখানে মানুষের সেবা করি।
– শুনেছি সুসমাচার প্রচার করেন?
– জি।
– কোন কিতাবের প্রচার করেন?
– বাইবেলের।
– বাইবেল তো ভুলে ভরা একটি গ্রন্থ।
-বাইবেলে কোনো ভুল দেখাতে পারবেন না।
-যদি দেখাতে পারি?
– না পারবেন না।
এবার আমার ব্যাগ থেকে কেরী বাইবেলটি বের করলাম। সেখানে ২বংশাবলী ২২:২ এ একটি ঘটনা আছে, যেহরাম ৩২বছর বয়সে জেরুজালেমের রাজা হন। আট বছর রাজত্ব করেন এর পর মারা যান। তার মৃত্যুর পর তার কনিষ্ঠ ছেলে অহসিয় রাজা হয়। তখন তার বয়স ছিল ৪২ বছর। বাবা মারা গেল ৪০ বছর বয়সে আর ঐ বছরেই ছেলের বয়স হয় ৪২ বছর। ফাদারকে জিজ্ঞাসা করলাম, এবার বলুন বাবার থেকে ছেলে কয় বছরের বড়?
-দুই বছরের বড়।
– বাবা ছেলের থেকে কয় বছরের ছোট?
-দুই বছরের ছোট।
– দেখুন এমন গাজাখুড়ি কথা আল্লাহর কালামে থাকতে পারে না। আর এটাতো ভুল। এমনিতেই লাল মানুষ, চেহেরা হয়ে গিয়েছে আরো লাল। কোনো উত্তর নেই। এবার তিনি নিয়ে এলেন বর্তমান যেই বাইবেলটি তারা মানুষের কাছে বিতরণ করে সেটি। তার মধ্যে আবার ৪২ এর স্থানে ২২ লেখা। এবার আমাকে এই বাইবেল দেখাচ্ছে। বললাম, ভাই! আল্লাহর কালামের সংশোধন করার অধিকার আপনাদেরকে কে দিয়েছে? যাক, এমন অনেক কথা বলার পর তার পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পেলামনা। এবার বললাম, ভাই! আপনি তো আমাদের দেশের মেহমান। আমাদের দেশে একটি প্রথা আছে মেহমানকে হাদিয়া উপঢৌকন দেওয়া। আমি আপনার জন্য একটি হাদিয়া নিয়ে এসেছি আপনি কি গ্রহণ করবেন? উনি বললেন জি অবশ্যই নিবো। বলালাম আপনার জন্য হাদিয়া হলো ইসলাম। এই ইসলাম গ্রহন করলে দুনিয়াতেও শান্তিতে থাকতে পারবেন। পরকালেও থাকবেন শান্তিতে। আল্লাহ তাআলা বলেন।
إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ وَمَنْ يَكْفُرْ بِآَيَاتِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ
অর্থ: নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা‘আলার কাছে গ্রহণযোগ্য ধর্ম একমাত্র ইসলাম এবং যাদের প্রতি কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের কাছে প্রকৃত জ্ঞান আসার পরও ওরা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে, শুধু পরস্পর বিদ্বেষবশত যারা আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শনসমূহের প্রতি কুফরী করে তাদের জানা উচিত যে, নিশ্চিতরূপে আল্লাহ তা‘আলা হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রæত।
وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآَخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ .
যে কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম তালাশ করে, কস্মিনকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত।
আপনি খ্রিস্টধর্ম ছেড়ে দিন। যেহেতু আল্লাহ তা‘আলার কাছে ইসলাম-ই হলো একমাত্র মনোনীত ধর্ম। আপনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করুন। কারণ, ইসলাম ছাড়া আর কোনো ধর্র্ম আল্লাহ তা‘আলার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। কুরআনের নির্দেশ মানতে গিয়েই আপনাকে মুসলমান হওয়ার দাওয়াত দিচ্ছি। সে বলল, ঠিক আছে আমি ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা করব।
এর মাঝে আরো ঘটনা ঘটল তা হলো আমাদের সংলাপের মাঝে তার স্ত্রী থ্্রীপিস পড়ে মাথায় ঘোমটা দিয়ে আমাদের জন্য চা ও কেক নিয়ে এলো। আর ফাদার আমাকে বলছে, আমার স্ত্রী আপনার জন্য নিজ হাতে কেক ও চা বানিয়ে নিয়ে এসেছে। আপনি একটু গ্রহণ করুন। এটা হলো তাদের দাওয়াতী একটি কৌশল। সাধারণত তারা সর্ট কাপড়পড়ে গ্রামে গঞ্জে ঘোরা ফেরা করে। এটা তাদের একটি দাওয়াতী কৌশল। গ্রামের মানুষ বিদেশী মানুষ দেখে তাদের পিছনে পিছনে ঘুরা ফিরা করে। এই সুযোগে তাদেরকে দাওয়াত দিয়ে দেয়। আর সেই মহিলা আমার সামনে এসেছে থ্্রীপিস পরে। যাক, সর্ব শেষ তাকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েই বিদায় নিই।